post
বিনোদন

অস্ট্রেলিয়ায় আড্ডায় মেতেছেন বাংলাদেশের তারকারা

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার বসবাস করছেন। মাঝেমধ্যে দেশে ফিরলেও তিনি সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। সিডনিতে থেকেই ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকেন। মাস খানেক আগে সেখানে উড়ে গেছেন তারকা দম্পতি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নুসরাত ইমরোজ তিশা। সঙ্গে তাদের কন্যা ইলহাম। সেখানে এক আড্ডায় মেতেছেন তারা। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সেই আড্ডার কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন শাবনূর। তাতে দেখা গেলো, একটি রেস্তোরাঁয় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তারা। সবাই একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও সেরেছেন।পোস্ট করা ছবির ক্যাপশনে শাবনূর লিখেছেন, শুধুমাত্র একটি শব্দ-আড্ডা। সেই পোস্টে সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার নামের এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সেরা দুই রমণীকে জানাই হাজার হাজার ফুলের শুভেচ্ছা।’ মাহমুদুল হাসান নামের আরেকজনের ভাষ্য, ‘অত্যন্ত ভালো দুজন অভিনেত্রী। ভালো থাকুন।’অস্ট্রেলিয়ায় শাবনূরের সঙ্গে আড্ডায় বিষয়ে ফারুকী বলেন, ‘এটা একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডা। আমরা সিডনিতে একটি পারিবারিক সফরে ছিলাম। আর তিনি (শাবনূর) আগে থেকেই এখানে ছিলেন। সেই সুবাদে আমরা একসঙ্গে ডিনার করেছি।’

post
বিনোদন

কানাডায় নৃত্যানুষ্ঠানে বাংলাদেশি দুই খুদে শিল্পীর অংশগ্রহণ

কানাডার ক্যালগেরির পাম্পহাউস থিয়েটারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী নৃত্যানুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরাও অংশগ্রহণ করেছে। আলবার্টা-ডান্স থিয়েটারের উদ্যোগে আয়োজিত নৃত্যানুষ্ঠানটি কানাডার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ ডিসেস্বর) থেকে শুরু হয়ে শনিবার (৩ ডিসেম্বর) শেষ হবে।তিন দিনব্যাপী নৃত্যানুষ্ঠানে ক্যাথেরিন এগানের উপন্যাস অবলম্বনে সেনেকস এ অংশগ্রহণ করছে ক্যালগেরির বিভিন্ন শহর থেকে আসা কিশোর-কিশোরীরা। আর এতে যোগ দিয়েছে কানাডায় প্রবাসী বাংলাদেশি দুই খুদে নৃত্যশিল্পী সহোদরা প্রার্থনা এবং প্রকৃতি। তাদের অসাধারণ নৃত্য পরিবেশনায় বিমোহিত হন দর্শকরা। নৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দুই খুদে নৃত্যশিল্পীর মা জেবুন্নিসা চপলা বলেন, গত ৪ মাস ধরে নৃত্যশিল্পীরা একত্রিত হয়ে ৭-৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অনুশীলন করেছে, এছাড়াও থিয়েটার কোম্পানিটি এই প্রোডাকশনটির জন্য সপ্তাহব্যাপী নৃত্য শেখাবার জন্য শহরের অদূরে ক্যাম্পিংয়েরও আয়োজন করে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, আমাদের নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা বেশি বেশি করে বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আমাদের লাল সবুজের পতাকার মানকে বিদেশের মাটিতে সমুন্নত রাখুক।

post
বিনোদন

ওমরাহ পালন করছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ

মক্কা পরিদর্শন এবং ওমরাহ পালন করেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। কিং খানের নতুন সিনেমা ‘ডানকি’। এই সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন সৌদি আরবে। তাই শুটিং শেষে তার মক্কায় ওমরাহ পালন।শাহরুখ টুইটারে সৌদি আরবে শুটিং শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর এই খবর আসে। এক ভিডিওতে তিনি সিনেমার কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানান। শাহরুখ খান আরও জানান, সৌদি আরবে সুন্দর শুটিং হয়েছে। ‘দর্শনীয় লোকেশনে’ শুটিং করতে দেওয়ার জন্য তিনি সৌদি আরবের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ডানকি ছাড়াও, শাহরুখ খান তার ছবি ‘জওয়ান’ এবং ‘পাঠান’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

post
বিনোদন

শুক্রবার আমেরিকায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দামাল’

