post
লাইফ স্টাইল

ঠান্ডার সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

ঠান্ডার সমস্যায় আমরা অনেকেই ওষুধের দিকে হাত বাড়াই। এতে দ্রুত আরাম পাওয়া যায় ঠিকই তবে দীর্ঘমেয়াদে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের সমস্যার অনেক প্রাকৃতিক প্রতিকার রয়েছে যা উপসর্গগুলো উপশম করতে এবং নিরাময়কে উন্নীত করতে সাহায্য করতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং শরীরকে এটির মাধ্যমে কাজ করতে দেওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো।সর্দি-কাশি বা এ ধরনের সমস্যা দূর করার জন্য ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে শ্লেষ্মা মুক্ত করার চেষ্টা করুন। এই পদ্ধতিটি আপনার শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শ্লেষ্মা এবং টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঠান্ডার সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়-১. বাষ্প শক্তি ব্যবহার কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল বা পুদিনা পাতা দিয়ে ভাপ দিলে তা শ্লেষ্মাকে তরল করতে এবং নিষ্কাশনে সাহায্য করতে পারে। এটি জমে থাকা কফ এবং অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে পারে। তবে গরম পানির ভাপ নেওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন যেন তা গায়ে না পড়ে। কারণ তাতে ত্বক পুড়ে যাওয়ার বা ফোসকা পড়ার ভয় থাকে।২. অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন সর্দি হলে আপনার শরীরের কথা শোনা এবং অতিরিক্ত কার্যকলাপ এড়ানো অপরিহার্য। কঠোর ব্যায়াম করলে বা ঘামে ভিজে গেলে তা এ ধরনের সমস্যা আরও খারাপ করে তুলতে পারে এবং আরও জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ৩. গার্গল হালকা গরম পানি, হলুদ এবং লবণ দিয়ে গার্গল করলে তা গলা ব্যথা প্রশমিত করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই সহজ প্রতিকারটি ঠান্ডার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে খুব কার্যকরী হতে পারে। ৪. মধুর নিরাময় শক্তি মধু ঔষধি গুণাবলীতে সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার। কুচি করা আদা, গোলমরিচ, হলুদ এবং দারুচিনির সঙ্গে মধু খেলে তা ঠান্ডার উপসর্গ উপশম করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মধু কাঁচা খাবেন এবং গরম পানি, চা বা কফির সঙ্গে মেশাবেন না। এটি গলা প্রশমিত করতে, কাশি কমাতে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আপনার শরীরকে শক্তির একটি প্রাকৃতিক উৎস সরবরাহ করে। ৫. হালকা গরম পানি পান করুন ঠান্ডার সময় প্রচুর পানি পান করা জরুরি। হালকা গরম পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে, শ্লেষ্মা বের করে দেয় এবং নিরাময় প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। সারাদিন হালকা গরম পানিতে চুমুক দিলে তা শুধু আপনাকে হাইড্রেটেডই রাখে না বরং শরীরের বিপাকীয় আগুন ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা দ্রুত সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

