post
বাংলাদেশ

সরে দাঁড়ানোর কারণ জানাতে এসে হিরো আলম বললেন, ‘নির্বাচন করব’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত বদল করে আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। আজ রোববার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। হিরো আলম বলেন, "আমি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন নির্বাচনে থাকব। এবারও হিরো আলমের ওপর হামলা হবে, মার হবে। তিন দফা নির্বাচন করেছি, তিন দফাই আমাকে মারধর করা হয়েছে।" একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বানে সংবাদ সম্মেলন করা হয় বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের ব্যনারে। এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার ৬ মিনিটের মাথায় হিরো আলম বলেন, "আমি প্রার্থিতা উইথড্রো করবো বলেছি। কেন উইথড্রো করতে চাইছি- এই যে পাতানো নির্বাচন। সারা বাংলাদেশের লোকজন বলে কেউ নির্বাচনে আসছে না, কেন আসছে না? যারা পাতানো নির্বাচন করছে, তারা সুবিধাভোগী আসনগুলো ভাগ করে নিয়ে নির্বাচন করছে। আজকে বলেছিলাম, আমি আর নির্বাচন করবো না ,কারণ এই নির্বাচন করে আমি মার খেয়েছি, লাঞ্ছিত হয়েছি অনেক বার।"এই বক্তব্যের পরক্ষণেই হিরো আলম বলেন, "নির্বাচন করে কোনো লাভ হবে না; কারণ তারা আসনগুলো আগেই ভাগ করে নিয়েছে। তাই আমাদের এই লোক দেখানো নির্বাচনের মনে হয় না কোনো দরকার আছে। আমি আজকে বলেছিলাম, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবো। এখন আমি বলছি, আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবো না।" "আমি প্রার্থিতা উইথড্রো করবো না। আপনারা নিশ্চয়ই বলবেন কেন করবো না? আপনারাই হিরো আলমকে হিরো বানিয়েছেন এবং আপনারাই আবার হিরো আলমকে জিরো বানিয়ে দেন। আপনারাই বলেছেন, হিরো আলম টাকা খেয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে, মার খাওয়ার ভয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু না, আমি এর আগেও নির্বাচন করেছি," যোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম আরও বলেন, "এই নির্বাচন সরকারের সাজানো নির্বাচন। আমি হিরো আলম নির্বাচনে থাকবো; এই নির্বাচন কত সুষ্ঠু হয়, সেটা দেখবো। প্রতিবারই হিরো আলম মার খায়, এবারও হিরো আলম মার খাবে।" তিনি বলেন, "নির্বাচনে আমি ফেল করবো এটাও জানি। আপনারা দেখবেন এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়। যেটা দেখানোর জন্য নির্বাচনে থাকছি। নির্বাচনে থাকছি প্রতিবাদ করার জন্য।" সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, "প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলতে চাই, ৩০০ আসনের মধ্যে আপনারা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীও নিলেন। কিন্তু আমরা যারা আমজনতা আছি, তাদের আসন কোথায়?" বক্তব্যের ৮ মিনিটের দিকে তিনি বলেন, "আমি নির্বাচন যে কোনো সময় বর্জন করতে পারি।" এদিকে, সম্মেলনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যন মো. আব্দুর রহিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "হিরো আলমের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল, সেই কারণে তিনি এসেছেন। তবে আজকে তিনি বলছেন, নির্বাচন থেকে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতেও পারেন, আবার নাও পারেন। এটি কোনো নেতা সুলভ কথা না।" আব্দুর রহিম দাবি করেন, প্রায় ৩০০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে, তারা নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন। তারা সবাইকে এ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে, আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা তিনি। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, 'নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাচ্ছেন হিরো আলম। ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থী উইড্র করবেন তিনি।' এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিলের রায়ে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। গত ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করায় হিরো আলমের প্রার্থিতা বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এই রায়ের বিপরীতে গত ৬ ডিসেম্বর কমিশনে আপিল আবেদন করেন হিরো আলম। আপিলে তিনি মনোনয়ন ফিরে পান।  

