post
বাংলাদেশ

বিদেশে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী বাংলাদেশিরাও পাবেন ডলারের সর্বোচ দর ১০৭ টাকা

এখন থেকে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের প্রবাসী পেশাজীবীদের পাঠানো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো আপাতত রেমিট্যান্স আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও নেবে না বলে জানা গেছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদা। ওই বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ব্যাংকাররা জানান, এত দিন উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা দেশে প্রবাসী আয় পাঠালে ডলারের দাম পেতেন রপ্তানি আয়ের জন্য নির্ধারিত দরের সমান, ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। এতে তারা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছিলেন। এ কারণে তাদের জন্য ডলারের দাম বাড়িয়ে ১০৭ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রবাসী আয়ে সর্বোচ্চ ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা। উচ্চ আয়ে পেশাজীবীদের পাঠানো প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উৎস থেকে ডলার সংস্থান করে ঋণপত্র বা এলসি খুলতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল ও কাজী ছাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোর পক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন, বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন প্রমুখ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের মধ্যে সোমবার হঠাৎ করেই এ বৈঠক ডাকা হয় বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে ওয়েজ আর্নার হিসেবে সব প্রবাসীর সমান রেমিট্যান্স দর পাওয়ার কথা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে মুদ্রার বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে হোয়াইট কলার বলে পরিচিত চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, ব্যাংকার, নার্সসহ উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বিনিময় হার কমিয়ে ধরে ব্যাংকগুলো। সে সময় থেকে এ ধরনের পেশাজীবীদের পাঠানো প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম রপ্তানি বিলের সমান হারে অর্থাৎ ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হচ্ছিল। তবে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো তাদের ভালো দর দিত। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো বর্তমানে এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে ১০৭ টাকা করেই দাম দিচ্ছিল। এতে করে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে অনেকে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় উভয় ক্ষেত্রে ডলারের অভিন্ন দর দিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও সেবিকাদের আয় ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালেও ওয়েজ আর্নার্সদের মতো সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা দর দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আহরণ উৎসাহিত করতে দেশের বাইরে নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউজ বাড়াতে বলা হয়েছে বৈঠকে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ডলার সংকটের এ সময়ে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোকে উদ্বুদ্ধ করতে কোনো ধরনের চার্জ বা মাশুল না নিতে বলা হয়েছে বৈঠকে। ব্যাংকগুলোও এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