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ভারতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিম সেসময়ে জনমত সুসংগঠিত করার পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহের অবিস্মরণীয় যে অবদান রেখেছিলো সে চিত্র তুলে ধরতে টিভি ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা গল্প অবলম্বনে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘দামাল’ ছবিটি ১৮ নভেম্বর শুক্রবার নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ সিটিতে একযোগে মুক্তি পাবে।এরপর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ সিটিতে। ছবিটির প্রিমিয়ার শো হচ্ছে ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সে ‘জ্যামাইকা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা’ হলে। এ উপলক্ষে ১৬ নভেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর আমেরিকাস্থ বায়োস্কোপ ফিল্ম’র কর্ণধার রাজ হামিদ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, আমেরিকা ও কানাডার প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি ছাড়াও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানরাও ছবিটি দারুনভাবে উপভোগ করতে সক্ষম হবেন। কারণ, ছবি চলাকালে স্ক্রিণে ইংরেজি অনুবাদ থাকবে। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, ২০১৭ সাল থেকে আমি উত্তর আমেরিকায় বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছি। বেশ কটি ছবি ব্যবসা সফল ছিল। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে। নির্মাতারা জীবন-ঘনিষ্ঠ স্ক্রিপ্ট রচনার পাশাপাশি পরিবারের সকলে একত্রে উপভোগ করা যায়-এমন ছবি নির্মাণে কথা ভাবছেন। অর্থাৎ প্রবাসের দর্শকগণের আবেগ-অনুভূতি গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন ছবি তৈরীর ক্ষেত্রে। গত ৫ বছরে এটাই বড় সাফল্য ‘বায়োস্কোপ ফিল্ম’র। আর এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে আমেরিকা আর কানাডার দর্শকদের। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, এ যাবত আমরা ২৮টি ছবি প্রদর্শন করেছি। দামাল হবে ২৯তম ছবি। সকলকে ছবিটি দেখার অনুরোধ রাখছি। আশা করছি, ভিন্ন মাত্রায় তৈরী ছবিটি সকলের ভালো লাগবে। বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো জনপ্রিয় করার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো পুনরায় চালুর জন্যে নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ হামিদ। তিনি বলেন, বায়োস্কোপের প্যারেন্ট অর্গানাইজেশন হচ্ছে ‘আমেরিকান’-বায়োস্কোপ এলএলসি ইউএসএ’। আমরা ২০২০ সালে ‘বায়োস্কোপ সাউথ আফ্রিকা’ নিবন্ধন করেছি। কিন্তু আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখনও সেটির কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। এ বছর আমরা ‘বায়োস্কোপ-কানাডা’ নিবন্ধন করেছি। এবং ‘পরাণ’ হবে ডিসেম্বরে বায়োস্কোপ কানাডার ব্যানারে প্রদর্শিত প্রথম ছবি। সামনের বছরের প্রথম দিকে আসবে ‘বায়োস্কোপ ডিভাইন’। কারণ আমরা ঐ মার্কেটেও ঢুকতে চাই। রাজ হামিদ উল্লেখ করেন, আমরা প্রথম যখন শুরু করি সে সময় অনেকে হাসাহাসি করেছেন। বলেছেন যে, কেন আমরা বাংলা ছবি নিয়ে এত মাতামাতি করছি। সময়ের পরিক্রমায় এখন ঐসব প্রবাসীরাই জানতে চান যে, পরের ছবি কোনটি আসছে। তারা দুয়েকটি ছবি আনার অনুরোধও জানাচ্ছেন। এখানেই বিরাট একটি প্রাপ্তি বলে মনে করছি। সংবাদ সম্মেলনে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের পক্ষে উত্তর আমেরিকাস্থ চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের ছবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে রিলিজ করার পদক্ষেপ নেয়ায় আমেরিকান বায়োস্কোপ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নির্বাহী সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজ সাম্মু, উত্তর আমেরিকাস্থ প্রথম আলোর সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন প্রমুখ।

