post
যুক্তরাষ্ট্র

ডিসি একুশে অ্যালায়েন্সের আয়োজনে ভার্জিনিয়ায় উদযাপিত হলো অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

আরও একটি মিলনমেলা। গত ১৩ বছর ধরে এভাবেই হয়ে আসছে। বছর জুড়ে সবাই যেন অপেক্ষায় থাকে এই একটি দিনের। ফুলের তোড়া হাতে শনিবার বিকেল দলে দলে এভাবে জড়ো হতে থাকে আর্লিংটনের কেনমোড় মিডল স্কুলে। উদ্দেশ্য সবাই মিলে মানবজাতির জন্য বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে শ্রদ্ধাভরে উদযাপন করা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার বাংঙ্গালী কমিউনিটির ২৫টি সংগঠনের মিলিত এক নাম ডিসি একুশে অ্যালায়েন্স। এদের মধ্য থেকে প্রতিবছর যে কোন একটি সংগঠন প্রতিবছর সব বাঙালী হৃদয়কে এক মঞ্চে এক করার দায়িত্বটি পালন করে থাকে। এবার ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই ফোরাম ডুয়াফি পেয়েছিলো সে দায়িত্ব। তাদের ব্যাবস্থাপনায় এবং আর্লিংটন আর্টস ও আর্টিলিংটন কাউন্টির সহযোগিতায় হয়ে গেলো পরিপূর্ণ এক আয়োজন। শনিবার বিকেল সাড়ে পাচটায় নির্ধারিত সময়ের আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সবাই মিলে গাইলেন একুশের প্রথম প্রহবের প্রভাতফেরীর সেই গান-আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। শুধু গানই নয় ফাকে ফাকে চলতে থাকে মহান একুশ নিয়ে অসাধারণ সব কবিতার আবৃত্তি। 'রক্তে প্রলয় দোলা' শিরোনামে শিল্পীরা গান গাইলেন সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্মরণে। মৃত্যুঞ্জয়ী শিরোনামে ছিলো আবৃত্তি জানেন দাদা আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না। এই পর্ব শেষে মঞ্চে উঠে আসেন এই আয়োজনকে সফল করে তোলা ২৫টি সংগঠনের কর্তব্যাক্তিরা। যেখানে সবার মাঝে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও পিপলএনটেকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। আয়োজনের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পরের পর্বটি ছিলো অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষনীয় অংশ। আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠা শিশুরা গাইলো আমি একবার দেখি বারবার দেখি বাংলার মুখ। পুরো অডিটোরিয়ামে শুনশান নিরবতা। সবাই গাইলেন তাদের সাথে। তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করলো উপস্থিত সকলে। কারণে এই শিশুরা এই বিদেশী সংস্কৃতি পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েও বাংলা ভাষাটাকে যেভাবে লালন করছে তা সত্যিই এক মুগ্ধতার বিষয়।  অডিটোরিয়ামের বাইরে ঠিক তখনই চলছিলো শিশু কিশোরদের নিয়ে আরেকটি ইভেন্ট, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগী। তিনটি গ্রুপের পঞ্চাশ জনের মতো প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন সেখানে। প্রতিযোগীতা শেষে তাদের চর্চাা আর প্রতিভা দেখে মুগ্ধ বিচারকরা। মুগ্ধ করেছেন একুশ নিয়ে লেখার প্রতিযোগিরাও। দুই বিভাগের সেরাদের পুরস্কৃত করা হয় মঞ্চে। কিংবদন্তী নৃত্যশীল্পী লায়লা হাসানের দল পরিবেশন করে নৃত্যনাট্য 'একুশ আমার অহঙ্কার'। ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস ও মাতৃভাষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন আয়োজনের প্রধান অতিথী যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমরান হোসেন। তিনি বলেন ভাষার অধিকার রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে যে আত্মদানের গৌরবোজ্জল ঘটনা ঘটেছিলো তা সারা বিশ্বে বিরল। মাতৃভাষার জন্য জীবনদানের মাধ্যমে আমাদের ভাষা শহীদরা পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করেছিলেন। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এরপর মঞ্চে উঠে একসাথে কথা বলেন আরলিংটন কাউন্টি বোর্ডের চেয়ার ক্রিস্টিয়ান ডরসি, আরলিংটন বোর্ড মেম্বার কে টি ক্রিস্টাল এবং টাকিস কেরানটোনিস, ইউ এস সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারের অফিসের রিজিওনাল ডিরেক্টর টানিয়া টেলেন্টো। তারা বলেন, বাঙালি জাতিকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে অমর একুশের রয়েছে অসামান্য অবদান। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত আজ সারাবিশ্ব। একুশ একটি চেতনা, বৈশ্বিক প্রতীক ও একটি মহান বিপ্লবের নাম। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বাঙালির জীবন উৎসর্গের ঘটনা বিশ্বের বুকে এক অনন্য ইতিহাস। রাষ্ট্রদূত মো: ইমরানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী মিনারে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সবাই।  আয়োজনের পরের অংশে ছিলো একটি নাটিকা। নতুন সংস্কৃতি কি করে বাংলা ভাষাকে তার গৌরবের স্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছে তারই প্রেক্ষাপটে বিবেকের জাগরণ ও চেতনাবোধের পুনর্বিকাশকে ফুটিয়ে তোলা হয় নাটকে । নাটকের রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন শফিকুল ইসলাম। এবারেও ছিলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অন্য দেশের সদস্যদের পরিবেশনা। ভারতীয় গ্রুপ তা থৈ এর পরিবেশন করে- দুই মায়ের সন্তান। আরও বলিভিয়ান গ্রুপ ফার্দিনান্দ কালচারাল পাচামামা গ্রুপের উপস্থাপনায় ছিলো টিঙ্কু ২০২৩ নামে একটি গীতিনাট্য।আর সবশেষে ছিলো অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের মূল অংশ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। ২৫টি সংগঠনের সবাই অস্থায়ী শহিদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ব্যাক্তিগতভাবেও অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্পিকারে বাজতে থাকা সেই অমর কথামালায় অমর গানখানি, সাথে ফুল হাতে থাকা মানুষগুলোও গাইতে থাকেন ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। আমেরিকা থেকে আফ্রিকা এবং ইউরোপ থেকে এশিয়া প্রতিটি দেশে, প্রতিটি রাজধানী ও শহরে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাঙালি জাতির জয়গান গাওয়া হচ্ছে। বাঙালি জাতির ২১শে ফেব্রুয়ারির সুমহান গৌরবে গৌরবান্বিত হয়ে উঠেন এই আয়োজনে আসা প্রতিটি মানুষ। বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও বিজয়ের কথা শিশু-কিশোরদের পৌছে দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাবা মারা। আর প্রতি বছর এমন আয়োজনের মাধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির ২১শে ফেব্রুয়ারির আত্মদানের ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আরও উজ্জীবিত করবে এমনটা এ প্রজন্মের বিশ্বাস।  আর বিদেশের মাটিতে এমন সব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পারবে এখান থেকে হাজার হাজার মাইল দূর এশিয়ার একটি ছোট্ট দেশ বাংলাদেশের মানুষ আজ থেকে ৬৭ বছর আগে সারা বিশ্ববাসীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির জন্য হাসিমুখে জীবন দিয়েছেন। এ সত্যি এক অন্যরকম অনুভূতি। বিষন ভালো লাগার, গৌরবের।