post
খেলা

এশিয়াকাপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল

স্বপ্নটা জোরালো হয় সেমি-ফাইনালের পরপরই। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়াকাপে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা ভারতকে হারিয়ে দেয় তারা। সেই স্বপ্নটা আরও চওড়া হয় আরেক সেমি-ফাইনালে পাকিস্তানের হারে। কিছুটা দুর্বল প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পায় ফাইনালে। যাদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বেও মিলেছিল বড় জয়। সেই স্বপ্ন সত্যি করে আমিরাতকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। রোববার দুবাইতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮২ রান করে যুব টাইগাররা। জবাবে ১৫১ বল বাকি থাকতে মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে যায় আমিরাত।বাংলাদেশের জয়ের মূল নায়ক ছিলেন দারুণ ছন্দে থাকা ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি। করেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে জ্বলে ওঠে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আরিফুল ইসলামের ব্যাটও। দুইজনই পেয়েছেন ফিফটি। তাতে আমিরাতকে বড় লক্ষ্যই ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর বল হাতে তিন পেসার মারুফ মৃধা, রহনত দৌল্লা বর্ষণ ও ইকবাল হোসেন ইমনের তোপে একশ রানও করতে পারেনি স্বাগতিকরা। এশিয়াকাপে এর আগের নয় আসরের আটটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এরমধ্যে একবার পাকিস্তানের সঙ্গে শিরোপা ভাগাভাগি করে তারা। অপর একটিতে চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান। অন্যদিকে এই আসরে আটবার খেললেও তেমন কোনো সাফল্য ছিল না বাংলাদেশের। সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে গেলে ২০১৯ সালে ফাইনাল খেলা। সেবার ফাইনালে ভারতের কাছে ৫ রানে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। ২৮৩ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে এদিন শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করেন বাংলাদেশের পেসাররা। এদিনও শুরুতে গর্জে ওঠেন আরিফ। আমিরাতের দুই ওপেনারকেই ছাঁটাই করেন এই পেসার। এরপর মঞ্চে আসেন বর্ষণ। মিডল অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে টানা তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ফলে ৫০ রানের আগেই আমিরাতের অর্ধেক ব্যাটার সাজঘরে। এরপর ইমনও তুলে নেন দুটি উইকেট। তখন বাংলাদেশের জয় ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়াতে থাকেন ধ্রুব পারাশার। এক প্রান্ত আগলে রেখে যুব টাইগারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে থাকেন এই ব্যাটার। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও অপর প্রান্তে ঠিকই উইকেট তুলে নিতে থাকেন যুব টাইগাররা। স্পিনার শেখ পারভেজ জীবন ২টি উইকেট তুলে লেজ ছাঁটাইয়ের কাজ করেন। আরিফও বোলিংয়ে ফিরে তুলে নেন নিজের তৃতীয় শিকার। তাতে বিশাল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। আরব আমিরাতের স্রেফ দুই ব্যাটার ছুঁতে পেরেছেন দুই অঙ্ক। ৪০ বলে ২টি চারের সাহায্যে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন ধ্রুব। এছাড়া ১১ রান করেছেন আকশাত রায়। বাংলাদেশের হয়ে ৭ ওভার বল করে ২৯ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন আরিফ। ৬ ওভার বল করেন ২৬ রানের বিনিময়ে ৩টি শিকার বর্ষণেরও। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন ইমন ও জীবন। এর আগে এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানেই ওপেনার জিশান আলমকে হারায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন আরেক ওপেনার শিবলি। ১২৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন এ দুই ব্যাটার। এরপর রিজওয়ান ফিরে গেলে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ৮৬ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন শিবলি। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামা শিবলি টিকে ছিলেন প্রায় শেষ পর্যন্ত। ইনিংস শেষ হওয়ার এক বল আগে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। একপ্রান্ত আগলে রেখে তার ব্যাট থেকে আসে ১২৯ রান। ১৪৯ বল মোকাবিলায় তিনি ১২ চারের সঙ্গে মারেন ১ ছক্কা। এর আগে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। দুটি ফিফটিও করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি এবারের আসর শেষ করেছেন ৫ ম্যাচে ৩৭৮ রান নিয়ে। তার ধারেকাছে নেই আর কেউ। এখন পর্যন্ত আড়াইশ রানও আসেনি আর কোনো ব্যাটারের কাছ থেকে। ৭৮ বলে হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছানো শিবলি তিন অঙ্কে পৌঁছান ১২৯ বলে। ৭১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬০ রান করেন রিজওয়ান। আরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ৫০ রানের আগ্রাসী ইনিংস। শেষদিকে অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বি খেলেন ১১ বলে ২১ রানের ক্যামিও। আমিরাতের হয়ে আয়মান আহমেদ ৪ উইকেট নেন ৫২ রানে। যার তিনটিই তিনি শিকার করেন বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ ওভারে। ওমিদ রেহমান ৪১ রানে পান ২টি উইকেট।