post
লাইফ স্টাইল

মুখের কোণে ঘা? জেনে নিন দূর করার ঘরোয়া উপায়

মুখের কোণে ঘা হলে খাওয়া, কথা বলা এবং এমনকি হাসিও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। মানসিক চাপ, ছোটখাটো আঘাত বা কিছু খাবারের কারণে এই ঘা দেখা দেয়। যদিও এই সমস্যা সাধারণত এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই নিরাময় হয়, তবে কিছু প্রাকৃতিক প্রতিকার নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং অস্বস্তি কমাতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, মুখের কোণে ঘা হলে তা দূর করার ঘরোয়া উপায়-নারিকেল দুধ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন নারিকেল দুধ শুধু তরকারি এবং স্মুদির জন্যই দারুণ নয়; এটি মুখের আলসারের জন্যও বিস্ময়কর কাজ করতে পারে! ফাইটোথেরাপি রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, নারিকেলের দুধ আলসারে শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়। এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য ব্যথা এবং ফোলা কমাতে সাহায্য করে, এর প্রাকৃতিক শীতল প্রভাব কালশিটে জায়গাটিকে প্রশমিত করে।পানির সঙ্গে গ্রেট করা নারিকেল ব্লেন্ড করে এবং ছেঁকে নিয়ে নারিকেলের দুধ বের করুন। দিনে ২-৩ বার ৩০ সেকেন্ডের জন্য আপনার মুখের চারপাশে দুধ ঘষুন।মধু ও হলুদের মিশ্রণ মধু হলো একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, এদিকে হলুদে থাকে কারকিউমিন, এটি একটি যৌগ যা এর প্রদাহ বিরোধী এবং নিরাময় বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মিশ্রিত হলে তা মুখের আলসার বা ঘায়ের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিকার তৈরি করে। কীভাবে ব্যবহার করবেন ১ চা চামচ মধুর সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। আক্রান্ত স্থানে পেস্টটি ঘষুন এবং ১৫ মিনিট রেখে দিন। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা জেল অ্যালোভেরা তার ত্বক-নিরাময় বৈশিষ্ট্যের জন্য সুপরিচিত, কিন্তু আপনি কি জানেন যে এটি মুখের আলসারের জন্যও সমানভাবে কার্যকর? এর প্রশান্তিদায়ক এবং প্রদাহ বিরোধী গুণাবলী তাৎক্ষণিক পরিত্রাণ দিতে পারে এবং দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে ব্যবহার করবেন একটি তাজা অ্যালোভেরার পাতা কেটে জেল বের করে নিন। এবার একটি পরিষ্কার তুলো ব্যবহার করে সরাসরি আক্রান্ত স্থানে জেলটি প্রয়োগ করুন। দ্রুত ফলাফলের জন্য দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করুন।

post
বাংলাদেশ

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে-মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‌‘গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত তিন মাসে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। তারা অনেকগুলো কাজ করেছে।’ আজ বৃহস্পতিবার শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সবাই যদি তাদেরকে (অন্তর্বর্তী সরকার) সহযোগিতা করি এবং উপযুক্ত ও যৌক্তিক সময়ে তারা একটি নির্বাচন দিতে সক্ষম হলে জাতির সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে, তা পূরণে সক্ষম হবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকে শপথ নিয়েছি-জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আধিপত্যবাদকে রুখে দিয়ে স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখব, সংগ্রাম ও আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম-খুন করেছে। ৬০ লাখের বেশি মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তারা।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর রহমতে ৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো এই ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের আধিপত্যবাদকে পরাজিত করতে পেরেছি।’ এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

