post
খেলা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবসর ভেঙে আবারও ফিরলেন তামিম

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর মান ভেঙেছে তামিম ইকবালের। অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। এর জন্য দেড় মাস সময় দেওয়া হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী দেশসেরা ওপেনারকে।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। তারপরপরই গণমাধ্যম থেকে সাবেক ক্রিকেটার, সাধারণ মানুষের মধ্যে চলতে থাকে আলোচনা সমালোচনা নানা রকম বিচার বিশ্লেষণ। এরপর ৬ জুন শুক্রবার সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মাধ্যমে তামিমকে বঙ্গভবনে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া তামিমের স্ত্রী আয়শাও সঙ্গে ছিলেন। একই সঙ্গে বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপনকেও ডাকা হয় সেখানে। তামিমের গণভবনে আসার খবর পেয়ে দর্শকরা ছুটে গিয়েছিলেন সেখানে। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। অবসর ভেঙে ফের ক্রিকেটে ফেরার দাবি জানাতে থাকেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তামিম। তবে আপাতত তিনি দেড় মাসের বিশ্রামে থাকবেন বলে জানা গেছে। তিনি অধিনায়ক হয়েই ফিরবেন এশিয়া কাপ দিয়ে।প্রধানমন্ত্রীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর গণমাধ্যমে তামিম বলেছেন, ‘আজ দুপুরে আমাকে প্রধানমন্ত্রী তার বাসায় দাওয়াত করেছিলেন। উনার সঙ্গে অনেক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি। উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন খেলায় ফিরে আসতে। আমি আমার রিটায়ারমেন্ট এই মুহূর্তে তুলে নিচ্ছি। কারণ আমি সবাইকে না বলতে পারি কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিকে না বলা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাতে অবশ্যই পাপন ভাই ও মাশরাফি ভাইয়ের বড় ভূমিকা ছিল। মাশরাফি ভাই আমাকে ডেকে নিয়েছেন। পাপন ভাই সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেড় মাসের জন্য একটা ছুটিও দিয়েছেন।’বৈঠক শেষে তামিমের পর বিসিবি সভাপতি সংবাদকর্মীদের বলেছেন, 'এটা সবার জন্য স্বস্তির খবর। অধিনায়কই যদি না থাকে বাংলাদেশ খেলব কীভাবে!’বিসিবি সভাপতি বলেছেন, 'যেহেতু সে শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনও ফিট না, সেজন্য সে দেড়মাস সময় নিয়েছে। এই দেড়মাসে সে পুনর্বাসন করে আশা করছি শিগগিরই ক্রিকেটে ফিরে আসবে।’ গণমাধ্যমে তামিমের অবসর ভাঙার খবর আসার পরেই তার নিজ বাড়ির সামনে শুরু হয় আনন্দ উৎসব। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় ভক্তদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। তামিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ভক্তদের জন্য ছিল এই আয়োজন।

post
আন্তর্জাতিক

আনন্দঘন ঈদ ভোজন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

এলামী মোঃ কাউসার, কায়রো, মিশরগত ২৮ জুন বুধবার সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল আদহা উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন,মিশর’ এর উদ্যোগে কায়রো শহরের সুপ্রসিদ্ধ তাইসির হলে উদযাপিত হয় আনন্দঘন ঈদুল আদহা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। লাল সবুজের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে, ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে, পরিবারের প্রিয়জনদের রেখে, নীলনদ আর পিরামিডের দেশে, শিক্ষার্থীদের একাকীত্বের ঈদ, আনন্দমুখর করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। ঈদের সন্ধ্যায় মহাগ্রন্থ আল-কুরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। সাধারণ সম্পাদক, জনাব সাইমুম আল-মাহদী ও শিক্ষা-সংস্কৃতি সম্পাদক আবদুর রহমানের যৌথ উপস্থাপনায়, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইত্তেহাদের ২০২২-২৩ সেশনের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি জনাব নাজিব শাওকি। সভাপতি মহোদয় উদ্ভোধনী বক্তব্যে বলেন, বিদেশের মাটিতে সকল বাংলাদেশী শিক্ষার্থী যেন মিলেমিশে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারে ঈদের আমেজ সেই লক্ষেই এ মিলনমেলা ও জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। তিনি সকলকে কুরবানীর আত্মত্যাগের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করার মাধ্যমে, সত্যিকারের মানুষ রুপে নিজেকে গড়ে তুলার আহ্বান‌ও জানান। সভাপতির উদ্ভোধনী বক্তব্যের পর ‘ইত্তেহাদ সাংস্কৃতিক ফোরাম’ এর শিল্পীবৃন্দ মন মাতানো সুরের মূর্সনায় উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু-কিশোরসহ সকলকে‌ই উপহার দেয় এক স্মরনীয় মুগ্ধ প্রহর। অনুষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে সকলের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, মো. তাজদীদ বিন ওয়াদুদ ও জনাব মাজহারুল ইসলাম। সর্বশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘোষনা করেন উপদেষ্টা প্রধান শিহাব উদ্দীন। এরপর শুরু হয় ঈদ ভোজন পর্ব। ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে কুরবানীকৃত গরুর ভুনা গোশতের মৌ মৌ ঘ্রাণ পূর্ণতা এনে দেয় সকল শিক্ষার্থীর ঈদ আনন্দে। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও ঈদ ভোজনসহ বাহারি আয়োজন উপভোগ করে উপস্থিত পাঁচশত শিক্ষার্থীর মুখে যখন আনন্দের হাসি ফুটে উঠে তখন আড়ালে ঘাম ঝরানো দায়িত্বশীলগণের হৃদয়‌ও পুলকিত হয়ে উঠে ত্যাগ ও কুরবানীর আমেজে।

