post
এনআরবি সাফল্য

তুরস্কে বাংলাদেশি স্টুডেন্টস কমিউনিটির সভাপতি-সা. সম্পাদক দুই বাংলাদেশি

এক যুগ ধরে তুরস্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইন তুর্কিয়ের (অ্যাবাস্ট) নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। মোবাশ্বেরা জাহান ফাতিমাকে সভাপতি, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক ও মেহেদী হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা করে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ও সিটি অ্যাম্বাসেডর টিম অনুমোদন দেওয়া হয়।ইস্তানবুলে অবস্থিত ঢাকা লাউঞ্জ ক্যাফে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারে অ্যাবাস্টের উপদেষ্টামণ্ডলীর পক্ষ থেকে সহকারী অধ্যাপক ও এশিয়া অ্যান্ড ইন্দো প্যাসিফিক স্টাডিজের তুরস্ক প্রধান নাজমুল ইসলাম কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ইস্তানবুল জাইম ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম রবিন, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জনাব ওয়ালিউল্লাহ, পিএইচডি গবেষক মিনহাজুল আবেদিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও অটোমান গ্রুপের সিইও জনাব শিহাব আহমেদ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এ সংগঠনটি। বিদেশের বুকে বাংলা ভাষার চর্চা ধরে রাখতে ও বহির্বিশ্বে তুরস্কে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অবস্থান জানান দিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে 'আনাতোলিয়া' নামের অনলাইন সাময়িকী প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তুরস্কে উচ্চশিক্ষার ব্যপারে বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়ে যাচ্ছে অ্যাবাস্ট।

post
বাংলাদেশ

র‍্যাব কিছু উল্টাপাল্টা করেছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ও শক্তিশালী করতে ডোনাল্ড লু ঢাকা সফরে এসেছিলেন, ‘ডোনাল্ড লু এসেছেন আমাদের সম্পর্কের উন্নতিতে সহযোগিতা করার জন্য। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে।র‌্যাব আগে কিছু ‘উল্টাপাল্টা’ যে করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে র‌্যাবের জবাবদিহি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আর আমরাও বলেছি যে আমাদের কিছু কিছু দুর্বলতা আছে। উনিও স্বীকার করেছেন যে আমেরিকাতেও তাদের অনেক দুর্বলতা আছে, এটা পারফেক্ট নয়। সুতরাং আমরা একই রকম অবস্থানে।’আজ মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সফরে র‌্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল মোমেন এ মন্তব্য করেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় দুই দিনের ঢাকা সফরে এসেছিলেন ডোনাল্ড লু।আব্দুল মোমেন বলেন, ‘র‌্যাবের ওপরে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে। র‌্যাবও তো কিছু উল্টাপাল্টা কাজ করেছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারবেন না তো। এখন অনেক ম্যাচিউরড (র‌্যাব)। আগে প্রথম দিকে র‌্যাব অনেক লোকজনকে খামোখা কী করে ফেলেছে, কিন্তু বিষয়গুলো পরিবর্তন হয়েছে। র‌্যাব জবাবদিহির ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে।’পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বিএনপির শাসনকালে ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের শুরুর দিকে এ ধরনের অভিযোগ বেশি ছিল। র‌্যাবের জবাবদিহির ক্ষেত্রে উন্নতির উল্লেখ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় তিন শ কর্মকর্তার পদাবনতি বা চাকরিচ্যুতির প্রসঙ্গ টানেন।গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাবসহ এই বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।লুর সঙ্গে খুব ভালো, ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন চাচ্ছেন, আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা যেন অত্যন্ত উন্নত হয়। আর আমরা বড় ইকোনমি হয়ে যাচ্ছি, ৩৫ নম্বর ইকোনমি। সুতরাং তারা চায় আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে এবং আমেরিকার মূল্যবোধ, নীতি আমাদের সঙ্গে তো এক…তারা গণতন্ত্র চায়, আমরাও চাই, আমরা গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছি। তারা মানবাধিকার চায়, আমরাও চাই। কিছু কিছু ব্যত্যয় ঘটে…তোমাদের যদি কোনো সমস্যা থাকে, শুধু আমাদের জানাও।

