post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে পোশাক কারখানা গড়ে তুলছেন বাংলাদেশিরা

পোশাক রপ্তানির জন্য সারা বিশ্বেই বিখ্যাত বাংলাদেশ৷ পশ্চিমা দেশগুলোর পোশাকের দোকানগুলোতে সারি বেঁধে ঝুলানো থাকে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লোগো লাগানো নানান পোশাক৷ তবে ইরোপের দেশ গ্রিসে দেখা গেল কারখানা গড়ে তুলে পোশাক রপ্তানি করছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা৷ ২৭ বছর আগে ইউরোপের দেশ গ্রিসে এসেছেন বাংলাদেশি অভিবাসী নুরুল আমিন দেওয়ান৷ আসার পর কয়েক বছর এখানে কাজ করেছেন তিনি৷ এরপর তার মাথায় আসে পোশাক কারখানা গড়ে তোলার ভাবনা৷ সেই ভাবনা থেকেই তিনি নেমে পড়লেন কাজে৷ গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে গড়ে তুললেন ফিমা ফ্যাশনস নামে একটি পোশাক কারখানা৷ ‘‘২৭ বছর আগে আমি গ্রিসে এসেছি৷ এরপর নিজের পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি এই কারখানাটি,’’ বলেন নুরুল আমিন দেওয়ান৷ নুরুল আমিনের এই কারখানাটিতে বর্তমানে প্রায় দেড়শ শ্রমিক কাজ করেন৷ তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি৷ কারখানা পরিদর্শন করে দেখা গেল সারি সারি মেশিন৷ সেসব মেশিনে দল বেঁধে পোশাক সেলাইয়ের কাজ করছেন শ্রমিকেরা৷ জানা গেছে, শুধু নুরুল আমিন নন, গ্রিসে এমন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসীই ছোট ও মাঝারি আকারের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছেন৷ আর সেই ফ্যাক্টরিগুলোতে কর্মরতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি৷ বর্তমানে ওই পোশাক কারখানাগুলোয় বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কমরত আছেন৷নুরুল আমিন জানান, ইউরোপের ক্রেতাদের অনেকেই আগে চীন কিংবা ভিয়েতনামে কার্যাদেশ দিতেন, এখন তারা গ্রিসের এসব কারখানা থেকে পোশাক কিনতে চাইছে৷ এ কারণে এই কারখানাগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে কাজের চাপ৷ ফলে বাড়ছে শ্রমিকের চাহিদাও৷ তার মতে, গ্রিসের বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলোতে এই মুহূর্তে ১০ থেকে ১২ হাজার কর্মীর ঘাটতি রয়েছে৷ এদিকে এমন কারখানা গড়ে উঠায় বাংলাদেশ থেকে আসা যেসব শ্রমিক গ্রিসের কৃষিখাতে কাজ করছেন তাদের জন্যও একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে৷ কৃষিজমিতে সারা বছর কাজ থাকে না আর তাই কৃষিখাতে কর্মরতদের অনেকেই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় এসব কারখানায় কাজ করতে আসেন৷ তাছাড়া কারখানার কাজে অন্যান্য খাতের তুলনায় আয়ও বেশ ভালো বলে জানা গেছে৷ সাত বছর ধরে গ্রিসে আছেন বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ আসিফ৷ বর্তমানে তিনি নুরুল আমিনের পোশাক কারখানায় কর্মরত৷ তিনি জানান, দৈনিক ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করে তার মাসিক আয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা৷ চলাফেরা বাবদ তার মাসিক খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আর বাকি টাকা তার সঞ্চয় হয়৷বছরের পর বছর ধরে গ্রিসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনেকেই ভুগছেন বৈধ কাজগপত্রের সংকটে৷ দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তাদের৷ এথেন্সের ফিমা ফ্যাশনস নামের পোশাক কারখানার বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বলেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ দুই বছর ধরে পোশাক কারখানাটিতে কাজ করেন বাংলাদেশের অভিবাসী আলমগির হোসেন৷ তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে৷ আলমগিরের অভিযোগ, নতুন পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশে দূতাবাসে আবেদন করে তিনি মাসের পর মাস ধরে ঘুরছেন৷ ‘‘দুই বছর ধরে পাসপোর্টের জন্য ঘুরতেছি আমি৷ না আমার আবেদন জমা হইতাছে, না আমার কিছু হইতাছে৷ আমি জমা দিয়া আসছি দরখাস্ত, সেই দরখাস্ত হারায়ে ফেলছে৷ এখন আমি আবার দরখাস্ত জমা দিয়ে আসছি৷ এখন বলছে, আপনি অপেক্ষা করেন৷’’ আলমগিরের অভিযোগ, পাসপোর্ট না থাকায় তিনি দেশেও টাকা পাঠাতে পারছেন না৷ সেইসাথে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তো আছেই৷ আর পাসপোর্ট না থাকায় দেশেও যেতে পারছেন না তিনি৷ পাসপোর্ট পেতে গিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিড়ম্বনার অভিযোগের বিষয়টি নাকচ করে দেননি গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ৷ তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে দূতাবাসের কিছু করার নেই কেননা পাসপোর্ট বাংলাদেশ থেকে প্রদান করা হয়৷সুত্র- ইনফো মাইগ্রান্টস

