post
এনআরবি সাফল্য

৩০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশী

সৌদি আরবে নিহত দুই বাংলাদেশি কর্মীর পরিবার মোট ৩০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে। রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দূতাবাস সৌদি মুদ্রায় ক্ষতিপূরণের ওই পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রেরণ করেছে। কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার সাগর পাটোয়ারী ২০০৬ সালের ২৭ জুন দাম্মাম শহরে এক অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। দীর্ঘসময় আততায়ীকে শনাক্ত করতে না পারায় যথাসময়ে মামলাটির অগ্রগতি হয়নি। ২০১৮ সালের আগস্টে দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ প্রতিনিধি দাম্মাম দক্ষিণ থানায় পরিদর্শনকালে জানতে পারেন সেখানে একটি চুরির মামলায় সৌদি নাগরিক উমর আল শাম্মেরি আটক আছেন, যিনি সাগর পাটোয়ারি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন। সৌদি পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উমরকে বিবাদী করে মামলা করলে এই বিষয়ে পুনরায় তদন্ত করা হবে। দূতাবাস এ বিষয়ে নিহত সাগরের পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করে। তাঁর পরিবার বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুকূলে আমমোক্তারনামা দেন। এরপর দূতাবাসের প্রতিনিধি দাম্মামের আদালতে অভিযুক্ত উমরের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে অভিযোগ দাখিল করে। বিচারে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ২০২১ সালের ২৪ মার্চ এক রায়ে অভিযুক্ত উমর আল শাম্মেরির বিরুদ্ধে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। অভিযুক্তের বাবা রক্তপণ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবি প্রত্যাহারের আপস প্রস্তাব করেন। দূতাবাসের মধ্যস্থতায় ৫১ লাখ রিয়ালের আপস প্রস্তাবে নিহত সাগর পাটোয়ারীর ওয়ারিশরা সম্মত হন। আদালত অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে রক্তপণের চেক গ্রহণ করে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেন। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর দূতাবাসের ব্যাংক হিসাবে ৫১ লাখ রিয়াল জমা হয়। অন্যদিকে খুলনার পাইকগাছার গৃহকর্মী মোসাম্মৎ আবিরণ বেগম ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ রিয়াদে নিয়োগকর্তার বাসভবনে গৃহকর্ত্রী আয়েশা আহমাদ সগির আল জিজানি কর্তৃক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ গৃহকর্ত্রী আয়েশা আল জিজানি, গৃহকর্তা বাসেম সালেম সগির এবং তাদের পুত্র ওয়ালিদ বাসেম সালেমকে গ্রেপ্তার করেন। দীর্ঘ বিচারকার্য শেষে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতের প্রধান আসামি গৃহকর্ত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের (কেসাস–জীবনের বিনিময়ে জীবন) এবং অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ৫০,০০০ সৌদি রিয়াল অর্থদণ্ড প্রদান করে মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের হলে আপিল আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরিবার ও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে রক্তপণের বিনিময়ে আসামিকে ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। নিহতের পরিবার সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে আসামিদের ক্ষমার সম্মতি লিখিতভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানান। দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনায় নিহতের পরিবার ৪৮ লাখ ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল রক্তপণ পরিশোধের বিনিময়ে ক্ষমা নিতে সম্মত হয়। অভিযুক্তের পরিবার আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্তপণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দূতাবাসের শ্রম শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রিয়াদের ডেপুটি গভর্নর নাবিল বিন আব্দুল্লাহ আল-তাওয়ীলর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্ষতিপূরণ আদায়ে তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এরপর আদালত ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে আপস অনুযায়ী নিহত আবিরণ বেগমের বৈধ ওয়ারিশগণের নামে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৮ লাখ ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল ক্ষতিপূরণের চেক ইস্যু করেন। সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পর তা দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে দূতাবাসের মধ্যস্থতার ফলে সৌদি নাগরিকের প্রাণ বেঁচে যাওয়ায় দেশটির সরকার দুই নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