post
বাংলাদেশ

পেপারটেক এক্সপো ২০২৩

কাগজশিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর জন্য ঢাকায় পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে পেপারটেক এক্সপো। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেপার মিলস্ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) সভাপতি আহমেদ আকবর সোবহান। ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, মিসর, জার্মানি, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ফিনল্যান্ড ও তুরস্কের দেড় শতাধিক কোম্পানি পেপারটেক এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে। ফরিদ প্রোডাক্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, 'আমরা বিভিন্ন মেশিনারিজ নিয়ে কাজ করি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা মেশিন স্থাপন করেছি। আমাদের দেশের পেপার একদিন রপ্তানি হবে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি৷ আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সবার সামনে তুলে ধরার জন্য এই এক্সপোতে অংশ নিয়েছি।'এক্সপোতে বিভিন্ন পেপার আইটেম নিয়ে অংশ নিয়েছে ইউনুস গ্রুপ। ইউনুস গ্রুপের বিপণন বিভাগের প্রধান সুমন তারেক বলেন, 'ইউনুস গ্রুপ খুবই সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এই এক্সপোতে আমরা আমাদের দেশীয় পেপার এর সাথে পরিচয় করাতে এসেছি এবং আমরা চাই পেপার সেক্টরেও বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক।'এক্সপো প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘ঢাকাসহ বাংলাদেশের কাগজশিল্পের সব ধরনের শিল্প ইন্ডাস্ট্রির ওপর ভিত্তি করেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন। প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের কাগজ ইন্ডাস্ট্রিকে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমানের কাগজ উৎপাদনে সক্ষম করা। বর্তমানে বাংলাদেশে পেপার মিলস্, টিস্যু মিলস্, প্যাকেজিং, কনভার্টিং, প্রিন্টিং, পেপার কেমিক্যালসসহ আরও বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্প আছে। তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে কাগজশিল্পের সব ধরনের মেশিনারিজ, উপকরণ ও পণ্য।’ ১৬ দেশের দেড় শতাধিক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে এবার প্রদর্শনীতে। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী হয়েছে। 

post
বাংলাদেশ

স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে নারীর অন্তর্ভুক্তি এবং ভূমিকা নিয়ে সফটএক্সপোতে বিশেষ সেমিনার

দেশের সফটওয়্যার ও সেবা পণ্য নির্মাতাদের সংগঠন বেসিস “ওয়েলকাম টু স্মার্টভার্স “ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০২৩। চার দিনের এই প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।বেসরকারিভাবে আয়োজিত এবারের প্রদর্শনী রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।সেই প্রদর্শনী উপলক্ষে থাকছে নানান আয়োজন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দেশে প্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরের সফল নারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, অভিনেত্রীকে নিয়ে হবে একটি বিশেষ সেমিনার। এই সেমিনার নিয়ে এরই মধ্যে নেটিজেনদের মাঝে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নারীর অন্তর্ভুক্তিকে এখানে বড় করে দেখানো হয়েছে। যুক্তিতে নারী এবং স্মার্ট বাংলাদেশে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে ২৩ ফেব্রুয়ারি মেলা প্রাঙ্গনে লিডারদের নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারের বিষয় ইনক্লুসন অব ওমেন ইন স্মার্ট বাংলাদেশ। সেমিনারটি বেসিস ও বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডাব্লিউআইটি) যৌথভাবে আয়োজন করছে। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী এখন আইসিটি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যার হার দিন দিন বাড়ছে। এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি এ খাতে। বেসিস এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বেসিসের নারী সদস্যদের নিয়ে তৈরি করেছে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম বেসিস ওমেন’স ফোরাম। নারীর ক্ষমতায়নে এই প্ল্যাটফর্মটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তারই ধারাবাহিকতায় আয়োজন করা হয়েছে ইনক্লুসন অব ওমেন ইন স্মার্ট বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার।প্রযুক্তিতে মহিলাদের জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষার জন্য অনেক সহায়তা সংস্থা রয়েছে। ডেটা অ্যানালাইসিস থেকে শুরু করে সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ-সহ প্রযুক্তিতে মেয়েরা এমন একটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে যা তাদের অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়।কারা থাকছেন সেমিনারে সে তালিকায় একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন নারী শক্তির অন্যতম সাহসিকা নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব ওমেন -এর উপাচার্য ড. রুবানা হক, স্বনামধন্য ব্যারিস্টার ও ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা নিহাদ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটিকস ও মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, তরুণ উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজির সভাপতি ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা রেজওয়ানা খান, বিশিষ্ট অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন, ডাটা অ্যানাইলসিস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জারা জাবিন মাহবুব, তরুণ উদ্যোক্তা ও বেসিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিরা জুবেরি হিমিকা। আলোচকরা এই তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি তাদের নিজের অভিজ্ঞতা জানাবেন। তারা নিজেরা কিভাবে আজ এই পর্যায়ে এলেন, কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে, চারপাশের সাপোর্ট কিভাবে পেয়েছেন, বা আদৌ পেয়েছিলেন কিনা, প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে কাজ করে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন তা আমন্ত্রিত শ্রোতা দর্শকের সামনে তুলে ধরবেন।ফ্যাসিলিটেসন এবং কন্সাল্টেন্সি প্রতিষ্ঠানের চিফ ইন্সপিরেশন অফিসার ডন সামদানি সঞ্চালনায় সফটএক্সপোর প্রথম দিনে বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই সেমিনার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে ইতোমধ্যেই নিবন্ধন করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সংযুক্ত বহু নারী উদ্যোক্তা, পেশাজীবি এবং শিক্ষার্থী।