post
আন্তর্জাতিক

আবার কীভাবে জিতলেন ট্রাম্প

আট বছর আগে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন ট্রাম্পের বিজয়কে ‘সংকীর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করাটা সহজ ছিল। এমনকি সেই বিজয়কে ‘অপ্রত্যাশিত’ সাফল্য হিসেবে অভিহিত করারও সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার আর ট্রাম্পের বিজয়ের ক্ষেত্রে এসব কথা প্রযোজ্য নয়। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের কাছ পরাজিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তিনি নির্বাচনে জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ তোলেন। ট্রাম্পের উসকানিতে তাঁর উগ্র সমর্থকেরা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবনে (ক্যাপিটল হিল) রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়। এমনকি একটি ফৌজদারি মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত পর্যন্ত হন। এত কিছু সত্ত্বেও ট্রাম্প এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্পষ্ট বিজয় অর্জন করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি দোদুল্যমান হিসেবে পরিচিত সাতটির মধ্যে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যেই জয়ী হয়েছেন। ফলাফল এখনো ঘোষণা না হওয়া বাকি দুটিতেও তিনি জয়ের পথে।এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রান্তে তাঁর সমর্থন বাড়িয়েছেন। এমনকি প্রায় প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর সমর্থন এবার বাড়তে দেখা গেছে। ২০২০ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে যদি তুলনা করা হয়, তাহলে নির্বাচনী মানচিত্র ‘লাল’ রঙের (রিপাবলিকান) ছেয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়বে। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুমিত হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী, যিনি জাতীয় সাধারণ ভোটেও (পপুলার ভোট) জয়ী হতে যাচ্ছেন। তবে একই সময়ে এ কথাও বলতে হয়, ট্রাম্পের এই জয়ের মাত্রাকে অতিরঞ্জিত করে দেখা উচিত নয়। কারণ, এটি কোনো ভূমিধস জয় নয়।যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পপুলার ভোটের ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীর এক বা দুই শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বিজয় অর্জন অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। আবার প্রায় ৩১২টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়ে কোনো প্রার্থীর জয়ী হওয়াটাও বিরল কিছু নয়। ট্রাম্পের এবারের জয় ২০১২ সালে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী বারাক ওবামার ‘পরিমিত’ বিজয়ের মতো অতটা বড় কিছু নয়। পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ওবামা ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবার জয়ী হন। একইভাবে আরেক ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী বিল ক্লিনটন পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ১৯৯২ সালের নির্বাচনী জয়ী হয়েছিলেন। এই দুই নির্বাচনে জয়ী দুই প্রার্থীর (ওবামা ও ক্লিনটন) চেয়েও ভালো করতে পারেননি ট্রাম্প। বরং এ ক্ষেত্রে তিনি অনেকটা পিছিয়ে আছেন।তবে যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, তা হলো ট্রাম্প কোনো সাধারণ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নন। ফলে তাঁর সাদামাটা জয়ও নিয়ে অনেক চর্চা হচ্ছে। ট্রাম্প আদালত ঘোষিত রায় অনুযায়ী একজন অপরাধী। তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ফলাফল উল্টে দিতে চেয়েছিলেন। সে জন্য তিনি নানান অপতৎপরতা চালিয়েছিলেন। এসব দিক বিবেচনায় ট্রাম্পকে সাধারণভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘কার্যকর’ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল না। তবে বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা গেল, ট্রাম্প কেবল কার্যকর প্রার্থীই ছিলেন না, তিনি সন্তোষজনকভাবে জিতে গেছেন। ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও বেশির ভাগ ভোটার তাঁকে একজন ‘অপ্রীতিকর’ প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।সিএনএনের বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা ভোটারের হার মাত্র ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রতি প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা ভোটারের হার ৫৪ শতাংশ। বেশির ভাগ ভোটার (৫৫ শতাংশ) বলেছেন, ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই চরম। তবে এই ব্যাপারটি স্পষ্ট যে ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের বিষয়ে আবেদন থাকার ক্ষেত্রে এমন অনেক দিক আছে, যা জরিপের সহজ প্রশ্নে উঠে আসে না। কিন্তু ট্রাম্পের এই বিজয় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থা সম্পর্কে অনেক বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে পারে। আবার মার্কিন জনসাধারণের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, সে বিষয় সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ট্রাম্পের ভূমিকা মুখ্য নয়। সর্বোপরি কাগজে-কলমে ডেমোক্র্যাটরা এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন যখন তলানিতে চলে যায়, তখন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর নির্বাচনে জয়ী হয়ে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার ইতিহাস নেই। আবার অনেক আমেরিকান যখন মনে করেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে দেশ ভুল পথে রয়েছে, তখনো সেই দলের প্রার্থীর জয়ী হওয়ার নজির নেই।

post
আন্তর্জাতিক

শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারে কমলা ও ট্রাম্প কী বললেন

ভোটের আগের দিন গতকাল সোমবার পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপালিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। উভয়ই নিজের জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এবারের মার্কিন নির্বাচনের প্রচারণায় মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সমাবেশ চলাকালে রিপালিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্পের ওপর দুবার গুলি চলেছে। গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারের মাঝপথে হঠাৎ করেই সামনে চলে আসেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা। নিজ দলের ভেতর থেকে চাপের মুখে ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। বাইডেন সরে দাঁড়ালে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট সামনে চলে আসেন।অ্যানালিটিকস ফার্ম অ্যাডইমপ্যাক্টের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মার্চ থেকে নির্বাচনী প্রচারে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। অধিকাংশ জনমত জরিপে কমলা (৬০) ও ট্রাম্পের (৭৮) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার ভোটের দিনই তাই ভোটের ফলাফল পাওয়া না–ও যেতে পারে। যদিও ট্রাম্প এরই মধ্যে আভাস দিয়েছেন, তিনি নিজের পরাজয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত। উভয় প্রার্থী গতকাল পেনসিলভানিয়ায় সমাবেশে ভোটের দিন সমর্থকদের ভোট দিতে যেতে বলেছেন। মঙ্গলবার ভোট হলেও কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। তবে যাঁরা এখনো ভোট দিতে যাননি, তাঁদের ভোট দিতে যেতে বলেছেন কমলা ও ট্রাম্প।যে সাত অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচনী যুদ্ধক্ষেত্র বলা হয়, তার একটি পেনসিলভানিয়া। এই সাত রাজ্যের মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় ইলেকটোরাল কলেজ ভোট সবচেয়ে বেশি। ভোট শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পিটসবার্গে বিশাল এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চার বছর ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছি।’ প্রতিদ্বন্দ্বী কমলাকে আক্রমণ করতে গিয়ে এদিন তিনি আরও বলেন, কমলা জিতলে সঙ্গে করে অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে আসবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ট্রাম্পকে একটি ভোট দেওয়ার অর্থ আপনাদের নিত্যপণ্যের দাম কমবে, আপনাদের বেতন বাড়বে, আপনাদের সড়ক অধিক নিরাপদ হবে, জাতি হিসেবে আপনারা আরও সমৃদ্ধ হবেন এবং আগের তুলনায় আপনার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।’ অ্যালেনটাউনে সমাবেশে কমলা নিজের জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি ‘সব আমেরিকানের’ প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

