post
অভিবাসন

২০২৩ এ বাংলাদেশ থেকে লক্ষাধিক কর্মী নেবে রোমানিয়া

আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া এক লাখের অধিক কর্মী নেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। নির্মাণ খাতে এসব কর্মী নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন বলেন, অনেক দিন ধরে আমাদের লোক মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে। সুখবর হলো গত বছর থেকে রোমানিয়ায় আমাদের লোক যাওয়া শুরু হলো। গত পরশু (রোববার) খবর পেলাম আগামী বছর (২০২৩ সাল) এক লাখের অধিক কর্মী নেবে রোমানিয়া। আমাদের রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানিয়েছেন। যতদূর জেনেছি, রোমানিয়া নির্মাণ খাতে কর্মী নেবে। বাংলাদেশে রোমানিয়ার কোনো মিশন নেই। দেশটি ভারত থেকে বাংলাদেশের কার্যক্রম দেখভাল করে। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে দেশটি ৩ মাসের জন্য ঢাকায় ৬ সদস্যের কনস্যুলার টিম পাঠায়। তারা ঢাকা থেকে বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটি তিন মাসে ঢাকায় ৩ হাজার ৪০০ পেন্ডিং ভিসাসহ প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে। আগামী বছর বাংলাদেশি কর্মী নিতে দেশটির কনস্যুলার টিম আবার ঢাকায় এসে সেবা দেবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোমানিয়ার ভিসা পেতে হলে যেতে হয় দিল্লিতে। একই অবস্থা মালটা বুলগেরিয়াও হাঙ্গেরিতে। আমরা রোমানিয়ার সঙ্গে আলাপ করলাম। আমরা বলেছি, তোমরা ঢাকায় আসো। আমরা তোমাদের সব ব্যবস্থা করে দেব। তারা রাজি হলো। তারা ১৪ হাজার ভিসা দেয়। আমাদের লোক চলে গেছে। তারা নির্মাণ খাতে কাজ করছে। তারা আগের মতো এসে সেবা দেবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হলেও টাকার কারণে রোমানিয়া ঢাকায় কনস্যুলার খুলছে না বলে জানান ড. মোমেন।

post
এনআরবি সাফল্য

পেনসিলভেনিয়া স্টেট ও সিটির তালিকায় প্রভাবশালী ১০০ নারী নেত্রীর একজন নীনা আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া স্টেটে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ মহিলার অন্যতম একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি আমেরিকান ড. নীনা আহমেদ। ফিলাডেলফিয়া সিটিসহ পেনসিলভেনিয়া স্টেট পার্লামেন্টের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে এই ১০০ জন মহিলা নেতার তালিকা করা হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, অলাভজনক সংস্থার নেতা, মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত নেতা, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন শেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি নেতাদের মধ্য থেকে সেরা মহিলাগণের এই তালিকা ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করেছে স্টেট ও সিটি প্রশাসন। ড. নীনার এই সম্মান প্রাপ্তির জন্যে অভিনন্দন জানিয়েছে ‘বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি ফোরাম অব পেনসিলভেনিয়া’র নেতৃবৃন্দ।উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক জনপ্রিয় ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র পক্ষ থেকেও প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে ড. নীনার প্রতি। ড. নীনা দীর্ঘ ৩৫ বছরের অধিক সময় যাবত অভিবাসী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কাজ করছেন। তৃণমূলে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ড. নীনা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা পরিষদের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেন্স-পেনসিলভেনিয়া চ্যাপ্টারের প্রধান, ফিলাডেলফিয়া সিটির সপ্তম ওয়ার্ডের কমিটিওম্যান, পেনসিলভেনিয়া ডেমক্র্যাটিক পার্টির স্টেট কমিটির সদস্য হিসেবে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ড ককাসের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ব্যক্তি জীবনে বিজ্ঞানী হয়েও ড. নীনা মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। পেনসিলভেনিয়াস্থ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট এবং ফাইন্যান্সিং সংস্থা ‘জেএনএ ক্যাপিটলের অন্যতম মালিক ড. নীনা ডেমক্র্যাটিক পার্টির একজন নিবেদিত সংগঠক হিসেবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সুনজরে রয়েছেন। প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে নিজের কর্মের মাধ্যমে বহুজাতিক এ সমাজে বিশেষ স্থানে অধিষ্ঠিত হবার বিরল গৌরব অর্জনের অনুভূতি প্রকাশকালে ড. নীনা আহমেদ বলেন, আমি নিজেকে গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি, বিশেষ করে এই ধরনের ট্রেলব্লেজারদের সাথে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য। একজন তরুণ অভিবাসী হিসেবে এদেশে এসে আমি কখনো ভাবিনি যে, আমি এমনভাবে স্বীকৃত ও সম্মানিত হব। এজন্য কম্যুনিটির সকলের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন যারা তাকে এতটুকু পথ আসতে সাহায্য করেছেন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী: গৌরব আর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার সংকল্প