post
বিনোদন

ওরা বাংলায় গান গায়, বাংলা গানে নাচে, ওরা বাংলা স্কুলে পড়ে

ওরা বাংলায় গান গায়... ওরা বাংলার গান গায়। ওরা নিজেকে বাংলায় খুঁজে পায়। ওরা হয়তো বাংলার মায়া ভরা পথে হাঁটেনি কখনো.. কিন্তু ওরা বাংলাকে ভালোবাসে। বাংলার হাত ধরে মানুষের কাছে আসে। কারণ ওরা বাংলা স্কুলে পড়ে।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ফলসচার্জ এলাকায় শনিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই বাংলাপ্রেমি, বাংলাপাঠী একগুচ্ছ শিশু-কিশোর-কিশোরীর মেলা বসেছিলো এখানকার জেমস লি কমিউনিটি সেন্টারে। এই শিশু-কিশোররা সকলেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি নতুন প্রজন্ম। এদের কেউ হয়তো প্রবাসে তৃতীয় প্রজন্মের, কেউ দ্বিতীয়। নিয়মিত স্কুলে ওদের বাংলা শেখার সুযোগ নেই। সাধারণ কথা যখন বলে তখন বোঝা যায় ওদের ভাষাটাই ইংরেজি। তারপরেও ওরা বাংলাকে ভালোবাসে। আর তাই ওরা বাংলাস্কুলে পড়ে। সেই পাঠে তাদের আত্মনিয়োজন আছে। আছে ভালোবাসা। তারই স্বীকৃতি দিতে জেমস লি সেন্টারের মিলনায়তনে ওদের পুরষ্কৃত করা হলো। তুলে দেওয়া হলো উপহার। অনুষ্ঠানের নামটাই ছিলো- বাংলাস্কুল আয়োজিত ৩০তম উপহার বাংলাদেশ মেলা। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো সনদ। তাদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হলো মেডাল। এদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলো সেরাদেরও সেরা। তারা ভূষিত হলো বিশেষ পুরষ্কারে। তবে উপহার নিতে এসে সবচেয়ে বড় উপহার যেনো দিয়ে গেলো এই শিশু-কিশোর-কিশোরীরাই। তারা গাইলো। তারা নাচলো। শোনালো কবিতা। বাংলা গানের সুরে সুরে তারা ভরে তুললো মিলনায়তন। নৃত্যতালে তারা মুগ্ধ করলো দর্শকদের। মিলনায়তন দর্শকে ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। তারা উপভোগ করছিলেন এই শিশু-কিশোরদের একের পর এক দারুণ সব উপস্থাপনা। স্কুলের শিক্ষক আর স্কুল বোর্ডের পরিচালকরা এই অনুষ্ঠানটিকে নিয়ে যে ছিলেন কতটা আন্তরিক তা এর গোছানো পরিবেশনা থেকেই আন্দাজ করা গেলো। তবে শিক্ষকরা বিশেষ করে স্কুলে মিউজিক একাডেমির নাচ ও গানের শিক্ষকরা যেনো তাদের সবটুকু ঢেলে দিয়ে তৈরি করেছিলেন ওদের। বিশেষ করে যখন একসঙ্গে এক তালে শিশুরা গাইলো সমবেত কণ্ঠে বাংলার দুই প্রধান কবির দুই গান... ববি ঠাকুরের- ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা আর কাজী নজরুলের ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি। দেশের জন্য এই দুই গানের এমন সুমিশ্রিত পরিবেশনা আর কেউ কি শুনেছে কখনো? পরে শিশুরা সমবেত ভাবে গাইলো আরেকটি গান- তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে। তাতে কেউ গাইলো কেউ কণ্ঠ মেলালো, কেউ বা হাত দুলিয়ে দিলো তাল।একজন কবিতা পড়ে শোনালো যা লেখা হয়েছিলো এই স্কুল আর এই উপহার আয়োজন নিয়েই। মাঝে একবার পরিচিতি পর্ব হয়ে গেলো স্কুল বোর্ডের পরিচালকদের। তবে মূল পরিবেশনা তখনো বাকি। ষড়ঋতুতে আবর্তিত প্রিয়দর্শিনী জননী আমার গীতিনৃত্যাল্লেখ্য এই শিরোনামে যে উপস্থাপনাটি হয়ে গেলো তা দর্শকদের যেনো ভাসিযে নিয়ে গেলো তাদের প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশে। বাংলার ষড়ঋতুকেই তারা দেখতে পেলেন নাচের