post
আন্তর্জাতিক

মার্কিন নির্বাচন কেন নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার হয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই দিন মঙ্গলবার। ১৮৪৫ সাল থেকে নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরদিন মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এই ভোট গ্রহণ কেন নভেম্বর মাসে, আর কেনই–বা প্রথম সোমবারের পরদিন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়! এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস। যে কারণে নভেম্বরে ভোট ১৮৪০ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের জন্য কোনো আলাদা দিন নির্ধারিত ছিল না। এ সময় নির্বাচনের তারিখ অঙ্গরাজ্যগুলো ঠিক করত। এতে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক দিন ভোট হতো। তবে বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যই ভোট গ্রহণের জন্য নভেম্বর মাসকে বেছে নিত। এতে নানা ধরনের সংকটের সৃষ্টি হতো। এসব সংকট কাটাতে ১৮৪৫ সালে দেশে একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইন পাস হয়। শুরুর দিকে শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ মেনে চললেও পরে সব ধরনের নির্বাচনেই এই আইনের প্রয়োগ শুরু হয়। নভেম্বরে ভোট দেওয়ার কারণ বেশ সহজ। শুরুতে ফেডারেল আইনের অধীনে ইলেকটোরাল কলেজের নির্বাচকদের ডিসেম্বরের প্রথম বুধবার পৃথক রাজ্যে মিলিত হওয়ার রীতি ছিল। ১৭৯২ সালের ফেডারেল আইন অনুসারে, রাজ্যগুলোর নির্বাচন (যাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন, এমন নির্বাচকদের ভোট) সেই দিনের আগে ৩৪ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার নিয়ম চালু হয়। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪৫ সালে যখন নতুন এ আইন পাস হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিভিত্তিক সমাজ ছিল। এ কারণে দেশটির শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় অংশ কৃষকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। বছরের অধিকাংশ সময় কৃষকেরা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতে কৃষকের ঘরে ফসল উঠে যায়। সময়টা কৃষকদের জন্য অবসর থাকে। আর আবহাওয়াও বেশ অনুকূল থাকে। এ কারণে কৃষকের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নভেম্বরকে বেছে নেওয়া হয়। নতুন এই আইনের আগে রাজ্যে বিভিন্ন দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। তখন যোগাযোগব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য কয়েক দিন বা সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো। নিউ জার্সিতে ভোটদানকারী লোকেরা মেইন বা জর্জিয়ার ভোটে কে জিতেছেন, তা জেনে প্রভাবিত হতে পারতেন না। কিন্তু ১৮৪০ সালের দিকে সবকিছু বদলে যেতে লাগল। রেলপথ নির্মাণের কারণে ডাক ও সংবাদপত্র পরিবহন অনেক দ্রুততর হয়ে ওঠে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যেটা সমাজকে বদলে দিয়েছে, তা হলো টেলিগ্রাফ। কয়েক মিনিটের মধ্যে শহরের যেকোনো খবর পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠল। এর ফলে একটি রাজ্যের নির্বাচনের ফল অন্য রাজ্যের ভোটকে প্রভাবিত করতে শুরু করল। এতে একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়। ভোটাররা রাজ্য থেকে রাজ্যে ভ্রমণ করে একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে শুরু করেন। নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই ১৮৪০ দশকের শুরুর দিকে কংগ্রেস সারা দেশে নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য একটি একক দিন নির্ধারণ করে। কেন প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার? ১৮৪৫ সালে কংগ্রেস আইন পাস করে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রতি চার বছর পর নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পর প্রথম মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সোমবারের পর প্রথম মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া মানে ভোট কখনোই ১ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ, ১ নভেম্বর খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা ‘অল সেইন্টস ডে’ পালন করে। এটি ক্যাথলিক অনুসারীদের একটি পবিত্র দিন। এ ছাড়া ওই দিন ব্যবসায়ীরা আগের মাসের হিসাব মেলানোর কাজ করেন। দিনটি ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক কর্মচঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে ভোট গ্রহণ হলে ব্যবসার ক্ষতি হবে ভেবে তা বাদ দেওয়া হয়। নতুন এই আইনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৪৮ সালের ৭ নভেম্বর। মঙ্গলবার যে কারণে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য বলছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দুই দিন বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু শুরুতেই তা বাতিল করা হয়। কারণ, অধিকাংশ আমেরিকানই রোববারকে উপাসনার দিন হিসেবে আলাদা করে রাখেন। অনেক স্থানে বুধবার ছিল বাজারের দিন। এদিন কৃষকেরা তাঁদের ফসল নিয়ে শহরে বিক্রি করতে যান। এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকায় নিকটতম ভোটকেন্দ্র কয়েক মাইল দূরে থাকত। সেখানে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যেত। তাই, ভ্রমণের জন্য রোববার ও বুধবার এড়িয়ে সোমবার করা হয়। যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে মঙ্গলবারে ভোট দিতে পারেন। এর পর থেকেই চার বছর পরপর নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পর মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জন্য ভোট দেওয়ার দিনের ঐতিহ্য ১৮৪৮ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, থট কো, হিস্টোরি ডটকম ও সিএনবিসি অবলম্বনে সুজন সুপান্থ

