post
বাংলাদেশ

অমর একুশে আজ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে তরুণ ছাত্র যুবকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ।বাঙালি জাতির সেই সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। বাংলা আজ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেয়েছে। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে দিবসটি শহীদ দিবস হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আজ বুধবার ভাষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা হবে। আজ দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিটি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে ভাষাশহীদদের। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে দেশের প্রতিটি শহীদ মিনার। ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীবাসী ছুটে যাবেন ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ঢাকার সব অলিগলি রাজপথ থেকে খালি পায়ে ফুল হাতে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ ছুটবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে ভাষাশহীদদের স্মরণে লেখা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পৃথক বাণী দিয়েছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে হরতালের ডাক দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদও। হরতাল প্রতিহত করতে তৎকালীন সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমতলায় ছাত্রসমাবেশের কর্মসূচি ছিল। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্রনেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়ায় ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাবি আমতলার সমাবেশে এ বিষয়ে উপস্থিত ছাত্রদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে রাতেই অনেক ছাত্রনেতা পরের দিন ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্রদের পুলিশ ঘেরাও করে রাখে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় প্রথম ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এতে ছাত্ররা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেল ৪টায় মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন রফিকউদ্দিন আহমদ। রাত ৮টার পরে আহতদের মধ্যে মারা যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবুল বরকত এবং গফরগাঁওয়ের আব্দুল জব্বার। আজ সরকারি ছুটি। প্রতি বছরের মতো এবারো একুশে ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোতে সঠিক নিয়মে, সঠিক রঙ ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

post
এনআরবি লাইফ

২০২৩ সালে দেশে এসেছে রেকর্ড ৪৫৫২ প্রবাসীর মরদেহ

পরিবারের দারিদ্র ঘোচাতে ২০১৯ সালে শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরব যান ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হাবিব খালাসী। কিন্তু গত বছর লাশ হয়ে দেশে ফেরেন তিনি। রিয়াদে মেটাল-স্ক্র্যাপ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এক সন্তানের পিতা হাবিব (৩৩)। সৌদি রাজধানীর বাইরে একটি এলাকায় পুরোনো ক্যামেল শেডে কাজ করার সময় গত ৩ মে মাথায় লোহার বড় টুকরো এসে পড়লে মৃত্যু হয় হাবিবের।হাবিবের ছোট ভাই মাহবুব খালাসী টেলিফোনে জানান, হাবিব যখন সৌদিতে যান, তখন তার পরিবারে ব্যাপক আর্থিক সংকট ছিল। কিন্তু সৌদিতে যাওয়ার পর হাবিব যখন টাকা পাঠাতে শুরু করেন, তখন তার পরিবার ভেবেছিল তাদের টানাপোড়েন শেষ হয়েছে। হাবিবের মৃত্যুর পর এখন তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের (ডব্লিউইডব্লিউবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে রেকর্ড চার হাজার ৫৫২ প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ দেশে এসেছে। তাদের একজন হাবিব। এর আগের বছর দেশে আসে তিন হাজার ৯০৪ প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ। স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক বিদেশে যান। বিশেষ করে, বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্যস্থল মধ্যপ্রাচ্যে। কিন্তু তাদের অনেককেই দেশে ফিরতে হয় লাশ হয়ে। ডব্লিউইডব্লিউবি ১৯৯৩ সালে প্রথম এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ৫১ হাজার ৯৫৬ প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ দেশে এসেছে। গত ১০ বছরে এসেছে ৩৪ হাজার ৩২৩ প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ। ডব্লিউইডব্লিউবির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে ১৭ হাজার ৮৭১ প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ। এর ৬৭ দশমিক চার শতাংশই এসেছে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) আওতাভুক্ত ছয় দেশ থেকে। দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন। মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচ হাজার ৬৬৬টি এসেছে সৌদি আরব থেকে, এক হাজার ৯১৩টি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও এক হাজার ৮৯৩টি ওমান থেকে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এক কোটি ৬০ লাখ শ্রমিকের ৭৬ দশমিক তিন শতাংশই গিয়েছেন জিসিসির ছয় দেশে।

post
আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনবাসীর নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের অধিকার রয়েছে: শেখ হাসিনা

