post
এনআরবি বিশ্ব

মেলবোর্নে বাংলাদেশের ২১ জন শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী

মেলবোর্নে গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশের ২১ জন শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে। ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ শিরোনামের এই প্রদর্শনী আয়োজন করছে ডিকিন ইউনিভার্সিটি আর্ট গ্যালারি। এই প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিকিন ইউনিভার্সিটির কালচারাল হেরিটেজ এবং মিউজিয়াম স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক গেই স্কালথর্প। উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল মেম্বার অফ পার্লামেন্ট কারিনা গারল্যান্ড, বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া ট্রেড কমিশনের পরিচালক মিনহাজ চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়া মাল্টিকালচারাল কমিশনের সদস্য সুসান জিন ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকায় শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত ও ডিকিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য। প্রদর্শনী আয়োজনের উদ্যোক্তা আর সার্বিক সহযোগিতা করেছেন মেলবোর্ন অভিবাসী শিল্পানুরাগী বাঙালি দম্পতি আতিক ও নিরুপমা রহমান। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের কাজ সংগ্রহ করে চলেছেন। এই শিল্পানুরাগী দম্পতির ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে ৩১টি বাংলাদেশি শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ডিকিন ইউনিভার্সিটি আর্ট গ্যালারি। শিল্পীরা হলেন-আব্দুল মান্নান, আব্দুস শাকুর শাহ, অলকেশ ঘোষ, বীরেন সোম, ফরিদা জামান, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষীনি, জামাল আহমেদ, কনক চাঁপা চাকমা, কারু তিতাস, কাজী শহীদ, মোহাম্মদ ইকবাল, মনিরুল ইসলাম, মনসুর উল করিম, কাইয়ূম চৌধুরী, রফিকুন নবী, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, শেখ আফজাল ও সমরজিৎ রায় চৌধুরী।

post
এনআরবি বিশ্ব

পরিচয়পত্রহীন কর্মীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে সহযোগিতার আহ্বান

মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশি পরিচয়পত্রহীন (আনডকুমেন্টেড) প্রবাসী কর্মীদের বৈধ উপায়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে সহযোগিতা প্রদানের জন্য আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রদূত।বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) মালদ্বীপের অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আমীরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ। এসময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও মিশনের প্রথম সচিব ও চ্যান্সারি প্রধান মো. সোহেল পারভেজ।সাক্ষাতকালে মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরকারি বিনিময় মূল্যে ডলার প্রদান বা রুপিয়ার মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঠিক বেতন রশিদ প্রদান করাসহ ডলারে বেতন পরিশোধ করার অনুরোধ জানান।উভয় দেশের মধ্যকার আরও ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা খোলার জন্য মালদ্বীপ সরকারকে অনুরোধ জানান হাইকমিশনার।

post
বাংলাদেশ

আগস্টে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন ছাড় ও সুবিধার সুফল মিলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে ২০৩ কো‌টি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশি মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ৯৫ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ১৯ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রবাসী আয় বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।একক মাস হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে রেমিট্যান্স কমলেও গত বছরের আগস্টের তুলনায় বেড়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮১ কোটি ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের জুলাই মাসে এসেছিল ২০৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। সে হিসাবে জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে ৬ কোটি ডলার বা ৩ শতাংশ কম এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৪১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এসেছে ৭৫ লাখ ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে এসেছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এই মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪৩ কোটি ডলার। এরপর সিটি ব্যাংকে ১৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ১৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার, পূবালী ব্যাংকে ১১ কোটি ৪০ লাখ, ডাচ–বাংলা ব্যাংকে ১০ কোটি ১৬ লাখ ডলার এবং রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ডলার।সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে আগস্ট মাসে কোনো রেমিট্যান্স পাঠাননি প্রবাসীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠান, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা।

post
এনআরবি সাফল্য

ওমানে কুরিয়ে পাওয়া অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে সম্মাননা পেল প্রবাসী বাংলাদেশি