post
বাংলাদেশ

কার্যাদেশের বিপরীতে জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন এসএমই উদ্যোক্তারা: এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন

কার্যাদেশের বিপরীতে জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন এসএমই উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং থিংকবিজ সলিউশন ট্রেডেক্স)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এসএমই ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে এসএমই ফাউন্ডেশন ও থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স) এর উদ্যোগে আয়োজিত ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স বিষয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ফাইন্যান্সার ও সাপ্লায়ার ম্যাচমেকিং ও মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জিন্নাত রেহানা, প্রশাসক (যুগ্মসচিব), বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর্স এসোসিয়েশন (বাপা) এবং ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডএক্স অনলাইন)। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক নাজিম হাসান সাত্তার। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহ উদ্দিন মাহমদু এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এমএসএমই) একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় এসএমই খাত উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের ঋণ সহায়তা (প্রচলিত ব্যাংক ঋণ) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাগণের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। ঋণ প্রাপ্তির পর পণ্য তৈরি করে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহের মাধ্যমে প্রাপ্ত ‘ট্রেড রিসিভেবল’ সমূহের বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি সহজ ও স্বয়ংক্রিয় নয়। তাছাড়া ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিয়েও উদ্যোক্তাবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা হিসেবে 'ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স' শিল্প খাতে বিশেষত এসএমই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।উল্লেখ্য, কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তার বকেয়া বিল ডিসকাউন্ট/কমিশনে দেনাদার ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে বিক্রি করাকে ফ্যাক্টরিং বলে। মূলত: কোন পণ্য উৎপাদনকারী বা সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোন অর্ডারের বিপরীতে পণ্য বা সেবা প্রস্তুতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য অর্ডারটি তৃতীয় কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট কমিশনে বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহ করার পদ্ধতিই হলো ফ্যাক্টরিং। চলতি মূলধন সংকট লাগবের লক্ষ্যে অর্ডার দাতা এবং পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত তৃতীয় কোন পক্ষের নিকট হতে তহবিল সংগ্রহের জন্য ফ্যাক্টরিং উন্নত দেশে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স একটি জামানতবিহীন অর্থায়ণ প্রক্রিয়া, যা বিলম্বিত পরিশোধের শর্ত এবং চেকের মাধ্যমে পরিশোধ ব্যবস্থা থাকলে যে কোনো পন্য বা সেবা উৎপাদনকারী গ্রহণ করতে পারে। বৈধ কাগজপত্র যেমন ট্রেড লাইসেন্স, এনআইডি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিক্রয় ডাটাসহ দেনাদারের তথ্য দিয়েই যে কোনো প্রতিষ্ঠান সহজে এ সেবা নিতে পারে। ‘ফ্যাক্টরিং’ এর সাথে এলসি এর মূল পার্থক্য হলো ‘এলসি’ একটি পেমেন্ট পদ্ধতি আর ‘ফ্যাক্টরিং’ এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ হতে মূলধন জোগান করা হয়। স্বল্প মেয়াদী এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা হিসেবে 'ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স' শিল্প খাতে বিশেষত এসএমই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় এলসির মাধ্যমে। কিন্তু এলসি পদ্ধতিতে বাণিজ্য করা সময়সাপেক্ষ ও জটিলতানির্ভর। তাছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) ব্যবসায়ীদের জন্য এলসি পাওয়া আরো কঠিন। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স একটি বিশেষ বিকল্প হতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের এক প্রতিবেদনে করোনার প্রভাব মোকাবেলায় রফতানি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে ফ্যাক্টরিং প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।এসএমই ফাউন্ডেশন এবং থিংকবিগ সলিউশনস এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাইলট আকারে থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স) -কে ১৮ জানুয়ারি ২০২২ লোকাল ফ্যাক্টরিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করার অনুমোদন প্রদান করা হয়। ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স কার্যক্রমের প্রচার ও প্রসারে যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২১ ডিসেম্বর ২০২২ এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স)-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্পোরেট, ফাইন্যান্সার ও সাপ্লায়ার ম্যাচমেকিং এবং ফাইন্যান্সিং কর্মসূচিতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, এসএমই চেম্বার/অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, এসএমই উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