মুদ্রায়... শুনতে পেলেন গানে ও কথায়। তবে পুরোটাই ঋতু সৈন্দর্যের কবি রবীন্দ্রনাথে ভর করে। দারুণ এক গ্রীস্মবন্দনায় নৃত্যে শিক্ষক ও স্বনামধন্য শিল্পী রোজমেরি মিতু রোজারিও নেচে গেলেন মঞ্চে আর শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানালেন গ্রীস্মের গান দারুণ অগ্নিবানেরে হৃদয়ে তৃষা হানেরে... এই গানের ঝংকারে নাচার জন্য। আর বর্ষার আবাহনী নৃত্যে প্রকৃতিতে নতুন প্রাণ জাগা এক মওসুম এই বর্ষাকে উপস্থাপন করলেন রোজমেরী। সেই বর্ণনা নৃত্যের পর মেয়েরা এসে নাচলো ময়ুরের পেখম খুলে- নাচ ময়ুরী নাচ রে পেখম খুলে নাচরে এই গানে। শরতকে ডাকা হলো শিউলি সৌন্দর্য্যের জপে। শিক্ষক রোকেয়া জাহান হাসি তার অনন্য নাচের মুদ্রায় মঞ্চ রাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিলেন। আর সেই রবি ঠাকুরের গান দেখো দেখো দেখো শুকতারা আঁখি মেলে চায় প্রভাতের কিনারায়...বাদ্যগানে মেয়েরা মঞ্চকে ভরে তুললো তাদের নাচের কিন্নরিতে। হেমন্তের আবাহনে তারা দেখালো নাচ মেঠোসুরের বিপরীতে সেই অনন্য গান আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা। শিক্ষক রোজমেরি রোজারিও নেচে গেলেন কথায় আরা মেয়েরা মঞ্চে এসে যেনো তারাই নীল আকাশে ভাসিয়ে দিলো সাদা মেঘের ভেলা। প্রকৃতিতে শীতল পরশ নিয়ে আসা পৌষের বর্ণণায় এলো নবান্নের কথা। পিঠে পায়েসের কথা। সেসব কথামালায় নাচলেন শিক্ষিকা রোকেয়া জাহান হাসি। তার আহ্বানে মঞ্চে মাতিয়ে বাংলা স্কুলের মেয়েরা সব নাচলো পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয় আয় আয়... গানে। এরপর ঋতুরাজ। শিক্ষক রোজমেরি বসন্ত আবাহন শেষ করলেন কথামালার বিপরীতে নেচে। আর মেয়েরা নাচলো কিছু স্বপ্ন, কিছু মেঘলা, কিছু বই টই ধুলো লাগা কিছু ইচ্ছে, সাড়া দিচ্ছে এ বসন্ত রাত জাগা... এই গানে ওদের নাচের মুদ্রায় আর কিন্নরিতে মঞ্চ মাতলো, মাতলো দর্শকও। এমন একটা অনন্য পরিবেশনায় দর্শকের স্ট্যান্ডিং ওভেশন থাকবে সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। হলোও তাই। করতালিতে মঞ্চ কাঁপলো কাঁপলো মিলনায়তন। এই শিশুদের উৎসাহ দর্শকরা যেমন দিচ্ছিলেন তেমনি বাংলাস্কুলের কর্তৃপক্ষের মুখেও শোনা গেলো গর্বের সব উচ্চারণ। এই শিশুদের কথা বলছিলেন স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শামীম চৌধুরী। তিনি বলছিলেন কেনো তারা বাংলা স্কুলে শিশুদের নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি নাচ ও গান শেখান। এরপরে একটি একক নৃত্য হয়ে গেলো মরিয়ম ইসলামের। বাংলাস্কুলের প্রাক্তন। এখন যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী। সে নেচে দেখালো বাঁশি কেনো গায় আমারে কাঁদায় এই গানে। এরপর কিছু সম্মাননা দেওয়ার পালা চললো। সম্মানিত করা হলো বাংলাস্কুলের আজীবন সদস্যপদ পাওয়া কয়েকজনকে। তবে শিশুদের গান তখনও বাকি। এরপর কিছু ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক গানের পরিবেশনা হলো। এভাবে কয়েকটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাস্কুলের এই উপহার। একটি অনন্য সন্ধ্যা কাটালেন ভার্জিনিয়া-ডিসি মেরিল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষগুলো। নিশ্চয়ই তারা থাকবেন বছর পার করে আরেকটি উপহার কবে আসবে তার অপেক্ষায়।

