post
দূতাবাস খবর

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর্যের সাথে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার ‘মহান শহিদ দিবস’ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ৭১ বছর আগে ঢাকায় জীবন উৎসর্গকারী ভাষাবীরদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্মরণে দূতাবাস দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান কর্তৃক রাত ১২.০১ মিনিটে দূতাবাস প্রাঙ্গণে নির্মিত শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।এসময় ‘অমর একুশে’ নিয়ে রচিত বিখ্যাত গান--"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি"-- বাজানো হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।সকালে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করেন। দিবসটি স্মরণে এক প্রভাত ফেরিরও আয়োজন করা হয়।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে অবস্থিত জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান ডেপুটি চীফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার, ইকনোমিক মিনিস্টার মোঃ মেহেদী হাসান, প্রেস মিনিস্টার এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন এবং পাবলিক ডিপ্লোমেসি কাউন্সেলর আরিফা রহমান রুমা।পরে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভাষা আন্দোলনের শহিদের আত্মার মাগফেরাত এবং জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাস বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। পরে বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের শিল্পীরা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান তার বক্তব্যে মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বাঙালি জাতির জন্য বাতিঘরের মতো আখ্যায়িত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এখন বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে অবদান রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ, ভারত, প্যারাগুয়ে, ঘানা ও নেপালের শিল্পীরা এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সাংস্কৃতিক দল তাদের নিজস্ব সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে অতিথিদের মুগ্ধ করেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।পলিটিক্যাল-১ কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়রে ফার্স্ট সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল হাই মিল্টন দিনব্যাপী দুই পর্বের এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

post
বাংলাদেশ

ভাষা আন্দোলন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যখনই যে কাজ করেছেন তখনই ইতিহাস থেকে তার নামটা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে অবদান আছে সেটি স্পষ্ট। যদি এই তথ্যগুলো আমরা বের না করতাম আর জাতির পিতার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ যদি বের না হতো তাহলে... ভাষা আন্দোলন থেকে তাকে তো মুছেই ফেলা হয়েছিল। নামটাই মুছে ফেলা, এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৩’ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের অনেক তথ্য আপনারা পাবেন, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা যেসব রিপোর্ট দিয়েছিল সেখানে। আমি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সমস্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করি। সেগুলো কপি করে আমাদের কাছে রাখি। আমাকে সহযোগিতা করে আমার বান্ধবী বেবী মওদুদ। প্রায় ২০টা বছর আমরা এর ওপরে কাজ করি, প্রত্যেকটা ফাইল আমরা দেখি। দ্বিতীয় বার যখন আমি ক্ষমতায় আসি, তখন সিদ্ধান্ত নিই এগুলো প্রকাশ করব। পৃথিবীতে কোনো নেতার ওপর কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের এই রিপোর্টটাই সর্বপ্রথম আমি প্রকাশ করলাম। তিনি আরও বলেন, আমি অনেক নেতার ফাইল এনেছি, দেখেছি। কারও হয়তো একটা ফাইলের বেশি কিছু নেই। আর এখানে ৪৮টি ফাইল, ৪৬ হাজার পৃষ্ঠা। আমি যখন এটার এডিট করি, অনেক কিছু বাদ দিয়ে মূল যে তথ্যগুলো সেখানে নিয়ে এসেছি। তাতেও ১৪ খণ্ড হচ্ছে। ১১ খণ্ড ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। ১২ নম্বরটাও ছাপতে দেওয়া হয়েছে। ১৩ নম্বরটা এডিট করে দিয়ে দিয়েছি, আর ১৪ নম্বরটা করব। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান সেই কথাটা কিন্তু স্পষ্ট এখানে আছে। যদি এই তথ্যগুলো আমরা বের না করতাম, আর জাতির পিতার লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী যদি বের না হতো তাহলে... তাকে তো ভাষা আন্দোলন থেকে মুছেই ফেলা হয়েছিল। আলোচনা সভার শুরুতে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, চিলচ্চিত্রের অভিনেতা নায়ক ফেরদৌস আহমেদ, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ হুমায়ুন কবির। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।

