post
বিশেষ প্রতিবেদন

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশের দাবি সাংবাদিকদের

তামাক নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে নারী মৈত্রীর আয়োজনে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সাংবাদিকদের নিকট প্রত্যাশা ও করণীয়” বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়েছে। বুধবার ৯ অক্টোবর ২০২৪, সকাল ১১:০০ টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে বিশেষজ্ঞ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, অনকোলজিস্ট এবং প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, লীড পলিসি এ্যাডভাইজার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এবং বাংলাদেশ এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বিসিআইসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব রাশেদ রাব্বি, সভাপতি, হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম। শামীম মেহেদী, চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, গ্লোবাল টিভি, প্রথম আলোর যুগ্ম–সম্পাদক জনাব সোহরাব হাসান, শাহনাজ বেগম পলি, সদস্য, ব্যবস্থাপনা কমিটি, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং জুলহাস আলম, ঢাকা ব্যুরো প্রধান, নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা—এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, জাতীয় প্রেস ক্লাব। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সুশান্ত কে সিনহা, স্পেশাল করস্পনডেন্স,৭১ টিভি। জনাব মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া, প্রোগ্রাম ম্যানেজারস, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশ এবং হুমায়রা সুলতানা, কমিউনিকেশনস ম্যানেজার , ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশ।“তামাক কোম্পানিগুলো নানামুখী অপ-কৌশলে বিভ্রান্ত না হওয়ার কথা জানান সুশান্ত কে সিনহা, তিনি বলেন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধিকতর সংশোধনী আনার যে উদ্যোগ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে একটি সময়োচিত এবং জনবান্ধব উদ্যোগ। তবে বেশ কিছু ধাপ পার হলেও আইনটিকে চূড়ান্ত রূপ পেতে হলে আরো কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এখনও এটি পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এটিকে আইনে রূপান্তরের পথে নানা রকম বাধা আসার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে সংশোধনীর বিপক্ষে তামাক কোম্পানিগুলো নানামুখী অপ-কৌশল ও অপ-তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা নানা রকম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করে জনবিভ্রান্তি তৈরি করছে। এক্ষেত্রে আমাদের সাংবাদিক বন্ধুদেরকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। রাশেদ রাব্বি বলেন, “ তামাক থেকে সরকারের যে রাজস্ব আয় আসে তার চেয়ে তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা বাবদ ব্যয় ৩৪ শতাংশ বেশি। রাজস্ব আয় প্রায় ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা এবং চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। তামাকের কারণে বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা (ক্যান্সার সার্ভে-২০১৮)। সুতরাং মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা” আর একটি প্রানও যাতে না হারাতে হয় তামাকের কারনে সে প্রেক্ষাপটে সোহরাব হাসান বলেন, “প্রতিদিন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এই ভয়ঙ্কর তামাকের আগ্রাসনে। তামাকের এই সর্বগ্রাসী আগ্রাসন ও তামাক মহামারী আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। আমাদের তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আরও সোচ্চার হতে হবে ।পাশাপাশি তামাক কোম্পানির গুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে হবে”শামীম মেহেদী বলেন, "তরুণরা ই-সিগারেটের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের এই আসক্তি থেকে বের করে আনতে ই-সিগারেট বাজারজাত বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন," তামাক একটি প্রাণঘাতী দ্রব্য। তামাকের পক্ষে বলার মতো একটি শব্দও নেই। তামাক পরিবেশ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। টোব্যাকো এটলাস ২০১৮- এর তথ্য মতে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মানে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ প্রাণ হারান । জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ও জীবন রক্ষায় দ্রুততম সময়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে হবে এখনই। আইন শক্তিশালী করবার এই পদক্ষেপ বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারেন আমাদের গণমাধ্যমের বন্ধুগণ,যাদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের লেখনি ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌছানোর কৌশল”বিশেষজ্ঞ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড: গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের কারণে মুত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী তামাক। তামাকের কারণে ফুসফুস ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার, মুখগহ্বরের ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক অন টোব্যাকো কন্ট্রোল—এফসিটিসি’তে স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ হলেও ধুমপানমুক্ত পরিবেশ এবং তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রণোদনা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে এখনও সর্বোত্তম মান অর্জন করতে পারেনি। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ এবং শক্তিশালী করা অতি জরুরী। যা তামাকমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।সভাপতির বক্তব্যে শাহীন আকতার ডলি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারীর প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, গর্ভপাত এবং সন্তান জন্মদানে মা ও শিশু উভয়ই মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশের তাগিদ জানান অন্যান্য আলোচক ও অতিথিরা। আলোচকগণ তাদের বক্তব্যে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে এফসিটিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত বিষয়গুলো যেমন- অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সব পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, তামাক পণ্যের প্রচার বন্ধ করার জন্য বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট আমদানি, উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাক পণ্যের সব প্রকার খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা এবং সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করার প্রতি জোরারোপ করেন।