post
এনআরবি বিশ্ব

হজের খরচ ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত

আসন্ন হজে এবার ৩০ শতাংশ খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত তিন বছর সীমিত সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।সৌদি সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর থাকছে না কোনো বাধানিষেধ। গত সপ্তাহে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানান। সৌদি আরব সরকারের নতুন ঘোষণামতে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে কমানো হয়েছে হজ প্যাকেজের মূল্যও। গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম খরচে এবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন মুসল্লিরা। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ডক্টর আমর বিন রেদা আল মাদ্দাহ ১৫ জানুয়ারি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘ইকোনমিক হজ প্যাকেজের’ প্রায় ৯০ ভাগ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।সহকারী সচিব আল মাদ্দাহ আরও জানিয়েছেন, সৌদির অভ্যন্তরীণ যে হজ প্যাকেজগুলো রয়েছে, সেগুলো কোম্পানির সেবার মানের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। হজ ক্যাম্পে সেবার মান দেখে এটি নির্ধারণ করা হবে। এদিকে গত সপ্তাহে হজ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সৌদি আরবের স্থানীয় মুসল্লিরা চাইলে তিন ভাগে হজ প্যাকেজের অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। আগে একসঙ্গে পুরো অর্থ পরিশোধের নিয়ম ছিল। হজ পালনে আগ্রহীদের আগে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্যাকেজের ২০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। এর পরের ৪০ শতাংশ অর্থ ২৯ জানুয়ারির (৭ রজব) মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। আর শেষ ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়া যাবে এপ্রিলের ২৩ (৩ শাওয়াল) তারিখের মধ্যে। প্রতিটি কিস্তির অর্থ পাওয়ার পর একটি করে রসিদ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের পর হজ প্যাকেজটি ‘নিশ্চিতকরণ’ করা হবে। না হলে এটি বাতিল করা হবে। প্রতিবছর সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় ২৫ লাখ মানুষ হজ পালন করেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধের কারণে এ সংখ্যা ২০২০ সালে কয়েক হাজারে নামিয়ে নিয়ে আসা হয়। ২০২১ সালে সৌদির ভেতর অবস্থানরত ৬০ হাজার মুসল্লি হজ পালনের সুযোগ পান। আর গত বছর বিদেশিসহ ১০ লাখ মানুষ হজ পালন করেছিলেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

post
বাংলাদেশ

মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে লাশ হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লিমা

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লুৎফুন্নাহার লিমা (৩০)। মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে এক বছর আগে বাংলাদেশে আসেন। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মা জাহানারা বেগমকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু মায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মা জাহানারা বেগম, চাচাতো ভাই ফজলে রাব্বির সঙ্গে লিমাও মারা যান। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের চালক, সহকারী ও আরেক পরিচিতজন মারা গেছেন।লিমার স্বজনেরা বলেন, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আনারসিয়া গ্রামের লতিফ মল্লিক ২০০০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় থাকেন। ২০১০ সালে বাবার কাছে যান লুৎফুন্নাহার লিমা। পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার লিমা ফ্লোরিডায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। তার মা জাহানারা বেগম গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। জাহানারা কিডনি রোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে লিমা গত বছর বাংলাদেশে মায়ের কাছে ফিরে আসেন। মায়ের চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। জাহানারা বেগম কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শহরের বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সোমবার চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হন লিমা, তার চাচাতো ভাই ফজলে রাব্বি ও ফজলে রাব্বির শিক্ষক স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা।পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা, শিবচর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবিউল ইসলাম অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার কাছে আসে। টোল প্লাজার ৩০০ মিটার সামনে নাওডোবা এলাকায় এলে অ্যাম্বুলেন্সটি চলন্ত একটি ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। অ্যাম্বুলেন্সটি ট্রাকের নিচে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। তাদের লাশ উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা হাসপাতালে যান। লিমার মামাতো ভাই রুবেল খান সুত্রকে বলেন, ‘দুই-তিন মাসের মধ্যে মাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল লিমার। জীবনের কী নির্মম বাস্তবতা, আমার বোনটি মাকে নিয়ে না–ফেরার দেশে যাত্রা করল।’ শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। জাজিরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে টাকা হস্তান্তর করেন। হাইওয়ে পুলিশের ফরিদপুর সার্কেলের এএসপি মো. মারুফ হোসেন সুত্রকে বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ফেলে চালক পালিয়ে যান। পুলিশ ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করে শিবচর হাইওয়ে থানায় নিয়ে জব্দ করে রাখে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।প্রসঙ্গত পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার কাছে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিলেন চালক রবিউল ইসলাম (২৮)। তাঁর বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, তিনি টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রোগী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে চলন্ত ট্রাককে ধাক্কা দিলে তিনিসহ ছয়জন মারা যান।সূত্র- প্রথম আলো