post
বাংলাদেশ

তারেক রহমানের নির্দেশে দেশে আগুন দেওয়া হচ্ছে—শেখ হাসিনা

বিএনপি তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের মানুষের সঙ্গে আগুন নিয়ে খেলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সাথে আগুন নিয়ে খেলে, লন্ডনে বসে অর্ডার দেয় তারেক। আর দেশে আগুন দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণের ক্ষতি করছে হরতাল-অবরোধ দিয়ে। তারা অতীতে ক্ষমতা পেয়ে দেশের মানুষের সম্পদ লুট করেছে।’ আ. লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ভোট চোর। দেশ বিক্রির চেষ্টা করছে খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে বিএনপি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল। যে কূপ খনন করে খালেদা গ্যাস পায়নি, সেই কূপ খনন করে আমরা গ্যাস তেল দুটোই পেয়েছি।’ আগুনসন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ পোড়ানোর মতো এত সাহস এরা কোথা থেকে পায়? মনে রাখতে হবে আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সেই আগুনেই হাত পোড়ে। আওয়ামী লীগ সরকার আছে মানেই উন্নয়ন আছে। আমার হারাবার কিছু নেই। সব হারিয়ে, নিজের সন্তানদের দূরে সরিয়ে দেশে এসেছিলাম এই দেশের মানুষের জন্য।’ সিলেট প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৮১ সালে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করি। আজকেও আবার এসেছি। ১৯৫৯ সালেও সিলেটে এসেছিলাম। ছোট ছিলাম তখনো এসেছি। তবে ৮১ সালে আসাটা ছিল ভিন্ন। তখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে এসেছিলাম। তখন এসেছিলাম একটি প্রত্যয় নিয়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের স্বপ্ন নিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। এমন দেশে ফিরেছিলাম। আমি দেখেছি কীভাবে ভোট চুরি করে, কীভাবে গণতন্ত্র হরণ করে। ২১ বছর পর সরকার গঠন করে স্বপ্ন দেখেছি দেশকে সুন্দরভাবে গঠন করার।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ থাকলে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করত না। ২০১৩ সালে আগুন দেওয়া শুরু করে। ১৩ থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষ পোড়ায়। অগ্নিসন্ত্রাস করে তারা নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করে নির্বাচন শেষ করে দেয়। আজকে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। সেখানে বিএনপির আমলে সেটা ছিল না। দারিদ্র্য হার ৪১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮তে নামিয়েছি। ৮ লাখ ৪১ হাজার মানুষকে ঘর দিয়েছি। ২১ জেলা গৃহহীনমুক্ত করেছি, তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। কোনো মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, সেই লক্ষ্য রেখে কাজ করি।’

post
বাংলাদেশ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার আহবান বিএনপির

আগামী ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলটি আজ থেকে সরকারকে ‘সবক্ষেত্রে’ অসহযোগিতা করার জন্য জনগণকে অনুরোধ করেছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ এক ভিডিও বার্তায় দলের বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষে আজ রিজভী দলের অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি জানান। রুহুল কবির রিজভী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে' ভোট গ্রহণে নিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এই আহ্বানের পেছনে যুক্তি দিয়ে রিজভী বলেন, ‘ নির্বাচনের নামে বানর খেলায় যাবেন না। ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। নির্বাচনে কারা এমপি হবেন সেই তালিকা তৈরি হয়ে গেছে।’ এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে সকল প্রকার কর, খাজনা, পানি, গ্যাস বিদ্যুৎ বিল দেওয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। রিজভী বলেন, ‘ব্যাংক খাতের মাধ্যমে সরকার সবচেয়ে বেশি অর্থ লুটপাট করেছে।ফলে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা নিরাপদ কিনা সেটি ভাবুন।’ এর পাশাপাশি মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় অভিযুক্ত ‘লক্ষ লক্ষ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে’ আজ থেকে আদালতে হাজিরা দেওয়া থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান রিজভী। বিএনপি সর্বশেষ সরকাররে পদত্যাগ ও নির্বাচন বাতিলের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে। এর আগে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর ২৯ অক্টোবর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে বিএনপি। এর পর থেকে দলটি এক-দুই দিন পরপর কখনো অবরোধ, কখনো হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন এবং নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোও অভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এখন বিএনপি নির্বাচন বর্জন ও সরকারকে অসহযোগিতার কর্মসূচি দিল।

