post
বাংলাদেশ

গীতিকার, সাংবাদিক কে জি মোস্তফা আর নেই

গীতিকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট কে জি মোস্তফা আর নেই। রোববার (৮ মে) রাত ৮টার দিকে আজিমপুরে নিজ বাসায় অসুস্থবোধ করলে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার (৯ মে) বাদ জোহর কে জি মোস্তফার মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেওয়া হবে। সেখানে তার জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হবে।কে জি মোস্তফার জন্ম ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষানবিশ হিসেবে তার হাতেখড়ি দৈনিক ইত্তেহাদে, ১৯৫৮ সালে। ওই বছরই ‘দৈনিক মজলুম’-এ সহ-সম্পাদক পদে নিয়োগ পান। পত্রিকাটি বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বহাল ছিলেন।দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৬৮ সালে ফের সাংবাদিকতা শুরু করে সাপ্তাহিক জনতায়। ১৯৭০ সালে সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা কফিলউদ্দীন চৌধুরীর প্রেস সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। সে সময় তিনি সরকারি চাকরি হিসেবে প্রথম শ্রেণির রেডিও সার্ভিসের জন্যও মনোনীত হন। তবে মুক্তিযুদ্ধের কারণে সে চাকরিতে যোগ দেননি তিনি।স্বাধীনতার পর কে জি মোস্তফা প্রথমে ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও পরে ‘দৈনিক স্বদেশ’ পত্রিকায় প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ‘দৈনিক জনপদে’ কাজ করেন কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে। ওই সময় ‘নূপুর’ নামে একটি বিনোদন মাসিকও সম্পাদনা করতেন।১৯৭৬ সালে বিলুপ্ত সংবাদপত্রের একজন সাংবাদিক হিসেবে কে জি মোস্তফা বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত হন এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরে সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে সম্পাদক, পরে সিনিয়র সম্পাদক পদে উন্নীত হন। অবসর নেন ১৯৯৬ সালে।চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর থেকে প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা ‘নবারুণ’, সাহিত্য মাসিক ‘পূর্বাচল’, ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সংবাদ’ এবং সবশেষ ‘সচিত্র বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন কে জি মোস্তফা। ওই সময় কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশ স্কাউটসের মুখপত্র ‘অগ্রদূত’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন।গুণী এ মানুষটি অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা। বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী এবং জনপ্রিয় দুই গান ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে’ এবং ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন’-এর গীতিকার তিনি। প্রথম গানটি এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ এবং দ্বিতীয় গানটি অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি গানেরই সুর করেছেন রবিন ঘোষ। প্রথম গানটি গেয়েছেন তালাত মাহমুদ। দ্বিতীয়টি গেয়েছেন মাহমুদুন্নবী।

post
বিনোদন

ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন মুখরিত ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে

লাবলু আনসার, নিউইয়র্ক থেকে: জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে প্রকম্পিত হলো বিশ্বখ্যাত এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন। হাজার দশেক দর্শক-শ্রোতার সরব উপস্থিতিতে ৬ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ‘গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্ট’ ঘিরে ঘিরে বহুজাতিক এক সমাবেশে ফুটিয়ে তোলা হয় অদম্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে।একাত্তরের ১ আগস্ট এই মাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় শরনার্থীগণের সাহাযার্থে এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত সুসংহত করতে। প্রায় ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ কনসার্টের আয়োজক ছিলেন সাবেক বিটল্‌স সঙ্গীতদলের লিড গিটারবাদক জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতারবাদক রবিশঙ্কর। বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, জর্জ হ্যারিসন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল, ব্যাড ফিঙ্গার এবং রিঙ্গো রকস্টারের মতো দুনিয়াবিখ্যাত তারকারা তাতে অংশ নেন। সেই ঐতিহাসিক কনসার্টের ৫০তম বার্ষিকীতে এ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চললেও নানাবিধ কারণে তা এক বছর বিলম্বে অনুষ্ঠিত হয়। এ উদ্যোক্তা হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।বাংলাদেশের চিরকুটের শারমিন সুলতানা সুমি তার ব্যান্ডের অসাধারণ জনপ্রিয় ৬টি গানে মাতোয়ারা করেন বিশাল এই সমাগমকে। গানের ফাঁকে বাংলাদেশকেও দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছেন সুমি। তার জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ২০ মিনিট। এজন্যে তিনি কোনো গানই পুরোপুরি পরিবেশনে সক্ষম হননি। এক পর্যায়ে এতবড় আয়োজনে তৃপ্তির সাথে গান গাইতে না পারার জন্যে নিকট ভবিষ্যতে আবারও গাইবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। সুমির সাথে যন্ত্র সঙ্গীতে ছিলেন ইমন চৌধুরী ও জাহিদ নিরব।রাত ৮টায় শুরু হবার কথা থাকলেও মিনিট বিশেক বিলম্বে তা শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মুজাম্মেলন হক, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান, সংসদ সদস্য অপরাজিত হক এবং সংসদ সদস্য নুরুল আমিন জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। এ পর্বে নেতৃত্ব দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী কাদেরি কিবরিয়া। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেন। ভিনদেশিরাও গভীর শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে বাঙালির সাথে কণ্ঠ মেলান।এরপর জার্মানির ব্যান্ড ‘স্কোরপিয়ন্স’ মঞ্চ সাজাতে ৩৫ মিনিটের অধিক সময় ক্ষেপণ করেছে। এই সময়কে কাজে লাগাতে ন্যূনতম উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি বলে দর্শকেরা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। কারণ, প্রতিটি মিনিটের মূল্য ছিল হাজার ডলারের বেশি। সে সময় সজীব ওয়াজেদ জয়কে বক্তব্যের সুযোগ দিলে তিনি নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার পথে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কীভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে তা বলতে পারতেন।উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি ছিলেন আমেরিকান। স্কোরপিয়ন্স’র শিল্পীরা মঞ্চে আসার পর নেচে উঠে গোটা মিলনায়তন। রকস্টাররা সকলকে তাক লাগিয়ে এক ঘণ্টারও অধিক সময় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। শিল্পীর মধ্যে ছিলেন ক্লাউস মেইন, রুডল্ফ শেঙ্কার, মিক্কে ডি, মাইকেল শেঙ্কার, ম্যাথিয়াস জাবস।শুরুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়ার উন্নয়নচিত্র উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক সম্পর্কিত ঐতিহাসিক ভাষণের অংশবিশেষ প্রচার করা হয়। তবে এ সময় স্ক্রিনে ইংরেজি অনুবাদ থাকলে খুব ভালো হতো বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন। বিএনপির সমর্থকরাও ছিলেন দর্শক-গ্যালারিতে। তারাও উপভোগ করেছেন পুরো অনুষ্ঠান।যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরাও নিমন্ত্রিত ছিলেন এই আয়োজনে। ভার্জিনিয়াস্থ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ ও তার স্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ এতে অংশ নেন। আবুবকর হানিপ বলেন, ‘ঐতিহাসিক সেই কনসার্ট স্মরণে এ আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি আয়োজন বেশ বার্তাবহ বলে আমি মনে করি। বহুজাতিক এই সমাজে বাংলাদেশকে আরও বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপনে ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আশা করছি।’এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাদেরকে সম্মান জানালে অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট আরও গ্রহণযোগ্য পেত বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। কারণ, একাত্তরের সেই কনসার্টের মতো এবারের কনসার্টে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো গানের ব্যবস্থা যেমন ছিল না, একইভাবে পন্ডিত রবিশঙ্কর কিংবা জর্জ হ্যারিসনের স্বজনেরাও আমন্ত্রিত ছিলেন না। অনুষ্ঠান-গ্যালারিতে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে যে, ৫০ বছর আগে যে ঐতিহাসিক কনসার্ট আমরা মিস করেছি, যে কনসার্ট সম্পর্কে শুনেছি, ইতিহাসে পড়ছি, সেই কনসার্টের স্মরণে আজকের এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে নিজেকে গৌরবান্বিতবোধ করছি।’উল্লেখ্য, ২০ হাজার আসনবিশিষ্ট এই মিলনায়তনের অধিকাংশই পূর্ণ হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানের প্রচারণা নিয়ে রহস্যজনক নিরবতা-গোপনীয়তার ব্যাপারটি না ঘটলে পুরো মিলনায়তন ভরে যেত-এতে কোনো সন্দেহ নেই-এমন অভিমত পোষণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ** নিউইয়র্কে 'গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্টে মাতলেন প্রবাসীরা

post
বাংলাদেশ

ভিডিওবার্তায় ঈদের শুভেচ্ছা শেখ হাসিনার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর আবার এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঈদ-উল-ফিতর মানেই খুশি ও আনন্দ, আসুন আমরা সবাই মিলে ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ উপভোগ ও ভাগাভাগি করি।প্রধানমন্ত্রী ঈদ-উল-ফিতরের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।‘ভাল থাকুন এবং নিরাপদ থাকুন, ঈদ মোবারক’ বলে বার্তাটি শেষ করেন।  বাংলাদেশের আকাশে রবিবার (১ মে) ১৪৪৩ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় মঙ্গলবার (৩ মে) দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (আইএফ) সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমিনকে উদ্ধৃত করে বাসসের খবরে বলা হয় দেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৩ হিজরির শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সোমবার উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ইদ-উল ফিতর। 

post
বাংলাদেশ

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর নেই

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহ রাজিউন)। রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা, সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ১২টায় তাঁর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহিদ মিনারে নেয়া হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দাফনের জন্য তাঁর মরদেহ সিলেটে নেওয়া হবে। আবুল মাল আবদুল মুহিত মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী ও বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ। মা-বাবা দুইজনই তৎকালীন সিলেট জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ছোট ভাই। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