post
বাংলাদেশ

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে ঋণ পেতে যাচ্ছে

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন তহবিল থেকে প্রথম ঋণ পেতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বে প্রথম এই ঋণটি পায় বার্বাডোজ, তারপর কোস্টারিকা, আর সবশেষে রুয়ান্ডা। এরপরই ঋণ পাওয়ার তালিকায় আছে আরও পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশের নাম। নতুন এই ঋণ তহবিলের নাম রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আইএমএফের বোর্ড এই তহবিলের অনুমোদন দেয় আর কার্যকর হয় পয়লা মে থেকে। যেসব স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্যই এই তহবিলের সৃষ্টি। আইএমএফ বলছে, যেসব দেশের আয় কম, ঋণ পরিশোধের দায় বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, এতে উন্নয়ন ব্যয়ে ঘাটতি পড়ে, তাদের জন্যই এই তহবিল। সংস্থাটি বলছে, কোভিড-১৯-এর পরে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশেরই ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এই তহবিলের প্রয়োজনও অনেক বেড়ে গেছে। জলবায়ু ঝুঁকি যেভাবে দায় বাড়াচ্ছে আইএমএফের মতে, জলবায়ু ঝুঁকি একটি দেশের ঋণসংকটকে তীব্রতর করে। দুইভাবে সরকারের এই ঋণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যেমন ঋণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে তার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের ঋণ মান সংস্থাগুলো সম্প্রতি কোনো কোনো দেশের ঋণ ঝুঁকি (কান্ট্রি রিস্ক) যাচাইয়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো ভৌত পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিকে বিবেচনার মধ্যে আনছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ঋণ গ্রহণে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সুদ। জাতিসংঘের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের সুদ পরিশোধে প্রতি ১০ ডলারে অতিরিক্ত আরও ১ ডলার ব্যয় করতে হয়। অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বাংলাদেশের রাজস্ব আয় অত্যন্ত কম। দেশের রাজস্ব আয় এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আর প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়ের ২১ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। বিপুল অঙ্কের এ ঋণদায় মেটাতে সরকারকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটঘাটতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারও ঋণ নিতে হয়। এভাবে ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হয় বলে জলবায়ু অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকছে। বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জলবায়ু অর্থায়নে বাজেটে বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। আর এর আগের দুই অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে সরকারের চলমান বৃহৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার প্রকল্পগুলোতে জিডিপির ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।অর্থনৈতিক মন্দাদশার চাপ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। এর ৫৮ শতাংশই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ। আর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এক যৌথ প্রতিবেদনে ঋণের স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো নিম্ন ঋণ ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছরজুড়েই ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা এখন ৮ শতাংশের বেশি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে আছে নানা উদ্বেগ। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ওঠানামা রয়েছে। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। ফলে আড়ালেই চলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি বনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ পরিচালিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক’ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুই দশকে এ ক্ষেত্রে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৭২ কোটি ডলার। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশে কৃষি খাতের অবদান এখনো মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশ আজও কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিককালে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহারের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে ধ্বংস হয়েছে পটাশিয়ামসহ মাটির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশ্বব্যাংক বলছে, গত ৩০ বছরে মাটিতে সারের ব্যবহার ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ৩০ বছরের মধ্যে দেশে খাবার পানীয় ও সেচব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। এতে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত চাল উৎপাদন কমে যেতে পারে। চাল ছাড়াও গম, সবজি ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ প্রভাব পড়বে।শুধু বাংলাদেশই নয় উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু ঋণ পরিশোধের চাপে জলবায়ু অর্থায়নে রাজস্ব সক্ষমতা হারাচ্ছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ একা নয়। জলবায়ু ঝুঁকিতে আছে এমন ৫৫টি স্বল্প ও উন্নয়নশীল দেশ মিলে গঠন করেছে ভালনার‍্যাবল গ্রুপ অব টোয়েন্টি (ভি ২০)। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। গ্রুপের ২২টি দরিদ্র দেশ ইতিমধ্যে উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে আছে। ভি ২০ গ্রুপের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এসব দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যৌক্তিক সমাধান করা না গেলে আগামী দশকে একটি বড় বৈশ্বিক ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন তহবিল কতটা সহায়ক বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে। এর মধ্যে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ থেকে চেয়েছে ১৩০ কোটি ডলার। নিয়ম হচ্ছে, আইএমএফের কোনো একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে থাকলেই কেবল আরএসটি থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশই এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই ঋণ চেয়েছে। ঋণের অর্থ দেওয়া হবে ১৮ মাসে। পরিশোধের সময় ২০ বছর, আর এর বাড়তি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে সাড়ে ১০ বছর। এই ঋণের সঙ্গেও শর্ত থাকবে। ঋণ পেতে আইএমএফের ভাষায় বেশ কিছু উচ্চ মানের বা ‘হাই কোয়ালিটি’ সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করার মতো কর্মসূচি। প্রশ্ন হচ্ছে এই তহবিল কি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর হবে। বাংলাদেশই বা লাভবান হবে কতটা। আসলে এর উত্তর পাওয়া যাবে সামনের দিনগুলোতেই। সুত্র- প্রথম আলো 

