post
বাংলাদেশ

‘নিজের নিরাপত্তা’ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পিটার হাসের জরুরি বৈঠক

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তার নিরাপত্তা জনিত বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেছেন যেখানে পিটার হাস তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।গত বুধবার (ডিসেম্বর) সকালে শাহীনবাগে প্রায় এক দশক ধরে নিখোঁজ বিএনপির নেতা সাজেদুল ইসলামের বাসায় যান পিটার হাস। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় বাসার বাইরে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র সাংবাদিক জানান, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বৈঠক শেষ না করেই সাজেদুলদের বাসা থেকে চলে আসেন পিটার হাস। বিষয়টি তাঁরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানিয়েছেন। শাহীনবাগ থেকে আসার পর দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত জরুরি ভিত্তিতে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বললেন যে তিনি এক বাসায় গিয়েছিলেন, আর সেখানে যখন গিয়েছেন, কিন্তু বাইরে বহু লোক ছিল। তারা উনাকে কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। উনার সিকিউরিটির লোকেরা উনাকে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তারা বলেন যে ‘‘ওরা আপনার গাড়ি ব্লক করে দেবে’’। সেই নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা থেকে তিনি তখন তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে গেছেন। এবং এতে তিনি খুব অসন্তুষ্ট হয়েছেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি উনাকে (রাষ্ট্রদূত) বললাম যে আপনার নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব আমাদের। আপনার ওপর বা আপনার লোকের ওপর কেউ আক্রমণ করেছে? উনি বললেন যে, ‘‘না’’। তবে উনি বললেন যে, উনার গাড়িতে হয়ত দাগ লেগেছে। তবে এটা শিওর না। আমি বললাম, আপনার লোকদের নিরাপত্তা আমি দেব। আপনি যদি অধিকতর নিরাপত্তা চান আমরা দেব।’

