post
এনআরবি বিশ্ব

লন্ডনে আলোচনা, আবেদন করে মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেতে চাননি গাফফার চৌধুরী

মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য নিজে আবেদন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন কিংবদন্তী লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্তির জন্য সরকার নির্ধারিত নিয়মে আবেদনের অনুরোধের পরও গাফফার চৌধুরীকে রাজী করানো যায়নি বলে জানালেন ১৯৭১ সালের যুক্তরাজ্যে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোজাম্মেল আলী। অমর একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকের স্মরণ সভায় একথা বলেন তিনি। শনিবার যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ইউকের ভার্চুয়াল স্মরণ সভা 'আমি কি ভূলিতে পারি' শীর্ষক আলোচনায় স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে একথা বলেন প্রয়াত গাফফার চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ মোজাম্মেল আলী। ভার্চুয়াল আলোচনায় ভিডিও বার্তায় গাফফার চৌধুরীর কন্যা ড. তনিমা চৌধুরী বলেন, বাবা ছিলেন তাদের জীবনে বট গাছের মতো, ছোট বেলায় তিনি বাবার কাঁধে বসে থাকতেন। যদিও গাফফার চৌধুরী বাঙালি জাতীর একজন আইকন, কিন্তু তার কাছে শুধুই একজন বাবা। 'পিতা হিসেবে তিনি ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব সময় তিনি আমাদের সহযোগিতা করতেন। তবে মৃত্যুর ৩৫ দিন আগে বিনিতার মৃত্যুতে তিনি সবচেয়ে বেশী ভেঙ্গে পড়েছিলেন। দুইজন দুই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, ডাক্তারদের অনুমতি পাওয়া না যাওয়ায় পিতা-কন্যার শেষ দেখা হয়নি'। ড. তনিমা বলেন, তার বোন বিনিতা আবদুল গাফফার চৌধুরীকে বলেছিলে,' বাবা আমি যদি তোমার আগে যাই আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো, তুমি আমার আগে গেলে আমার জন্য অপেক্ষা করো'। গাফফার চৌধুরী বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে এতটাই ভালোবাসতেন যে ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বাবাকে তিনি প্রথম কাঁদতে দেখেছিলেন বলে বলেন ড. তনিমা। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফ অপর এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ১৫ আগষ্টের কষ্ট আর বেদনাকে সাথে নিয়ে মূঢ় হয়ে থাকেন নাই আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিনি সাথে সাথে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনমত পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে, তিরস্কার করে বিশ্ব পরিমলন্ডে প্রথম লেখাটি লিখেছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকে'র ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও অনুষ্ঠানের চেয়ার বিধান গোস্বামী আবদুল গাফফার চৌধুরীর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফফার চৌধুরী চেয়ার স্থাপনের দাবী জানান। অনুষ্ঠানের মডারেটর সাংবাদিক তানভীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আবদুল গাফফার চৌধুরী নামে ফেলোশিপ প্রবর্তনের প্রস্তাব দেন। ভার্চুয়াল আলোচনায় আবদুল গাফফার চৌধুরীর সাথে ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তৃতা করেন ব্যরিস্টার চৌধুরী হাফিজুর রহমান, ব্যরিস্টার কাজী আশিকুর রহমান, লিংকনস ইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, জার্মানে নিযুক্ত বাংলাদেশের সম্মানিত কনসাল জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য পলি জাহান ও শওকত আলী বেনু।অনুষ্ঠানে সিনিয়র এ্যালামনাই ও ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্যরিস্টার অজয় রায় রতন, সোনালী ব্যাংক ইউকের সাবেক সহকারী প্রধান নির্বাহী আমীরুল ইসলাম, প্রদীপ মজুমদার, ঝুমুর দত্ত, পুস্পদেব, ফাতেমা লিলি, চিত্রকর মাসুদ মিজান, মোকাররম হোসেন, সাংবাদিক জুনায়েদ জিলানী, আরিফুর রহমান, সুলতানা রশীদ নাসরিন সহ অন্যরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন ও অমর একুশের সঙ্গীত রচনার প্রেক্ষাপটের উপর ধারণ করা একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত আবদুল গাফফার চৌধুরীর শেষ টেলিভিশন সাক্ষাতকার ' রক্তে রাঙানো একুশের সত্তর' এর ধারণকৃত অংশ প্রচার করা হয়। 

post
দূতাবাস খবর

গ্লিমসেস অব বাংলাদেশ, মানামায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ছবি প্রদর্শণী

