post
এনআরবি সাফল্য

কলকাতা বইমেলায় ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

জমে উঠেছে ৪৬তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। স্পেন ‘থিমকান্ট্রি’ হলেও পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের কাছে প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ। সে কারণে বাংলাদেশ , বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ , বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ বিষয়ক বইয়ের চাহিদাই তুলনামূলক অনেকটাই বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় কলকাতা বইমেলায় মোড়ক উন্মোচন হয়েছে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ- দুই বন্ধু এক দেশ’ বইটির। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেছেন কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন। ১১২ পৃষ্ঠার এ বইয়ের লেখক কলকাতার প্রিয়জিৎ দেব সরকার এবং সহযোগী লেখক বাংলাদেশের আবু সাঈদ। বইটির বিষয়বস্তু বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্করের উদ্যোগে ১৯৭১ সালের ১লা আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে হওয়া ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। সেদিন পণ্ডিত রবিশংকর ও জর্জ হ্যারিসন ছাড়াও পৃথিবীর আরও নামিদামি শিল্পী, যেমন- বব ডিলান, ওস্তাদ আল্লারাখা, ওস্তাদ আকবর আলী খান পারফর্ম করেছিলেন। জর্জ হ্যারিসন বলেছিলেন, তারা যখন এই কনসার্টের প্রস্তুতি নেন, তখন একটি কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখা গেলো, এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে এত আগ্রহ তৈরি হলো, সেই দিনই সকাল বিকাল মিলিয়ে দুটি কনসার্ট করতে হয়েছিল। এই কনসার্ট পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।এই কনসার্টের পরই পশ্চিমের দেশগুলোর গণমাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রকাশ পায়। যা ছিল বিশ্বের সেবামূলক কনসার্টের ইতিহাসে অনন্য নজির। বইটির মোড়ক উন্মোচন করে রঞ্জন সেন বলেন, 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমাদের পাশাপাশি অন্য দেশগুলোতেও জনমত তৈরিতে খুব সাহায্য করেছিল। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবস্থা আজ বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু এ ধরনের বই বা লেখালেখি থেকে তরুণ প্রজন্ম ওই সময় কী ঘটেছিল সে ব্যাপারে কিছুটা ধারণা পাবে।পণ্ডিত রবি শঙ্করের বন্ধু জর্জ হ্যারিসন সেই সময় পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় রক গায়ক ছিলেন। রবি শঙ্করকে আমরা একজন ভারতীয় হিসেবেই চিনি। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তার সাক্ষাৎকারে শুনেছি, তিনি বলতেন, পূর্বপুরুষ সূত্রে আমি বাংলাদেশি। এই দুই বিখ্যাত মানুষ মিলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন কাজ করা শুরু করলেন, তখন পশ্চিমা দেশগুলোতে, বিশেষ করে আমেরিকায় সুধীজন, সুধীসমাজ, গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ঘটনাটি মানুষের নজরে আসে। দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ- দুই বন্ধু এক দেশ’ বইয়ের অন্যতম লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে এটি আমার তৃতীয় বই। বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে আমি ভীষণভাবে আগ্রহী। পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হতো, কোথাও একটা গ্যাপ রয়ে গেছে। এর ওপর সেভাবে আমরা কোনো বই পাই না। তাই আমি ও আমার বন্ধু আবু সাঈদ মিলে কোভিডের লকডাউনের মধ্যেই রিসার্চ করে লেখা শুরু করি। এটা নিয়ে কাজ শুরু করি। তিনি জানান বাংলা ভাষায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা বইমেলার দীপ প্রকাশনী থেকে। ১১২ পৃষ্ঠার বইটির দাম ধরা হয়েছে ২৯৯ রুপি। একুশের বইমেলায় বইটির ইংরেজি সংস্করণ বের হয়েছে ৭১ প্রকাশনা থেকে।