post
এনআরবি লাইফ

সদকাতুল ফিতরের পরিচয় ও আদায় পদ্ধতি

পবিত্র রমযান মাসে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। সদকাতুল ফিতর একটি অন্যতম ইবাদত। ঈদের দিন গরিবদের খাবারের জন্য শরীয়ত প্রদত্ত একটি ব্যবস্থাপত্র এই ফিতরা। সদকাতুল ফিতর সম্পর্কে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা এ দিনটিতে তাদেরকে অন্যের কাছে চাওয়া থেকে বিরত রাখো’। যাকাতের মতো এটিও দরিদ্র মানুষের ওপর মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত আমলী সহযোগিতা। ইসলামী শরীয়তের হুকুম মোতাবেক ঈদের দিনের ফজরের নামাযের আগে পর্যন্ত যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তারও ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।ফিতরা কী?ফিতরা বা ফেতরা আরবী শব্দ, যা ইসলামে যাকাতুল ফিতর (ফিতরের যাকাত) বা সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরের সদকা) নামে পরিচিত। ফিতর বা ফাতুর বলতে খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয়, যা দ্বারা রোযাদাররা রোযা ভঙ্গ করেন। ইসলামী শরীয়তের হুকুম মোতাবেক এটি একটি ওয়াজিব আমল। ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় পর্যন্ত জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী ছাড়া নেসাব পরিমাণ বা অন্য কোনো পরিমাণ সম্পদের মালিকদের পক্ষ থেকে গরিবদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের একটি অর্থ প্রদান করার বিশেষ আয়োজনকে সদকাতুল ফিতর বলা হয়। জনপ্রতি আধা সা অর্থাৎ এক সের চৌদ্দ ছটাক বা পৌনে দুই সের গম বা সমপরিমাণ গমের মূল্য ফিতরা হিসেবে প্রদান করতে হবে। ফিতরার পরিমাণনবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মোট চারটি পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা হত, খেজুর, কিশমিশ, জব ও পনির। হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রাযি.) বলেন, অর্থ : আমাদের সময় ঈদের দিন এক সা খাদ্য দ্বারা সদকা আদায় করতাম। আর তখন আমাদের খাদ্য ছিল জব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর।  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে গমের ভালো ফলন ছিল না বিধায় আলোচিত চারটি পণ্য দ্বারাই ফিতরা আদায় করা হত। এরপর হযরত মুয়াবিয়ার (রাযি.) যুগে গমের ফলন বেড়ে যাওয়ায় গমকে আলোচিত চারটি পণ্যের সঙ্গে সংযোজন করা হয়। আর তখন গমের দাম ছিল বাকি চারটি পণ্যের তুলনায় বেশি। আর মূলত এই দাম বেশি থাকার কারণেই হযরত মুয়াবিয়া গমকে ফিতরার পণ্যের তালিকভুক্ত করেছিলেন। অতএব, গম দ্বারা আদায় করলে আধা সা বা এক কেজি ৬২৮ গ্রাম দিলেই ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। আর বাকি চারটি পণ্য অর্থাৎ খেজুর, জব, পনির ও কিশমিশ দ্বারা আদায় করার ক্ষেত্রে জনপ্রতি এক সা বা তিন কেজি ২৫৬ গ্রাম দিতে হবে।গম ছাড়া অন্য পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করলে এক সা পরিমাণ দিতে হচ্ছে, যা গমের ওজনের দ্বিগুণ এবং মূল্যের দিক দিয়েও অনেক তফাত। হাদীসে এক সা আদায় করার কথা উল্লেখ থাকার পরও তখন গমের মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় সাহাবারা আধা সা পরিমাণ গম আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাহলে এখন প্রশ্ন হলো, অন্য চারটি পণ্য হিসাব না করে শুধু গমের পরিমাণ হিসেবে ফিতরা আদায় করা যৌক্তিক হচ্ছে তো? হাদীসের আলোচনা থেকে এ কথাটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, সাহাবারা খেজুর, জব, পনির ও কিশমিশ থেকে হলে এক সা পরিমাণ এবং গম থেকে হলে আধা সা পরিমাণ ফিতরা আদায় করতেন। কারণ তখন গমের দাম অন্যসব পণ্যের তুলনায় বেশি ছিল। আর বর্তমানে অন্য চারটি পণ্যের তুলনায় গমের দাম কম। এ পর্যন্ত হাদীসের এমন কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি যে সাহাবারা সবাই