post
আন্তর্জাতিক

কারাগার থেকে ট্রাম্পের মুখমণ্ডলের ছবি প্রকাশ

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে জর্জিয়ার ফুলটন কারাগারে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবশ্য এর ২০ মিনিটের মাথায় জামিনে মুক্ত হন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা। এর আগেই নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন রিপাবলিকান এই নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে তার বাসা থেকে ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে জর্জিয়ায় পৌঁছান। এরপর তার বিশাল মোটর শোভাযাত্রায় ফুলটন কাউন্টি আদালতে হাজিরা দেন। আত্মসমর্পণের পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান। তার জামিনে মুচলেকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ডলার। কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্টের আঙুলের ছাপ এবং মুখমণ্ডলের ছবি (মাগশট) নেওয়া হয়েছে যা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা। এ বিষয়ে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তিনি। একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এমন আচরণে অপমানজনক হিসেবে দেখছেন তিনি। আদালতে আবেদন করতে পরবর্তী তারিখে তিনি আবার আসবেন। ট্রাম্পের আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে বাইরে তার সমর্থক এবং আদালতে প্রচণ্ড ভিড় লেগে যায়। আটলান্টা বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় স্বল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সক্ষম হওয়া উচিত আপনার। আমি বিশ্বাস করি, এটি একটি কারচুপির নির্বাচন ছিল। আমি ভুল কিছু করিনি তা সবাই জানে।’

post
আন্তর্জাতিক

পবিত্র কুরআন পোড়ানো যাবে না: ডেনমার্ক

সাম্প্রতিক সময়ে নরডিক দেশগুলোতে কুরআর পোড়ানোর ঘটনা বাড়ায় মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে জনসম্মুখে পবিত্র কুরআন পোড়ানোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক সরকার। ২৫ আগস্ট শুক্রবার দেশটি এ সংক্রান্ত এক আইন প্রস্তাব করেছে। ডেনমার্কের বিচার মন্ত্রী পিটার হামেলগার্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার একটি আইন করতে যাচ্ছে, যেখানে ধর্মীয় তাৎপর্য বজায় রাখার জন্য বলা হবে এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো যাবে না। এই প্রস্তাব কুরআন পোড়ানো কারীদের জন্য একটি শিক্ষা। সাম্প্রতিক সময়ে ডেনমার্ক ও সুইডেনে একের পর এক কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় মুসলিম বিশ্ব নিন্দা জানায় এবং দেশগুলোর সরকার প্রধানকে এ ঘটনা বন্ধে আহ্বান জানায়। কুরআন পোড়ানোয় ঘটনায় ডেনমার্ক তাদের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে। কারণ সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে এমন ধারণা থেকে দেশটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নরডিক দেশগুলো বিরোধী দলের দ্বারা সমালোচনার শিকার হলেও সরকার কুরআন পোড়ানোর ক্ষেত্রে আইন করতে যাচ্ছে। সূত্র: আরব নিউজ

post
এনআরবি বিশ্ব

মিলান কনস্যুলেটে ই-পাসপোর্ট সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মিলান-এ ২৪ আগস্ট ২০২৩, উত্তর ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রত্যাশিত ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে।অনুষ্ঠানের শুরুতে কনসাল জেনারেল এম জে এইচ জাবেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রবাসীবান্ধব সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মিলান কনস্যুলেট প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় সব নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর। এক্ষেত্রে উত্তর ইতালিতে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসময় মিলান কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এবং ই-পাসপোর্টের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাদাত হোসেনসহ মিলান কনস্যুলেটে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মিলান কনস্যুলেটে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের উপস্থিতিতে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান ই-পাসপোর্টের শুভ উদ্বোধন করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূত এ সময় উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইতালিতে এনআইডি কার্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া চালু করবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মান্যবর রাষ্ট্রদূত চার জন প্রবাসীর হাতে প্রথমবারের মতো নতুন ই-পাসপোর্ট তুলে দেন। এছাড়া, পরে আরো ছয় আবেদনকারীকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার রিসিট দেওয়া হয়। গত ২৫ জুলাই ইতালি সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালিতে ই-পাসপোর্টের যাত্রা শুরু করার ঘোষণা দেন। এর ধারবাহিকতায় মিলানে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ায় প্রবাসীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বহির্গমন এবং বাংলাদেশের প্রবেশের ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় সহ অনেক ধরণের সুবিধা হবে বলে প্রবাসীরা জানান। মিলানের মতো বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট চালুর মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে বল মনে করেন তারা।