post
সংবাদ

রাজধানীতে ছাদ থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির পেছনের এলাকার সাততলা একটি ভবনের ছাদে  কাজ করার সময় পড়ে মো. নজরুল ইসলাম নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নজরুলের সহকর্মী মো. লালচাঁদ বলেন, আমরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান সে আর বেঁচে নেই। নজরুলের গ্রামের বাড়ি মাগুরা সদর জেলার মাইতা গ্রামে বলেও জানান তিনি।  ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

post
বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের সব ভালো লোক না

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আপনি কি মনে করেন, আওয়ামী লীগের সব ভালো লোক? না। আমাদের খারাপ লোক আছে। অন্য দলে সব খারাপ লোক? নো। সেখানেও ভালো লোক আছে। নির্বাচনের পর সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। জীবনের শেষ বয়স চলছে। প্রতিদিন আমার কেন জানি মনে হয়, আমি আর বাঁচব না। তাই মানুষের জন্য কাজ করে আল্লাহকে খুশি করে যেতে চাই।মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখানে কিছু বাচ্চাও আছে। আমার চার বছরের একটা নাতি আছে। ঘরের সবার কলিজার টুকরা সে। দেশে ট্রেনে আগুন দেওয়া হচ্ছে। মায়ের সঙ্গে তিন বছরের সন্তানও পুড়ে মারা গেল। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও মা সন্তানকে বুকে ধরে রাখলো। ধরুন, আমরা ট্রেনে চড়ে বাবা-মেয়ে গল্প করতে করতে যাচ্ছি। সেখানে কেউ আগুন দিয়ে দিল, রাজনীতির নামে। আমি আমার মেয়েটাকে রক্ষা করতে পারলাম না। বাবা-মেয়ে জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে মরে গেলাম। এর নাম কি রাজনীতি? আপনারা কি আল্লাহর কাছে জবাব দেবেন না। সব কাজের ঠেকা কি আমাদের?বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার নাম কি রাজনীতি? কেন রে ভাই। আল্লাহর কাছে কি জবাব দেবেন না। আমাদের ৫৪ জন মানুষকে এই পর্যন্ত নিজের হাত দিয়ে দাফন করতে হয়েছে। আমরা তো প্রতিশোধ নেই না। আমার ভাই সেলিম ওসমান তখন রাজনীতি করতো না। তার ফ্যাক্টরির ভেতর ঢুকে তিন শ গরুর দুধের বান কেটে দেওয়া হলো। ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলো। ১৫ মিনিটের মধ্যে যদি মনে করি ওদের নাই করে দেব। পুলিশ-প্রশাসন ওদের পক্ষে থাকবে, তারপরও কিছু করতে পারবে না। কিন্তু আমি এটা করবো না।তিনি বলেন, আমরা ৮৫ ভাগ কাজ শেষে করেছি, আমি বাকি কাজগুলো শেষ করতে চাই। আমি এখন চাচ্ছি, নারায়ণগঞ্জের মানুষের যাতে আর ঢাকায় যেতে না হয়। আমাদের নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল হবে। আমরা একটা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চাই।শামীম ওসমান বলেন, আমরা এই কাশিপুর থেকে মুন্সীগঞ্জ ফ্লাইওভার করছি। এই রাস্তা আমার বাবার নামে হবে। এই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক আমার বাবার নামে হয়েছে। আদমজী সড়ক আমার মায়ের নামে হয়েছে। আমি কিন্তু চাইনি, তারপরও বাবা-মাকে সম্মান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মানুষ পানির নিচে গাদাগাদি করে থাকতো। আমরা সেই ডিএনডি প্রজেক্ট নিয়ে এসেছি। এই রাস্তা করেছি ৬২৫ কোটি টাকার, শুধু ফতুল্লায়। আমরা প্রাইমারি স্কুল করেছি, হাইস্কুল করেছি। পাগলের মতো কাজ করতে চেষ্টা করেছি আল্লাহকে খুশি করতে।তিনি বলেন, আমার নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল হবে। নারায়ণগঞ্জে যদি আইটি ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয়, মেট্রোরেল হয়ে যায় আমাদের কী দরকার আছে ঢাকায় যাওয়ার। আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই, স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে চাই। এগুলো ভোগ করবে কে? আমাদের বাচ্চারা। এই রাস্তা দিয়ে কী শুধু আওয়ামী লীগ চলে। বিএনপিও তো চলে।