সর্বনি¤œ দামের বস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করেছেন। বরং তাদের সবার আগ্রহ ছিল সর্বাধিক দামি পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা। তাহলে বর্তমানে সবাই সর্বনি¤œ দামের পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করছে কেন? বেশি সম্পদশালী এবং কম সম্পদশালী নির্বিশেষে গম বা সর্বনি¤œ দামের পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করার বিষয়টি বিবেকবর্জিত এবং হাদীস ও শরীয়তের নির্দেশনার পরিপন্থি। সবার উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী সদকাতুল ফিতর আদায় করা এবং দায়সারা আদায় পদ্ধতি ত্যাগ করা।যার সামর্থ্য আছে উন্নতমানের খেজুর দ্বারা সে খেজুর দ্বারাই আদায় করবে। আর যার সামর্থ্য আছে কিশমিশ কিংবা জব দ্বারা আদায় করার সে তা দ্বারা আদায় করবে। যার গম দ্বারা আদায় করা ছাড়া অন্য পণ্য দ্বারা আদায় করার সামর্থ্য নেই সে গম দ্বারা ফিতরা আদায় করবে। বেশি সম্পদশালী এবং কম সম্পদশালী নির্বিশেষ গম বা সর্বনিম্ন দামের পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করার বিষয়টি বিবেকবর্জিত এবং শরীয়তের নির্দেশনার পরিপন্থি।  ফিতরা কারা দেবেন?নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন, শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় সব মুসলিমের জন্য ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব। ইবনে উমর (রাযি.) থেকে জানা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক স্বাধীন-ক্রীতদাস, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় মুসলমানের যাকাতুল ফিতর এক ‘সা’ পরিমাণ খেজুর বা যব ফরজ করেছেন।  তিনি লোকদের ঈদের নামাযে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করার আদেশ দিয়েছেন। ফিতরা দেওয়ার সামর্থ্য আছে (এক দিন ও এক রাতের খাদ্যের অতিরিক্ত পরিমাণ সম্পদ থাকলে) এ রকম প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের ও পরিবারের সব সদস্যের পক্ষ থেকে ফিতরা প্রদান করা ফরজ, যাদের লালন-পালনের দায়িত্ব শরীয়ত কর্তৃক তার উপরে অর্পিত হয়েছে। যার নিকট এক দুই বেলার খাবার ব্যতীত অন্য কিছু নেই তার ফিতরা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।  কে ফিতরা পাবে?গরিব, দুস্থ, অসহায়, অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিরাই ফিতরার দাবিদার। তবে যার জন্য যাকাত খাওয়া জায়েয এবং যার ওপর যাকাত ওয়াজিব নয়, এমন ব্যক্তিকে ফিতরা প্রদান করা যাবে।  কাজের লোকের ফিতরা দেওয়াবেতনভুক্ত কাজের ব্যক্তির পক্ষে ফিতরা প্রদান করা মালিকের ওপর আবশ্যক নয়। তবে মালিক ইচ্ছা করলে কাজের লোককে ফিতরা প্রদান করতে পারবেন। তবে তিনি বেতন বা পারিশ্রমিক হিসাবে ফিতরা প্রদান করতে পারবেন না। যা দিয়ে ফিতরা দেওয়া যাবে আবু সাঈদ খুদরি (রাযি.) বলেন, অর্থ : আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যাকাতুল ফিতর দান করতাম এক সা খাদ্যদ্রব্য কিংবা এক সা যব কিংবা এক সা খেজুর কিংবা এক সা পনির কিংবা এক সা কিশমিশ।  এই হাদীসে খেজুর ও যব ছাড়া আরো যে কয়েকটি বস্তুর নাম পাওয়া গেল তা হলো, কিশমিশ, পনির এবং খাদ্যদ্রব্য। উল্লেখ থাকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিগত হওয়ার পর মুয়াবিয়া (রাযি.)-এর খেলাফতে অনেকে গম দ্বারাও ফিতরা দিতেন।  খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা দেওয়াসাহাবী আবু সাঈদ খুদরি বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা প্রদানের কথা। যেহেতু চাল বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রধান খাদ্য সেহেতু চাল দিয়েও ফিতরা প্রদান করা যাবে। চালের বদলে ধান দিয়ে ফিতরা দিতে হলে ওজনের ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। কারণ এক সা ধান এক সা চালের সমমূল্যের হবে না। কোরআন থেকে জানা যায়, অর্থ : তোমরা খাদ্যের খবিস (নিকৃষ্ট) অংশ আল্লাহর পথে খরচ করার সঙ্কল্প করো না। কেননা, তোমরা স্বয়ং তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত নও।  