post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে সাংবাদিক সমাবেশে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীদের এক সমাবেশে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে গোটা বাঙালি জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ বলেই উন্নয়ন-অগ্রগতির ইচ্ছাও অপূর্ণ থাকছে না। ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়-যদি সে ইচ্ছাটি নিষ্ঠা আর আন্তরিকতায় প্রস্ফুটিত থাকে। তা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে গোটা দেশে। ‘জিরো থেকে হিরো’-তে পরিণত হয়েছে এক সময়ের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ। এমন একটি দেশে জন্মগ্রহণ করার মধ্যেই সৌভাগ্য রয়েছে।অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উপস্থাপনকালে সিলেটের সন্তান ড. এ কে এ মোমেন বলেন, আমার নানার বাড়ি হচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার সৈয়দপুর গ্রামে। সিলেট শহরের চাঁদনী ঘাট থেকে শীতকালে ঘোড়া অথবা গাধা কিংবা হাতির পিঠে চড়ে এবং অন্য সময়ে নৌকায় নানা বাড়ি যেতে ২৮ ঘণ্টা লাগতো। এজন্যে যখন শেয়ান (তরুণ) হয়েছি তখন আর নানা বাড়ি যেতে চাইতাম না। সর্বশেষ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে প্রেসিডেন্ট (আমার সম্পর্কে নানীর স্বামী) সিলেট থেকে হেলিকপ্টারে যান নানা বাড়িতে। তার সঙ্গী হয়েছিলাম। এরপর নানাবিধ কারণে দেশ ত্যাগে বাধ্য হই এবং দীর্ঘ ৩৩ বছরের মত প্রবাসে অতিবাহিত করেছি। ২০১৫ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পর নভেম্বরে নানা বাড়িতে রওয়ানা দেই সিলেট শহরের নিজ বাড়ি থেকে। গাড়িতে উঠে মাত্র ৪৫ মিনিটে নানা বাড়ির গেইটে পৌঁছেছি। অর্থাৎ ২৮ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করি ৪৫ মিনিটে। এটাই বাংলাদেশ। এভাবেই সর্বক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য রকমের উন্নতি ঘটেছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের বিস্ময়। করোনাকালেও প্রবৃদ্ধির হার সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এসব কল্প-কাহিনী নয়-বাস্তব। তাই প্রবাসের সাংবাদিকগণের কাছে অনুরোধ বর্তমান বাংলাদেশকেও যথাযথভাবে উপস্থাপন করুন। প্রবাস প্রজন্মকে বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি তথা প্রাকৃত্রিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশ মুখী করুন। তবে টিভিতে এমন কোন ফুটেজ প্রচার করা উচিত নয়-যা কোমলমতি সন্তানদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রে পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ (এবিপিসি)’র ২০২২-২০২৪ মেয়াদের নয়া কার্যকরী কমিটির অভিষেক উপলক্ষে ২৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে গুলশান টেরেস মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মোমেন। এবিপিসির বিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, পেনসিলভেনিয়া স্টেটের মিলবোর্ন সিটির মেয়র (প্রথম বাংলাদেশী আমেরিকান) মাহবুবুল আলম তৈয়ব, কাউন্সিলম্যান মোশারফ হোসেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মনোয়ার হোসেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার এ জেড এম সাজ্জাদ হোসেন, চ্যানেল আই’র পরিচালক জহিরুদ্দিন মাহমুদ মামুন, ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, কবি ও কলামিস্ট ফকির ইলিয়াস, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের ডেলিগেট ফাহাদ সোলায়মান, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, জেবিবিএর প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুর রহমান টুকু, এবিপিসির নির্বাচন কমিশনার পপি চৌধুরী, এবিপিসির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এবং নয়া প্রেসিডেন্ট রাশেদ আহমেদ। বক্তারা এবিপিসির অভিষিক্ত কর্মকর্তাগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশ ও প্রবাসের ইতিবাচক ইমেজ উপস্থাপনে সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানের শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান, ড. তনিমা হাদী, শাহ মাহবুব, সবিতা দাস। শুরুতে দেশের গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন অনুপ দাস ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। অতিথিগণকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানায় ছোট্টমনি আলভি খান, স্নেহা খান, আলিশা খান প্রমুখ। সাদিয়া খন্দকারের সাবলিল উপস্থাপনায় ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে অভিষিক্তরা হলেন সভাপতি-রাশেদ আহমেদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট-তপন চৌধরী, সাধারণ সম্পাদক-মো. আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক-শাহ ফারুক, কোষাধ্যক্ষ-জামান তপন, সাংগঠনিক সম্পাদক-আজিমউদ্দিন অভি, প্রচার সম্পাদক-শহিদুল্লাহ কায়সার এবং নির্বাহী সদস্যরা হলেন কানু দত্ত, আলিম খান আকাশ, রাজুব ভৌমিক, প্রতাপচন্দ্র শীল এবং লাবলু আনসার। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন, বিদেশিরা বাংলাদেশের সরকার পাল্টাতে পারবে না

