post
প্রবাস রাজনীতি

ওয়াশিংটনে খালেদা জিয়াকে স্মরণ তার সকল উজ্জ্বলতায়, দৃঢ়তায়

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের সদ্যপ্রয়াত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)'র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য শোক ও স্মৃতিচারণ। এতে অংশ নিয়ে একজন রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিক তথা ব্যক্তি খালেদা জিয়ার সকল উজ্জ্বলতা ও দৃঢ়তার কথা বললেন আলোচকরা।একসময়ে বাংলাদেশ নিযুক্ত দুই মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ সাংবাদিক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এই আলোচনায় অংশ নেন।একসময়ে খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বে তার প্রেসউইংয়ে কর্মরত, বর্তমানে মেক্সিকোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর উদ্যোগ ও আয়োজনে এই শোকসভায় বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি এহতেশামুল হক, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা ও মার্শা বার্নিকাট, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্ক শেফ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যারন বেলকাইন্ড প্রমুখ।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রটেক্টর এবং অর্থনৈতিক প্রগতির নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ, তখন তিনি নির্ভীক চিত্তে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।"খালেদা জিয়া ছিলেন বিশ্বে নজির সৃষ্টিকারী এক অনন্য নেতা, বলেন মুশফিকুল ফজল। খালেদা জিয়ার ওপর সংক্ষিপ্ত জীবনালাপ তুলে ধরেন এটর্নি এহতেশামুল হক। খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাংলাদেশিদের অত্যন্ত জনপ্রিয় স্লোগান- নেত্রী মোদের খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা'র কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সকল জীবন কর্মই ছিলো গর্ব করার মতো। একজন গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে এসে কিভাবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া তারই ধারবাহিকতা উঠে আসে এহতেশামুল হকের বক্তৃতায়।তিনি বলেন, বাংলাদেশে খালেদা জিয়া যতবার যত আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেন, তার সবগুলোতেই জয়ী হন। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।সারা জীবন জুড়েই খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে আপোষহীন থেকেছেন। নিজের জীবনে নানাভাবে রাজনৈতিক দুর্যোগ নেমে আসার পরেও, কারান্তরীণ থেকেও তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, উঠে আসে তার আলোচনায়। তিনি বলেন, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যায়নি। খালেদা জিয়ার নৈতিক সাহস ও গণতন্ত্রের পক্ষে নিরবচ্ছিন্ন লড়াইই তাকে দেশের মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলে।বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি স্তরে স্তরে খালেদা জিয়া তার অবদান রেখে গেছেন। আর সে কারণেই তিনি স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন, বলেন এহতেশামুল হক।বক্তাদের সকলেই তাদের স্মৃতিচারণে খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম তথা সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করেন।দুই রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ড্যান মজেনা তাদের বক্তৃতায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের সকল সাক্ষাত ও বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেসব বৈঠক কূটনীতিক চরিত্রের বাইরেও অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রাণবন্ত হতো। আর তা খালেদা জিয়ার কারণেই হতো। তিনি তাদের পারিবারিক খোঁজ-খবরই নিতেন।ড্যান মজেনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অন্যকে সম্মান দিয়ে নিজেও সম্মানিত হতেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি অন‍্যদের খোঁজখবর নিতেন। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করেন তিনি।"আমার দায়িত্ব পালনকালে বিরোধীদলে ছিলেন খালেদা জিয়া। সবাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারতো। তিনি সবার সঙ্গে যোগেযাগের বিষয়টি সহজ করে রেখেছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে যখনি দেখা করতে গিয়েছি তিনি সময় দিয়েছেন," বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক এই রাষ্ট্রদূত। অপর সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট জানান, বাংলাদেশে দায়িত্বপালন কালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার অনেকবার দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, "খুব বিপদ এবং সংকটের মধ্যেও তিনি হাস্যোজ্জ্বল এবং আন্তরিক থাকতেন।" "একজন নারী হিসাবে বাংলাদেশকে খালেদা জিয়া যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তা এশিয়া উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন তার লিগ্যাসি স্মরণে রাখবে মানুষ," বলেন বার্নিকাট।খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অনন্য ব্যক্তিত্বের কথাও উঠে আসে সকল বক্তার বক্তৃতায়। সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে ধারাবাহিক অগ্রসরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি রাজনীতির হাল ধরতে বাধ্য হন। সমর্থকদের চাপেই বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করেন।"ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়া পরিবারকে সবচেয়ে জনপ্রিয় উল্লেখ করে বলেন, "গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।"ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার মৃত্যুতে এই স্মরণসভা আয়োজন করতে পেরে ন্যাশনাল প্রেসক্লাব গর্বিত। ম‍্যারন বিলকাইন্ড বলেন , বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের শিক্ষা দেয়- গণতন্ত্র কোনো উপহার নয়, এটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকতে হয়। যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন তারাই ইতিহাস গড়েন না, বরং যাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ও সাহস নিয়ে লড়াই করেন, তাঁরাই ইতিহাসের নায়ক হয়ে থাকেন। আলোচনার আগে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। ডিসি-ম্যারিল্যান্ড-ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