তবে ধানের থেকে চাল দিয়ে ফিতরা প্রদান করা উত্তম। নিম্নোক্ত কিয়াস থেকে এই ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়, যবের ওপর কিয়াস (অনুমান) খাটিয়ে ধানের ফিতরা জায়েয হবে না। কারণ ধান আদৌ আহার্য সামগ্রী ‘তাআম’ নয়। আহার্য বস্তুর ওপর কিয়াস করে যব বা খুরমার ফিতরা দেওয়া হয় না, মনসূস (কোরআন বা হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত) বলে দেওয়া হয়ে থাকে। তাআম বা আহার্য সামগ্রীরূপে ফিতরা দিতে হলে এক সা চাল দিতে হবে। টাকা দিয়ে ফিতরা দেওয়ানবীজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুগে মুদ্রা হিসেবে দিরহাম প্রচলিত ছিল। দিরহামের দ্বারা কেনাকাটা, দান খয়রাত করা হত। তবু খুদরি বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যবস্তু দিয়ে ফিতরা প্রদান করতেন। এ জন্য ইসলামবেত্তাদের বড় অংশ টাকা দিয়ে ফিতরা প্রদানের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের বরখেলাফ হওয়ার কারণে আমার আশংকা হচ্ছে যে, তা যথেষ্ট হবে না। তবে প্রয়োজনে টাকা দিয়েও ফিতরা আদায় করা বৈধ। বাংলাদেশের মুসলিমরা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে চাইলে ২:৪০ (দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম) মধ্যমানের চালের মূল্য দিতে হবে। সা ও অর্ধ সা-এর বিবরণফিতরা প্রদানের পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনায় সা বহুল আলোচিত শব্দ। সা হচ্ছে আরব দেশে ওজন বা পরিমাপে ব্যবহƒত পাত্র। বাংলাদেশে যেমন ধান পরিমাপের জন্য একসময় কাঠা ব্যবহƒত হত। একজন মাঝামাঝি শারীরিক গঠনের মানুষ অর্থাৎ অধিক লম্বা নয় এবং খাটোও নয়, এই রকম মানুষ তার দুই হাত একত্রে করলে যে অঞ্জলি গঠিত হয়, ওই রকম পূর্ণ চার অঞ্জলি সমান হচ্ছে এক সা। হাদীস থেকে সুস্পষ্ট জানা যায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা পরিমাণ ফিতরা প্রদানের কথা। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং চার খলীফার মৃত্যুর পর মুয়াবিয়া (রাযি.) ইসলামী রাষ্ট্রের খলীফা নির্বাচিত হন এবং ইসলামী রাষ্ট্রের রাজধানী মদীনা থেকে দামেস্ক স্থানান্তরিত করেন, তখন তারা গমের সঙ্গে পরিচিত হন। সেকালে সিরিয়ার গমের মূল্য খেজুরের দ্বিগুণ ছিল। তাই খলীফা মুয়াবিয়া একদা হজ বা উমরা করার সময় মদীনায় এলে মিম্বরে বলেন : আমি অর্ধ সা গমকে এক সা খেজুরের সমতুল্য মনে করি। লোকেরা তার এই কথা মেনে নেয়। এরপর থেকে মুসলিম জনগণের মধ্যে অর্ধ সা ফিতরার প্রচলন শুরু হয়। সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ সবার জন্য সমান?বড়ই পরিতাপের ব্যাপার! পুরো দেশের সব শ্রেণির লোক বছর বছর ধরে সর্বনিম্ন মূল্যের হিসেবে ফিতরা আদায় করে আসছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সকলেই ফিতরা দিচ্ছে একই হিসাবে জনপ্রতি ৬০/৭০ টাকা করে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় সকলে ভুলেই গেছে গম হচ্ছে ফিতরার পাঁচটি দ্রব্যের একটি—যা সর্বনিম্ন মূল্যের।উত্তম হলো, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে ফিতরা আদায় করা। কেননা সদকার মূল লক্ষ্যই হলো গরিবদের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ। এ ছাড়া আদায়কারীর সামর্থ্যকেও বিবেচনায় রাখা উচিত। কেননা কেউ এক হাজার টাকা মূল্যের খেজুর খেতে অভ্যস্ত হয়ে যদি পচিশ/ত্রিশ টাকা মূল্যের গমের হিসেবে ফিতরা দেন—তবে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? সে প্রশ্ন বিবেকের কাছে থেকেই যায়।আরও পড়ুন- লাইলাতুল কদর ও এ রাতের করণীয়?- যাকাত কাকে দিবেন এবং কাকে দিতে পারবেন না- যাকাত না দেওয়ার পরিণাম ও শাস্তি

