post
বাংলাদেশ

সংকট-মন্দা মোকাবিলায় ‘বৈশ্বিক সংহতি’ চান শেখ হাসিনা

করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞায় সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক সংহতির ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকট ও মন্দা থেকে উত্তরণে ৬ টি প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থবিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গঠিত জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের তৈরি প্লাটফর্ম ‘চ্যাম্পিয়নস গ্রুপ অফ গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স’ (জিসিআরজি) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মহাসচিবের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চলমান এ সংকট এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক সংহতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সংকটগুলো আমাদের সমাজ এবং অর্থনীতিতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। করোনা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের পথে যোগ করেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। চলমান এ বিপর্যয়ের একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি টানতে উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা নিষেধাজ্ঞা গোটা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে যুদ্ধরত, উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সঠিক নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, এজন্য অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতেও আমরা প্রস্তুত। অ্যান্তেনিও গুতেরেসের উদ্যোগে শিগগিরই একটি পারস্পরিক সমাধান নিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংকট সামলাতে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশে সামষ্টিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশে আমরা সুনির্দিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থা অনুসরণ করছি। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বহুগুণে প্রসারিত করা হয়েছে। কৃষি, ক্ষুদ্র, কুঠির ও মাঝারি শিল্প এবং অন্যান্য দুর্বল খাতগুলো রক্ষায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানিখাতে নবায়নযোগ্য অংশ বাড়াতেও নেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এ সময় সংকট ও বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, আমাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। জি-৭, জি-২০, ওইসিডি, আইএফআই ও এমডিবির মতো সংস্থাগুলোকে সংকট সমাধানে আরও উদ্যোগী হতে হবে। সংকটগুলোর মধ্যে আছে- এসডিজিতে অর্থায়নের অভাব, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র ও ওডিএ কমে আসা এবং ঋণ পরিষেবা। ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন’ উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় মহাসচিবের প্রশংসা করে দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ-সংঘাতের সময় খাদ্য উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগ সমর্থনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারি। তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করতে সাহসী ও সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব বাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। চতুর্থ প্রস্তাবে উৎপাদনশীলতা এবং কার্যকর খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে করে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি, প্রযুক্তি সহায়তা, ওডিএ উন্নত করা এবং রেয়াতি অর্থায়নে সরকার থেকে সরকার (জি টু জি) এবং বাণিজ্য থেকে বাণিজ্য (বি টু বি) খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। পঞ্চম প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু সহযোগিতায় বিশ্ব স্থাপত্যকে আরও কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত করতে হবে। আমাদের উচিত আসন্ন কপ-২৭-এর সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করা। ৬ষ্ঠ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রক্তাক্ত ও সর্বনাশা সংকটের (রাশিয়া-ইউক্রেন যুদধ) একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাপ্তির উপায় খুঁজে বের করার কথা বলেন। নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা নিষেধাজ্ঞাগুলো সারা বিশ্বের মানুষকে গভীর ভাবে আঘাত করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলো এবং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো। অংশীদারদের সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তায় কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো, খাদ্য-জ্বালানি নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে জিসিআরসি গঠনে এগিয়ে আসে জাতিসংঘ। এ গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য যুদ্ধকালীন এবং যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্বের দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা এ গ্রুপে যোগ দেন। গত ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে জিসিআরজি গঠনের কথা জানান অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ১৩ এপ্রিল জিসিআরজিতে যুক্ত হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ প্লাটফর্মে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