দেশ পুনর্গঠনের পর নির্বাচন: ড. ইউনূস

দেশের আইন থেকে শুরু করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা পুনর্গঠনের পর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে চায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।রোববার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করে এ বার্তা দেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।ড. ইউনূসকে উদ্ধৃতি করে প্রেস সচিব বলেন, তিনি খুব দ্রুত নির্বাচনের কথা বলেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেটটা হচ্ছে- নির্বাচনটা তখনই করবেন যখন রিফর্মগুলো ক্যারি আউট করা যায়। যেটা জুডিশিয়ারি থেকে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে, সিকিউরিটি রিফোর্সে, মিডিয়াতে। সমস্ত কিছু উনি রিফর্ম অ্যাড্রেস করার পর অন্তর্বর্তী সরকার যত দ্রুত নির্বাচন করতে পারে, এটা হচ্ছে ওনাদের মূল কাজ।ড. ইউনূস বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। দেশের মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছেন। নতুন প্রজন্ম তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যাংক ডাকাতি করা হয়েছে।কূটনীতিকদের ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা। ছাত্র আন্দোলনে শত শত মানুষ মারা গেছে। অনেক ছাত্র চোখে গুলি খেয়েছে, আমি তাদের দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা জানি না, ওদের কি হবে। পৃথিবীর কোনো দেশের ছাত্রদের এত ত্যাগ করতে হয়নি। পৃথিবীর কোথাও নাগরিকরা এতটা মানবাধিকার বঞ্চিত হয়নি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, এটার গ্রহণযোগ্য ও পক্ষপাত অবলম্বন না করে একটা তদন্ত হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘকে পূর্ণ সমর্থ দেবে।ড. ইউনূস আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যে বাংলাদেশ চায় সেটা করার চেষ্টা করবেন। এমন একটা বাংলাদেশ যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে, বাক স্বাধীনতা থাকবে, মানবাধিকার থাকবে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

post
বাংলাদেশ

মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।শনিবার (১৭ আগস্ট) তৃতীয় ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আমন্ত্রণ জানান।ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুবচনবাদী গণতন্ত্র রূপান্তর নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, গণমাধ্যম, অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার করা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম কাজ।এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে এই বৈঠকে যোগ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার আগে এই সামিটে যোগ দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানান মোদি। শুক্রবার দুই দেশের নেতার মধ্যে এক ফোনালাপে এই আমন্ত্রণ জানান তিনি। তখনই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে রাজি হন প্রধান উপদেষ্টা।এ সময় ফোনালাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ড. ইউনূসকে অভিনন্দন জানান মোদি। অন্তর্বর্তী সরকারকে শুভকামনা জানিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করার কথা ব্যক্ত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেন তিনি।

post
বাংলাদেশ

প্রাণঘাতী এমপক্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অবস্থা জারি

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির ভয়াল থাবা থেকে এখনও ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি মানুষ। এরমধ্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এমপক্স ভাইরাস। যা পূর্বে মাংকিপক্স নামে পরিচিত ছিল।আফ্রিকার দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এমপক্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এ নিয়ে সতর্কতার অংশ হিসেবে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)। মূলত কঙ্গো থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দেশগুলোতে। গত দুই বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই ভাইরাসের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হলো। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার (১৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বলছে, আফ্রিকার ১৩টি দেশে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং এর নতুন রূপটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, ‘আজ জরুরি কমিটির বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরামর্শ আমি গ্রহণ করেছি।’ ‘আফ্রিকা এবং এর বাইরে আরও দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই উদ্বেগজনক। এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আবশ্যক’। এই সংক্রামক ভাইরাস এখন মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাইরাসের নতুন রূপটি যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর উচ্চ মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। দ্য আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫০০ মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। এই সময় কমপক্ষে ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়। বুরুন্ডি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকান, কেনিয়া এবং রুয়ান্ডাতেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।  পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, গতবছরের একই সময়ের তুলনায় এমপক্স ভাইরাসে আক্রান্তের হার বেড়েছে ১৬০ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৯ শতাংশ। ফলে ভাইরাসটির উচ্চ মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। 

post
সংবাদ

ড. ইউনূস আমাদের অহংকারের ধন: জিএম কাদের

দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম চূড়ান্ত হওয়ায় স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বুধবার এক বিবৃতিতে অধ্যাপক ড. ইউনূসকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব করায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদেরও ধন্যবাদ জানান জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। জিএম কাদের বলেন, জীবন্ত কিংবদন্তি ড. ইউনূস আমাদের অহংকারের ধন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার যে ধারণা তিনি প্রবর্তন করেছেন তা সারা বিশ্বের সামনে এক অনন্য মডেল। বিশ্ববাসীর কল্যাণে ড. ইউনূসের প্রতিটি কর্মকাণ্ড ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছে। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় তাই তার কোনো বিকল্প হয় না। জাতীয় পার্টি ড. ইউনূসের নেতৃত্বকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে ড. ইউনূস সফল হবেন। তার নেতৃত্বেই ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রা শুরু হবে। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুনাখুনি, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের খবর আসছে। দেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছে। স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া জাতির মাঝে আতঙ্ক থাকবে কেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জিএম কাদের।