post
বাংলাদেশ

ব্যবসায়ীদের দেশ ও মানুষের কথা ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষের কথা ভাবতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বুধবার (২৬ অক্টোবর) গণভবনে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।সভায় সরকার প্রধান তেল, চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বাংলাদেশের সকল নাগরিকের কাছে যথাযথ মূল্যে সরবরাহ করতে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯-এ সরকার গঠনের পর আমাদের ব্যবসায়ীরা সে যে দলেরই হোক আমরা কিন্তু ওখানে দল বাছতে যাইনি। যে দলেরই হোক, যাতে তারা ব্যবসাটা ব্যবসায়ী হিসেবে করতে পারে, সেই পরিবেশটা আমি সৃষ্টি করে দিয়েছি। ’তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো হাওয়া ভবনও নেই, আর পিএমও-তে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে) কোনো উন্নয়ন উইংও নাই যে, হাওয়া ভবনে এক ভাগ দিতে হবে, উন্নয়ন ভবনে এক ভাগ দিতে হবে বা অমুক জায়গায় দিতে হবে। এই যন্ত্রণা তো আপনাদের ভুগতে হয় না এখন আর। এটা তো আপনারা নিশ্চয় স্বীকার করবেন, সেই যন্ত্রণা থেকে তো সবাই মুক্ত। ’শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন প্রফিটের (লাভ) ব্যাপারে চিন্তা করেন। আগে তো একটা বড় অংশ হাওয়া হয়ে যেতো। এখন আর সেই হাওয়া হওয়ার ব্যবস্থাটা নাই। সেখান থেকে সবাইকে মুক্ত রেখেছি। তো সেটাই মাথায় রেখে যদি মনে করেন যে, দেশের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে...। ’টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, ‘এতদিন এই ১৪ বছর একটানা ধারাবাহিকভাবে আপনারা লাভজনক ব্যবসাটা করে গেছেন, এখনকার... আমরা কিন্তু করোনার সময়ও সেটা মোকাবিলা করলাম। প্রণোদনা দিলাম, বিশেষ প্রণোদনা, আমার কাছে কেউ এসে দাবি করেননি। কেউ বলে নাই। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার একটা টিম খুব ভালো কাজ করছিল—কোথায় কী করা যেতে পারে। আমার অর্থনীতির চাকাটাকে চলমান রাখতে হবে। ’শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো তাদের ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ, তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ, সব কিছু। আমরা বলেছি, আমরা এখানে বন্ধ হতে দেবো না, আমার এখানে চালু করে রাখতে হবে। শ্রমিকদের বেতন, এই যে গার্মেন্টস, তার বেতন তো আমি দিয়ে দিলাম সব। প্রণোদনা প্যাকেজ করলাম, বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করলাম। ’দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন একটু যখন অপজিশন মাঠে নেমে গেছে হঠাৎ, ব্যবসায়ী মহলে আবার একটু শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে অথবা কারো আসার প্রদীপ জ্বলে উঠছে; যদি আবার হাওয়া ভবন খুলতে পারে তাহলে কি সুবিধা পাবে।’তিনি বলেন, ‘১৪ টা বছর আমরা সরকারে, আমি জানিনা ব্যবসায়ীরা এটা উপলব্ধি করে কি? করে না? এত নিশ্চিন্তে ব্যবসা করার সুযোগ তো আর পান নাই।’বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই এনার্জি ক্রাইসিসে বাংলাদেশ একা না পৃথিবীর সব দেশেই কিন্তু ভুগছে।’তিনি বলেন, ‘ক্রাইসিসটা তো বাংলাদেশের না, ক্রাইসটা তো ইন্টারন্যাশনাল; এটা মাথায় রাখতে হবে। আজকে যেসব জায়গা থেকে আমরা সার, গম, খাবার পণ্য আনি সব জায়গায় সমস্যা।’মেগা প্রজেক্ট এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ সমালোচনা- মেগা প্রজেক্ট, তারপর বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট কেন আনলাম সেটা নিয়ে সমালোচনা। সেখানে নাকি টাকা মেরেই খেয়ে দিলাম। যারা ওরকম টাকা খেয়ে অভ্যস্ত টাকা খাওয়ার বিষয়টা বুঝে ভালো। কিন্তু আমরা যদি তখন এটা না আনি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারতাম না। আমরা বলেছিলাম বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে দেবো, আমরা দিয়েছি। কিন্তু এখন যে ক্রাইসিস সেটা তো বাংলাদেশের না এটা তো ইন্টারন্যাশনাললি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবাই এই ক্রাইসিসে ভুগছে।’ব্রাজিল থেকে সয়াবিন ও চিনি আমদানি করার চেষ্টার কথা জানান সরকার প্রধান।দুর্ভিক্ষ আসতে পারে এমন বক্তব্যের সমালোচকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিন্তু আগাম কিছু কিছু কথা বলি- অনেকে মনে করেন আমি কেন বলি? কই থেকে বলি? এটা হচ্ছে আমার একটা ধারণা অর্থাৎ দীর্ঘদিনের একটা অভিজ্ঞতা।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধটা হলো সারা বিশ্বে এটার অর্থনৈতিক ধাক্কাটা আসলো কিন্তু। শুধু আমাদের ওপর না পুরো ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে ডেভেলপ কান্ট্রি ওপরে এর প্রভাব আরো ব্যাপকভাবে পড়ল। তখন আমি বললাম যে আগামীতে একটা দুর্ভিক্ষ অবস্থা হতে পারে। এখন তো সবাই সে কথাই বলছে, কালকে বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী গতকালকে তার বক্তব্যে এ কথাটাই বলছে, বলছে যে বিরাট ক্রাইসিস সামনে। এটা যে শুধু আমরা বলছি তা নয়।’টানা তিনবারের সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি যেটা আশঙ্কা করি আমি পাবলিকের কাছে সরাসরি বলি। আমার এখানে লুকানোর কিছু নেই। জনগণ ভোট দিছে ক্ষমতায় আছি, না দিলে থাকবো না। কিন্তু জনগণের জন্যই তো কাজ করতে এসেছি।’গণভবনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংকরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম সফিকুজ্জামান প্রমুখ।ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, আওয়ামী লীগের শিল্পও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ টিকে গ্রুপ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম গ্রুপ, দেশ বন্ধু গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এসিআই লিমিটেড, আকিজ গ্রুপের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