মার্কিন প্রশাসনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা অপপ্রচার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেছেন, ‘আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যারা অপপ্রচার করেন এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবরোধের জন্যে অনুরোধ করেন। তারা মনে করেন যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করলেই বাংলাদেশের সরকার বদল হয়ে যাবে। অথচ তারা জানেন না যে, সরকার বদল বিদেশিরা করতে পারেন না। সরকার বদল করবে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণ খুব সুখে আছে। তাই ওসব অপপ্রচারে কোন ফায়দা আসবে না।’নিউইয়র্ক সফরে এসে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাগণের সাথে বৈঠক এবং চলমান পরিস্থিতির আলোকে বাংলাদেশের মতামত জাতিসংঘে উপস্থাপনের অভিপ্রায়ে এক সপ্তাহের সফরে ২৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে নিউইয়র্কে পৌঁছান ড. একে আবদুল মোমেন। প্যারিস থেকে নিউইয়র্কে এসে জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরনের পরই সাংবাদিকগণের মুখোমুখী হন তিনি। এ সময় র‌্যাবের ৭ কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ এবং আরো কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার জন্যে মহলবিশেষের দেন-দরবার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানজানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরো বলেন, ‘আমরা সকলেই তো জানি যে, আমেরিকা হচ্ছে স্যাঙ্কশনের দেশ। প্রত্যেক দেশেই কিছু না কিছু স্যাঙ্কশন দিয়ে আসছে। ইন্ডিয়াকেও দিয়েছিল। মোদিকেও (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করেছিল। সবকিছুই সাময়িক। আমি আশা করছি, বাংলাদেশের র‌্যাব সম্পর্কে যখন তারা সত্য কথা জানবে, ঐ ৭ জনের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তারা সরিয়ে নেবে। নিজেরাই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।’ ড. মোমেন প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা যারা আমেরিকার নাগরিক, তাদের বড় একটি দায়িত্ব রয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে বাংলাদেশের ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য অবহিত করার। এক্ষেত্রে সরকারের প্রতি তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। আপনারা সেই নেতৃত্ব নিতে পারেন। তাহলেই তারা বিভ্রান্তিতে থাকবেন না। এছাড়া আপনারা সকলেইতো জানেন যে, আমাদের কিছুই লুকানোর নেই। সবকিছু ওপেন। তাই সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যেক প্রবাসী কাজ করবেন বলে আশা করছি।’ বিমানবন্দরে ড. মোমেন এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, ওয়াশিংটন থেকে আসা রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোর্শেদা জামান, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা ডা. মাসুদুল হাসান, শরাফ সরকার, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, আবুল হাসিব মামুন, সাইকুল ইসলাম যুবলীগ নেতা ইফজাল চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা দরুদ মিয়া রনেল প্রমুখ। ড. মোমেন আরো জানান, দুটি ইভেন্ট ছিল ইউরোপে। একটি জার্মানির মিউনিখে। সেখানে আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জননিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবারের সবকিছুতেই রাশিয়া এবং ইউক্রেন পরিস্থিতি প্রাধান্য পেয়েছে। সকলেই ভীতির মধ্যে কথা বলেছেন। মনে হচ্ছে যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে গোটাবিশ্ব। এমনি অবস্থায় আমি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছি জলবায়ুর ভয়ংকর ছোবলে প্রতি বছর বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাদের বসবাসের কোন অবলম্বন নেই। নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করছে। উদ্বাস্তু হয়ে পড়ার ঘটনাবলি রয়েছে। ৬৫ লাখ মানুষ ইতিমধ্যেই ভিটে-মাটি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি। কিন্তু বাংলাদেশের সেই সক্ষমতা নেই। প্রযুক্তিগত সামর্থ্যও নেই। অথচ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেজন্যে বাংলাদেশ দায়ী নয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ পরিস্থিতির অসহায় শিকার। তাই জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ইতিপূর্বেকার অঙ্গিকার অনুযায়ী তহবিল সরবরাহের ব্যাপারটি কি ইউক্রেন-তান্ডবে লন্ডভন্ড হতে বসেছে কিনা-সে আশংকাও জানিয়েছি। জবাবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কারণ, এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করার উদ্যোগ না নিলে বিরাটসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে। বহুদেশ অস্থিরতায় নিপতিত হবে, জানান ড. মোমেন।তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং প্রদানের ব্যাপারে জোরালো কোন কথা শুনিনি, যোগ করেন তিনি।করোনার টিকা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন ড. মোমেন। এবং বলেন, এভাবেই বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিগন্ত ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হচ্ছে।সমুদ্র মহীসোপান সংক্রান্ত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একটি দায়িত্বশীল সূত্র এনআরবিসি.