৪০০ ওমানি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ টাকার কিছু বেশি। পেট্রোডলারের দেশ ওমানে এই অর্থ খুব বেশি নয়। কিন্তু কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি কুড়িয়ে পাওয়া এই অংকের অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে সম্মানিত হলে, জাতীয় পত্রিকার খবরের শিরোনাম হলে, তা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই গর্বের বিষয়। সততা ও দায়িত্ববোধের এমন উদাহরণ দিয়ে বাংলাদেশিদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন প্রবাসী নুর উদ্দিন শহীদ। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ৪০০ রিয়াল পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে এই রেমিট্যান্সযোদ্ধা সম্মানিত হয়েছেন।দেশটির রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি) এর সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দিয়েছে নুর উদ্দিন শহীদকে। সনদের সঙ্গে নগদ ২০০ রিয়াল (বাংলাদশি মুদ্রায় ৫০ হাজার টাকা) অর্থ পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে তাকে। নুর উদ্দিন জানান, গত ১ আগস্ট রাজধানী মাস্কাটের মোয়েলা সবজি মার্কেটে তিনি গিয়েছিলেন বাজার করতে। ফেরার সময় পার্কিং এলাকায় নিজের গাড়ির নিচে ৪০০ ওমানি রিয়াল খুঁজে পান। উপযুক্ত দাবিদার না পেয়ে স্থানীয় আল খোদ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে টাকাগুলো জমা দেন তিনি। এ ঘটনার ২৭ দিন পরে রয়্যাল ওমান পুলিশের সম্মাননার আমন্ত্রণ পান তিনি।গত রোববার সকালে রাজধানীর আল কুরুম এলাকায় আরওপির সদর দপ্তরে নুর উদ্দিন শহীদকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা দেওয়া হয়। 

post
এনআরবি বিশ্ব

দুবাইয়ে ট্যাক্সি চালান বাংলাদেশি শিউলী

চারদিকে উঁচু সুরম্য দালান। রাস্তায় গতিময় নামিদামি গাড়ি। শহরের বাঁকে বাঁকে চাকচিক্য, আভিজাত্য। চোখ ধাঁধানো রোশনাই নিয়ে সন্ধ্যা নামে মায়াবী শহর দুবাইয়ে। সেই আলোর বাগানে বাংলাদেশি অদম্য শিউলীও ছড়ান সুবাস। ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৫টা বাজতেই জ্বলে ওঠে তাঁর জীবিকার গাড়ির হেডলাইট। রাতজাগা পাখি হয়ে ট্যাক্সি চালান দুবাইয়ের পথে পথে। ভোর ৫টায় নেভে সেই আলো। শিউলী আক্তার ফরিদপুরের বোয়ালমারীর বারানখোলা গ্রামের মেয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থিতু, তাও হবে বছর আট। ২০১৪ সালে দেশটিতে পাড়ি জমান এই নারী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দুবাইয়ে পা রাখার পাঁচ মাসের মাথায় বাবাকে হারান শিউলী। তখন থেকেই নিজের ও স্বামীর সংসারের 'চালক'ও তিনি। দুই পরিবারের একক সহযোগী আর অর্থের জোগানদাতা হিসেবে দায়িত্ব তুলে নেন কাঁধে। এই দায়িত্ব পালনে পাচ্ছেন সবার সহযোগিতা। নারীর জন্য বিশ্বের তৃতীয় নিরাপদ শহর দুবাইয়ে বাংলাদেশি প্রমীলা ট্যাক্সিচালক হিসেবে এখন অন্যরকম বিজ্ঞাপন তিনি। প্রতিদিন তাঁর ট্যাক্সিতে ওঠানামা করেন অন্তত ২০ যাত্রী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মস্থলে নারীদের অবাধ স্বাধীনতা থাকায় দুবাই শহরে বাংলাদেশি শিউলী নিজেকে মেলে ধরেছেন আপন আলোয়। দুবাইয়ের যাপিত জীবন আর নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন সমকালের কাছে। শিউলী জানান, দুবাই আসার প্রস্তুতি নিতে গেলে ২০১২ সালে তাঁকে ঋণ সহযোগিতা দেয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ওই ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ পান তিনি। কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই রাখেন আমিরাতে পা। তবে কাজ পেতে আট মাসের মতো সময় লেগে যায়। সে সময় নিজ থেকে বহন করতে হয় থাকা ও খাওয়ার খরচ। কাজে যোগ দেওয়ার পর বদলে যেতে থাকে শিউলীর জীবন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক কোম্পানিতে নির্ধারিত বেতনে চাকরি করলেও এখন শিউলী কাজ করছেন কমিশনভিত্তিক চুক্তিতে। শিউলী বলেন, শুরুর দিকে আর্থিক সমস্যা তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠেছি। বাবা না থাকায় নিজের পরিবারে যেমন আর্থিক সহায়তা দিতে হয় তেমনি স্বামীর পরিবারের দায়িত্বও নিতে হয়েছে। নিজের আয়ের অংশ দুই পরিবারে ভাগ করে দিচ্ছি। নারীকর্মী হিসেবে আমিরাত সরকারের প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা। শিউলী বলেন, এখানে নিজের মতো করে থাকা যায়। ইচ্ছে করলে সম্মানের সঙ্গে বাঁচা যায়। যার প্রমাণ আমি নিজেই। দুবাইয়ে কাজ করে গর্ববোধ করি। কারণ, আমাদের যে কোনো বিপদ-আপদে এখানের প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা এখানে একই রকম। ভয় সংশয়হীনভাবে কাজ করা যায়। বাংলাদেশেও নারীরা এমন স্বাধীনতা ও সম্মান পেলে গর্বের সঙ্গে যে কোনো পেশায় কাজ করতে পারবে।