গত ২৬ মে ২০২২ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মু. নজরুল ইসলাম ‘Colours of the East’ আর্ট গ্যালারির সহযোগিতায় বাংলাদেশ দূতাবাস, মানামা কর্তৃক “Glimpses of Bangladesh” শিরোনামে Seef Mall-এ আয়োজিত ০৭ দিনব্যাপী ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদেশী কূটনীতিক, বাহরাইনের সরকারী উর্ধত্বন কর্মকর্তাবৃন্দ, লেখক, ট্যুর অপারেটরস, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ,ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং বাহরাইনে বসবাসকরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বনামধন্য দু’জন আলোক চিত্রশিল্পী মোস্তাফিজ মামুন এবং আব্দুল মমিন এর বিখ্যাত ছবিসমূহ নিয়ে এ ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।রাষ্ট্রদূত ইসলাম উদ্বোধনী শেষে আগত অতিথিদের সাথে নিয়ে ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বাংলাদেশের ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন, বাহরাইনে এই প্রথম। বাহরাইনের মাটিতে বাংলাদেশের অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এ আয়জন করা হয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মাঝে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। পরবর্তীতে বাহরাইনকেও বাংলাদেশের মাটিতে ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এতে দু’দেশের মধ্যকার পর্যটন খাতসহ ব্যবসা-বাণিজ্যর অধিকতর প্রাসার ঘটবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীতে আলোক চিত্রশিল্পী মোস্তাফিজ মামুন এবং আব্দুল মমিন -এর ৭০টি ছবি প্রদর্শিত হয়। এসকল ছবির মাধ্যমে কৃষি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবি সহ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র ফুটে উঠে। দর্শনার্থীদের আপ্যয়ায়নের জন্য দেশীয় খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রদর্শনীতে এত সুন্দর বাংলাদেশের ছবি দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হন এবং এ ধরনের চমৎকার আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত ইসলাম এ ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ট্রাভেলস রাইটার্স এসোসিয়েশন, কালারস অব দ্য ইস্ট আর্ট গ্যালারী, সিফ মল, বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম বাহরাইন, বিয়ন মানি সহ আগত সকল অতিথি ও দর্শনার্থীদের ধন্যবাদ জানান। এ প্রদর্শনী আগামী ০১ জুন ২০২২ তারিখ পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

post
শিক্ষা

বাংলাদেশে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ফল সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বুধবার (২৫ মে) থেকে এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছে ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাস। এর আগে ঢাকায় দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানায়।দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, ফল সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মার্কিন দূতাবাসে আগামীকাল ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে। যারা ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য প্রস্তুত আছেন, তাদের দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। আগস্টের শেষ থেকে সাধারণত ফল সেমিস্টার শুরু হয়। ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতে এ সেমিস্টার শেষ হলে শুরু হয় স্প্রিং সেমিস্টার। চলে মে পর্যন্ত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত ফল সেমিস্টারেই বেশি ভর্তি হন।এফ-১ ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য- ডিএস-১৬০ পূরণ করা- সেভিস ফি জমা দেওয়া- ভিসা ফি জমা দেওয়া ও - দূতাবাসের প্রেসক্রাইবড ওয়েবসাইটে প্রোফাইল তৈরি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। 

