post
বাংলাদেশ

নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি: সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি বাংলাদেশ সরকারের

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদ এবং এর যে কোনো ধরন এর মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে চলেছে বাংলাদেশ সরকার”। বুধবার (৩১ আগস্ট) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেইয়াকা সনকো এবং জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ভ্লাদিমির ভরনকভ এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহে একথা বলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি।তৃতীয় জাতিসংঘ পুলিশ সামিটের সাইডলাইনে আয়োজিত এসকল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তর ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুইমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে চলমান ও ভবিষ্যত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সাফল্য ও অনুকরণীয় ভূমিকা ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গাম্বিয়ার শান্তিরক্ষী বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। শান্তিরক্ষী মোতায়েন পূর্ববর্তী প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যাতে গাম্বিয়াকে সহযোগিতা প্রদান করে সে অনুরোধ জানান তিনি। গাম্বিয়ার শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে মর্মে আশ্বাস প্রদান করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের অবদানের কথা তুলে ধরেন। গাম্বিয়ার পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ সহায়তা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের পুলিশের সক্ষমতা সম্পর্কে গাম্বিয়ান প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিপসট) এর প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্পর্কে গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের জন্য গাম্বিয়াকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ আশ্রয় আরও দীর্ঘায়িত করা অসম্ভব। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অত্যন্ত জরুরি।বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে ফলপ্রসু আলোচনা করেন মন্ত্রীদ্বয়।গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার মধ্যে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে বাংলাদেশ এ বিষয়ে গাম্বিয়াকে যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য উল্লেখ করে গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গাম্বিয়ায় কারাগারের পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এ বৈঠকে। উভয় প্রতিনিধিদল বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের মধ্যে আরও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণে দ্বিপাক্ষিক সফরের বিষয়ে সম্মত হন।জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল (ইউএসজি) এর সাথে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত সন্ত্রাস দমন বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ ও নীতিসমূহ তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভবিষ্যতে এক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের এই অফিসের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবেন মর্মেও উল্লেখ করেন তিনি। ইউএসজি সন্ত্রাস দমন এবং সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন নীতি, উদ্যোগ এবং সফলতার প্রশংসা করেন। তিনি ২০২৩ সালের জুনে অনুষ্ঠিতব্য সন্ত্রাস-বিরোধী সংস্থাসমূহের প্রধানদের আসন্ন উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান এবং সেখানে বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত উত্তম অনুশীলন ও সাফল্যগাঁথা তুলে ধরার অনুরোধ জানান। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল সন্ত্রাসে অর্থায়ন, পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রসারিত করতে জাতিসংঘ প্রস্তত রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ উদ্যানে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু বেঞ্চ ও রোপনকৃত বৃক্ষ পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ।

post
বাংলাদেশ

বিদেশি মুদ্রা একমাসের বেশি নিজের কাছে রাখা যাবে না, নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার নোট একমাসের বেশি সময় কেউ নিজের কাছে রাখতে পারবেন না। বুধবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।এতে বলা হয়েছে, নিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তি বিদেশ থেকে সঙ্গে আনা অনধিক ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমমূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা নিজের কাছে বা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাবে জমা রাখতে পারেন। পরবর্তী বিদেশ যাত্রায় এই বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিয়েও যেতে পারেন।সার্কুলারে আরও বলা হয়, ১০ হাজার মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত পরিমাণ আনা বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসার একমাসের মধ্যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে/লাইসেন্সধারী মানিচেঞ্জারের কাছে বিক্রি বা রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাবে জমা রাখা নিবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। উল্লিখিত প্রাধিকার বহির্ভূত বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ করা ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭’ এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ।প্রাধিকারভুক্ত নয় এমন বৈদেশিক মুদ্রা নিবাসী বাংলাদেশির কাছে থাকলে তা আগামী সেপ্টেম্বর ৩০ এর মধ্যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে/লাইসেন্সধারী মানিচেঞ্জারের কাছে বিক্রি করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।নির্দিষ্ট সময়ের পর অননুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা নিবাসী ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে লিগ্যাল নোটিশ