post
এনআরবি বিশ্ব

আবুধাবিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আলী হোসেন (৫২) নামের এক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবুধাবির হামিম এলাকায় মারা যান আলী হোসেন। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বদর জায়েদ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখনো তার মরদেহ ওই হাসপাতালে রয়েছে। টাকা ও মোবাইল পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।জানা গেছে, মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়িতে টাকা পাঠাতে কর্মস্থল থেকে মানি এক্সেচেঞ্জ অফিসে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার হামিদ আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছোট ছেলে আলী হোসেন। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। তার স্ত্রী এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। আলী হোসেনের ভাতিজা মুহাম্মদ জহির উদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, চাচাতো বোনের বিয়ের কথা চলছে। শনিবার কাজ শেষ করে বেতন নিয়ে বিয়ের জন্য টাকা পাঠাতে যাওয়ার পথে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এখান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর পর মরদেহ বাড়িতে আনা হবে। মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আলী হোসেন ভাইয়ের কফিন বাড়িতে নেওয়ার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। সমিতির দায়িত্বশীল শহিদ ভাই হাসপাতালে রয়েছেন। দেশ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখানে আসার পর মরদেহ দেশের বাড়িতে পাঠানো হবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ, ৫ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ

অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার (২৭ আগস্ট) ভারতের আসামের দক্ষিণ সালমারা মানকাচার জেলা থেকে তাদের আটক করা হয়। অবশ্য আটকের পর মানবিক কারণে তাদেরকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। রোববার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সেন্টিনেল আসাম এবং রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড।আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে বিএসএফ জানিয়েছে, আটককৃতরা অনিচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেছিল এবং মানবিক কারণে তাদেরকে পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট একই জেলায় একই ধরনের একটি ঘটনায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দুই বাংলাদেশি নাগরিক। পরে তাদেরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন দক্ষিণ সালমারা মানকাচরের জেলা ও দায়রা আদালত। এছাড়া আবদুল হাই ও নিরঞ্জন ঘোষ নামের ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ১০ হাজার রুপি করে জরিমানাও করেছেন আদালত। আদালত আরও বলেছে, জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে উভয় বাংলাদেশি নাগরিককে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।এর আগে গত ১২ আগস্ট ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও তিনজন অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের পর তাদেরকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায় সেখানকার কর্তৃপক্ষ। তদন্তের সময় জানা যায়, তারা তিনজনই বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং ২০১৩ সালে অবৈধপথে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। আটককৃত ওই তিনজনকে শয়ন দাস (২৫), নিখিলেশ দাস (৩৪) এবং আমিন মোহাম্মদ চৌধুরী (২৭) নামে শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত সন্দেহের ভিত্তিতেই অভিবাসন কর্মকর্তারা তাদের আটক করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জুলাইয়ে লোকসভায় জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ২ হাজার ৩৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে ভারতে জাল নথি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে আধার কার্ড বানানো অবৈধ অভিবাসীদের নির্দিষ্ট বিবরণ সামনে এনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