post
বিনোদন

বাংলাদেশে পাঠান সিনেমা নিয়ে খেপে গেলেন ঝন্টু

শর্ত সাপেক্ষে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি সিনেমা আমদানির প্রশ্নে একমত হয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রযোজক, প্রেক্ষাগৃহমালিক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের ১৯টি সংগঠন। গত রোববার দুপুরে ১৯ সংগঠনের মোর্চা সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ একটি চিঠি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের হাতে তুলে দিয়ে জানিয়েছে, শর্ত সাপেক্ষে হিন্দি সিনেমা আমদানির ব্যাপারে তাদের আপত্তি নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা আপনাদের প্রস্তাব অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আনতে হবে। আপনারা যে আজ আসবেন, সেটিও তাঁকে জানিয়েছিলাম। আমরা এখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারব।’বাংলাদেশে হিন্দি ছবি আমদানির বিষয়টি এখন সরকারের অনুমতির অপেক্ষায়। চলতি সপ্তাহেই অনুমতি মিললে ফেব্রুয়ারি মাসেই বাংলাদেশে মুক্তি পাবে ‘পাঠান’। তবে চলচ্চিত্রের প্রযোজক, প্রেক্ষাগৃহমালিক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের ১৯টি সংগঠন হিন্দি সিনেমা আমদানির বিষয়ে একমত হলেও বিষয়টি নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। হিন্দি সিনেমা আমদানি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একদল গণমাধ্যমকর্মীর সামনে খেপে গেলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘আমরাই একমাত্র জাতি, ভাষার জন্য গুলি খেয়ে ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও এই নজির নেই। এ জন্য মাথা উঁচু করে আমরা কথা বলি। আমার দেশে উর্দু, হিন্দি ছবি চলবে কেন? আমাদের ওই সব কালচারের প্রয়োজন নেই।’বক্তব্যে ঝন্টু আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ দেশে “পাঠান” চালাতে দেবেন না। বঙ্গবন্ধুকন্যা এই উর্দু, হিন্দি ছবি এ দেশে আসতে দেবেন না।’ উর্দু, হিন্দি ছবি এ দেশে চলা নিয়ে অতীতের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ঝন্টু বলেন, ‘অনেক দিন আগে এ দেশে যখন উর্দু–হিন্দি ছবি চলছিল, তখন আমরা চলচ্চিত্রের অনেকেই বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, এ দেশে উর্দু–হিন্দি ছবি চলুক, আমরা চাই না। বঙ্গবন্ধু তখন বলেছিলেন, “যা তাহলে চলবে না।’” বঙ্গবন্ধু এ কথাও বলেছিলেন, “‘তোরা কটি ছবি দিতে পারবি?” তখন আমরা বলেছিলাম, প্রতি সপ্তাহে একটা করে নতুন ছবি দিতে পারব। তখন তিনি দৃঢ় কণ্ঠে আমাদের বলে দিলেন, “যা হিন্দি চলবে না।”’তবে সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গণমাধ্যমের কাছে এই নির্মাতা আরও বলেন, ‘সিনেমার অভাবে অনেক সিনেমা হলের মালিকেরা হল ভেঙে ফেলেছেন। তাঁদের ব্যবসা হচ্ছে না। কারণ, একটি হলে মাসে অনেক খরচ। কর্মচারীদের বেতন, ট্যাক্সসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে এক-দেড় লাখ টাকা থাকে হলমালিকদের। কিন্তু হল ভেঙে যদি মার্কেট হয়, তাহলে কয়েক শ দোকান হবে সেখানে। আয়ও আসবে বেশি।’ এ সময় এক সংবাদকর্মী দেলোয়ার জাহান ঝন্টুকে প্রশ্ন করেন, তাহলে কি আপনারা সিনেমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন? প্রশ্ন শুনেই খেপে যান ঝন্টু। উত্তেজিত হয়ে ওই সংবাদকর্মীকে তিনি বলেন, ‘তুমি তো আক্রমণাত্মক। তুমি অ্যাটাক করার জন্য প্রশ্ন করো। তুমি আর প্রশ্নই করবে না। এসব কথা বলো কেন তুমি? কেন ব্যর্থ হবো? ব্যর্থতার কী বুোঝো তুমি?’এরপর ওই সংবাদকর্মী তাঁকে জানান, তথ্যমন্ত্রী তো হিন্দি ছবির ব্যাপারে মত দিয়েছেন। এ কথা শুনে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী যদি অনুমতি দেন, আমরা প্রতিবাদ করব। আমাদের কথা তাঁরা শুনবেন। না শুনলে বাঙালিরা মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে কথা বলবে।’ ‘পাঠান’ ছবি নিয়ে যখন এফডিসিতে ১৯ সংগঠনের মিটিং হয়, তখনকার কথা উল্লেখ করে এই নির্মাতা বলেন, ‘একদিন ১৯ সংগঠনের মিটিং হচ্ছিল। আমাকে ডাকা হলো, গেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, কীসের মিটিং? তাঁরা বললেন, “পাঠান” এখানে আসুক আমরা চাচ্ছি।’ এ কথা শুনে বের হয়ে আসলাম। কারণ, আমি তর্ক এড়াতে চেয়েছি। আমি জানি, ওখানে আমি বেশি সাপোর্ট পাব না।’