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব আর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ১৪ হাজার এলামনাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত ২৪০ শিক্ষকের সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের উদাত্ত আহবান জানিয়ে নিউইয়র্কে লাগোায়ার্ডিয়া প্লাজা হোটেলের বলরুমে ২৫-২৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনী অনুষ্ঠান হলো।দু’ শতাধিক রেজিস্টার্ড এলামনাইয়ের মনোমুগ্ধকর এ অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণকে অবিকল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যপট উপস্থাপন করা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করার সময়েই আন্তরিক অভ্যর্থনা জ্ঞাপণে ব্যস্ত ছিলেন হোস্ট সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদালয় এলামনাই এসোসিয়েশন’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান। তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তেমনি এই প্রাণপ্রিয় শিক্ষালয় থেকে বেরিয়ে হাজারো আলোকিত মানুষগুলো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব আরো উজ্জ্বলতর করেছেন দেশে এবং প্রবাসের মাটিতে স্বীয় মহিমায়। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্জন ও প্রাপ্তির গৌরবকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ভবিষ্যতের পথে, বিশ্বায়নের স্রোতধারায় যোগ করবে আরো বলিষ্ঠ মাইলফলক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে নিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়। আর তা সম্ভব হবে শুধুমাত্র প্রাক্তনদের প্রাণের স্পর্শে, আন্তরিক সহযোগিতায়। অতিথি হিসেবে ছিলেন এলামনাইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল আলম পারভেজ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোল্লা কাওসার, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম এ মোহিত, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মো. মনিরুল ইসলাম। স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সমসাময়িক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মত কারিক্যুলাম চালুর পরামর্শ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেকার সম্প্রীতির বন্ধন পুন:প্রতিষ্ঠার তাগিদ উচ্চারিত হয় এই চমৎকার সমাবেশের মূল বক্তব্যে এবং তা উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিন্স ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস অধ্যাপক এবং সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোস্তফা সারওয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবগাথা উপস্থাপনকালে ড. মোস্তফা সারওয়ার বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কালীন ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে গর্বিত। পৃথিবীতে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানের আত্মত্যাগী ছাত্রদের অবদানে একটি ভাষা বিশ্ব ভাষার মর্যাদা পেয়েছে, একটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রগামী সৈনিকের ভূমিকা রেখেছে, এবং স্বৈরতন্ত্রের পতনে রেখেছে নিদারুণ অবদান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই হল একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেটি এই সব মহান অর্জনে মহিমান্বিত হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশচুম্বী খরচ বহন করার মত সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি এমনি হাজার হাজার ছাত্রদের শিক্ষাদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেখেছে মহান ভূমিকা। আমি গর্বিত। ড. সারওয়ার উল্লেখ করেন, আজকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিতদের শতকরা কতজন সুহৃদয় চরিত্রবান মানুষ হিসেবে পরিচিত? কতজন ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, তোষামোদি, চামচাগিরির মত ঘৃণিত জীবনকে বেছে নিয়েছে? সভ্য দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বাধ্যতামূলকভাবে এথিকস পড়ানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে দেখা প্রয়োজন। ড. সারওয়ার আরো বলেন, এককালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পৃথিবীতে র‌্যাংকিং কেন নয় শত সাতাত্তর? এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং কেন দু শ তেষট্টি? এই র‌্যাংকিং আপনারা দেখতে পাবেন ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ড রিপোর্ট ওয়েব সাইটে। নানাবিধ পরিস্থিতির অসহায় ভিকটিম হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে মেধাবি শিক্ষার্থীর অন্যতম ড. সারওয়ার ক্ষোভের সাথে আরো উল্লেখ করেন, নিয়োগ ও প্রমোশনে দলবাজি, স্বজনপ্রীতি, তোষামোদি, চামচাগিরির প্রভাব কতটা? সুষ্ঠু নিয়োগ ও প্রমোশন হচ্ছে না বলেই কি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এর আজ এই করুন পরিণতি? অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপনকালে যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টে প্রথম বাংলাদেশী-আমেরিকান এটর্নী ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার মঈন চৌধুরী বলেন, পারিবারিক কোটায় ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসবো বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুযোগ হয়নি। তবে জেনেছি স্বজনের কাছে তার গৌরবোজ্জল ইতিহাস-ঐতিহ্য। আমার নামে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরো কলেজে একটি স্কলারশিপ চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তপক্ষের আপত্তি না থাকলে সেখানেই একটি স্কলারশিপ চালু করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিষয়ক অভিজ্ঞ এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, শতবর্ষের জন্যে অপেক্ষা নয়, প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হলে নিজেদের দায়বদ্ধতা লাঘবের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে। কারণ, এখন সময় হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছুটা ফেরৎ দেয়ার। সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এ এন্ড এম ইউনিভার্সিটির বায়ো মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. নাসের বলেন, করোনাকালে সর্বপ্রথম যে কীট আবিস্কৃত হয়, তা বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। এরপর ভ্যাকসিনের ব্যাপারেও সম্মিলিত একটি প্রয়াস চালাই। যে দেশটি আমাকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনেক ত্যাক স্বীকার করেছে, তার জন্যে কিছু করার তাগিদ সব সময় অনুভব করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, একসময় দক্ষিণ এশিয়ার সেরা শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। আজ এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে যখন নেতিবাচক কথাবার্তা শুনি, এর চত্বরে বিসম্বাদ ও হানাহানির ঘটনা ঘটে, তখন কষ্ট পাই আমরা। পারভেজ বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অহংকারের জায়গা নতুনভাবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নিয়ে আসতে পারবে এটাই আমাদের বিশ্বাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি এডভোকেট মোল্লা কাওসার বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪০ জন শিক্ষকতা করছেন এবং বসতি গড়েছেন আরো ১৪ হাজারের মত। সকলকে এলামনাইয়ের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে পারলে অনেক প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন ঘটানো সম্ভব হবে। আয়োজনের প্রধান সমন্বয়কারি মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, বাঙালি জাতির বৃদ্ধিবৃত্তিক মনন গড়নের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র যে শক্তি ও চেতনার জন্মদিয়েছে, শতবর্ষব্যাপী সেই চেতনার আলো আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। ৩৬ বছরের পুরনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার বর্তমান সভাপতি সাঈদা আকতার লিলি বক্তব্যে বলেন, জন্ম থেকেই আমাদের অনেক ঋণ-যা সুধিবার নয়। রয়েছে অনেক দায়িত্ব। পরবর্তী প্রজন্ম এবং পরবর্তী এলামনাইদের জন্য রেখে যেতে হবে সুন্দর মসৃণ পথ। যোগসূত্র তৈরী করতে হবে নবাগতদের সাথে পুরনোদের। আরো আধুনিক চিন্তা-ভাবনার মধ্যদিয়ে সেতুবন্ধ তৈরী করতে হবে শেকড়ের সাথে। আজকের এ সমাবেশ সে তাগিদই দিচ্ছে। উদ্বোধনী ডিনার পার্টির মত সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বাঙালির দিপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলার জয়ধ্বনি উচ্চারিত হয়। প্রাণের সাথে প্রাণ মিশিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা মেটানোর সংকল্প ব্যক্ত করার মধ্যদিয়ে দুদিনের অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়। হোস্ট কমিটির সদস্য-সচিব গাজী সামসউদ্দিন, কো-কনভেনর মো. তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, এম এস আলম, বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রমুখ-কে অতিথি আপ্যায়ন থেকে উপস্থাপনায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতে দেখা যায়।