বিতর্কিত’ বক্তব্য দিয়ে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।রোববার (২১ আগস্ট) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. এরশাদ হোসেন রাশেদ এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আপনি ভারত সরকারকে যে অনুরোধ করেছেন, এটা আপনি করতে পারেন না। কারণ সংবিধানে বলা হয়েছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আপনি সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আপনি মন্ত্রী পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।আইনজীবী এরশাদ হোসেন রাশেদ বলেন, ১৯ আগস্ট বিকেলে গণমাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত বিষয়ক বক্তব্যের তথ্য পান। ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এর মাধ্যমে তিনি তার শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তার এ বক্তব্য সার্বভৌমত্মকে আঘাত করেছে। তাই নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেছি। অন্যথায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সেটি করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছে। তিনি বলেন, আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) গোপালগঞ্জের টুঙ্গি পাড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে। সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতকে অনুরোধ করার ব্যাখ্যায় ড. মোমেন বলেন, আমি বলেছি, আমরা চাই শেখ হাসিনার স্থিতিশীলতা থাকুক। এই ব্যাপারে আপনারা (ভারত) সাহায্য করলে আমরা খুব খুশি হব।এর আগে, গত ১২ আগস্ট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে। দেশের মানুষ ‘বেহেশতে’ আছে।মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে দেশজুড়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর দুই দিনের মাথায় গত ১৪ আগস্ট রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলের সঙ্গে বৈঠকের পর ড. মোমেন গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আমি তো ট্রু সেন্সে ‘বেহেশত’ বলিনি। কথার কথা। কিন্তু আপনারা সবাই আমারে খায়া ফেললেন।ওইদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, ভবিষ্যতে কথা বলার সময় সাবধান হবেন।

post
বাংলাদেশ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২১ আগস্ট) সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২১ আগস্টের নিহতদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আহত ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা স্মরণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন।দীর্ঘ তিন বছর পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ সবমিলিয়ে ২৪ জন মারা গিয়েছিলেন। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী। আহত হন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। আহত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অনেকে এখনও স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।বিভীষিকাময় ২১ আগস্টবাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এই নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হিংসার দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করে মানবতা। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আয়োজিত সমাবেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী ও সরকারের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে যে ওই সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।কাল ইতিহাসের এই জঘন্যতম গ্রেনেড হামলার ১৮তম বার্ষিকীতে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে হামলায় নিহতদের স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি পালনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী’ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তুপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। স্পিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ। লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনের পিচঢালা পথ। নিহত-আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে শত শত মানুষের গগন বিদারী আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য। সেদিন রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভাগ্যগুণে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্য শেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন দেখে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়। তবে টার্গেট করা গুলি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়ি ভেদ করতে পারেনি। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াও সেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। গ্রেনেডের স্পিন্টারের সঙ্গে লড়াই করে ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরও কয়েকজন পরাজিত হন।হামলায় আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে শরীরে স্পিন্টার নিয়ে আজও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আহত হয়েছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এখনও অনেক নেতাকর্মী সেদিনের সেই গ্রেনেডের স্পিন্টারের মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অনেক নেতাকর্মীকে তাৎক্ষণিক দেশে-বিদেশে চিকিৎসা করালেও তারা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।এদিকে গ্রেনেড হামলার পর ভয়, শঙ্কা ও ত্রাস গ্রাস করে ফেলে গোটা রাজধানীকে। এই গণহত্যার উত্তেজনা ও শোক আছড়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঠিক তখনই পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর বেধড়ক লাঠি-টিয়ার শেল চার্জ করে। একইসঙ্গে নষ্ট করা হয় সেই রোমহর্ষক ঘটনার যাবতীয় আলামত।