post
লাইফ স্টাইল

"তামাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে তরুণ সমাজ"

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রান হারাচ্ছেন ১ লক্ষ ৬১ হাজার জন মানুষ। প্রাণঘাতী এই নেশাদ্রব্যের হাত থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার দাবি জানান তরুণ সমাজ। আজ শনিবার (২১ সেপ্টেবর) বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বেসরকারী নারী উন্নয়ন সংস্থা ‘নারী মৈত্রী’র আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন তরুণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তরুণ সদস্যরা বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার দাবি তুলে ধরেন। নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ডঃ গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তনুশ্রী হালদার,সহযোগী অধ্যাপক, জেনেটিক্স এন্ড প্লান্ট ব্রিডিং ডিপার্টমেন্ট, শেরে-ই- বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার চ্যানেল আই এর উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের (সিটিএফকে) প্রোগ্রামস ম্যানেজার জনাব মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া, কমিউনিকেশনস ম্যানেজার হুমায়রা সুলতানা এবং আতাউর রহমান, এডভোকেসি ম্যানেজার সিটিএফকে। অনুষ্ঠানের মূল বিষয় উপস্থাপন করেন নারী মৈত্রীর প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাছরিন আকতার। তিনি বলেন,বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ লোক তামাক ব্যবহার করে এবং তামাক ব্যবহার জনিতরোগে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ করা প্রয়োজন। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে এফসিটিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়ায় যে বিষয়গুলো প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সব পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা; তামাক পণ্যের প্রচার বন্ধ করার জন্য বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা; ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট আমদানি, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা; তামাক পণ্যের সব ধরনের খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা; ও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা। দেশকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আজকের এই তরুণ সমাজ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন যা তামাকমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে। সভাপতির বক্তব্যে শাহীন আকতার ডলি বলেন, “সুস্থ প্রজন্ম বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশকে অবশ্যই তামাকমুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশে তামাক এবং তামাকজাত পণ্যের বিস্তার হয়েছে ভয়াবহভাবে। দেশে ১৫ বছরের ওপরে ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং এর নিচে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিশুই ধূমপায়ী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে কিশোর-তরুণদের নিজ অবস্থান থেকে তামাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি”  তনুশ্রী হালদার বলেন, “দেশে ব্যাপকহারে ই-সিগারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভেপিং এর ব্যবহা্রের প্রবণতা তরুণদের মাঝে বেশি দেখা যায়। যা দেশের জন্য অশনিসংকেত। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে এরইমধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় বাংলাদেশেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা জরুরি” মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক অন টোব্যাকো কন্ট্রোল—এফসিটিসি’তে স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ। তামাকের মহামারী সম্পর্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ধুমপানমুক্ত পরিবেশ এবং তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রণোদনা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে এখনও সর্বোত্তম মান অর্জন করতে পারেনি। 