post
যুক্তরাষ্ট্র

‘ঈদ মোবারক’ লাইটিংয়ে ঝলসে উঠল জ্যাকসন হাইটস

১৩ বছর পর আবারও ‘ঈদ মোবারক’ লাইটিংয়ে ঝলসে উঠলো উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস। অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে ঈদ উপলক্ষে এই বিশেষ আলোক সজ্জার উদ্বোধন করেন ‘জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশন, এনওয়াই’র (জেবিবিএ) কর্মকর্তাসহ প্রবাসীরা। ‘ওয়েল কাম জ্যাকসন হাইটস’ লেখার নিচেই ‘ঈদ মোবারক’ ঝলসে উঠছে আলোক-প্রক্ষেপণে। এরমধ্য দিয়ে করোনায় বিপর্যস্ত প্রবাসীরা ঈদ আমেজে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুপ্রেরণা পেলেন বলে অনেক পথচারি মন্তব্য করেন।ফিতা কেটে আলোক-সজ্জা কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় ছিলেন জেবিবিএর প্রেসিডেন্ট হারুন ভূইয়া, সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলম নমী, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কামরুজ্জামান বাচ্চু, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ পিয়ার, কাজী মন্টু, মহসিন ননী, সেলিম হারুন, ড. রফিক আহমেদ, মোহাম্মদ দুলাল, বারি হোমকেয়ারের কর্ণধার আসিফ বারি টুটুল, হাসিনা বারি, সাখাওয়াত বিশ্বাস প্রমুখ। ইফতারের পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ‘ঈদ মোবারক’ আলোক রশ্মিতে ভিন্ন এক আমেজে আপ্লুত হচ্ছেন ক্রেতা-সাধারণ। জেবিবিএর উদ্যোগে এর আগেও ঈদ উপলক্ষে রমজানের শুরুতে আলোকসজ্জা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। অতি সম্প্রতি জেবিবিএর নেতৃত্বে হারুন-ফাহাদ আসার পরই জ্যাকসন হাইটসে ক্রেতা-সাধারণের কাছে আরো বেশি আকৃষ্ট করতে নানামুখী পদক্ষেপের এটি অন্যতম একটি। জেবিবিএর সেক্রেটারি এবং কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের ডেলিগেট ফাহাদ সোলায়মান বলেন, অনেক স্বপ্ন রয়েছে জ্যাকসন হাইটসকে ঘিরে। পর্যায়ক্রমে তার বাস্তবায়ন ঘটাতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা চাই। ফাহাদ বলেন, এটি শুধু ঈদে নয়, সারা বছরই চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ভিন্নভাবে। এটি যে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের এলাকা, তা অন্য কম্যুনিটিকেও জানান দিতে চাই। সকলে যাতে সম্প্রীতির বন্ধনে আবব্ধ থেকে কেনাকাটা করতে পারেন-তারও একটি প্রয়াস।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে 'দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সুশীল সমাজের দায়িত্ব' শীর্ষক আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ে প্রবাসীদের ভূমিকা এবং সরকারের করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হলো নিউইয়র্ক সিটিতে সেন্টার ফর এনআরবি’র উদ্যোগে বৃহস্পতিবার 'দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব' শীর্ষক এক এক সমাবেশে। বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীরা দৃঢ় প্রত্যয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই অগ্রগতিকে টেকসই করতে দরকার বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত করা। এজন্য নিউইয়র্কে সোনালী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ একটি শাখা খোলা দরকার। যাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় কাজ এখান থেকেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এবং এ দাবিটি অনেক পুরনো হওয়া সত্বেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ নির্বিকার বলে মন্তব্য করা হয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌলিক এই অবলম্বনকে বাস্তবায়িত করা হলে প্রবাসীদের বিনিয়োগের দৃশ্যমান অনেক কিছুই ঘটবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছি। সরকারও প্রবাসীদের ব্যাপারে যথেষ্ঠ আন্তরিক। সহযোগিতার এই দিগন্তকে কাজে লাগিয়ে বহুজাতিক এ সমাজে বাংলাদেশের ইমেজকে সমুন্নত রাখতে প্রতিটি প্রবাসী একেকজন শুভেচ্ছা দূত বলে মনে করি। ড. মনিরুল বলেন, কনসাল জেনারেল অফিস, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস, লসএঞ্জেলেসে কন্স্যুলেট থেকে আমরা যাবতীয় সহযোগিতা দিতে বদ্ধ পরিকর। এনআরবি সেন্টারের এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারীরা অংশ নেন। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে সকলেই ব্র্যান্ডিং বিষয়ে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক এমপি এম এম শাহীন, ডা. মাসুদুল হাসান, শিক্ষাবিদ নাইমা খান, ইউএস আর্মি কর্মকর্তা জয় চৌধুরী, চেম্বার নেতা লিটন আহমদ, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রহিম হাওলাদার, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ও বাপার সাবেক সভাপতি সুমন সাইদ এবং মুহাম্মদ শামসুল হক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী ও নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা টিমের প্রধান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর, ব্যাংকার ইমতিয়াজ চৌধুরী, জ্যামাইকা ফ্রেন্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামিম আল রাসেল, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, তরুণ উদ্যোক্তা মফিজুল আহাদ শফি, সাংবাদিক এস এম সোলায়মান, আহাদ আলী সিপিএ, অধ্যাপক হোসনে আরা, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহকারী তাসকিরুল ইসলাম নিবিড়, মূলধারার রাজনীতিক হাসান আলী, নিউ আমেরিকান ভোটার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডক্টর দিলীপ নাথ, কমিউনিটি নেতা আব্দুর রহমান, মদিনা মসজিদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমদ, ব্যবসায়ী সানোয়ার চৌধুরী, জয়া হলের পরিচালক আব্দুল আহাদ, আইটি এক্সপার্ট শেখ গালিব রহমান, কমিউনিটি নেতা সৈয়দ আতিকুর রহমান। শেকিল চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে একেকজনের একেক মতবাদ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশি হিসেবে সকলেরই হৃদয় জুড়ে রয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। সবকিছুর উর্ধ্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন আর কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে হবে-তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার ক্ষেত্রে প্রবাসীরাও অনন্য ভূমিকায় অধিষ্ঠিত হবেন। সে লক্ষ্যেই সেন্টার ফর এনআরবি কাজ করছে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীগণের প্রতি অনুরোধ জানান বাংলাদেশের ইতিবাচক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রবাস প্রজন্মকে সঠিক তথ্য অবহিত করার আহ্বানও জানান। আলোচনা শেষে জয়া হলের সৌজন্যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