post
এনআরবি লাইফ

অদম্য উদ্যোক্তার খোঁজে দে স্ট্যার্ক এন্ট্রেপ্রেনিউরস বাংলাদেশ

ক্ষু্দ্র এবং অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশনের আয়োজন করে ডি স্টার্ক অনটারপ্রনার বাংলাদেশ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির বেক ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি সেন্টারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের ২ মাসব্যাপী আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হলো। আইনসেবা এবং বি টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ হাবের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়৷ টেকসই এবং অদম্য উদ্যোক্তাদের খু্ঁজে বের করতেই এ ধরনের আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।  আইন সেবার ফাউন্ডার ব্যরিস্টার রহিমা হক বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ করা। কেননা উদ্যোক্তারা পণ্য কেনা বেচা করছেন কিন্তু কোনো রকম পরিকল্পনা করছেন না৷ যার কারণে টেকসই উদ্যোক্তা হচ্ছেন না। আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন কিন্তু টেকসই উদ্যোক্তা না থাকায় অনেকেই ঝরে যাচ্ছেন।  তিনি আরো বলেন, অনেক উদ্যোক্তা জানেন না বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসেব কিভাবে করতে হয়। কত টাকা ইনভেস্ট করতে হবে, কোন কোন খাতে তার অর্থের প্রয়োজন এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। আমরা সেই উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করতে চাই যারা ঝড় বৃষ্টি যাই আসুক অদম্য গতিতে কাজ করতে পারবেন এবং তাদের যে সকল সেক্টরে ঘাটতি রয়েছে আমরা সেগুলো মনিটরিং এবং ট্রেনিং এর মাধ্যমে টেকসই করার চেষ্টা করবো। বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশনে ১৫ জন উদ্যোক্তা থেকে চূড়ান্ত পর্বে আটজন উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে সেরা ৩ নির্বাচন করা হয়৷ ফাইনাল পর্বে বিচারক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উদ্দিন আকবর; ট্রিম টেক্স এর স্বত্ত্বাধিকারী এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা শাহীদা পারভীন; প্রাইম ব্যাংক এর ওমেন অন্ট্রাপ্রেনিয়র ডেভেলপমেন্ট ইউনিট হেড সাজিয়া আফরিন। ফাইনাল পর্বে প্রতিযোগীরা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাদের উদ্যোগের বাজেটিং, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান প্রক্রিয়া, বাজার রিসার্চ, ব্যবসায় সম্প্রসারণের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে আলোচনা করেন । বিচারকদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর, বিগত ২ মাসের বিভিন্ন এ্যাসেসমেন্ট, ট্রেইনিং, সঠিক পরিকল্পনা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে সেরা ৩ নির্বাচন করা হয়। তিন সেরা উদ্যোক্তার মধ্যে প্রথম হয়েছেন বেনে বৌ এর কর্ণধার মুনমুন, ১ম রানার আপ হাউজ অফ জামদানি'র স্বত্ত্বাধিকারী মুন দাস এবং ২য় রানার আপ জোহরা'স ভ্যানিটির ফাতেমা তুজ জোহরা৷ সেরা বিজয়ীর জন্য পুরস্কার হিসেবে ছিল; • ল্যাপটপ • ফ্রি ওয়েবসাইট (১ বছর) • ই-ট্রেডলাইসেন্স নবায়ন সেবা• ডিজিটাল মার্কেটিং প্যাকেজ • উদ্যোগ ও উদ্যোক্তার নামে ক্রেস্ট রানার-আপ বিজয়ীর জন্য ছিল:• ফ্রি ওয়েবসাইট (১ বছর) • ই-ট্রেডলাইসেন্স নবায়ন সেবা• ডিজিটাল মার্কেটিং প্যাকেজ • উদ্যোগ ও উদ্যোক্তার নামে ক্রেস্ট প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা মুনমুন উদ্যোক্তা বার্তাকে জানান, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি আগেও অনেক বিষয়ে পরিকল্পনা ছাড়াই সিদ্বান্ত নিতাম যা অনেক ভুল ছিল আমার জন্য। আমি ধন্যবাদ জানাই আয়োজকদের এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। আমরা সবাই অনেক কিছু শিখেছি যা আমাদের উদ্যোগের জন্য খুবই কার্যকরী৷