পিপলএনটেক এক ভাগ্য পরিবর্তনের সিঁড়ি, অ্যালামনাই সামিটে বললেন বক্তারা

সন্ধ্যাটি ছিলো পিপলএনটেকের প্রাক্তনদের। তারা সকলে এসেছিলেন তাদের এগিয়ে চলার ও সাফল্যের গল্প শোনাতে। শুনিয়েছেন মাত্র চার মাসের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কিভাবে তাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে। তারা বলেছেন তাদের নিজেদের কেবল নয়, বদলে গেছে তাদের পরিবারের চালচিত্র। আর সর্বোপরি তারা গড়ে তুলতে পারছেন একটি যোগ্য ভবিষ্যত প্রজন্ম। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় তারা একেকজন এখন দক্ষ আইটি প্রফেশনালস। তাদের কেউ আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার কেউ বা প্রজেক্ট লিড। আবার কেউ কেউ নিজেই এখন প্রশিক্ষক-শিক্ষক। আয়োজনটি ছিলো পিপলএনটেকের অ্যালামনাই সামিট ২০২২। নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি পার্টি হলে মিলনমেলা বসেছিলো এই অ্যালামদের । আয়োজনের মধ্যমনি হয়ে ছিলেন পিপলএনটেকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপ। ছিলেন পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ। আর তাদের ঘিরে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, নিউজার্সি কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা। তবে আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিলেন সেইসব অ্যালাম যাদের গল্পগুলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছেন উপস্থিত সকলে। নিউইয়র্কের বিশিষ্টজনেরা এতে নিমন্ত্রিত ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে আরটিভি'র সিইও সৈয়দ আশিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রধানরা। সফল অ্যালামরা তাদের গল্প শোনালেন। এর একেকটি গল্পই ছিলো ইউনিক। তারা যেমন নিজেদের এগিয়ে চলার কথা শুনিয়েছেন তেমনি শুনিয়েছেন, পিপলএনটেক তাদের জীবন গড়ে দিতে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পিপলএনটেক-কে তারা উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের সিঁড়ি হিসেবে। আর প্রত্যেকের মুখেই বারবার উচ্চারিত হচ্ছিলো এই ভাগ্য পরিবর্তনের কারিগর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের কথা। তারা বলছিলেন প্রশিক্ষকদের কথা। যাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নিজেরাই এখন একেকজন প্রশিক্ষক। তারা বলছিলেন পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপের কথা। যিনি সকল প্রচেষ্টায় পিপলএনটেককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ তাদের শোনান তার নিজের জীবনের গল্পটিও। দেশে স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে এদেশে পড়তে এসে কিভাবে একটি সংগ্রামময় সময় পার করে নিজেকে এই আইটি খাতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। আবুবকর হানিপের সে গল্প সকলের জন্যই অনুপ্রেরণার। আবুবকর হানিপ বলেন, নিজে টু হান্ড্রেড থাউজেন্ড প্লাস মাইনের চাকরি করতেন যুক্তরাষ্ট্রে তথা বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কিন্তু ভেবেছিলেন একার উন্নতি শুধু নয়, আরও মানুষ যাতে এই ভাবে তাদের জীবনটিকে পাল্টে দিতে পারে সেই প্রচেষ্টাই তাকে নিতে হবে। আর সেই ভাবনা থেকেই পিপলএনটেক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তিনি জানান, বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষগুলোকে এদেশে সংগ্রামের জীবন থেকে বের করে এনে সুন্দর জীবন দেওয়ার ব্রত তিনি নিয়েছিলেন আজ থেকে ১৮ বছর আগে ২০০৪ সালে। গড়ে তুলেছিলেন পিপলএনটেক। শুরুটা হয় মাত্র একজন ছাত্রকে দিয়ে। তিনি যখন পেয়ে গেলেন মূলধারায় বড় মাইনের চাকরি... এরপর আরও ছাত্র আসতে থাকে। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। আর এই সময়ের মধ্যে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে আইটি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারায় কাজ পাইয়ে দিয়েছে পিপলএনটেক। যারা এখন স্বাচ্ছন্দের জীবন যাপন করছেন। আর গড়ে তুলছেন নিজেদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ভূমিকা রাখতে পারছেন বাংলাদেশের অগ্রগতিতেও।বক্তৃতায় আবুবকর হানিপ বর্তমানে তার পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা তুলে ধরে বলেন, এটি পিপলএনটেকেরই একটি ধারাবাহিকতা এবং তার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নপূরণ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে মূলধারায় এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি একটি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত। এখানকার শিক্ষকরা একাধারে স্কলার ও ইন্ডাস্ট্রি থেকে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাদের লব্দ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তারা নিয়ে আসেন শ্রেণিকক্ষে। এবং তার মাধ্যমে শিক্ষাদানের কারণে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়েই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মজগতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ডব্লিউইউএসটির শিক্ষার্থীরাও পিপলএনটেকের প্রশিক্ষণার্থীদের মতো মূলধারায় বড় বড় কাজে যোগ দিতে শুরু করেছেন। একসময় ডব্লিউইউএসটির অ্যালামরা এদেশের ফরচুন হান্ড্রেড কোম্পানির উচ্চপদে আসীন হবে এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। এবং বলেন, এটাই তার লক্ষ্য। পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ বলেন, আজ আমরা আমাদের এলামদের সাফল্যকেই উদযাপন করতে চাই। অ্যালামরা এখন আর ক্যাম্পাসে নেই কিন্তু তারা সকলেই আমাদের অন্তরে রয়েছেন। কেউ কেউ এখন উচ্চ পর্যায়ে উঠেছেন, তাদের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে সফল করে তুলতে পিপলএনটেকের অ্যালামদের পাশে থাকার আহবান জানান তিনি। কমিউনিটির পক্ষ থেকে পাওয়া অব্যহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান ফারহানা হানিপ। পিপলএনটেকের সফল অ্যালামদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথি ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের সাফল্য আমাদের মুগ্ধ করে এবং একজন বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করে। আবুবকর হানিপ একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি মানুষকে দিতে পছন্দ করেন। তিনি মানুষকের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, শিক্ষাদান করছেন এবং একই সঙ্গে তাদের কাজ দিতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। অপরকে দেওয়ার এই মানসিকতাই তাকে এমন একটি উচ্চতায় নিয়ে গেছে যে সকলেই তার জন্য গৌরব বোধ করে। বাংলাদেশি ডায়াসপোরার অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পদচিহ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আবুবকর হানিপ তাদের অন্যতমদের একজন, বলেন ড. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি সৈয়দ আশিকুর রহমান পিপলএনটকের এই সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে সামনে এগিয়ে নিতে আবুবকর হানিপ ও ফারহানা হানিপ যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তা অনুসরনীয়। অতিথিদের মধ্যে এটর্নি এন মজুমদারসহ অন্যরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। আর ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে সফল অ্যালামদের সাফল্যের গল্প। বক্তব্য রাখেন পিপলএনটেকের কর্তা ব্যক্তিরাও। পরে সফল অ্যালামদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হয়। এরপর পিপলএনটেকের সকল কর্মকর্তাকেও তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া। আবুবকর হানিপ ও ফারহানা হানিপকেও জানানো হয় বিশেষ সম্মাননা। আর সবশেষে বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট তুলে দেন ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। এরপর গ্রুপ ছবি তোলা হয়। আর সবশেষে মজাদার নৈশভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পিপলএনটেকের ২০২২ সালের অ্যালামনাই সামিট।