'তামাকমুক্ত বাংলাদেশ'অর্জনের লক্ষ্য পূরণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ এবং শক্তিশালী করা অতি জরুরী। অল্পবয়সীদেরকে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডে আসক্ত করতে কোম্পানিগুলো নানা ধরনের কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে বা সামনের দোকানগুলোতে তামাকপণ্য সহজলভ্য করে তোলা হচ্ছে। বিশেষত,শিশুদের পছন্দের খাবার যেমন-ক্যান্ডি, চিপস ইত্যাদির কাছাকাছি তামাক পণ্যগুলো সাজানো এবং বিক্রেতাদের বিভিন্ন বিপণন সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাই সংশোধীত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে তামাক কোম্পানির কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করতে হবে” হুমায়রা সুলতানা বলেন, “নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে রক্ষা করা জরুরি উল্লেখ করে বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। গর্ভবতী নারী ও শিশুরা ধূমপান না করেও প্রতিনিয়ত তামাকজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই পাবলিক প্লেস, গণপরিবহনে ও রেস্তোরাঁয় ধূমপান যাতে কেও না করে সেই বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার জন্য বলেন তিনি। তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়াতে তামাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলকে আহ্বান করেন উপস্থাপিকা, দীপ্তি চৌধুরী। নারী মৈত্রীর আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন “ বর্তমান যুগে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এক বড় ভূমিকা পালন করে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময় এখনই”এসময় তরুন সমাজকে ধুমপান ও তামাক গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়ে তামকের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখার আহবান জানান দীপ্তি চৌধুরী।এছাড়াও তামাক বিরোধী সকল কার্যক্রমে নারী মৈত্রীর পাশে থাকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামাকের বিরুদ্ধে নিজ অবস্থান থেকে রুখে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।“তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুণ সমাজ যথাযথ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করেন প্রধান অতিথি-যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডঃ গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান । তিনি বলেন, "তামাকের কারণে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষের প্রাণ ঝরছে। মৃত্যুর এই মিছিল ঠেকাতে তরুণেরা তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের দাবিতে তাদের কন্ঠস্বরকে জোড়ালো করবে। পাশাপাশি নিজের পরিবারকে তামাকের প্রভাবমুক্ত রাখবে এবং অন্যান্যদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যাতে মন্ত্রীসভায় সংশোধিত আইনটি দ্রুত উত্থাপন করেন সে লক্ষ্যে সহযোগিতা করা এবং অনুমোদনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরালো দাবি জানানোর জন্য এই তরুণ সমাজকে কাজ করে যাবার জন্য তিনি আহবান জানান।’’ ।  এছাড়াও তামাকের বিরুদ্ধে সংশোধিত আইন বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় ভাবে উপস্থাপন করার আশ্বাসও দেন তিনি।এই কর্মশালায় ১৬টি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তামাকের বিরুদ্ধে নিরলস কাজ করে যাবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।  এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন এবং তামাক বিরোধী সকল কার্যক্রমে এগিয়ে আসার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জাগান তারা। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন নারী মৈত্রী’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর,খালেদ-বিন-ইউছুফ।