টিভিকে এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, নিউইয়র্কে এলজিআরডিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে একটি সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিদ্বন্ধীতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হলেই তা হবে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন সকলের কাছেই চোখে পড়ার মতো, এবং দেশের প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষাকে সরকার সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। গত সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কের গুলশান টেরাসে এখানকার বৃহত্তর লাকসাম ফাউন্ডেশন ইউএসএ-র পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি উদ্যোক্তা আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রকৌশলী আবুবকর হানিপ। মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, "শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন আর সরকার মিলে সুষ্ঠ একটি র্নিবাচন দেয়া সম্ভব নয়। তার জন্য নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।" একটি প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে সেটি হবে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা, এমনটাই মত দেন মন্ত্রী। সকলের কাছে গঠণমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের যে কোন ভুল নেই তা নয়, তার জন্য গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন আছে। তবে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে শুধূ বিতর্ক করলে তাতে দেশ এগুতে পারবে না বরং পিছিয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিতর্ক করলে দেশেরই ক্ষতি হবে। আমরা জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করতেই পারবো। তার বেশি কিছু নয়। শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে সরকারের ভুলত্রুটি ধরা যাবে না, এমন মত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরলে দেখা যাবে অসংখ্য অর্জন সরকারের রয়েছে। কিন্ত তাই বলে কি ব্যর্থতা নেই? সমালোচকরাই সে ভুল আমাদের ধরিয়ে দিতে পারবেন। মানবাধিকারের কথা বলা হয়। আমাদের কিছু সমস্যা রয়েছে সে কথা স্বীকার করে নিয়েই বলছি, এ সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ চলছে এবং একটি সময়ের ব্যবধানে তা কেটে যাবে এবং বাংলাদেশ মানবাধিকারের প্রেক্ষাপটে উত্তরোত্তর উন্নতি করবে। গণতন্ত্র বিশ্বের দেশে দেশে ভিন্নভাবে চর্চিত হয়, এমন মত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে আড়াই শ' বছরের, ব্রিটেনের পাঁচশ' বছরের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে, তার তুলনায় ৫০ বছরের বাংলাদেশ, যার একুশ বছরই কেটেছে সামরিক শাসনের অধীনে আর সে কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। তিনি বলেন, এই যুক্তরাষ্ট্রে কৃতদাস প্রথার বিলুপ্তির সিদ্ধান্তে যুদ্ধ হয়, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দেয়, আর তারই ধারাবাহিকতায় প্রাণ দিতে হয় প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনকেও। সেই তুলনায় বাংলাদেশ তার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে খুব বেশি পিছিয়ে নেই বলেও মত দেন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সময়ের ব্যবধানেই সকল কিছু প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর বুকে একটি সম্মানিত জাতি হিসেবেই টিকে থাকবে বাংলাদেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ তার সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা অনেক বেড়েছে বলেও তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ভার্জিনিয়াস্থ আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পিপল এন টেকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাতরত প্রতিষ্ঠিত যে সব বাংলাদেশি রয়েছেন তারা অনেকেই এখন এদেশের মূলধারায় সংযুক্ত হয়ে এদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেদের জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেই, তাহলে দেশের নাম উজ্জ্বল করার মত অনেক সুযোগ তৈরি হবে। আইগ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশিদের বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে এমনটা্ উল্লেখ করে আবুবকর হানিপ বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। তারা দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা নিয়ে এখানকার মূলধারায় যুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে। বিশ্বের বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে একসময়ে বাংলাদেশিদের দেখা যাবে, এমন প্রত্যাশার কথাই জানান আবুবকর হানিপ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর লাকসাম ফাউন্ডেশন ইউএসএর’র সভাপতি মশিউর রহমান মজুমদার। ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইউছূফ মজুমদার। লাকসামকে জেলা হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নিতে মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান মশিউর রহমান।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে সড়কের নতুন নাম 'লিটল বাংলাদেশ'