post
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উৎসব আমেজে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত !

মুসলিম বিশ্বসহ সমগ্র মানবতার কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে ২৮ জুন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। চমৎকার আবহাওয়া থাকায় বিভিন্ন মসজিদের ব্যবস্থাপনায় খোলা মাঠে ও মসজিদে ঈদ জামাতে মানুষের ঢল নেমেছিল। সকালে সপরিবারে মসজিদে মসজিদে নামাজ আদায় করেন তারা। মসজিদে মসজিদে ধ্বনিত হতে থাকে- আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর... লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু...আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর... ওয়ালিল্লাহিল হামদ।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ অ্যাডামস সেন্টারে মুসলমানদের ঢল নামে ঈদের জামায়াত আদায়ের জন্য। মসজিদে চারটি জামাত অনুষ্টিত হয়। সেখানে যোগ দেন এই অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই। এখানে বিপুল সংখ্যক নারী জামাতে অংশ নেন। এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন কমিউনিটির সুপরিচিত মুখ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও সিএফএ ফারহানা হানিপ। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে বায়তুল মোকাররম মসজিদে চারটি জামাত অনুষ্টিত হয়। সকাল ৮টা ৯টা ১০টা ও ১১টায় অনুষ্ঠিত এসব জামাত। এই মসজিদেও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি মুসলিম ঈদের নামাজ আদায় করেন। ভার্জিনিয়ার গ্রিনসভিলেও হয়েছিলো বিশাল জমায়েত। পুরষদের পাশাপাশি ছিলো নারীদের উপস্থিতি। ওয়াশিংটন ডিসি ইসলামিক সেন্টারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সোয়া ১০টায়। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক ঈদুল আজহার নামাজের আয়োজন করে। ভার্জিনিয়ার দার আল নূর মসজিদ, দার আল হুদা, ফাতেমা মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।নিউইয়র্কসহ আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত মুসলমানরা এদিন সপরিবারে নিকটস্থ মসজিদ ও খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নিউইয়র্কে ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কুইন্সে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে থমাস হাইস্কুল খেলার মাঠে। অন্য জামাতগুলোর মধ্যে ছিল জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক ঈদগাহ, ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদ, পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ, ওজোন পার্কে মসজিদ আল আমান, এস্টোরিয়ায় আল আমিন মসজিদ, ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার ও বায়তুল জান্নাহ মসজিদ।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ও বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইলিনয়স, কলারাডো, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, কানসাস, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, ওয়াশিংটন ও কেন্টাকি’র বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার ও দেড় শতাধিক খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসকল মসজিদে মসজিদে খুতবায় ঈদুল আযহার নামাজের তাৎপর্য এবং বর্তমান মুসলিম বিশ্বে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে মুসলমানদের কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষভাবে মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গৌরবে গৌরবান্বিত মুসল্লিরা কোলাকুলি করে পরষ্পরের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের নামাজ শেষে প্রবাসের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করেন এই ধর্মীয় উৎসব। অপরদিকে গ্রোসারীর মাধ্যমে অনেকেই মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য খাসী ও গরু কোরবানী দেন। যার কারণে দোকানগুলোতে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে সবাইকে। কোরবানীর মাংস হাতে পাওয়ার পর সেই মাংস আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বাসায় গিয়ে বিতরণ করা হয়। ঈদের জামাত আদায় ও পশু কোরবানি এবং প্রিয় জনের সান্নিধ্যে থেকে নানারকম উপাদেয় খাবার খেয়ে দিনটি কাটিয়েছেন এখানকার মুসলিম কমিউনিটির মানুষগুলো