post
বাংলাদেশ

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় কাজ শুরু করেছেন সেনা সদস্যরা

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় আজ (বুধবার) সকাল থেকে কাজ শুরু করেছেন সেনা সদস্যরা। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দুই মাস ধরে মাঠে থাকলেও এই প্রথম সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর ফলে সেনাবাহিনীর কমিশন্ড কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রাপ্ত হলেন। ফলে অপরাধ সংঘটিত হলে তারা অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন। মঙ্গলবার রাতে এই প্রজ্ঞাপন জারির পর আজ থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় সেনা সদস্যরা কাজ করতে শুরু করেছেন। সর্বশেষ ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় সেনা সদস্যদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে বিশেষ অভিযান চালানোর ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করেছে। বিভিন্ন কাজে মাঠ প্রশাসনকে সহায়তাও করেছে সেনাবাহিনী। সর্বশেষ ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারি ছিল। ফলে আলাদা ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হয়নি। তবে সেনা সদস্যরা আটক বা গ্রেফতার, অভিযান বা তল্লাশির মতো কাজগুলো করেছেন। বাংলাদেশের বেশিরভাগ জাতীয় নির্বাচনেই সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করে মাঠ পর্যায়ে।

post
বাংলাদেশ

আগারগাঁও-মতিঝিল রুটের মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ

আগারগাঁও-মতিঝিল রুটের মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এমআরটি লাইন-৬ এর দায়িত্বশীল একটি সূত্র।জানা গেছে, ত্রুটি সারানোর আগ পর্যন্ত এ পথে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। আগারগাঁও-মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স) নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওই পথে ভালো রকমের একটা সমস্যা হয়েছে। এটা ঠিক করতে সময় লাগবে। মেট্রোরেল আপাতত আগারগাঁও (উত্তরা থেকে) পর্যন্ত চালাচল করছে।’এদিকে এক বার্তায় ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, অনিবার্য কারণবশত সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ আছে। তবে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশে ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে জানানো হবে।

post
এনআরবি বিশ্ব

ঢাকা থেকে হংকং যাওয়ার পথে বাংলাদেশি যাত্রীর মৃত্যু

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে হংকং যাওয়ার পথে ফ্লাইটের ভেতরে এক বাংলাদেশি যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ফ্লাইট মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় ৪৭ বছর বয়সী ওই যাত্রী আকস্মিকভাবে ঢলে পড়েন এবং পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় মৃত ওই বাংলাদেশি যাত্রীর ময়নাতদন্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে হংকং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে হংকংগামী ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মারা গেছেন ৪৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যাত্রী।হংকং পুলিশ জানিয়েছে, লোকটি বাংলাদেশের রাজধানী থেকে আসা সিএক্স৬৬২ ফ্লাইটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে বলে তারা বুধবার সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পরে খবর পেয়েছে। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলেই লোকটিকে মৃত ঘোষণা করেন জানিয়ে পুলিশ বলেছে, মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে স্থানীয় সময় রাত ২টায় ছেড়ে বুধবার সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটে হংকংয়ে পৌঁছায়।

post
এনআরবি বিশ্ব

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেবে কুয়েত

কুয়েতের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ফয়সাল মুতলাক আলাদওয়ানি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহী তার দেশ। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি এই কথা জানান। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রদূত তার দেশের এই আগ্রহের কথা জানান। প্রধান উপদেষ্টা কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করে বলেন, তিনি 'বাংলাদেশের চমৎকার বন্ধু' এবং আশা প্রকাশ করেন যে তিনি আগামী দিনেও তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ কুয়েতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে আশাবাদী। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বলেন, কুয়েতে তিন লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করছে এবং তার দেশ আরও বাংলাদেশি নিয়োগ দিতে আগ্রহী। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য কুয়েতে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা আরও ডাক্তার, নার্স এবং প্রকৌশলী নিতে চাই।' বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রতিরক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে সহযোগিতার কথা তুলে ধরা হয়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রতিক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কুয়েতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে জ্বালানি ও বিনিয়োগে বৃহত্তর সহযোগিতা কামনা করেন।