post
যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কে লেকের পানিতে ডুবে ২ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

নিউইয়র্কে লেকের পানিতে ডুবে একই পরিবারের ২ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। গত রোববার নিউইয়র্কের টাউন অব বেথেলের হোয়াইট লেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠক বরুড়া উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা রুহুল আমীনের বড় মেয়ের জামাই আফরিদ হায়দার (৩৪) ও ছেলে বাছির আমীন (১৮)।রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাসরিন আমীনকে (২১) লেক থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় গারনেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাসরিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বরুড়া উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুল হক আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, গত শনিবার রুহুল আমিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাউন অব বেথেলে বেড়াতে যান। তাদের সবাই লেকের ধারে মেয়ের জামাই আফরিদের বাসায় উঠেন। পরদিন দুপুরে আফরিদ লেকে গোসল করতে নামেন। সে সময় হঠাৎ তিনি পানিতে ডুবে যেতে থাকেন। ভগ্নীপতিকে বাঁচাতে শ্যালক বাছির পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে যান রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাসরিন। এরপর তারা ৩ জনই ডুবে যান। দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আফরিদ ও বাছিরকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি তরুণী হত্যায় স্বামী সুমন গ্রেপ্তার

দক্ষিণ আফ্রিকার পুমালাঙ্গা প্রদেশের লাইডেনবার্গে বাংলাদেশি নারী শান্তা ইসলাম ওরফে সিনথিয়া শিকদার (২২) হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে তার স্বামী সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শান্তা ইসলামের আত্মীয় দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী পলাশ সিকদার গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার সময় লাইডেনবার্গ পুলিশ একটি জঙ্গল থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।লাইডেনবার্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমন-শান্তা। ২৮ আগস্ট ওই বাসা থেকে শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। শান্তার দেশের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ফলপাড়া গ্রামে। সুমন মিয়ার বাড়ি একই জেলার বাসাইল থানার কাঞ্চনপুর গ্রামে। শান্তার এক আত্মীয়ের বরাত দিয়ে কমিউনিটি নেতা শফিকুর রহমান এর আগে জানিয়েছিলেন শান্তা তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। টেলিফোনে সুমনের সঙ্গে বিয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে আসেন শান্তা।শান্তার পরিবারের অভিযোগ শান্তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন সুমন। বিভিন্ন সময় শান্তার পরিবারকে মোটা অংকের টাকা পাঠাতে বাধ্য করেন সুমন। শান্তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক আলামত পেয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে সুমনকে দু’একদিনের মধ্যে আদালতে বিচারের মুখামুখি করা হবে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে শান্তা ইসলামের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠন বাংলাদেশ পরিষদ, মুক্তবাংলা ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল কমিউনিটি অব প্রিটোরিয়া, ইসলামি ফোরাম অব আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠন।