post
এনআরবি সাফল্য

বাংলাদেশ থেকে ৪০০ টন বাঁধাকপি যাচ্ছে তিন দেশে

যশোর থেকে ৪০০ টন বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানী করা হবে। বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানীর লক্ষ্যে চলতি বছর কন্ট্রাক ফার্মিংয়ের মাধ্যমে জেলা কৃষি বিভাগের তদারকিতে আন্তর্জাতিক মানের সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলে বাঁধা কপির দাম কমে যাওয়ার মুহূর্তে বিদেশে রপ্তানী শুরু হয়েছে। এর সুফল পাচ্ছেন যশোর সদর উপজেলার শতাধিক কৃষক। এগ্রোবেজ প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকায় ওয়ার হাউজ ও ফ্যাক্টরি স্থাপন করে কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে বাঁধাকপি রপ্তানী কাজে সহযোগিতা করে চলেছে। বাঁধাকপিসহ সবজির গুনগত মান নিরুপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে জাহাজযোগে সবজি বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। দুই মাসে ৪০০ টন বাঁধাকপির চালান মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্র আরো জানিয়েছে, জানুয়ারি মাস থেকে বিদেশে বাঁধাকপি রপ্তানী শুরু হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে যশোর থেকে বাঁধা কপির বেশ কয়েকটি চালান যাবে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে। ওই তিন দেশের সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার এগ্রোবেজ প্রসেসিং লিমিটেড যশোর কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সলিডারিড্যাট নেটওয়ার্ক এশিয়া তাদের সফল নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে রপ্তানীর কাজ শুরু করেছে। জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন যশোরও এই রপ্তানী প্রক্রিয়ায় পার্টনারশিপ হিসেবে কাজ করছে। সবজি চাষের শুরুতেই সলিডারিড্যাট বাংলাদেশ ও জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন কৃষকদের গ্রুপ তৈরি করেছে। দু’মাসে কমপক্ষে ৪০০ টন বাঁধা কপি রপ্তানী করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। কৃষকদের পরিবহণ ও প্রসেসিং খরচ কমাতে সরাসরি মাঠে চলে যাচ্ছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি। যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের তৃনমূল পর্যায়ের কৃষকদেরকে এই কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। চুড়ামনকাটি, হৈবৎপুর, লেবুতলা ও কাশিমনগর ইউনিয়নের দেড়শ’ কৃষককে সুবিধাভোগীর আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উত্তম ব্যবস্থাপনা ও টেকনিক্যাল নানা ধরনের সাপোর্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাঁধাকপি তৈরি করা হচ্ছে। একটি কপির ওজন কমপক্ষে দেড়কেজি, যা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মাফিক ওজন। ৫টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মাঠ পর্যায়ে বাঁধকপি সংগ্রহ করে রপ্তানী করবে। বাঁধাকপি ছাড়াও যশোর থেকে কচুরলতি, বেগুন ও অন্যান্য সবজি বিদেশে রপ্তানী করা হয়ে থাকে। পর্যায়ক্রমে টমেটো, সিম, করলা, উচ্ছে, পেঁপে, মাশরুম, মরিচ, কলা, লিচু,কুল, পেয়ারা, ভুট্টা, আমলকি, এলোভেরা, কালোমেঘ, চুইঝাল, নারকেলসহ ২০ প্রকার ফসল রপ্তানীতে প্রাধান্য পাবে বলেও সূত্রে জানা গেছে। বিগত কয়েক বছরে কৃষি বিভাগের নানা সাফল্যকে ছাপিয়ে বড় সুখবর এনে দিয়েছে বাঁধা কপিতে। কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে উচ্চ মূল্যের ফসলের মধ্যে বাঁধা কপি রপ্তানীতে সফলতা এসেছে গোটা কৃষি সেক্টরে। যশোরের কৃষকের ক্ষেতে উৎপাদিত বাঁধাকপি পৌঁছে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানের বাজারে। প্যাকেজিংয়ের আগে আব্দুলপুরের কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপনন কেন্দ্রসহ রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টরিতে নিয়ে বাছাই ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিদেশে পাঠানোর জন্য মানসম্মত সবজি বাঁধাকপি উৎপাদনে সরাসরি মনিটরিং করছে উপজেলা কৃষি অফিস। স্বচ্ছতার সঙ্গে উত্তম ব্যবস্থাপনা ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট শতভাগ সফল হয়েছে। যশোর থেকে বিদেশে বাঁধাকপি রপ্তানিতে ভিন্নমাত্রা যুগিয়েছে। স্থানীয় বাজারে যখন বাঁধাকপির দাম কমে যাচ্ছে তখন রপ্তানী শুরু হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বাণিজ্যিকভাবে বাঁধাকপি রপ্তানীর ধারা অব্যাহত থাকলে যশোর তথা সারা দেশের বাঁধাকপি উচ্চমূল্যের সবজি হিসেবে সমধিক পরিচিতি পাবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