post
বাংলাদেশ

কার্যাদেশের বিপরীতে জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন এসএমই উদ্যোক্তারা: এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন

কার্যাদেশের বিপরীতে জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন এসএমই উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং থিংকবিজ সলিউশন ট্রেডেক্স)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এসএমই ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে এসএমই ফাউন্ডেশন ও থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স) এর উদ্যোগে আয়োজিত ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স বিষয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ফাইন্যান্সার ও সাপ্লায়ার ম্যাচমেকিং ও মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জিন্নাত রেহানা, প্রশাসক (যুগ্মসচিব), বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর্স এসোসিয়েশন (বাপা) এবং ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডএক্স অনলাইন)। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক নাজিম হাসান সাত্তার। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহ উদ্দিন মাহমদু এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এমএসএমই) একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় এসএমই খাত উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের ঋণ সহায়তা (প্রচলিত ব্যাংক ঋণ) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাগণের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। ঋণ প্রাপ্তির পর পণ্য তৈরি করে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহের মাধ্যমে প্রাপ্ত ‘ট্রেড রিসিভেবল’ সমূহের বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি সহজ ও স্বয়ংক্রিয় নয়। তাছাড়া ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিয়েও উদ্যোক্তাবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা হিসেবে 'ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স' শিল্প খাতে বিশেষত এসএমই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।উল্লেখ্য, কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তার বকেয়া বিল ডিসকাউন্ট/কমিশনে দেনাদার ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে বিক্রি করাকে ফ্যাক্টরিং বলে। মূলত: কোন পণ্য উৎপাদনকারী বা সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোন অর্ডারের বিপরীতে পণ্য বা সেবা প্রস্তুতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য অর্ডারটি তৃতীয় কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট কমিশনে বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহ করার পদ্ধতিই হলো ফ্যাক্টরিং। চলতি মূলধন সংকট লাগবের লক্ষ্যে অর্ডার দাতা এবং পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত তৃতীয় কোন পক্ষের নিকট হতে তহবিল সংগ্রহের জন্য ফ্যাক্টরিং উন্নত দেশে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স একটি জামানতবিহীন অর্থায়ণ প্রক্রিয়া, যা বিলম্বিত পরিশোধের শর্ত এবং চেকের মাধ্যমে পরিশোধ ব্যবস্থা থাকলে যে কোনো পন্য বা সেবা উৎপাদনকারী গ্রহণ করতে পারে। বৈধ কাগজপত্র যেমন ট্রেড লাইসেন্স, এনআইডি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিক্রয় ডাটাসহ দেনাদারের তথ্য দিয়েই যে কোনো প্রতিষ্ঠান সহজে এ সেবা নিতে পারে। ‘ফ্যাক্টরিং’ এর সাথে এলসি এর মূল পার্থক্য হলো ‘এলসি’ একটি পেমেন্ট পদ্ধতি আর ‘ফ্যাক্টরিং’ এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ হতে মূলধন জোগান করা হয়। স্বল্প মেয়াদী এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা হিসেবে 'ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স' শিল্প খাতে বিশেষত এসএমই খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় এলসির মাধ্যমে। কিন্তু এলসি পদ্ধতিতে বাণিজ্য করা সময়সাপেক্ষ ও জটিলতানির্ভর। তাছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) ব্যবসায়ীদের জন্য এলসি পাওয়া আরো কঠিন। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স একটি বিশেষ বিকল্প হতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের এক প্রতিবেদনে করোনার প্রভাব মোকাবেলায় রফতানি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে ফ্যাক্টরিং প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।এসএমই ফাউন্ডেশন এবং থিংকবিগ সলিউশনস এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাইলট আকারে থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স) -কে ১৮ জানুয়ারি ২০২২ লোকাল ফ্যাক্টরিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করার অনুমোদন প্রদান করা হয়। ফ্যাক্টরিং ফাইন্যান্স কার্যক্রমের প্রচার ও প্রসারে যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২১ ডিসেম্বর ২০২২ এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে থিংকবিগ সলিউশনস (ট্রেডেক্স)-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্পোরেট, ফাইন্যান্সার ও সাপ্লায়ার ম্যাচমেকিং এবং ফাইন্যান্সিং কর্মসূচিতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, এসএমই চেম্বার/অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, এসএমই উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