post
বাংলাদেশ

যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের গ্রহে খাদ্যের অভাব নেই, অভাব কেবল মনুষ্যসৃষ্ট।সোমবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)- এর সদর দফতরে আয়োজিত “বিশ্ব খাদ্য সম্মেলন- ২০২২” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)- এর সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে, আমাদের গ্রহে খাদ্যের কোন অভাব নেই। অভাব কেবল মনুষ্যসৃষ্ট। খাদ্য নিয়ে রাজনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থ, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং কীটপতঙ্গ ও রোগের আক্রমণ এ সব কিছু আমাদের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।’ তিনি বলেন, ‘অস্ত্র তৈরিতে বিনিয়োগ করা অর্থের ছোট একটি অংশও যদি খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণে ব্যয় করা হয়, তবে এই পৃথিবীতে কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না।’ যুদ্ধ, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি ও অপচয় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করছি- যুদ্ধ থামান, খাদ্য নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন, খাদ্যের অপচয় রোধ করুন। এসবের পরিবর্তে খাদ্য ঘাটতি এবং দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করুন। মানুষ হিসেবে, আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে প্রত্যেকেরই খাদ্য নিয়ে বেঁচে থাকার এবং সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হিসেবে অনুমান করা হয় বিশ্বের ৮০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যায়। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পাল্টা-পাল্টি নিষেধাজ্ঞায় পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যহত করছে এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে। প্রচুর সম্পদে পরিপূর্ণ এই বিশ্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অবদান সেই সম্পদকে আরও বাড়িয়েছে; এ রকম বিশ্বে এই বঞ্চনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।’ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত পৃথিবী কামনা করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে উদ্বৃত করে বলেন, ‘আসুন আমরা একসাথে এমন একটি বিশ্ব তৈরি করি যা দারিদ্র্য, ক্ষুধা, যুদ্ধ এবং মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে পারে এবং মানবতার কল্যাণের জন্য বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন করতে পারে।’

post
দূতাবাস খবর

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সান্ধ্যভোজ, উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক দৃঢ়তর করায় গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রদূতের