post
খেলা

এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের মেয়েরা

পুরুষ ও মেয়েদের যেকোনো বিশ্বকাপে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আগের ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার শ্রীলঙ্কাকেও হারাল দিশা-প্রত্যাশারা। তাতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের মেয়েরা। সোমবার বাংলাদেশের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৫৫ রানেই থেমেছে শ্রীলঙ্কা অনুর্ধ্ব-১৯ দলেন নারী দলের ইনিংস। তাতে ১০ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিশা বিশ্বাসের দল।দক্ষিণ আফ্রিকায় বেনোনির উইলমোর পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। দলটির হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন ভিশমি গুনারত্নে। ৬১ রানে অপরাজিত থাকার পরেও পারেননি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে। এছাড়া ডিউমি ভিহাঙ্গা করেন ৫৫ রান। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার নেন ২ উইকেট। এছাড়া ১ উইকেট পেয়েছেন দিশা বিশ্বাস। এর আগে দিনের শুরুতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ওপেনার আফিয়া হুমায়রা করেন ৫৩ রান। আরেক ওপেনার রানি সাহা রান আউটে কাটা পড়ার আগে করেন ১৪ রান। তবে আরও বড় জুটি গড়েন তিন এবং চারে নামা ব্যাটার দিলারা আক্তার এবং স্বর্না আক্তার। এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটি। তাতেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় বড় সংগ্রহ। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। দিলারা ৩৬ এবং স্বর্না ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন।