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার পূরণ হলো। নগরের জ্যামাইকায় একটি সড়কের নামকরণ করা হলো ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশির জয়-বাংলা স্লোগান আর বিপুল করতালির মধ্যে এই আনুষ্ঠানিক নামকরণ হয়। হিলসাইড এভিনিউ এবং হোমলোন স্ট্রিটের কর্ণারে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র এই নামফলক উন্মোচন করেন সিটি কাউন্সিলম্যান জেমস এফ জিনারো।হোমলোন কর্নার থেকে হিলসাইড এভিনিউ ধরে অন্তত দুই ব্লক পর্যন্ত এই নামে পরিচিত হবে।  নিউইয়র্ক সিটিতে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশির বসবাস। যার বড় অংশ থাকেন জ্যামাইকার হিলসাইডে। সম্প্রতি সিটি কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে এই বিলটি পাশ হয়। যার বাস্তবায়ন ঘটলো একুশে ফেব্রুয়ারিতে। এর মধ্য দিয়ে সুদুর আমেরিকায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হলো, বলছিলেন জ্যামাইকাবাসী। ব্যস্ততম হিলসাইড এভিনিউর এই অংশটুকুর পুনর্নামকরণের ফলক উম্মোচনের দিনটিকে ২১ ফেব্রুয়ারিতে বেছে নেয়া প্রসঙ্গে কাউন্সিলম্যান জেমস জিনারো বলেন, বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালি তরুণেরা জীবন দিয়েছেন। সেই আন্দোলনের পথ বেয়ে একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে বাঙালিরা স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এ পরিণত করেছে জাতিসংঘ। এমন একটি ঐতিহাসিক-স্মরণীয় দিনে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’র উদ্বোধন হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরো উৎফুল্ল হলেন। কাউন্সিলম্যানকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বহুজাতিক এই সমাজে বাঙালিদের মেধা আর শ্রমের মূল্যায়ন নানাভাবে ঘটছে। রাস্তার নামকরণে তা আরো ভিন্নভাবে দৃশ্যমান হলো। আমি আশা করছি, প্রিয় মাতৃভূমির চলমান উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির স্বার্থে প্রবাসীরাও ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।' এ অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজনের নামোল্লেখ করে কাউন্সিলম্যান জিনারো ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো সকলের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি তবে শিগগিরই তাদের একটি সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাতে উল্লেখ থাকবে যারা এই রাস্তার নামকরণে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন স্টেট এ্যাসেম্বলিওম্যান জেনিফার রাজকুমার, ডেভিড ওয়েপ্রিন, কুইন্স কাউন্টি ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নি মঈন চৌধুরী, ডেমক্র্যাট মোহাম্মদ আমিনুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার সাদেক প্রমুখ। এক পর্যায়ে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির পক্ষ থেকে ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, মোহাম্মদ আলিমসহ কয়েকজন কাউন্সিলম্যানকে কমিউনিটির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতাসূচক ক্রেস্ট দেওয়া হয়। শেষে শ্রী চিন্ময় সেন্টারের শিল্পীরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের পর মহান একুশের অবিস্মরণীয় সেই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-আমি কী ভুলিতে পারি’ গানটি পরিবেশ করেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে এই প্রথম ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’ নামক নিজস্ব একটি জায়গা তৈরি হলো। উদ্বোধনী সমাবেশের সূচনালগ্নে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নিরবতা পালন করা হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন, যৌথ আয়োজনে ৬ দেশ

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হলো। ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের এ আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এবারেও ২১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে ইভেন্টটির আয়োজন করে এলসালভাদর, নাইজেরিয়া, পর্তুগাল ও শ্লোভাকিয়া মিশন। এতে সহ-অংশীদারিত্ব করে জাতিসংঘ সচিবালয় ও ইউনেস্কো। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এছাড়া অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে শুভেচ্ছাবাণী প্রদান করেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র।অনুষ্ঠানের বক্তারা যাতে নিজ নিজ মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখতে পারেন সেজন্য এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের ছয়টি অফিশিয়াল ভাষায় গোটা অনুষ্ঠানটি অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়। বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন এর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের থিম সঙ্গীত-‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি..’ একাধিক ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে মরক্কো, এলসালভেদর, শ্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর। এছাড়া জাতিসংঘ সচিবালয় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণের স্ব স্ব ভাষায় রেকর্ডকৃত বহুভাষিক ভিডিও বার্তা পরিবেশন করা হয় অনুষ্ঠানটিতে। জাতিসংঘ ওয়েব টিভিতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদগণ এবং ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই জাতির পিতার নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম যার চুড়ান্ত পরিণতি পায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের মাধ্যমে। মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মার্তভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশীদের উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে ইউনেস্কোর মাধ্যমে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর পূর্ণ স্বীকৃতি আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ও অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।