post
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ডেট্রয়েটের বাংলাদেশি মেলায় হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীর মহামিলন ঘটেছে। বাংলা টাউনের জেইন ফিল্ড পরিণত হয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে। প্রবাসীরা দেশে ফেলে আসা ঐতিহ্যর স্বাদ পেয়েছেন মেলায় এসে। নতুন প্রজন্ম মেলায় এসে বাংলাদেশি কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তারাও নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে। ডেট্রয়েট সিটির বাংলা টাউনের জেইন ফিল্ডে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ফেস্টিভ্যাল এ মেলার আয়োজন করেছিল।রোববার শেষের দিনে হাজারো বাংলাদেশির মহামিলন ঘটেছে মেলায়। মিশিগানের বিভিন্ন সিটিতে বসবাসরত শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী বাংলাদেশিরা পরিবার নিয়ে মেলায় হাজির হন। আয়োজকরা বলেছেন, বাংলাদেশি ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই ২১ বছর ধরে এ মেলা হয়ে আসছে। দীর্ঘ একটি বছর মিশিগানের বাংলাদেশিরা অপেক্ষায় থাকেন এ মেলার জন্য।বাংলার ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন নাচে গানে মাতিয়ে রাখেন মেলায় আগত দর্শকদের। ছোট ছোট শিশুরাও নেচে গেয়ে প্রাণভরে আনন্দ উপভোগ করেছে। মেলার মঞ্চ দাপিয়ে গান গেয়েছেন জনপ্রিয় প্রবাসী শিল্পী নীলিমা শশী ও শাহ মাহবুব। মেলায় ছিল রকমারি স্টলসহ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি পণ্যের সমাহার। পোশাক, ‍জুয়েলারি, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প ও দেশীয় স্বাদের খাবারের দোকান। স্টল মালিকরা জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে। পোশাক ও দেশি খাবার বেশি বিক্রি হয়েছে। অন্য দেশের মানুষেরাও মেলায় এসে কেনাকাটা করছেন। মেলায় অনেক দর্শক রিকশায় চড়ে দারুণ আনন্দ পেয়েছেন। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের স্টল ও বাংলাদেশি হুক্কা দর্শকদের নজর কেড়েছে। র‌্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার ছিল অন্যতম আকর্ষণ। নতুন গাড়ি ও বিমানের টিকিটসহ নানা পুরস্কার দেওয়া হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

মোবাইলে বিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে খুন বাংলাদেশি তরুণী

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজ বাসায় থেকে শান্তা ইসলাম (২২) নামে প্রবাসী বাংলাদেশি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রাথমিক আলামত পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সুমন মিয়া পলাতক। দেশটির পুমালাঙ্গা প্রদেশের লাইডেনবার্গে এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন শান্তা ইসলাম। সিনথিয়া শিকদার নামে এক টিকটক আইডিতে তিনি বেশ সরব ছিলেন।রোববার (২৮ আগস্ট) ঘরের দরজা ভেঙে শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। জানা গেছে, শান্তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ফলপাড়া গ্রামে। সুমন মিয়ার বাড়ি একই জেলার বাসাইল থানার কাঞ্চনপুর গ্রামে। নিহত শান্তার এক আত্মীয়ের বরাত দিয়ে কমিউনিটি নেতা শফিকুর রহমান জানান, শান্তা তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। সুমনের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বিয়ে হয়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় সুমনের কাছে চলে আসেন শান্তা।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই শান্তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন সুমন। বিভিন্ন সময় শান্তার পরিবার থেকে ব্যবসার জন্য মোটা অংকের টাকা পাঠাতে বাধ্য করেন সুমন। ওই অর্থ দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন সুমন। শফিকুর রহমান বলেন, শান্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক আত্মীয়কে খোঁজ নিতে পাঠায় তার পরিবার। শান্তার ওই আত্মীয় বাসার দরজা তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙে মেঝেতে পড়ে থাকা শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে পু্লিশ। তিনি বলেন, কী কারণে এ হত্যা তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে সুমন মিয়ার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে ধরতে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ কাজ করছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে পোশাক কারখানা গড়ে তুলছেন বাংলাদেশিরা