post
বাংলাদেশ

'বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা ভাষা আন্দোলনে, মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করেছি'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানিরা বারবার বাংলার ওপর আঘাত হেনেছে। পৃথিবীর কোনো দেশে এতোবার সংস্কৃতির ওপর আঘাত আসেনি। আজ (সোমবার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক ২০২৩ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামে একটি দেশের সৃষ্টি হয়, যারা পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। একসময় তারা আমাদের সংস্কৃতিতে আঘাত হানে। আমাদের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়। করাচিতে এক আলোচনায় তারা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের দেশে প্রবল আন্দোলন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৫৩ সালে প্রথম ভাষা শহীদ দিবস পালন করা হয়। আরমানিটোলায় এক সভায় এ দিবস পালনের দাবি তোলা হয়। এরপর ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। এরপরেও পাকিস্তানিরা থেমে থাকেনি। তারা তখন উর্দু হরফে বাংলা লেখার নিয়ম করে, আরবি হরফে বাংলা লেখার নিয়ম করে। রবীন্দ্রনাথের গান নিষিদ্ধ করে। যার প্রতিবাদে ছাত্রসহ সবাই রাজপথে নেমে আসে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই আমরা ভাষা আন্দোলনে, মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করেছি। ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন। শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় আমাদের দেশে জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকি শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। সেসময় অনেকে বলেছেন, শেখ মুজিব তো আন্দোলন করেননি, জেলে ছিলেন। কিন্তু তিনি তো ভাষা আন্দোলনের জন্যই কারাবরণ করেছেন। সরকারপ্রধান বলে ,মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় ছিলেন। এই সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই তিনি সবার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে নির্মম হত্যার ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসি। এক দফার পর পরবর্তীতে তিন দফায় ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ২০৪২ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ে তোলা। আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যারা একুশে পদক পেয়েছেন সবাইকে আমার অভিনন্দন। এমন আরও অনেকেই আছেন, যাদের নাম আমরা জানি না। তাদের অবদানকে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এগিয়ে যায়। এর আগে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক-২০২৩’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