post
দূতাবাস খবর

আল-আযহারের শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা নিয়ে মিশরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

এলামী মো. কাউসার, কায়রো, মিশর: অবশেষে বাংলাদেশি ছাত্রদের সকল হতাশার অবসান ঘটিয়ে আসতে পারে সমাধান!! গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ও প্রথম সারির অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোতে "বাংলাদেশি ছাত্রদের আর আসা হচ্ছে না আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে"এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতালয় প্রধান ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে ছিলেন যতদ্রূত সম্ভব রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে দূতাবাস বিষয়টি সমাধানের পথে এগোবো।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ নভেম্বর নীলনদের তীর ঘেঁষা মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে, বাংলাদেশি ছাত্রদের ভিসা এবং স্কলারশিপ সংক্রান্ত বিষয়ে, মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ঈসমাঈল খাইরাতের সাথে সাক্ষাৎ করেন মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম। সে সময় তার সাথে ছিলেন দূতাবাসের কনসুলার, মোহাম্মাদ ঈসমাঈল হোসাইন, রাষ্ট্রদূতের অনুবাদক ফাহিম আহমাদ। ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি ছাত্রদের একমাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক, সাইমুম আল-মাহদী। মিশরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশি ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষা অর্জনে, মিশরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডমিশনে, ভিসা সহজীকরণের দাবি তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলাদেশ থেকে স্কলারশিপ প্রাপ্ত, গত দুই সেশনের ছাত্রদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জটিলতা ও ভিসা প্রাপ্তিতে বিলম্বের কারণে এখনো তারা মিশরে আসার সুযোগ পায়নি। তাদের স্কলারশিপের ডকুমেন্টসগুলো সরাসরি মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে তুলে ধরা হয়। তিনি অচিরেই এর সমাধানকল্পে কার্যকরী ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। এবং তৎক্ষণাৎ সিকিউরিটি বিভাগে খোঁজ নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত সহকারীকে কে নির্দেশ দেন। ছাত্র প্রতিনিধির পক্ষ থেকে মিশরে পড়তে চাওয়া প্রাইভেট স্ট্যাডির ছাত্রদের ভিসা প্রাপ্তির ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত মুনিরুল ইসলাম বলেন, মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অথবা বৃত্তি পাওয়া বাংলাদেশি ছাত্রদের একটা স্বপ্নের মতো। এসময় তিনি আল-আযহারের গত সেশনগুলোর পরীক্ষার ফলাফলে বাংলাদেশি ছাত্রদের সাফল্য তুলে ধরেন। সহকারী মন্ত্রী এতে বিস্মিত হন ও আনন্দ প্রকাশ করেন। সেই সাথে সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত ভিসা প্রাপ্তির দাবিও জানানো হয়। তিনি দুই সপ্তাহের মাঝে ভিসা প্রস্তুতের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রীদূত মহোদয় , বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ শর্তে অন এরাইভ্যাল ভিসা ও বানিজ্যিক সুবিধা, টুরিজম ইস্যুতে মিশরের কার্যকর ভূমিকার জন্য প্রশংসা করেন। কায়রো টু ঢাকা সরাসরি এয়ারলাইন্স দ্রুত চালুকরনের ব্যাপারেও মন্ত্রী মহোদয় আশ্বাস দেন।

post
বাংলাদেশ

শিশুসাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম আর নেই

খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহে রাজিউন)। রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলো ৭২ বছর।আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শোরও বেশি বইয়ের লেখক। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ান (২০০৭-২০০৮)-এর মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর তিনি ইউনিসেফের ‘মা ও শিশুর উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম প্রকল্প’ এর পরিচালক ছিলেন। তিনি ছিলেন ‘সার্ক অডিও ভিজুয়াল বিনিময় অনুষ্ঠানে’র প্রধান সমন্বয়কারী (২০০০-২০০১)। টেলিভিশন ও বেতারে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের নির্মাতা ও উপস্থাপক হিসেবে তিনি বিশেষ প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘হ্যালো, আপনাকে বলছি’ (১৯৯৯-২০০৪) নামে তার উপস্থাপিত সরাসরি অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় হয়েছিল। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিখ্যাত প্রামাণ্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’র (১৯৮০-১৯৮৭) প্রযোজনা করেন তিনি। বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমী শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। 

post
শিক্ষা

বৃত্তি পেয়েও বাংলাদেশি ছাত্ররা যেতে পারছে না আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে! কেনো?