পোশাক রপ্তানির জন্য সারা বিশ্বেই বিখ্যাত বাংলাদেশ৷ পশ্চিমা দেশগুলোর পোশাকের দোকানগুলোতে সারি বেঁধে ঝুলানো থাকে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লোগো লাগানো নানান পোশাক৷ তবে ইরোপের দেশ গ্রিসে দেখা গেল কারখানা গড়ে তুলে পোশাক রপ্তানি করছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা৷ ২৭ বছর আগে ইউরোপের দেশ গ্রিসে এসেছেন বাংলাদেশি অভিবাসী নুরুল আমিন দেওয়ান৷ আসার পর কয়েক বছর এখানে কাজ করেছেন তিনি৷ এরপর তার মাথায় আসে পোশাক কারখানা গড়ে তোলার ভাবনা৷ সেই ভাবনা থেকেই তিনি নেমে পড়লেন কাজে৷ গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে গড়ে তুললেন ফিমা ফ্যাশনস নামে একটি পোশাক কারখানা৷ ‘‘২৭ বছর আগে আমি গ্রিসে এসেছি৷ এরপর নিজের পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি এই কারখানাটি,’’ বলেন নুরুল আমিন দেওয়ান৷ নুরুল আমিনের এই কারখানাটিতে বর্তমানে প্রায় দেড়শ শ্রমিক কাজ করেন৷ তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি৷ কারখানা পরিদর্শন করে দেখা গেল সারি সারি মেশিন৷ সেসব মেশিনে দল বেঁধে পোশাক সেলাইয়ের কাজ করছেন শ্রমিকেরা৷ জানা গেছে, শুধু নুরুল আমিন নন, গ্রিসে এমন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসীই ছোট ও মাঝারি আকারের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছেন৷ আর সেই ফ্যাক্টরিগুলোতে কর্মরতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি৷ বর্তমানে ওই পোশাক কারখানাগুলোয় বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কমরত আছেন৷নুরুল আমিন জানান, ইউরোপের ক্রেতাদের অনেকেই আগে চীন কিংবা ভিয়েতনামে কার্যাদেশ দিতেন, এখন তারা গ্রিসের এসব কারখানা থেকে পোশাক কিনতে চাইছে৷ এ কারণে এই কারখানাগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে কাজের চাপ৷ ফলে বাড়ছে শ্রমিকের চাহিদাও৷ তার মতে, গ্রিসের বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলোতে এই মুহূর্তে ১০ থেকে ১২ হাজার কর্মীর ঘাটতি রয়েছে৷ এদিকে এমন কারখানা গড়ে উঠায় বাংলাদেশ থেকে আসা যেসব শ্রমিক গ্রিসের কৃষিখাতে কাজ করছেন তাদের জন্যও একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে৷ কৃষিজমিতে সারা বছর কাজ থাকে না আর তাই কৃষিখাতে কর্মরতদের অনেকেই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় এসব কারখানায় কাজ করতে আসেন৷ তাছাড়া কারখানার কাজে অন্যান্য খাতের তুলনায় আয়ও বেশ ভালো বলে জানা গেছে৷ সাত বছর ধরে গ্রিসে আছেন বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ আসিফ৷ বর্তমানে তিনি নুরুল আমিনের পোশাক কারখানায় কর্মরত৷ তিনি জানান, দৈনিক ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করে তার মাসিক আয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা৷ চলাফেরা বাবদ তার মাসিক খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আর বাকি টাকা তার সঞ্চয় হয়৷বছরের পর বছর ধরে গ্রিসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনেকেই ভুগছেন বৈধ কাজগপত্রের সংকটে৷ দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তাদের৷ এথেন্সের ফিমা ফ্যাশনস নামের পোশাক কারখানার বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বলেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ দুই বছর ধরে পোশাক কারখানাটিতে কাজ করেন বাংলাদেশের অভিবাসী আলমগির হোসেন৷ তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে৷ আলমগিরের অভিযোগ, নতুন পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশে দূতাবাসে আবেদন করে তিনি মাসের পর মাস ধরে ঘুরছেন৷ ‘‘দুই বছর ধরে পাসপোর্টের জন্য ঘুরতেছি আমি৷ না আমার আবেদন জমা হইতাছে, না আমার কিছু হইতাছে৷ আমি জমা দিয়া আসছি দরখাস্ত, সেই দরখাস্ত হারায়ে ফেলছে৷ এখন আমি আবার দরখাস্ত জমা দিয়ে আসছি৷ এখন বলছে, আপনি অপেক্ষা করেন৷’’ আলমগিরের অভিযোগ, পাসপোর্ট না থাকায় তিনি দেশেও টাকা পাঠাতে পারছেন না৷ সেইসাথে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তো আছেই৷ আর পাসপোর্ট না থাকায় দেশেও যেতে পারছেন না তিনি৷ পাসপোর্ট পেতে গিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিড়ম্বনার অভিযোগের বিষয়টি নাকচ করে দেননি গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ৷ তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে দূতাবাসের কিছু করার নেই কেননা পাসপোর্ট বাংলাদেশ থেকে প্রদান করা হয়৷সুত্র- ইনফো মাইগ্রান্টস

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.