post
এনআরবি লাইফ

যাকাত না দেওয়ার পরিণাম ও শাস্তি

যাকাত ইসলামের স্তম্ভ ও অবশ্য পালনীয় বিধান। এ বিধান পালন না করার অর্থ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা। যাকাত ফরজ হওয়ার মতো সম্পদের মালিক হওয়ার পরও যারা এ বিধান পালন করবে না পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহে তাদের জন্য ইহকালীন লাঞ্ছনা-গঞ্ছনা ও পরকালীন শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যার সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিম্নরূপ :যাকাত আদায় না করার ইহকালীন শাস্তিকোরআন ও হাদীসে যাকাত আদায় না করার ইহকালীন শাস্তির যে বর্ণনা এসেছে তা হলো, ১. আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, আমার রহমত সব কিছুতে পরিব্যাপ্ত। তা আমি সেই লোকদের জন্য লিখব যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় ও আমার আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। ২. আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হওয়া : যে ব্যক্তি আল্লাহকে সাহায্য করেন তিনি তাকে সাহায্য করেন। যাকাত প্রদান আল্লাহকে সাহায্যকারীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে এসেছে, যে আল্লাহকে সাহায্য করবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন; নিঃসন্দেহে আল্লাহ শক্তিসম্পন্ন, সর্বজয়ী। তারা সেই সব লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা প্রদান করলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে, সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজে নিষেধ করে।  অতএব যাকাত আদায় না করলে আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ৩. নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী করে নেওয়া : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত দানে বিরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে আদিষ্ট হয়েছিলেন। ফলে যাকাত না দেওয়ার অর্থ নিজের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে নেওয়া। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অর্থ : আমি লোকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দিবে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই ও মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত আদায় করবে। যখন তারা এ কাজগুলো করবে তখন তারা আমার হাত থেকে তাদের জান-মাল রক্ষা করবে, অবশ্য তাদের চূড়ান্ত বিচারের ভার আল্লাহর উপর। ৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পৃষ্ঠপোষকতা হারানো : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন তাদের মধ্যে যাকাত প্রদানের গুণাবলি থাকতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের একমাত্র বন্ধু আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও ঈমানদারগণ যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং তারা রুকুকারী। ৫. জাতীয় বিপর্যয় : যাকাত আদায় না করার কারণে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জাতীয় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়। হাদীসে এসেছে, যে সমাজের লোকেরা যাকাত দিতে অস্বীকার করবে আল্লাহ তাদের কঠিন ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত করবেন।যে জাতি যাকাত দেয় না মহান আল্লাহ তাদের উপর বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন। স্থল ও জলভাগে ধন-সম্পদ বিনষ্ট হয় শুধুমাত্র যাকাত আটকে রাখার কারণে। যাকাত আদায় না করার পরকালীন শাস্তি  যাকাত দানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীকে পরকালে কঠিন ও ভয়ংকর আজাবের মুখোমুখি হতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদীসে তাদের সে আজাবের চিত্র ফুটে উঠেছে, ১. ধন-সম্পদ আগুনে গরম করে সেঁক দেওয়া : এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জিভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) ‘এটা তা-ই যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো। ২. বিষধর সাপের দংশন : মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন আর সে তার যাকাত দেয় না, কেয়ামতের দিন ঐ সম্পদকে দু’টি বিষের থলিবিশিষ্ট মাথায় টাকপড়া মারাত্মক বিষধর সর্পে পরিণত করা হবে, যা তাকে পেঁচিয়ে তার চোয়ালে আঘাত করে করে বলতে থাকবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার গচ্ছিত ধন...। ৩. কেয়ামতে বেড়ি পরানো : এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, আর আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে, তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কেয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে। আর আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই জন্য। আর তোমরা যা আমল করো, সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত। ৪. পশু দ্বারা পদদলিত : হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিজের উটের হক আদায় করবে না, সে উট দুনিয়া অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়ে খুর দিয়ে আপন মালিককে পিষ্ট করতে আসবে, যে ব্যক্তি নিজের ছাগলের হক আদায় করবে না, সে ছাগল দুনিয়া অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়ে খুর দিয়ে আপন মালিককে পদদলিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে।... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন কেয়ামতের দিবসে কাঁধের উপর চিৎকাররত ছাগল বহন করে আমার নিকট এসে এ কথা না বলে যে, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তখন আমি বলব, তোমাকে করার আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি তো এ বিষয়টি পেঁৗঁছে দিয়েছিলাম। আর তোমাদের কেউ যেন কেয়ামতের দিবসে কাঁধের উপর চিৎকাররত উট বহন করে আমার নিকট এসে এ কথা না বলে যে, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তখন আমি বলব, তোমার জন্য কিছু করার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। আমি তো এ সতর্কবার্তা তোমাদেরকে (আগেই) পৌঁছে দিয়েছিলাম। ৫. উত্তপ্ত পাথর ব্যবহার : হযরত আবু যর (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, যারা সম্পদ জমা করে রাখে, তাদেরকে এমন গরম পাথরের সুসংবাদ দাও যা তাদেরকে শাস্তি প্রদানে জাহান্নামে উত্তপ্ত করা হচ্ছে। তা তাদের স্তনের বোঁটার উপর স্থাপন করা হবে আর তা কাঁধের পেশী ভেদ করে বের হবে এবং কাঁধের উপর স্থাপন করা হবে, তা নড়াচড়া করে সজোরে স্তনের বোঁটা ছেদ করে বের হবে। ৬. আগুনের চুড়ি পরিধান : গহনার যাকাত না দিলে তার শাস্তির বর্ণনা এসেছে এভাবে, আমর ইবন শুয়াইব (রাযি.) তাঁর পিতা, তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, একটি মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার কন্যাকে নিয়ে এলেন যার হাতে ছিল দু’টি স্বর্ণের মোটা চুড়ি। তিনি বললেন, তুমি কি এটার যাকাত দাও? সে বলল, না। তিনি বললেন, এ দু’টির পরিবর্তে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে দু’টি আগুনের চুড়ি পরিধান করলে তা কি তোমাকে খুশী করবে? বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে চুড়ি দু’টি খুলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রেখে বলল, এ দু’টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য।  উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, যাকাত ইসলামের এক বাধ্যতামূলক বিধান, যা আদায় না করলে ইহকালীন অশান্তি, লাঞ্ছনা-গঞ্ছনা ও পরকালীন শাস্তি অবধারিত।আরও পড়ুন** যাকাত কাকে দিবেন এবং কাকে দিতে পারবেন না