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সান্ধ্যকালীন ভোজে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বলেছেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ তার সহযোগিতার সম্পর্ক দৃঢ়তর করতে সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। একটি অগ্রসরমান বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংক আইএমএফ-এর মতো সংস্থাগুলোর অব্যহত সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেছেন তিনি। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ'র বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে আসা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এই ভোজসভায় অংশ নেন। দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার মো. মেহেদী হাসানের নিমন্ত্রণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মো. হাবিবুর রহমান, আইএমএফ-এর এশিয়া প্রশান্তমহাসাগরীয় বিভাগে বাংলাদেশ মিশন চিফ রাহুল আনন্দ।বিশেষ নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র চ্যান্সেলর ও বোর্ড চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. টমাজ মরোস্কোবস্কি। এছাড়াও দূতাবাসের কর্মকর্তারা এই ভোজসভায় যোগ দেন। অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বিশ্বব্যাংক আইএফএর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফল আলোচনা হচ্ছে এমনটা উল্লেখ করে জানান, বিষয়গুলো বাংলাদেশে ফিরে ফলোআপ করা হবে। মেহেদি হাসান তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের আগামী ৫০ বছরের অভিযাত্রায় এই দুই উন্নয়ন সহযোগীর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্ব রাখবে বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নযাত্রায় অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ড. টমাজ আর উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন রাহুল আনন্দ।

post
যুক্তরাষ্ট্র

এনআরবি সেমিনার নিউইয়র্কে, হুন্ডি ঠেকাতে রেমিট্যান্স-বোনাস ৫% করার আহবান

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপন, প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর বোনাসের পরিমাণ ২.৫% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা, বিনিয়োগ-সম্পর্কিত রেমিটেন্সের বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে বৈধপথে রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়বে বলে মন্তব্য করা হলো নিউইয়র্কে এক সেমিনারে। একইসাথে ডলারের মূল্যমান সকল ক্ষেত্রে একই ধার্য করা হলেও হুন্ডির প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে উল্লেখ করেন সচেতন প্রবাসীরা। এনআইডি কার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসপোর্টকে নির্ধারণের দাবিটি পূরণ হলেও প্রবাসীদের বিনিয়োগের পথ সুগম হবে বলে উল্লেখ করেন কয়েকজন বক্তা।সেন্টার ফর এনআরবি’র ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২২’র আওতায় ১২ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা : এনআরবির বিনিয়োগ এবং রেমিটেন্স প্রবাহ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় কুইন্সে জয়া পার্টি হলে। সেন্টার ফর এনআরবির প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সন শেকিল চৌধুরির সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মো. মনিরুল ইসলাম। আলোচকগণের মধ্যে ছিলেন সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানীর সিইও দেবশ্রী মিত্র, বিশ্বব্যাপী মানি ট্রান্সফারস কোম্পানী ‘সানম্যান এক্সপ্রেস’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসুদ রানা তপন, ম্যাককুয়্যার ক্যাপিটল ইনকের কর্মকর্তা আদিব চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের সিইও মো. মালেক, সিলেটে বিপুল অর্থ বিনিয়োগকারি ফকু চৌধুরী, বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডেন্ট লে. সুমন সাঈদ, কাতার থেকে আসা প্রবাসী বিনিয়োগকারি নূরল মোস্তফা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব। অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ, লেখক-কবি-সাহিত্যিক ইশতিয়াক রুপু। কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, সকলেই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের চিন্তা করছেন-এতে কোন সন্দেহ নেই। রেমিটেন্সের প্রবাহ ধরে রাখতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান উচ্চারিত হলো তা আমি সময়ে সময়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সমীপে উপস্থাপন করে আসছি। এ ধরনের আলোচনার সুফল অবশ্যই পাওয়া যাবে। কন্সাল জেনারেল উল্লেখ করেন, হন্ডি প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরী করতে সকলকে সরব থাকতে হবে। হুন্ডির মাধ্যমে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও সেই অর্থ জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখে না। এমনকি ভবিষ্যতে সেই অর্থে বাংলাদেশে কোন কিছু করাও সম্ভব হবে না। কারন সেটি কাল টাকা হিসেবে চিহ্নিত হবে। হোস্ট শেকিল চৌধুরী উল্লেখ করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ছাড়াও করোনায় গোটাবিশ্বের অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা। বাংলাদেশ তার বাইরে নেই। তবুও ডলারের মূল্যমানের যে ব্যবধান তা দূর করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসের গতি টেনে ধরা সম্ভব হবে। শেকিল চৌধুরী উল্লেখ করেন, সম্প্রতি লন্ডনের ৭ বিনিয়োগকারি বাংলাদেশে গিয়ে যে ধরনের পরিস্তিতির ভিকটিম হয়েছেন, তা প্রবাসে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নের উদ্রেক করছে। এ পরিস্থিতির অবসানে সকলকে সততা ও নিষ্ঠাবান হতে হবে। সেমিনারের অন্যতম আলোচক লিটন আহমেদ তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, করোনাকালিন রেমিট্যান্স-প্রবাহের চেয়ে ভাটা পড়েছে গত কয়েক সপ্তাহে। এর কারণ হচ্ছে বৈধপথে প্রেরিত ডলারের বিনিময়ে গন্তব্যে পাওয়া যাচ্ছে ১০৭.৫০ টাকা। সাথে যোগ হয় বোনাসের আড়াই পার্সেন্ট। অর্থাৎ ১১০ টাকা। অপরদিকে হুন্ডিতে পাঠানো ডলারের দাম পাচ্ছে ১২০ টাকার মত। এজন্যে অনেকেই জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রস্থ ‘সোনালী এক্সচেঞ্জে’র সিইও দেবশ্রী মিত্র ক্যাটাগরিকেলি উল্লেখ করেন, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে পরবর্তীতে কেউ যদি সেই অর্থে শিল্প-করখানা গড়তে চান, তাহলে সেটি বুমেরাং হবে। কারণ, বৈধপথে অর্থ বিদেশ থেকে প্রেরণের ডক্যুমেন্ট ব্যতিত সরকারের অনুমোদন মিলবে না কখনোই। তাই সাময়িক লাভের আশায় নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনাকে ধুলিসাৎ করা উচিত নয়। বৈধপথে টাকা পাঠালেই পরবর্তীতে সে টাকায় স্বপ্নের ভবিষ্যত রচনা করা সম্ভব হবে। ইউএসবিসিআইয়ের পরিচালক শেখ ফরহাদ উল্লেখ করেছেন, অনেক প্রবাসী তার সন্তানদেরকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর দায়িত্ব দেন। সে সময় নতুন প্রজন্মের ওরা সোনালী এক্সচেঞ্জ কিংবা অন্য কোন বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপস খুঁজে পায় না। ফলে তারা জুম অথবা অন্য কোন বিদেশী অ্যাপের ওপর ভরসা করে টাকা পাঠাচ্ছে। এ বিষয়টিকেও সংশ্লিষ্টদের নজরে রাখতে হবে। লেখক ইশাতিয়াক রুপু বলেন, সবকিছুর উর্দ্ধে প্রিয় মাতৃভ’মির স্বার্থেই আমাদেরকে হুন্ডি পরিহার করতে হবে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এমন আলোচনার ভ’মিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করার পর মানি রেমিটেন্স প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’র সিইও মো. মালেক উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে সেন্টার ফর এনআরবি’র বেশ কয়েকটি সেমিনারে অংশ নিয়েছি। অনেকে অনেক কথা বলেছি। প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণের অভিপ্রায়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ মালাও তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু একটিরও বাস্তবায়ন হতে দেখিনি। 