post
নারী ও শিশু

বিশ্বকে গৃহহীনতার অভিশাপ মুক্ত করার আহ্বান শেখ হাসিনার

শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষকে ‘গৃহহীনতার অভিশাপ’ মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার (সেপ্টেম্বর ২১) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে হোটেল লোটে প্যালেসে ‘টেকসই গৃহায়ন’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর‌্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃতপক্ষে গৃহহীনতা একটা অভিশাপ। এটি উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় মানুষকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে কিছু করার বিষয়টি আমাদের সক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। এক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অংশদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা বলেন, এটি করতে (গৃহহীনতার অভিশাপ দূর করতে) এখানে জড়ো হওয়া আমাদের সকল বন্ধু এবং অংশীজনরা একটি শক্তিশালী অংশদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, আসুন আমরা সারা বিশ্বের জন্য এক সঙ্গে কাজ করি, যেখানে গৃহহীনতা অতিতের কোন বিষয়ে পরিণত হবে। গৃহহীনদের প্রতি নিজের মমত্ববোধের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এমন একটি ইস্যু যা আমি আমার হৃদয়ের গভীরে ধরে রেখেছি। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত আশ্রয় প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শেখ হাসিনা বলেন, সারা বিশ্বের মানুষকে গৃহহীনতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার পথে এগিয়ে যেতে ‘নিউ আর এজেন্‌ডা’ একটি দরকার ‘ব্লু প্রিন্ট’ হিসেবে আমাদের সহায়তা করতে পারে। এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তাকারী দেশগুলোতে আমাদের অবশ্যই ইউএন-এইচএবিআইটিএটি এর কাজকে সমর্থন করতে হবে। এই ইস্যুটিকে সামনে নিউইয়র্কের বন্ধুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ঘর দেশের প্রতিটি নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা, এটি অন্যান্য চাহিদা পূরনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে আমরা একটি বাড়িতে শুধু থাকার জায়গা মনে করি না। আবাসনের নিরাপত্তা ব্যক্তির মর‌্যাদার সঙ্গে বসবাসের সঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তিকে ত্বরান্বিত করে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভুমিহীন-গৃহহীনদের বিনামূল্যে জমি ও ঘর দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সফলভাবে গৃহহীনতার সমস্যাটি সামলাতে পারে। তিনি বলেন, আমরা গৃহহীন-ভূমিহীনদের বিনামূল্যে জমির সঙ্গে বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। সারা দেশে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য টেকসই ঘর নির্মাণে আমাদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে আমি এখানে এসেছি। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রথম ভূমিহীন, গৃহহীন এবং ছিন্নমূল মানুষদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ নেন। জাতির পিতার লক্ষ্যকে ধারণ করে ১৯৯৭ সালে আমরা ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের পুর্নবাসনে আশ্রায়ণ প্রকল্প চালু করি। গত দুই দশকে আমাদের সরকার সবার জন্য বিনামূল্যে আবাসন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গত ২ বছরে আমরা ২ লাখ বাড়ি নির্মাণ করেছি, যেখানে ১ মিলিয়নের বেশি মানুষের আবাসন নিশ্চিত হয়েছে। আমার প্রধানমন্ত্রীত্বের ১৮ বছরে ৫ লাখেরও বেশি বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে আমরা সাড়ে তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে আরও ৪০ হাজার বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাড়ি গুলোর বৈশিষ্ট তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক পরিবার দুটি বেড রুম, একটি লম্বা বারান্দা, একটি রান্নাঘর, একটি স্যানিটারি ল্যাট্রিনসহ ৪০০ স্কয়ার ফুটের একটি পাকা বাড়ির মালিকানা পাচ্ছে। আমরা প্রতিটি বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি সরবরাহ করছি। পর‌্যাপ্ত বাড়ির আঙ্গিনাসহ আমরা বিনামূল্যে বাড়ি এবং জমি দিচ্ছি, এটি পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যন্য। প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব বাড়ির সুবিধাভোগীরা হলেন- ভূমিহীন-গৃহহীন, ভিক্ষুক, দিনমজুর, নিঃস্ব নারী, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক-জন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার, জাতিগত সংখ্যালঘু, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, কুষ্ঠ রোগী, ঝাড়ুদার এবং হরিজন সম্প্রদায়। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকেও একই ভাবে পুর্নবাসন করছি। ইতিমধ্যে কক্সবাজারে ১৩৯টি বহুতল ভবনে ৫ হাজার জলবায়ু-শরণার্থী পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের কারণে গৃহহীনদের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমেছে জানিযে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গৃহহীন মানুষ কর্মসংস্থান এবং বাসস্থানের সন্ধানে শহরে ছুটে আসতো, আগে বাংলাদেশে এটি সাধারণ দৃশ্য ছিল। কিন্তু আশ্রায়ণ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এই প্রবণতা প্রায় বন্ধ হযে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, এসব মানুষ এখন তাদের নিজেদের এলাকা স্ব-কর্মসংস্থান করছে। আমরা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ মডেলটি অনুসরণ করছি। এই মডেলটি একজন পুর্নবাসিত ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সঙ্গে আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মমর‌্যাদা সম্পন্ন করে গড়ে তোলে। এই প্রকল্পে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের জন্য জমি এবং বাড়ির মালিকানার সমান অংশদারিত্ব নিশ্চিত করে।