post
দূতাবাস খবর

ডিএফসি'র অর্থায়নের মাধ্যমে আরও মার্কিন বিনিয়োগ কামনা বাংলাদেশের

মার্কিন সরকারের প্রতি তাদের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (ডিএফসি) মাধ্যমে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইকোনমিক গ্রোথ, এনার্জি অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট জোসে ডব্লিউ ফার্নান্দেজের কাছে এই অনুরোধ করেন। ড. চৌধুরী এবং আন্ডার সেক্রেটারি ফার্নান্দেজ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জ্বালানি উপদেষ্টা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের গৃহীত নীতির বিষয়ে আন্ডার সেক্রেটারিকে অবহিত করেন। বাংলাদেশ সরকার কিভাবে গ্যাস, তেল ও কয়লা, পারমাণবিক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনছে এই বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন । রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ঘাটতি বাংলাদেশসহ অনেক দেশকে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা পরিস্থিতির উন্নতিতে ভূমিকা রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। ড. চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ডিএফসি’র অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো দেশে আরও বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য এবং বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি মডুলার চুল্লির সম্ভাবনা দেখার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলিকে উৎসাহিত করেন। আন্ডার সেক্রেটারি বাংলাদেশের চমৎকার আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য নিরসনে অগ্রগতির প্রশংসা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের দেশগুলিকে প্রভাবিত করছে তা স্বীকার করে জনাব ফার্নান্দেজ উপদেষ্টাকে বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য, জ্বালানি বা সারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। আন্ডার সেক্রেটারি নতুন নতুন সুযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মুক্ত করার জন্য শ্রম অধিকার এবং কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করেন। তিনি ‘ক্লিন এনার্জিকে’ একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে অভিহিত করেন এবং বাংলাদেশ এ ধরনের সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। আন্ডার সেক্রেটারি ফার্নান্দেজ 2021 সালের নভেম্বরে COP-26 এ চালু হওয়া ‘গ্লোবাল মিথেন প্লেজে’ যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানান। উপদেষ্টা ড. চৌধুরী এবং আন্ডার সেক্রেটারি ফার্নান্দেজ বলেন যে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত ও গভীর হচ্ছে এবং উভয় সরকারের উচিত তাদের অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এদিকে উপদেষ্টা বিকেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্পের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে একটি উচ্চ-পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল “Current State of Play: U.S.-Bangladesh Energy Cooperation” থিমের অধীনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধন করা কাউন্সিলের ইউএস-বাংলাদেশ এনার্জি টাস্কফোর্স, এলএনজি আমদানি ক্ষমতা সম্প্রসারণ, দেশের উচ্চাভিলাষী গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি অনুসন্ধান বিষয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সুপারিশের অগ্রগতির সর্ম্পকে জ্বালানি উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। ড. চৌধুরী বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় এবং বাংলাদেশের মতো দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জ্বালানি চাহিদা মেটাতে স্বল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই সমাধানের জন্য সরকার যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা তুলে ধরেন। এছাড়া মার্কিন জ্বালানি শিল্প জ্বালানি স্থানান্তরের ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়াতে কি সহায়তা করতে পারে এই বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। ভাসমান সৌরবিদ্যুৎসহ স্টোরেজ সমস্যার সমাধান, বায়ু এবং সৌরশক্তি কিভাবে জ্বালানি মিশ্রনে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে সে বিষয়টিও গোলটেবিল বৈঠকে আলোচিত হয়।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সার্জেন্ট ফারুককে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তের গুলি, তবে একটিও তার গায়ে লাগেনি