post
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র ভাইরাল, আওয়ামী লীগ বলছে ভুয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারত পালিয়ে যান। এরপরই প্রশ্ন ওঠে— তিনি কি পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন নাকি পদত্যাগ না করেই দেশ ত্যাগ করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত পদত্যাগপত্রের কোনো ছবি অফিসিয়ালি প্রকাশ্যে আসেনি। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় জানান, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। এ পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত একটি পদত্যাগপত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এটি ভুয়া বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ কথা জানানো হয়। পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়।আওয়ামী লীগের সেই পোস্ট পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো— দেশের টিভি চ্যানেলের ফেসবুকে এরকম অপরিপক্ব এডিটেড কোনো পদত্যাগপত্র প্রকাশ, একটি দৈন্যতা মাত্র। কেন এই পদত্যাগপত্র ভুয়া? ১. তারা ভুলে এখনও মুজিববর্ষ লোগো লাগিয়ে রেখেছে, যেই মুজিববর্ষ ২০২১ সালে শেষ! ২. লক্ষ্য করুন ভুয়া এই পদত্যাগপত্রটি অত্যন্ত অস্পষ্ট। ৩. পদত্যাগপত্রের ভাষা দেখুন, যা মন চায় তারা একটা কিছু লিখে পাবলিশ করে দিলো। ৪. শেখ হাসিনার স্বাক্ষরটিও গুগল থেকে নিয়েছে, যাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মূল পেজের সঙ্গে স্বাক্ষরের অংশের পিক্সেলের পার্থক্য। ৫. ৫ আগস্ট ছিল ২১ শ্রাবণ, পদত্যাগপত্রে দেওয়া ২০ শ্রাবণ! দেশের মিডিয়াকে এরকম নগ্নভাবে ব্যবহার করে নিজেদের হাসির পাত্র বানাবেন না। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার যে আনুষ্ঠানিকতা সেই সময় নেননি, তিনি সোজা তেজগাঁও থেকে বিমানে করে ভারতে গেছেন। এসব বাদ দিয়ে বরং দেশের সমস্যা সমাধান করুন। যদি শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র দিয়েই থাকেন গুজব বা ফেক কিছু না পাবলিশ করে, সত্য কিছু পাবলিশ করুন। ইন্টারনেটের এই যুগে মানুষ সব বুঝে, ভুয়া কিছু মুহূর্তে যেমন ছড়ায়, সত্যও খুব দ্রুত বের হয়ে আসে।

post
লাইফ স্টাইল

সহজ উপকরণ দিয়ে দাঁত কীভাবে ঝকঝকে সাদা করবেন

আকর্ষণীয় হাসির জন্য ঝকঝকে সাদা দাঁতের বিকল্প নেই। ঝকঝকে দাঁত ব্যক্তিত্বে আনে বলিষ্ঠতা। চাইলেই কিন্তু হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে দাঁত ঝকঝকে সাদা করে ফেলতে পারেন। এতে বাড়তি খরচের হ্যাপাও নেই। জেনে রাখুন বিস্তারিত।বেকিং সোডা বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাইকার্বনেটে আছে পরিষ্কারক গুণাবলি। এটি দাঁত থেকে চা–কফির দাগ দূর করতে বেশ কার্যকর। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে বেশ পরিচিত। এ ছাড়া দাঁত সাদা করতেও ব্যবহার করা হয়। হাউড্রোজেন পার–অক্সাইডে ব্যাকটেরিয়া–গুণও আছে। তাই এটি দিয়ে গরগরা করলে গলাব্যথা দূর হয়। মাড়ির প্রদাহ দূর করতেও কার্যকর। তবে এটি ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি, ব্যবহারের সময় গিলে ফেলা যাবে।দাঁত সাদা করতে যেভাবে বেকিং সোডা ও হাইড্রোজেন পার–অক্সাইড একসঙ্গে ব্যবহার করবেন উপকরণ ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা ২ টেবিল চামচ হাইড্রোজেন পার–অক্সাইডের ৩ শতাংশ দ্রবণ মিশ্রণ তৈরির জন্য ১টি গামলা বা বাটি ১টি টুথব্রাশ মিশ্রণ তৈরি ২ টেবিল চামচ হাইড্রোজেন পার–অক্সাইডের ৩ শতাংশ দ্রবণ একটি গামলা বা বাটিতে নিয়ে তাতে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা যোগ করুন। এরপর পেস্টের মতো যৌগ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত মাখাতে থাকুন। যদি মনে হয়, মিশ্রণটি বেশ পাতলা হয়ে গেছে, তাহলে তাতে আরও বেকিং সোডা যোগ করুন। এভাবে একটি পেস্টের মতো মিশ্রণ তৈরি করুন। ব্রাশ করুন পেস্টের মতো মিশ্রণটি টুথব্রাশে লাগিয়ে ব্রাশ করুন। তবে খুব বেশি জোর খাটিয়ে ব্রাশ করবেন না। ধীরে ধীরে কবজি বৃত্তাকার ঘুরিয়ে ব্রাশ করুন। বেকিং সোডা এমনিতেই পরিষ্কারক, তাই জোরে ব্রাশ করার প্রয়োজন হবে না। কুলকুচি করুন দুই মিনিট ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। মুখের ভেতরে যেন পেস্টটি থেকে না যায়। এরপর ভালোভাবে টুথব্রাশটিও ধুয়ে ফেলুন। ধারাবাহিকতা ধরে রাখুন সপ্তাহে কমপক্ষে দু–তিনবার এভাবে ব্রাশ করুন। এতেই উপকার পাবেন। তবে খুব বেশি করতে যাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে। মাড়ির প্রদাহ হতে পারে।