post
আন্তর্জাতিক

তৈরি পোশাক খাতে নতুন বাজার খুঁজে বের করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

দেশে তৈরি পোশাক খাতে যারা কাজ করেন, তাদের নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা, পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেই ধরনের নতুন বাজার আমরা খুঁজে বের করতে পারি। ইতোমধ্যে কিছু পাওয়া গেছে।’ মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০২২’ উদযাপন এবং ছয়টি টেক্সাটাইল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের বস্ত্র উৎপাদন ও বিদেশে পাঠানো নিয়ে ঐতিহ্য রয়েছে। মেয়েদের কর্মসংস্থানে নতুন দ্বার উন্মোচন করে এই পোশাক শিল্প। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারী এসে যখন কাজ করে, এই কাজের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তারা বিশেষ অবদান রাখছে। একেকটি পরিবারও আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাচ্ছে।’ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফ। এজে/

post
বাংলাদেশ

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে ঋণ পেতে যাচ্ছে

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন তহবিল থেকে প্রথম ঋণ পেতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বে প্রথম এই ঋণটি পায় বার্বাডোজ, তারপর কোস্টারিকা, আর সবশেষে রুয়ান্ডা। এরপরই ঋণ পাওয়ার তালিকায় আছে আরও পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশের নাম। নতুন এই ঋণ তহবিলের নাম রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আইএমএফের বোর্ড এই তহবিলের অনুমোদন দেয় আর কার্যকর হয় পয়লা মে থেকে। যেসব স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্যই এই তহবিলের সৃষ্টি। আইএমএফ বলছে, যেসব দেশের আয় কম, ঋণ পরিশোধের দায় বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, এতে উন্নয়ন ব্যয়ে ঘাটতি পড়ে, তাদের জন্যই এই তহবিল। সংস্থাটি বলছে, কোভিড-১৯-এর পরে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশেরই ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এই তহবিলের প্রয়োজনও অনেক বেড়ে গেছে। জলবায়ু ঝুঁকি যেভাবে দায় বাড়াচ্ছে আইএমএফের মতে, জলবায়ু ঝুঁকি একটি দেশের ঋণসংকটকে তীব্রতর করে। দুইভাবে সরকারের এই ঋণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যেমন ঋণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে তার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের ঋণ মান সংস্থাগুলো সম্প্রতি কোনো কোনো দেশের ঋণ ঝুঁকি (কান্ট্রি রিস্ক) যাচাইয়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো ভৌত পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিকে বিবেচনার মধ্যে আনছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ঋণ গ্রহণে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সুদ। জাতিসংঘের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের সুদ পরিশোধে প্রতি ১০ ডলারে অতিরিক্ত আরও ১ ডলার ব্যয় করতে হয়। অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বাংলাদেশের রাজস্ব আয় অত্যন্ত কম। দেশের রাজস্ব আয় এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আর প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়ের ২১ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। বিপুল অঙ্কের এ ঋণদায় মেটাতে সরকারকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটঘাটতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারও ঋণ নিতে হয়। এভাবে ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হয় বলে জলবায়ু অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকছে। বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জলবায়ু অর্থায়নে বাজেটে বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। আর এর আগের দুই অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে সরকারের চলমান বৃহৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার প্রকল্পগুলোতে জিডিপির ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।