post
এনআরবি সাফল্য

নিউইয়র্কে সাকিব আল হাসান ও শাকিব খান, সম্মাননা স্মারক তুলে দিলেন আবুবকর হানিপকে

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন বাংলাদেশের দুই সুপার স্টার। একজন ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। অন্যজন বাংলা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খান। এই দুই তারকা ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সফল ব্যক্তিত্বরা সমবেত হয়েছিলেন শো টাইম মিউজিক'র আয়োজনে। যাদের অন্যতম ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি আমেরিকান, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ। অনুষ্ঠানে আবুবকর হানিপকে প্রবাসীদের সামগ্রিক উন্নয়নে অশেষ অবদানের জন্যে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন দুই সুপার স্টার। আর আবুবকর হানিপও ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে দুই সুপারস্টারকে দেন বিশেষ সম্মাননা স্মারক। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ডফেয়ার মেরিনার আলো ঝলমল মিলনায়তনে ‘মিট এ্যান্ড গ্রিট এক্সক্লুসিভ’ শীর্ষক মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন শো টাইম মিউজিক’র কর্ণধার আলমগীর খান আলম।কোন ভূমিকা ছাড়াই দুই রাজাধিরাজকে মঞ্চে আলিশান চেয়ারে বসার আহবান জানালেন আলমগীর খান। এরপর দুই শাকিবের পাশে দু’জন করে বসেন এবং তারা সরাসরি উভয়ের মতামত ও মন্তব্য জানতে চান নানা ইস্যুতে। তারই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলাজি’র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের সঙ্গেও আলাপচারিতায় অংশ নেন সাকিব আল হাসান ও শাকিব খান। আবুবকর হানিপ শাকিব ও সাকিবকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে জানতে চান, নিজ নিজ ক্ষেত্রে আপনারা উভয়ে শীর্ষে আরোহন করেছেন। কঠোর অধ্যাবসায়ের পাশাপাশি আর কোন বিষয়টি আপনাদের সুপার স্টারে পরিণত করেছে বলে মনে করেন। ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বললেন, "পরিশ্রম তো করতে হয়েছে এবং এখনো করছি। এরকম পরিশ্রম অনেকেই করেন। কিন্তু সবাই তো হতে পারেন না। এজন্যে কপাল লাগে। মাশআল্লাহ আমার কপাল বড়, সেটি বড় একটি ব্যাপার।"সুপার স্টার শাকিব খান বলেন, "ভাগ্য লাগে। সেটি নির্দ্ধারণ করেন আল্লাহ তা’লা। এটাই বড় সত্য। আমি চেষ্টা করে আসছি। এই চেষ্টা জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠতে সহায়তা করে অনেককেই। আমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে ভাগ্য প্রসন্ন হয়েছে এবং সেটি পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার দান।" চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের অপর এক কৌতুহলের জবাবে সাকিব আল হাসান বলেন, আমি বাস্তববাদি মানুষ। বর্তমান নিয়েই ব্যস্ত থাকি। তাই মারা যাবার পর কে কী ভাবলেন সেটি তো আমি জানতে পারবো না। তবে আমি জানি যারা একান্তই কাছের মানুষ তারা স্মরণ করবেন, দোয়া করবেন। আর যদি সমগ্র জাতির কল্যাণে কিছু করছি বলে বিবেকসম্পন্নরা অনুধাবনে সক্ষম হন, তাহলে তারাও স্মরণ রাখবেন বহুদিন।ইউএস সুপ্রিম কোর্টে প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান এটর্নি এবং কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার মঈন চৌধুরীর কৌতুহলের জবাবে সাকিব ও শাকিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা যখন করবেন, তখোন নিশ্চয়ই ইমিগ্রেশনের এটর্নি হিসেবে তার (মঈন চৌধুরী) শরণাপন্ন হবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রসারে কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে ক্রিকেটার সাকিব বলেন, অবশ্যই করার ইচ্ছা আছে। নতুন প্রজন্মে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটের প্রতি। সেই আবেগ কাজে লাগাতে সচেষ্ট রয়েছেন সকলেই।মার্কিন মূলধারার চলচ্চিত্রে প্রতিভাসম্পন্ন অন্যদেরকে নিয়ে সম্পৃক্ততার কোন চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে ঢালিউডের কিং শাকিব বলেন, বাংলাদেশিসহ এশিয়ানদের মেধা এবং প্রতিভা অত্যন্ত প্রখর-এটি মার্কিন মুল্লুকের বিদগ্ধজনেরা ইতিমধ্যেই উপলব্ধিতে সক্ষম হয়েছেন। এ আর রহমান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এর অন্যতম উদাহরণ। নিশ্চয়ই আমরাও একই অবস্থানে উঠতে সক্ষম হবো। এজন্যে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে নিরন্তরভাবে কর্মরত শো-টাইম মিউজিকের উদ্যোগে কয়েকস মাস আগে এই নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো দুই কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী রুনা লায়লা এবং সাবিনা ইয়াসমীন একই মঞ্চে গেয়েছেন। এরপর এই দুই সুপার স্টারকেও একই মঞ্চে প্রাণবন্ত মতবিনিময়ে হাজির করার মধ্যদিয়ে কম্যুনিটিতে অনন্য এক উদাহরণ সৃষ্টি করলেন আলমগীর খান আলম। এই আলাপ-চারিতায় বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক নুরুল আজিম, রাহাত মুক্তাদির, রায়হান জামান, ডা. চৌধুরী সারওয়ার হাসান, ফাহাদ সোলায়মান, মোহাম্মদ এ কে আজাদ, শাহনেওয়াজ, রানু নাওয়াজ প্রমুখ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় নাম ‘প্রিসিলা নিউইয়র্ক’ তথা প্রিসিলা ফাতেমাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সকলেই আলমগীর খান আলমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এমন একটি আয়োজনের জন্যে।

post
বাংলাদেশ

দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব আর নেই

দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক অমিত হাবিব আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।দেশ রূপান্তর অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ জুলাই রাতে অফিসে কাজ করা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন অমিত হাবিব। প্রথমে তাঁকে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, অমিত হাবিবের হেমোরেজিক স্ট্রোক হয়েছিল। রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় তাঁর। দেশ রূপান্তরের সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে অমিত হাবিব দৈনিক কালের কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি দেশ রূপান্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশ রূপান্তর জানিয়েছে, ১৯৮৭ সালে খবর গ্রুপ অব পাবলিকেশনসে সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অমিত হাবিব। পরে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকায় যোগ দেন তিনি। কাজ করেছেন দৈনিক আজকের কাগজ ও দৈনিক ভোরের কাগজে। ২০০৩ সালে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ২০০৭ সালে চীনের আন্তর্জাতিক বেতারেও কাজ করেন। বছরখানেক পর চীন থেকে দেশে ফিরে দৈনিক সমকালে প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি।