post
বাংলাদেশ

নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রয়াত ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে যোগদান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দেবেন।স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৪ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২৪ মিনিট) নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এরআগে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৯১০ ভিভিআইপি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।নিউইয়র্ক সফরকালে ২০ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস এবং সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বরুত পাহরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ২০ সেপ্টেম্বর নারী নেতাদের নিয়ে জাতিসংঘের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।২১ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলেমে ল্যাসো মেন্ডেজো, কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানী সাদ্রিউ এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এদিন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে ‘টেকসই গৃহায়ন’ বিষয়ে একটি অনুষ্ঠান এবং ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন’ শীর্ষক সভায় অংশ নেবেন। এছাড়া জাতিসংঘ সদরদপ্তরে পদ্মা সেতুর স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন তিনি।২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে গোলটেবিল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক একটি বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।এদিন তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন আইওএম এর মহাপরিচালক অ্যান্তেনিও ভিটোরিনো, আইসিসি প্রসিকিউটর নিক ক্লেগ ও করিম খান।২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে (ভার্চ্যুয়াল) অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপরবিকেলে নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন এবং অক্টোবরের দুই তারিখ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি ব্রিটেনের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের সংবর্ধনা এবং রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন।ওয়াশিংটন থেকে দুই অক্টোবর রওয়ানা হয়ে লন্ডনে যাত্রাবিরতি দিয়ে আগামী ৪ অক্টোবর রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

post
বাংলাদেশ

নতুন আইজিপি হচ্ছেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হচ্ছেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর দিচ্ছে।সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, শিগগিরই এই ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমান আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্থালাভিষিক্ত হবেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরে যাচ্ছেন বেনজীর আহমেদ। অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাবের প্রধান হওয়ার আগে তিনি সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি খুরশীদ হোসেন নাম প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

post
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের টিকাদান কার্যক্রম বিস্ময়কর: পিটার হাস

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আজ কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলা এবং টিকাদান কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, এটি ‘অসামান্য দক্ষতা’ এবং ‘সত্যিই বিস্ময়কর’। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টিকাদান কার্যক্রমে বাংলাদেশ স্পষ্টতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এটি সত্যিই বিস্ময়কর এবং দক্ষতা অসামান্য।’ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে এসে এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, হাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রুপান্তরের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘এটা খুবই চিত্তাকর্ষক।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এটি আরও উন্নত হতে থাকবে।’ মহামারীর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ‘গ্লোবাল কোভিড অ্যাকশন প্ল্যান’-এ বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করতে চায় উল্লেখ করে হাস বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের সাথে ইউএস-বাংলাদেশের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় সাফল্যের বিষয়ে বলেন, তাঁর দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলো সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের সেবা এবং ওষুধ ও অক্সিজেন বিতরণের মাধ্যমে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করার মাধ্যমে শুরু থেকেই দক্ষতার সঙ্গে মহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। তিনি বলেন, যখন ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে, তাঁর সরকার জনগণকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ সরবরাহ করেছে। এখন, সরকার শিশুদের টিকা দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোভিড -১৯ টিকা প্রকল্প পরিচালনার জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের সাথে সমন্বয় করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন, যা সত্যিই ভাল কাজ করেছে। সে সময় তিনি নিজেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশে ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা পূর্ণ সামর্থ্য নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছেন। এলডিসি গ্রাজুয়েশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কোভিড-১৯ এর বিপর্যয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ উন্নতি অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী এই লক্ষ্যে, সমাজের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জাগ্রত রাখার সংকল্প