post
বাংলাদেশ

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের প্রথম পর্বের ইজতেমা

আজ রোববার সকাল নয়টার কথা। তুরাগতীরে যত দূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। গলি রাস্তা থেকে মহাসড়ক, সড়কে থেমে থাকা বাস কিংবা তুরাগের দুই তীরে ভিড়িয়ে রাখা নৌকা—সব জায়গাতেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ বসে আছেন। আবার কেউ দাঁড়িয়ে কান পেতে আছেন মাইকের দিকে। সবার অপেক্ষা আখেরি মোনাজাতের জন্য। বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আজ সকালের দৃশ্য ছিল এমনই। সকাল ১০টায় শুরু হলো সেই কাঙ্ক্ষিত মোনাজাত। মাওলানা জুবায়েরের কণ্ঠ ভেসে এল মাইকে। ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ঈমানকে মজবুত করিয়া দেন। আমরা তওবা করিতেছি। আপনি আমাদের রব, আপনি আমাদের গুনাহকে মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি সব উম্মতকে মাফ করিয়া দেন...।’ মাওলানা জুবায়েরের কথাগুলো চারপাশের লাখো মুসল্লিকে যেন ছুঁয়ে যাচ্ছিল। সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। আবেগাপ্লুত লাখো লাখো মুসল্লির কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হয় ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি। গত শুক্রবার শুরু হয়েছিল জুবায়েরপন্থীদের ইজতেমা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ৩০ মিনিট এগিয়ে তা শুরু হয় সকাল ১০টায়। মোনাজাত শেষ হয় ১০টা ২০ মিনিটে। এদিকে মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন সাধারণ মুসল্লিরা। তাঁদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার। দুপুরের পর থেকেই তাঁরা ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন। এর মধ্যে আজ জায়গা পাবেন না—এমন ভাবনায় রাত থেকেই তাঁরা অবস্থান নেন ইজতেমার মাঠসংলগ্ন সড়ক-মহাসড়কে। মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। যান চলাচল বন্ধের কারণে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে জড়ো হন মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের ইজতেমার শেষ দিনে ভারতের মাওলানা আকরাম হোসেনের বয়ানের মধ্য দিয়ে আজ সকালের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর সকাল ১০টায় মোনাজাত শুরু করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা জুবায়ের। মোনাজাত শুরু হতেই ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় অন্যরকম এক নীরবতা নেমে আসে। যে অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থাতেই মোনাজাতে অংশ নেন। লোকসমাগম বেশি হওয়ায় অনেকে ইজতেমা মাঠ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। অনেকের কাছে মাইকের আওয়াজও পৌঁছানো কঠিন ছিল। তাই অনেকেই মুঠোফোনে এফএম রেডিও চালু করে বসে পড়েন মোনাজাতে। তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলাদাভাবে। শুক্রবার সকালে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। এই পর্বে অংশ নিয়েছেন জুবায়েরপন্থীরা। আজ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো প্রথম পর্বের ইজতেমা। এরপর ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। ওই পর্বে অংশ নেবেন সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা

post
খেলা

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের শুভ সূচনা

মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনির উইলোমুর পার্কে আজ মেয়েদের ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৩০ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ১৩১ রানের লক্ষ্য ১৩ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। জয়সূচক রানটা হতেই উইলোমুর পার্কে উচ্ছ্বাসে ভাসেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ডাগআউট থেকে ছুটে এসে দুই অপরাজিত ব্যাটার স্বর্ণা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারকে জড়িয়ে ধরেন সতীর্থরা। রান তাড়ার শুরুতে বোঝা যায়নি বাংলাদেশের মেয়েরা এত সহজেই জিতে যাবে। শুরুটা যে হয়েছিল যতটা সম্ভব বাজেভাবে। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিলেন ওপেনার মিষ্টি সাহা।সেখান থেকে ৬০ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও আফিয়া প্রত্যাশা। ওয়ানডাউনে নামা দিলারা ৪২ বলে ৪০ রান করে ফেরেন একাদশ ওভারের প্রথম বলে দলকে ৬৬ রানে রেখে। ৫ বলও ৫ রান পর প্রত্যাশাও ফেরেন ২২ বলে ২৪ রান করে। ২টি করে চার-ছক্কা ছিল প্রত্যাশার ইনিংসে। দিলারার ইনিংসটি সাজানো ৭টি চারে। দ্রুতই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর চেপে বসা চাপটাকে এরপর কী দারুণভাবেই না উড়িয়ে দিলেন স্বর্ণা ও সুমাইয়ার। পাল্টা আক্রমণ করে সুমাইয়াই মূল কাজটা করেছেন। তিনি যখন উইকেটে এলেন সে সময় ৫৪ বলে ৬০ রান দরকার বাংলাদেশের। সেখান থেকেই ১৩ বল হাতে রেখে দলকে জেতালেন সুমাইয়া। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে বিশাল এক ছক্কা মারা সুমাইয়া ২৭ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৬টি চারও। অন্য প্রান্তে স্বর্ণা আক্তার ১৫ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন।এর আগে ২২ রানেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ২ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের বোলাররা। দুটি উইকেটই পেয়েছেন দিশা বিশ্বাস। এরপর ৭৬ রানের জুটি গড়েন ক্লেয়ার মুর ও এলা হেওয়ার্ড। ৫১ বলে ৭ চারে ম্যাচের সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন ক্লেয়ার। ৩৯ বলে ৩৫ রান করেছেন এলা। দিশা ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন মারুফা আক্তার।