সশস্ত্র দুর্বৃত্তের তাক করা তিন রাউন্ড গুলির একটিও বিদ্ধ হয়নি বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্ট মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের (৩৫) শরীরে। প্রথম গুলির শব্দ শুনেই তিনি নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানের ব্যস্ততম স্ট্রিটে শুয়ে পড়েন। দ্বিতীয় গুলি তার পায়ের কাছ দিয়ে চলে যায়। তৃতীয় গুলি কাছে আসার আগেই দৌড়ে নিউইয়র্ক পুলিশের গাড়ির কাছে যান। সেই গুলি বিদ্ধ হয় রাস্তার পার্শ্ববর্তী গাছে।১৭ আগস্ট স্থানীয় বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কের লেক্সিংটন এভিনিউ এবং ১১২ স্ট্রিটে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণের ঘটনায় পথচারীরাও হতবাক। কেউ ভেবেছেন হয়তো সিনেমার শুটিং চলছে। কারণ, এই এজেন্ট সে সময় কোনও গাড়িতে জরিমানার টিকিট দেননি। তাছাড়া ইন্টারসেকশনে রাস্তার জ্যাম কমানোর অহর্নিশ প্রয়াসে ছিলেন তিনি। গুলি বর্ষণের সংবাদ পেয়েই আশপাশের টহল পুলিশ সেখানে জড়ো হয় এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বন্দুকধারী দৃর্বৃত্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় বলে এ সংবাদদাতাকে জানালেন ভীত-সন্ত্রস্ত্র ট্রাফিক এজেন্ট ফারুক হোসেন। ঝিনাইদহের সন্তান ফারুক মাত্র চার মাস আগে ঢুকেছেন এই চাকরিতে। বেআইনিভাবে পার্ক করার জন্য অনেকের গাড়িতে জরিমানার টিকিট দিয়েছেন কিন্তু কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। কোনও টিকিট ইস্যু না করেও এমনভাবে আক্রান্ত কেন হলেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। পরপর তিন রাউন্ড গুলি তাকে লক্ষ্য করে ছোঁড়ায় প্রতিয়মান হয় যে, তাকে টার্গেট করেই আক্রমণ করা হয়েছিল। পুলিশ গ্রেফতারকৃত দুর্বৃত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মোটিভ উদঘাটনের। জানা গেছে, ফারুকের স্ত্রী এবং একপুত্র ও এক কন্যা বাংলাদেশে বাস করেন। তিনি পরম করুণাময়ের শোকরিয়া আদায় করছেন গুলি থেকে বেঁচে যাওয়ায়। এই পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ইউনিয়ন-সিডব্লিউ লোকাল-১১৮২’র পক্ষ থেকে একটি পোস্টিং দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কর্তব্যরত সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ এবং মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের জন্যে সকলের দোয়া চেয়েছেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশে তিন হাজারের মত ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টের প্রায় এক হাজার জনই হলেন বাংলাদেশি। প্রতিনিয়ত তারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