গাজায় গণহত্যা বন্ধে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় শনিবার মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি গাজায় যা ঘটছে, তা গণহত্যা। তাই আমরা কখনই এটিকে সমর্থন করি না। ফিলিস্তিনি জনগণের বেঁচে থাকার ও তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের অধিকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজার জনগণের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সেখানে যা ঘটছে তা খুবই দুঃখজনক। তাই আমাদের উচিত তাদের সাহায্য করা এবং এই আক্রমণ ও যুদ্ধ বন্ধ করা। শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের প্রতি ‘ফিলিস্তিনের দুর্দশাগ্রস্ত শিশু, নারী ও জনগণকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে তাদের জন্য কিছু সহায়তা পাঠিয়েছে। দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কখনই এ ধরনের আক্রমণকে সমর্থন করেনি। তিনি আরও বলেন, ১৯৬৭ সালের জাতিসংঘ প্রস্তাবে দুটি রাষ্ট্রের তত্ত্ব রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা উচিত।’

post
অভিবাসন

বেলায়েতের পাশে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক-ব্র্যাক

গ্রিস ফেরত অসুস্থ বেলায়েত হোসেনের পাশে দাড়িয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাক।শনিবার সকালে গালফ এয়ার বিমান যোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন অসুস্থ বাংলাদেশি কর্মী বেলায়েত হোসেন। বিমানবন্দরে বেলায়েতকে গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যান ডেস্কের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ। এরপর ভূক্তোভগীর উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসন জন্য বিমানবন্দর থেকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হস্তান্তর করা হয়। সে সময় বেলায়েত হোসেনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের চিঠিতে জানায়, গ্রিসে ব্রেইন স্ট্রোক করে তার শরীরের এক পাস সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসার ফলে কিছুটা সুস্থ হন কিন্তু প্যারলাইজড অংশ এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় ১৫ ফেব্রুয়ারী এথেন্সের হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে দেশে পাঠানো হয় বেলায়েত হোসেনকে।

post
আন্তর্জাতিক

প্রফেসর ইউনূস ইস্যুতে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশ থেকে পাওয়া রিপোর্টে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ উদ্বেগ জানান মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ওই সাংবাদিক তার কাছে প্রশ্ন করেন- আজ (বৃহস্পতিবার) নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সাংবাদিকদের বলেছেন, শাসকগোষ্ঠীর লোকজন তার গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট সব অফিস দখল করেছে। আপনি জানেন যে, তার বিরুদ্ধে সরকার নতুন নতুন অভিযোগ দাখিল করেছে। এই গুরুতর পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব কি অবহিত?জবাবে স্টিফেন ডুজাররিক বলেন, ইউনূসের বিষয়টি আমরা খুব বেশি অবগত। আমি পুনর্বার বলবো যে, বহু বছর ধরে জাতিসংঘের একজন অত্যন্ত মূল্যবান অংশীদার মিস্টার ইউনূস। তিনি আমাদের অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল সক্ষমতায়- উভয় ক্ষেত্রে আমাদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, টেকসই উন্নয়নলক্ষ্যমাত্রা এবং সাধারণভাবে আমাদের উন্নয়নমূলক কাজকে ঘিরে যেসব উদ্যোগ তা সমর্থন করেন তিনি। তাকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যেসব রিপোর্ট আমাদের কাছে আসছে তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