post
এনআরবি বিশ্ব

বসনিয়া থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জঙ্গল দিয়ে বাংলাদেশিদের ইউরোপযাত্রার খবর কয়েক বছর ধরে সামনে আসছে। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে দেশটির জঙ্গলে বাংলাদেশিদের আটকে পড়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। ফলে বসনিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীর তালিকায় বাংলাদেশের নামও উঠে এসেছে। বিষয়টি বসনিয়াকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। তাই তারা এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশকে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধ করেছে।বসনিয়ায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অভ্যর্থনাকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজারের মতো অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী অবস্থান করছেন। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি সূত্র চলতি সপ্তাহে বসনিয়া থেকে এসব তথ্য জানিয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের বিষয়টি সুরাহার জন্য গত মাসের শেষ দিকে বসনিয়ার নিরাপত্তামন্ত্রী সেলমো সিকোটিচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে চিঠি দিয়েছেন।ইউরোপের একাধিক দেশে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন থেকে চার বছর ধরে ইউরোপে যেতে অনেক বাংলাদেশি বসনিয়া ও স্লোভেনিয়া যাত্রা করছেন।ইউরোপের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম বলকানের দেশগুলোকে ব্যবহার করে ইউরোপে মানব পাচারের বিষয়টি প্রথম বড় পরিসরে আলোচনায় আসে ২০১৫ সালে। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে ৬১ হাজারের বেশি ব্যক্তি পশ্চিম বলকান অঞ্চলের ছয়টি দেশের মাধ্যমে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে।অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া বা স্লোভেনিয়া-ক্রোয়েশিয়া হয়ে উঠেছে ইউরোপে মানব পাচারের অন্যতম পথ (রুট)। মানব পাচারকারী চক্রগুলো লোকজনকে বিভিন্নভাবে ক্রোয়েশিয়া হয়ে বসনিয়া বা স্লোভেনিয়ায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিসহ ইউরোপের সমৃদ্ধ দেশগুলোতে পাঠাতে ভাগ্যান্বেষী এসব মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় নামায় মানব পাচারকারীরা। মানব পাচারকারীরা পশ্চিম বলকানের যে ছয়টি দেশের রুট ব্যবহার করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে পাচার করে থাকে, বসনিয়া তার অন্যতম। অপর পাঁচটি দেশ হলো—আলবেনিয়া, মন্টেনেগ্রো, কসোভো, উত্তর মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়া।২০২০ সালে বসনিয়ার জঙ্গলে কয়েকটি দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীর পাওয়ার খবর আসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এই দলে বাংলাদেশিরাও ছিলেন। এ নিয়ে বসনিয়ায় শোরগোল শুরু হয়। মূলত তখন থেকেই অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ শুরু করে বসনিয়া। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সাব্বির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বসনিয়া সফর করে। সে সময় বেশ কিছু বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির নামে ভ্রমণ পাস ইস্যু হয়। কিন্তু তাঁদের অর্ধেকের বেশি পালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশিকেই আর বসনিয়া থেকে ফেরত আনা হয়নি। এতে বসনিয়া হতাশ হয়।গত মাসের শেষ সপ্তাহে আব্দুল মোমেনকে লেখা চিঠিতে বসনিয়ার নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর দেশ সফর করেছিল। সে সময় সমস্যা সমাধানের উপায় চিহ্নিত করে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে বসনিয়ায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতির উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বসনিয়া সরকার চায়, বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল যেন সে দেশ সফর করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। লোকজনের পরিচয় যাচাই শেষে যেন তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র জারি করে। প্রতিনিধিদলের খরচ দেবে বসনিয়া বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বসনিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সে দেশে উপস্থিত বাংলাদেশির (অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী) সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বসনিয়ার অস্থায়ী অভ্যর্থনাকেন্দ্রে অবস্থানরত এসব লোকজনের সাক্ষাৎকারের পর তাঁদের বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। পশ্চিম বলকানের দেশটির মন্তব্য, অবৈধ পন্থায় ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী এসব লোকজন বসনিয়ার জন্য নানা মাত্রায় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বসনিয়ায় পৌঁছানো বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে পশ্চিম বলকানের দেশগুলোর একটি বিশেষায়িত কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে ডেনমার্ক। বাংলাদেশিদের ফেরত আনার বিষয়ে বসনিয়া সফরের জন্য কোনো প্রতিনিধিদল ঢাকা থেকে গেলে তাদের আকাশপথে যাওয়া-আসার ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সারায়েভো।