post
সংবাদ

হাইকোর্টে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দিপু

ময়মনসিংহ-১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড.মোহাম্মদ আবুল হোসেন দিপুর মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার মনোনয়ন গ্রহণ করে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার বিচারপতি আবু তাহের মো.সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মুঞ্জুরুল হক ও অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী।স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন দিপু ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগের কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য তিনি।তিনি যে আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন সেটি হলো গফরগাঁও উপজেলা ও পাগলা থানা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন। সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনি এর আগে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পরে দুই বার সংসদ সদস্য হন। এবারও তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে  মনোনয়নপত্র জমা দেন ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন দিপু। কিন্তু তার মনোনয়ন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি স্থানীয় নির্বাচনী কার্যালয়ে।আইনজীবীসহ নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়েও গ্রহণযোগ্যতা পাননি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির দিনে নামঞ্জুর হয় তার প্রার্থিতা। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে জটিলতায় তার আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন চেয়েছিলেন তিনি। এর পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে বিফল হয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনের ১০৬ প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। এতে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

post
সংবাদ

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রাখেন মা!

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও তিন বছরের শিশু সন্তান ইয়াসিনকে বুকে জড়িয়ে পুড়ে মারা গেলেন নাদিরা আক্তার পপি। আগুনের হাত থেকে বাঁচতে ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেও ভিড় ও ধোঁয়ার কারণে নামতে পারেননি মা-ছেলে।মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর তেজগাঁও রেলস্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা যান নারী-শিশুসহ চারজন। তাদের মধ্যে আছেন পপি ও তার ছেলে।ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিহত পপির ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় ফিরছিলাম একই পরিবারের ৯ জন। সোমবার রাতে ট্রেনে উঠি। বিমানবন্দর স্টেশনে আমাদের মধ্যে ৫ জন নেমে যান। ট্রেন বিমানবন্দর থেকে কমলাপুরের উদ্দেশে রওনা করে। আমরা 'জ' বগিতে ছিলাম। হঠাৎ ধোঁয়ায় ভরে যায় কামরা। ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় চারদিকে। তেজগাঁও স্টেশনে ট্রেন থামতে থামতে সবাই হুড়োহুড়ি করে নেমে যান। এর মধ্যে আমার বড় ভাগিনা মাহিমকে নিয়ে আমিও নেমে যাই। কিন্তু আমার বড় বোন নাদিরা আক্তার পপি ও তিন বছরের ছোট ভাগিনা ইয়াসিন বের হতে পারেনি।তিনি জানান, আগুন নেভানোর পর চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যে আমার বোন ও ভাগনে ছিল। যখন আমার বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় তখনও তার বুকে জড়ানো ছিল আমার ভাগনে। দুজন একসঙ্গে পুড়ে মারা গেছে। এসব কথা বলছিলেন আর কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন হাবিবুর রহমান।নিহত পপির স্বামী মিজানুর রহমান জানান, আমি পেশায় হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী। নেত্রকোণা গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিল আমার পরিবার। ব্যবসার কাজের জন্য আমার যাওয়া হয়নি তাদের সঙ্গে।তিনি বলেন, আমার শ্যালক হাবিব ফোন দিয়ে জানায় ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। শ্যালক ও আমার বড় ছেলে নামতে পারলেও ধোঁয়ার কারণে আটকা পড়ে আমার স্ত্রী ও ছোট ছেলে। আমি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখি আমার শিশু সন্তানকে কোলে জড়িয়ে ধরে আছে স্ত্রী। তাদের দুজনের শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমি কী অপরাধ করেছি? কী থেকে কী হয়ে গেল... কিছুই বুঝতে পারছি না। আল্লাহ, আমার তো সব শেষ হয়ে গেল। আমি কার কাছে বিচার দেব, আমার ছেলে আর স্ত্রীকে তো আর ফিরে পাব না..।