post
বাংলাদেশ

অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-লোহার কংক্রিটের একটি অবকাঠামো নয়, এ সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব, আমাদের সক্ষমতা আর মর্যাদার প্রতীক।তিনি বলেন, পদ্মার বুকের লাল-নীল-সবুজ আলোতে জ্বলে ওঠেছে পদ্মা সেতু। সকল অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (২৫ জুন) পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, এই সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের সাহসিকতা, সহনশীলতা এবং আমাদের প্রত্যয়। আর তার সাথে ছিলো আমরা এই সেতু করবোই, সেই জেদ। ষড়যন্ত্রের ফলে আমাদের সেতু নির্মাণ দুই বছর বিলম্বিত হয়েছে, কিন্তু আমরা হতোদ্দম হইনি, বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে যে ৪২ টা পিআর নির্মাণ হয়েছে, তার প্রতিটিই বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার ভিত। পদ্মা সেতু দেশের আত্ম মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রতীক।এ সময় যারা পদ্মা সেতুতে যারা জমি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটি কোটি দেশবাসীর সঙ্গে আমিও আজ আনন্দিত, গর্বিত এবং উদ্বেলিত। অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বহু-কাঙ্ক্ষিত সেতু দাঁড়িয়ে গেছে। তারুণ্যের কবি, দ্রোহের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়। জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুই বছর দেরি হলেও কিন্তু হতাশায় ভুগিনি। শেষ পর্যন্ত অন্ধকার দূর করে আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি।’বাংলাদেশের মানুষের সাহস ও আত্মমর্যাদার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর এক বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাংলাদেশের কোনও সম্পদ নেই, আপনি কীভাবে দেশ গড়ে তুলবেন? বঙ্গবন্ধু এর জবাবে বলেছিলেন, ‘আমার মাটি আছে, মানুষ আছে, তা দিয়েই দেশ গড়বো।’ সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের অর্থনীতি সচল আছে। অনেক প্রকল্প নিয়েছি, পদ্মা সেতু তৈরি করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের অর্থনীতি করোনা মোকাবিলা করেছে, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ মোকাবিলা করেও গতিশীল আছে। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ, জনগণ সাহসের ঠিকানা। বাংলাদেশের জনগণকে আমি স্যালুট জানাই।তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছিল পদ্মা সেতু সম্ভব না, বিরোধিতা করেছিল, ষড়যন্ত্র করেছিল; আমি মনে করি তাদের চিন্তার ও আত্মবিশ্বাসের দৈন্যতা আছে। তবে আজকের পরে তাদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে বিশ্বাস করি- না, বাংলাদেশ পারে।’

post
বিশেষ প্রতিবেদন

পদ্মাসেতু আমাদের গর্বের প্রতীক

পৃথিবীর যে প্রান্তেই যে মানুষটি থাকুকটা কেনো তার ধমনীতে যদি প্রবাহিত বাঙালির খুন, তারই প্রাণে আজ ধ্বনিত হচ্ছে একটি নাম, পদ্মাসেতু। পৃথিবীর ঠিক উল্টো পীঠে বসে আমরা চেয়ে চেয়ে দেখি একটি সেতুর রূপ। কি অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে এই সেতু। মিডিয়ার কল্যাণে কত ছবি, ভিডিও চোখে পড়ছে। আর মুগ্ধ হচ্ছি। তবে শুধু রূপে নয়, এমন এক শক্ত কাঠামো দেওয়া হয়েছে এই সেতুতে যা শতবর্ষের জন্য সকল ধকল নিতে প্রস্তুত। যারা মধ্য দিয়ে দেখছি ১০০ বছর পরের বাংলাদেশকেও।আমরা জানি উন্নয়নের আরেক নাম গতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দ্রুততম গতির সংযোজন ঘটিয়ে চলছে নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ফলে আমরা দূর পরবাস থেকেও দেখতে পাই একটি গতিময় সময়ে গতিময় বাংলাদেশকে। যার সর্বশ্রেষ্ঠ সংযোজন এই পদ্মাসেতু। মাত্র একদিন পরে এই সেতুর উদ্বোধন। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন যুগে পা ফেলবে। আর নতুন গতিময়তায় এগিয়ে যাবে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে।যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যদি মিলিয়ে দেখি, এই দেশে আমরা কী দেখতে পাই? এই দেশে একটি রাজ্যের সঙ্গে অন্য রাজ্যের কানেক্টিভিটির দিকে যদি তাকাই আমরা দেখি অত্যন্ত সুচারূরূপে রচনা করা হয়েছে সেই কানেক্টিভিটি। কোথাও পাহাড়ের খাঁজ কেটে, কোথাও নদীর উপর সেতু রচনা করে। মূলতঃ যোগাযোগটাই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। সেই হিসেবে এখানে রাজ্যগুলো একে অন্যের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় সংযুক্ত। আর সে কারণে এই দেশে মানুষগুলো যার যে রাজ্যে মন চায় গিয়ে বসতি গাড়ে। কারণ রাজ্যে রাজ্যে দ্রব্যমূল্যে নেই বড় কোনো ফারাক। ফারাক নেই জীবন ব্যবস্থায়। জীবনাচারে প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণে।একটি উদাহরণ দেই। এই দেশে ফ্লোরিডার আবহাওয়া অনেকটা গ্রীস্মমণ্ডলীয় দেশগুলোর মতো। ফলে সেখানে ফলে আম, জাম, লিচুর মতো রসালো ফলগুলো। কিন্তু সেই ফল আমরা ভার্জিনিয়াতে বসেও কিংবা নিউইয়র্কে বসে কিনে খেতে পারি অনেকটা সমমূল্যে। কারণ অতি সহজেই সেইসব ফল যুক্তরাষ্ট্রের অন্য রাজ্যগুলোতে পৌঁছে যায়। কারণ একটাই সহজ ও সাবলীল যোগাযোগ ব্যবস্থা।আমি মনে করি পদ্মাসেতু বাংলাদেশের জন্য সেই সুযোগটিই সবচেয়ে বড় করে আনবে। সবচেয়ে বড় কথা কাছাকাছি টেনে আনবে মানুষগুলোকে। এখন আর দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের মানুষকে দূরের মনে হবে না। কিংবা রাজধানী ঢাকাকেও দূরের কোনো নগরী মনে হবে না সেই অঞ্চলের মানুষগুলোর কাছে। এই কাছাকাছি করে আনার মধ্য দিয়ে যে কাজের একটি শক্ত ভিত রচিত হবে যা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।গত কয়েকটি বছর পদ্মাসেতুর নির্মাণ প্রক্রিয়া দৃষ্টি কেড়েছে সকলের। আমরাও অবাক হয়ে দেখেছি কতটা আত্মনিয়োজনে তৈরি হয়েছে এই সেতু। সেতুর উপকরণ হিসেবে বিশ্বের যেখানে যেটি শ্রেষ্ঠ সেই উপকরণটিই সেই দেশ থেকে আনা হয়েছে। ফলে গুণগত মানে এতটুকু ছাড় না দিয়ে তৈরি হওয়া সেতুকে স্রেফ স্বপ্নের সেতু না বলে একটি ভিশনারি সেতুও বলা চলে। যাতে নিশ্চিত করা হয়েছে শতবর্ষের ভিত।সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুতে উপরের তলায় প্রস্তুত হয়েছে চার-লেনের হাইওয়ে, আর নিচের তলায় সিঙ্গল ট্র্যাক রেলওয়ে। সাড়ে সাত বছর ধরে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার খরচে বানানো হয়েছে এই সেতু। বিশ্বের ২০ টি দেশের প্রকৌশলীদের প্রকৌশল বিদ্যার প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে এই সেতুতে। ১০টি দেশ থেকে এসেছে এই সেতুর প্রধান উপকরণগুলো। আর বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশ থেকে আসা কোনো না কোনো উপকরণ ব্যবহৃত হয়েছে এই সেতুতে।এই যে আমরা আমাদের উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রক্রিয়া অনেকটা দূর পর্যন্ত দেখতে শিখলাম। শ্রেষ্ঠত্বের প্রয়োগ ঘটাতে শিখলাম। এই চর্চা আমাদের শুরু হলো। এটাই আমাদের সময়ের তরফ থেকে হয়ে থাকবে ভবিষ্যত সময়ের জন্য এক উপহার। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যা গর্বের প্রতীক হয়ে থাকবে।আমি ব্যবসায়ী দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপুল এক গতির সঞ্চার করবে এই সেতু। কাচামালের দ্রুত যোগান মানেই শিল্পের উৎপাদন তরান্বিত হওয়া সেতো আছেই কিন্তু যে কৃষক ফসল ফলায় মাঠে, তার উৎপাদিত পণ্যও এখন স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পৌঁছে যাবে ক্রেতা কিংবা ভোক্তার কাছে ফলে কৃষি-বাণিজ্য তরান্বিত হবে। যে মানুষটি রাজধানী শহরে যেতে চায় কাজের খোঁজে তার জন্য শহরটি কাছাকাছি হবে, ফলে তার বেকারত্ব ঘুচবে। কিন্তু সেতুপথ তো একদিকে ধাবিত নয়, এর সমান দুটি লেন দুই দিকে ধাবিত, অর্থাৎ রাজধানীমুখি যেমন মানুষ হতে পারবে, তেমনি রাজধানির সুবিধাগুলো পৌঁছে যাবে সেই মানুষের কাছে। উভয়পথেই একটি নতুন দিনের সূচনা হবে। ফলে, যেমনটা বলছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ যেমন যে কোনো রাজ্যে গড়তে পারে তার স্বস্তির, সম্মৃদ্ধির নিবাস, তেমনি বাংলাদেশেও মানুষগুলো তাদের ইচ্ছে মতো থাকতে পারবে সেতুর মাধ্যমে সংযুক্ত যে কোনো জেলায়, একই সুযোগ সুবিধা নিয়ে।আর কেবলতো সড়কপথই নয়, সেতুতে রেলপথও রয়েছে। ফলে দ্রুতগতির ট্রেন এখন গোটা বাংলাদেশে তার রুটগুলো তৈরি করে নিতে পারবে। এখানেও একটু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চাই। এখানেও অধিকাংশ স্টেট সড়কপথের পাশাপাশি ট্রেন লাইনেও সংযুক্ত। যা যোগাযোগের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করেই উন্নয়নে গতি দেয়। আর নিশ্চিত করে বিকেন্দ্রীকরণ। আমরা এখন স্পষ্ট করেই ধারনা করতে পারছি এক উন্নত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল যা হয়তো আগামী ৫-৭ বছরেরই চাক্ষুস করতে পারবো।এই সেতু এইসব অঞ্চলের দারিদ্র বিমোচন করবে। অর্থনীতিকে করে তুলবে অন্তর্ভূক্তিমূলক আর অংশগ্রহণমূলক। সড়ক ও রেলপথে নতুন যে নেটওয়ার্ক তৈরি হবে তাতেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এসব অঞ্চলে। নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। কমবে মানুষের যাতায়াত খরচ, পণ্য পরিবহণ খরচ ও সময়। এতে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেকে এখনই স্পষ্ট হচ্ছে, স্রেফ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর অতিরিক্ত সক্রিয়তায় আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের সার্বিক জিডিপি ২ শতাংশ বেড়ে যাবে।এই সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করলো। বিশ্বকে দেখালো যে, বাংলাদেশ পারে। বস্তুত মানুষ চাইলেই পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা আর বাংলাদেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনই এই সেতু তৈরির প্রধান ভিত। এর মধ্য দিয়েই আপাত অসম্ভব মনে হওয়া একটি কাজ সম্ভব করে তুললো বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশ সেটা করলো স্রেফ নিজস্ব অর্থায়নে।দূর প্রবাসে বসে সেই গর্বে গর্বিত আমি ও আমরা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এর মধ্যদিয়ে একজন বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আমরা এদেশেও গর্ব করতে পারবো। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে কতবড় ভুল ছিলো তার এক জাজ্বল্যমান প্রমাণ এই পদ্মাসেতু। সে কথা আমরা বলতে পারবো জনে জনে। বুক ফুলিয়ে বলতে পাবরো, আমরাও পারি। আমাদের সকলের গর্বের প্রতীক এই পদ্মাসেতু। পদ্মাসেতুকে ঘিরে আমাদের আগামী দিনের গল্পগুলো হোক কেবলই সাফল্যের আর এগিয়ে চলার। 