post
বাংলাদেশ

শপথ নিলেন চসিকের নতুন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।রোববার (৩ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।ডা. শাহাদাত হোসেনের একান্ত সচিব মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, শপথগ্রহণ শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতে যাবেন চসিক মেয়র।আগামী ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম ফিরে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র।

post
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ পদ্ধতি কী?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে পাঁচই নভেম্বর। কিন্তু যে প্রার্থী সবথেকে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই যে জয়ী হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। এর কারণ হল ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন না। ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ নামে এক পদ্ধতিতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যখন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন, বেশিরভাগই হয় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমালা হ্যারিস অথবা রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। তবে এদের দুজনের মধ্যে কে জয়ী হবেন, সেটা ভোটারদের দেওয়া ভোটে সরাসরি নির্ধারিত হবে না। জাতীয় স্তরের নির্বাচনি লড়াইয়ের বদলে জয়ী-পরাজিত নির্ধারিত হবে একেকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি লড়াইয়ের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে জয়ী হওয়ার অর্থ একজন প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সবকটি ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ ভোট পেয়ে যাবেন। ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। সেই প্রার্থীর রানিং মেট হয়ে যাবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি করে ইলেক্টোরাল ভোট থাকে, যা ওই অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটিভাবে সমানুপাতিক হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার হাতে সর্বাধিক ৫৪টি, এবং ভায়োমিং, আলাস্কা এবং নর্থ ডাকোটা (এবং ওয়াশিংটন ডিসি)-র মতো যেসব অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যা খুবই কম, তাদের হাতে অন্তত তিনটি ইলেক্টোরাল ভোট আছে। সাধারণত অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের হাতে থাকা ইলেক্টোরাল ভোট সেই প্রার্থীকেই দেয়, যিনি ওই অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েছেন। ধরা যাক, টেক্সাসে একজন প্রার্থী ভোটারদের সরাসরি ভোটের ৫০.১% পেয়েছেন, তাকে ওই অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা ৪০টি ইলেক্টোরাল ভোটের সবগুলিই সেই প্রার্থী পেয়ে যাবেন। একটি অঙ্গরাজ্যে জয়ের ব্যবধান যদি বিরাট হয়ও, তাহলেও জয়ী প্রার্থী অতগুলি ইলেক্টোরাল ভোটই পাবেন। তবে একজন প্রার্থী সারা দেশে হয়ত কম ভোট পেয়েছেন, কিন্তু বেশ কতগুলি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়ে একজন প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ কম ভোট পেয়েও মিসেস ক্লিনটনকে পরাজিত করেছিলেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০০ সালে আল গোরকে পরাজিত করেছিলেন, যদিও সাধারণ ভোটে তার জয়ের ব্যবধান ছিল পাঁচ লক্ষেরও বেশি। ওই দুজনের আগে আর মাত্র তিনজন সাধারণ ভোটে না জিতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সেগুলি উনবিংশ শতাব্দীর ঘটনা। একেক রাজ্যের হাতে একেক সংখ্যক ভোট থাকার কারণে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যাপারে এমনভাবে ছক তৈরি করেন যেখানে তারা বেশি ভোট আছে এমন রাজ্যগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ‘কলেজ’ শব্দটির অর্থ এখানে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যারা একটি অঙ্গরাজ্যের ভোট দেওয়ার অধিকারী। 'ইলেকটোরাল কলেজ' হচ্ছে কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল, যাদের 'ইলেকটরস্' বলা হয়। এরা এক কথায় নির্বাচক মণ্ডলী। প্রতি চার বছর পর পর এটি গঠন করা হয়, এবং এরাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকে বাছাই করেন। কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে প্রতিটি স্টেটের ইলেকটরসের সংখ্যা নির্ধারিত হয়: যা নির্ধারিত হয় স্টেটে সেনেটরের সংখ্যা (প্রত্যেক স্টেটে দুইজন) এবং প্রতিনিধি পরিষদে প্রতিনিধির (যা জনসংখ্যার অনুপাতে) যোগফল মিলে। ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি অনুযায়ী যেসব রাজ্যে জনসংখ্যা বেশি, সেসব রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোটও বেশি। এই প্রথা শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্যই ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য সব নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় সরাসরি মানুষের ভোটেই।