post
বিশেষ প্রতিবেদন

কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মজয়ন্তী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মজয়ন্তী আজ। বাংলাসাহিত্যে যার আগমন ছিলো বীরের মতো। চির উন্নত শিরের মানুষটির কবিতা, গান, উপন্যাস ও গল্পে বাঙালি জেনেছে বীরত্বের ভাষা, পেয়েছে দ্রোহের মন্ত্র। একসাথে মানবতার কথা সাম্যের কথা তিনি বলেছেন। আর উল্টোতলে তার কোমল হৃদয়খানি ছিলো প্রেমময়তায় আচ্ছন্ন। সাহিত্যকর্ম দিয়ে কাজী নজরুল ছুঁয়েছিলেন বাঙালির আবেগ আর অনুভূতিকে।১৮৯৯ সালের ২৫ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি ছিলেন কবি। প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন, যার বেশির ভাগেরই সুরারোপও করেছেন নিজে। নজরুলসঙ্গীত হিসেবে আজও যা সমাদৃত, আর সমাদৃত থাকবে চিরকাল। ‘দুখু মিয়া’ নাম পেয়েছিলেন ছেলেবেলা। গ্রামের মসজিদে মুয়াজ্জিন হয়ে আজান দিতেন, রুটির দোকানে রুটি বানাতেন। ছিলেন লেটোর দলের সদস্য। মাত্র নয় বছর বয়সে ১৯০৮ সালে তিনি পিতৃহারা হন। তবে অল্প বয়স থেকেই তিনি লোকসঙ্গীত রচনা শুরু করেন। এর মধ্যে রয়েছে- চাষার সঙ, শকুনীবধ, রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ, দাতা কর্ণ, আকবর বাদশাহ, কবি কালিদাস, বিদ্যাভূতুম, রাজপুত্রের গান। ১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত কর্মজীবনের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদারের পদে উন্নীত হয়েছিলেন। করাচি সেনানিবাসে বসেই নজরুল যে রচনাগুলো লেখেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী, মুক্তি, হেনা, ব্যথার দান, মেহের নিগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি। যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে তিনি সাহিত্য-সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু করেন। তৎকালীন বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত কবির বাঁধনহারা, শাত-ইল-আরব, বাদল প্রাতের শরাব, আগমনী, কোরবানি, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম সাহিত্যকর্মগুলো ব্যাপক সমাদৃত হয়। ১৯২১ সালের অক্টোবরে তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯২১ সালের মাঝামাঝি কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে আসেন নজরুল। আর এখানেই প্রমীলা দেবীর সঙ্গে প্রণয় থেকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন কবি। ১৯২১ সালের ২১ নভেম্বর ভারতব্যাপী হরতাল ও অসহযোগের সময় রাজপথে নেমে আসেন তিনি। ১৯২২ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে সারা ভারতের সমাজে সাড়া ফেলে দেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯২২ সালের ১২ আগস্ট নজরুল ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ১৯২২ সালে পত্রিকাটির ৮ নভেম্বরের সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একইদিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নেয়া হয়। ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে জবানবন্দি দেন। তার এ জবানবন্দি বাংলা সাহিত্যে ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ নামে বিশেষ সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে। ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি বিচারের পর নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। জেলে বসেই তিনি ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ কবিতাটি রচনা করেন। কাজী নজরুল ইসলাম মধ্যবয়সে পিকস্ ডিজিজে আক্রান্ত হন ও বাকশক্তি হারান। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। ১৯৭২ সালে ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেন। ১৯৭৬ সালে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয় এবং ‘একুশে পদক’ দেয়া হয়। সে বছরের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

post
এনআরবি লাইফ

চলে গেলেন মাস্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন আজিজুল হক

মাস্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন আজিজুল হক চুন্নু আর নেই। জাপানের কোবে শহরে সোমবার (২৩ মে) ইন্তেকাল করেন এক সময়ের এই স্বনামধন্য মেরিনার (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।তিনি ছিলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার সুপরিচিত নূরুল হক উকিলের ছেলে। ক্যাপ্টেন আজিজুল ছিলেন প্রথম বাংলাদেশি মেরিনার যিনি ১৯৭১ সালে একটি পাকিস্তানি জাহািজ নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে গিয়েছিলেন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ছিলো তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধুর ফুপাতোভাই মোমিনুল হকের একটি লেখায় উল্লেখ রয়েছে এই ক্যাপ্টেন আজিজুল হকের কথা। ক্যাপ্টেন আজিজুল তখন প্রবেশিকা পরীক্ষার্থী। সেই তারুণ্যেই তিনি বঙ্গবন্ধুর চেতনা ধারণ করতেন ও তার সংগ্রামের সারথী ছিলেন, যা উল্লেখ রয়েছে মোমিনুল হকের ওই লেখায়। মার্চেন্ট নেভির ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আজিজুল হক চুন্নুর দীর্ঘ অবসর জীবন কাটছিলো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ও জাপানের কোবেতে। মৃত্যুর আগে শেষ দিনগুলো তার কোবেতেই কাটছিলো বলে জানান মরহুমের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একজন।