বিদেশি কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় কর্মীদের বরখাস্ত করলে কঠোর ব্যবস্থা

বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার স্থানীয় কর্মীদের বরখাস্ত করা হলে নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী ভি শিবকুমার।শনিবার ৪ ফেব্রুয়ারী দেশটির সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের (সকসো) প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের স্নাতকদের সনদ প্রদানের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'সরকার যদি দেখতে পায় যে, এমন ঘটনার কারণে স্থানীয় শ্রমিকরা তাদের কাজ হারিয়েছে তাহলে কোন অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'মানবসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, 'বিদেশি কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের প্রতিস্থাপন করা ঠিক নয়।' মালয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি সংস্থার দাবি- উৎপাদন, নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ, কৃষি এবং পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার স্থানীয় শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় শ্রমিকদের প্রাধান্য দিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়। অভিবাসী শ্রমিকদের চাহিদা মেটাতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ১০ জানুয়ারির বৈঠকে বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

আমিরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ লোকমান (৪৯) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। লোকমানের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায়। ১৫ বছর ধরে তিনি আমিরাতে অবস্থান করছিলেন। জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি কর্মস্থলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন লোকমান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আমিরাতের সময় দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় লোকমানের মরদেহ শারজা এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশে পাঠানো হয়। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে।মরদেহ বিমানবন্দর থেকে হাটহাজারীর ছিপাতলী ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। জোহর নামাজের পর তার জানাজা সম্পন্ন হয়। লোকমান ছিপাতলী ইউনিয়নের কালু মাজির বাড়ির আবদুল হামিদের ছেলে। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন রেখে যান।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা ইউএস সিনেটরের

ইউএস সিনেটর রজার মার্শাল বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে তার সহায়তার কথা বলেছেন। ক্যানসাস থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে তার ক্যাপিটল হিল অফিসে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের সাথে এক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে সিনেটর আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশ সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে যাবে। সিনেটর মার্শাল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদানেরও প্রশংসা করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং সরকার সম্পর্কিত সিনেট কমিটির সদস্য সিনেটর মার্শাল রজার বাংলাদেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক সাফল্যেরও প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত ইমরান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে সেই বিষয়ে সিনেটরকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অগ্রগতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দক্ষ কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনার কথাও তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত ইমরান বাংলাদেশে মার্কিন সরকারের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন অনুদানের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুর বিষয়ে অবহিত করার সময় তিনি রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সিনেটর রজার মার্শাল এবং মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থন কামনা করেন। তারা উভয়েই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত করা এবং দুদেশের চমৎকার অংশীদারিত্ব আগামীতে আরো গভীর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

post
ক্যাম্পাস লাইফ

মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এখন ঢাকায়

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের লা কাদরি হোটেলে হয়ে গেল ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ক্যাম্পাসের 'সফট লঞ্চ' অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতো সেরি মোহাম্মদ খালেদ। গতকাল শুক্রবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।কুয়ালালামপুরের এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস চালু করতে যাচ্ছে। আগামী মে মাসে ঢাকার বনানীতে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতো সেরি মোহাম্মাদ খালেদ বলেন, ‘ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি দিন দিন নিজেদের মান উন্নয়ন করছে। মালয়েশিয়ার সরকার চায় শিক্ষা-সংস্কৃতি আদান-প্রদানের মাধ্যমে সবার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে। এ ছাড়া গবেষণার ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্লোবাল হাবে পরিণত করতে চাই। ইউসিএসআইর এই সফট লঞ্চ তারই ধারাবাহিকতা।’ ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর দাতুক ড. সিতি হামিসাহ তাপসির বলেন, ‘নতুন এই ক্যাম্পাস শিক্ষার সংযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন পথের দিশা পাবেন। তারা মেধা-দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবেন। আমাদের নতুন ক্যাম্পাসে গবেষণাকে বেশি গুরুত্ব দেব।’ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন—নতুন ক্যাম্পাসে বিজনেস, কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, সোশ্যাল সায়েন্সসহ ২৪ বিষয়ে ডিগ্রি দেওয়া হবে। নতুন ক্যাম্পাসে ৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করতে পারবেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় এর অবস্থান ২৮৪তম। এজে/