post
বাংলাদেশ

জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে পদ্মাসেতু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমত্ত পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন হিসাবে অভিহিত করেছেন।স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। আগামীকাল ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনকে ‘এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানাই। সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকের করা মামলার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কানাডার আদালত বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সকল দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আমরা বিশ্বব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই।’জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত- ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা।’’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটন শিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়াস্থ জাতির পিতার সমাধি সৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদী বিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।’‘পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূতিকাগার হিসেবে কাজ করবে’ বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাসমূহের সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতি বছর ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।’দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই উন্নয়নের এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবো। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’ বলে প্রধানমন্ত্রী তার বাণী শেষ করেন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে রাত পোহালেই পদ্মাসেতুর উদ্বোধন, হবে ১০ লাখ মানুষের সমাগম

রাত পোহালেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। শনিবার (২৫ জুন) স্বপ্নের এই সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বিদেশি কূটনীতিকসহ দেশ বরেণ্য সুধীজনরা উপস্থিত থাকবেন এই অনুষ্ঠানে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে।উদ্বোধন ও এই সমাবেশকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ও শিমুলিয়া ঘাটে সাজ সাজ রব। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে চারপাশ। গৌরবের সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্বপ্নের মতো সেজেছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত। সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি, এখন অপেক্ষা শুধু উদ্বোধনের।শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে একটি সুধী সমাবেশ করবেন। এরপর শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে আরেকটি ফলক উন্মোচন করে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার ফেরিঘাট এলাকায় জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। থাকবে দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। র‌্যাব, পুলিশ, সেনা সদস্য, এসএসএফসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রধানমন্ত্রীর এই সেতু উদ্বোধন ঘিরে দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। সভাস্থলে ৫০০ অস্থায়ী শৌচাগার, ভিআইপিদের জন্য আরও ২২টি শৌচাগার, সুপেয় পানির লাইন, তিনটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল, নারীদের আলাদা বসার ব্যবস্থা, প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের সভাস্থলে দূরের দর্শনার্থীদের জন্য ২৬টি এলইডি মনিটর, ৫০০ মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নদীপথে আসা মানুষের জন্য ২০টি পন্টুন তৈরি করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ করছে।পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসার জন্য অতিথিদের কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আমন্ত্রণপত্রে। অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র সঙ্গে আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং এটি হস্তান্তরযোগ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমন্ত্রণপত্রে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই সবাইকে অনুষ্ঠানস্থলে আসার জন্য বলা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে রিপোর্ট সঙ্গে করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে অতিথিদের। চাবি, চাবির রিং, কলম, মোবাইল, ছাতা, হাত ব্যাগ, ক্যামেরা, ইলেক্ট্রনিক বস্তু না নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে মাস্ক পরাসহ কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট সব প্রটোকল অনুসরণ করতে বলেছে। আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে দেওয়া স্টিকারটি গাড়ির সামনের কাচের বাম পাশে দৃশ্যমান স্থানে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে।শনিবার সকাল ৯টায় অতিথিদের অনুষ্ঠানস্থলে আসন গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর এক মিনিট পরই প্রদর্শন হবে প্রামাণ্য চিত্র। এরপর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১০টা পাঁচ মিনিটে সভাপতির বক্তব্য দেবেন। পদ্মা সেতুর থিম সং দেখানো হবে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সোয়া ১০টায় বক্তব্য দেবেন। বক্তব্য শেষে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন তিনি। পরে সেখানে মোনাজাত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাজিরা প্রান্তে এসে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। এরই মধ্যে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) সেতুর নির্মাণকাজ শেষে পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দিয়েছে।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