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনে ভোট চুরি করে আওয়ামী লীগের জিততে হয় না : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ যতবার নির্বাচনে হেরেছে, ততবারই চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে। জনগণের ভোট ডাকাতি করে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকালে গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে ভোট চুরি করে আওয়ামী লীগের জিততে হয় না। ভালো কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলেই আওয়ামী লীগ ভোট পায়। যখনই এ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। তার প্রমাণ ২০১৮ সালের নির্বাচন। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আওয়ামী লীগকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। এটি আমার কথা নয়, কানাডার আদালত এই রায় দিয়েছেন। বিএনপির সন্ত্রাসীরা যারা মানুষ হত্যা, অগ্নিসন্ত্রাস, লুটপাট করেছে; তারা কানাডায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিল। তখন তারা বিএনপিকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী দল হিসেবে ঘোষণা দেয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। জাতির পিতাকে হত্যার পর আমাদের মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমরা বিচার চাইতে পারিনি। তাই আমরা মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করছি।

post
শিক্ষা

বর্ণিল আয়োজনে সম্পন্ন ডব্লিউইউএসটির সমাবর্তন ২০২৩, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের শুভেচ্ছা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একটি শুভেচ্ছাপত্র পেলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র গ্রাজুয়েটেড শিক্ষার্থীরা। শনিবার ১৭ জুন ছিলো এই গ্রাজুয়েশন সেরিমনি। ক্লাস অব টোয়েন্টি টোয়েন্টিথ্রি। গাউন ও হ্যাট পরে শিক্ষার্থীরা গ্রাজুয়েশন প্যারেডে অংশ নেন। আর গ্রহণ করেন গ্রাজুয়েশন সনদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ জন শিক্ষার্থী পেলেন এই সমাবর্তন।এক আলোঝলমল বিকেলে ভার্জিনিয়ার জর্জ সি মার্শাল হাইস্কুল প্রাঙ্গণটি ভরে উছেছিলো কালো ও কমলার গাউন পরা নব্য গ্রাজুয়েটদের আনাগোনায়। আর অভ্যাগত অতিথিরা পরে ছিলেন কালোর সঙ্গে আর হরেক রঙ মিশিয়ে- কোনোটি নীল, কোনটি মেজেন্টা কিংবা লাল। সব মিলিয়ে এক বর্ণিল গ্রাজুয়েশন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা বহন করে এনেছিলেন তারই সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বব জে ন্যাশ। চিঠিতে সাবেক ইউএস প্রেসিডেন্ট ডব্লিউইউএসটির কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। ডব্লিউইউএসটি যেভাবে শিক্ষার সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই সেবা যেন অব্যাহত থাকে তার আহ্বান জানান। আর গ্রাজুয়েটড শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "পরিবর্তনশীল পৃথিবীটাকে সঠিক পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন আপনাদের।" সমার্তন শুরু হয় দুপুর ২টায়। তখন গাউনধারী শিক্ষার্থীরা গ্রাজুয়েশন প্যারেড করে নির্ধারিত নিজ নিজ আসনে বসেন। ওদিকে আগে থেকেই মঞ্চ ততক্ষণে ঝলমল গুরুত্বপূর্ণ সকল উপস্থিতিতে। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকরাও। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। এরপর মঞ্চে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ। তুলে ধরেন তার জীবনের গল্প। সাফল্যের পথটি যে নয় মসৃণ। সেখানে কত থাকে উত্থান-পতনের গল্প তা তুলে ধরেন। আনুষ্ঠানিক সমার্বতন বক্তৃতায় তিনি গ্রাজুয়েটেড শিক্ষার্থীদের উদ্যেশ্যে বলেন, জীবনের প্রকৃত যুদ্ধ এখান থেকেই শুরু, একটা দৃঢ়চেতা মন নিয়ে অব্যহত চেষ্টাই পারবে জীবনের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে। সমাবর্তনে প্রধান অতিথি ও কি-নোট স্পিকার ছিলেন সাবেক ইউএস রিপ্রেজেন্টেটিভ জিম মোরান। তার উপদেশমূলক বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনেন শিক্ষার্থী তথা অভ্যাগত অতিথিরা। নিয়মিত শারিরিক ব্যায়াম করা, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, এবং নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ রাখেন তিনি। গেস্ট স্পিকার ছিলেন ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সের স্টেট সিনেটর চ্যাপ পিটারসেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করা গ্রাডুয়েটদের তাদের শিক্ষার আলো নানা ভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে দেবার আহবান জানান। তিনি বলেন, ডাইভারসিটিই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা সৌন্দর্য। একজন প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আবুবকর হানিপ এখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন যা আমাদের গৌরবান্বিত করে, বলেন চ্যাপ পিটারসেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গ্রাজুয়েটদের এবং কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা জানান ইউএস সেনেট মেজোরিটি লিডার চ্যাক শুমার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সকল সেক্টেরেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের সুযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এগিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেটা পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সেনেটর চাক শুমার। ভিডিও বার্তা পাঠান কংগ্রেস ম্যান গ্যারি কন্নলী ও কনগ্রেস উইম্যান গ্রেস মেং। অনুষ্ঠানে অভ্যাগত অতিথি হয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অন্য আরও অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান। যারা এই গ্রাজুয়েশন-কনভোকেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-আমেরিকান জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট স্টেট সেনেটর শেখ রহমান তুলে ধরেন তার জীবনে গল্প। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি তার জীবনটাকে কিভাবে বদলে দিয়েছে তা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে। টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে তুলে আনেন কতগুলো ডিগ্রি তাকে নিতে হয়েছে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে, নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে নিতে। আইটি বিশেষজ্ঞ ও আইটি উদ্যোক্তা ড. ফয়সাল কাদির নব্য গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন পরবর্তী করণীয় দিকগুলো। প্রকৌশল উদ্যোক্তা ও ফিলানথ্রপিস্ট, মোলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি সৈয়দ জাকি হোসেন বলেন, অসীম সম্ভাবনা দেশ এই যুক্তরাষ্ট্র। শিক্ষার্থীদের সামনে রয়েছে অপার সুযোগ। বক্তব্য রাখেন ডব্লিউইউএসটির উপদেষ্টা মো: মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা মো: সিদ্দীক শেখ। বিশ্ববিদ্য্যলয়ের সিএফও ডব্লিউইউএসটির সিএফও ফারহানা হানিপ শিক্ষাউদ্যোগে তার পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ওয়াশিংটন ইউনিভর্সিট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকেই খুঁজে পাবে এই ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্কুল অব বিজনেসের কেলি ডি আলসেন্টারা এবং ইনফরমেশন টেকনোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে সনদপ্রাপ্ত অফুনি এডা আগাডা। তারা তাদের এগিয়ে যাওয়ার উদ্দীপনার কথা তুলে ধরেন। যা তারা পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিদের কাছ থেকে। পরে একে একে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের গ্রাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রথমেই মঞ্চে আসে স্কুল অব আইটির গ্রাজুয়েটরা। এই স্কুলের পরিচালক অধ্যাপক ড. পল এপোস্টোলস আগাসপোলস শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। আর স্কুল অব বিজনেসের গ্রাজুয়েটদের সনদ দেন এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন। শিক্ষার্থীরা সনদ নিয়ে ছবি তোলার সুযোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবহর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের সঙ্গে।পরে সনদ হাতে শিক্ষার্থীরা নিজ আসনে বসলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রিপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা করেন ড. হাসান কারাবার্ক। শিক্ষার্থীরা তাদের গ্রাজুয়েশন হ্যাটে ট্যাসলটি ডান দিক থেকে বাম দিকে সরিয়ে দিয়ে গ্রাজুয়েশন রিচুয়াল শেষ করে। আর এর পরপরই সেই অনন্য দৃশ্য। শিক্ষার্থীরা তাদের হ্যাট খুলে ছুঁড়ে মারে উপরে আর মেতে ওঠে আনন্দ উদযাপনে। যা শেষ হয় ফটো সেশনের মধ্য দিয়ে। সনদ বিতরণ শেষে অভ্যাগত অতিথিরা যোগ দেন কনভোকেশন ডিনারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম, ড. শ্যান চো, অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর ড. হুয়ান লি ছাড়াও শিক্ষকদের অনেকেই অংশ নেন এই কনভোকেশনে। মাস্টার অব দ্য সেরিমনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা র্যাচেল রোজ। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২১ সাল থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জি. আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশি আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বর্তমানে প্রায় ১৫'শো শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। যার মধ্যে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে ৬শর মত। বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

post
বিনোদন

অভিনেত্রী তানজিন তিশার ভিডিও ফাঁস!