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত সংহত করার সংকল্প ব্যক্ত করা হলো ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার সমাবেশে।২০২২-২০২৫ মেয়াদের নয়া কমিটির পরিচিতি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের ‘গুলশান টেরেস’র মিলনায়তনে এ সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরা। ছিলেন নতুন প্রজন্মের সদস্যরাও। এসময় ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ৩১ সদস্যের কার্যকরী কমিটির সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ফলে বহুজাতিক এ দেশে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এ সমাবেশ পরিণত হয় লাল-সবুজের একখন্ড বাংলাদেশে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াল সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং হামলাকারিদের প্রতি ধিক্কার ও ঘৃণা প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে শুরু এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করেন বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের সদস্যরা। নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি এবং মহিলা সম্পাদিকা সবিতা দাস। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তিন কন্ঠযোদ্ধা এ সময় দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গানে সকলকে আপ্লুত করেন। প্রবীন প্রবাসী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সকলেই ৫২ বছর আগের স্মৃতির অতলে হারিয়ে যান রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরি কিবরিয়া আর শহীদ হাসানের গানে। প্রথিতযশা এই ৩ শিল্পীর গানে মাতোয়ারা মিলনায়তনকে আরেক দফা নাচিয়ে নেয় নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবের দরাজকন্ঠের গান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি’র চ্যান্সেলর এবং মার্কিন আইটি সেক্টরে বাংলাদেশিদের কাজ পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালনরত পিপলএনটেকের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবুল মোহিতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা।অনুষ্ঠানে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই নিউইয়র্কে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত রাখতে চলমান কার্যক্রমকে আরো জোরালো করার আহবান জানান প্রধান অতিথি ড. মনিরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ সমুন্নত রাখতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সচেতন প্রবাসীগণের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন তিনি। আবুবকর হানিপ নয়া কমিটির কর্মকর্তাগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির কোর্স গ্রহণে ইচ্ছুক মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদেরকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। তার ভার্সিটিতে পড়তে উচ্ছুকদেরকেও বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন বিপুল করতালির মধ্যে। এ সময় তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে ৭ হাজারের অধিক প্রবাসীকে বিশেষ কোর্স প্রদানের মধ্যদিয়ে লাখ ডলারের অধিক বেতনের চাকরি সংগ্রহ করে দিয়েছে পিপল এ্যান্ড টেক। গত দু’বছরে বাংলাদেশ থেকে তার ভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষার জন্যে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থী। নূরএলাহি মিনা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কার্যক্রমকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় অনন্য এক সহযোগি হিসেবে অভিহিত করেন। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে। তার এই সফরের সময় যে কোন মহলের অপতৎপরতা রুখে দিতে সচেতন প্রবাসীদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আয়োজনে নতুন কমিটির পরিচিতি পর্বে সকলকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চে আহবান করা হয়। ছোট্টমণি আলিশা খান, নিহাল হাসান, আরিয়া হাসান, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, উর্নিষা হাওলাদারের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছাকালে পুরো অডিটরিয়াম প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা হলেন ক্যাপ্টেন (অব:) ডা. সিতারা রহমান বীর প্রতিক, মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমদ বীর প্রতীক, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা কাদেরি কিবরিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ পাটোয়ারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মলিনচন্দ্র সাহা এবং হারুন ভূইয়া। নয়া কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুৃন্নু, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া এবং আলিম খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ হাজী জাফরউল্লাহ, প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. রফিক খান, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক তানভির হাবিব শুভ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভ’ইয়া, নারী বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস, যুব সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন। নির্বাহী সদস্যরা হলেন : বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা গুলজার হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, আবুল হাসান মিলন, মোহাম্মদ শামীম শরিফ, নুরুন্নাহার নিশা খান, কাজী মনসুর খৈয়াম, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, নাহিদ রেজা জন এবং আবু সাঈদ সিদ্দিক জামি। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে বিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ গত ৫ বছর দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় নয়া কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার দায়িত্ব গ্রহণ পর্বে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম এবং ফোবানার আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার ও সাবেক চেয়ারপার্সন জাকারিয়া চৌধুরি এই ফোরামের নয়া কমিটির সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তথা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারনা দিতে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেছে, সামনের দিনগুলোতে তা আরো প্রস্ফুটিত হবে। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ভাষা-ভাষীর মানুষের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বাঙালির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হয়েছে এই ফোরাম। মুক্তচিন্তার কলামিস্ট ও কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এই প্রবাসে বহুমুখী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে। ওদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। আলোচনা সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার বলেন, জয় বাংলা হচ্ছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাংলাদেশের সমার্থক। তাই প্রবাসে জন্মগ্রহণকারিদেরকে জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে একাকার করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। যারা বাংলাদেশের সংবিধান মানে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে থামিয়ে দিতে বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত-তাদের ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখতে প্রবাসীদের পাশে থাকবে এই ফোরাম। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশেদ আনোয়ার বাবলু, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমেদ বীর প্রতিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া এবং অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, সহ-সভাপতি শওকত আকবর রীচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহিদ, ইউএসবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ, এটর্নী জান্নাতুল রুমা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সমিরুল ইসলাম বাবলু, সুলতানা রহমান, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট নাজিমউদ্দিন, আবুধাবির আল আইন সেন্ট্রাল বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার উত্তম কুমার হাওলাদার, মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলম, নিউ আমেরিকান ডেমক্র্যাট আহনাফ আলম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম দুলাল মিয়া, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মনিকা রায় চৌধুরী, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সদস্যপ্রার্থী সিরাজদৌলাহ হক বাশার, কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার ওসমান চৌধুরী, কম্যুনিটি লিডার শাহিন খান, নাসরীন শিল্পী, এটিএম মাসুদ প্রমুখ। 