post
বাংলাদেশ

১৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯ বিশিষ্টব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠান চলতি বছর (২০২৩) একুশে পদক পেয়েছেন। সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পদক তুলে দেন।এবার ভাষা আন্দোলনের তিনজন, শিল্পকলায় আটজন, শিক্ষায় এক ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান, সমাজ সেবায় এক ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতিতে দুজন একুশে পদক পেয়েছেন।এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে একজন, সাংবাদিকতায় একজন, গবেষণায় একজন এবং ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে একজনকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে।বিজয়ীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিজ নিজ পদক নেন এবং মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ীদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যরা নেন।‘ভাষা আন্দোলন’ ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পেয়েছেন খালেদা মনযুর-ই-খুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুল হক (মরণোত্তর) ও হাজী মো. মজিবর রহমান। শামসুল হকের ছেলে এ কে এম দিদারুল হক পদক গ্রহণ করেন।‘শিল্পকলা’ ক্ষেত্রে পদক পেয়েছেন- মাসুদ আলী খান (অভিনয়), শিমুল ইউসুফ (অভিনয়), মনোরঞ্জন ঘোষাল (সংগীত), গাজী আব্দুল হাকিম (সংগীত), ফজল-এ-খোদা (সংগীত) (মরণোত্তর), জয়ন্ত চট্টপাধ্যায় (আবৃত্তি), নওয়াজীশ আলী খান, কনক চাঁপা চাকমা (চিত্রকলা)।ফজল-এ-খোদার পক্ষে তার সহধর্মিণী মাহমুদা সুলতানার কাছে পদক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।‘শিক্ষা’ ক্ষেত্রে পদক পেলেন অধ্যাপক ড. মাযহারুল ইসলাম (মরণোত্তর)। জাতীয় জাদুঘরকেও এ ক্যাটাগারিতে পদক দেওয়া হয়েছে। মাযহারুলের পক্ষে তার ছেলে চয়ন ইসলাম পদক নেন। জাতীয় জাদুঘরের পদক গ্রহণ করেন মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান।‘সমাজসেবা’য় পদক পেয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। মো. সাইদুল হকও ‘সমাজসেবা’য় একুশে পদক পেয়েছেন। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষে কিশোর কুমার দাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক নেন।অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম (মরণোত্তর) এবং আকতার উদ্দিন মিয়া (মরণোত্তর) ‘রাজনীতি’ ক্যাটাগরিতে একুশে পদক পেয়েছেন। মঞ্জুরুল ইমামের পক্ষে ছেলে আব্দুল্লাহ হারুন এবং আকতার উদ্দিন মিয়ার ছেলে পদক নেন।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীর গুলশানে আগুন, ১ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর গুলশানে আগুনের ঘটনায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। লাফিয়ে পড়ে ওই ব্যক্তির (৩০) মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।রোববার রাত ১০টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, গুলশানের আগুনের ঘটনায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি, জানার চেষ্টা চলছে।এদিকে, আগুন লাগা আবাসিক ভবন থেকে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আটকেপড়া অন্যদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। উদ্ধার করা ৬ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী।১২ তলা আবাসিক ভবনটিতে রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট।আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উৎসুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করেন।এ সময় ডিএনসিসি মেয়র হ্যান্ড মাইক দিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে কাজের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং পুলিশকে ঘটনাস্থল থেকে সবাইকে সরানোর জন্য নির্দেশ দেন।এদিকে ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কালক্ষেপণ করায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন আগুনে আক্রান্তরাওই ভবনের নিচে থাকা সুলেমান চৌধুরী নামের একজন ঢাকা পোস্টকে জানান, তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফোন দিয়ে জানিয়েছেন, ‌‘ভাইয়া আমি ১১ তলায় আটকে পড়েছি। আমার সঙ্গে আরও মানুষ আছে। দ্রুত লোক পাঠিয়ে আমাদের বাঁচান, প্লিজ।’তিনি জানান, তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ভবনটির পাঁচ তলায় থাকেন। সঙ্গে তার স্বামীও থাকেন। কিন্তু তার স্বামী বর্তমানে বিদেশ রয়েছেন। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পেশায় একজন চিকিৎসক। সুলেমান চৌধুরী বলেন, কিছুক্ষণ আগে ফোন করে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জানান, আগুন লাগার সময় তিনি বাসায় ৫ম তলায় ছিলেন। আগুন লাগার পর ধোঁয়ার কারণে নিচে নামতে পারেননি। জীবন বাঁচাতে ওপরে চলে গেছেন।এদিকে ঘটনাস্থলে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত ভেতর থেকে ৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

post
বাংলাদেশ

সাবেক তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা আর নেই

সাবেক তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা রোববার রাতে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, নাজমুল হুদা অনেক দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে ঢাকার পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।নাজমুল হুদা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁকে তথ্যমন্ত্রী করা হয়। পরে ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা হয়।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর নাজমুল হুদা সেই সরকারের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করেন। একপর্যায়ে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন এবং বিএনপিও তাঁকে বহিষ্কার করে। পরে তিনি একাধিক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। সর্বশেষ তৃণমূল বিএনপি নামে একটি নতুন দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। দলটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে কয়েক দিন আগে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

