post
আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়ে যা বললেন বারাক ওবামা

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই যুদ্ধকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সে বিষয়টির সমালোচনা করে ওবামা বলেন, 'দুই পক্ষের কেউই নিরপরাধ নয়।' আজ রোববার কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানানো হয়। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ওবামা জানান, ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা 'ভয়াবহ', তবে এখন ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যা করা হচ্ছে, তা 'সহ্যের বাইরে'। পড সেভ আমেরিকা পডকাস্টের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, 'কোনো গঠনমূলক উদ্যোগ নিতে হলে আমাদেরকে প্রথমে মেনে নিতে হবে যে এখানে একটি জটিল পরিস্থিতি চলছে এবং বাইরে থেকে দেখে যা মনে হয়, বিষয়টি ততটা সরল নয়। হামাস যা করেছে, তা ভয়ানক এবং এর পেছনে কোন যুক্তি নেই। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও সত্য যে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এখন যা চলছে এবং আগে তাদের ভূখণ্ড যেভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তা সহ্যের বাইরে।' 'তবে এটাও সত্য, গাজায় অনেক ফিলিস্তিনি মারা যাচ্ছেন, যাদের সঙ্গে হামাসের কার্যক্রমের কোনো যোগসূত্র নেই', যোগ করেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ওবামা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান দেওয়ার উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে থাকলেও তিনি এতে সক্ষম হননি। ওবামা 'টিকটক ভিত্তিক আন্দোলনের' সমালোচনা করে বলেন, এর মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির সরলীকরণ করা হচ্ছে। সাবেক মার্কিন নেতা বলেন, 'আপনি সত্য বলার অভিনয় করতে পারেন, আপনি একপাক্ষিক সত্য বলতে পারেন, আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে নির্দোষও দাবি করতে পারেন। তবে এতে সমস্যার সমাধান হবে না।' 'আর আপনি যদি এই সমস্যার সমাধান করতে চান, তাহলে আপনাকে পুরো সত্যটাই গ্রহণ করতে হবে এবং মেনে নিতে হবে, কেউই নিরপরাধ নয় এবং আমরা সবাই (নীরব থেকে) খানিকটা হলেও এই সংঘাতে অংশীদারের ভূমিকা পালন করেছি', যোগ করেন ওবামা।

post
আন্তর্জাতিক

নেপালে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৫০ ছাড়াল

হিমালয়ের দেশ নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় আঘাত হানা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৫০ জন ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপাল। রাজধানী কাঠমুন্ডু থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের জারাকোত এবং পশ্চিম রুকুম ভূমিকম্পের আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। পুরো নেপাল ছাড়াও ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মানুষও শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের আঘাতে আরও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। জারাকোতের হাসপাতাল আহত মানুষে এখন পরিপূর্ণ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আতবিসকোত পৌরসভার মেয়র রবি কেসি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। ফলে বাড়ির ভেতর যাওয়ার বদলে বাইরেই অবস্থান করছেন তারা। তিনি আরও জানিয়েছেন, মধ্যরাতে হঠাৎ শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেন তারা। এরপর সেখানকার সব বাসিন্দা বাড়ির বাইরে চলে আসেন। ভূমিকম্পের আঘাতে মাটির কয়েকশ ঘর ভেঙে গেছে এবং এখন সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রথম ভূমিকম্পের এক ঘণ্টার মধ্যে আরও তিনটি ছোট ভূমিকম্প আঘাত হানে। আরও ভূমিকম্প আঘাত হানার শঙ্কা থেকে মানুষ সারারাত বাড়ির বাইরেই অবস্থান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক উঁচু ভবন ধসে পড়েছে এবং রাতের আঁধারেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালান সাধারণ মানুষ। নেপালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, নেপালে আঘাত হানা ভূমিকম্পটি ছিল ৫ দশমিক ৬ মাত্রার। এটি একটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জায়গায় এটি সংঘটিত হয়েছে।

post
আন্তর্জাতিক

গাজায় আর কোনো জায়গাই এখন নিরাপদ নেই - জাতিসংঘ

গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় সেখানে আর কোনো জায়গাই এখন নিরাপদ নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পরিচালক টমাস হোয়াইট জানিয়েছেন যে, সেখানকার বাসিন্দাদের বাঁচাতে জাতিসংঘের কোনো কিছুই করার নেই। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এরই মধ্যে ৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জানিয়েছে গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের হিসেব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হয়েছে মধ্য গাজার আল শিফা হাসপাতাল থেকে রাফাহ ক্রসিংয়ে যেতে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের বহর। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন মারা গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে আহতদের নিয়ে রাফাহ সীমান্ত পার করছিল অ্যাম্বুলেন্সের বহরটি। হামাস দাবি করেছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী ওই হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীও নিশ্চিত করেছে যে, তারা একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা চালিয়েছে। তবে তারা বলছে, ওই অ্যাম্বুলেন্সে হামাসের সদস্যরা ছিল। একটি ভিডিওতে দেখা যায় হাসপাতালের বাইরে রাস্তায় রক্তের মধ্যে কয়েকজন মানুষ পড়ে আছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিথর হয়ে পড়ে আছে আবার কেউ আহত হয়ে ছটফট করছেন। কয়েকটি ভিডিও যাচাই করে দেখা গেছে, ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত বা নিহত হয়েছেন।