টিভি জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সোমবার মধ্যরাতে হঠাৎ করেই অভিনেতা শরিফুল রাজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল, তানজিন তিশা ও নাজিফা তুষির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থার ছবি এবং ভিডিও ফাঁস হয়। যদিও প্রকাশের ১৭ মিনিট পরেই সেসব ভিডিও-ছবি মুছে ফেলা হয়। সেই ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, তানজিন তিশা আছেন কোনো এক লিফটের মধ্যে। সেখানে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এমনটা ভিডিও দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তানজিন তিশা অশ্লীল ভাষায় কথা বলছেন, আবার গানের তালে তালে নাচছেন। যদিও ভাইরাল এ বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি এ অভিনেত্রী তিশা। এ ছাড়া অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়ে বলেন, দয়া করে এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। কারণ আমি নিশ্চিত, ওর (রাজের) আইডি হ্যাকড হয়েছে। আর কে হ্যাক করেছে, সেটি আমরা সবাই জানি— প্রকাশ্যে হইচই করতে যার কোনো কারণ লাগে না।

post
বাংলাদেশ

‘আমরাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছি’

আগামীতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। শনিবার লন্ডনে হোটেল ক্ল্যারিজে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি জানান, তার দেশ বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।সাক্ষাতের পর হোটেল ক্ল্যারিজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ছাড়াও দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন নিয়ে আলাপের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সম্পর্কে কথা বলেন। তারাও চান একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’ একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাও চাই একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন। আর আমার দল (আওয়ামী লীগ) সবসময় গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখেছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন— আমরাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ একটা অবস্থান তৈরি করেছি। আমাদেরও প্রতিশ্রুতি— আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অন্যরা যদি আমাদের সহযোগিতা করে তা হলে ভালো।’ বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ, সুন্দর করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যা যা করার তাই করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির সময় এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোট ছিল, সেই ভুয়া ভোট যাতে না হয়, সে জন্য বায়োমেট্রিক ফটোআইডি, ফটোযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, কেউ যাতে আগে বাক্সে ব্যালট ঢুকাতে না পারে, সেই জন্য স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আর অত্যন্ত স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া যত ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার, স্বচ্ছ-সুন্দর করা হয়েছে। ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ওয়েস্টমিনস্টারে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সেটিতে আমরা বিশ্বাস করি। ওয়েস্টমিনস্টারের মতোই আমিও আমার দেশে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছি। ব্রিটিশ এ সিস্টেম অনুসরণ করে বাংলাদেশে প্রতি বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর চালু করেছি। রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসন আরোহণ অনুষ্ঠানে যোগদান করায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন জেমস ক্লেভারলি। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ এ দেশে থাকেন। এরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে জেমস ক্লেভারলি বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশের মধ্যে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ব্যবসাবাণিজ্য সব দিক থেকে আমাদের সম্পর্ক বাড়ছে। গত কয়েক বছরে সেই সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রথম জেল থেকে বের হয়ে এই লন্ডনে এসেছিলেন। তখন এ দেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আর সেই থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, রানি সবসময় তার এবং তার ছোট বোনের (শেখ রেহানা) খোঁজখবর রাখতেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানান, শুক্রবার ‘কমনওয়েলথ লিডার্স ইভেন্টে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাজা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান। আবদুল মোমেন জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, নির্যাতিত লোকদের সাহায্য করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। ব্রিটিশমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। আগামীতেও তারা এ সমস্যা যাতে তাড়াতাড়ি সমাধান হয়, সেই জন্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রশংসা করে ব্রিফিংয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজুলেশন আনে। তারা এই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এই রেজুলেশন তখন পাশও হয়।

post
আন্তর্জাতিক

‘আকাশপথে পরিবহনে অংশীদারত্ব’ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘোষণা সই