অর্থনৈতিক মন্দাদশার চাপ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। এর ৫৮ শতাংশই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ। আর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এক যৌথ প্রতিবেদনে ঋণের স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো নিম্ন ঋণ ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছরজুড়েই ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা এখন ৮ শতাংশের বেশি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে আছে নানা উদ্বেগ। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ওঠানামা রয়েছে। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। ফলে আড়ালেই চলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি বনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ পরিচালিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক’ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুই দশকে এ ক্ষেত্রে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৭২ কোটি ডলার। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশে কৃষি খাতের অবদান এখনো মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশ আজও কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিককালে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহারের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে ধ্বংস হয়েছে পটাশিয়ামসহ মাটির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশ্বব্যাংক বলছে, গত ৩০ বছরে মাটিতে সারের ব্যবহার ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ৩০ বছরের মধ্যে দেশে খাবার পানীয় ও সেচব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। এতে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত চাল উৎপাদন কমে যেতে পারে। চাল ছাড়াও গম, সবজি ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ প্রভাব পড়বে।শুধু বাংলাদেশই নয় উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু ঋণ পরিশোধের চাপে জলবায়ু অর্থায়নে রাজস্ব সক্ষমতা হারাচ্ছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ একা নয়। জলবায়ু ঝুঁকিতে আছে এমন ৫৫টি স্বল্প ও উন্নয়নশীল দেশ মিলে গঠন করেছে ভালনার‍্যাবল গ্রুপ অব টোয়েন্টি (ভি ২০)। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। গ্রুপের ২২টি দরিদ্র দেশ ইতিমধ্যে উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে আছে। ভি ২০ গ্রুপের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এসব দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যৌক্তিক সমাধান করা না গেলে আগামী দশকে একটি বড় বৈশ্বিক ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন তহবিল কতটা সহায়ক বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে। এর মধ্যে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ থেকে চেয়েছে ১৩০ কোটি ডলার। নিয়ম হচ্ছে, আইএমএফের কোনো একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে থাকলেই কেবল আরএসটি থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশই এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই ঋণ চেয়েছে। ঋণের অর্থ দেওয়া হবে ১৮ মাসে। পরিশোধের সময় ২০ বছর, আর এর বাড়তি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে সাড়ে ১০ বছর। এই ঋণের সঙ্গেও শর্ত থাকবে। ঋণ পেতে আইএমএফের ভাষায় বেশ কিছু উচ্চ মানের বা ‘হাই কোয়ালিটি’ সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করার মতো কর্মসূচি। প্রশ্ন হচ্ছে এই তহবিল কি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর হবে। বাংলাদেশই বা লাভবান হবে কতটা। আসলে এর উত্তর পাওয়া যাবে সামনের দিনগুলোতেই। সুত্র- প্রথম আলো 