post
শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার গল্প শোনালেন আবুবকর হানিপ

আবুবকর হানিপের নিজের গল্পটাই অনুপ্রেরণার এবং পথ দেখানোর গল্প। আর সে কারণে তিনি যে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে তার গল্পটাই সকলে শুনতে চান। আর শোনাতে চান আবুবকর হানিপ নিজেও। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটির (পূর্বনাম আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি) প্রতিষ্ঠাতা ও চ্যান্সেলর, পিপলএনটেক'র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, এনআরবিকানেক্ট টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সফল বাংলাদেশি আমেরিকান এই ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ।গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ'র উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ উৎসবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ, সংগ্রাম ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা ছিলো অনুষ্ঠানের মূল্য প্রতিপাদ্য। আবুবকর হানিপ ছিলেন এই আয়োজনের কিনোট স্পিকার।নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত হয়েছিলেন সে আয়োজনে। অভ্যাগতদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটিতে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী ও ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানটির স্পন্সর ছিলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি এবং পিপলএনটেক।পিপলএনটেকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিলেন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি এবং অন্য দেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিক্ষার্থী- প্রশিক্ষণার্থীরা। সেখানেই আবুবকর হানিপ তার নিজের জীবনের গল্পটি শোনাচ্ছিলেন। উপস্থাপনায় তিনি জানাচ্ছিলেন, কি করে এখানকার বাংলাদেশি ডায়াসপোরার মধ্যে একটি স্বপ্ন বুনে দিতে সক্ষম হয়েছেন। যার পথ ধরে এখানে প্রতিটি পরিবারে একসময় একজন করে ছিলেন ইয়ালো ক্যাব চালক; যা এখন ধীরে ধীরে প্রতি পরিবারে একজন করে আইটি প্রফেশনালে পরিবর্তিত হচ্ছে। এবং সে প্রক্রিয়ায় একটি বড় অবদান রেখে চলেছে তারই প্রতিষ্ঠিত পিপলএনটেক। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ৭০০০ বাংলাদেশি আজ আইটি প্রশিক্ষিত হয়ে চাকরির বাজারে ড্রিম জব করছে। যার প্রায় সবগুলোই সিক্সডিজিট প্লাস এর চাকরি।  আবুবকর হানিপ জানান, তার পরিচালনায় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি-ও একটি দক্ষতানির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এগুচ্ছে যা এখানকার সকল শিক্ষার্থীদের একটি ডিগ্রির পাশাপাশি সময়ের সবচেয়ে আগুয়ান ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলোতে দক্ষ করেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মবাজারে এগিয়ে দেবে। এতে করে এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থী সেই একই রকম সিক্সডিজিট আর্নার হতে পারবে তাদের শিক্ষাপরবর্তী কর্মজীবনের শুরু থেকেই।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আবুবকর হানিপ বলেন, ছাত্রাবস্থায় তারা যেনো এদেশের কোনো হাতছানিতে না ভুলে স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসটি অক্ষুণ্ন রাখেন এবং যথাযথভাবে তাদের ডিগ্রিটি সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে এটাই কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রধান চুক্তি। এদেশে শিক্ষা ভিসা নিয়ে যারা আসেন তাদের শিক্ষা শেষে রয়েছে অবারিত সুযোগ। তবে তা কোনোভাবেই শিক্ষা সম্পন্ন করার আগে প্রযোজ্য নয়।