post
খেলা

মরক্কোকে বিদায় করে ফাইনালে ফ্রান্স

দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় চেষ্টা করেও যা করতে পারেনি মরক্কো, বদলি হিসেবে মাঠে নামার ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে সেটিই করে ফেললেন ফ্রান্সের রান্দাল কোলো মুয়ানি। উসমান দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই গোল পেয়ে গেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। কিলিয়ান এমবাপ্পের শট মরক্কোর এক খেলোয়াড়ের শরীরে বাঁধা পেলেও চলে যায় ডান পাশে ফাঁকায় দাড়ানো মুয়ানির কাছে। ঠাণ্ডা মাথায় ফ্রান্সের জার্সিতে প্রথম গোলটি করতে ভুল করেননি মাত্রই চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামা মুয়ানি। আর এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় টানা দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা। আল বায়ত স্টেডিয়ামে কাতার বিশ্বকাপের চমক মরক্কোকে ২–০ গোলে হারিয়ে ৬০ বছরের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ে খুব কাছে চলে গেল ফরাসিরা। আগামী রোববার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স সেই কীর্তি গড়তে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। এমবাপ্পে অবশ্য আজ গোল পাননি। মুয়ানির আগে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রথম গোলটি থিও এরনান্দেজের।সেমিফাইনালের আগে মাত্র একটি গোল খাওয়া মরক্কোর দুর্ভেদ্য রক্ষণ দুর্গ জয় করতে মাত্র ৫ মিনিট লাগে ফ্রান্সের। গোলের উৎস সেই আঁতোয়ান গ্রিজমান। ডান প্রান্ত থেকে মরোক্কান ডিফেন্ডার জাওয়াদ আল ইয়ামিককে ফাঁকি দিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ক্রস বাড়ান ফরাসি ফরোয়ার্ড। প্রথম শটটা মরোক্কান রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের গায়ে লেগে ফেরত আসে এমবাপ্পের কাছে। ফিরতি শট আরেক ডিফেন্ডারে শরীরে লেগে চলে যায় বাঁ পাশে প্রায় ফাঁকায় দাড়ানো থিও এরনান্দেজের কাছে। বাঁ পায়ের দারুণ এক ভলিতে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ও জাতীয় দলের জার্সিতে দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান ফ্রান্স ডিফেন্ডার। মিনিট পাঁচেক পরেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। মিডফিল্ডার আজেদিন উনাহির ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট বাঁয়ে ঝাপিয়ে রুখে দেন ফ্রান্স অধিনায়ক উগো লরিস। ১৭তম মিনিটে আবার সুযোগ নষ্ট হয় মরক্কোর। এবার আর লরিসের পরীক্ষা নিতে পারেননি হাকিম জিয়েশ। ডান প্রা্ন্ত দিয়ে এগিয়ে যাওয়া চেলসি তারকার শট চলে যায় বাইরে। জিয়েশ সুযোগ নষ্ট করতে না করতেই ব্যবধানটা দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল ফরাসিরা। একটা লং পাস ধরে অলিভিয়ের জিরুর নেওয়া হাফ ভলি প্রতিহত হয় সাইড বারে। এর মিনিট চারেক পরেই জিয়েশের হাতে অধিনায়কের বাহুবন্ধনী দিয়ে মাঠ ছাড়েন চোটের সঙ্গে লড়া অধিনায়ক রোমেইন সাইস। কোয়ার্টার ফাইনালে পাওয়া চোটটাই মাঠ ছাড়তে বাধ্য করে তাঁকে। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগেও চোটের কাছে হার মেনে একাদশ থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন মরক্কোর আরেক খেলোয়াড় নায়েফ আগুয়ের্দ।২১ মিনিটের মধ্যেই মূল দুই খেলোয়াড়কে হারিয়ে ফেলা মরক্কোকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে ফেলার সুযোগ ফরাসিরা পেয়ে গিয়েছিল মিনিট ১৫ পরেই। এমবাপ্পে ও জিরু কী করে যেন সেই সুযোগ নষ্ট করলেন । অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির চুলচেরা পাস মরক্কোর বক্সে খুঁজে নেয় এমবাপ্পেকে। মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে ফাঁকি দিতে পারলেও এল ইয়ামিক ফিরিয়ে দেন সেই শট। ফরাসিরা একটু পরেই বলের দখল পেলেও জিরুর ১২ গজি শট চলের যায় বাইরে। এই ব্যর্থতার মাশুল প্রথমার্ধেই গুনতে বসেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রান্সকে চেপে ধরে মরোক্কানরা। ৪৪ মিনিটে কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অল্পের জন্যই নাম লেখাতে পারেননি এল ইয়ামিক! জিয়েশের কর্নার ফ্রান্স গোলরক্ষকের হাত ঘুরে চলে যায় পেনাল্টি বক্সের মাথায় দাঁড়ানো মরোক্কান ডিফেন্ডার কাছে। পুরো শরীর শূন্যে ভাসিয়ে অ্যাক্রোবেটিক ভঙিতে ওভারহেড কিক নিলেন ইয়ামিক। পুরো শরীর ডানে ভাসানো লরিসের হাতের হালকা ছোঁয়া লেগে বারে লাগল বল। বিরতির পরও বারবার চ্যাম্পিয়নদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছে মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিট বল তো ছিল ফ্রান্সের সীমানাতেই। এক আক্রমণেই একাধিকবার গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মরোক্কানরা। ৫৪তম মিনিটের সেই আক্রমণে একবার রাফায়েল ভারান ও আরেকবার ইব্রাহিমা কোনাতে রক্ষা করেন ফ্রান্সকে। দু মিনিট পর আবার গোলের সুযোগ মরক্কোর, এবার আক্রমণ ছেড়ে রক্ষণে দলকে বাঁচান গ্রিজমান। ৭৫ মিনিটেও দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করে মরক্কো্। এবারও সময়মতো শট নিতে পারেনি দলটি। এ সব সুযোগ হারানোর আক্ষেপ নিয়েই শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে অ্যাটলাসের সিংহদের।