post
আন্তর্জাতিক

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জিএসপি সুবিধা চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে বাংলাদেশকে জিএসপি+ সুবিধা দেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ২৫ অক্টোবর তিনি ইইউর সদরদপ্তরে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমি আশা করি যে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমাদের উন্নয়নে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা দেবে।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লেয়েন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) মধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি চুক্তি সই প্রত্যক্ষ করেন। শেখ হাসিনা বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা গাজা, ইউক্রেন ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে চলমান যুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিশ্বের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা একমত হয়েছি।' তিনি বাংলাদেশে সাময়িকভাবে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু এটি অনেক ধীর গতির। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আমলপ্রয়োগের উপর চুক্তি হয়েছে, কিন্তু মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন কর্মসূচি অনেক ধীর গতির। তার মাঝে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ও ইইউর সহ অন্যান্য জাতির সাথে সহযোগিতা করা উচিত।

post
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রতিদিন হতাহত হচ্ছে প্রায় ৪০০ ফিলিস্তিনি শিশু : ইউনিসেফ

টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত চলছে। সংঘাতের শুরু থেকেই পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রতিদিন হতাহত হচ্ছে প্রায় ৪০০ ফিলিস্তিনি শিশু। এমন তথ্যই সামনে এনেছে জাতিসংঘের শিশু নিরাপত্তা ও অধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।বুধবার (২৫ অক্টোবর) এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে গত ১৮ দিন ধরে চলমান লড়াইয়ে ২ হাজার ৩৬০ শিশু নিহত হয়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। এছাড়া সংঘাতে আহত হয়েছে আরও ৫ হাজার ৩৬৪ শিশু। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক এই সংস্থার মধ্যপ্রাচ্যের পরিচালক অ্যাডেল খোদর বলেছেন, গাজায় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত বা আহত হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আমাদের বিবেকের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে দাগ কাটছে। হামলায় শিশুদের মৃত্যুর এবং আহত হওয়ার হার কেবলই বিস্ময়কর।’ অ্যাডেল বলেন, ‘শিশুদের হত্যা ও পঙ্গু করা, শিশুদের অপহরণ, হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা এবং মানবিক সহায়তার প্রবেশে বাধা দেওয়া শিশুদের অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।’ গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তাদের অবিরাম নির্বিচার এই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। অর্থাৎ ইসরায়েলের হামলায় যেসব ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন তার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই শিশু। এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় গাজায় শুধুমাত্র গত একদিনে ৭০৪ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।অন্যদিকে ইসরায়েলের বিমান হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার কোনও অবকাঠামো। তারা মসজিদ, গির্জা, বেসামরিক মানুষের বাড়ি-ঘর সব জায়গায় হামলা চালিয়ে আসছে। এছাড়া গত ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় সর্বাত্মক অবরোধও আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। এই অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য, পানি ও জ্বালানির মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যদিও সম্প্রতি কিছু ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি গাজায় ইসরায়েলের এই অবরোধ অব্যাহত থাকে তাহলে কয়েকদিন পর সেখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা যেতে পারে।

post
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০৪ ফিলিস্তিন নিহত

গাজায় গত ২৪ ঘন্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৭০৪ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৩০৫ জন শিশু, ১৭৩ জন নারী এবং ৭৮ জন বয়স্ক। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হিসাব জানিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা শেষ ২৪ ঘন্টায় ৪০০ সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের হামাসের কয়েকজন কমান্ডারকে নিহত হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের হামলায় কমপক্ষে ১৪ শ’ জন নিহত এবং ২০৩ জন জিম্মি হওয়ার পর ইসরায়েল এর জবাবে গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকে অবিরাম বিমান হামলা চলছে। ইসরায়েলের লাগাতার বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ মানুষ নিহতের হিসাব দিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘ জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য ইসরাইলকে নিরাপদ ব্যবস্থা করে দিতে আহবান জানিয়েছে। কারণ গাজার অনেক হাসপাতালে বিদ্যুৎ, ওষুধ ও কর্মীর ঘাতক অভাবে সেবা বন্ধ। পানির ঘাটতির জন্য সংকট বেড়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল গাজার বিদ্যুৎ ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করেছে। জাতিসংঘ সামান্য ত্রাণ গাজায় পৌঁছেছে মিশরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে, যেটা পরিমাণে একেবারেই নগন্য। ওই এলাকায় মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ থেকে ১২ লাখে পৌঁছেছে। এদিকে, ইসরায়েল হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে ফেলতে চায় বলে জানিয়েছে আইডিএফ এর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভি।