এয়ারবাস থেকে যাত্রী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনাসহ বাংলাদেশের আকাশপথে পরিবহন খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য ‘আকাশপথে পরিবহনে অংশীদারত্ব’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি যৌথ ঘোষণা গতকাল শুক্রবার লন্ডনে সই হয়েছে।এটি সইয়ের ফলে বাংলাদেশ এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার জন্য সহজ শর্তে যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণদান সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স স্কিম থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধা পেতে পারে। লন্ডনে যুক্তরাজ্য হাইকমিশন আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগবিষয়ক মন্ত্রী লর্ড ডমিনিক জনসন যৌথ ঘোষণায় সই করেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যদূত সংসদ সদস্য রুশনারা আলী উপস্থিত ছিলেন। যৌথ ঘোষণা সইয়ের পর যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগবিষয়ক মন্ত্রী লর্ড ডমিনিক জনসন বাংলাদেশের আকাশপথে পরিবহন খাতকে শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। আকাশপথে পরিবহনের একটি কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই খাতের শিল্পকে শক্তিশালী করা হবে এবং উভয় দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশপথে পরিবহনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও এয়ারবাসের অন্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার হওয়ার কথা। বাংলাদেশ এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার জন্য সহজ শর্তে ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স স্কিম থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধা পেতে পারে। যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ উদ্যোগের ফলে এয়ারবাস ও বাংলাদেশ বিমানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির এবং ইইউ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।

post
বাংলাদেশ

আ.লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনোদিনও সুষ্ঠু ভোট হবে না: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার দাবি, আওয়ামী লীগ তো নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এ সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তাদের পুরোনো লক্ষ্য বাকশালের ন্যায় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।শনিবার (২৯ এপ্রিল) শেরেবাংলা নগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মাজারে ফুল দেওয়া হয়। বিএনপির মহাসচিব বলেন, সেই লক্ষ্যে তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনকে একটা প্রহসনে পরিণত করেছে, যেখানে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। একইভাবে ২০১৮ সালেও আগের রাতে ভোট দিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। জনগণ সেখানেও অংশ গ্রহণ করেনি। এমনকি আপনারা লক্ষ্য করেছেন- স্থায়ী সরকার নির্বাচনগুলোতে জনগণ অংশ নিচ্ছে না। অতি সম্প্রতি যে ভোট হয়েছে, সেখানে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে গেছে। কাজেই জনগণ, বিশ্ববাসী বোঝে এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনোদিনও সুষ্ঠু ভোট হবে না। তাই জনগণ এ নির্বাচনেও অংশ নেবে না। তিনি আরও বলেন, বিদেশে তাদের যে ভাবমূর্তি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই ভাবমূর্তি তারা আবার ঠিক করতে চায়। কিন্তু এবার জনগণ জেগে উঠেছে। আমরা বিশ্বাস করি- জনগণ তাদের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এদের পরাজিত করবে। সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। বিএনপি কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র এবং কাউন্সিল পদে কোনো প্রার্থী থাকবে না বিএনপির। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে হরণ করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটা দানবীয় সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে জনগণের অধিকারকে হরণ করে নিয়ে জোর করে বেআইনিভাবে অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখল করে আছে। খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাদণ্ড দিয়ে গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিথ্যা মামলার কারণে নির্বাসিত হয়েছেন। আমাদের প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। তাদের প্রায়ই কারাগারে যেতে হচ্ছে ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১ মে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ ওয়াশিংটন ডিসিতে এসে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ২৮ এপ্রিল বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে মিনিটে (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটন ডিসির ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাত দিনের সফর শেষ করে তিনি যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথ রাজ্যের রাজা ও রানী হিসাবে তৃতীয় চার্লস এবং তার স্ত্রী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৪ মে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ চার্টার্ড ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি১৪০৩) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়) টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ চার্টার্ড ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি১৪০৩) জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে তাঁর ১৫ দিনের সরকারি সফরের প্রথম ধাপে সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়। জাপানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সম্বর্ধনা জানানো হয় এবং বিমানবন্দরে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। তাঁর জাপান সফরকালে ঢাকা ও টোকির মধ্যে কৃষি, মেট্রো রেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, মেধা সম্পদ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা সহ আটটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । গত ২৬ এপ্রিল শেখ হাসিনা জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। একই দিনে, তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের পর তার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য চারজন জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ডস অফ লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদানের পাশাপাশি একটি বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন এবং একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। টোকিও সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির সঙ্গে বৈঠক এবং জাইকা, জেট্রো, জেইবিআইসি, জেবিপিএফএল ও জেবিসিসিইসি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকসহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন। শেখ হাসিনা জাপানের প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে এবং একজন জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর সাথেও বৈঠক করেছেন। বোন শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। আগামী ৯ মে লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.