post
বাংলাদেশ

'ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিহত দুই বন্ধু খেলা দেখতে টিএসসিতে যাচ্ছিলেন'

রাজধানী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের রাসেল স্কয়ারের সামনে বেপরোয়া ট্রাকচাপায় রিকশার দুই আরোহী নিহতের ঘটনায় মামলা হলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি। নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন রিকশার যাত্রী মো. জাকির হোসেন (৩৫) ও জন বিশ্বাস (৩৮)। নিহত জাকিরের মামা আবদুর রহিম জানান, রাতে বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য বন্ধুর সঙ্গে রিকশায় করে টিএসসিতে যাচ্ছিল জাকির। পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিনহাজ। মামলায় আসামি করা হয়েছে ট্রাকচাপায়চালক ও সহকারীকে। ট্রাক চালকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চালক-সহকারীকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।নিহত জাকিরের মামা মো. আবদুর রহিম বলেন, জাকির সাকসেস ডেন্টাল ল্যাবের টেকনিশিয়ান ছিল। রাতে বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য দুই বন্ধু টিএসসিতে যাচ্ছিল। পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসে মরদেহ দুটি শনাক্ত করি ।তিনি জানান, জাকিরের বাড়ি দিনাজপুরের খানসামা থানার গোয়ালডিহি গ্রামে। বর্তমানে সে রাজধানীর আদাবর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। নিহত জন বিশ্বাসের ফুফাতো ভাই রাজু জানান, জনও সাকসেস ডেন্টাল ল্যাবের ল্যাবরেটরির টেকনিশিয়ান ছিলেন। খুলনা জেলার দাকোপ থানার লাউডোব গ্রামে তার বাড়ি। তারা দুই বন্ধু একসঙ্গে আদাবরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কলাবাগান থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিনহাজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাতে রাসেল স্কয়ার মোড় এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, রিকশাযোগে খেলা দেখতে যাওয়ার পথে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুজন গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রিকশাচালকসহ আরও একজন আহত হয়েছেন।

post
বাংলাদেশ

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় প্রথমে রাষ্ট্রপতি, পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময়ে বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখবর নেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এ ছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

post
বাংলাদেশ

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ সম্পর্কে যা বললেন মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস আগামী ২৬-শে মার্চের মধ্যেই শহিদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।বুধবার রায়েরবাজারে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হয়েছেন। সমাজে সবাই বুদ্ধিজীবী হন না। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করতে জাতীয়ভাবে কমিটি করা হয়েছে। একটি তালিকা করা হয়েছে। শতাধিক নতুন আবেদন পাওয়া গেছে। আশা করছি, ২৬ মার্চের মধ্যেই শহিদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারব। তিনি বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী কতটা নিষ্ঠুর, নির্মম ছিল, তা স্মৃতিসৌধে এলে বোঝা যায়। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে সুপরিকল্পিতভাবে জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। খুনিরা মনে করেছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও যেন দেশটা মেধাশূন্য থাকে— এ রাষ্ট্র যাতে ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী দল, তারা স্বাধীনতার সময় রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। তাই এ দেশে জামায়াতের রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না। এর আগে মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকাল ৭টায় প্রথমে রাষ্ট্রপতি, পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহিদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে কাজের সন্ধানে শ্রমের হাটে শত শত শ্রমিক