post
বিনোদন

এবার পর্তুগালে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশি সিনেমা 'হাওয়া'

এবার পর্তুগালে মুক্তি পাচ্ছে বাংলা সিনেমা 'হাওয়া'।আগামী শনিবার সকাল ১১টায় দেশটির রাজধানী লিসবনে বাইশা সিয়াদো মেট্রোর পাশে সিনেমা ইডিয়েলে উদ্বোধনী শোর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হবে 'হাওয়াএকই হলে ২২ ও ২৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় সিনেমাটির আরও একটি করে শো চলবে। বাঙালি অধ্যুষিত বেনফোরমোসো রোডে মাতৃভাণ্ডার ও বিডি সুপার মার্কেটে 'হাওয়া'র অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে। পর্তুগালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো সিনেমা বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি ও প্রদশর্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 'হাওয়া' প্রদর্শনের উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন বলেন, 'পর্তুগালে বাংলাদেশ কমিউনিটির বসবাস প্রায় ৩৫ বছর এবং এখানে প্রায় ২৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন। কিন্তু দেশীয় ছবি প্রবাসে দেখার সুযোগ পায়নি কখনও। তাই এবার আমরা হাওয়ার মাধ্যমে সূচনার উদ্যোগ নিলাম'। এ নিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটির মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আবেগ দেখা যাচ্ছে। প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, পর্তুগালে হলিউড বা বলিউডের সিনেমা নিয়মিত দেখার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশি সিনেমা কখনো দেখার সুযোগ হয়নি। তাই হাওয়ার মুক্তির খবরে সবাই অনেক উচ্ছ্বসিত।

post
বিনোদন

নিউইয়র্কে ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ ১৬ অক্টোবর

বাংলাদেশের সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীর অংশগ্রহণে ‘ঢালিউড ফিল্ম এ্যান্ড মিউজিক এওয়ার্ড’র ২০তম আসর বসবে নিউইয়র্কে আগামী ১৬ অক্টোবর। ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে শো টাইম মিউজিক’র কর্ণধার আলমগীর খান আলম জানান, বলিউড অভিনেত্রী নারগিস ফাকরিসহ ১৯ অভিনেতা অভিনেত্রী এই আয়োজনে যোগ দিচ্ছেন। আলমগীর খান বলেন, এটি হতে যাচ্ছে এই আয়োজনের ২০তম আসর। যা জমজমাট করতে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আয়োজন সফল করতে গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহায়তা প্রত্যাশা করেন আলমগীর খান। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে অংশ নেন গোল্ডেন এজ হোমকেয়ারের সিইও শাহনেওয়াজ এবং মেগা হোম রিয়েল্টির মইনুল ইসলাম। তারাও প্রবাসীদের অঅন্তরিক সহায়তা চেয়েছেন বহুজাতিক এ সমাজে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত রাখার অভিপ্রায়ে আসন্ন মিউজিক এওয়ার্ডকে সফল করতে।  আলমগীর খান আলম আরও বলেন, সামনের বছর থেকে সিনেমা, টিভি এবং মঞ্চের অভিনেতা-অভিনেত্রীর পাশাপাশি চলচ্চিত্র-বিনোদন সাংবাদিকতার জন্যেও অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। ১৬ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কুইন্সে আমাজুরা অডিটরিয়ামে মিউজিক অ্যাওয়ার্ড শুরু হবে বলে জানান আলমগীর খান। টিকিটের মূল্য থাকবে ৫০, ১০০ এবং ১৫০ ডলার করে। আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর হচ্ছে ‘ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি’।