এলামী মো. কাউসার, কায়রো, মিশর: বাংলাদেশি ছাত্রদের আর যাওযা হচ্ছে না আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে! কথা টা শুনে কেমন মনে হলেও এটাই হয়তোবা সত্যি হতে যাচ্ছে। কেননা বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারিভাবে বৃত্তি প্রাপ্ত হয়েও কোন বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীর আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সম্ভব হয়নি। মূলতঃ মিশরে সরকারিভাবে ছাত্র ও শ্রমিকদের আনা নেয়া শুরু হয় নব্বই সালের পর থেকে। তারপর ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ২০০১ সালে থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ অথবা ২০২০ পর্যন্ত চলতে থাকে এর ধারাবাহিকতা। কিন্তু কোন এক ধূসর কালো ছায়ায় বন্ধ হতে চলেছে দেশের হাজারো তরুনদের স্বপ্নের চাওয়া আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ। তরুণরা কেনইবা এই স্বপ্ন দেখবে না বলুন? অথবা কেনইবা ছেড়ে দেবে সরকারি বৃত্তি পেয়েও পৃথিবীর প্রাচীনতম ও স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি পড়ার সুযোগ? আফ্রিকার ছয়টি দেশের সরকার প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট, বিখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি, মুসলিম বিশ্বে নোবেল খ্যাত কিং ফায়সাল পুরস্কার জিতেছে দর্শন, ধর্ম ও সামাজিক কাজে গবেষণায় আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র শিক্ষক সহ মধ্য প্রাচ্যের অনেক বড় মুসলিম শিক্ষার্থী। এছাড়াও বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান সৈয়দ মুজতবা আলী, হাজী শরীয়তুল্লাহ, বর্মানে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আযহারীসহ ইন্দোনেশিয়া, মালোয়শিয়া, সিংগাপুরসহ পৃথিবীর নানা মুসলিম দেশে মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করার কারনে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণের তালিকায় রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। পৃথিবীর এমন একটি দেশ হয়তোবা পাওয়া যাবে না যে দেশের দুই একটি ছাত্র হলেও আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলবে না।কিন্তু হঠাৎ কেন বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের সেই আশায় গুড়েবালি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ অবস্থিত মিশর দূতাবাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে ভর্তি প্রসেসিং করা হয় সেখানে নকল ও অবৈধ কাগজপত্র দাখিল, বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি জটিলতা এবং বাংলাদেশি ছাত্রদের অবৈধভাবে মিশরে এনে ভর্তি সহ এই ধরনের নানা অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে।এই সম্পর্কিত অভিযোগ মিশর দূতাবাসের মাধ্যমে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশন অফিসে গেলে নড়েচড়ে বসে মিশরের পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনের গোয়েন্দা সংস্থা।এই বিষয়ে জানতে চাইলে মিশর দূতাবাসে কাউন্সিলর মিনা মিকারী বলেন, যারা ছাত্র এবং ভ্রমণ ভিসায় সাধারণ পাসপোর্টে মিসরে যাওয়ার জন্য আবেদন করে আমরা মূলত তাদের সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে মোফায় পাঠাই। তারপর সেখান থেকে মানদুব হয়ে পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনে (আব্বাসিয়া) পাঠানো হয় সেখান থেকে অনুমতি অথবা ছাড়পত্র আসলেই আমরা ভিসা দেই। সরকারি ও ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্টের জন্য এই ধরনের কোনো শর্ত নেই। মূলতঃ সমস্যা টা এখানেই। মিশরের পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশন‌অফিসে পড়ে আছে অসংখ্য বাংলাদেশি ভ্রমণ প্রত্যাশীদের ভ্রমন ফাইল যেন দেখার কেউ নেই।এছাড়াও সরকারি বৃত্তি পাওয়ার পরেও যারা যেতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা অনেকেই এই প্রতিবেদক কে জানান যে তাদের কেউ এক বছর কেউ দুই বছর আগে অথবা কেউ নতুন বৃত্তি পাওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারছেন না। এ নিয়ে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং দায়ী করেন কুটনৈতিক ব্যর্থতাকে।এই দিকে তারা বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারন এই আশায় বুক বেঁধে অনেকেই অন্য কোথাও আর ভর্তি হয়নি।এই প্রতিবেদককে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ পুলিশের এসপি ইসমাইল হোসেন বলেন, "বিষয়টি আমরা আপনার মাধ্যমে জানলাম আসলে অবাক হওয়ার মত একটা বিষয় এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়।"এই বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রদূত সারের মাধ্যমে দ্রুত কতৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসে একটা সমাধান বের করবো, বলেন ইসমাইল হোসেন। এছাড়াও মিশরে অবস্থিত একমাত্র ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন চায় দ্রুত অবসান হোক এই সমস্যার। আবার অবাধ বিচরণ হোক বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্বের এই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একেকজন হয়ে উঠুক সৎ দক্ষ দেশপ্রেমিক এটাই প্রত্যাশা সকলের।