গ্রামে ঠিকমতো কাজ পাওয়া যায় না। মজুরিও কম। তাই পরিবারের অভাব-অনটন মেটাতে কাজের সন্ধানে নিজের জেলা ছেড়ে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও বাজারে জড়ো হন অনেক শ্রমিক। এ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালান তাঁরা। এমন এক শ্রমিক সুভাষিণী। তিনি কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। কাজ খুঁজতে স্বামী-সন্তানসহ তিনি এক মাস ধরে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর শ্রমের হাটে আসেন। শুধু সুভাষিণী নন, তাঁর মতো এমন সাত থেকে আট শ নারী ও পুরুষ শ্রমিক রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে আসেন কাজের সন্ধানে।সুভাষিণী বলেন, ছয় বছর ধরে এই হাটে তাঁরা শ্রম বিক্রির জন্য আসেন। কৃষিজমি পরিষ্কার, আলু লাগানোসহ দিন চুক্তিতে সব ধরনের কৃষিকাজ করেন তাঁরা। ছয় মাস চলে তাঁদের কাজ। যে টাকা আয় হয়, সেটা দিয়ে সারা বছর সংসার চালান তাঁরা। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মুন্সিগঞ্জ আলুর জন্য নাম করেছে। প্রতিবছর কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ টঙ্গিবাড়ী উপজেলায়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলু আবাদ ও উত্তোলন করতে হয়। এ জন্য অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। তবে মুন্সিগঞ্জে চাহিদার তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা ছিল কম। আর উত্তরাঞ্চলের মানুষের ছিল কাজের অভাব। ২০ বছর আগে চাহিদা ও জোগানের একটা সমন্বয় হয়। উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকেরা এদিকে আসতে শুরু করেন শ্রম বিক্রির জন্য। প্রথম দিকে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক এখানে আসতেন। পরে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১০ বছর আগে এই সংখ্যা বেড়ে দুই থেকে তিন হাজার হয়ে যায়। তবে কৃষিজমি ও কাজ কমতে শুরু করায় হাটে শ্রমিক আসা কমে গেছে। এখন সাত থেকে আট শ শ্রমিক প্রতিদিন এখানে শ্রম বিক্রি করতে আসেন। বালিগাঁওয়ের অদূরেই আউটশাহী ইউনিয়ন। সেই ইউনিয়নের বরুন্ডা গ্রাম থেকে শ্রমিক নিতে এসেছেন আলী আজগর। তিনি বলেন, আলুর জমি প্রস্তুত করার জন্য ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক দরকার। একসঙ্গে এত শ্রমিক শুধু এই হাটেই পাওয়া যায়। দিনপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পারিশ্রমিকে একেকজন শ্রমিক পাওয়া যায়। তাই ১০ বছর ধরে ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই হাটে এসে শ্রমিক নিয়ে যান তিনি। আজ বুধবার ভোরে বালিগাঁও বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাজারের সামনে মুন্সিগঞ্জ-বালিগাঁও-লৌহজং সড়কের দুই পাশে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন শ্রমিক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী। স্থানীয় কৃষকেরা এসব শ্রমিকদের মধ্য থেকে দরদাম করে জমির কাজের জন্য শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক শ্রমিক দিন চুক্তিতে কাঙ্ক্ষিত মূল্যে কাজ করতে দর–কষাকষি করছেন। কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের কাজের চাহিদা থাকে। এই সময় তাঁরা বালিগাঁও ও আশপাশের খুপরি, স্কুলের বারান্দা, নদীর পাড়ে অস্থায়ী বসতি করে থাকেন। আলুর জমি প্রস্তুত, আলু লাগানো ও আলু তোলার কাজ শেষ করে মুন্সিগঞ্জ থেকে চলে যান। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মঞ্জু রানী বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেশি। পেটের দায়ে কাজ করতে মুন্সিগঞ্জে এসেছি। এখানেও কাজের চাহিদা কমে গেছে। গত বছর দিনভিত্তিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি পেলেও এবার ৩০০ টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।’ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর এলাকার বাসিন্দা রাসেল। সস্ত্রীক বালিগাঁওয়ে কাজের সন্ধানে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগে তাঁরা শ্রম বিক্রির হাটে এসে বসে থাকেন। কখনো কাজ পান, কখনো পান না।

post
খেলা

বিশ্বকাপ জয়ের জন্য সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে মেসির দল

আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি জানান, ফাইনালে নিজেদের সবটুকু দিয়ে ৩৬ বছরের অধরা স্বপ্ন স্পর্শ করতে মরিয়া আর্জেন্টিনা, 'আমরা মাত্র এক ধাপ দূরে আছি। আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য খেলব।'স্মরণীয় ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম দারিও দেপোর্তিভো ওলেকে মেসি বলেন তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের কথা, 'এটা (ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা) অর্জন করতে পারায় আমি খুবই খুশি। ফাইনালে শেষ ম্যাচ খেলে আমার বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টানব। পরের বিশ্বকাপের এখনো অনেকটা বাকি। আমার মনে হয় না আমি সেটায় থাকতে পারব। কাজেই এভাবে শেষ করতে পারাই হবে সেরা।' এদিকে, আগামী রোববার কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে তার শেষ ম্যাচ। অর্থাৎ আর কোনো বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যাবে না সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে। তবে আর্জেন্টিনার হয়ে এরপর আর কোনো ম্যাচ খেলবেন কিনা তা পরিষ্কার করেননি তিনি। লুসাইল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করার পর তিন নম্বর গোলটিও বানিয়ে দেন মেসি। এই ম্যাচে তিনি গড়েন একাধিক রেকর্ড। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে (২৫ ম্যাচ) জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসকে স্পর্শ করেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করায় (১১ গোল) তিনি ছাড়িয়ে যান গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে। মরক্কো ও ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল আগামী রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।

post
বাংলাদেশ

রাজধানীতে ট্রাক চাপায় ২ জন নিহত, আহত ২

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় কাভার্ডভ্যান চাপায় দুই জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে এনআরবিসি টিভিকে নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম।তিনি বলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রধান সড়কে বেপরোয়া গতিতে চলা একটি কাভার্ডভ্যান দুটি রিকশাকে চাপা দেয়। রিকশা দুটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই দুই জন মারা গেছেন। এছাড়া দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, 'আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি হতাহতরা রিকশা দুটির চালক ও যাত্রী। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার পর ঘাতক কাভার্ডভ্যানের চালক পালিয়ে গেছেন। তবে ভ্যানটি আমরা জব্দ করতে পেরেছি

post
এনআরবি সাফল্য

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক পদে প্রার্থী হলেন সায়মা ওয়াজেদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক দপ্তরে আঞ্চলিক পরিচালক পদে প্রার্থী হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।ডব্লিউএইচও-এর এই অঞ্চলের ১১টি সদস্য রাষ্ট্র নির্বাচনে ভোট দেবে। এই পদে নেপালও প্রার্থী দিবে বলে ঘোষণা করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলটি হলো ডব্লিউএইচও-এর ছয়টি অঞ্চলের অন্যতম। এ অঞ্চলে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর এক-চতুর্থাংশের বসবাস। অঞ্চলটির প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও-এর আঞ্চলিক দপ্তর কাজ করে। পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং একজন ভারতীয় নাগরিক। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ডব্লিউএইচও-এর নির্বাহী বোর্ড ১৪৪তম অধিবেশনে ২০১৯ সালের ২৬ জানুয়ারি তাকে নিয়োগ দেন। ড. ক্ষেত্রপাল সিং এই পদে প্রথম নারী। বাংলাদেশের প্রার্থী সায়মা ওয়াজেদ একজন অটিজম অ্যাক্টিভিস্ট। তিনি ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়বিক জটিলতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ করছেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল মনস্তত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা। সায়মা ওয়াজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী নেপালের প্রার্থী জেনেভায় ডব্লিউএইচও সদর দপ্তরে কর্মরত সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা। ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১১টি সদস্য দেশ হলো বাংলাদেশ, ভুটান, উত্তর কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.