post
বাংলাদেশ

২০২২ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৯৯৫১ জন

বিদায়ী ২০২২ সালে বাংলাদেশে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। আগের বছরের চেয়ে এই বছর সড়কে দুর্ঘটনা ১৯.৮৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে গেল বছর।সোমবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য জানিয়েছে। একই সময় রেলপথে ৬০৬ দুর্ঘটনায় ৫৫০ জন নিহত এবং ২০১ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ৩০৭ জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৭৬১৭টি দুর্ঘটনায় ১০৮৫৮ জন নিহত এবং ১২৮৭৫ জন আহত হন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে দেখা গেছে, বিদায়ী ২০২২ সালে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। নিবন্ধিত যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ব্রি-হুইলার সরকারি আদেশ অমান্য করে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে চলাচলের কারণে বিগত আট বছরের মধ্যে বিদায়ী ২০২২ সালে সড়কে সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানায় সংস্থাটি। বিদায়ী ২০২২ সালে সারাদেশে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। আগের বছরের চেয়ে এই বছর সড়কে দুর্ঘটনা ১৯.৮৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে গেল বছর। সোমবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য জানিয়েছে। একই সময় রেলপথে ৬০৬ দুর্ঘটনায় ৫৫০ জন নিহত এবং ২০১ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ৩০৭ জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৭৬১৭টি দুর্ঘটনায় ১০৮৫৮ জন নিহত এবং ১২৮৭৫ জন আহত হন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে দেখা গেছে, বিদায়ী ২০২২ সালে ছয় হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন। নিবন্ধিত যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ব্রি-হুইলার সরকারি আদেশ অমান্য করে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে চলাচলের কারণে বিগত আট বছরের মধ্যে বিদায়ী ২০২২ সালে সড়কে সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানায় সংস্থাটি। সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত তিন হাজার ৯০ জন চালক, এক হাজার ৫০৩ জন পথচারী, ৭৪২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক, ২৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এক হাজার ১৫০ জন নারী, ৭৯৪ জন শিশু, ৪৪ জন সাংবাদিক, ৩১ জন চিকিৎসক, ১৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাঁচজন শিল্পী, নয়জন আইনজীবী ও ২৯ জন প্রকৌশলী এবং ১৬৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। নিহত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১১৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৭ জন সেনা সদস্য, ৬২ জন পুলিশ সদস্য, নয়জন বিজিবি সদস্য, পাঁচজন নৌ-বাহিনীর সদস্য, আটজন আনসার সদস্য, দুইজন ডিজিএফআই সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য, একজন সিআইডি, একজন এনএসআই সদস্য, ১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ২৪ জন সাংবাদিক, ৭০৩ জন নারী, ৫৮৮ জন শিশু, ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী, ১১৭ জন শিক্ষক, ২৩৮৩ জন চালক, ৪২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ২৭ জন প্রকৌশলী, নয়জন আইনজীবী, ১৩৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৩১ জন চিকিৎসক। এ সময়ে সংঘটিত দুর্ঘটনায় সর্বমোট এক হাজার ৬১৬টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। যার ১৩.৯৫ শতাংশ বাস, ২৪.৫০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ৬.৯৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৬.২২ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৮.৫৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১১.৪২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৮.৩২ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫২.৫৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২১.৬১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৫.৭৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৮.৬৩ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৪০ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ০.৯৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত ২০২১ সালের তুলনায় বিদায়ী ২০২২ সালে ১.৫২ শতাংশ গাড়িচাপা, ০.৫৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ০.১৩ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেছিয়ে, ০.৩৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা কমেছে। ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ০.১২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সংঘটিত যানবাহনের ৩১৯ শতাংশ বাস, ৩ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২.৭৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক, ২.৫১ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ০.৭৮ শতাংশ কার জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় বেড়েছে। এছাড়া ৫.৯২ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পরি, ১.৩২ শতাংশ নসিমন-মাহিন্দ্রা-লেগুনা দুর্ঘটনা বিগত বছরের চেয়ে কমেছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বছর মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ২৭.৭০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৫২.০২ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১১.৮৮ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৬৭ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৭১ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

post
বাংলাদেশ

রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে বাংলাদেশে, ডিসেম্বরে গেছে ১৮০০০ কোটি টাকা

২০২২ সালের বিদায়ি মাস ডিসেম্বরে বাংলাদেশে গেছে ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হিসাবে) প্রায় ১৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) টানা দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স যায় দেশে। পরের চার মাস দেড় বিলিয়ন ডলারের ঘরেই থাকে রেমিট্যান্স। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার বা ১৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আগের মাস নভেম্বরের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার বা এক হাজার ৭০ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই মাসের (ডিসেম্বর) তুলনায় সাত কোটি ডলার বেশি। গত অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৩ কোটি ডলার।তথ্য বলছে, চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, আগস্টে এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এর পরই কমতে থাকে রেমিট্যান্সপ্রবাহ। পরের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাব বলছে, ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ (রিজার্ভ) কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার বা ৩৩.৮৪ বিলিয়ন ডলারে। এক বছর আগের একই দিনে ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ২২ লাখ ডলার।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে করোনার নতুন উপধরন বিএফ.৭ শনাক্ত

বাংলাদেশে করোনার নতুন উপধরন বিএফ.৭ শনাক্ত হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।চীন থেকে আসা ৪ নাগরিকের একজনের শরীরে করোনা এই নতুন ধরন শনাক্ত হয়। চীন থেকে তারা কোভিড নেগেটিভ সনদ সঙ্গে এনেছিলেন। তবে বাংলাদেশে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। 'ওই ফ্লাইটে আরও অনেকের উপসর্গ ছিল। তবে তাদের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। করোনা শনাক্ত হওয়ায় তাদের ঢাকা ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতালে পাঠানো হয়,' বলেছিলেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ। নতুন উপধরনটি অনেক বেশি সংক্রামক। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বিএফ.৭ উপধরনে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির থেকে ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.