নিউজার্সিতে নজরুলময় দুই দিন, শতদল'র আয়োজনে সম্পন্ন নর্থ আমেরিকা নজরুল সম্মেলন

দিন দুটি হয়েছিলো নজরুলময়। নজরুলের গান, নজরুলের কবিতা, গান-কবিতায় নাচ আর নজরুলের নাটক এইসবে ভরে থাকলো সারাটিক্ষণ। ১৩ ও ১৪ আগস্ট- দুপুর থেকে রাত অবধি। এটি ছিলো নজরুল সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের বিদগ্ধ জনেরা জমায়েত হলেছিলেন গার্ডেন স্টেট খ্যাত নিউ জার্সির ইস্ট বার্নসউইকের জেএমপি আর্টস সেন্টারে। এটি ছিলো ১৯তম নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স। ১৩ আগস্ট দুপুর নাগাদ দর্শকরা জমায়েত হতে শুরু করেন কর্মসূচিতে। তাদের প্রায় সকলেরই ছিলো বাঙালি সাজ-পোশাক। অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয়েছিলো নজরুলের ছবি সম্বলিত ব্যানার পোস্টারে। আর মঞ্চে চলছিলো... গান- নাচ- কবিতার আসর। শুরুতেই সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে গেলে খিলখিল কাজী, কবি নজরুলের নাতনি। তিনি এই আয়োজনকে উল্লেখ করলেন নজরুলকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিঁড়ি হিসেবে। আর বললেন, নজরুল তার গান কাব্যে মানুষকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন।আয়োজন শুরুতেই জমে ওঠে জার্সি ওয়েভের পরিবেশনায়। নিউ জার্সির সুপরিচিত এই ব্যান্ডসঙ্গীতের শিল্পীরা গাইলেন নজরুলের গান- দুর্গম গিরি-কান্তর-মরু দুস্তর পারাবার ও শুকনো পাতার নুপুর পায়ে...। অনুষ্ঠানটি সাজানো হয় নানা ঢঙে... তারই অংশ হিসাবে পরিবেশিত হলো "নানা রঙে নজরুল"। পরিবেশনায় ছিলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ জার্সি। গুলশান জাহান রিক্তার গাওয়া অগ্নিবীণার ফুল দিয়ে... তুমি হাত খানি যবে রাখো মোর হাতেরও পরে কিংবা আজি মধুরও বাশরি বাজে-র পর সৃজনও ছন্দে আনন্দে নাচো নটরাজ- গানে আমান্ডা আমানুল্লাহর নাচ দেখলো সকলে। শ্রীরূপা ঘোষালের খেলিছো এই বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু.... কিংবা সই ভালো করে বিনুনী বাঁধিয়া দে এইসবে গোটা মঞ্চ তথা চারিপাশ ততক্ষণে নজরুল আবহে। এমনই সময় বিদ্রোহী কবিতা নিয়ে মঞ্চে এলো একটি দল। আবৃতির সাথে সাথে নাচ করে দেখালো শিশুরা। তার মধ্য দিয়ে শেষ হয় "নানা রঙে নজরুল"।এরপরপরই শুরু হয় সৃষ্টি অ্যাকাডেমির পরিবেশনায় "বর্ণিল নজরুল"। তাতেও ছিল গান আর নাচ। আলগা করো গো খোপার বাঁধন... কিংবা ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউ তোলে...এইসব গানে একের পর এক নাচের পালা চললো।রাঙামাটির পথে লো মাদল বাজে বাজের বাশের বাঁশি এই গানে পাহাড়ি সাজে সেজে ঘুঙুর পায়ে নেচে মঞ্চ মাতালো শিশু শিল্পীরা। এইসব নাচ গানের পারফরম্যান্স করে যাচ্ছিলো যারা, তারা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা। যারা চেতনায় ধারণ করে বাংলার সংস্কৃতি। শামুসুন্নাহার নিম্মি আর সাদিয়া খন্দকারের উপস্থাপনায় এগিয়ে চলছিলো অনুষ্ঠান মালা। তাতে প্রথম দিনের আরও পরের দিকে মঞ্চে নাচ-গান আবৃত্তির পরিবেশনা নিয়ে এলো শতদল। এই শতদলই ছিলো এবারের নজরুল সম্মেলনের প্রধান আয়োজক। তাদের উপস্থাপনা "চেতনায় নজরুল"- এ গাইলেন ওস্তাদ সালাহউদ্দিন আহমেদ- অঞ্জলি লহ সঙ্গীতে। পাঠ হলো বিদ্রোহী কবিতা। বলবীর চির উন্নত মম শির। আরো পরিবেশিত হলো- একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী... নমো নমো নমো বাংলাদেশ মমো।লাল-সাদায় সেজে মেয়েরা নাচলো জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখায়। নিল-সাদায় সেজে মেয়েরা নাচলো মেঘেরও ডমরু ঘন বাজে। হলো কবিতা পাঠ- তোমারে পড়েছে মনে। আর পাঠ হলো কবি নজরুলের সেই কালজয়ী বক্তৃতা... যদি আর বাঁশি না বাজে।"যদি কোনদিন আপনাদের প্রেমের প্রবল টানে আমাকে আমার একাকীত্বের পরম শুন্য থেকে অসময়ে নামতে হয় তাহলে সেদিন আমায় মনে করবেন না আমি সেই নজরুল....