post
বাংলাদেশ

নারী মৈত্রীর চাকরি মেলায় তরুণ নারীদের ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত

নারী মৈত্রী, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এবং SUF-এর সহযোগিতায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে এক যুগান্তকারী চাকরি মেলার আয়োজন করেছে। এই মেলায় ৪০০ এর অধিক তরুণী অংশগ্রহণ করে এবং ৩০ টিরও বেশি নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করে। এই উদ্যোগ শহর ও আশেপাশের অঞ্চলের তরুণীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।এই চাকরি মেলা ছিল নারী মৈত্রীর "তরুণ নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে (ওয়াইডব্লিউইই)" প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই বছরব্যাপী এই প্রকল্পের আওতায় ৭২০ জন তরুণীকে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের বিকাশ এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এই প্রকল্প তরুণীদের কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করেছে।অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি সহ আরও অনেক সম্মানিত অতিথি।তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালক (কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন) এস এম শাজাহান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিরাজ চন্দ্র সরকার, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি ডিরেক্টর রিফাত বিন সাত্তার, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা/শিশু দারিদ্র্য পরিচালক তানিয়া শারমিন এবং SUF বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। তাদের উপস্থিতি তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতার প্রতি সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করেছে।ওয়ালটন, প্রান আর-এফ-এল, ওপেডিয়া টেকনোলজিস,সিমেক,প্রিয় শপ, নিটল - নিলয় গ্রুপ, বাংলাদেশ আইটি, মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলি চাকরি মেলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। তারা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে এবং যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির প্রস্তাব প্রদান করে।ওপেডিয়া টেকনোলজিসের সিইও নাজমুল হাসান রিফাত এবং বাংলাদেশ আইটি-এর সিইও এ.কে. মহিবুর রহমান, তরুণীদের দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।নারী মৈত্রী তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন করার জন্য অংশগ্রহণকারী নিয়োগকর্তাদেরকে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (CSR) পুরস্কার প্রদান করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।এই মেলার মাধ্যমে তরুণ নারীরা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছে এবং কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস পেয়েছে। নারী মৈত্রী বাংলাদেশের তরুণ নারীদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করে একটি সমতাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখছে।

post
সংবাদ

কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢামেকে নার্সদের মানববন্ধন

সম্প্রতি নার্সিং পেশা ও নার্সদের নিয়ে কটূক্তি করেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাকসুরা নূর। তার এ বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মানববন্ধন করেছেন নার্সরা। এ সময় তারা কর্মবিরতিরও হুমকি দেন।শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে ঢামেকের সামনে তারা এ মানববন্ধন করেন। সমাবেশে বক্তারা তাদের এক দফা দাবি পূরণের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তাদের দাবি হচ্ছে— নার্সিং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্ট্রার পদে উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নার্সদের নিয়োগ দিতে হবে।আন্দোলনকারী নার্সরা জানান, পূর্বে এই দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ১২ সেপ্টেম্বর পুনরায় একজন নন-নার্স প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রার পদে পদায়ন করা হয়েছে, যা নার্সদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ (শনিবার) দেশব্যাপী সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নার্সরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন। নার্সদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আগামীকাল ১৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে তারা কর্মবিরতির মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নার্সদের অভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হতে পারে, যা দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর মাকসুরা নূর নার্সদের পেশাকে হেয় করে বক্তব্য দেন। যেখানে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নার্সদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদানকে ‌‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নার্স সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে, যা ৯ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলনে রূপ নেয়।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.