post
এনআরবি বিশ্ব

পাসপোর্ট সূচকে ১০৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০১তম

পাসপোর্ট সূচকে মোট ১০৯ দেশ আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০১তম। কসোভো ও লিবিয়াও একই অবস্থানে আছে।লন্ডনভিত্তিক অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও পরিকল্পনাবিষয়ক সংস্থা 'হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স' গত ১০ জানুয়ারি এক গবেষণামূলক তথ্য প্রকাশ করে। ওই তথ্য নতুন করে প্রমাণ করেছে, এখনো জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কতটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। কতটা পিছিয়ে আছে দেশটির অর্থনীতি, শাসনপদ্ধতি ও মানুষের জীবনযাপন।হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সর তথ্য ৩ মাস পরপর হালনাগাদ করে। একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনযাপনের গতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে সে দেশের পাসপোর্টের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। গত ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে অত্যাধুনিক বিশেষজ্ঞের ভাষ্য ও ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স পাসপোর্টের সূচক নির্ধারণ করে আসছে। ২২৭ দেশের মধ্যে ১৯৯ দেশের পাসপোর্টের ভিসামুক্ত প্রবেশ তুলনা করতে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অথরিটির তথ্য ব্যবহার করা হয়। একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তির সঙ্গে সেই দেশের সার্বিক শক্তির সম্পর্ক আছে। পাসপোর্টের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নাগরিকত্বের মূল্যায়ন হয়। এই সূচকের মাধ্যমে একটি দেশ সম্পর্কে জানা যায়। পাসপোর্টের এ সূচক দেশের অর্থনীতি, শাসন ব্যবস্থা ও দেশের মানুষের অবস্থাসহ অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়। মনে করা হয়, যে দেশগুলোর পাসপোর্ট যত বেশি শক্তিশালী ওই দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অর্থনীতি ও শাসনপদ্ধতি তত বেশি শক্তিশালী। বিশ্বে ওই দেশগুলোর ইতিবাচক ভাবমূর্তি আছে। যে সব দেশের পাসপোর্টের অবস্থান তলানিতে তাদেরকে উন্নত দেশগুলো নানাভাবে অবমূল্যায়ন করে থাকে। কোন প্রচারণাতেই সেই বাস্তবতা ঢেকে দেওয়া যায় না। ২০২৩ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচকে শীর্ষে আছে জাপান। জাপানিরা এখন বিশ্বের ২২৭ দেশের মধ্যে ১৯৩ দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। সূচকে সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাসপোর্ট বিশ্বে দ্বিতীয় শক্তিশালী। জার্মানি ও স্পেন তৃতীয় অবস্থানে আছে। তারা ১৯০ দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যথাক্রমে ৬ ও ৭-এ। তাদের দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া যথাক্রমে ১৮৭ ও ১৮৬ দেশে প্রবেশ করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টের অবস্থান অষ্টম। এ দেশের নাগরিকরা ১৮৫ দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টধারী প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশিও এই সুযোগ পেয়ে থাকেন। পর্তুগাল থেকে পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পর্যন্ত ৩৯ ইউরোপীয় দেশ অস্ট্রেলিয়ানদের ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। নিউজিল্যান্ড, ফিজি ও ফরাসি পলিনেশিয়াসহ বার্বাডোস, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, জ্যামাইকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোয় যেতে অস্ট্রেলিয়ানদের ভিসার প্রয়োজন হয় না। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ১৯ দেশে ও আফ্রিকার ১২ দেশে অস্ট্রেলিয়ানদের ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। এ ছাড়াও, অস্ট্রেলিয়ানরা ভিসা ছাড়া এশিয়ার ১০ দেশে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ ভ্রমণ করতে পারেন। কম্বোডিয়া, মিশর, লেবানন, প্যারাগুয়ে, সামোয়াসহ ৪০টিরও বেশি দেশে অস্ট্রেলিয়ানরা ভিসা বা ভিজিটর পারমিট পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে প্রবেশের সময় তাদেরকে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি নিতে হয়।