এই আয়োজনের শেষভাগে পরিবেশিত হলো কারার ওই লৌহ কপাটে একক নৃত্য। এইভাবে নাচে গানে কবিতায় ভরপুর করে তুলে মঞ্চে শুরু হলো উদ্বোধনীর আনুষ্ঠানিকতা। ততক্ষণে নজরুল আবহে দর্শক শ্রোতা মুগ্ধ। আয়োজনের মূল সমন্বয়ক কবির কিরণ অতিথিদের নিয়ে উঠলেন মঞ্চে। মঞ্চে ছিলেন মাহমুদ মোশাররফ হোসেন, ড. জিয়া উদ্দিন, ইঞ্জি. আবুবকর হানিপ, আজিজ আহমদ, সুলতান আহমেদ, রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, খিলখিল কাজী, রাহাত চৌধুরী, অ্যান্থনী পিযুষ, সালাহউদ্দিন আহমেদ,সুজিত মুস্তফা, লিনা তাপসী, গুলশান আরা কাজিসহ আরও অনেকে। মাহমুদ মোশাররফ হোসেন এবারের আয়োজনের পাশাপাশি নজরুল সম্মেলনের গোড়ার দিকের কথা তুলে ধরেন। এই আয়োজনের অন্যতম দুই পৃষ্ঠপোষক রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী ও ইঞ্জি. আবুবকর হানিপ এতে বক্তব্য রাখেন। রায়হানুল তার বক্তব্যে তুলে ধরেন কবি নজরুল আজ থেকে ১০০ বছর আগে যে বক্তব্য রেখে গিয়েছিলেন তা পরিবেশ আন্দোলনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আবুবকর হানিপ জোর দেন শিক্ষার ওপর। তিনি এই প্রবাসে নজরুলের চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্ম যেভাবে তাদের গড়ে তুলছে তার প্রশংসা করেন। নিজের পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা- তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে এখানকার ডিগ্রি অর্জন জরুরি। আর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই নিজ নিজ সংস্কৃতির চর্চায় জোর দেওয়া সম্ভব। এই আয়োজনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। একজন বাংলাদেশ আমেরিকান একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে তা পরিচালনা করছেন এমন একটি বিষয় সকলকে মুগ্ধ করে। দর্শকরা করতালির মাধ্যমে আবুবকর হানিপকে অভিনন্দন জানান। এরপর আবার গান। সুদুর অস্ট্রেলিয়া থেকে গাইতে এসেছিলেন আদিলা নুর। যেনো সুরের লহরী তুললেন তার একের পর এক তিনটি উপস্থাপনায়- সুরেরও বাণি মালা দিয়ে তুমি আমায় ছুঁইয়া ছিলে। আরও গাইলেন- স্বপ্নে দেখি একটি নুতন ঘর। তুমি আমি দুজন প্রিয় তুমি আমি দুজন। আদিলা নুরের শেষ উপস্থাপনা ছিলো পদ্মার ঢেউ রে.... । পৃথিবীর উল্টো পীঠে বসে দর্শক যেনো সত্যিই শুনতে পেলো পদ্মার কুলুকুলু ঢেউয়ের শব্দ তার সুরের লহরীতে। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষ হয় সামিয়া মাহবুবের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই শিক্ষার্থী শোনালেন গান- অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে... আর চাঁদ হেরিছে চাঁদ মুখ তার। দর্শক শ্রোতারা সে গানের সুর কানে নিয়ে, চেতনায় নজরুলকে ধারণ করে রাতে ঘরে ফেরেন...।পরের দিন আবার আসেন তারা। নজরুলের টানে। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় নজরুল বিষয়ক সেমিনার। আর বিকেলে গান-কবিতা-নাচের আসর। দ্বিতীয় দিনটিকে মাতিয়ে রাখে বিপা- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস। নিউইয়র্কভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি এদেশে নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির চেতনা। বিপার উপস্থাপনায় অনন্যভাবে পরিবেশিত হলো- বিদ্রোহী কবিতা। বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে অসাধারণ আবৃতির সাথে বিপা'র শিল্পীদের নাচ। সে পরিবেশনায় মুহুর্মূহু করতালি আর ছিলো দর্শকের মুগ্ধতা। দিনের পরের ভাগে গাইলেন সুজিত মুস্তাফা। ঢাকা থেকে এই নজরুল সম্মেলনে অংশ নিতেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এই গুণি শিল্পী। আর আসর শেষ হয় ওস্তাদ সালাহউদ্দিনের গান দিয়ে। কবি নজরুলের প্রয়ান দিবস সামনে রেখে তিনি গাইলেন- সে চলে গেছে দূরে...নজরুল দূরে চলে গেছেন। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন চেতনা। সেই চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি তাকে আজও স্মরণ করে। বাংলাদেশ থেকে সুদুর আমেরিকায় এসেও বাঙালি সেই চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ। তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকলো এই ১৯ তম নর্থ আমেরিকা নজরুল সম্মেলন।