আমেরিকান ড্রিম সম্পন্ন করার একটি চমৎকার পথ এদেশে রয়েছে। ওপিটি, সিপিটি স্ট্যাটাসের পাশাপাশি এইচওয়ানবি স্ট্যাটাসের সুযোগ এবং তার পথ ধরেই গ্রিন কার্ড ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগটি আসে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সে পথেই চলতে হবে। অন্য কোনো শর্টকাট কিংবা অবৈধতার পথ বেছে নিলে তা পরিনামে ভালো কিছু বয়ে আনে না, উল্লেখ করেন কি-নোট স্পিকার আবুবকর হানিপ। তিনি আরও বলেন,, "নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজগতকে যতটা বুঝতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষ মানুষের দেশ। এখানে দক্ষদের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর সেই সম্ভাবনা থেকেই ডব্লিউইউএসটি তার শিক্ষার্থীদের দক্ষ করেই কর্মজগতে পাঠানোর প্রয়াস নিয়েছে। এবং শিগগিরই এই ঘোষণায় যাচ্ছে যে- নো জব নো ট্যুইশন। অর্থাৎ ডব্লিউইউএসটির গ্রাজুয়েটরা চাকরিবাজারে সুযোগ না পেলে তাদের ট্যুইশান ফি-ই ফেরত দেবে বিশ্ববিদ্যালয়।"  বিষয়গুলো যখন বলছিলেন একজন প্রত্যয়ী আবুবকর হানিপ, উপস্থিত দর্শকরা তা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন থার্টিসিক্সথ অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টএর অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান কে মামদানি, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলর সিডি ২৫ শেখর কৃষ্ণাণ, নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই, নিউইয়র্ক ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য মফিজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, অরগানাইজিয় সোসাইটি অ্যাট ডিআরইউএম-এর পরিচালক কাজি ফৌজিয়া, অ্যাস্টোরিয়া সোসাইটি ইউএসএ'র সাধারণ সম্পাদক মো. জায়েদ উদ্দিন, বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার জামাল হক প্রমুখ। এরা সকলেই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক বক্তব্য রাখেন।তারা তাদের বক্তৃতায় বলেন, আবুবকর হানিপ নিজেই এখন নিজের পরিচয় এবং তিনিই এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তার নেতৃত্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে, যা প্রতিটি মানুষের গর্ব, উল্লেখ করেন বক্তারা।  দুটি পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রথম প্যানেল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এশিয়ান অ্যামেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স অ্যান্ড এডুকেশন ফান্ড এর সিনিয়র স্টাফ এটর্নি স্টেইলি মার্ক।দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনায় একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষা জীবনের সংগ্রাম এবং পরে আমেরিকান ড্রিম অর্জনে তার সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। এই পর্বে আলো জনা করেন আরও দুইজন শিক্ষার্থী যারা পিপলএনটেক থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নেওয়ার পরে যে সফলতার পথ মাড়িয়ে চলেছেন তা নতুন শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।     সবশেষে ঈদ উৎসবে মজাদার সব ঈদের খাবার পরিবেশন করা হয় অতিথিদের মধ্যে।