post
বাংলাদেশ

চিরনিদ্রায় শায়িত সাজেদা চৌধুরী

ঢাকার বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ৷সোমবার বিকাল সোয়া ৬টায় দিকে তাকে বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। বনানী কবরস্থানে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ পৌঁছালে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে স্যালুট জানানো হয় ৷ এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, বিকাল ৪টা ১৮ মিনিটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের পক্ষ থেকে সাজেদা চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সেখানে আনা হয়। এরপর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। এর আগে, রবিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান ওই নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ৮৭ বছর বয়সে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৩ ছেলে ও এক মেয়ের জননী সাজেদা চৌধুরী। তার স্বামী গোলাম আকবর চৌধুরী ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সাজেদার জন্ম ১৯৩৫ সালের ৮ মে, তার বাবার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। প্রবীণ ওই রাজনীতিবিদের জন্ম ১৯৩৫ সালে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিপর্যয়ের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ। সেই সংকটময় মুহূর্তে দলটিকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৭৬ সালে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯২ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এর আগে, ১৯৬৯ থেকে ৭৫ পর্যন্ত সাজেদা চৌধুরী মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাজেদা চৌধুরী একাধিবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সাজেদা চৌধুরীকে প্রথমবার জাতীয় সংসদের উপনেতা করা হয়। এরপর দশম সংসদেও তিনি উপনেতার দায়িত্ব পান।