post
বিশেষ প্রতিবেদন

একুশে পদক পাচ্ছেন দই বিক্রেতা জিয়াউল হক জিয়া

২০২৪ সালের একুশে পদক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ বিভাগে ২১ বিশিষ্টজন এবার এই পুরস্কার পাচ্ছেন। রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা পেয়েছেন দই বিক্রেতা জিয়াউল হক জিয়া। সমাজ সেবাই বিশেষ অবদানের জন্য তাকে এ পদক দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংস্কৃতবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাটের বটতলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জিয়াউল হক জিয়া ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন। অর্থের অভাবে ১৯৫৫ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি তিনি। তার বাবা ছিলেন একজন গোয়ালা। বাবার পরামর্শে তিনি দ‌ই বিক্রির কাজ শুরু করেন। অর্থের অভাবে যেন তার মতো আর কারও পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেজন্য দরিদ্র শিখশার্থীদের তিনি সহায়তা করছেন। দ‌ই বিক্রির লাভের টাকার অংশ বিশেষ জমিয়ে ব‌ই কিনে পড়তে দিতেন। এভাবেই তিনি এলাকার দরিদ্র ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান। একজনের ব‌ই পড়া শেষ হলে ব‌ই নিয়ে গিয়ে দিতেন আরেকজনকে পড়তে। দিনে দিনে তার ঘরে ব‌ইয়ের সংগ্রহ বাড়তে থাকে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন পাঠাগার। বর্তমানে পাঠাগারের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। সরকার বিনামূল্যে স্কুল পর্যায়ে বই বিতরণ শুরু করলে তিনি কলেজ শিক্ষার্থীদের ব‌ই কিনে দিতেন এবং পড়াশোনার খরচে অর্থ সহায়তা শুরু করেন। তার এই উদ্যোগ সফল করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বিত্তবানসহ প্রবাসীরা তাকে অর্থসহায়তা করেন। তাদের অনুদান ও নিজের আয় থেকে শিক্ষা সহায়তার পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র মানুষদের গৃহ নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থদান ও ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কাপড় দিয়ে সমাজসেবায় রেখেছেন অনন্য অবদান। একুশে পদকের মনোনয়ন ঘোষণার পরের দিনেও দই বিক্রি করতে যান বাড়ি থেকে ১০ কিমি দূরে রহনপুর বাজারে। তার এই পদক প্রাপ্তিতে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় পীরগাছা দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মজিবুর রহমান জানান, আমি তার দেওয়া বই পড়ে শিক্ষক হতে পেরেছি। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ, তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। মুশরীভুজা ইউসুফ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজগার আলী বলেন, তার কলেজের অনেক দরিদ্র ছাত্রছাত্রী জিয়াউল হক জিয়ার কিনে দেওয়া বই ও অর্থ সহায়তায় পড়াশোনা করছে। এমনকি তার সহায়তায় পড়াশোনা করা দুজন ছাত্র এখন এই কলেজের শিক্ষক হয়ে আছেন। ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জিয়াউল হক আমাদের গর্ব। তাকে একুশে পদক দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। জিয়াউল হকের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৫) জানান, আমার স্বামী একুশে পদক পেয়েছে শুনে আমি অনেক আনন্দিত। খুব খুশি হয়েছি। আমি ধন্য এমন স্বামী পেয়েছি। আমার কপাল ভালো এমন স্বামী পেয়েছি। জিয়াউল হকের ছেলে মহব্বত হক (১৮) বলেন, সমাজসেবা ক্যাটাগরিতে একুশে পদকের জন্য আমার বাবাকে মনোনীত করার জন্য আমি অনেক আনন্দিত। একুশে পদকে মনোনীত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জিয়াউল হক জিয়া বলেন, আমি কোনোদিন ভাবতে পারিনি যে, আমাকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