post
দূতাবাস খবর

বাংলাদেশের ওয়াশিংটন দূতাবাসে বর্ষবরণ ও ঈদ পুণর্মিলনী

এক টুকরো বাংলাদেশ... এমনটাই বলা হয়। আর ঠিক তেমনই হয়ে উঠছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি'র বাংলাদেশ দূতাবাস... শুক্রবার সন্ধ্যায়। অভ্যগতরা এসেছিলেন বাঙালি সাজে। অনুষ্ঠান স্থলের সাজ-সজ্জ্বায়ও বাঙালিয়ানা। আর অনুষ্ঠান জুড়েও বাঙালি সব আয়োজন। খাবার পরিবেশনায় পুরোদস্তুর বাঙালি পদ- ভর্তা, পান্তা, শুটকি, শুক্তো, চিতই, পাটিশাপটা, সেমাই মিষ্টি। সাথে মাংস পোলাও তো রয়েছেই। বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়- আয়োজন ছিলো বৈশাখ বরণের। সাথে ঈদ পুণর্মিলনী। বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান দুটি উৎসব অবশ্য হয়ে গেছে আগেই। কিন্তু পহেলা বৈশাখে রমজান থাকায় এই উৎসবের আয়োজন বাংলাদেশ দূতাবাস তুলে রেখেছিলো ঈদের পরের জন্য। তাই এক সঙ্গে দুটি উৎসব হয়ে গেলো দূতাবাসে। সে কথাই বলছিলেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের মধ্যে ছিলেন অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরাও। এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা। তারা যেমন ভূয়সী প্রশংসা করছিলেন আয়োজনের, তেমনি বাংলাদেশেরও। এসেছিলেন- দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কেলি কিডারলিন। তিনি বলেন, সংস্কৃতিতে সম্মৃদ্ধ একটি দেশ বাংলাদেশ। এই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনুস্বীকার্য। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কেলি কিডারলিন।  সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা পর্বের পরপরই শুরু হয় মঙ্গলশোভাযাত্রা। বাঙালির সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা নানা ধরনের প্লাকার্ড হাতে দেশি-বিদেশি অতিথিরা দুতাবাসের সামনের চত্ত্বরে ঘুরে এলেন সেই শোভাযাত্রা নিয়ে। আর সঙ্গে সেই প্রিয় গান--- এসো হে বৈশাখ এসো এসোমঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে অতিথিরা আবার চলে আসে অনুষ্ঠান স্থলে। সেখানে মঞ্চ সাজানো হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির নানা বিষয়কে তুলে ধরে। অতিথিরা আসন নিলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে উঠে পরপর দুটি গান গেয়ে শোনান। প্রথমে এসো হে বৈশাখ এসো এসো আর পরে ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম বলছিলেন এই দুটো উৎসব মানেই হচ্ছে পেটপুরে খাওয়া। সেই খাবারের আয়োজন ততক্ষণে শুরু হয়েছে। মুড়ি-মুরকি চটপটি ফুচকা কিংবা চানাচুর ভাজা। অন্যদিকে অনুষ্ঠানস্থলে চলছিলো একের পর এক গান... আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। তবে অনুষ্ঠানে সকলের মন ছুঁয়ে যায় চারটি বাংলা কবিতা শুনে। যারা এসব কবিতা পড়ে শোনান তারা কেউ বাংলাদেশি নন। গান- কবিতার পরে নাচ। এখানকার বাংলাদেশি নতনু প্রজন্মের মেয়েরা নাচে বাংলা গানের তালে। ততক্ষণে খাবারের মূল আয়োজন শুরু হয়ে যায়। চমৎকার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পর, বাঙালি সব খাবারে তৃপ্তি মিটিয়ে খান বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষগুলো। মজা করে খান বিদেশি অতিথিরাও। এমন আয়োজন করতে পের খুশি রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটা দূতাবাসের একটি দায়িত্ব বাংলাদেশের উৎসবের দিনগুলোতে এখানকার বাংলাদেশিদের জন্য কিছু আয়োজন করা।