post
সংবাদ

রেলে আগুন দেয়াদের ক্ষমা নেই:কাদের

রেলে আগুন দিয়ে যারা চারটি প্রাণ খুন করেছে তাদের ক্ষমা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার বিকেলে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।  বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অগ্নিসংযোগে চারটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। ইসরায়েল ফিলিস্তিনে যেভাবে মানুষ হত্যা করে সেই রকম দৃশ্য দেখতে পেলাম। তাদের ক্ষমা নেই।’তিনি বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে স্বার্থের রক্ষক। যারা ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদ করে না, তারা ভোট নিয়ে ধর্মের কথা বলে। ২৮ অক্টোবর বিএনপি লাল কার্ড খেয়ে বিদায় নিয়েছে। বিএনপি ভুয়া! তাদের নেতা নেই, নির্বাচন ও আন্দোলন করবেন কাকে দিয়ে? ৭০ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনাকে ভোট দেবে। ১৮৯৬ জন ফাইনাল খেলায় অংশ নিচ্ছে।’আ : লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। তারা এই বছর পারল না। আগামী বছর আবার করবে আন্দোলন। তারেক রহমানের সাহস নেই। থাকলে এখানে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিত, জেলে যেত। যে জেলে যেতে ভয় পায়, তার নেতৃত্বে আন্দোলন হবে না।’কারাগারে থাকা নেতা-কর্মীদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেলে আছে ১১ হাজার। আজকে জামিন পেয়ে দুই হাজার বের হয়ে গেছে। ঢাকা জেলার ১৯টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা নির্বাচনে বাধা দেবে, তাদের প্রতিহত করে শেখ হাসিনাকে পঞ্চমবারের মতো বিজয়ের বন্দরে নিয়ে পৌঁছাব। সামনে আসছে ভালো দিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’

post
সংবাদ

পাবনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করলো আওয়ামী কর্মীরা

পাবনা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাকে প্রায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলপনা ইয়াসমিনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাঁথিয়ার বোয়ালমারী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বেরিয়ে বোয়ালমারী বাজারে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। এ সময় পাশ দিয়ে নৌকার মিছিল যাচ্ছিল। হঠাৎ মিছিলকারীরা স্লোগান দিতে দিতে আবু সিইয়িদকে ঘিরে ধরেন। দুপক্ষের মাঝে অবস্থান নেয় পুলিশ।পুলিশ বারবার উভয় পক্ষকে সরে যেতে বলে, কিন্তু কেউই সরে যাননি। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ অবশ্য পাশে একটু সরে গিয়ে অবস্থান নেন। নৌকার সমর্থকরা তাদের জায়গায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সাঁথিয়া পৌরসভার মেয়র মাহবুবুল আলম , উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন ও বেড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাহ মোল্লার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে চলে যাওয়ার জন্য নানা স্লোগান দিতে থাকেন।প্রায় দুই ঘণ্টা পর সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বাধ্য করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।এ সময় অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল বাতেন বলেন, সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিরপেক্ষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু আপনারা আজ দেখলেন কীভাবে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এটা কি নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ বা নিরপেক্ষ পরিবেশ? এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আজ নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকুর নির্বাচনী প্রোগ্রাম ছিল। সেই প্রোগ্রাম বাধাগ্রস্ত করতে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এলাকায় এসেছিলেন। তারাই আমাদের মিছিলের সামনে গাড়ি রেখে মিছিল বাধাগ্রস্ত করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাবনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবু সাইয়িদ। সেবার তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি গণফোরামে যোগ দেন।২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে পাবনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন আবু সাইয়িদ।