post
বাংলাদেশ

চলে গেলেন আকবর আলি খান

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সাবেক সচিব ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান মারা গেছেন (ইন্নানিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। আকবর আলি খানের পারিবারিক সূত্র তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকের বরাতে জানিয়েছে পারিবারিক সূত্র। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

post
বাংলাদেশ

জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করলেন আইজিপি বেনজীর

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ এর সাথে জাতিসংঘ পুলিশ প্রধান লুইস লিবেরিও কারিলহো এর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। আন্তরিকতাপূর্ণ এ বৈঠকে পরস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ পুলিশ প্রধান শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অবদানের স্বীকৃতি এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও কর্মনিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পূর্ব তিমুর এবং হাইতিতে পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের যে উচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ তিনি দেখেছেন তা উল্লেখ করেন পুলিশ প্রধান। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন মালি ও ডিআর কঙ্গোতে কর্তব্যরত বাংলাদেশী পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে আসছে যা নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘ পুলিশ প্রধান।আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের যে কোনো প্রয়োজনে সাড়া দিতে বাংলাদেশ পুলিশ সদা প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার ঝুঁকিপূর্ণ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষ ও পেশাদারী বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েনের অনুরোধ জানান আইজিপি। এক্ষেত্রে তিনি সোয়াট, ক্যানাইন, রিভারাইন ও গার্ড পুলিশ এবং ফরেনসিক ইউনিটসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন এবং জাতিসংঘ পুলিশের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সদরদপ্তর এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মাঠ পর্যায়ে উচ্চপদে বাংলাদেশী পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগের অনুরোধ জানান আইজিপি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসডিজি বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন আইজিপি। শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবারাহের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশ আগামী দিনগুলোতেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে মর্মে প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন জাতিসংঘ পুলিশ প্রধান। জাতিসংঘের শান্তি পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ড. বেনজীর আহমেদ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পূনর্ব্যক্ত করেন।বৈঠকে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: সাদেকুজ্জামান ও পুলিশ সদরদপ্তরের ওভারসিজ এন্ড ইউএন অপারেশন শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

বিশ্বে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যে সারা বিশ্বে একটা দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আমরা দেখতে পাচ্ছি, এর প্রভাব থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। যার পক্ষে যা সম্ভব, তা যেন উৎপাদন করে।বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) তিন দিনব্যাপী ২৪তম জাতীয় সম্মেলন ও ৪৩তম কাউন্সিল অধিবেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়ানোতে সবাই সক্রিয় হোন, যাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কায় বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট না পায়। আমাদের ব্যবস্থা আমাদের নিজেদের করে নিতে হবে।সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজ প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও রেশনিং করা হচ্ছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, মিতব্যয়ী হতে হবে, সঞ্চয়ী হতে হবে। খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্প আমাদের একেবারে আশু শেষ করা প্রয়োজন আমরা সেগুলো দ্রুত শেষ করব। যেগুলো এখনই প্রয়োজন নয়, সেগুলো ধীরগতিতে হবে। আমরা অহেতুক টাকা ব্যয় করব না। যেগুলো আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো আমরা করব। এভাবে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে তাহলেই সারা বিশ্বের এই মন্দা আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।তিনি বলেন, এখন থেকে আমাদের সবাইকে কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে, সঞ্চয় করতে হবে। কোনোভাবেই যেন আমরা কোনো কিছুতেই অতিরিক্ত ব্যয় না করি। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দারিদ্রসীমা ২০ শতাংশে এনেছি। করোনার মধ্যেও জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশতে উঠে আসে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও আমাদের উন্নয়ন কাজে প্রভাব পড়েছে।সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ২০৪১ সালের বাংলাদেশ নিয়ে আমরা কাজ করছি। তরুণ প্রজন্ম সে সময়ের কারিগর হবে। অষ্টম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, এতে এসডিজি বাস্তয়বায়ন সম্ভব হবে। ডেল্টা প্ল্যান অনুযায়ী আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, আইডিইবির সভাপতি একেএমএ হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান প্রমুখ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.