post
বাংলাদেশ

জ্বালানি সমস্যা কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার আশাবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীরবিক্রম, সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে হাডসন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে জ্বালানি উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শহিদুল ইসলামসহ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। হাডসন ইনস্টিটিউটের ইনিশিয়েটিভ অন দ্য ফিউচার অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার ডিরেক্টর ড. অপর্ণা পান্ডে গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন। ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের একার নয়, এটি এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তিনি বলেন, গণমাধ্যমসহ দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে প্রচেষ্টা চালালে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। তিনি বলেন, জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিশ্বে যে আঘাত এসেছে তা বাংলাদেশেও পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি এই বৈশ্বিক সংকটের সমাধান খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে তাদের আরো সোচ্চার ভুমিকা রাখা দরকার। জ্বালানি উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং কৃষি ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যাপক অবদানের কারণে দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়াতে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছে, এবং বাংলাদেশ জলবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ন্যাশনাল ব্যুরো অফ এশিয়ান রিসোর্সেস, ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিস এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা ঘণ্টাব্যাপী গোলটেবিলে অংশগ্রহণ করেন।

post
বাংলাদেশ

জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন, জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তরুণরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন

“জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তরুন সমাজ বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে, আজকের দিনে এই হোক আমাদের প্রত্যয়” জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সরকারি সফরে নিউইয়র্ক অবস্থান করছেন তিনি।স্থানীয় সময় ১৫ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যা সাতটায় মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধাগণ, এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটির কর্মসূচি। এরপর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাঁদের শহীদ পরিবারবর্গসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় স্পীকারের সাথে ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতসহ মিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ। অতপর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। জাতির পিতার জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন করা এ পর্বে। এর পর শুরু হয় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা। এতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধাগণ বক্তব্য প্রদান করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার বক্তব্যে জাতির পিতার শৈশব ও কৈশরসহ তাঁর পরিবারের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সূদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানাদিক তুলে ধরেন। দূ:খ-দূর্দশাগ্রস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতি জাতির পিতার গভীর মমত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা ছিলেন বিশ্বের শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির অগ্রনায়ক। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্থ একটি দেশের ভগ্নস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে কীভাবে জাতির পিতা বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চেয়েছিলেন তা তুলে ধরেনে স্পীকার। তিনি বলেন, জাতির পিতার সেই আদর্শ ধারণ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। আমরা আজ স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটেগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হয়েছি। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ, বৈদেশিক সম্পর্কসহ প্রতিটি সেক্টরে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে স্পীকার বলেন, জাতির সকল উন্নয়নে জাতির পিতা আছেন এবং চিরদিন থাকবেন। এসডিজি’র উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এর অনেকগুলো লক্ষ্য ও অভীস্টের কথা জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে উল্লেখ করে গেছেন।নিউইয়র্ক সফররত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশিদ আলম প্রদত্ত বক্তব্যে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর সচল করার ক্ষেত্রে জাতির পিতার দূরদর্শীতার কথা তুলে ধরেন।জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য এবং জাতির পিতার জীবনাদর্শ তুলে ধরে স্বাগত ভাষণ দেন রাষ্ট্রদূত মুহিত। তিনি ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে দেওয়া জাতির পিতার ভাষণের অংশবিশেষ -“মানব জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি একান্ত দরকার। এই শান্তির মধ্যে সারা বিশ্বের সকল নর-নারীর গভীর আশা-আকাক্সক্ষা মূর্ত হয়ে রয়েছে। ন্যায় নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হলে শান্তি কখনো স্থায়ী হতে পারে না” উদ্বৃত করেন। স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, জাতির পিতার কালজয়ী সেই ভাষণের মর্মবাণী এবং তাঁর নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ।যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ দণ্ডপ্রাপ্ত খুনীদের মধ্যে যারা এখনও বিদেশে অবস্থান করছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমরা চাই জাতির পিতার কোনো খুনীই যেন বিচারের হাত থেকে পার না পায়”। বক্তাগণ পনের আগস্টের এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সবশেষে ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