post
সংবাদ

জীবনে এমন দুর্যোগ কখনো দেখিনি: ড. ইউনূস

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে থাকা আটটি প্রতিষ্ঠান জবরদখল করে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনায় তিনি পুলিশের সহায়তাও পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।ড. ইউনূস বলেন, 'আমরা বহু রকমের দুর্যোগের ভেতর দিয়ে যাই। এরকম দুর্যোগ আর দেখি নাই কোনোদিন যে, হঠাৎ করে বাইরের থেকে কিছু লোক এসে বলল তোমরা সরে যাও।' রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। এই ভবনে ড. ইউনূসের গড়া মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যার প্রতিটির চেয়ারম্যান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ড. ইউনূস বলেন, আমরা একটা ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা এই সুন্দর বিল্ডিংটা বানিয়েছিলাম অতি সম্প্রতি। আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংকে ছিলাম, তখন আমাদের অফিস ওখানে ছিল। যখন আমাদের যাওয়ার পালা এলো তখন আমরা ভাবলাম আমরা সবাই মিলে একটা বিল্ডিং করি যেখানে আমরা শান্তিতে কাজকর্ম করতে পারব। এটাই সেই জিনিস; আমাদের স্বপ্নের বীজতলা। এটা তার একটা নমুনা।' গত ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ভবনে অবস্থিত আটটি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘ওই দিন থেকে তারা ভবনে তালা মেরে রেখেছে। নিজের বাড়িতে অন্য কেউ যদি তালা মারে তখন কেমন লাগার কথা আপনারাই বলেন। তাহলে দেশে আইন আদালত আছে কিসের জন্য। তারা আদালতে যেতে চায় না। আমরা জীবনে বহু দুর্যোগ দেখেছি। এমন দুর্যোগ আর কখনো দেখিনি।’ ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি মন্তব্য করে এই নোবেলজয়ী আরও বলেন, 'আমরা পুলিশকে বললাম যে এরকম কাণ্ড হচ্ছে। আপনারা এসে দেখেন। ঠিক করে দেন। পুলিশ প্রথমে (অভিযোগ) গ্রহণই করল না। তারপর একবার এসে ঘুরে গেল। কোনো অসুবিধা দেখল না। আমরা তাদের বললাম—দেখেন আমাদের দরজায় তালা দিয়ে যাচ্ছে তারা। সকাল বেলা এসে তালা খুলে দিচ্ছে। এখনো সেই পরিস্থিতি বিরাজমান।'দেশের আইন-আদালত কোথায় গেল—এমন প্রশ্ন রেখে ড. ইউনূস বলেন, 'আমরা সকাল থেকে শুনছি এখানে ঝাড়ু নিয়ে মিছিল হচ্ছে। কেন হচ্ছে তাও বুঝছি না। আমরা ঝাড়ুর যোগ্য হয়ে গেলাম হঠাৎ করে। আমরা তো নিজের বাড়িতেই আছি। নিজের ঘরে আছি। আর কারও ঝামেলার মধ্যে তো আমরা যাই না।' ড. ইউনূস বলেন, এভাবে দেশ চলছে কীভাবে। আমাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালতে শরণাপন্ন হবেন বলেও জানান তিনি। এর আগে সকালে ড. ইউনূসের সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে মিরপুরে ঝাড়ু মিছিল বের হয়। আইন মেনেই এসব প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসার মুনাফার টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় হয়নি। যা হয়েছে আইন মেনে হয়েছে বলে জানান তিনি। 

post
সংবাদ

দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎ

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মানুষা নানায়াক্কারার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় দুবাইয়ের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দুই দেশের মিশন কর্মকর্তাসহ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যুরো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এশিয়ার শ্রমিক প্রেরণকারী দেশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি, অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুন্দর অভিবাসনের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার কথা জানান দুই দেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উন্নয়নের জন্য সহযোগী অর্থনীতি এবং সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক সংগঠন ‘কলম্বো পরিকল্পনা’ আরও কার্যকর করার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনার বিষয়টিও উঠে আসে সৌজন্য সাক্ষাতে।এসময় শ্রীলঙ্কার শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী নবগঠিত সরকার ও নতুন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া মুদ্রা বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওয়া ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ডলার ঋণের বিষয়েও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কার শ্রমমন্ত্রী। দেশের অর্থনৈতিক সংকটকালে ওই ঋণ তাদের উপকারে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর, কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন, দুবাইস্থ শ্রীলঙ্কান কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল অ্যালেক্সি গুনাসেকারা, সেদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যুরোর চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মোহামেদ হিলমে ও প্রতিমন্ত্রীর সফর সঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, দুবাইয়ে চলমান সপ্তম আবুধাবি ডায়ালগে যোগদানের লক্ষ্যে পাঁচ দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত আছেন প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। মন্ত্রী পর্যায়ের এই পরামর্শ সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও আবুধাবি সংলাপের সদস্যভুক্ত আরও ১৫টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে।

