মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত সংহত করার সংকল্প ব্যক্ত করা হলো ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার সমাবেশে।
২০২২-২০২৫ মেয়াদের নয়া কমিটির পরিচিতি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের ‘গুলশান টেরেস’র মিলনায়তনে এ সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরা। ছিলেন নতুন প্রজন্মের সদস্যরাও।
এসময় ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ৩১ সদস্যের কার্যকরী কমিটির সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ফলে বহুজাতিক এ দেশে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এ সমাবেশ পরিণত হয় লাল-সবুজের একখন্ড বাংলাদেশে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াল সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং হামলাকারিদের প্রতি ধিক্কার ও ঘৃণা প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে শুরু এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন করেন বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের সদস্যরা।
নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি এবং মহিলা সম্পাদিকা সবিতা দাস।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তিন কন্ঠযোদ্ধা এ সময় দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গানে সকলকে আপ্লুত করেন। প্রবীন প্রবাসী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সকলেই ৫২ বছর আগের স্মৃতির অতলে হারিয়ে যান রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরি কিবরিয়া আর শহীদ হাসানের গানে। প্রথিতযশা এই ৩ শিল্পীর গানে মাতোয়ারা মিলনায়তনকে আরেক দফা নাচিয়ে নেয় নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবের দরাজকন্ঠের গান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি’র চ্যান্সেলর এবং মার্কিন আইটি সেক্টরে বাংলাদেশিদের কাজ পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালনরত পিপলএনটেকের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবুল মোহিতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা।
অনুষ্ঠানে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই নিউইয়র্কে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত রাখতে চলমান কার্যক্রমকে আরো জোরালো করার আহবান জানান প্রধান অতিথি ড. মনিরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ সমুন্নত রাখতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সচেতন প্রবাসীগণের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন তিনি।
আবুবকর হানিপ নয়া কমিটির কর্মকর্তাগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির কোর্স গ্রহণে ইচ্ছুক মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদেরকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। তার ভার্সিটিতে পড়তে উচ্ছুকদেরকেও বিশেষ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন বিপুল করতালির মধ্যে। এ সময় তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে ৭ হাজারের অধিক প্রবাসীকে বিশেষ কোর্স প্রদানের মধ্যদিয়ে লাখ ডলারের অধিক বেতনের চাকরি সংগ্রহ করে দিয়েছে পিপল এ্যান্ড টেক। গত দু’বছরে বাংলাদেশ থেকে তার ভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষার জন্যে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন চার শতাধিক শিক্ষার্থী।
নূরএলাহি মিনা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কার্যক্রমকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় অনন্য এক সহযোগি হিসেবে অভিহিত করেন। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে। তার এই সফরের সময় যে কোন মহলের অপতৎপরতা রুখে দিতে সচেতন প্রবাসীদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।
আয়োজনে নতুন কমিটির পরিচিতি পর্বে সকলকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চে আহবান করা হয়। ছোট্টমণি আলিশা খান, নিহাল হাসান, আরিয়া হাসান, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, উর্নিষা হাওলাদারের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছাকালে পুরো অডিটরিয়াম প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।
কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা হলেন ক্যাপ্টেন (অব:) ডা. সিতারা রহমান বীর প্রতিক, মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমদ বীর প্রতীক, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা কাদেরি কিবরিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ পাটোয়ারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মলিনচন্দ্র সাহা এবং হারুন ভূইয়া।
নয়া কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুৃন্নু, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া এবং আলিম খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ হাজী জাফরউল্লাহ, প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. রফিক খান, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক তানভির হাবিব শুভ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভ’ইয়া, নারী বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস, যুব সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন। নির্বাহী সদস্যরা হলেন : বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা গুলজার হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, আবুল হাসান মিলন, মোহাম্মদ শামীম শরিফ, নুরুন্নাহার নিশা খান, কাজী মনসুর খৈয়াম, শবনম রুবাইয়া প্রিয়া, নাহিদ রেজা জন এবং আবু সাঈদ সিদ্দিক জামি।
অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে বিদায়ী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ গত ৫ বছর দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় নয়া কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার দায়িত্ব গ্রহণ পর্বে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম এবং ফোবানার আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার ও সাবেক চেয়ারপার্সন জাকারিয়া চৌধুরি এই ফোরামের নয়া কমিটির সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তথা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারনা দিতে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেছে, সামনের দিনগুলোতে তা আরো প্রস্ফুটিত হবে। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ভাষা-ভাষীর মানুষের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বাঙালির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হয়েছে এই ফোরাম। মুক্তচিন্তার কলামিস্ট ও কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এই প্রবাসে বহুমুখী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে। ওদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। আলোচনা সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার বলেন, জয় বাংলা হচ্ছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাংলাদেশের সমার্থক। তাই প্রবাসে জন্মগ্রহণকারিদেরকে জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে একাকার করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। যারা বাংলাদেশের সংবিধান মানে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে থামিয়ে দিতে বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত-তাদের ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখতে প্রবাসীদের পাশে থাকবে এই ফোরাম। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশেদ আনোয়ার বাবলু, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমেদ বীর প্রতিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের ভ’ইয়া এবং অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’র সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, সহ-সভাপতি শওকত আকবর রীচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহিদ, ইউএসবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ, এটর্নী জান্নাতুল রুমা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সমিরুল ইসলাম বাবলু, সুলতানা রহমান, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট নাজিমউদ্দিন, আবুধাবির আল আইন সেন্ট্রাল বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার উত্তম কুমার হাওলাদার, মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলম, নিউ আমেরিকান ডেমক্র্যাট আহনাফ আলম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম দুলাল মিয়া, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মনিকা রায় চৌধুরী, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সদস্যপ্রার্থী সিরাজদৌলাহ হক বাশার, কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার ওসমান চৌধুরী, কম্যুনিটি লিডার শাহিন খান, নাসরীন শিল্পী, এটিএম মাসুদ প্রমুখ।