লেবাননে ২ শিশু সন্তানসহ এক বাংলাদেশি নারীকর্মীর 'বিষপান' মা-মেয়ের মৃত্যু

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ২ শিশুসন্তানসহ এক বাংলাদেশি নারীকর্মী 'বিষপান' করায় তিনি ও তার এক মেয়ে মারা গেছেন। 'বিষক্রিয়া' কম থাকায় অপর শিশুসন্তানটি বেঁচে গেছে এবং এখন শঙ্কামুক্ত।বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ১৬ আগস্ট বৈরুতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত সাবরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিরিন খাতুনের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার। স্বামীর দেনা পরিশোধে জেরে সেই নারী 'আত্মহত্যার' পথ বেছে নেন উল্লেখ করে প্রতিবেশী বাংলাদেশিরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঘটনার দিন দুপুরে শিরিন খাতুন ছেলে মাহমুদ ও মেয়ে খাদিজাকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষপান করেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে শিরীন ও তার ২ সন্তানকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাসা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত বৈরুতের মাকাসাদ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ দিন পর শিশুকন্যা খাদিজা মারা যায়। এর একদিন পর মা শিরীন খাতুনের মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা আরও জানান, শিরীন খাতুন তার স্বামী রাজু উদ্দিনের সঙ্গে অনেকদিন ধরে সাবরা এলাকায় আছেন। ২ বছর আগে রাজু স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশির কাছ থেকে ঋণের কথা বলে অর্থ নিয়ে বাংলাদেশে চলে যান। তখন থেকেই পাওনাদাররা অর্থের জন্য শিরীনকে চাপ দিতে থাকেন। ভিডিও বার্তায় শিরীনের মা মনোয়ারা বেগম তার মেয়ে ও নাতির মৃত্যুর জন্য রাজুকে দায়ী করে তাদের মরদেহ ফিরে পেতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশু খাদিজার মরদেহ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে লেবাননে দাফন করা হয়েছে। শিরীনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে এক বছরে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু, অধিকাংশই মারা গেছেন হৃদরোগে

প্রবাসে স্ট্রোকে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব মৃত্যু যেন অনেকটাই নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং নানা কারণে মানসিক চাপে হতাশায় স্ট্রোক করেন এসব প্রবাসী। ইউরোপের দেশ গ্রিসেও বেড়েই চলছে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর সংখ্যা। এথেন্স দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গ্রিসে ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মোট ১০৯ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৫ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। ২০২১-২২ অর্থ ৩৭ জন এবং ২০২২ সালের সর্বশেষ ৮ মাসে প্রায় ২৭ জন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেছেন বিভিন্নভাবে। জরিপে দেখা গেছে এদের মাঝে বেশির ভাগই স্ট্রোকে মৃত্যু। আঞ্চলিক কমিটি ও বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সের তত্ত্বাবধায়নে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী কয়েকজনের মরদেহ গ্রিসেই দাফন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় বেশিরভাগ ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আরো জানান, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ঋণ করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে এসেছেন। বৈশ্বিক করোনা মহামারির মন্দা পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে গ্রিসে আসার পর কর্মহীন প্রবাসীরা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে মানসিক চাপে ভোগেন। বেশিরভাগ প্রবাসীই মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেইন স্ট্রোকে। তাদের অনেকের বয়সই ৩০-৪০ বছর। এমন মৃত্যু পরিবারের কাছেও অপ্রত্যাশিত। বর্তমানে গ্রিসে বৈধভাবে আসার সুযোগ তৈরী হয়েছে তাই অবৈধভাবে কেউ যেন কাজের ক্ষেত্র নিশ্চিত না হয়ে বিদেশে পাড়ি না জমান, এজন্য অনুরোধ করেছেন দূতাবাসের এই কর্মকর্তা। অনেকেই মনে করেন, ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে অনেক প্রবাসীর মধ্যে। অবৈধভাবে থাকা অনেকেই কোনো কাজ করার সুযোগ না পেয়ে বেকার অবস্থায় থাকেন। থাকা ও খাবারের টাকা দেশ থেকে নিয়ে পরিশোধ করেন। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার কারণে নিয়মিত ঘুমানোর সুযোগ পান না প্রবাসীরা। এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রিস প্রবাসী অভিবাসন বিশ্লেষক কামরুজ্জামান ভূইয়া ডালিম বলেন, ‘করোনার কারণে অনেকের কাজ ছিল না, অর্থনৈতিক সংকট ছিল। আবার অনেকে গ্রিসের পারমিট নবায়ন করতে পারেনি। তাই দেশেও পরিবার পরিজনের কাছে যেতে পারেনি। হতাশায় প্রবাসীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়ে, অনেকে মৃত্যুবরণ করেন। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত।' গ্রিস অবৈধ হয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়মিত বা বৈধকরণের কার্যক্রম আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ-গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির অধীনে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের বড় অংশের দুশ্চিন্তা অনেকাংশে কমে যাবে বলে বিশ্বাস কমিউনিটি নেতাদের। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘বৈধতা পেলে অনেকেই উপকৃত হবেন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে কর্মসূচির সফলতার ওপর। এক্ষেত্রে অনিয়মিত প্রবাসীদের পাসর্পোটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সমস্যা নিরসনে দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।’ চুক্তির আওতায় প্রতিবছর ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই অবৈধভাবে কেউ যেন গ্রিসে পাড়ি না দেন সে আহ্বান জানিয়েছেন দূতাবাস কর্মকর্তা, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিটি নেতারা।সুত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন

post
আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কায় শিশুদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হচ্ছে

শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির শিশুদের রাতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোও একই ধরনের খাদ্যঘাটতিতে পড়তে পারে। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে। খবর এএফপির। নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কায় আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেই। এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে তাদের বেল আউট (অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সহায়তা) নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন অবস্থায় খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতিতে আছে দেশটি। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার (ইউনিসেফ) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক জর্জ লারিয়া আদজেই বলেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রচণ্ড রকমের এ অর্থনৈতিক সংকটের পরিণাম ভোগ করতে হচ্ছে। রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারছে না তারা। এমন অবস্থায় প্রতি বেলার খাবার জোগাড় করা তাদের জন্য অসাধ্য হয়ে পড়েছে। জর্জ লারিয়া আদজেই সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী বেলার খাবার কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই ঘুমাতে যাচ্ছে শিশুরা। ইউক্রেনে রুশ অভিযানকে কেন্দ্র করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে শ্রীলঙ্কার প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতিতেও। লারিয়া আদজেইর আশঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও পুষ্টিজনিত সংকট দেখা দিতে পারে। জর্জ লারিয়া আদজেই বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রচণ্ড অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি শিশুদের জীবনকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দেবে। শ্রীলঙ্কায় আমি যা দেখেছি, তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা।’ ইউনিসেফ বলছে, শ্রীলঙ্কার শিশুদের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আড়াই কোটি ডলার সহায়তা প্রয়োজন। শিশুদের অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য চলতি মাসে খোদ শ্রীলঙ্কার সরকারও সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কায় সরকারিভাবে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশটিতে ৫ লাখ ৭০ হাজার প্রাক্‌-স্কুলের শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজারই অপুষ্টিতে ভুগছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, পরবর্তী সময়ে খাদ্যঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির পূর্ণাঙ্গ প্রভাবে এ সংখ্যা অনেক বেড়েছে। নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে গত মাসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এরপর পদত্যাগ করেন তিনি।

post
দূতাবাস খবর

ফ্রান্সে প্রবাসীদের পাসপোর্ট জটিলতা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরবে দূতাবাস