post
বাংলাদেশ

ভোট শুরুর আধা ঘণ্টা আগে এজেন্টদের নাম

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, এবার ব্যালট পেপার নিবার্চনের দিন সকালে কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী-বিজিবির সহায়তা নেওয়া হবে। তবে যৌক্তিক কারণ থাকলে কিছু দুর্গম এলাকায় আগের দিন ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে চাঁদপুরে নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।আনিছুর রহমান বলেন, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন তারা কিন্তু কম শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেই। তাদের সমর্থক আছে সেটা বিবেচনা করেই মাঠে নেমেছেন। তারা মাঠে থাকবেন। আজকের আলোচনায় তাদের প্রত্যেকের অভিযোগের কথাও শুনেছি। তাদেরকে বলেছি- আপনারা মাঠে থাকেন, শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে। ভোটের দিন আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, প্রার্থীরা বলেন- আমার এজেন্ট বের করে দিয়েছে। মূলত তিনি এজেন্টই দেননি। যে কারণে আজকে প্রার্থীদের বলেছি- ভোটের দিন একটি নির্ধারিত ফরম দেবেন। ভোট শুরু হওয়ার আধাঘণ্টা আগে যেন তাদের এজেন্টদের নাম দেন এবং তারা যেন উপস্থিত থাকেন। ভোট শেষ হওয়ার পরে গণনা পর্যন্ত এজেন্ট থাকতে হবে এবং ফলাফলে স্বাক্ষর দেবে। তার প্রার্থীর ফলাফল যাই হোক না কেন উপস্থিত থাকতে হবে।নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। আমরা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখছি এবং সতত্যা পেলে সেগুলো মামলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পুলিশতো বাদী হয়ে মামলা নিবেনা। কারণ পুলিশত সরকার পক্ষের লোক। যিনি অভিযোগকারী তাকেই প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে হবে। অভিযোগ দেরি করে দিলে বিষয়টি দূর্বল হয়ে যায়। এই বিষয়টিও স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের দেখতে হবে।তিনি বলেন, ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহ দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। ভোটের অধিকার আপনার। আপনি ভোট দিতে আসেন।  আপনার ভোট আপনি দেবেন, অন্য কেউ আপনার ভোট দেবে না। ভোটের সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকবে। আজকের অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের বলেছি, ভোটকেন্দ্রে ভোটার আনার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু সুস্থ্য সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব আমাদের।আনিছুর রহমান বলেন, প্রচার-প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী যতটুকু প্রচার-প্রচারণার সুযোগ দেওয়া আছে তা করতে দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীদেরও দায়িত্ব আছে। আচরণবিধিতে আছে কে কোথায় প্রচারণা করতে চায় তার ২৪ ঘণ্টা আগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। কারণ একই স্থানে যদি দুইজনের নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম হয়, তাহলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাই আমরা প্রার্থীদের বিষয়টি অবহিত করেছি। আমাদের মিশন হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে চাই। এটা করার জন্য আমাদের যা যা প্রয়োজন আমরা তাই করব। যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসবেন আমরা তাকে গ্রহণ করব।এ সময় চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কমকর্তা তোফায়েল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.