post
বিনোদন

কিংবদন্তি গীতিকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার আর নেই

কিংবদন্তি গীতিকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার আর নেই।‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’- এর মত অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা মাজহারুল আনোয়ারের বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে তার পুত্রবধূ শাহানা মির্জা জানান।তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে এসিডিটির সমস্যায় ভুগছিলেন। আমরা গতকাল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছিল, আজ আরও কিছু পরীক্ষা করার কথা ছিল।”শাহানা জানান, ভোরে হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে গেলে তার শ্বশুরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানান, তার পালস পাওয়া যাচ্ছে না।একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এ গীতিকার, পরিচালকের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তালেশ্বর গ্রামে।ষাটের দশকে যখন মেডিকেল কলেজের ছাত্র, মাজহারুল আনোয়ার লেখেন তার প্রথম গান ‘বুঝেছি মনের বনে রঙ লেগেছে’। নাজমূল হুদা বাচ্চুর সুরে সেই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন।মাজহারুল আনোয়ার ১৯৬৪ সাল থেকে রেডিও পাকিস্তানের জন্য গান লেখা শুরু করেন। সে সময় গানপ্রতি মিলতো ৫০ টাকা। সেই দিয়ে তার পেশাদার গীতিকারের জীবন শুরু।বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকে টেলিভিশনের জন্যও নিয়মিত গান ও নাটক রচনা করেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। বলা হয়, তার লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার।রেডিও ও টেলিভিশনে ব্যস্ততার মধ্যেই ১৯৬৫ সালে চলচ্চিত্রের অঙ্গনে ডাক পড়ে মাজহারুল আনোয়ারের। সুভাষ দত্তের আয়না ও অবশিষ্ট সিনেমায় তার ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ গানটি শ্রোতার হৃদয়ে আজও অমলিন।বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রুনা লায়লার গাওয়া প্রথম গান ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে বল কি হবে’ মাজহারুল আনোয়ারেরই লেখা।১৯৭০ সালে ‘জয় বাংলা’ সিনেমার জন্য (পরে নাম বদলে হয় সংঘাত) মাজহারুল আনোয়ার লেখেন মুক্তিযুদ্ধের সেই প্রেরণাদায়ী গান ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। আনোয়ার পারভেজের সুরে সেই গানকেই পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সূচনা সংগীত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’ আর ‘একবার যেতে দে না’- এই তিনটি গান বিবিসির এক জরিপে ২০ শতকের সেরা ২০ বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নেয়।ষাটের দশক থেকে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের গানে খ্যাতি পাওয়া প্রায় সব শিল্পীই কখনও না কখনও মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গান কণ্ঠে তুলেছেন। সেসব গানে এসেছে প্রেম আর বিরহ, দ্রোহ আর দেশপ্রেম, জীবন আর মৃত্যুচিন্তার কথা।চোখের নজর এমনি কইরা, তুমি আরেকবার আসিয়া যাও মোরে, সাতটি রঙের মাঝে মিল খুঁজে না পাই, অনেক সাধের ময়না আমার, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, চলে আমার সাইকেল, সবাই তো ভালোবাসা চায়, এই মন তোমাকে দিলাম, ইশারায় শিষ দিয়ে আমাকে ডেকো নার মত অসংখ্য গান বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল থাকবে বহুকাল।