post
আন্তর্জাতিক

কুয়েতের নতুন আমির শেখ মিশেল আল-আহমেদ আল-সাবাহ

কুয়েতের নতুন আমির হিসেবে শেখ মিশেল আল-আহমেদ আল-সাবাহর (৮৩) নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দেশটির আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহর মৃত্যুর পর এ ঘোষণা করা হয়।শেখ মিশেল শেখ নাওয়াফের সৎভাই । ৮৬ বছর বয়সী আমির শেখ নাওয়াফের মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। গত মাসে অসুস্থ হয়ে পড়ায় জরুরিভাবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন শেখ নাওয়াফ। ২০২১ সালে তিনি শেখ মিশেলের হাতে বেশির ভাগ দায়িত্ব তুলে দেন। সে বছরই কুয়েতের পরবর্তী আমির হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। কুয়েতের সংবিধান অনুযায়ী, যুবরাজ শেখ মিশেল দেশটির পার্লামেন্টে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমির হিসেবে ক্ষমতায় বসবেন। নিজের উত্তরসূরি ঘোষণার জন্য সর্বোচ্চ এক বছর সময় পাবেন তিনি। এদিকে শেখ নাওয়াফের মৃত্যুর পর কুয়েতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলো তিন দিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক শেখ নাওয়াফকে ‘বন্ধু’ অভিহিত করেছেন। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ বলেছেন, শেখ নাওয়াফ একজন ‘বিজ্ঞ নেতা’ ছিলেন।শেখ নাওয়াফ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কুয়েতের আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সৎভাই ও তৎকালীন আমির শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহর মৃত্যুর পর এ দায়িত্ব পান তিনি। এর আগে ২০০৬ সালে শেখ নাওয়াফকে দেশটির পরবর্তী আমির হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

post
আন্তর্জাতিক

মারা গেছেন কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ

কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল আহমদ আল-সাবাহ মারা গেছেন। শনিবার কুয়েতের রাজ দরবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬।কুয়েতের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, 'কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ'র মৃত্যুতে শোক সংবাদ প্রকাশ করছি।' রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করার মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর সম্প্রচার করা হয়। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা কুনা'র তথ্য মতে, গত নভেম্বরে অসুস্থতার জন্য শেখ নওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবেরকে জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যদিও পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। ২০০৬ সালে কুয়েতের আমিরের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। ৯১ বছর বয়সী সৎ ভাই শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর– ২০২০ সালে কুয়েতের নতুন আমিরের দায়িত্ব নেন নওয়াফ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই ২০২০ সালে তেলের দাম হ্রাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটকে মোকাবেলা করতে হয়েছিল তাঁকে। কুয়েতে একটি শক্তিশালী সংসদীয় ব্যবস্থা আছে। শাসক রাজপরিবার মন্ত্রিপরিষদে মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। নানান বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের সাথে রাজ পরিবারের মতপার্থক্য এ পার্লামেন্টের অগ্রগতি কমিয়ে দিচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের অস্বস্তিতে ফেলছে। একে একে সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ায়– কুয়েতে গত বছরে পাঁচটি ভিন্ন মন্ত্রিসভা হয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলিকে স্থগিত করেছে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলি বন্ধ করে দিয়েছে এবং অবকাঠামো ও শিক্ষাকে খারাপ অবস্থায় ফেলেছে, যা জনগণকে অসন্তুষ্ট করে। কুয়েতের সাবেক শাসক শেখ আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ-এর পঞ্চম পুত্র শেখ নাওয়াফ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে হাওয়ালি প্রদেশের গভর্নর হিসাবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তিনি ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