বাংলাদেশিরা ৪১ দেশ ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান। এশিয়ায় ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা ও পূর্ব তিমুর ছাড়াও আফ্রিকার ১৬, ওশেনিয়া অঞ্চলের ৭ ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১২ দেশে বাংলাদেশিদের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা মেলে। সূচক অনুসারে ভারত ৮৫তম অবস্থানে আছে। এই দেশের পাসপোর্টধারীরা ৬০ দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। গত ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত সূচকে বেশ কয়েকটি দেশ সম্পর্কে আকর্ষণীয় মন্তব্য ও তাদের ভবিষ্যৎ বাস্তবতা তুলে ধরেছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মতামতের প্রয়োজন নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মতামতের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এ দেশের নির্বাচন ভালো কি মন্দ হবে, সেটা ঠিক করবে এ দেশের জনগণ। অন্য কেউ না।আজ (শনিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জাপানি স্টাডিজ বিভাগের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। অন্যদের আমাদের গণতন্ত্র শেখানোর প্রয়োজন নেই। আমাদের গণতন্ত্র আছে, মানবাধিকার আছে। এ দেশের নির্বাচন ভালো কি মন্দ হবে সেটা ঠিক করবে এ দেশের জনগণ। অন্য কেউ না। অন্য কেউ এটা নিয়ে কিছুই করতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ এটা ঠিক করবে। আওয়ামী লীগ সরকার বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে মোমেন বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে ব্যালটের মাধ্যমে। আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করব। আওয়ামী লীগ এমন দল না যে, কোনো বড় দলকে নির্বাচন করতে দেবে না। সবাইকে নিয়ে আমরা নির্বাচন করি।যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সবসময় সরব। দেশটির হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্ধু দেশ বলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের অনেক উপদেশ দেয়। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ ভালো প্রস্তাব পেলে সেটা গ্রহণ করে। আমরা যেটা ভালো সেটা গ্রহণ করি। এতে করে আমাদের অর্জন বাড়ে। দুই দিনের সফরে ভারত হয়ে আজ ঢাকায় আসছেন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মার্কিন অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। লু’র সফরে আলোচনায় বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, আমরা আমাদের যেসব ইস্যু আছে সেগুলো তুলব। তারা তাদের ইস্যু তুলবে। আমেরিকার প্রিন্সিপালের সঙ্গে আমরা একমত। তাদের একটা প্রিন্সিপাল হচ্ছে গণতন্ত্র, তারা গণতন্ত্র চায়; আমরাও চাই। র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা নিয়ে মোমেন বলেন, আমেরিকা অন্য ইস্যুতে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা তুলে ধরছি এবং তুলে ধরব। আমাদের একটা অনুরোধ থাকবে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যেন বিষয়টাকে বিবেচনা করে। আমাদের মনে হয়, আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সমাধান করতে পারব। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লু’র সফরে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নতুন করে যাতে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হয়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করবে বাংলাদেশ। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা জানি না। আমরা জানব কোথা থেকে? তারা তো আমাদের বলেনি। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.