post
শিক্ষা

আমেরিকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ১০,৫০০ এরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় আমেরিকাতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিগত শিক্ষাবর্ষের ১৪তম স্থান থেকে উন্নীত হয়ে ১৩তম হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ১৪-১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন উপলেক্ষ্যে এই ঘোষণা দিয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছেন, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ১০, ৫৯৭ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকাকে বেছে নিয়েছে। এই তথ্য আমেরিকাতে ভর্তি হওয়া বিদেশী শিক্ষার্থী বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন "২০২২ ওপেন ডোরস রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ"-এ প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে আমেরিকাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানোর দেশের তালিকায় বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে আগের বছরের ১৪তম স্থান থেকে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের ৩,৩১৪ জন শিক্ষার্থী থেকে বেড়ে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ১০, ৫৯৭ জন হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর ১৯৭৪-১৯৭৫ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকাতে লেখাপড়া করতে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৮০ জন।"যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবসময় স্বাগত জানায়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন যুগান্তকারী গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়া থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের জীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, “আমরা জেনে আনন্দিত যে সময়ের সাথে আরো বেশি সংখ্যক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছে," ।যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক/স্কলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষা-তহবিল/বৃত্তির সুযোগ সম্পর্কিত ভার্চুয়াল ও সশরীরে উপস্থিত হয়ে অংশ নেওয়া যায় এমন বেশ কয়েকটি তথ্যবিনিময় সেমিনার ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশস্থ এডুকেশনইউএসএ পরামর্শ কেন্দ্রগুলো শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের উপর যেমন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার অনন্য সুবিধাগুলো কী তা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করবে এবং সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করার জন্য স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করবে। এই ধরনের বিশেষ অধিবেশনগুলোতে বক্তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা, আমেরিকার কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তি বিষয়ক কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, যারা আমেরিকাতে পড়াশোনা করতে যাওয়ার আবেদন প্রস্তুত প্রক্রিয়া, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা ও পেশাজীবী বিনিময় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। আরো তথ্যের জন্য https://www.facebook.com/EdUSABangladesh ব্রাউজ কিংবা ইমেইলে [email protected] যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।প্রতি বছর, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ওপেন ডোরস রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া-সহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার সমর্থনে প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং শিক্ষা বিভাগের নীতি বিষয়ক যৌথ বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।এডুকেশনইউএসএ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শিক্ষা বিষয়ক একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, যার অধীনে ৪৩০টিরও বেশি পরামর্শ কেন্দ্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমেরিকাতে অধ্যয়ন করার বিষয়ে সঠিক, সর্বশেষ এবং বিস্তারিত তথ্য দেয়। এডুকেশনইউএসএ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পরামর্শ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নের সুযোগ সম্পর্কিত তথ্য বিনামূল্যে দিয়ে আসছে। যেসব আমেরিকান স্পেস কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত পরামর্শক/উপদেষ্টারা ভার্চুয়াল এবং ব্যক্তিগত তথ্য অধিবেশনের আয়োজন করে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিনামূল্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও দলভিত্তিক পরামর্শ সেবা দেয় তার মধ্যে রয়েছে:• আমেরিকান সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকা;• এডওয়ার্ড এম. কেনেডি (ইএমকে) সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দা আর্টস, ধানমন্ডি, ঢাকা;• আমেরিকান কর্নার খুলনা (নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনা, শিববাড়ী মোড়, খুলনা);• আমেরিকান কর্নার সিলেট (সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শামীমাবাদ, বাগবাড়ী, সিলেট);• আমেরিকান কর্নার রাজশাহী (বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাড়ি # ৫৩২, জাহাঙ্গীর সরণি, তালাইমারি, রাজশাহী- ৬২০৪); এবং• আমেরিকান কর্নার চট্টগ্রাম দূতাবাস বর্তমানে একজন এডুকেশনইউএসএ এডভাইজরের মাধ্যমে এই কর্নারে ভার্চুয়াল পরামর্শ সহায়তা দিচ্ছে। আরো তথ্যের জন্য [email protected] করতে বলা হয়েছে। ওপেন ডোরস হলো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বা শিক্ষাদানকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এবং আমেরিকান শিক্ষার্থী যারা বিদেশে তাদের নিজ দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্রেডিট অর্জন করার জন্য অধ্যয়নরত তাদের বিস্তারিত তথ্যভান্ডার। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষক এবং শিক্ষাপূর্ব নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রকাশ করে। বার্ষিক প্রতিবেদনটি সোমবার, ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে৷ ওপেন ডোরস ২০২২ রিপোর্ট সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে দেখুন: https://opendoorsdata.org/annual-release/ ৷ আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ (আইইডব্লিউ) সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য দেখুন: https://iew.state.gov 

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা।ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিল বাংলাদেশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় ২৫ কোটি ডলার এবং বাকি ৭৫ কোটি ডলার বিভিন্ন কিস্তিতে ঋণ দেবে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। রোববার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সফররত বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার। বৈঠক শেষে ইআরডির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ৩০ বছরে ২ শতাংশ সুদসহ ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। গ্রিড ডিপিসি সিরিজের আওতায় এ ঋণ দেবে সংস্থাটি। দুই বছরের মধ্যে বাকি ৭৫০ মিলিয়ন ঋণ দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার। কর্মকর্তারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ ৯টি পণ্য আমদানি করতে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সম্ভাব্য ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হবে। এসব প্রভাব মোকাবিলায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ চাওয়া হয়। এ জন্য আলাদা উইন্ড খুলে গ্রিড ডিপিসির আওতায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে সংস্থাটি। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ। এর আওতায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে সংস্থাটি। বাকি ২৫০ মিলিয়ন একই সময়ে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫০ মিলিয়ন ডলার মিলবে।

