চ্যাট জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইনড ট্রান্সফরমার সংক্ষেপে যাকে বলে চ্যাটজিপিটি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রযুক্তির নতুন বিস্ময়। এই চ্যাটজিপিটির কারণে সবাই নড়েচড়ে বসেছে। নতুন করা ভাবতে হচ্ছে অনেক কিছু।
চ্যাটজিপিটি হলো একটি শক্তিশালী মেশিন লার্নিং মডেল অর্থাৎ। ওপেন এআই নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছে। চ্যাটজিপিটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের মতো লেখা বা টেক্সট তৈরি করার ক্ষমতা। এর মানে হলো, কোনে একটি বিষয়ে একজন মানুষ যেমন প্রত্যুত্তর দিতে পারে, চ্যাটজিপিটি সে রকমই জবাব লিখে জানাতে পারে।
২০১৫ সালে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান শুরু করেছিলেন এই চ্যাটবট তৈরি করার কাজ। কিন্তু ২০১৮ সালে ইলন মাস তার স্পেসসেক্স এবং টেসলায় বেশি সময় দেবার জন্য ওপেন এ আই এর কাজ থেকে সরে আসে। ওপেন এ আই এর কাজে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও বিনিয়োগকারী এবং পরামর্শ কার হিসেবে রয়ে যায় কোম্পানিটির সাথে। ২০২০ সালের শেষের দিকে এআইটি স্বরূপে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। গত বছরের ২০২২ নভেম্বরে এটি চালু করা হয়।
চ্যাটজিপিটি যে কোনো প্রশ্নের উত্তর গুগলের চেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। সেদিক থেকে বলা যায়, গুগলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এই এআইটি। নতুন এ প্রবর্তন চ্যাট জিপিটি যা মানুষের ভেতরে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। উন্মোচনের দুই মাসের মধ্যেই গ্রাহক অ্যাপ্লিকেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ব্যবহারকারী বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে চ্যাটজিপিটি।
জানুয়ারি মাসের মধ্যে এটি ১০ কোটি গ্রাহকের মাইলফলকে পৌঁছিয়েছে। ১লা জানুয়ারি বুধবার বিশ্লেষক সংস্থা ‘ইউবিএস’-এর এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারিতেই ১০ কোটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে জনপ্রিয় এই চ্যাটবট। যে মাইলফলক ছুঁতে ইনস্টাগ্রামের লেগেছিল আড়াই বছর। আর টিকটকের লেগেছিল নয় মাস।
জানুয়ারিতে দৈনিক প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন, যা ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এতে বিস্ময় প্রকাশ করে ইউবিএস বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘ইন্টারনেটের গত ২০ বছরের ইতিহাসে আমরা কোনো গ্রাহক ইন্টারনেট অ্যাপকে এতটা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে দেখিনি।’
চ্যাটজিপিটির রয়েছে আকর্ষণীয় কিছু ফিচার। চ্যাটজিপিট প্রযুক্তি নতুন এমন এক আবিস্কার কেউ যদি ভুল ইনফরমেশন দিলেও আপনাকে সঠিক করে দিতে পারে। এমনকি প্রগরামিংয়ের যে কোন কোড ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে লিখে দিতে পারে। রচনা লেখা থেকে শুরু করে গানের লিরিক্স লেখা, গল্প লেখা, গবেষণা পত্র এমনকি কবিতা লিখতেও নির্দেশ দেওয়া যাবে এই চ্যাটবটকে। চ্যাট জিপিটির প্রবর্তনে মানুষ অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে কি ঘটতে যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে, কতটা সহজ হয়ে যাচ্ছে সব কিছু। এই ফলে কর্মজগতে মানুষের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাড়াবে। মানুষের স্থলে কিছুদিন পর কি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই বাজার দখল করে নিবে কিনা সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে মানুষের মনে।