post
শিক্ষা

ডব্লিউইউএসটি'র সঙ্গে অংশীদারিত্বের বড় সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশের হাইটেকপার্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি'র সঙ্গে অংশীদারিত্বের বড় সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশের হাইটেকপার্ক। প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ট্রান্সফার করাই এই সময়ের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও উপযোগী পদক্ষেপ যা হাইটেকপার্ক ও ডব্লিউইউএসটি'র মধ্যে হওয়া সম্ভব। খুব শিগগিরই এ ধরনের অংশীদারিত্বের বড় ঘোষণা আসবে। এসব কথা বলছিলেন বাংলাদেশ হাইটেকপার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ। তিনি বুধবার (১১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ডব্লিউইউএসটি (পুর্ব নাম আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি) ক্যাম্পাস পরিদর্শণে এসে এর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বাংলাদেশি আমেরিকান প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আবুবকর হানিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন, সিএফও ফারহানা হানিপ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় আরও ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত রোমানিয়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি. (বেঙ্গল গ্রুপ) 'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বাবলু, আরটিভি'র সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, যুক্তরাষ্ট্রে বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ক্রিকেটপয়েন্ট-এর সিইও কাজী জামান, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার ইকনমিক মো. মেহেদি হাসানসহ অন্যরা।বিকর্ণ ঘোষ তার বক্তৃতায় আরও বলেন, একজন বাংলাদেশি আমেরিকান এই যুক্তরাষ্ট্রে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব মালিকানায় পরিচালনা করছেন, এটি আমাদের বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় গর্বের একটি বিষয়। আমরা চাই এমন আরও আবুবকর হানিপ বাংলাদেশে তৈরি হোক আর সে কারণেই আমাদের পারষ্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়টির দক্ষতানির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা যা ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে একটা ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে, সে কথা উল্লেখ করে বিকর্ণ ঘোষ বলেন, এই বিষয়টিই এখন শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশেও শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন প্রায়োগিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ডব্লিউইউএসটি-কে আহ্বান জানাতে চায়, যেনো এই শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশেও তারা নিয়ে যেতে পারেন এবং সে জন্য বাংলাদেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় জমি দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন একটি সুযোগ ডব্লিউইউএসটি'র জন্য একটি বড় পাওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়তে আসছেন তাদের ভবিষ্যত সময়ের উপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে তৈরি করা হয়। যাতে তারা শিক্ষা শেষে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের উন্নত জব মার্কেটে ঢুকতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে যে শিক্ষার্থীরা আসছেন তাদের নিয়ে তার বড় স্বপ্ন হচ্ছে- এদের কেউ কেউ একদিন অ্যামাজন, গুগল, সিসকো, ফেসবুক, টুইটারের মতো ফরচুন ওয়ান হান্ড্রেড কোম্পানিগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের পদগুলোতে আসীন হবেন।"ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি'র শিক্ষকরা একাধারে স্কলার ও প্র্যাকটিশনার, যাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে রয়েছে ন্যুনতম চার বছর থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত কর্মদক্ষতার অভিজ্ঞতা। এই শিক্ষকদের কাছ থেকে শিখে শিক্ষার্থীরা যখন কর্মজগতে প্রবেশ করবে তখন তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।"  একটি সময়ে আমরা এই ঘোষণাই দিতে সক্ষম হবো, যখন আমরা বলতে পারবো ডব্লিউইউএসটিতে পড়াশোনা শেষ করলে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত ভালো কাজ পেয়ে যাবে, তখন আমরা 'নো জব নো টুইশান' ঘোষণা করতে পারবো, বলেন একজন আত্মবিশ্বাসী আবুবকর হানিপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি, এর শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডব্লিউইএসটি, পুরাতন আইজিইউ'র শিক্ষা পদ্ধতিটি ইউনিক। এবং এই সময়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, এটি একটি ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড ইউনিভার্সিটি। আমরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা দিয়ে তৈরি করি। শিক্ষার্থীরা ডব্লিউইউএসটিকেই তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেছে নেবে। তা ছাড়াও এটি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো থেকে অনুমোদিত এবং অ্যাক্রিডিটশন প্রাপ্ত। অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন শিক্ষাপদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষকরা তাদের শেখান ও তৈরি করেন, এটাই আইজিইউ'র বর্তমান ডব্লিউইউএসটির মূল পদ্ধতি। মো. হুমায়ুন কবিব বাবলু তার বক্তৃতায় ডব্লিউইউএসটির শিক্ষাক্রম, এর পরিচালন পদ্ধতি এবং পাঠদান পদ্ধতির প্রশংসা করেন। একজন বাংলাদেশি আমেরিকানের নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে যা তাকে গর্বিত করে বলে তিনিও তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। একই কথা বলেন ভার্জিনিয়াস্থ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী জামান। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্র বসবাসকারী প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য একটি গর্বের বিষয়। মো. মেহেদি হাসান আবু হানিপের প্রশংসা করে বলেন, এমন একটি উদ্যোগ তাকেও গর্বিত করে।ফারহানা হানিপ তার বক্তৃতায় সকলকে ধন্যবাদ জানান ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও সাংবাদিক মাহমুদ মেনন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষাপদ্ধতি এতটাই ভিন্নরকম যে এখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দ নিয়ে শিখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইন্ডাস্ট্রির দক্ষতা নিয়ে এখানে পড়ান, সে কারণেই এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর। বাংলাদেশে এই শিক্ষাপদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন। 