ফ্রান্সে প্রবাসীদের পাসপোর্ট প্রাপ্তিসংক্রান্ত জটিলতা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরবে দূতাবাস, এমনটাই বলেছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বিকালে ফ্রান্সে পাসপোর্ট জটিলতায় ভুক্তভোগী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন। এ সময় দূতাবাসের সব কর্মকর্তার পাশাপাশি ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেনইউরোপের বিভিন্ন দেশে বয়স সংশোধনকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হতে থাকা সমস্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভুক্তভোগী প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে ফুল দিয়ে দূতাবাসের ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ সময় তথ্য সংশোধন জটিলতায় পাসপোর্ট না পাওয়ার বিষয়টি তারা রাষ্ট্রদূতের নিকট ব্যক্ত করেন এবং পাসপোর্ট না পাওয়ায় সৃষ্ট অভিবাসন জটিলতা তুলে ধরেন। পাসপোর্ট প্রদানকে কেন্দ্র করে দেশে একটি দালালচক্রের প্রতারণার কথাও ভুক্তভোগী প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে জানান এবং তা প্রতিকারের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। রাষ্ট্রদূত তালহা উপস্থিত প্রত্যেক ভুক্তভোগীর কথা মনোযোগসহকারে শোনেন এবং পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়ায় দূতাবাসের আইনী সীমাবদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করেন।রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট সমস্যার কথা দূতাবাস নিয়মিতভাবে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অবহিত করে। রাষ্ট্রদূত তাদের ভোগান্তির কথা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় তুলে ধরবেন মর্মে আশ্বাস দেন। এ সময় ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাশেম, সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন কয়েছ, কমিউনিটি নেতা সাত্তার আলী সুমনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং এ সমস্যা নিরসনে দূতাবাসের স্বপ্রণোদিত প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।উল্লেখ্য, আগামী ২৯ আগস্ট ২০২২ তারিখে পাসপোর্ট জটিলতায় বৈধতার জন্য অপেক্ষমাণ একদল বাংলাদেশি নাগরিক বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে আন্দোলনের ডাক দেন, যা পরে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

post
বাংলাদেশ

অক্সিজেন স্বল্পতায় সিলেটে প্রবাসী বাবা-ছেলে ও মেয়ের মৃত্যু- পুলিশ সুপার

সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাবা, ছেলে ও মেয়ে ‘অক্সিজেন-স্বল্পতায়’ মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে মৃত্যুর এ কারণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।গত ২৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষের দরজা ভেঙে রফিকুল ইসলাম (৫০), তাঁর স্ত্রী হোসনারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুর রহমান (২৫), মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০) ও ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এরপর ৫ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিরা ইসলাম মারা যান।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, নিহত তিনজনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ২০টি আলামতের রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পর্যালোচনা করেছেন। পরে তাঁরা একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেটি বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, প্রথমত লোকজনের আশঙ্কা ছিল, এ ঘটনা বিষক্রিয়ায় হতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিহত তিনজনের শরীরে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, যেহেতু সেটি আবদ্ধ ঘর ছিল এবং এক ঘরে পাঁচজন মানুষ বসবাস করেছেন। রাতে বিদ্যুৎ ছিল না, তাঁরা ঘরের ভেতরে জেনারেটর চালিয়েছিলেন। যেহেতু ঘরের দরজা-জানালা সব কটি বন্ধ ছিল। সেহেতু জেনারেটরের ধোঁয়ার কারণে এমনটি ঘটতে পারে। প্রথম থেকে ঘটনাস্থল পর্যালোচনা করে যেটি বলে আসছিলাম ‘সাফোকেশন’। সে সাফোকেশনে তাঁরা দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে আমরা নিশ্চিত। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী তদন্তের সঙ্গে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে এটি মিলে যাচ্ছে।’এর আগে ২৩ আগস্ট পুলিশ সুপার নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে একই পরিবারের তিন প্রবাসীর মৃত্যু এবং দুই সদস্য অসুস্থ হওয়ার ঘটনা জেনারেটরের ধোঁয়া থেকে হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সে সময় চিকিৎসকদের প্রতিবেদন না আসায় সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন।রফিকুল ইসলাম ওসমানীনগর উপজেলার বড় দিরারাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি বেশ আগেই যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১২ জুলাই রফিকুল স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন। পরে ১৮ জুলাই তিনি ওসমানীনগরে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাসা ভাড়া নেন। ওই ঘটনার পর চিকিৎসা শেষে ৩ আগস্ট বাড়িতে ফিরেছেন রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনারা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলাম। সূত্র : প্রথম আলো