post
সংবাদ

শরিকদের আসনে চূড়ান্ত করেছে আ. লীগ,৭ টির বেশি নয় বলছেন কাদের, বাড়তি দাবী ইনুর

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের আসন ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। কে কোন আসনে ছাড় পাচ্ছে, তা আজ কালের মধ্যে শরিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে দলটি। তবে ছাড় দেওয়া আসনেও আওয়ামী লীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।আওয়ামী লীগের একটি সূত্রে জানা গেছে,শরিকদের আসন ছাড়ের বিষয়টি গত বুধবার চূড়ান্ত করা হয়েছে। ওই দিন রাতে ছাড় দেওয়া আসনের তালিকা জোটের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, এমন তথ্য এসেছে বিভিন্ন গনমাধ্যমে। সেখানে জানানো হয়, বর্তমান সংসদে ১৪ দলীয় জোটের ৪টি দলের আটজন সংসদ সদস্য থাকলেও এবার তিনটি দলের সাতজনকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টি বর্তমান তিন সংসদ সদস্য, জাসদের বর্তমান তিন এমপির মধ্যে একজন বাদ পড়ে নতুন করে একজন যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি-জেপির একমাত্র আসনটি সেই ছাড়ের তালিকায় আছে। এখন পর্যন্ত বাদের তালিকায় আছেন চট্টগ্রাম-২ আসনে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, শরিকদের সমর্থন দিয়ে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলেও তাদেরকে আমাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মুখোমুখি হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের দল তাদের কোন ধরনের ছাড় দেবে না।এবিষয়ে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শরীকদের কাউকে নির্বাচনে বিজয়ের গ্যারান্টি দেয়া হবে না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে। আজ শুক্রবার দুপুরে, রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জোটের শরিকদের সাতটির বেশি আসন ছেড়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু দাবী করেছেন,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের ছেড়ে দেয়া ৭টি আসন বাড়াতে হবে।  সকালে, জাতীয় প্রেসক্লাবে বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবী জানান।