ভারতে অনুপ্রবেশকালে ১২ বাংলাদেশি-রোহিঙ্গাকে আটক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় ১২ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি এবং ১০ জন রোহিঙ্গা। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে রাজ্যটির রাজধানী আগরতলা থেকে রেলওয়ে পুলিশ ফোর্স (আরপিএফ) তাদের আটক করে।কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ ১৬ জনকে আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশ ফোর্স আটক করেছে বলে কর্মকর্তারা রোববার জানিয়েছেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) স্টেশন ইনচার্জ রানা চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিন শিশুসহ মোট ১৬ জনকে আটক করেছে আরপিএফ। এর মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে; যাদের দুইজন বাংলাদেশি ও ১০ জন রোহিঙ্গা।এনডিটিভি বলছে, আটককৃতদের মধ্যে মধুপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ দেব নামে এক দালালও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশ জানায়, তারা সবাই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। পরে তারা আগরতলা রেলস্টেশন থেকে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে কলকাতার উদ্দেশ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে যাচ্ছিল।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অভিযুক্তদের আদালতে তোলার আগে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।এই বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলার অধিকতর তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে এনডিটিভি।ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) তৈরি একটি অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালে মেঘালয় এবং ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৫০১ জন দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে মোট ৮৯ জন ছিল রোহিঙ্গা।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেঘালয় সীমান্ত থেকে মোট ৩০ জন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে ৫৯ জন রোহিঙ্গাকে গতবছর আটক করা হয়।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, মেঘালয় সীমান্তে ৩০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করার পাশাপাশি আরও ১৩২ জন দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়। যাদের মধ্যে ৪১ জন বাংলাদেশি এবং ৬১ জন ভারতীয় নাগরিক। তারা আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত ছিল। মেঘালয়ে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করার সময় তাদের আটক করে বিএসএফ।

post
টেক মেন্টর

আজকের তরুণ-তরুণী ভবিষতের স্মার্ট বাংলাদেশের কর্ণধার : পলক

তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমাদের আজকের তরুণ-তরুণী ভবিষতের স্মার্ট বাংলাদেশের কর্ণধার। একুশের চেতনায় দেশের তরুণ-তরুণীদের জাগ্রত হতে হবে। একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়া। এ জন্য আমাদের একুশের চেতনায় জাগ্রত হতে হবে।শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সিংড়া গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজ মাঠে আইসিটি চাকরি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রফিক, জব্বার, বরকতসহ অসংখ্য তাজা প্রাণের বিনিময়ে আমরা মায়ের ভাষার মর্যাদা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু বলতেন সোনার বাংলা গড়তে হলে, সোনার মানুষ চাই। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে সোনার বাংলা গড়তে হলে দেশের মানুষকে আদর্শ মানুষ হতে হবে। আমাদের কর্মঠ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।পলক বলেন, মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা চলনবিলের কাদামাটি থেকে তুলে নিয়ে আমাকে সিলিকন ভ্যালি পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তোমরা যদি কঠোর পরিশ্রম কর। তোমাদের লক্ষ্য যদি ঠিক রাখো, তাহলে অবশ্যই জীবনে সফল হবে এবং সারাবিশ্বকে জয় করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী অসংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাদের সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাজ করতে হবে।তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছর সিংড়ায় বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, অবকাঠামোসহ সবক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। গত ১৪ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিংড়ার মানুষকে অসংখ্যক উন্নয়ন উপহার দিয়েছেন। সিংড়ায় আজ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। গ্রামকে সড়কে সংযুক্ত করেছেন। ইন্টারনেটের সংযোগ দিয়ে ১২টি ইউনিয়নে ডিজিটাল এলাকায় রুপান্তিত করেছেন। আজ সিংড়ায় বসে ই-কর্মাস উদ্যোক্তারা বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করছেন। সরকার, দেশের সমাজব্যবস্থা, মানুষসহ সবক্ষেত্রে স্মাট দেশ গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তোলার।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, সিংড়া পৌর মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।জানা গেছে, সিংড়া উপজেলার ৮০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীরা উৎসবে ২০টি তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের স্টলে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। যোগ্যতা অনুযায়ী তারা চাকুরী পাবেন। উৎসবে চাকুরী সহায়ক তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক ৫টি সেশন থাকছে।প্রথম সেশনে ‘স্মার্ট চাকুরীর মাধ্যমে স্মার্ট সিংড়া’ সেশনে আফসানা ইয়াসমিন, শিবলী সাদিকসহ ৫জন সফল উদ্যোক্তা তাদের সফলতার গল্প শোনান। অনুষ্ঠানে র‌্যাফেল ড্র এর মাধ্যমে আকর্ষনীয় পুরস্কার দেওয়া হয়।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.