post
এনআরবি বিশ্ব

কাতারে কোরআন পাঠ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা

কাতারে অনুষ্ঠিত শেখ জাসিম বিন মোহাম্মদ বিন থানী আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ২০২২- এ বিজয়ী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা দিয়েছেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন এনডিসি।সোমবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ দূতাবাসে এ সংবর্ধনা জানানো হয়। কাতারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশটির কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত বিদেশি প্রতিযোগিদের জন্য হিফজ ও তাজবীদ এবং হিফজ, তাফসীর ও তাজবীদ এ দুটি গ্রুপে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ২৫টি দেশের মোট ৭৯৮ জন প্রতিযোগী।মোট দশজন বিজয়ীর মধ্যে ছয় জনই বাংলাদেশি। আর উভয় গ্রুপেই প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশি প্রতিযোগী। বাংলাদেশি বিজয়ীরা হলেন উসামা মাওলানা চৌধুরী (১ম, গ্রুপ-ক), আজিজা উমর ফারুক (৫ম, গ্রুপ-ক), আয়েশা উমর ফারুক (১ম, গ্রুপ-খ), আবুল হাসান (৩য়, গ্রুপ-খ), মোহাম্মদ হুজ্জাতুল্লাহ (৪র্থ, গ্রুপ-খ) এবং সালমা হাফিজা (৫ম, গ্রুপ-খ)।অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও অভিনন্দনপত্র তুলে দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিন। বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এ সাফল্য কাতারের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এই সাফল্য কাতারের সরকার ও জনগণের সামনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দৃঢ়করণে জোরালো ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখারও আহ্বান জানান।

post
বিনোদন

হাতে হারিকেন নিয়ে গান শোনাবেন মাহফুজুর রহমান

গত কয়েক বছর ধরেই ঈদে গান শোনান বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। পেশাদার সংগীতশিল্পী না হলেও নিজের ইচ্ছে ও শখ থেকে গান পরিবেশন করেন তিনি। সেসব গান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে তুমুল আলোচনা। এবারও ব্যতিক্রম ঘটছে না। আসন্ন রোজার ঈদে ১০টি গান শোনাবেন মাহফুজুর রহমান। তার এই একক সংগীতানুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তুমি আমার প্রেয়সী’। এটিএন বাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদের দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে ‘তুমি আমার প্রেয়সী’ অনুষ্ঠানটি। এর গানগুলো লিখেছেন শেখ রেজা শানু, নাজমা মোহাম্মদ ও রাজেশ ঘোষ। সুরারোপ করেছেন মান্নান মোহাম্মদ ও রাজেশ ঘোষ। সম্প্রতি এটিএন বাংলার স্টুডিওতে গানগুলোর চিত্রায়ন সম্পন্ন হয়েছে। একটি গানের দৃশ্যে মাহফুজুর রহমানের হাতে হারিকেন দেখা যাবে। কী কারণে তিনি এটা হাতে নিয়েছেন, তা অবশ্য পরিষ্কার নয়। অনুষ্ঠান প্রচারের পর সেটা বোঝা যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রথমবার একক সংগীতানুষ্ঠান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মাহফুজুর রহমান। ‘হৃদয় ছুঁয়ে যায়’ শীর্ষক সে অনুষ্ঠানের পর থেকে প্রতি ঈদেই গান শোনাচ্ছেন তিনি। বিতর্ক, সমালোচনা হলেও দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। নিজের ওপর ভরসা রেখে গান করেই যাচ্ছেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.