post
এনআরবি লাইফ

নিউইয়র্কে শুরু ১৪ দিনব্যাপী ৩৪ শিল্পীর চিত্রপ্রদর্শনী

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা আলোকে ১৪ দিনব্যাপী এক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়েছে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটির ‘জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস এ্যান্ড লার্নিং’ এ। ‘শিল্পের সাথেই থাকুন’ স্লোগানে উজ্ঝীবিত ‘বাংলাদেশি-আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরাম’র এই প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর যাপিত জীবনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। ৮ অক্টোবর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের এমিরিটাস প্রফেসর ড. মোস্তফা সারোয়ার। বাংলাদেশের এক সময়ের সেরা মেধাবিদের অন্যতম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘ ৩৯ বছর শিক্ষকতায় (ডীন, ভাইস চ্যান্সেলর) নিয়োজিত থাকা মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমি সমাজ-সংস্কৃতির গভীরে অনেক কিছু দেখেছি। লিবারেল আর্টস এ্যান্ড ফাইন আর্টসের সাথেও আমি পরিচিত। তবে আজকের এই শিল্পীবৃন্দের আয়োজনে আমি অভিভূত এবং বিনয়ের সাথে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি সকলের প্রতি। তিনি বলেন, এখানে বিচক্ষণতার অপূর্ব উপস্থাপন ঘটেছে। সর্বজনীনতার ঘটনাবলি দৃশ্যমান হয়েছে আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে অবস্থানকারি নিউইয়র্ক সিটিতে। সারাবিশ্বের মানবতার উৎকর্ষ সাধনের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হতে পারে এসব চিত্র, মত দেন অধ্যাপক মোস্তফা সারোয়ার। তিনি বলেন, বাঙালি শিল্পীরা এভাবেই বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এজন্যে আমি গৌরববোধ করছি। এরপর সকল বিশিষ্টজনকে সাথে নিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোস্তফা সারোয়ার।এর আগে স্বাগত বক্তব্যে ফোরামের কর্মকর্তা আলমা লিয়া বলেন, এটি শুধু স্মৃতিকথা নয়, সকল শিল্পীর জীবনের ধারাবিবরণী, যা পরিণত হয়েছে চমৎকার একটি কানভাসে। সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উঠেছে প্রদর্শনী স্থানটি।শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন ড. মহসিন পাটোয়ারি এবং মূলধারায় প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলমও এমন আয়োজনের গুরুত্ব উপস্থাপন করেন এবং বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্যে এটি হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস। তারা উভয়েই শিল্পীদের অসীম ধৈর্য এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। যার শিল্পীরা হলেন আর্থার আজাদ, আলমা লিয়া, আজমীর হোসাইন, বশিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দীনা জামান, ফারহানা ইয়াসমীন, কীয়ো চি মঙ, কায়সার কামাল, কানিজ হুসনা আকবরী, কাউসার ফেরদৌসী, কাজী রকিব, লায়লা আঞ্জুমান আরা, মুতলুব আলী, মোহাম্মদ টুকন, মাসুদুল আলম, মাসুদা কাজী, মোহাম্মদ হাসান রুকন, মোস্তফা টি আরশাদ, নুরুল হক মিন্টু, নাজ হোসাইন পলি, জাহাঙ্গির রুদ্র, সাঈদ এ রহমান, সাজেদা সুলতানা, মোহাম্মদ সাঈদুল হাসান, শামীম সুবর্ণা, সালমা কানিজ, শামীমা এ রহমান, সুজিত কুমার সাহা, তাজুল ইমাম, তারিক জুলফিকার, তাসনোভা রহমান, ওয়াহিদ আজাদ, জেবুন্নেসা কামাল এবং ইকবাল হোসাইন।প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ২২ অক্টোবর।