শিক্ষাক্ষেত্রে কোভিডের ভয়াবহ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে এবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য -‘প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বহুভাষায় জ্ঞানার্জন: সঙ্কট এবং সম্ভাবনা’ বেছে নেওয়ার জন্য ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি বহুভাষিক শিক্ষার অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সকল ভাষার প্রাণশক্তি ফিরে পেতে আমাদের সকল অংশীজনকে একসাথে কাজ করতে হবে; কম খরচে ব্যবহার-বান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে বিনিয়োগ করতে হবে যা বহুভাষিক শিক্ষাকে সর্বত্র এগিয়ে নিতে পারে”।স্প্যানিশ ভাষাভাষী ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের সভাপতি হিসেবে জাতিসংঘে নিযুক্ত কোস্টারিকার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ভাষা বিষয়ক এনজিও কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতিসহ অন্যান্য বক্তাগণ জাতিসংঘে বহুভাষাবাদ ও মাতৃভাষার প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত বিভাজন দূর করার কথা তুলে ধরেন তারা। নিজ নিজ মাতৃভাষায় কথা বলতে গিয়ে বক্তাগণ বিলুপ্তির পথে থাকা ভাষার সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আগে, সকালে, যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক সফররত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব মো: তাজুল ইসলাম এমপি এবং একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব হেলালুদ্দীন আহমদ এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মন্ত্রীর নেতৃত্বে সিনিয়র সচিব ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং উপস্থিত মিশনের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সফরসঙ্গীগণ মিশনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। প্রদত্ত বক্তব্যে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ মিশনকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, মাতৃভাষার গুরুত্ব, মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও অদম্য অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন। মিশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং মহান একুশের ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

বাংলাদেশের একুশের প্রথম প্রহরের সঙ্গে মিল রেখে স্থানীয় সময় রোববার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১টা ১ মিনিটে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হয়।জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট, বিভিন্ন রাজনীতিক, পেশাজীবী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, সাংষ্কৃতিক এবং আঞ্চলিক সংগঠনের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচী উদযাপিত হয়। এর মধ্য দিয়ে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চের আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর ৩১ বছর পূর্তি হল। নিউইয়র্ক থেকে খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন জানায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতিসংঘের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বাঙালির চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশার পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সম্মিলিত কন্ঠে ভাষার গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। সকলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে 'একুশের গান' (আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি) পরিবেশন করলে অমর একুশের শোকাবহ আবহের সৃষ্টি হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দুপুর ১.০১ টায় উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশু তিথির পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পাঘ্য অর্পণ কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষে দূতালয় প্রধান রফিকুল ইসলাম ও প্রথম সচিব (প্রেস) মো. নুর এলাহি মিনা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর পক্ষে ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস. এম নাজমুল হাসান। পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য করেন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, শিতাংশ গুহ, ফাহিম রেজা নূর, সাাখাওয়াত আলী, ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, সীকৃতি বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার ভূইয়া, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া, আব্দুন নূর বড় ভূইয়া, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, ডা. শাহানারা বেগম, ডা. মিতা চৌধুরী, মনোয়ারা বেগম মনি, জাহানারা বেগম লক্ষী, অধ্যাপক হুসনে আরা, ডা. এনামুল হক, চন্দন দত্ত, শেখ আতিকুল ইসলাম, আশফাক মাশুক, শাহীন আজমল, দুরুদ মিয়া রনেল, আলপনা গুহ, গোপাল সান্যাল, মোশাররফ হোসেন, কবি রওশন হাসান, সবিতা দাস, সাহাদাত হোসেন, নূরে আলম জিকু, কাজী রবি-উজ-জামান, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, আশরাফ আলী খান লিটন, ময়জুর লস্কর জুয়েল, আব্দুল কাদির লিপু, মাহবুবুর রহমান অনিক, সারোয়ার প্রমুখ। শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, বাঙালির চেতনা মঞ্চ, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ইউএসএ, একুশের চেতনা