post
বাংলাদেশ

বই মেলায় এসেছি লেখক হিসেবে, নায়ক হিসেবে নয় - ফেরদৌস

অনেক বছর পর অমর একুশে বই মেলায় এসেছিলেন ২ বাংলার জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র ছিলেন তখন বইমেলায় নিয়মিত আসতেন। কখনো একা, কখনো বন্ধুদের নিয়ে মেলা থেকে পছন্দের বই কিনতেন।ফেরদৌস বলেন, 'বইমেলায় এসে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছি। ফিরে গেছি অনেক পেছনে। স্মৃতির পাখিরা যেন উড়ছে আর আমি দেখছি।' 'বই মেলায় এসে কী যে ভালো লাগছে! দীর্ঘ বিরতির পর আবার বইমেলায় এলাম। আমি ফিরে গেছি ছাত্রজীবনে। নস্টালজিক হয়ে পড়ছি। এখানে এসে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুদের কথাও মনে পড়ছে।'গতকাল শুক্রবার ফেরদৌস সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বই মেলায় এসেছিলেন নায়ক হিসেবে নয়, লেখক হিসেবে। তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। 'এই কাহিনি সত্য নয়' উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে প্রথমা। প্রচ্ছদ করেছেন মাসুক হেলাল। 'মেলার তৃতীয় দিনে এত ভিড় দেখতে পাব ভাবিনি। সবাই যদি বই কিনতেন তাহলে মেলায় বই থাকত না। তারপরও তারা বইয়ের সান্নিধ্যে আছেন—এটাও বড় বিষয়। আমি বই মেলায় এসেছি নায়ক হিসেবে নয়, লেখক হিসেবে,' যোগ করেন ফেরদৌস।মেলায় ঢুকে ফেরদৌস তার নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। সঙ্গে ছিলেন সাহিত্যিক আনিসুল হক ও গীতিকার কবির বকুল। অনেক ভিড় ছিল সেসময়। মোড়ক উন্মোচন শেষে ফেরদৌস ভিড় ঠেলে চলে আসেন 'প্রথমা'র প্যাভিলিয়নে। বেড়ে যায় ভিড়। মেলায় এসে জনপ্রিয় এই নায়ককে পেয়ে ভীষণ খুশি পাঠকেরা। প্রিয় নায়কের সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলে ভিড় আরও বাড়ে। সেলফির পাশাপাশি বইয়ের অটোগ্রাফ দিতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।'লেখালেখি করতে কেমন লাগে?'—তিনি বলেন, 'অসাধারণ। খুব ভালো লাগে। ভারতে অনেকদিন শুটিং করেছি। অনেক জায়গা ভ্রমণ করেছি। একটি ভ্রমণ কাহিনী লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটি উপন্যাস। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাচ্ছিলাম। ওখান থেকে গল্পের শুরু।'পাঠকদের উদ্দেশে ফেরদৌস বলেন, 'লিখতে খুব ভালো লাগে। সাংবাদিকতার ছাত্র ছিলাম। পাঠকরা যদি বইটি পড়েন তাহলেই উৎসাহ পাব। নতুন করে লিখব। বই পড়ে রিভিউ দিলে আরও ভালো লাগবে।' তিনি বলেন, 'প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ভাই উৎসাহ দিয়েছেন। গীতিকার কবির বকুলও। প্রথমা বইটি প্রকাশ করেছে। সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।' 'বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে' উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'ছোটদের মেলায় আনা উচিত।'