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৮২৪ ডলার

২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ২৩৩ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরে (২০২০-২১) যা ছিল ২ হাজার ৫৯১ মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৮ টাকা। একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।মঙ্গলবার (১০ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সভাকক্ষে একনেক বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ টাকা বা ২ হাজার ৮১৪ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৮ টাকা বা ২ হাজার ৫৯১ মার্কিন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে শতকরা ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।মন্ত্রী জানান, জিডিপির মোট আকার ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কৃষি খাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাময়িক হিসাবে শতকরা ২ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে শস্য উপখাতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, পশুপালন উপখাতে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ, বন উপখাতে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মৎস্য খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, শিল্প খাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ ছাড়া বছর সাময়িক হিসাবে বিদ্যুৎ খাতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং নির্মাণ খাতে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে শিল্প খাতে গত বছরের (২০২০-২১) তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

‘মুজিব আমার পিতা’র প্রিমিয়ার শো নিউইয়র্কে

বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’র বিশেষ প্রদর্শনীতে থাকা প্রবাসীরা বিশেষ এক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পিনপতন নিরবতায় তা দেখলেন। পিতার সাথে সন্তানের মায়ার বন্ধনকে ছাড়িয়ে যায় টুঙ্গিপাড়ার দূরন্ত ছেলে খোকার বঙ্গবন্ধু থেকে বাঙালি জাতিরজনক হয়ে উঠার ধারাবিবরণীতে। বিশ্বের অবহেলিত-বঞ্চিত মানুষদের কন্ঠস্বর হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারি শেখ মুজিবের সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের খুবই ছোট্ট একটি অধ্যায়ের মধ্যদিয়ে ‘মুজিব আমার পিতা’ ছবিটি তৈরী হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার লেখা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থের অবলম্বনে। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যেকার ভাষা আন্দোলনকে মূলতঃ প্রেক্ষাপট করা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত ছবিটি প্রদশিত হয় ৮ মে রোববার নিউইয়র্ক সিটির ফ্লাশিংয়ে বম্বে থিয়েটারে। ফ্রি প্রবেশাধিকারের এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাসহ শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। শেষে ছবির ওপর নিজের মতামত ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক। ছবিটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আলোকপাত করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।বিদগ্ধ দর্শকেরা অভিমত দিয়েছেন যে, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরো আকর্শনীয়ভাবে উঠে এসেছে। চলচ্চিত্রের দৃশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সামনে প্রতীয়মান হয়েছেন এক ভিন্ন আঙ্গিকে। একজন কন্যার চোখ দিয়ে আমরা পিতাকে দেখতে পেলাম এই মুভিতে, বলেন তারা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দৃষ্টিতে পিতা শেখ মুজিবকে কীভাবে দেখেছেন, কীভাবে বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন তা এতে বিবৃত হয়েছে বস্তুনিষ্ঠভাবে। সেই অবিসংবাদিত নেতার শৈশব, কৈশোরসহ তাঁর কর্মময় জীবনের নানাদিক বিভিন্ন আঙ্গিকে উঠে এসেছে ছবিতে। মূলত: বঙ্গবন্ধুর জন্ম থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত সময়কে এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাইগার নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া ছোট্ট খোকা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কীভাবে স্বাধীনতার সেইপথে তিনি ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠলেন, সেই পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই চলচ্চিত্রে উপস্থাপিত হয়েছে।এটি পরিচালনা করেছেন সোহেল মোহাম্মদ রানা। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রেরর এক নতুন দ্বার উম্মোচিত হয়েছে বলেও অনেকে উল্লেখ করেছেন। অতিথি-দর্শকের মধ্যে আরো ছিলেন অপরাজিত হক এমপি. নুরুল আমিন এমপি এবং নাহিদ ইজাহার খান। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটেও প্রদর্শিত হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী পলক।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.