post
শিক্ষা

ডব্লিউইউএসটি চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও সিএফও'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ড. শাহজাহান মাহমুদের

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি'র চেয়ারম্যান ও সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লি. এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে ডব্লিউইউএসটি'র ভার্জিনিয়াস্থ ক্যাম্পাসে এই সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসময় ড. শাহজাহান মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক ও সিএফও ফারহানা হানিপের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়ে ড. শাহজাহান যুক্তরাষ্ট্রে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার মতো মহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য আবুবকর হানিপকে ধন্যবাদ জানান এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ গর্বিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দুয়ার খুলে দিয়েছে, আইটি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে যা সময়োপযোগী। আবুবকর হানিপ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই তার নতুন ক্যাম্পাস পেতে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান হারে শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ার কারণেই নতুন ও বড় ক্যাম্পাস প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার ইউনিক দিকগুলো তুলে ধরে তিনি জানান, এখানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইটি ইন্ডাস্ট্রি থেকে লব্দ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে শিক্ষকরা এখানে ক্লাস নেন। ফলে শিক্ষার্থীরা কর্মজগতের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করছে তাদের শ্রেণিকক্ষে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুইশন ফি শিক্ষার্থীরা সামর্থ্যের মধ্যে। ফলে এখানে ড্রপআউটের সংখ্যা খুবই সামান্য। প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সকল দফতর থেকে অনুমোদন ও সনদপ্রাপ্ত। বিশেষ করে এমবিএতে টপ র্যাংকড এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা এখানে আস্থা খুঁজে পায়। বিশ্বের ১২১টি দেশের শিক্ষার্থী এরই মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে জানিয়ে ফারহানা হানিপ বলেন, এটি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ডাইভার্সিফায়েড ক্যাম্পাসে পরিণত করেছে। শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ, উল্লেখ করেন তিনি। পরে ড. শাহজাহান মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতনদের সঙ্গে ফটোশেশনে অংশ নেন। 

post
যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস স্কয়ারে র‌্যালি থেকে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি

১৯৭১ সালে পাক বাহিনীরা নির্বিচারে ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা, চার লাখের অধিক নারীর সম্ভ্রমহানী ঘটিয়েছেন। ওরা কোটি বাঙালির বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুড়িয়ে হত্যা করেছে অসংখ্য শিশু-নারী এবং প্রবীণ বাঙালিকে। পাকিস্তানী হায়েনার দল সাড়ে ৭ কোটি মানুষের একটি জাতি-গোষ্ঠিকে নিশ্চিহ্ন করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ওরা বাঙালির মায়ের ভাষা মুছে ফেলতে চেয়েছিল। বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার নির্লজ্জ প্রয়াসন চালিয়েছে। এসব কী ‘গণহত্যা’ নয়। তাহলে গত ৫১ বছরেও কেন এই গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়নি জাতিসংঘ। এই দাবি আদায়ের জন্যে আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? এমন ক্ষুব্ধ-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ১২ বছর বয়েসী ডেনিস জুলিয়াস ঐশো বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারের র‌্যালিতে। প্রায় অভিন্ন আকুতি ব্যক্ত হয় ছোট্টমনি আব্রাহাম আরজু, জুবাইদা বাতেন এবং সারাহ’র কণ্ঠেও। একইস্থানে খ্যাতনামা আর্টিস্ট এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম আঁকছিলেন একাত্তরের গণহত্যার প্রতিকী চিত্র।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাজুল বলেন, আমি গণহত্যার জন্যে যে ফায়ারিং স্কোয়াড ছিল, সেই দেয়ালের ছবি আঁকছি। পেছনে ধ্বংসযজ্ঞ-বাড়ি ঘরে আগুন লাগানোর দৃশ্য, সামনে লাশ পড়ে আছে। সেটাই হচ্ছে এই ছবির থিম অর্থাৎ জেনোসাইডের ব্যাপারে বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে অবিকল একটি চিত্র উপস্থাপনের প্রয়াস এটি। এরকম আরো ৫টি ক্যানভাসে ছবি আঁকেন শিল্পী মাহমুদুল হাসান রোকন, কাইসার কামাল, জেবুন্নেসা কামাল, আলমা লিয়া এবং মিথুন আহমেদ। আর এভাবেই জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রবাসী বাঙালিরা ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার অপরাহ্নে জয় বাংলা স্লোগানে। ‘হাই টাইম টু রিকগনাইজ জেনোসাইড ইন বাংলাদেশ ১৯৭১-এ্যানিহিলেশন অব ৩ মিলিয়ন ইন অনলি ৯ মান্থ’ লেখা ব্যানারের পেছনে একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিত প্রবাসীদের এ র‌্যালি চলে ঘণ্টা দুয়েকের মত। সকলের কণ্ঠে ছিল ‘জাতিসংঘ-৩০ লাখ মানুষ নিধনের বাংলাদেশ, জেনোসাইড ১৯৭১ কে স্বীকৃতি দিতে হবে।’একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের চিহ্নিত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় এর স্বীকৃতির প্রশ্নে প্রবাসী বাঙালিরা আগে থেকেই সোচ্চার থাকলেও তা এখন প্রবল হয়ে উঠেছে তা জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের এজেন্ডায় পরিণত হওয়ায়। ৩ অক্টোর এই পরিষদের ৫১তম অধিবেশনে ৩ নম্বর এজেন্ডায় রয়েছে বাংলাদেশের জেনোসাইড। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসরদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে এটি এক মাইলফলক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান। চিত্রাংকন পর্বের উদ্বোধন করেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মিথুন আহমেদ।ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আশরাফুল হাসান বুলবুল, লুৎফুন্নাহার লতা, সুব্রত বিশ্বাস, মুজাহিদ আনসারী, মিনজাহ আহমেদ সাম্মু, সেমন্তি ওয়াহেদ প্রমূখ। টাইমস স্কয়ারের এই কর্মসূচির সমন্বয় করে আর্টস ফোরাম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, প্রগ্রেসিভ ফোরাম, গণজাগরণ মঞ্চ, একুশের চেতনা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জেনোসাইড একাত্তর, প্রজন্ম একাত্তর, মানবী, আমরা একাত্তর। এসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমদাদুল হক নাসিমুন্নাহার নিনি, ওবায়দুল্লাহ মামুন, আল আমিন বাবু, ফাহিম রেজা নূর, লুৎফুন্নাহার লতা, রোকেয়া রফিক বেবী, জাকির হোসেন বাচ্চু, সঞ্জিবন সরকার, জাকির আহমেদ রনি, মাহফুজা হাসান, সাগর লোহানি, ক্লারা রোজারিয়ো, শরাফ সরকার, কানু দত্ত, শাহ ফারুক, মাসুদ মোল্লাহ, এম এ বাতিন, সুলেখা পাল, হিরো চৌধুর, আলীমউদ্দিন প্রমুখ

post
বাংলাদেশ

বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-নমপেন এফটিএ চুক্তিতে সম্মত

বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারনে উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হওয়ায় এটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মোহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন বৃহস্পতিবার রাতে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে সম্মত হন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমের ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এখানে তাঁর বাসস্থানের কক্ষে ‘দ্বিপক্ষীয় বৈঠক রুমে’ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার সাথে এফটিএ’র চুক্তির ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ ব্যক্ত করলে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এই প্রস্তাবে সম্মত হন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশ থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানীর ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।তিনি কম্বোডিয়ায় কৃষি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান। হুন সেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, আসিয়ানের সভাপতি দেশ হিসেবে কম্বোডিয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর সুপারিশমালা প্রনয়ণের মাধ্যমে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারে। এসব দেশ মহামারি করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নানা সমস্যা মোকাবেলা করছে।প্রধানমন্ত্রী এখানে তাঁর বাসস্থানের কক্ষে ‘দি¦পক্ষীয় বৈঠক কক্ষে’ আইওএম’র মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনোর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চলাকালে এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ভূক্তভুগিদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য আইওএম’কে ধন্যবাদ জানান। আইওএম মহাপরিচালক অভিবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও আইওএম’র মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।পরে, প্রধানমন্ত্রী কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানি-সাদ্রিউর সঙ্গে আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিল একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.