post
বাংলাদেশ

এনআরবি কানেক্ট-কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার: বাংলাদেশের সাফল্যে প্রবাসে কিছু লোক হিংসায় জ্বলে-পুড়ে মরছে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘কিছু লোক আছে এই প্রবাসে, বাংলাদেশে গত এক যুগে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেটি তাদের সহ্য হচ্ছে না। হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে। এজন্যে তারা সারাক্ষণ অপপ্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। বানোয়াট কিছু গল্প-কাহিনী রটাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের পজিটিভ ইমেজগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হোক।’জাতিসংঘে পরমাণু বিস্তাররোধ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অংশ নিতে ৩১ জুলাই নিউইয়র্কে এসেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিনই অপরাহ্নে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন হোটেল কক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘এনআরবি কানেক্ট টিভি’কে প্রদত্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ড. মোমেন। মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২/১৩ বছরের সাফল্য অকল্পনীয়। সকল সেক্টরে সাফল্য এসেছে। শুধু আমাদের জিডিপি বাড়ছে তা নয়, গত ১২ বছরে জিডিপি গড়পরতা ৬.৬% ছিল। কোভিডের আগের বছরে ৮.১৫% ছিল। করোনাকালেও ছিল ৬.৯৮%। এটা মিরাকল বলতে হবে। অলৌকিক ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। দারিদ্রসীমাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেভাবে আমরা এগুচ্ছি, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ অতি-দারিদ্র মুক্ত একটি দেশে পরিণত হবে। আমরা সে হার ৩% এ নিয়ে আসতে চাই। অর্থাৎ বাংলাদেশ খুবই ভালো করছে। শিশু মৃত্যু কমেছে। মাতৃ মৃত্যু কমেছে। বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারি একটি দেশ যেখানে পরিবার পরিকল্পনা তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৯৮%, সেটি কমে এখন ১.২২% হয়েছে। জন্মহার আমরা জোর করে কমাইনি। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণকে অধিক জনসংখ্যার কু প্রভাব সম্পর্কে সজাগ করতে পেরেছি। এসব বিষয় সুবিস্তারে গণমাধ্যমে আশা উচিত।’পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের নেতা, তার মত সেক্রিফাইসিং লিডারশিপ তো সারাবিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি সেজন্যে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস, কন্স্যুলেট রয়েছে, সবগুলোতে বঙ্গবন্ধু কর্নার চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো, বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ-তিতিক্ষা, আদর্শ, মূল্যবোধ, চিন্তাধারা ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, শান্তি এবং স্থিতি, উন্নয়নের অপরিহার্যতা ইত্যাদি চিন্তা-ধারাকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা। এর সাথে শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে চলমান অভাবনীয় সাফল্যের কাহিনী বিস্তারিতভাবে প্রকাশ ও প্রচার করাই হচ্ছে এ সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তবে কোন ধরনের পরিস্থিতি তৈরী হবার আগেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সাশ্রয়ী হতে বলেছি সকলকে। ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫ সালে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার। তা নিয়েও বাংলাদেশ বড়াই করতো সে সময়। এখন আমাদের সব ধরনের ব্যয় করার পরও রিজার্ভের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই। এতদসত্বেও কিছু লোক অহেতুক বক্তব্য দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে তারা ফায়দা লুটতে চায়। ১ আগস্ট সোমবার অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের সেই বৈঠক। সেটিতে যোগদানের পরদিনই কম্পোডিয়ার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.