নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ১২ তম এনআরবি অ্যাওয়ার্ড
নিউইয়র্কে এনআরবি অ্যাওয়ার্ডস আয়োজনে পুরষ্কৃত হলেন এখানকার সেই মানুষগুলো যারা দেশ ছেড়ে সুদুরে এসে সমাজের নানা খাতে রেখে চলেছেন অবদান। এদের কেউ চিকিৎসক, কেউ আইনজীবী কেউ বা সফল উদ্যোক্তা। এরা সকলেই স্রেফ নিজের নয়, কমিউনিটির জন্য বয়ে এনেছেন সুনাম।এমনই নন-রেসিডেন্সিয়াল বাংলাদেশিকে সংবর্ধনা ও অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হলো নিউইয়র্কের উডসাইডে কুইন্স প্যালেসে। নিউইয়র্কে শোটাইম মিউজিকের দ্বিতীয় সিগনেচার প্রোগ্রাম এই ‘এনআরবি অ্যাওয়ার্ড’।জমকালো সেই আসরে জমজমাট সন্ধ্যাটি হয়ে উঠেছিলো বাংলাদেশময়। কেবল পুরষ্কার তুলে দেওয়া নয়, নাচে গানে ভরপুর ছিলো সে আয়োজন। পুরষ্কৃতরা তাদের পুরস্কার নিচ্ছিলেন আর একে একে জানাচ্ছিলেন তাদের প্রতিক্রিয়া। সকলের মুখেই ছিলো আয়োজকদের প্রশংসা। এটি ছিলো এই আয়োজনের ১২তম আসর। সেখানে যারা পুরষ্কৃত হয়েছেন, জয়ী হয়েছেন এনআরবি অ্যাওয়ার্ডস তারা বলছিলেন, প্রতিবছর তারা এই অ্যাওয়ার্ডের দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। আর এই অপেক্ষায়ও থাকেন কারা হচ্ছেন নতুন বছরের অ্যাওয়ার্ড জয়ী। এবারের আয়োজনে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয় ও পুরষ্কৃত করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপকে। তিনি এই অ্যাওয়ার্ড নিয়ে বক্তৃতায় বলেন, "এই দেশে বাংলাদেশিরা এখন চিকিৎসা, প্রকৌশল, আইন পেশায় অনেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু এখনো এখানে আমাদের সামনের রয়েছে অপার সুযোগ। সেই সুযোগগুলো আমাদের কাজে লাগাতে হবে।" নিজের প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ মাত্র। আবুবকর হানিপ বলেন, এদেশে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। প্রতিবছর এইচওয়ানবি ভিসার মাধ্যমে তাদের আনার চেষ্টা করা হয়। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতেই সচেষ্ট রয়েছি। পরে এনআরবি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার তুলে দেন আবুবকর হানিপ। আয়োজক প্রতিষ্ঠান শোটাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম বলেন, এই দেশে যারা তাদের দক্ষতা যোগ্যতা দিয়ে উপরে উঠতে পেরেছে তাদের স্বীকৃতি দিতেই এই পুরষ্কারের আয়োজন। এর মাধ্যমে আরও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে পুরস্কার দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ছিলো নাচ ও গানের আয়োজন। যা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন দর্শকরা। জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা আব্দুন নূর সজল, অভিনেত্রী ও মডেল পিয়া বিপাশা, চিত্রনায়িকা শিরীন শীলী ও অধরা খান ছিলেন সে অনুষ্ঠানে। প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন শিমুল খান, চন্দন চৌধুরী, রানো নেওয়াজ, কামরুজ্জামান বকুল, শামীম সিদ্দিকী, তৃণিয়া হাসান, অনিক রাজ প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশনা ও ফ্যাশন শো’তে অংশ নেয় মাজিদ ডিজায়ার। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বেশকয়েকজন শিল্পীও এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সবশেষ ছিলো বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বর্তমানে নিউইয়র্ক প্রবাসী কনকচাঁপার গান। তার মধুর কণ্ঠে গাওয়া তিনটি গানই দর্শককে মুগ্ধ করে। আমার সোনার ময়না পাখি... কোনবা দোষে গেলি উইড়ার দিয়া মোরে ফাঁকি এই গান সকলের প্রাণ ছুয়ে যায়। অনুষ্ঠান স্থলে সৃষ্টি হয় ভালোলাগার আবেশ। যা হৃদয়ে ধারণ করে ঘরে ফেরেন সকলে