post
আন্তর্জাতিক

বিশ্বনেতাদের সমর্থন কার দিকে, কমলা নাকি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে হতে যাচ্ছেন, তার ওপর নজর পুরো বিশ্বের। কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প যিনিই ক্ষমতায় আসুন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে ভাবছেন বিশ্বনেতারা। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী কে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় সবার আগে আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম। তিনি হোয়াইট হাউসে কাকে দেখতে চান? পুতিনের পক্ষ থেকে মজা করে কমলাকে পছন্দের কথা বলা হলেও তাঁর পছন্দের মানুষ যে ট্রাম্প, তার অনেক ইঙ্গিত দেখা গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া এবং ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো টিমোথি অ্যাশ আল-জাজিরাকে বলেছেন, পুতিন নানা কারণে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পছন্দ করতে পারেন। প্রথমত, পুতিন মনে করেন ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি নমনীয় এবং ইউক্রেনের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তিতে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধ ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন।অ্যাশ বলেন, ‘আমি মনে করি, ট্রাম্পের মধ্যে নিজের কর্তৃত্ববাদী হিসেবে নিজের ছবি দেখেন পুতিন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পকে তিনি বুঝতে পারেন।’ তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেই জিতুন, মস্কো মনে করে, রাশিয়ার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই থাকবে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সরাসরি কমলা বা ট্রাম্প কাউকেই সমর্থন দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই চীনের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের সময় চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই আবার ট্রাম্প জিতলে সে পরিস্থিতি তৈরি হবে। ডেমোক্র্যাটরাও এখন বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বাণিজ্যযুদ্ধ থাকলেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে চেয়েছেন ট্রাম্প। গত ১৪ জুলাই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর বিশ্বনেতাদের অনেকেই তাঁকে বার্তা দিয়েছিলেন। ওই সময় সি চিন পিংয়ের বার্তাও পেয়েছিলেন তিনি। সির বার্তা ট্রাম্প পেলেও চীনের কর্মকর্তারা আবার কমলাঘেঁষা বেশি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কাউকে সরাসরি সমর্থন না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্পের প্রতিই ঝুঁকে রয়েছেন তিনি। ইউরোপের নেতাদের মধ্যে অনেকেই এবার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছেন। কারণ, ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ কমলাকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘আমি তাঁকে ভালোভাবে চিনি। তিনি দারুণ প্রেসিডেন্ট হবেন।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ। কিছুদিন আগেও ট্রাম্প মোদিকে প্রশংসা করে টুইট করেছেন। তবে চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়ার জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো চৈতজ্ঞ বাজপেয়ী বলেন, ‘আমি মনে করি না, মোদির কোনো পছন্দের প্রার্থী আছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে দুই দলেরই মত রয়েছে।’ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল কাউকেই সরাসরি সমর্থন দেননি। তবে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ট্রাম্পের সময় কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় খরচ না বাড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছিল। জাপানের পক্ষে ট্রাম্প জয়ী হলে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কমবে। ট্রাম্প শুল্ক বাড়াবেন এবং জাপানকে সামরিক বাজেট বাড়াতে বলবেন। কমলা প্রেসিডেন্ট হলে তাদের নীতি ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ট্রাম্প জয়ী হলে নানা প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাই ট্রাম্পের পক্ষে তাদের না যাওয়াই স্বাভাবিক।