post
এনআরবি বিশ্ব

ঢাকায় মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; শ্রমবাজার ‘গতিশীল’ হওয়ার প্রস্তাব দিবে ঢাকা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে নানা নাটকীয়তা চলছে। বর্তমানে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য খোলা থাকলেও সেটি অনেকটা অচল অবস্থায় আছে। দেশটিতে প্রত্যাশিত শ্রমিক পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমবাজারটির জটিলতা নিরসনে আলোচনা করতে সংক্ষিপ্ত সফরে নেপাল হয়ে শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকায় আসছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল। তার সফরে শ্রমবাজারটি গতিশীল করতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পরিবর্তন, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানোসহ দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দেবে ঢাকা।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শ্রমবাজারের জটিলতা নিয়ে আলাপ করবেন। কীভাবে দেশটিতে আমরা সহজে কর্মী পাঠাতে পারি; সেগুলো আলোচনায় আসবে। এক্ষেত্রে কিছু প্রস্তাব আমাদের দিক থেকে দেওয়া হবে। আমাদের কর্মীদের স্বার্থ আগে। আমরা চাই, সবার জন্য বাজার খুলে দেওয়া হোক। নিয়াগকর্তার পছন্দ মতো রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়োগ— এটা আমরা চাই না। অভিবাসন ব্যয় আরও কমানো দরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২৪ ঘণ্টার সফরে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি তিনি সেনা কল্যাণ সংস্থার সঙ্গেও একটি বৈঠক করবেন। রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি ঢাকা ছেড়ে যাবেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এ সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে কর্মী পাঠানো নিয়ে আমরা চুক্তি করলেও বাজারটি কিছুটা অচল অবস্থার মধ্যে চলছে। প্রত্যাশিত পর্যায়ে শ্রমিক নিয়োগ হচ্ছে না। শ্রমিক যেতে পারছেন না। অথচ মালয়েশিয়ার শ্রমিক চাহিদা অনেক বেশি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আমরাও হচ্ছি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর দু’দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করছি, বাজার নিয়ে যেসব জটিলতা আছে সেগুলো দূর করা হবে। আমাদের শ্রমিকদের যাওয়ার পথ সুগম হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশটির শ্রমবাজারের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছেন। নতুন করে এটি ঢেলে সাজাতে এবং অনিয়ম দূর করতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কর্মীসংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকেও এ বিষয়ে সহযোগিতা চাচ্ছে দেশটি। এরই ধারাবাহিকতায় নেপাল ও বাংলাদেশ পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিনকে। ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। তিন বছর শ্রমবাজারটি বন্ধ থাকার পর ঢাকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দেশটিতে নতুন করে কর্মী পাঠাতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ। চুক্তি সইয়ের পরের মাস থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু কর্মী পাঠানো শুরুর আগেই নতুন শর্ত আসে কুয়ালালামপুরের পক্ষ থেকে। তৎকালীন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সারাভারান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে এক চিঠি দিয়ে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বার্তা দেয়। ঢাকা এ শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি। ফিরতি বার্তায় নিবন্ধিত এক হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ে শুরু হওয়া নাটকীয়তা বন্ধে গত বছরের জুনের শুরুতে তৎকালীন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীকে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তার দুই মাস পর ২০২২ সালে হওয়া চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ৯ আগস্ট মালয়েশিয়ায় ৫৩ কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জটিলতা কেন— জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দিক থেকে যেটা দেখা যাচ্ছে, মূল সমস্যাটা মালয়েশিয়া প্রান্তে। আমাদের দিক থেকেও কিছু সমস্যা আছে। রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়েই তো মূল সমস্যা। দুই প্রান্তে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যদি অ্যাকটিভ না হয় এমওইউ সাইন করে কোনো কাজ হবে না। কেননা মাঠে কিন্তু তারাই প্লেয়ার। এ কর্মকর্তা বলেন, একটা বছর জটিলতায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমার ধারণা, মালয়েশিয়ার নতুন সরকার বিষয়টাকে খুব ভালোভাবে নিচ্ছেন। সৃষ্ট জটিলতা থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের হয়ে আসা দরকার। আমাদের লোকও যাওয়া দরকার। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেনা কল্যাণ সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে দেশটিতে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলাপ করবেন বলে ধারণা দেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সেনা কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে আমাদের সাবেক সেনা, তাদের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে মালয়েশিয়ায় রিক্রুট করার একটা প্রক্রিয়া আছে। এটা নিয়ে একটা চুক্তিও আছে। সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের বিষয়ে আলাপ হতে পারে। গত ৩০ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের কারণ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল সাংবাদিকদের বলেন, তিনি (মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ঢাকায় আসবেন। আমরা যে কর্মী পাঠাই, এগুলোতে অনেক সময় উল্টাপাল্টা কাজ হয়। তিনি আসছেন এগুলো ঠিক করার জন্য। মোমেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, তিনি আসার পর মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে যে কার্টেল (মধ্যস্বত্বভোগী চক্র) আছে, সেগুলো দূর হবে। ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা হয়তো স্বল্প খরচেই মালয়েশিয়া যেতে পারবেন।’