ইসলাম অর্থ শান্তি নয় আত্মসমার্পন

এলামী মোঃ কাউসার: সমস্ত প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যে আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন আমাদের কে একটি মুসলিম সমাজে জন্মগ্রহণ করার তৌফিক দান করেছেন। তার দরবারে আরো প্রশংসায় অবনীত হই এই জন্য যে, যিনি আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশ ও একটি স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দিয়েছেন। এই স্বাধীন ভূখণ্ডে বসবাস করে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ। যাদের মধ্যে মুসলিম প্রায় ৯০ শতাংশ। এদের মধ্যে আলেম উলামা জ্ঞানীগুণী এবং ইসলাম শব্দটির ব্যাখ্যা করার যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন তাদের সংখ্যাই বেশি। আমার মত এক অধম বান্দার দ্বারা ইসলামের ব্যাখ্যা করা সহজ বিষয় নয়। তরপরেও মহান রব্বুল আলামিন তার এই ছোট্ট গোলামের জ্ঞানের ঝুলিতে যতটুকু দিয়েছেন তা যুক্তি মাফিক ও প্রমাণসহ উপস্থাপন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ ওমা তৌফিকি ইল্লাহ বিল্লাহ।অনেকে ইসলাম শব্দের অর্থ করেন শান্তি। আমাদের মুসলিম সমাজসহ বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতরা এবং রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রাম্য পুলিশ পর্যন্ত একই অর্থ করেন। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও আলোচানা সভায় জ্ঞানী পণ্ডিতরা ইসলাম অর্থ শান্তি আখ্যায়িত করেন। যারা ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা জানেন না এবং ইসলাম সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান রাখেন না তারাই এমন ভুল অর্থ করেন। তাদের বক্তব্য হলো এটি নীরিহ গোবেচারা ধর্ম । এক গালে চড় দিলে আরেক গাল পেতে দাও, তোমরা কোর্তাটি নিয়ে গেলে জোব্বাটি দিয়ে যাও । এমন ! আসলে কি তাই? না। বরং এটি সত্যের অপলাপ। ইসলাম আরবী শব্দ যার অর্থ আত্মসমার্পন করা। আর শান্তির আরবী শব্দ সালাম। আরবী ভাষার বিখ্যাত ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিধান ইবনে মনজুর রচিত “লিসান আল আরাব” এ বলা হয়েছে ইসলাম শব্দটি ইসতিসলাম (استسلام) শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে কারো কাছে নত হওয়া আন্তসমর্পন করা। অনেকে মনে করেন সালাম ( ‍سلم ) এই তিনটি অক্ষর থেকে যেহেতু ইসলাম ও সালাম উভয় শব্দের উৎপত্তি তাই উভয়ের অর্থ একই হবে। অথচ বাস্তবে একই মূলধাতু থেকে উৎপন্য বিভিন্ন শব্দের অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমনঃ سلم থেকে উৎপন্য শব্দ সমূহ হলো- ইসলাম - اسلام - আন্তসমর্পন সালাম - سلام - ভালথাকা, শান্তি সালমা - سلما - চামড়ার প্রস্তুতি (ট্যানারী) সালিমা - سليما - বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া (স্ত্রীবাচক) সালিম - سليم - বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া (পুংবাচক) আসলাম - اسلم - শপে দেওয়া (submit) ইসতিসলামা - استسلاما - আন্তসমর্পন করা মুসলী - مسل - যাতে কোন মতদ্বন্দ্ব হয়নি (Undisputed) বিস্তারিত জানতে দেখুন সাহীব বিন আব্বাদ (الصا حب بن عباد) ( মৃত ৩৮৫ হিজরী ) রচিত আলমুহীত ফিল লোগা ( المحيط قي اللغة) ddd سلم অধ্যায় । হানাফী মাজহাবের প্রসিদ্ধ ফিকহাহ গ্রন্থে ইমাম ইবনে আবেদীন (র:) রচিত রুদদুল মুহতারী (رد المحتار علي المختار شرح تنوير الابصار ) বলা হয়েছে اعلم ان الاسلم علي وجهين: شرعي وهو بمعني الايمان , ولغوي - وهو بمعني الاستسلام والا نقياد كما في سرح العمده للنسفي - (رد المحتار6/298) অর্থাৎ জেনে রাখো ইসলামের অর্থ দুইটি। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় এটার অর্থ হচ্ছে ঈমান। আভিধানিক ও শাব্দিক অর্থে এর অর্থ হলো অন্তসমর্পন (استسلام) , এবং মান্য করা ( الا نقياد) ঠিক যেভাবে ইমাম নাসাফী আল উমদাহ এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে এসেছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া মাজমু আল ফতোয়ায়ে বলেছেন , فالاسلام يتضمن الاستسلا لله وحده (مجموع الفتاوي 3/91)  অর্থাৎ ইসলামের অর্থের মধ্যে রয়েছে এক আল্লাহ কাছে আত্মসমার্পন করা। ইসলামের শত্রুরা আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে অনেক ভুল ধারনা ঢুকিয়ে দিতে চায় । যাতে আমরা প্রকৃত ইসলাম না জানি, সেটা থেকে দূরে থাকি। তাহলে তারা আমাদের পরাজিত করে রাখতে পারবে। যার একটা জলন্ত উদাহরণ কালেমা, ইলাহ, রব এবং ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা ও ভুল আভিধানিক পারিভাষিক অর্থ। যার কারণে আমরা জাতিকে ভুল পথে ধাবিত হতে দেখছি। অনেক মুসলমান সঠিক ব্যাপারটা না জানার কারনে ইসলাম মানে শান্তি বলে থাকেন। কেন আমরা বলতে পারি না কেবল সঠিক ইসলামের ছায়া তলে আসলেই শান্তি নীহিত। ইংরেজরা যখন কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, তৎকালীন ইংরেজ গভর্নর ড. ম্যাকলিনকে মাদ্রাসার সিলেবাস তৈরির দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। এই সুযোগে তারা ইসলামের অনেক মৌলিক শব্দ যেমন, ইসলাম, ইলাহ, রব, তাওহীদ, শিরক, তাগুদ, জিহাদ ইত্যাদি পরিবর্তন করে। বাতিলের সাথে ইসলামের অনিবার্য দ্বন্দ্ব ও সংঘাতকে এড়ানোর জন্য উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ইসলামের অর্থ শান্তি করে থাকে। আমাদের ইসলাম সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞান অর্জনের শুরু হোক স্বয়ং ইসলাম শব্দের অর্থ দিয়ে। আল্লাহ আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করুন । আমীন।লেখক: এলামী মোঃ কাউসারআল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়কায়রো মিশর।

post
বাংলাদেশ

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের সময় নিউইয়র্কে হবে বিজয় উৎসব, প্রস্তুতি সভা

পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের সময় নিউইয়র্কে বিজয় উৎসবকে সর্বজনীন করার অভিপ্রায়ে ৩ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার এই কর্মসূচি বাংলাদেশের সময়ের সাথে মিলিয়ে ২৪ জুন রাতে জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন গুলশান প্যালেসের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্যে কম্যুনিটি লিডার হাজী জাফরউল্লাহকে আহবায়ক এবং আশরাফ আলী খান লিটনকে সদস্য-সচিব করে একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া। প্রস্তুতি সভায় আরো জানানো হয় যে, রাত ৯টায় শুরু হয়ে রাত ১টা পর্যন্ত চলবে এ অনুষ্ঠান। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও প্রবাসের বিশিষ্টজনেরা অতিথি হিসেবে থাকবেন। বক্তব্যের চেয়ে গত ১২ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিস্মরণীয় উন্নয়নের অভিযাত্রায় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোকে একটি ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শনকে গুরুত্ব দেয়া হয় প্রস্তুতি সভায়। এছাড়া, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, শহীদ হাসান ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সঙ্গীতে অংশ নেবেন প্রবাসের বিশিষ্ট শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের প্রচারণা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে চালানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।জ্যাকসন হাইটসে ইটজি রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে এ প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক রানা ফেরদৌস চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চৌধুরী, কম্যুনিটি লিডার আবুল বাশার ভূইয়া, ইলিয়াস খান, জাফরউল্লাহ, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, নাজিমউদ্দিন, কানু দত্ত, মো. নবী হোসেন, আলমগীর কবীর, মোর্শেদ খান, মাহমুদুল হাসান, হেদায়েতুল ইসলাম, আবু সাঈদ সিদ্দিকী, জাকির হোসেন বাচ্চু প্রমুখ।  সমাপনী বক্তব্যে আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অতীতের সকল কর্মসূচি সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বিজয় উৎসবকেও ভিন্ন এক আমেজে অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের প্রবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। কাদের মিয়া উল্লেখ করেন, এই উৎসবের সমর্থনে রয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখা, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান-প্রজন্ম ফোরাম। তারা মাঠে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে বহুজাতিক এ সমাবেশে যথাযথভাবে উদ্ভাসিত করতে। একইসাথে, এই প্রবাসেও দেশ-বিরোধী সকল অপতৎপরতা রুখে দিতেও তারা সংকল্পবদ্ধ।

post
যুক্তরাষ্ট্র

এনওয়াইপিডিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসার: গর্ব ও সাফল্যের নতুন অধ্যায়