post
বাংলাদেশ

শরিকদের সঙ্গে সাতটি আসনে সমঝোতা: তথ্যমন্ত্রী

আপাতত ১৪ দলীয় জোট শরিকদের সঙ্গে সাতটি আসনে সমঝোতা হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৪ দলের যারা নির্বাচিত হওযার যোগ্য, তাদেরকেই তো মনোনয়ন দিতে হবে। যাদের মনোনয়ন দিলে বা প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাদের ক্ষেত্রে তো সমঝোতা করা কঠিন। শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করা হয় ১৪ দলকে সাতটি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে, এটা আরও বাড়বে কি না? উত্তরে তিনি বলন, সাতটিতে মোটামুটি ১৪ দলের সবাই .....। যারা নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, তাদেরকেই তো মনোনয়ন দিতে হবে, কিংবা ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। যাদের মনোনয়ন দিলে বা ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাদের ক্ষেত্রে তো সমঝোতা করা কঠিন। আপাতত সাতটি আসনেই তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪ দলের সঙ্গে আমরা একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছি। এখনো আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আমরা আলোচনায় আছি। জাতীয় পার্টি আমাদের সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছে। ‘জাতীয় পার্টি সন্ত্রাস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে যারা ব্যাহত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, সন্ত্রাস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি বরাবর আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং তারা আমাদের রাজনৈতিক সহযোগী বলেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এবার জাতীয় পার্টি স্বাধীনভাবে নির্বাচন করছে। আমরা ২০০৮ সালে মহাজোট হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। ২০১৪ সালে আমাদের সঙ্গে এলায়েন্স হয়েছিল। এবার তারা ইন্ডিপেন্ডেন্টলি নির্বাচন করছে, এরপরও স্ট্র্যাটেজিক্যাল এলায়েন্স যে কারও সঙ্গে হতে পারে। সে নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমরা আশাকরি খুব সহসা আমরা একটা সমঝোতায় উপনীতি হবো।স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ তো আওয়ামী লীগের নেই। তারা তো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধেই স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে আমরা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো। আমরা দলগতভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর, সেখানে আওয়ামী লীগেরও কেউ কেউ স্বতন্ত্র হয়েছে। আরও অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগের সদস্য বা আওয়ামী লীগ ঘরানার মানুষই স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছে তা নয়। সেখানে অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে, বিভিন্ন আসনে। তাদের ওপর তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাদের নিয়ন্ত্রণ আমাদের দলীয় প্রার্থীদের ওপর।

post
বাংলাদেশ

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ শিরোপাও তাদের। সেই ভারতকেই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করলো বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়নদের ৪ উইকেট আর ৪৩ বল হাতে রেখে হারিয়ে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে টাইগার যুবারা। বাংলাদেশের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও একটু দুশ্চিন্তা ছিলই। ১৮৯ তাড়া করতে নেমে যে ৩৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল যুবা টাইগাররা।তবে সেখান থেকে আরিফুল ইসলাম খেললেন চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস। শুরুতে ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দিলেন, সেট হয়ে মাঠ গরম করলেন চার-ছক্কায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। ব্যক্তিগত ৯৪ রানে থাকার সময় ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে ফিরতে হয় ডানহাতি এই ব্যাটারকে। তবে আরিফুল ফিরলেও তখন জয় বলতে গেলে নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। শেষদিকে অবশ্য ভারত বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নেয়। নাহলে বাংলাদেশের জয়টা আরও বড় হতে পারতো।ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল যুবা টাইগাররা। প্রথম ওভারেই রাজ লিম্বানির বলে বোল্ড হন ওপেনার জিসান আলম। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন তিনি। ১৯ বলে ১৩ করে নামান তিওয়ারির শিকার হন চৌধুরী মো. রিজওয়ান। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আশিকুর রহমান শিবলির ওপর ভরসা ছিল। কিন্তু ২২ বলে ৭ করে রানআউটে কাটা পড়েন এই ওপেনার।সেখান থেকে আরিফুল ইসলাম আর আহরার আমিনের ১৩৮ রানের জুটিতে ম্যাচ জেতা নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। এ জুটিতে মূল ভূমিকা আরিফুলেরই। তবে ৯০ বলে ৯ চার আর ৪ ছক্কায় ৯৪ রান করে ভারতীয় পেসার রাজ লিম্বানিকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই ভুল করেছেন তিনি। ক্যাচ হয়ে ফিরতে হয়েছে সাজঘরে। এরপরই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আউট হন মোহাম্মদ শিহাব আর শেষদিকে এসে উইকেট বিলিয়ে আসেন আরিফুলের সঙ্গে ম্যাচ জেতানো জুটি গড়া আহরারও। ১০১ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। এর আগে দারুণ বোলিংয়ে ভারতকে ১৮৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। টাইগার পেসারদের তোপের মুখে শুরুতে দাঁড়াতেই পারছিল না ভারতীয় ব্যাটাররা। ৬১ রানে ভারতের ৬ উইকেট তুলে নেন তারা। শেষদিকে মুশের খান ও মুরুগান অভিশেকের দুই ফিফটিতে সম্মানজনক স্কোরই পেয়ে যায় উদয় শাহারানের দল। ৪২.৪ ওভার খেলে ১৮৮ রানে অলআউট হয়েছে তারা।শুক্রবার আরব আমিরাতের আইসিসি একাডেমি মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত। ২ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার আদর্শ সিং। বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর ৬ বলে ১ রান করা আরেক ওপেনার আর্শিন কুলকার্নিকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান মৃধা। অধিনায়ক উদয় শাহারানকে রানের খাতাই খুলতে দেননি মারুফ। অর্থাৎ প্রথম তিন উইকেটের তিনটিই শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার। এরপর দলের হাল ধরান চেষ্টা করেন প্রিয়ানসু মলিয়া ও শচিন দাস। তবে বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি শচিন। ২৩ রানের জুটিটি ভেঙে দেন ডানহাতি পেসার রোহানাত দৌল্লা বর্ষণ। ৩৬ রানে ছিল না ভারতের ৪ উইকেট। এরপর প্রিয়ানসু মলিয়া ও মুশের খানের ২৫ রানের জুটি দলীয় স্কোর ৬১ রানে নিয়ে যায়। ১৬ তম ওভারে জোড়া আঘাতে মলিয়াকে ১৯ রানে ও অ্যারাভেলি আভিনিশকে ০ রানে ফেরান ডানহাতি পেসার বর্ষণ। তখন মনে হয়েছিল ভারতকে ১০০ রানের আগেই গুটিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ।কিন্তু সেটি হতে দেয়নি মুশের ও মুরুগান অভিশেকের করা সপ্তম উইকেটের জুটি। ১০৮ বলে ৮৪ রানের পার্টনারশিপে তারা দলকে নিয়ে যান ১৪৫ রানে। মুশের ফিফটি হাকিঁয়ে রাব্বির বলে আরিফের হাতে ক্যাচ হন। এরপর ৩ রান দলীয় স্কোরকার্ডে তিন রান যোগ না হতেই ফেরত যান নতুন ব্যাটার সৌমি পান্ডে। মুরুগানও হাকাঁন ফিফটি। অবশেষে ৭৪ বলে ৬২ রান করে মারুফের বলে জিসান আলমের হাতে ধরা পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৮৮ রানে অলআউট হয় ভারত। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন মারুফ মৃধা। ২টি উইকেট তুলে নেন রোহানাত দৌল্লা বর্ষণ ও শেখ পারভেজ জীবন।