post
বাংলাদেশ

চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ডব্লিউইউএসটি ও পিপলএনটেকের প্রশংসায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, এমপির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর এবং পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অব আইটির প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ।বুধবার ৯ই নভেম্বর দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একান্ত বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে আবুবকর হানিপ দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় তিনি বলেন, 'অদক্ষ শ্রমিকদের চেয়ে বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স বহুগুণ বাড়ানো যায়। মন্ত্রী এসময় পিপলএনটেকের অবদানের প্রশংসা করেন,এবং বলেন, যেভাবে এটি প্রায় ৭০০০ বাংলাদেশিকে আমেরিকার মূল ধারায় আইটি দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে কাজ দিতে পেরেছে তাতে সত্যিই আমি মুগ্ধ । এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পরিচালনার জন্য এর চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশি মেধাবীদের জন্য নেওয়া স্কলারশিপ প্রোগ্রামের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সভা শেষে চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিবিএফ-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মাসুদ এ খান, পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অব আইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশরুল হোসাইন খান লিওন।

post
বিনোদন

ওরা বাংলায় গান গায়, বাংলা গানে নাচে, ওরা বাংলা স্কুলে পড়ে

ওরা বাংলায় গান গায়... ওরা বাংলার গান গায়। ওরা নিজেকে বাংলায় খুঁজে পায়। ওরা হয়তো বাংলার মায়া ভরা পথে হাঁটেনি কখনো.. কিন্তু ওরা বাংলাকে ভালোবাসে। বাংলার হাত ধরে মানুষের কাছে আসে। কারণ ওরা বাংলা স্কুলে পড়ে।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ফলসচার্জ এলাকায় শনিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই বাংলাপ্রেমি, বাংলাপাঠী একগুচ্ছ শিশু-কিশোর-কিশোরীর মেলা বসেছিলো এখানকার জেমস লি কমিউনিটি সেন্টারে। এই শিশু-কিশোররা সকলেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি নতুন প্রজন্ম। এদের কেউ হয়তো প্রবাসে তৃতীয় প্রজন্মের, কেউ দ্বিতীয়। নিয়মিত স্কুলে ওদের বাংলা শেখার সুযোগ নেই। সাধারণ কথা যখন বলে তখন বোঝা যায় ওদের ভাষাটাই ইংরেজি। তারপরেও ওরা বাংলাকে ভালোবাসে। আর তাই ওরা বাংলাস্কুলে পড়ে। সেই পাঠে তাদের আত্মনিয়োজন আছে। আছে ভালোবাসা। তারই স্বীকৃতি দিতে জেমস লি সেন্টারের মিলনায়তনে ওদের পুরষ্কৃত করা হলো। তুলে দেওয়া হলো উপহার। অনুষ্ঠানের নামটাই ছিলো- বাংলাস্কুল আয়োজিত ৩০তম উপহার বাংলাদেশ মেলা। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো সনদ। তাদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হলো মেডাল। এদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলো সেরাদেরও সেরা। তারা ভূষিত হলো বিশেষ পুরষ্কারে। তবে উপহার নিতে এসে সবচেয়ে বড় উপহার যেনো দিয়ে গেলো এই শিশু-কিশোর-কিশোরীরাই। তারা গাইলো। তারা নাচলো। শোনালো কবিতা। বাংলা গানের সুরে সুরে তারা ভরে তুললো মিলনায়তন। নৃত্যতালে তারা মুগ্ধ করলো দর্শকদের। মিলনায়তন দর্শকে ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। তারা উপভোগ করছিলেন এই শিশু-কিশোরদের একের পর এক দারুণ সব উপস্থাপনা। স্কুলের শিক্ষক আর স্কুল বোর্ডের পরিচালকরা এই অনুষ্ঠানটিকে নিয়ে যে ছিলেন কতটা আন্তরিক তা এর গোছানো পরিবেশনা থেকেই আন্দাজ করা গেলো। তবে শিক্ষকরা বিশেষ করে স্কুলে মিউজিক একাডেমির নাচ ও গানের শিক্ষকরা যেনো তাদের সবটুকু ঢেলে দিয়ে তৈরি করেছিলেন ওদের। বিশেষ করে যখন একসঙ্গে এক তালে শিশুরা গাইলো সমবেত কণ্ঠে বাংলার দুই প্রধান কবির দুই গান... ববি ঠাকুরের- ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা আর কাজী নজরুলের ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি। দেশের জন্য এই দুই গানের এমন সুমিশ্রিত পরিবেশনা আর কেউ কি শুনেছে কখনো? পরে শিশুরা সমবেত ভাবে গাইলো আরেকটি গান- তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে। তাতে কেউ গাইলো কেউ কণ্ঠ মেলালো, কেউ বা হাত দুলিয়ে দিলো তাল।