post
এনআরবি বিশ্ব

দুবাইয়ে ৪৫ জন প্রবাসীকে ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা

বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করতে দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে। পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরিতে ৪৫জন প্রবাসীকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দূতালয় প্রধান মো. মোজাফফর হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাস সময়ের মধ্যে শুধু বৈধপথে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণকারীগণ ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরির মধ্যে মাসিক ১২’শ দিরহাম বেতনের সমপরিমাণ ও এর নিচে সাধারণকর্মীদের থেকে ১০জন, ১২’শ দিরহামের উপরের সাধারণকর্মীদের ১০জন, ব্যবসায়ী (পুরুষ) ১০ জন, ব্যবসায়ী (নারী) ৫জন ও পেশাজীবীদের মধ্যে প্রকৌশলী, শিক্ষক, ব্যাংকার, কনসালটেন্ট, সাংবাদিক, ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কর্মরত প্রবাসীদের থেকে ১০জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডের জন্য কনস্যুলেট কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রমাণক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন দাখিল করতে হবে।দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, শারজাহ ও ফুজাইরাতে বাংলাদেশ সমিতি, রাস আল খাইমাহতে বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুলে সরাসরি অথবা [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় আবেদন দাখিল করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

post
এনআরবি বিশ্ব

গ্রিসে প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ প্রবাসী ওয়াহিদ

ইউরোপের দেশ গ্রিসে প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ মো. ওয়াহিদ আলী (২৭) নামে এক প্রবাসী। তার পরিবার ও গ্রিসে থাকা স্বজনদের অভিযোগ অর্থ আত্মসাতের জন্য তাকে গুম করেছে একটি চক্র। ঘটনার পর থেকে দোকান বন্ধ করে পালিয়েছে অভিযুক্ত তিন সহোদর ও তাদের সহযোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে মিনি বাংলাদেশ নামে পরিচিত মানোলাদার লাপ্পা গ্রামে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিখোঁজের মামা রমিজ মিয়া। নিখোঁজ ওয়াহিদ হবিগঞ্জ জেলার অনন্তপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে। অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জের ওয়াহিদ আলী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গ্রিসের কৃষি কাজের জন্য প্রসিদ্ধ গ্রাম মানোলাদার পাশে লাপ্পা নামক গ্রামে বসবাস করে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসের লাপ্পায় ‘লিটন মিনি মার্কেট’ নামের একটি বাংলাদেশি মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন তিনি। দোকানটি পরিচালনা করতেন কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের ইউনুস মিয়া ওরফে লিটন, মো. ইদ্রিস ও কুদ্দুস মিয়া নামে তিন সহোদর ও তাদের বন্ধু সুলতান আহমেদ এবং পলাশ মিয়া। তাদের দোকানে কর্মরত ওয়াহিদের সততায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মাঝে সৎ ব্যক্তি হিসেবে খুব অল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করে। তাই বিশ্বাস করে তার মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উপার্জিত অর্থ জমা রাখতেন এবং বিকাশ-মানিগ্রামের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতেন। লাপ্পায় বসবাসরত অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেননি, তাই কৃষি কাজের মতো পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ নিরাপদ মনে করে জমা রাখতেন লাপ্পায় বসবাসরত অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আর সেই ইউরো ওয়াহিদ তার মালিকের কাছেই রাখতেন, যা মালিক পক্ষ তাদের ব্যবসায় খাটাতেন বলেও জানা গেছে। দীর্ঘ লেনদেনের সূত্রে এক সময় বড় অংকের ইউরো জমা হয়ে যায়। জানা গেছে, নিরাপদ ও জিম্মা হেফাজতের চিন্তায় গেল ঈদুল আজহার আগে তার কাছে আরও প্রায় ৬১ জন বাংলাদেশির লক্ষাধিক ইউরো জমা রাখেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের এক কোটি টাকার চেয়েও বেশি। ওয়াহিদ সেই ইউরোগুলোও তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন মো. ইদ্রিস ও কুদ্দুস মিয়ার নিকট জমা রাখেন। এ অবস্থায় গত ৭ জুলাই রাত থেকে ওয়াহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পায় স্বজনরা। মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে পরের দিন গ্রিসে থাকা ওয়াহিদের স্বজনরা সরেজমিনে ওই দোকানে গেলে দোকানের মালিক পক্ষ তাদের জানান, সে রাতে ঘুমিয়ে ছিল, সকালে তারা দেখতে পান সে ঘরে নেই। এ ছাড়া আর কোনো সুদুত্তর দিতে পারেনি মালিক পক্ষ। এ খবরে হতাশ হয়ে পড়েন ওয়াহিদের স্বজনরা। এক পর্যায়ে ঘটনার ৬ দিন পর স্থানীয় আখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিখোঁজের মামা রমিজ মিয়া। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওয়াহিদ কর্তৃক জমাকৃত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আমানতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় লোভের বশীভূত হয়ে অর্থগুলো হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন লিটন, ইদ্রিস, কুদ্দুস, সুলতান ও পলাশ মিয়াদের চক্রটি। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াহিদকে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছে তিন ভাই ও তাদের দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এই খবরটি সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সকলেই আতংকিত হয়ে পড়েন এবং ওয়াহিদকে খুঁজে বের করার জোর দাবী জানান । ঘটনার খবর জানতে এ প্রতিনিধি মানোলদার লাপ্পা গ্রামে পৌঁছালে ওয়াহিদের স্বজনরাও এমনই বর্ণনা দেন এবং সাংবাদিকের উপস্থিতির খবরে সেখানে বসবাসরত শত শত বাংলাদেশিরা জড়ো হয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আখাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষনিক-ভাবে অভিযান পরিচালনা করে গ্রিক পুলিশ। এরপরই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সবাই। পরে পুলিশ ওয়াহিদের কর্মস্থল ও বাসস্থান পরিদর্শন করেছে। এ সময় অভিযুক্ত কাউকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এ ছাড়া এথেন্সের প্লাথিয়া ভাতিসে অবস্থিত তাদের আরেকটি দোকান রয়েছে অভিযুক্ত লিটনের। সেই দোকানটিও বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় লিটন। এ ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য নিতে লাপ্পার ‘লিটন মিনি মার্কেটে’ গেলে দেখা যায় সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া এথেন্সের প্লাথিয়া ভাতিসে অবস্থিত মিনি মার্কেটে একাধিকবার গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান ওই ঘটনার পরপরই তালা দিয়ে পালিয়েছে লিটন। এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘ধারণা করা যাচ্ছে জমাকৃত টাকার জন্য এমন ঘটনা হতে পারে।’ তিনি বলেন ‘তাকে খুঁজে পেতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে আলোচনা করা এবং স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলা হয়েছে।’ তাকে খুঁজে পেতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের পক্ষ থেকে যা কিছু করা দরকার বা যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যাবেন বলে আশ্বাস দেন কমিউনিটির সভাপতি। এ ব্যাপারে এথেন্সে অবস্থিত দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করলে- দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) বিশ্বজিৎ কুমার পাল ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশের সাথে সহযোগিতার কথা জানান। এ বিষয়ে জানতে লাপ্পার আখাইয়া থানায় গেলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ ওয়াহিদকে খুঁজে বের করতে তারা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এছাড়া দূতাবাস থেকেও তাদের বেশ কয়েকবার ফোন করে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করার অনুরোধ করা হয়েছে। এদিকে হোয়াটসআপে অভিযুক্ত ইউনুস মিয়া ওরফে লিটন দাবি করেন, তাদের কেউই এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। ব্যবসায়িক শত্রুতার কারণে তাদের প্রতিপক্ষ ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তবে আত্মগোপনে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, তারা পুলিশের ভয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে এইভাবে তাদের আত্মগোপন করা ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জড়িতদের সনাক্ত করে ওয়াহিদকে উদ্ধার করাসহ আত্মসাৎকারীদের কবল থেকে প্রবাসীদের অর্থ উদ্ধার করে তা ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও গ্রিক প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.