মঞ্চ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক, চট্রগ্রাম সমিতি, পেষাজীবী সমন্বয় পরিষদ ইউএসএ, বঙ্গবন্ধু প্রচারকেন্দ্র সমাজকল্যাণ পরিষদ, সিলেট গণদাবী পরিষদ, বাংলাদেশ ল সোসইটি ইউএসএ, অনুপ দাশ ডান্স একাডেমী, সুচিত্রা সেন মেমোরিয়াল ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, শেখ রাসেল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টি, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া চক্র, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা, আবহানী ক্রীড়া চক্র, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস, সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছা সেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ভাষা সৈনিক আবদুস সামাদ পরিবার, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা, জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাবেক নেতৃবৃন্দ, নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটি, রাজনগর উন্নয়ন সমিতি, প্রবাসী মতলব সমিতি, নতুন বাংলা যুব সংহতি, মীরসরাই সমিতি ইউএসএ। এছাড়াও নিউইয়র্কে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবি লেখক শিল্পী সাহিত্যিক-সাংবাদিক, ইউনাইটেড নেশন্সের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের’ স্বীকৃতি আদায়ে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতিকে চিরজাগ্রত রাখার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে যেতে হবে সকলকে। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা গত ৩১ বছর ধরে জাতিসংঘের সামনে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার বাংলা সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক-আঞ্চলিক সংগঠন, কবি-লেখক-সাহিত্যিকসহ প্রবাসীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ওয়াশিংটনে ঢাকা দূতাবাসের শ্রদ্ধাঞ্জলি

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।স্থানীয় সময় সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বসানো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলামসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। সেখানে তারা এক মিনিট নিরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর তারা দূতাবাস ভবনে বঙ্গবন্ধু কর্নারে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তির সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর আগে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভায় অংশ নেন তারা। এসময় অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওযা বাণি পড়ে শোনানো হয়। এছাড়াও পাঠ করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের পাঠানো বাণি। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও বাংলাদেশের অব্যহত উন্নয়ন কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় এ সময়। রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম তার বক্তৃতায় ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এসময় তিনি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে সেই আন্দোলনকে যেভাবে বেগবান করে ধীরে ধীরে জাতিকে স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যান বঙ্গবন্ধু, তা উঠে আসে এম শহীদুল ইসলামের বক্তৃতায়। বিশ্ব মানবতায় শিক্ষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্বের সকল মানুষের মাতৃভাষার সুরক্ষায় জোর দেন রাষ্ট্রদূত। "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সকলকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, শান্তিময় ও সম্মৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে," বলেন এম শহীদুল ইসলাম। পরে একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দূতাবাস ভবনের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখেন। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সামনে শহীদ মিনারে প্রবাসীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে জাতিসংঘ এলাকা প্রকম্পিত করে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করলেন প্রবাসীরা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনের পার্কে ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ’ নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে রোববার বেলা ১টা ০১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ০১ মিনিট অর্থাৎ একুশের প্রথম প্রহরে) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’র এ কর্মসূচির শুভ সূচনা ঘটায় তিথি দেব। গত ৩১ বছর ধরেই এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে প্রবাসীদের সর্বজনীন উদ্যোগ হিসেবে। এ সময় একুশ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য এবং দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরিণত হবার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কন্সাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান। কর্মসূচির পরিচালনায় ছিলেন শহীদ সন্তান ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর এবং বাঙালির চেতনামঞ্চের সংগঠক আব্দুর রহিম বাদশা।হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, মহিলা সম্পাদক সবিতা দাস, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুবাইয়া শবনম প্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাফরউল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভ’ইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আহসান হাবিব, বোর্ড অব ট্রাস্টির কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহাবউদ্দিন চৌধুরী লিটন, মানবাধিকার সংগঠক এ টি এম রানা, আরশাদ ওয়ারিশ, মো. আলাউদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ, নাজিমউদ্দিন, জেবিবিএর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুন নূর বারভ’ইয়া, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাবেক সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, সাবেক সেক্রেটারি ফরিদ আলম, যুবলীগ নেতা ইফজাল চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি ড. এনামুল হক এবং সেক্রেটারি সিরাজউদ্দিন সোহাগ, উপদেষ্টা অধ্যাপিকা হোসনেআরা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মোর্শেদা জামান, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মতুজির রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট আতিকুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি শাহীন আজমল, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট দরুদ মিয়া রনেল, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল, বিয়ানিবাজার সমিতির উপদেষ্টা বোরহানউদ্দিন কফিল,আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদ আহমেদ, সেক্রেটারি আবুল কাশেম, নির্বাহী সদস্য কানু দত্ত, এমসি কলেজ এলামনাইয়ের নেতা শফিক চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সুশীল সাহা, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান প্রমুখ। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার, ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকাতে নিউইয়র্ক সময় রাত ১২টা এক মিনিটে আরো কয়েকটি অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রবাসীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। বেশ কটি স্থানে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল আশাব্যঞ্জক। তবে, নিউইয়র্ক সিটিতে তিন লাখের অধিক বাংলাদেশী বাস করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী একটি শহীদ মিনার স্থাপনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ নিয়ে অঙ্গিকারের ফুলঝুরি রয়েছে প্রচুর, তা বাস্তবায়িত করার আন্তরিক প্রয়াসে সীমাহীন গাফিলতি দেখা যাচ্ছে অনেক আগে থেকেই।

post
যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির ভ্যাকসিন কর্মসূচি

জ্যাকসন হাইটসে বিনামূল্যে বাংলাদেশিদের মাঝে বুস্টার টিকা প্রদান করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটি। করোনা মহামারীর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রভাব বাড়তে থাকায় বুস্টার টিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সিডিসি এবং নিউইর্য়ক হেলথ ডিপার্টমেন্ট। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির সেবায় বুস্টার টিকা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটি। প্রথম ধাপে জ্যাকসন হাইটসের ইসলামিক সেন্টারের সামনে গত ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বুস্টার টিকা প্রদান করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিটি কাউন্সিল মেম্বার কস্টা কস্টান্টিনিডস, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, জেবিবিএ’র নির্বাচিত সভাপতি গিয়াস আহমেদসহ আরও অনেকে। সার্বিক আয়োজনে ছিলেন বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আমিন মেহিদী বাবু।

post
যুক্তরাষ্ট্র

মহান একুশের নানা কর্মসূচি নিউইয়র্কে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে নিউইয়র্কে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে এবারও অনেক ক্ষেত্রেই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে দিবসটি উদযাপন করার প্রস্তুতি চলছে। তবে কোন কোন রাজ্যে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ, যাতে সশরীরে সমবেত হয়ে একুশে উদযাপন করা হবে।নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পনের আয়োজন করেছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনামঞ্চ। গত ৩১ বছর যাবত এ দুটি সংগঠন যৌথভাবে শহীদ দিবসের পথবেয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে। বাংলাদেশের সাথে মিলিয়ে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি বেলা একটা ০১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় একুশের প্রথম প্রহর) কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়াও নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র শাখা, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ-সহ রাজনৈতিক দলসমূহের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হবে বলে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবারও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে একুশে উদযাপন করবে বলে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে জেবিবিএ, কুইন্স প্যালেসে শো-টাইম মিউজিক, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, জ্যামাইকায় অস্থায়ী শহীদ মিনারে ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ছাড়াও কবিতা আবৃত্তি এবং শহীদ স্মরণে সঙ্গিতানুষ্ঠানও হবে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.