একজন কবিতা পড়ে শোনালো যা লেখা হয়েছিলো এই স্কুল আর এই উপহার আয়োজন নিয়েই। মাঝে একবার পরিচিতি পর্ব হয়ে গেলো স্কুল বোর্ডের পরিচালকদের। তবে মূল পরিবেশনা তখনো বাকি। ষড়ঋতুতে আবর্তিত প্রিয়দর্শিনী জননী আমার গীতিনৃত্যাল্লেখ্য এই শিরোনামে যে উপস্থাপনাটি হয়ে গেলো তা দর্শকদের যেনো ভাসিযে নিয়ে গেলো তাদের প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশে। বাংলার ষড়ঋতুকেই তারা দেখতে পেলেন নাচের মুদ্রায়... শুনতে পেলেন গানে ও কথায়। তবে পুরোটাই ঋতু সৈন্দর্যের কবি রবীন্দ্রনাথে ভর করে। দারুণ এক গ্রীস্মবন্দনায় নৃত্যে শিক্ষক ও স্বনামধন্য শিল্পী রোজমেরি মিতু রোজারিও নেচে গেলেন মঞ্চে আর শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানালেন গ্রীস্মের গান দারুণ অগ্নিবানেরে হৃদয়ে তৃষা হানেরে... এই গানের ঝংকারে নাচার জন্য। আর বর্ষার আবাহনী নৃত্যে প্রকৃতিতে নতুন প্রাণ জাগা এক মওসুম এই বর্ষাকে উপস্থাপন করলেন রোজমেরী। সেই বর্ণনা নৃত্যের পর মেয়েরা এসে নাচলো ময়ুরের পেখম খুলে- নাচ ময়ুরী নাচ রে পেখম খুলে নাচরে এই গানে। শরতকে ডাকা হলো শিউলি সৌন্দর্য্যের জপে। শিক্ষক রোকেয়া জাহান হাসি তার অনন্য নাচের মুদ্রায় মঞ্চ রাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিলেন। আর সেই রবি ঠাকুরের গান দেখো দেখো দেখো শুকতারা আঁখি মেলে চায় প্রভাতের কিনারায়...বাদ্যগানে মেয়েরা মঞ্চকে ভরে তুললো তাদের নাচের কিন্নরিতে। হেমন্তের আবাহনে তারা দেখালো নাচ মেঠোসুরের বিপরীতে সেই অনন্য গান আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা। শিক্ষক রোজমেরি রোজারিও নেচে গেলেন কথায় আরা মেয়েরা মঞ্চে এসে যেনো তারাই নীল আকাশে ভাসিয়ে দিলো সাদা মেঘের ভেলা। প্রকৃতিতে শীতল পরশ নিয়ে আসা পৌষের বর্ণণায় এলো নবান্নের কথা। পিঠে পায়েসের কথা। সেসব কথামালায় নাচলেন শিক্ষিকা রোকেয়া জাহান হাসি। তার আহ্বানে মঞ্চে মাতিয়ে বাংলা স্কুলের মেয়েরা সব নাচলো পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয় আয় আয়... গানে। এরপর ঋতুরাজ। শিক্ষক রোজমেরি বসন্ত আবাহন শেষ করলেন কথামালার বিপরীতে নেচে। আর মেয়েরা নাচলো কিছু স্বপ্ন, কিছু মেঘলা, কিছু বই টই ধুলো লাগা কিছু ইচ্ছে, সাড়া দিচ্ছে এ বসন্ত রাত জাগা... এই গানে ওদের নাচের মুদ্রায় আর কিন্নরিতে মঞ্চ মাতলো, মাতলো দর্শকও। এমন একটা অনন্য পরিবেশনায় দর্শকের স্ট্যান্ডিং ওভেশন থাকবে সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। হলোও তাই। করতালিতে মঞ্চ কাঁপলো কাঁপলো মিলনায়তন। এই শিশুদের উৎসাহ দর্শকরা যেমন দিচ্ছিলেন তেমনি বাংলাস্কুলের কর্তৃপক্ষের মুখেও শোনা গেলো গর্বের সব উচ্চারণ। এই শিশুদের কথা বলছিলেন স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শামীম চৌধুরী। তিনি বলছিলেন কেনো তারা বাংলা স্কুলে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি নাচ ও গান শেখান। এরপরে একটি একক নৃত্য হয়ে গেলো মরিয়ম ইসলামের। বাংলাস্কুলের প্রাক্তন। এখন যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী। সে নেচে দেখালো বাঁশি কেনো গায় আমারে কাঁদায় এই গানে। এরপর কিছু সম্মাননা দেওয়ার পালা চললো। সম্মানিত করা হলো বাংলাস্কুলের আজীবন সদস্যপদ পাওয়া কয়েকজনকে। তবে শিশুদের গান তখনও বাকি। এরপর কিছু ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক গানের পরিবেশনা হলো। এভাবে কয়েকটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাস্কুলের এই উপহার। একটি অনন্য সন্ধ্যা কাটালেন ভার্জিনিয়া-ডিসি মেরিল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষগুলো। নিশ্চয়ই তারা থাকবেন বছর পার করে আরেকটি উপহার কবে আসবে তার অপেক্ষায়।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.