নূর এলাহী মিনা, নিউইয়র্কযতদুর জানা যায় সংস্থা হিসেবে প্রথম পুলিশি ব্যবস্থার সুত্রপাত হয় খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে, মিশরীয় সভ্যতায়। ঠিক সমসাময়িক সময়ে ইউরোপীয় সভ্যতাসমূহেও কোনো না কোনো ধারায় পুলিশি ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। নরম্যানদের ইংল্যান্ড বিজয়ের আগে ১০৬৬ সাল থেকে ইংল্যান্ডে সূচনা হয়েছিল অপেক্ষাকৃত পরিশীলিত এক পুলিশি ব্যবস্থা। এটি ছিল সম্প্রদায়ভিত্তিক। স্যাক্সন ফ্র্যাঙ্কপ্লেজ (অ্যাংলো-স্যাক্সন সিস্টেম) এর আওতায় পরিচালিত এই ব্যবস্থায় সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ একে অপরের সদাচরণের জন্য দায়ী থাকতেন এবং তাদের আরও দায় ছিল একত্রিতভাবে সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখার। আরও পরে ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ রবার্ট পিল, আধুনিক পুলিশিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে যার কথা বলা হয়ে থাকে, ‘গণতান্ত্রিক পুলিশিংয়ের নীতি’ চালু করেন। পুলিশ শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ polis থেকে, যার অর্থ "শহর"।এসব তথ্যে ধারণা করা যায়, সভ্যতার সূচনালগ্নে যে সকল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, পুলিশ তার মধ্যে অন্যতম। যুগে যুগে কালে কালে সকল তর্ক-বিতর্কের বাইরে এসে একটিই প্রতিষ্ঠিত সত্য পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য, তা হলো ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’। ‘পরিক্ষীত বন্ধু’।২০১৭ সালের কথা। তখন কোনো এক কারণে আমার থার্ড গ্রেডার কন্যাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রাস্তায় বিপদে পড়লে প্রথমে কার কাছে সাহায্য চাইবে? তার সহজ উত্তর ছিল ‘পুলিশ’। কারন ক্লাস টিচার এটি তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন। সকালে বাচ্চাদেরকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় দেখি প্রতিটি ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করেন স্কুল পুলিশ সদস্যরা। পরম যত্নে ও নিরাপত্তার সাথে বাচ্চাদের স্কুল অব্দি পৌঁছে দেন তাঁরা। স্কুল চলাকালে ফ্রন্ট ডেস্কেও দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ সদস্যরা। ‘৯১১’ নিউইয়র্কের বিশ্বস্ত তিনটি ডিজিট। যার ওপর ভরসা করে বাঁচেন এই নগরবাসী। কল হলে মূহুর্তের মধ্যে পৌঁছে যাবে পুলিশ আপনার ঠিকানায়, পরের সকল দায়িত্ব তাঁদের। এমন হাজারো মানবীয় উদাহরণ রয়েছে পুলিশকে ঘিরে, সারা পৃথিবীতেই।আমার এই আলোচনা অবশ্য সকল পুলিশ কিংবা পুলিশ বাহিনী নিয়ে নয়। বরং সুনির্দিষ্ট করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)’-তে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসারদের গৌরবগাঁথা নিয়ে। এটি আমেরিকার মতো দেশে বাংলাদেশিদের একটি বড় অর্জন বলেই আমি বোধ করি। ডেটলাইন ৩১ মে ২০২২, সন্ধ্যা। লোয়ার ম্যানহাটানের ওয়ান পুলিশ প্লাজা। এটি এনওয়াইপিডি’র সদরদপ্তর। এর সুপরিসর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “এশিয়ান হেরিটেজ সেলিব্রেশন ২০২২”। অনুষ্ঠানটিতে আমার উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। এনওয়াইপিডি’র ভ্রাতৃবৎ (Fraternal) সংস্থাসমূহের এশিয়ান অংশ সেদিন প্রদর্শণ করেছিল তাদের সম্মৃদ্ধ ঐতিহ্যের নানা দিক। সাথে ছিল আবহমান সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ ‘খাবার’। একে একে মঞ্চে এলো এশিয়ান জাদে (Jade), কোরিয়ান আমেরিকান অফিসার্স এসোসিয়েশন, দেশি সোসাইটি, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান অফিসার্স সোসাইটি, পাকিস্তানি অ্যামেরিকান ল' এনফোর্সমেন্ট সোসাইটি, ও শিখ (Sikh) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। নিউইয়র্কের খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক সংগঠন “বাপা” গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করল বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে। হল জুড়ে ভেসে এলো রবীন্দ্র সঙ্গীতের মূর্ছনা... “চেনা শোনার কোন বাইরে..”; আর হাল সময়ের দুর্দান্ত জনপ্রিয় “চলো বাংলাদেশ, চলো বিজয়ের টানে চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উঠানে চলো বাংলাদেশ..”। গানের সাথে মনকাড়া নৃত্য।একটি টেবিলে বসে আছি। আশেপাশে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ। খাবারের প্লেটে বিরিয়ানি, বাংলাদেশি মিষ্টি, মুরগির কোর্মা, ও বিভিন্ন দেশি ফিঙ্গার ফুড। এছাড়া রয়েছে ভারতীয়, কোরীয়সহ অন্যান্য আমেরিকান-এশিয়ান সংমিশ্রণের খাবার। পাশের সাংবাদিক বন্ধুটি বলে উঠলেন, “ভাবা যায়, এনওয়াইপিডি হেডকোয়ার্টারে বসে বাঙালি খাবার খাচ্ছি!”। মৃদ্যু হেসে বললাম, যা ভাবা যেতনা, তা এখন বাস্তবতা। সুদীর্ঘ পথচলায় এনওয়াইপিডির বাঙালি অফিসার ভাইয়েরা এটি অর্জন করেছেন, আমরা আজ তার স্বাক্ষী। দৃঢ়তার সাথে বললাম, হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশি অফিসারদের মধ্য থেকে কেউ চিফ অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট হবেন, পুলিশ কমিশনার হবেন।বর্তমানে ১৬০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি অফিসার এনওয়াইপিডির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৫৩২ জন ইউনিফর্মড অফিসার এবং ১১০০ সিভিলিয়ান। রয়েছেন ৪ জন ক্যাপ্টেন, ১ জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার, ১০ জন লেফটেন্যান্ট, ৪০ সার্জেন্ট ও ১২ জন ডিটেক্টিভ। সিভিলিয়ান (আন-আর্মড) পুলিশ সদস্যরা স্কুল সেফটি এজেন্ট, ট্রাফিক এজেন্ট, স্কুল ক্রসসিং গার্ড হিসাবে কর্মরত।এখানে পুলিশ বাহিনীর পদক্রমের প্রাথমিক ধাপে যোগ দিতে হয় ক্যাডেট প্রবেশনারি পুলিশ অফিসার হিসেবে। প্রশিক্ষণ ও প্রবেশনারি পেরিয়ড শেষে পুলিশ অফিসার হিসবে পদায়িত হন। এরপর সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট, লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন, ক্যাপ্টেন থেকে ডেপুটি ইন্সপেক্টর, ডেপুটি ইন্সপেক্টর থেকে ডেপুটি চিফ এবং ডেপুটি চিফ থেকে অ্যাসিসট্যান্ট চিফ, সেপদ থেকে চিফ হয়ে হন চিফ অব দ্য ডিপার্টমেন্ট এবং সবশেষে সর্বোচ্চ পদ পুলিশ কমিশনার। এছাড়া ডিটেকটিভদের জন্য রয়েছে সার্জেন্ট থেকে ক্যাপ্টন পর্যন্ত আলাদা পদবিন্যাস। অফিসার থেকে ক্যাপ্টেন পর্যন্ত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। ক্যাপ্টেন থেকে শীর্ষপদ পর্যন্ত আর কোনো পরীক্ষা নেই। দক্ষতা ও যোগ্যতার আলোকে সিটি মেয়রের সুপারিশে এসকল কর্মকর্তা চিফ অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট এমনকি পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত হতে পারেন। তবে বলে রাখা ভালো চিফ অব দ্য ডিপার্টমেন্ট হচ্ছেন ইউনিফর্মধারী পুলিশের সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ পদ, এটি চার তারকা মর্যাদার। পুলিশ বাহিনীর অভিভাবক হিসেবে সিটি মেয়র পুলিশ কমিশনার নিয়োগ দেন। তিনি যে কোনো ব্যক্তি হতে পারেন, তবে অব্যশই আইন-শৃঙ্খলা বা পুলিশিং সংক্রান্ত পড়াশোনা বা জ্ঞানধারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটি পাঁচ তারকা মর্যাদার। এছাড়া ডেপুটি কমিশনার বা ফার্স্ট ডেপুটি কমিশনার পদে যে কোনো কাউকে (প্রযোজ্য যোগ্যতাসম্পন্ন) নিয়োগ দিতে পারেন মেয়র। ফার্স্ট ডেপুটি কমিশনার পদটি সিভিলিয়ান পদ হলেও তা চার-তারকা মর্যাদার। বর্তমানে একজন সাংবাদিক জন মিলার এনওয়াইপিডি’র ডেপুটি কমিশনার এর দায়িত্ব পালন করছেন।যাহোক আবার ফিরে আসি বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সফল্যগাঁথা নিয়ে। এনওয়াইপিডির ৬৯ প্রিসিঙ্কট'র কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন খন্দকার আব্দুল্লাহ। প্রথম বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা স্কোয়াডে লেফট্যানেন্ট কমান্ডার পদে দায়িত্ব পালন করছেন শামসুল হক। এছাড়া ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী, ক্যাপ্টেন মিলাদ খান, ক্যাপ্টেন পারুল আহমেদ নগরীর বিভিন্ন ডিভিশনে নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোহাম্মদ রহমান ও আনোয়ারুল কাদির। সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস এর এক্সিকিউটিভ ডিটেইলে রয়েছেন সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী ও সার্জেন্ট হুমায়ুন কবীর।১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এনওয়াইপিডি যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম পুলিশি প্রতিষ্ঠান, যার রয়েছে ৩৬ হাজার অফিসার এবং ১৯ হাজার সিভিলিয়ান সদস্য। প্রত্যাশা, হাডসন ও ইস্ট নদীর প্রবাহের মতো অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবেন এনওয়াইপিডিতে কর্মরত বাংলাদেশি অফিসাররা। কোন একদিন হয়তো নির্ঘুম এই নিউইয়র্ক নগরীর জল-স্থল-অন্তরীক্ষের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধানের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন কোনো এক বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসার; যাঁর অবয়বে থাকবে বজ্রকঠিন দৃঢ়তা, অসম সাহস- কারণ তার পূর্বপুরুষগণ যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেটি অদম্য এক জাতিরাষ্ট্র, যেটি অদম্য এক দেশ -বাংলাদেশ; যার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান।আবার এমনই উষ্ণ বা শীত শীত কোন সন্ধ্যায় আলোঝলমল নিউইয়র্কের মঞ্চ কাঁপিয়ে সমস্বরে গেয়ে উঠবে বাংলাদেশি কোনো দল .. “চলো বাংলাদেশ, চলো বিজয়ের টানে চলো বাংলাদেশ, চলো বিশ্ব উঠানে চলো বাংলাদেশ..”। কৃতজ্ঞতা জামিল সারোয়ারের প্রতি। খ্যাতনামা ডিটেকটিভ, এনওয়াইপিডি। তিনি লেখাটিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।