post
সংবাদ

ত্রিশালে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাসচাপায় অটোরিকশাচালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহতরা হলেন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ইমতিয়াজ আলীর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন, একই এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক হাবিবুর রহমান ও হরিরামপুর এলাকার নাইম মিয়ার স্ত্রী পপি আক্তার।শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এরআগে দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের পাশে মাছের আড়তের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক-এসআই   জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাস ত্রিশাল কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের পাশে মাছের আড়তের সামনে ত্রিশালগামী একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে চালকসহ পাঁচজন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে পাঠান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর রহমান, মোফাজ্জাল হোসেন ও পপি আক্তার মারা যান। অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ত্রিশাল থানার এসআই  আলমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

post
বাংলাদেশ

মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

নাশকতার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমিত কুমার এ আবেদন করেন। সোমবার গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হবে। শুক্রবার পল্টন থানার আদালতের নিবন্ধন শাখা থেকে জানা যায় এ তথ্য।এর আগে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় ২৯ অক্টোবর গ্রেফতার দেখিয়ে মির্জা ফখরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলাটি করা হয় রমনা মডেল থানায়। এরপর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এরপর ২ নভেম্বর মির্জা ফখরুলের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। আবেদনের পর আদালতে জামিন শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ জামিন শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করে। এরপর আদালত জামিন শুনানি পিছিয়ে ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। ওইদিন শুনানি শেষে জজকোর্ট তার জামিন নামঞ্জুর করেন।এরপর ৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে তার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। ৭ ডিসেম্বর ফখরুলকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। রাষ্ট্রপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