post
বিনোদন

এবিপিসির বনভোজনে আনন্দ-আড্ডা

প্রাণের আমেজ এবং হৃদয়ের উষ্ণতায় ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হলো এবিপিসির (আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব) বনভোজন। নিউইয়র্কের ক্রটন পয়েন্ট পার্কের মনোরম পরিবেশে একটি দিন কাটালেন ক্লাবের সদস্যরা ও তাদের পরিবার-পরিজন।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া গানের সাথে বাঙালির আরেক বিজয়ের পদ্মা সেতুর সম্পৃক্ততায় ভিন্ন এক আমেজ তৈরি করেন একুশের পদকপ্রাপ্ত কন্ঠযোদ্ধা রথন্দ্রিনাথ রায় এবং শহীদ হাসান। প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবের গানে আপ্লুত হন অংশগ্রহণকারি সকলে। মেহজাবিনও গেয়েছেন তার প্রিয় গানগুলো। সবিতা দাস, উইলি নন্দীও অংশ নেন তাদের গান নিয়ে। এভাবেই গান আর জমপেশ আড্ডায় পাশে নীলাভ সমুদ্রের উত্তাপ একেবারেই গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ গ্রীষ্মের তাপদাহকে অগ্রাহ্য করে বারবিকিউ চিকেন রান্নায় ব্যস্ত ছিলেন ক্লাবের নির্বাহী সদস্য এবং বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ। নতুন প্রজন্মের সকলেই তা পরম তৃপ্তির সাথে খেয়েছে। ক্লাবের সদস্য-কর্মকর্তা এবং অতিথিরাও প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন চিকেন এবং ল্যাম্ব বারবিকিউ পেয়ে। নির্মল পরিবেশকে আরো মধুময় করে ছোট্টমণিদের বিচরণ। বনভোজনের অন্যতম পৃষ্টপোষক খ্যাতনামা এটর্নী মঈন চৌধুরীর পক্ষে সর্বজিৎ পোদ্দারও মেতে উঠেন তরমুজ কাটায়। ক্লাবেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন সর্বজিৎ। খামার বাড়ির হারুন ভূইয়ার দেওয়া কাঁঠাল ছিল দিবসের আরেক অধ্যায়-যা খেয়ে সকলে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। মধ্যাহ্নভোজনের সময় বাসা থেকে আনা ফ্রুট সালাদ বিতরণ করেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ জামান তপন। খেলাধূলা পরিচালনায় ছিলেন শাহ ফারুক, আজিমউদ্দিন অভি, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ। ছোট্টমণিদের দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম-নাভিনা আলম, দ্বিতীয়-সাইফা নেহান, তৃতীয়-আলিশা খান এবং চতুর্থ হয়েছে আল আরাফ অভি। মিউজিকের তালে মহিলাদের বালিশ নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলেন প্রথম-নাভিনা, আকতার বেগম এবং নিশা খান। বয়স্কদের বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন কন্ঠযোদ্ধা রথন্দ্রিনাথ রায়, দ্বিতীয়-আজিমউদ্দিন অভি এবং তৃতীয় হয়েছেন তপন চৌধুরী। বনভোজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল র‌্যাফেল ড্র। ৫ ডলারের টিকিটে স্বর্ণালংকার, নগদ এক হাজার ডলার, ৫৬ ইঞ্চি টিভি, ল্যাপটপ, আইফোন ইত্যাদি পুরস্কার ছিল। এগুলোর স্পন্সরের মধ্যে ছিলেন মার্কস হোমকেয়ারের সিইও প্রকৌশলী মাহফুজুল হক, তরঙ্গ কেয়ার ইউএসএর কর্ণধার নিলুফা শিরিন, খামার বাড়ির হারুন ভূইয়া, কাওরান বাজার চেইন স্টোরের সিইও ইলিয়াস খান প্রমুখ। অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ সংবাদদাতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আল আমিন, নবযুগের সম্পাদক সাহাবউদ্দিন সাগর, বিশিষ্ট উপস্থাপিকা শামসুন্নাহার নিম্মি, শেরপুর জেলা সমিতির সভাপতি মামুন রাশেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রশীদ বাবু, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। বনভোজনে অংশগ্রহণকারি বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সরব উপস্থিতিতে বিভিন্ন পর্বে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন কুইন্স সোসাল এডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টারের সিইও ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক, এটর্নী মঈন চৌধুরীর প্রতিনিধি সর্বজিৎ পোদ্দার, খ্যাতনামা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নুরুল আজিম, জেবিবিএর প্রেসিডেন্ট হারুন ভ’ইয়া এবং সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলম নমী, লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আহসান হাবিব প্রমুখ। বনভোজনে অংশগ্রহণকারি বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে ছিলেন রেজাউল বারি, আবুল বাশার চুন্নু, আমির আলী, নাজিমউদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, আব্দুর রহমান প্রমুখ। নির্বাচন কমিশনার পপি চৌধুরী, ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল কাশেমের সার্বিক নির্দেশনায় বিভিন্ন পর্বে সহায়তা করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক শাহ ফারুক, কোষাধ্যক্ষ জামান তপন, প্রচার সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিমউদ্দিন অভি, নির্বাহী সদস্য কানু দত্ত , আলিম খান আকাশ, শামিম আকতার প্রমুখ।

post
বিনোদন

রোমে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ ও রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর বর্ণিল উদযাপন