post
সংবাদ

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে জয়ের নতুন বার্তা

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ থেকে চলে গেছেন শেখ হাসিনা। তার চলে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসিকে বলেছিলেন, মা আর দেশে ফিরবে না এবং রাজনীতি করবেন না। তবে, এবার শেখ হাসিনার দেশের ফেরা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন জয়। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেই দেশে ফিরবেন হাসিনা। তবে, ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি জয়। সোমবার (৫ আগস্ট) আন্দোলনের মুখে দেশ থেকে ভারত যান শেখ হাসিনা। তার যাওয়ার পর দেশের চলমান সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সজীব ওয়াজে জয় জানান, তার মা শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের আয়োজন করলেই তার মা দেশে ফিরবেন। তবে, ৭৬ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে সম্পর্কে জয় কিছু জানায়নি। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘রাজনীতি নিয়ে আমার কখনওই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। কিন্তু, চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নেতৃত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দলের প্রয়োজনে আমাকে সক্রিয় হতে হবে এবং সামনের সারিতে থেকেই কাজ করব।’

post
সংবাদ

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে জয়ের নতুন বার্তা

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ থেকে চলে গেছেন শেখ হাসিনা। তার চলে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসিকে বলেছিলেন, মা আর দেশে ফিরবে না এবং রাজনীতি করবেন না। তবে, এবার শেখ হাসিনার দেশের ফেরা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন জয়। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেই দেশে ফিরবেন হাসিনা। তবে, ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি জয়। সোমবার (৫ আগস্ট) আন্দোলনের মুখে দেশ থেকে ভারত যান শেখ হাসিনা। তার যাওয়ার পর দেশের চলমান সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সজীব ওয়াজে জয় জানান, তার মা শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের আয়োজন করলেই তার মা দেশে ফিরবেন। তবে, ৭৬ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে সম্পর্কে জয় কিছু জানায়নি। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘রাজনীতি নিয়ে আমার কখনওই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। কিন্তু, চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নেতৃত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দলের প্রয়োজনে আমাকে সক্রিয় হতে হবে এবং সামনের সারিতে থেকেই কাজ করব।

post
বাংলাদেশ

মাহবুব আলী খান স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের একটি হলে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মরহুমের জামাতা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মরহুমের কনিষ্ঠ কন্যা ডাঃ জুবাইদা রহমান। স্মৃতি সংসদের সভাপতি সোহেল আহমেদ সাদিকের সভাপতিত্বে এ আয়োজন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক আবেদ রাজা ও যুগ্ম সম্পাদক এমাদুর রহমান এমাদের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্মৃতি সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন। এর আগে, মরহুমের কর্মজীবনের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, টাওয়ার হেমলেট কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ ও ব্যারিস্টার নজির আহমদসহ আরো অনেকে।

post
সংবাদ

নৈরাজ্য কোনো সমাধান হতে পারে না: তারেক রহমান

হামলা-সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নৈরাজ্য কোনো সমাধান হতে পারে না। বুধবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর নয়া পল্টনে দলীয় সমাবেশে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তব্যে এ কথা বলেন তারেক রহমান। বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, আপনারা আপনাদের প্রতিবেশী, তারা যে ধর্মেরই হোক না কেন, তাদের নিরাপত্তায় ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে হাজারো শহিদের রক্ত রঞ্জিত বিপ্লবের প্রথম ধাপ সফল হয়েছে মাত্র। ছাত্র-জনতার এই রক্তঝরা বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্য-একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। তাই, বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

post
সংবাদ

অসম্ভবকে সম্ভব করা বীর সন্তানদের ধন্যবাদ জানাই: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আপনাদের সামনে কথা বলতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার কারামুক্তি এবং রোগমুক্তির জন্য আপনারা সংগ্রাম করেছেন, দোয়া করেছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। বুধবার (৭ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি উল্লেখ করে ভিডিও বার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের বীর সন্তানদের। যারা মরণপণ সংগ্রাম করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। শত-শত শহীদদের জানাই শ্রদ্ধা। এই বিজয় আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। দুই মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, দীর্ঘদিনের নজিরবিহীন দুর্নীতি ও গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নির্মাণ করতে হবে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, এই ছাত্র-তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তারা যে স্বপ্ন নিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে মেধা, যোগ্যতা ও জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শোষণহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে বলে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, শান্তি, প্রগতি ও সাম্যের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে আসুন আমরা তরুণদের হাত শক্তিশালী করি। ধ্বংস, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা, শান্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি করি।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.