post
শিক্ষা

চ্যাটজিপিটি মানুষের বিকল্প নাকি সহায়ক, কি থাকছে চ্যাটজিপিটিতে

চ্যাট জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইনড ট্রান্সফরমার সংক্ষেপে যাকে বলে চ্যাটজিপিটি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়। এই চ্যাটজিপিটির কারণে সবাই নড়েচড়ে বসেছে। নতুন করা ভাবতে হচ্ছে অনেক কিছু।চ্যাটজিপিটি হলো একটি শক্তিশালী মেশিন লার্নিং মডেল অর্থাৎ। ওপেন এআই নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছে। চ্যাটজিপিটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের মতো লেখা বা টেক্সট তৈরি করার ক্ষমতা। এর মানে হলো, কোনে একটি বিষয়ে একজন মানুষ যেমন প্রত্যুত্তর দিতে পারে, চ্যাটজিপিটি সে রকমই জবাব লিখে জানাতে পারে। ২০১৫ সালে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান শুরু করেছিলেন এই চ্যাটবট তৈরি করার কাজ। কিন্তু ২০১৮ সালে ইলন মাস তার স্পেসসেক্স এবং টেসলায় বেশি সময় দেবার জন্য ওপেন এ আই এর কাজ থেকে সরে আসে। ওপেন এ আই এর কাজে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও বিনিয়োগকারী এবং পরামর্শ কার হিসেবে রয়ে যায় কোম্পানিটির সাথে। ২০২০ সালের শেষের দিকে এআইটি স্বরূপে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। গত বছরের ২০২২ নভেম্বরে এটি চালু করা হয়। চ্যাটজিপিটি যে কোনো প্রশ্নের উত্তর গুগলের চেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। সেদিক থেকে বলা যায়, গুগলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এই এআইটি। নতুন এ প্রবর্তন চ্যাট জিপিটি যা মানুষের ভেতরে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। উন্মোচনের দুই মাসের মধ্যেই গ্রাহক অ্যাপ্লিকেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ব্যবহারকারী বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে চ্যাটজিপিটি। জানুয়ারি মাসের মধ্যে এটি ১০ কোটি গ্রাহকের মাইলফলকে পৌঁছিয়েছে। ১লা জানুয়ারি বুধবার বিশ্লেষক সংস্থা ‘ইউবিএস’-এর এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারিতেই ১০ কোটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে জনপ্রিয় এই চ্যাটবট। যে মাইলফলক ছুঁতে ইনস্টাগ্রামের লেগেছিল আড়াই বছর। আর টিকটকের লেগেছিল নয় মাস। জানুয়ারিতে দৈনিক প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন, যা ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে ইউবিএস বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘ইন্টারনেটের গত ২০ বছরের ইতিহাসে আমরা কোনো গ্রাহক ইন্টারনেট অ্যাপকে এতটা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে দেখিনি।’ চ্যাটজিপিটির রয়েছে আকর্ষণীয় কিছু ফিচার। চ্যাটজিপিট প্রযুক্তি নতুন এমন এক আবিস্কার কেউ যদি ভুল ইনফরমেশন দিলেও আপনাকে সঠিক করে দিতে পারে। এমনকি প্রগরামিংয়ের যে কোন কোড ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে লিখে দিতে পারে। রচনা লেখা থেকে শুরু করে গানের লিরিক্স লেখা, গল্প লেখা, গবেষণা পত্র এমনকি কবিতা লিখতেও নির্দেশ দেওয়া যাবে এই চ্যাটবটকে। চ্যাট জিপিটির প্রবর্তনে মানুষ অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে কি ঘটতে যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে, কতটা সহজ হয়ে যাচ্ছে সব কিছু। এই ফলে কর্মজগতে মানুষের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাড়াবে। মানুষের স্থলে কিছুদিন পর কি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই বাজার দখল করে নিবে কিনা সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে মানুষের মনে।

post
বিনোদন

মুক্তি পেল হোলি আর্টিজানের ঘটনা নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘ফারাজ’

ঢাকার হলি আর্টিজানে সংগঠিত নৃশংস হামলার ঘটনা নিয়ে ফারাজ নামে সিনেমা তৈরি করেছেন মুম্বাইয়ের হংসল মেহতা। ভারত ও বাংলাদেশে আলোচনার জন্ম দেওয়া সিনেমাটি ভারতের ১০০ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি ।প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি সিরিজ এর এক বিবৃতিতে হংসল মেহতা জানান, তরুণেরা কীভাবে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন, তা আবিষ্কারের চেষ্টা করেছেন সিনেমায়। সেই সঙ্গে সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অসম সাহস ও মানবতার প্রয়োজন, সে বিষয়েও তুলে ধরা হয়েছে সিনেমায়। সিনেমা টি প্রযোজনা করছেন অনুভব সিনহা ও ভূষণ কুমার। অনুভব সিনহা বলেন, ‘ফারাজ এমন একটি গল্প, যা বলা খুব প্রয়োজন। ‘পাঠান’–এর দাপটের মধ্যেই মুক্তি পাবে ‘ফারাজ’। তবে এ নিয়ে কোনো চাপে নেই পরিচালক। কারণ, বক্স অফিসের লাভ থেকে তিনি ভালো ছবি নির্মাণে বিশ্বাসী। আর ‘ফারাজ’–এ মানবিকতা, বন্ধুত্ব আর অহিংসার গল্প বলেছেন হংসল মেহেতা। মুম্বাইয়ের টি-সিরিজের দপ্তরে গত বুধবার ফারাজ সিনেমার মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। হংসল মেহেতা ছাড়াও তাতে হাজির ছিলেন ছবির দুই মূল অভিনয়শিল্পী—জাহান কাপুর ও আদিত্য রাওয়াল। ঢাকার হোলি আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ে হিন্দি সিনেমা ‘ফারাজ’ ভারতজুড়ে ১০০ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট ছবিটির মুক্তি স্থগিত চেয়ে করা আবেদন বাতিল করে দেয়াহয়। ফারাজ’–এর প্রযোজক আরেক বলিউড নির্মাতা অনুভব সিনহা। ছবিটির মুক্তির আগে তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘এটি একটি বিশেষ সিনেমা, আমরা চাই ভারতজুড়ে যত বেশি সম্ভব মানুষ সিনেমাটি দেখুক।’  ছবিটি দেখতে দর্শককে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘“ফারাজ” এমন একটি গল্প, যা বড় পর্দায় উপভোগ করতে হবে, আমরা চেয়েছি নির্বাচিত হলগুলোতে ছবিটি জাঁকজমকভাবে মুক্তি দিতে। হংসল ‘ফারাজ’ ছবির জন্য বেছে নিয়েছেন নতুন দুই মুখ—কারিনা কাপুরের চাচাতো ভাই জাহান কাপুরকে দেখা যাবে ফারাজ হোসেনের চরিত্রে, পরেশ রাওয়ালের ছেলে আদিত্য রাওয়াল ছবিটির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখতে চলেছেন।‘ফারাজ’ ছবির অন্যান্য চরিত্রে আছেন আমির আলী, জুহি বব্বর, শচিন লালওয়ানি, পলক লালওয়ানি, রেশম সাহানিসহ আরও অনেকে।  কিছুদিন আগে কাপুর পরিবারের জন্য ‘ফারাজ’-এর এক বিশেষ প্রদর্শনী রাখা হয়েছিল। এদিন কাপুর খানদান থেকে কারিনা, নীতু কাপুর, রণবীর কাপুর, সাইফ আলী খান, আলিয়া, জাহানের বাবা কুনাল কাপুর আর মা শীনা সিপ্পিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ‘ফারাজ’-এর চরিত্রে জাহান সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছেন। এদিন কাপুর পরিবার রীতিমতো আবেগে ভেসেছিল।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.