বাংলাদেশ দূতাবাস, রোমের আয়োজনে ২২ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ (৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ) তারিখে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতের স্বাগত বক্তব্যের পরে বাংলা নববর্ষ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম ও দর্শনের উপর বিশেষজ্ঞ আলোচক, বিদেশি বন্ধু ও কম্যুনিটি নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আলোচনা, দূতাবাসের-সদস্য ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান তাঁর স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে বাংলা নববর্ষকে বাঙ্গালি জাতির অসাম্প্রদায়িক চেতনার উৎস এবং একান্তই আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শাশ্বত বাহক হিসেবে অনন্য এক উদ্‌যাপন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাঙ্গালি জাতির নিজস্ব পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম দিনটি নববর্ষ হিসেবে দেশের সাথে সাথে বিদেশেও বর্ণাঢ্যভাবে উদ্‌যাপিত হয়। রাষ্ট্রদূত আহসান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলা নববর্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্‌যাপনের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙ্গালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে বাংলা নববর্ষের ওতপ্রোত ভূমিকা উপলব্ধি করে বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রবর্তন করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই বাংলাদেশের রবীন্দ্র চর্চার বিকাশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামেও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-কে বাঙালির জাতীয় জীবনের সাথে সর্বদা প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তাঁদেরকে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান দুই স্তম্ভ এবং বিশ্ব-সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী ভাইবোনেরাও নববর্ষ এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিবেন। বিশেষজ্ঞ-আলোচনা পর্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রোমে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত লা স্যাপিয়েঁজা ইউনিভার্সিটি অব রোম এর অধ্যাপক জর্জিও মিলানেত্তি । তিনি সংস্কৃতির বহমানতাকে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন এবং ইতালি ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে উভয় দেশের মাঝে সম্পর্কের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে বলে মত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় প্রায় ৫০ বছর যাবত 'ঋশিল্পী' সংগঠনের সাথে কর্মরত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ইতালিয়ান দম্পতি মিজ গ্রাজিয়েলা মিলানো মি. ভিনসেজো ফ্যালকোন অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলা ভাষায় তাদের আবেগ প্রকাশ করেন যা অংশগ্রহণকারীদের গভীরভাবে উদ্বেলিত করে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দূতাবাস পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে 'এসো হে বৈশাখ এসো, এসো' গানটি পরিবেশিত হয়। দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সেলর মানস মিত্র, প্রথম সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এবং সদস্য দিপু অভি সাহার মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। সবশেষে সুস্মিতা সুলতানার নির্দেশনায় ইতালিতে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক সংগঠন 'সঞ্চারি সংগীতায়ন' এর শিশু-কিশোরদের ধারণকৃত একটি মনোজ্ঞ নৃত্য 'টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল', রবীন্দ্র সংগীত 'দুই হাতে কালের মন্দিরা যে সদাই বাজে' ও নজরুল সংগীত 'শুকনো পাতার নূপুর পায়ে' পরিবেশিত হয়। এছাড়াও 'নব আনন্দে জাগো আজি নববিকিরণে' ও 'মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর' গান দুইটির সাথে নৃত্য পরিবেশন করে প্রবাসী বাংলাদেশী শিশুশিল্পীরা। দিয়া, দিপা, সানজিদা, পুনম, মেঘা, তিলক, স্বপ্ন ও সানিয়ার বর্ণিল পরিবেশনা সকলের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি করে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশ কম্যুনিটির নেতারা, সাংবাদিক, ইতালিয়ান নাগরিক, দূতাবাসের সদস্যগণ ছাড়াও রোমের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। উল্লেখ্য, কোভিড মহামারীর প্রেক্ষিতে ইতালি সরকার কর্তৃক আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শুধুমাত্র দূতাবাসের সদস্যদের উপস্থিতিতে সীমিত পরিসরে দূতাবাসে এবং অনলাইন প্লাটফর্ম জুম এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.