post
নারী ও শিশু

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে নারী ও শিশু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম। বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউট বাংলাদেশে ২০ জন মায়েদের নিয়ে নারী মৈত্রী আয়োজিত “তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম” গঠন বিষয়ক সভায় এ দাবি জানান তারা। তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম এর আহ্বায়ক ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য্য। যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং একজন সফল সাংবাদিক মা শাহনাজ পলি ও একজন শিক্ষিকা মা আফসানা নওরিন।নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন মো. আব্দুস সালাম মিয়া,প্রোগ্রামস ম্যানেজার,ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশ।অনুষ্ঠানের মূল বিষয় উপস্থাপন করেন নারী মৈত্রীর প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাছরিন আকতার। তিনি বলেন,বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ লোক তামাক ব্যবহার করে এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ করা প্রয়োজন। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে এফসিটিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়ায় যে বিষয়গুলো প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সব পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা; তামাক পণ্যের প্রচার বন্ধ করার জন্য বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট আমদানি, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা; তামাক পণ্যের সব ধরনের খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা; ও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা। দেশকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আজকের এই তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন যা তামাকমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ফোরামের সদস্যগণ যথাযথ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করেন ফোরাম এর আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ধূমপান না করেও পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ। যার মধ্যে বেশি ক্ষতির শিকার হন নারী ও শিশুরা। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারীদের অকালে গর্ভপাত, অপরিণত শিশুর জন্ম, স্বল্প ওজনের শিশু, গর্ভকালীন রক্তক্ষরণ, প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মৃত শিশুর জন্ম দেয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।নারী ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় এই ফোরাম তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের দাবিতে নিরলস সমর্থন ও পরামর্শ দিবে। পাশাপাশি নিজের পরিবারকে তামাকের প্রভাবমুক্ত রাখবে এবং অন্যান্য মায়েদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবে। এছাড়া, তামাক কোম্পানির কূটকৌশল বা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বাধাগ্রস্ত করার বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস জানান তিনি।যুব সমাজকে তামাকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষায় মায়েরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন আবদুস সালাম মিয়া। তিনি বলেন,"তামাকের প্রতি আসক্তি যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার জগতে। গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো জরিপ এ ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে পরিচালিত প্রতিবেদনে দেখা যায় ভারত,ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশে ধূমপান আসক্ত কিশোর-কিশোরীর হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রায় ১২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত।তাই প্রত্যেক মায়েদের এই বিষয়ে সোচ্চার এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশের জন্য নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।এছাড়াও ফোরামের অন্যান্য সদস্যগণ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী প্রস্তাব দ্রুত পাশের জোর দাবি জানান।এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, লেখক ও কলামিস্ট সপ্না রেজা,ভিউজ বাংলাদেশ এর নিউজ এডিটর মারিয়া সালাম, ইত্তেফাক এর সিনিয়ির রিপোর্টার রাবিয়া হোসেন বেবি এবং খেয়া মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা এর প্রেসিডেন্ট ফারজানা শাম্মি সহ বিভিন্ন পেশার মায়েরা।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.