post
বাংলাদেশ

নির্বাচনের পর সরকার টিকবে না:মঈন খান

নির্বাচনের পর সরকার পাঁচদিন টিকবে কি না কেউ বলতে পারেন- এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সাল আর ২০২৪ সাল কিন্তু এক না। জনগণের শক্তির কাছে কামান বা বুলেট কিছুই টেকে না। বিশ্বে এমন অসংখ্য নজির রয়েছে। এবার সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। এই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই।’শুক্রবার  বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘মহান বিজয় দিবস, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশকে ভালোবাসলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিক। জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হলে প্রথম আমি অভিনন্দন জানাবো। না হলে এবার জুজুর ভয় দেখিয়ে এই সরকারের কোনো লাভ হবে না।’তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে রাজনীতি বলে কিছু নেই, রয়েছে অপরাজনীতি। এখানে ক্ষমতার নামে চলে দখল ও চাঁদাবাজি আর টাকা পাচার। ৫২ বছর আগে দেশের মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল তার মূলে ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি। কিন্তু আজ দুটোর কোনোটিই নেই।’বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের সংকটের সমাধান করতে হবে। সরকার মুখে যা বলে কাজে তা করে না। কাজে যা করে তা বলে না। তারা নিজেদের গণতান্ত্রিক সরকার বলে পরিচয় দেয়। বিএনপিকে বলে সন্ত্রাসী দল! তারা মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বার বার বিভ্রান্ত করছে। তারা হিটলারের মন্ত্রী গোয়েবলসের মতো মিথ্যাচার করছে। তবে এভাবে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হলে পায়ের মাটি কখন সরে যায় টের পাওয়া যায় না।’তিনি বলেন, ‘এই সরকারের মিথ্যাচার নিজেরাই বিশ্বাস করে না। তারা মনে করছে ক্ষমতায় যেহেতু আছে নির্বাচনের দরকার কী? কোনো সরকার গণতন্ত্রের ভান ধরলে সেই সরকার স্বৈরাচারের চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আজ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে।আবদুল মঈন খান আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই স্বৈরশাসককে মানেনি। যার প্রমাণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। সেদিন কিন্তু দেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্রের দাবিতে জীবন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে। আমরা আবারও সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন ঘটাবো ইনশাআল্লাহ।আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মান্না বলেন, এই সরকার কী ভোট করছে? এটা তো বানরের পিঠা ভাগাভাগির মতো। ল্যাংড়া কানা খোড়া নিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করছে সরকার। তারা নিজেরা নিজেরা লাইনে দাঁড়িয়ে জটলা পাকিয়ে দেখাবে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে! আসলে এটাতো কোনো নির্বাচন নয়। আজ আওয়ামী লীগের জোট-মহাজোটের নেতাদের আসন ভাগাভাগি দেখলেই বোঝা যায় ওটা বানরের পিঠা ভাগাভাগি। এভাবে সরকার নির্বাচনের নামে নাটক-সিনেমা করবে।তিনি বলেন, এই সরকারকে সরে যেতেই হবে জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। বিএনপি কিন্তু দেশে জনতার অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। যা সারাদেশে দেখা গেছে। এবার বিজয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে সারা ঢাকা কেঁপে উঠবে। রাজপথের কঠোর আন্দোলন ও রক্তের বিনিময়ে হলেও এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। বিশ্বের দেশে দেশে এমনটি হয়েছে। সরকারের পুলিশ বাহিনী যতই অত্যাচার করুক আমরা আমাদের জায়গা ছাড়বো না। কেননা রাজনৈতিকভাবে এই সরকার পচে গেছে। এরা সারাবিশ্বে ঘৃণিত। ম্যাথিউ মিলার বলেছেন- বাংলাদেশের বিরোধীদের ওপর কেমন নির্যাতন চালানো হচ্ছে, আমরা সব খবর রাখি। সুতরাং ওদের সময় বেশি নেই।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.