post
আন্তর্জাতিক

আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দিল ইসরায়েল

আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করেছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার জেরুজালেমে অবস্থিত এই মসজিদটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনের সংবাদমাধ্যম ওয়াফার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, এদিন হঠাৎ করেই মসজিদের সব গেট বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলের পুলিশ। বাধা দেওয়া হয় সব বয়সী মুসলিমদের প্রবেশে। বিভাগটি আরও জানায়, মঙ্গলবার সকালের দিকে মসজিদে প্রবেশ কড়াকড়ি করে দখলদার বাহিনী। প্রথমদিকে শুধু বয়স্কদের প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়। পরে সবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে মুসলিমদের বাধা দেওয়া হলেও মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পেরেছে ইহুদিরা। অর্থাৎ সেখানে ইহুদিদের প্রার্থনা করার সুযোগ দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। যদিও এটি মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত স্থান। এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সাত শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সেখানে প্রতিদিনই ইসরায়েলের বিমান হামলায় শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৫ হাজার ৭৯১ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। টানা কয়েকদিন ধরেই গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

post
আন্তর্জাতিক

গাজায় হাসপাতালে হামলায় নিহত ৫ শতাধিক, বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতে মধ্য গাজার আল–আহলি আরব নামের হাসপাতালে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই হামলা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গোটা বিশ্ব। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা হাসপাতালে বেসামরিক লোকদের ওপর হামলার বিষয় নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গাজায় হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। একে ‘গণহত্যা’ অভিহিত করে তিনি বলেছেন— এ পরিস্থিতিতে কেউ চুপ থাকতে পারে না। এভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা ‘মানবতার জন্য লজ্জাজনক’। হাসপাতালে ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় শত শত মানুষের মৃত্যুকে ‘জঘন্য অপরাধ’ অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরাইলি বাহিনীর হাসপাতালে বোমা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইল যেভাবে গাজার হাসপাতাল, স্কুল ও জনবহুল এলাকায় হামলা করছে, এতে সংঘাত ভয়ঙ্করভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ইসরাইল যে ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধেরও তোয়াক্কা করছে না, গাজায় হাসপাতালে হামলা তার সর্বশেষ উদাহরণ। গাজায় ‘নজিরবিহীন নৃশংসতা’ বন্ধে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গাজার আল–আহলি হাসপাতালে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে মিশরও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এভাবে নির্বিচার হামলা ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন’। মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল–সিসি বিবৃতি দিয়ে হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘ইসরাইলের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ গাজায় হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরাইলি বাহিনী নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে গাজার নিরস্ত্র ও অসহায় মানুষদের হত্যা করছে। জঘন্য এ অপরাধের মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্রটি আরও একবার বিশ্বের সামনে তাদের অমানবিক ও পাশবিকাতেই তুলে ধরেছে।’ সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও এ হামলাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে নৃশংস, জঘন্য, রক্তক্ষয়ী গণহত্যাগুলোর একটি’ অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গাজার হাসপাতালের হামলার নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন আরব লীগ। সংস্থাটির প্রধান আহমেদ ঘেতি বলেছেন, বিশ্ব নেতাদের অবিলম্বে এ ‘ট্র্যাজেডি’ বন্ধ করতে হবে। এদিকে গাজার হাসপাতালে হামলার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে একটি জরুরি বৈঠকে বসার জন্য অনুরোধ করেছে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। হাসপাতালে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ফিলিস্তিনের মানবাধিকার সংস্থা আল–মিজান। সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, হাসপাতালগুলো ‘নিরাপদ স্থান’ হিসেবেই বিবেচিত। গাজার হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস । অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। গাজায় হাসপাতালে হামলার ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান জানানো উচিত। যুদ্ধের কিছু নিয়মনীতি আছে। কোনো হাসপাতালে এভাবে হামলা করার ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। গাজার হাসপাতালে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্সও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মানবাধিকবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য প্রযোজ্য। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

post
আন্তর্জাতিক

গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি বিমান হামলা, ৫০০ জনের মৃত্যু

অবরুদ্ধ গাজা শহরের একটি হাসপাতালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত ওই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের প্রধান আল জাজিরা টেলিভিশনকে বলেছেন, মঙ্গলবার আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালে ওই হামলায় তিনশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫০০। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, ওই হাসপাতালে বোমা ফেলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের হাতে নেই। রয়টার্স লিখেছে, এর আগে একটি স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর দেয় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। গত কয়েক দিনে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ওই স্কুল ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। হাসপাতালে বিমান হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের অধিকাংশও গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা। নিরাপত্তার আশায় তারা হাসপাতালের একটি হল এবং বাইরের মাঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাসপাতালে ওই হামলার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর গাজায় হামাস কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র এ ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

post
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল রক্ষায় প্রস্তুত ২০০০ মার্কিন সেনা

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সংকটজনিত অবস্থার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রায় ২০০০ সেনা প্রস্তুত রাখছে। এ তথ্য প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র সাবরিনা সিং এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইসরাইল সফরের আগে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যকার বর্ধমান সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে, এই সেনাদল যুদ্ধ করবে না। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে লজিস্টিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান। ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, "ইসরাইলে মার্কিন সেনা প্রেরণের কোনো পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই।" যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজব। 

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.