post
এনআরবি সাফল্য

নিউইয়র্কের খলিল বিরিয়ানি ও মেধাবী এক পাচকের গল্প

মাহমুদ মেননকাটলারির ঝনঝন শব্দ, রান্নার কড়াইয়ে তেল-পেয়াজের ভিজভিজ আওয়াজ কিংবা আঁচওঠা উনুনে হঠাৎ ঝলসে ওঠা আগুন এসবই ভালো লাগে খলিলের। দিনে রান্না ঘরে কাটে তার ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। আর তার হাতের যাদুতে সুস্বাদু হয়ে তৈরি হয় নানারকম খাবার। পুরো নাম মো. খলিলুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ভাগ্যের সন্ধানে ফেরা মানুষটি তার ভাগ্যের দেখা পেয়েছেন এই রান্নার চুলোয়, তেল-পেয়াজ-আলু-পোস্তয় আর থালা-চামচের সমারোহে। বেছে নিয়েছেন পাচকের জীবন। ইংরেজিতে আমরা বলি শেফ। সেটাই এখন তার সোনালী জীবন। বললেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এসেছিলেন, প্রতিদিন তার জন্য খাবার পাঠিয়েছিলাম, শুনেছি তিনি মজা করে খেয়েছেন।" কেবল কি শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর, মেয়র, অ্যাসেম্বলিম্যান, কাউন্সিলম্যানরা চেখে দেখেছেন খলিলের রান্না। প্রশংসা করেছেন। দিয়েছেন সাইটেশন, সনদ। খলিলুর রহমানের বিরিয়ানি হাউজে এসে তাকে পাশে নিয়ে ছবি তুলেছেন। সেসব ছবি বড় করে বাঁধাই করে বিরিয়ানি হাউসে সাজিয়ে রেখেছেন খলিল। তার দোকানের দেয়ালগুলো এখন সনদ, শংসাপত্রে ঠাসা। এটাই স্বার্থকতা, আর কীই চাই! বললেন খলিলুর রহমান। সত্যিই কি আর চাওয়ার থাকতে পারে একজন বিরিয়ানী ব্যবসায়ীর। যখন তার দেয়ালে শোভা পায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইভটাইম অ্যাচিভমেন্ট সার্টিফিকেট। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বাক্ষরিত। এসব খলিলকে গর্বিত করে। তবে তিনি আজও সবচেয়ে বেশি গর্বিত হন, যখন তার রান্না করা খাবার খেয়ে কেউ বলেন, বেশ মজা হয়েছে। খাবারটি তার জন্য উপভোগ্য ছিলো। প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বাক্ষরিত এই সনদ পাওয়ার অনেক আগেই খলিলুর রহমান বানিয়েছিলেন এক স্পেশাল বিরিয়ানি। যার নাম দিয়েছিলেন বাইডেন বিরিয়ানি। সেই নামের সাথে এই সনদের কোনো যোগসাজশ আছে কি? সে প্রশ্নে এক গাল হেসে খলিলুর বললেন, একেবারেই নেই। যেদিন প্রথম আমি বিরিয়ানির বিশেষ পদটি, সম্পূর্ণ নিজস্ব রেসিপিতে রান্না করি সেদিনটি ছিলো প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল শপথ নেওয়ার দিন। সকলে তাকে বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কেউ ফুল দিয়ে, কেউ শুভেচ্ছাবাণি লিখে। আমি তার জন্য একটি নিজস্ব রেসিপি বানিয়ে বিরিয়াণি রান্না করে সকলকে খাওয়ালাম। সেটাই ছিলো আমার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রতি শুভেচ্ছা। কাজটি আমি করেছি স্রেফ ভালোবাসা থেকে। এই ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক খলিলুর রহমান গড়েছেন তার তৈরি খাবারের খদ্দেরদের সাথে। তিনি বলেন, মূল চিন্তাটি থাকে খদ্দের আমার তৈরি খাবার খেয়ে তার স্বাদ উপভোগ করতে পারলেন কিনা। তবে তেল-মসলায় জবজবে করে খাবার রান্না করা আমার কর্ম নয়। আমি চাই খাবারটি সুস্বাদু হবে ঠিকই তবে তা যেনো হয় স্বাস্থ্যকর। সে কারণে মসলার বাহুল্য যেমন আমার খাবারে থাকে না, তেমনি থাকে না তেল-ঘিয়ের মাখামাখি। এ জন্য যথেষ্ট মেধা খাটাতে হয়, পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়, আর সর্বোপরি রাখতে হয় সর্বোচ্চ মনোযোগ। সে কারণেই আমরা খাদ্যপ্রেমি মানুষগুলোকে সেই খাবারই দিতে পারছি যা তাদের জন্য হয় স্বাস্থ্যকর। এটাই আমার খদ্দেরের প্রতি একমাত্র ভালোবাসা। কথাটি আরও গভীর উপলব্দির সাথেই উচ্চারণ করলেন মো. খলিলুর রহমান। তিনি বললেন, আমাদের দোকানে কেবল বয়ষ্করাই খেতে আসেন, তা নয়। তারা সাথে করে নিয়ে আসেন তাদের সন্তানদেরও। যারা এ দেশের নাগরিক। এদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিতেও বড় হচ্ছে। এদেশে রয়েছে তাদের অপার সম্ভাবনা। আমার তৈরি খাবার মজা করে খায় নতুন প্রজন্মের এই ছেলে-মেয়েরাও। তাদের সুস্বাস্থ্যের দিকটি আমাদের চূড়ান্ত বিবেচনায় রাখতে হবে। সে কারণে এই খাবার রান্নাকে আমি কোনোভাবেই স্রেফ ব্যবসা হিসেবে দেখি না। আমি এটাকে সেবা হিসেবে দেখি, সর্বোপরি দেখি দায়িত্ব হিসেবে, বলছিলেন খলিলুর রহমান। খলিলুর রহমানের সঙ্গে আরও কথা হলো নানা বিষয়ে তবে সেগুলোর আগে আসুন আমরা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে খলিল বিরিয়ানির পসরা কতটুকু বিস্তৃত তা দেখে আসি। এটা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস। ১৪৫৭, ইউনিয়ন পোর্ট রোড এটাই খলিলুর রহমানের মালিকানাধীন খলিল'স ফুডের ঠিকানা। এর আওতায় রয়েছে চারটি পৃথক প্রতিষ্ঠান - খলিল'স বিরিয়ানি হাউস- খলিল হালাল চায়নিজ- খলিল পিজা অ্যান্ড গ্রিল- খলিল সুপার মার্কেটবড় মার্কেটে বড় বড় চারটি দোকান। তবে খলিল বিরিয়ানি হাউসের মূল যে দোকানটি সেটি সেটি অপেক্ষাকৃত ছোট। ঠিক সড়কের উল্টো দিকে। যেখান থেকে খলিলুর রহমানের যাত্রা শুরু। এই দোকানটি এখনো তার সবচেয়ে প্রিয়। সেখানে কাউন্টার থেকে কথা বলছিলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। বলছিলেন তার স্বপ্নপূরণের কাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এসে আরও অনেকের মতো তিনিও একসময়ে অডজব করেছেন। তবে হোটেলেই কাজ বেশি করেছেন। ডিশ ক্লিনিংয়ের কাজ দিয়েই শুরু হয় এই ঢাবি স্নাতকোত্তরের। তবে তখন থেকেই মনে তার দানা বাঁধতে থাকে স্বপ্ন। একবার ভেবেছিলেন আইটিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে, আরও অনেকের মতো সে খাতেই ভাগ্য গড়বেন। কিন্তু সে চিন্তা খুব বেশি দিন কাজ করেনি। বরং মনে ইচ্ছা পোষণ করতে থাকেন একসময় শেফ হওয়ার। সেই চিন্তাটিকে কেন্দ্রে রেখেই তিনি শিখে নেন কালিনারি... অর্থাৎ রান্নার প্রশিক্ষণ ও শিক্ষালব্দ জ্ঞান। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নিয়েই, নিজ দেশের তথা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মানুষের প্রিয় খাবার বিরিয়ানি তৈরি ও বিক্রির উদ্যোগ নেন প্রথম। তাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় খলিল'স বিরিয়ানি হাউস। নিজের দীর্ঘ অড জব থেকে অর্জিত আয়, আর তা থেকে সঞ্চিত অর্থে মাত্র ৭০ হাজার ডলার খরচে কিনে নেন ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ছোট্ট দোকানটি। সেখানেই রান্না শুরু করেন বিরিয়ানি। সেটা ২০১৭ সাল। এরপরের গল্প কেবলই এগিয়ে চলার। সেই ৭০ হাজারের পূজি লগ্নি করে আজ পাঁচ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসার মালিক এই খলিলুর রহমান। একাগ্রতা আর কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাকে সাফল্য দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদটি তিনি দিতে চান তার তৈরি খাবারের খদ্দেরদের। খলিল বলেন, গ্রাহকই সবচেয়ে বড় কথা। আমি সেরা খাবার তৈরি করলাম, কিন্তু কেউ খেতে এলো না, তাতে আমার খাবার, তা যতই সেরা হোক, বিক্রি হবে না। তেমনি আবার গ্রাহক এলেন, খেলেন কিন্তু আমার খাবার মানসম্মত ছিলো না, তাহলে গ্রাহক চলে যাবেন। আর সর্বোপরি গ্রাহক খেলেন কিন্তু তৃপ্তি পেলেন না, তাতে ব্যবসা টিকবে না। সাথে রয়েছে একটি দামের প্রসঙ্গও। দাম যদি অনেক হয়, তা যদি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় তাহলে সে খাবারও খুব বেশি দিন কেউ খেতে আসবেন না। সুতরাং খাদ্যপ্রেমি মানুষের মুখের স্বাদ, পকেটের সামর্থ আর খাবারের সাধ এই তিনের সমন্বয় ঘটাতে তিনি চেষ্টা করেন। তাতেই হয়তো এইটুকু সাফল্য এসেছে। কেবল বিরিয়ানি নাম হলেও খলিলুর রহমান তার ব্যবসা বিস্তৃত করেছেন চায়নিজ ফুড, পিজা অ্যান্ড গ্রিলেও। আর নান, রুটি, পরোটা- মাংস এগুলোতো রয়েছেই। নতুন প্রজন্ম পিজা খেতে পছন্দ করে তাদের কথা মাথায় রেখে পিজা তৈরি শুরু করেন। এবং বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বললেন, তার তৈরি পিজায় স্বাদের শতভাগ গ্যারান্টি রয়েছে এবং ব্র্যান্ডেড সব পিজার চেয়ে স্বাদে-গুনে কম কিছু নয়। তেমনি তার তৈরি চায়নিজ খাবার, ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন, স্যুপ, ভেজিটেবল, চিকেন সিজলিং কিংবা বিফ চিলিজ এসবও বেশ সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। এত বড় ব্যবসা এক হাতে সামলান। তবে কর্মচারি ও সহকর্মীর সংখ্যা এখন শতাধিক। তার যে সুপার মার্কেট রয়েছে তাতে বিক্রি হয় মাছ-মাংস শাক-সব্জি। খলিল বলেন, তাজা তাজা খাদ্যপণ্য বিক্রির সুবাদে তার সুপারমার্কেটও এখন বেশ জমে উঠেছে। খলিল জানান, এই সুপারমার্কেটে কখনো বাঁসি গরুর মাংস, চিকেন বিক্রি হয় না। বললেন, সুপার মার্কেটে যে মাংস তোলা হয়, তার একটি বড় অংশই যায় তার প্রতিষ্ঠিত বিরিয়ানি হাউজ ও অন্য দোকানগুলোয়। আর বাকিটা দিনে দিনে খদ্দেররা কিনে নিয়ে যান। এতে প্রতিদিনই নতুন মাংস ওঠে। দিনশেষে বিক্রি হয়ে যায়। রান্না ঘরে খলিলকে ব্যস্ত দেখে সেখানে দাঁড়িয়েই কথা হচ্ছিলো। দক্ষ, শক্ত হাতে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ওলট-পালট করছিলেন কড়াই ভর্তি চওমিন ও ফ্রায়েড রাইস। বললেন, এগুলো করতেই তার সবচেয়ে ভালো লাগে। তাকে এক সঙ্গে তদারকি করতে হয়, ক্যাশ-কাউন্টার সামলাতে হয়। তবে এসবে এখন সিদ্ধহস্ত এক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের স্নাতকোত্তর এই খলিলুর রহমান। কথায় কথায় চলে গেলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। বললেন, বিশ্ববিদ্যলয় জীবনে একবার বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছিলাম গরুর মাংস রান্না করে খাওয়াবো বলে। তারা এলো কিন্তু আমার রান্নায় এতো লবন হয়েছিলো যে খাওয়া যাচ্ছিলো না। এতে আমার রোখ চেপেছিলো। এরপর আবারও মাংস রান্না করে বন্ধুদের দাওয়াত করলাম। তারা পেটপুরে চেটেপুটে খেলো। এই চেটেপুটে খাওয়া কাউকে খেতে দেখলে বেশ আনন্দ লাগে খলিলুর রহমানের। বললেন, খাবার স্বাদ হলেই খাদ্যপ্রেমিরা চেটেপুটে খান। আর সেটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। খলিল ফুডের চারটি দোকানের মধ্যে তিনটিই রেস্টুরেন্ট। এগুলো খাদ্য তালিকায় রয়েছে শতেক পদ। তবে খলিলের বিরিয়ানিটাই সকলের পছন্দ। খলিলের কাচ্চি বিরিয়ানি, গোট বিরিয়ানি, ল্যাম্ব বিরিয়ানি, বিফ বিরিয়ানি, ভেজিটেবল বিরিয়ানি এসবতো রয়েছেই, সাথে নানা পদের মাছ, ভর্তা-ভাত, রুটি সব্জি, মাংস রেজালা, ভাজাভুজি কি নেই খলিলের দোকানে। সবশেষ যুক্ত হয়েছে পিজা। তার সঙ্গে দই-মিষ্টিসহ আরও হরেক খাবার, হরেক পদ। গ্রাহকরা খলিলুর রহমানের চোকানে এলে কিছু না কিছু সেরা পছন্দের খাবার পেয়েই যান। তৃপ্তি করে খান। আর বলেন- বেজায় ভালো। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.