post
আন্তর্জাতিক

ড. ইউনূসকে হয়রানি করা হচ্ছে: ম্যাথিউ মিলার

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইনের মামলায় অস্বাভাবিক গতিতে বিচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। তিনি বলেছেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসকে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ওই প্রশ্নে সাংবাদিক জানতে চান, সোমবার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয়ে ২০ জনের একটি দল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অফিস দখল করতে যায়। আপনি জানেন যে, বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী একপেশে জাতীয় সংসদ, বিচার বিভাগ, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এখন গ্রামীণের মতো প্রতিষ্ঠানে তাদের চোখ পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী? ম্যাথিউ মিলার আরও বলেন, এ নিয়ে সারা বিশ্ব থেকে যে ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও তার সঙ্গে আছে। বাংলাদেশের শ্রম আইন ব্যবহার করে ড. ইউনূসকে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন যে, শ্রম আইন এবং দুর্নীতি বিরোধী আইনের অপব্যবহারের ফলে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ রোধ করতে পারে। যেহেতু আপিল প্রক্রিয়া চলমান তাই বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উৎসাহিত করি। 

post
এনআরবি বিশ্ব

সবার সহযোগিতা পেলে ভার্জিনিয়ার ফোবানা সম্মেলন হবে ইতিহাসের সেরা: রোকসানা

‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐকান্তিক সহযোগিতা পেলে চলতি বছর গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) ৩৮তম সম্মেলনকে ইতিহাসের সেরা সম্মেলন করা সম্ভব হবে। বহির্বিশ্বে প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় ফোবানা সম্মেলন এককভাবে কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির পক্ষে সফল বা সার্থক করা সম্ভব নয়। এর জন্য দেশ ও বিদেশের ব্যবসায়ী, সমাজসেবী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতার জরুরি প্রয়োজন।’ গত শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডের হলিডে ইন হোটেলের মিলনায়তনের অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ ও অভিবাদন সভায় এ কথা বলেন ৩৮তম ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার রোকসানা পারভিন।বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি (বাগডিসি) আয়োজিত উক্ত সভায় তিনি বলেন, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে সকলেই আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেই আমরা ইতিহাসের সেরা ফোবানা সম্মেলন উপহার দিতে পারব। চলতি বছর গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসিতে লেবার ডের সপ্তাহান্তে ৩০-৩১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়া আর্লিংটনের ক্রিস্টাল গেটওয়ে ম্যারিয়টে অনুষ্ঠিত হবে ৩৮তম ফোবানা সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি। আয়োজক সংগঠন এবং ফোবানা নির্বাহী পরিষদ একটি সফল সম্মেলন করবার জন্য ইতিমধ্যেই সকল প্রকার কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডের হলিডে ইন হোটেলে সাক্ষাৎ ও অভিবাদন সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন নির্বাহী কমিটি ও আয়োজক সংগঠনে নেতারা। ৩৮তম ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার রোকসানা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সচিব আবীর আলমগীর ও সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান তাসকিন বিনতে সিদ্দিকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ ও অভিবাদন সভায় ফোবানার চেয়ারপারসন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এবারের সম্মেলনকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানোর চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনকালে অনেক বাধা-বিপত্তি দেখা দিয়েছিল। ৩৮তম ফোবানা সম্মেলনের আহ্বায়ক ও প্রসিডেন্ট যাদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে তাদের বিকল্প হিসেবে গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসিতে আর কাউকে খুঁজে পাইনি। এবারের কমিটির টিমে যারা রয়েছেন তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞা রয়েছে। তাদেরকে সুপরামর্শ দিতে পেছনে রয়েছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফোবানার নেতারা।’ সম্মেলনের নির্বাহী সচিব আবীর আলমগীর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ফোবানা সম্মেলন কিন্তু একটাই। এ সংগঠন থেকে বেরিয়ে গিয়ে কেউ যদি একই নাম দিয়ে কিছু করে থাকেন সেটাকে কখনই ফোবানা সম্মেলন বলা যাবে না। যে সম্মেলনে ২২টি শহরেরে ৭৮টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যোগ দিয়ে থাকে সেটাকেই একমাত্র ফোবানা সম্মেলন বলা যায়। এর আর কোনো বিকল্প নেই।’ সম্মেলনের সদস্য সচিব আবু রুমি বলেন, এর আগে গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় আরও চারটি ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চম বারের মতো গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিশ্রতি দিচ্ছি এবারের সম্মেলনে অনেক কিছু থাকবে ব্যতিক্রম। সেরা সম্মেলন করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট নুরুল আমিন নুরু বলেন, এবারে ফোবানা সম্মেলনের জন্য যে হোটেল আমরা নির্ধারণ করেছি সেটি গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির সবচেয়ে বড় হোটেল। এর আগে আর কখনও এতবড় হোটেলে ফোবানা সম্মেলন হয়নি। হোটেলের লোকেশন থেকে সকল দর্শনীয় স্থান হাতের কাছেই। ফোবানা সম্মেলনে যারা আসবেন, তারা অবকাশে এসে সবকিছুই অনায়াসেই দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে এবং ঘুরতে পারবেন। সম্মেলনের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমরা যে কমিটি নিয়ে কাজ শুরু করেছি সেটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। তাদের মধ্যে অনেকেরই ফোবানা সম্মেলনের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আশা করছি ৩৮তম ফোবানা সম্মেলন সফল ও সার্থক হবেই। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ফোবানা একটি সম্মেলন, এটাকে শুধুমাত্র বিনোদন হিসেবে দেখলে হবে না। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সম্মেলন হচ্ছে ফোবানা। এ বিষয়টিকে সবসময় মাথায় রাখতে হবে। অতীতের সমস্ত ভুল-ক্রুটি থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অতীতে যেসব ভুলের কারণে ফোবানা সম্মেলন বিফল হয়েছিলে সে সমস্ত ভুল আগেই শোধরাতে হবে, তাহলেই একটি সফল ফোবানা সম্মেলন আমরা আশা করতে পারবো। তবে এবারেই সবচেয়ে বেশী যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে সাক্ষাত ও অভিবাদন সভায় ফোবানার নেতারা যোগ দিয়েছেন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ৩৮তম ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার রোকসানা পারভিন, ফোবানার নির্বাহী কমিটির অর্থ সচিব প্রিয়লাল কর্মকার, যুগ্ম নির্বাহী সচিব খালেদ আহমেদ রউফ, সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান তাসকিন বিনতে সিদ্দিক, সাবেক কর্মকর্তা ডিউক খান, জয়নাল আবেদীন, মাহবুব রেজা রহিম, রবিউল করিম বেলাল, রেহান রেজা, নাহিদুল খান সাহেল, মাহবুবুর ভুঁইয়া, পারভীন পাটোয়ারী, মাজহারুল ইসলাম, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক কর্মকর্তা সরকার কবির উদ্দিন, দেশের জনপ্রিয় নৃত্যুশিল্পী লায়লা হাসান, এটর্নি জন কাপুর, প্রকৌশলী আবু হানিফ, হীরন চৌধুরী, মাহমুদুন নবী বাকি, তাপস মজুমদার, ডা: আনোয়ারুল করিম, মাহবুব লস্কর ও বুলবুল ইসলাম প্রমুখ। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার ঢাকায় সাক্ষাতে অভিবাদন (মিট অ্যান্ড গ্রিট) অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় সাক্ষাত ও অভিবাদন অনুষ্ঠানটি হবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে ফোবানার স্বাগতিক কমিটি এবং নির্বাহী কমিটিসহ ফোবানার নেতৃত্ববৃন্দরা ঢাকায় যাচ্ছেন। ঢাকার সাক্ষাত ও অভিবাদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ, সুধীজন, শিল্পী এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.