post
টেক মেন্টর

অনলাইন প্রতারণা: ইনস্টাগ্রামে চাকরির বিজ্ঞাপনে প্রায় ১৪ লাখ টাকা খোয়ালেন তরুণী

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়ানোর সাথে সাথে সাইবার অপরাধের হারও সমান পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন কায়দায় সাইবার অপরাধের খবর আসছে গণমাধ্যমে। সম্প্রতি ভারতের মেঙ্গালুরু শহরে তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে। একটি লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে এক তরুণী হারিয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ টাকা। সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত ওই তরুণী ইনস্টাগ্রামে একটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেখেন যাতে বলা হয়েছিল, ‘আপনি উপার্জন করতে পারেন’। বিজ্ঞাপনে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন যেখানে তাকে টেলিগ্রাম অ্যাপে কিছু ব্যক্তিকে মেসেজ করতে বলা হয়। বিনিয়োগের পরামর্শ হিসেবে তাকে জানানো হয় যে, যা বিনিয়োগ করবেন, তার চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি ফেরত পাবেন। প্রথমে সাত হাজার রুপি পাঠিয়ে তিনি প্রতিশ্রুত ৯ হাজার ১০০ রুপি ফেরত পেয়ে যান। তবে, দ্বিতীয় সময়ে ২০ হাজার রুপি পাঠানোর পর কোনো টাকা ফেরত আসে না। তখন তাকে জানানো হয় একাউন্ন ব্লক থাকায় তিনি টাকা পাচ্ছেন না। শেষমেশ তিনি আরও ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫২৫ রুপি পাঠান কিন্তু টাকা ফেরত আসে না। টাকার হিসেবে যা ১৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এরপর যখন ওপাশ থেকে কোন সাড়া পাচ্ছেন না তখন তিনি বুঝতে পারেন পতারনার শিকার হয়েছে। তারপর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা চেষ্টা করছেন যে, পার্টটাইম চাকরিতে বড় আয়ের লোভ দেখিয়ে স্ক্যামাররা যুবপ্রজন্মকে ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করছে। অচেনা লিংকে ক্লিক করা অথবা অচেনা ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর আগে সতর্ক হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

post
এনআরবি লাইফ

স্ট্রোকের লক্ষণ কি? হলেই কি করবেন?

স্ট্রোক হলো ব্রেইন বা মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিস্কের রক্তনালীর অন্যতম একটি রোগ হলো স্ট্রোক। রক্তনালীতে কখনো রক্ত জমাট বেঁধে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণের কারণে ব্রেইনের একটি অংশ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। স্ট্রোক দুই ধরনের এক. মস্তিস্কের রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ দুই. রক্তনালী ব্লক হয়ে গিয়ে মস্তিস্কে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছানো যার ফলে ওই অংশ শুকিয়ে যায়। স্ট্রোকের কারণ অতিরিক্ত টেনশন, হৃদরাগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি বা অতিমাত্রায় কোলেস্টেরলের উপস্থিতির কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এগুলোর থেকেও অন্যতম একটি কারণ হল ধূমপান। স্ট্রোকের লক্ষণইদানীং অনেক কম বয়সী মানুষজনকেও স্ট্রোক করতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে এই স্ট্রোকগুলো মাইনর পর্যায়ের হয়। কিন্তু অজ্ঞতার কারনে, ভুল চিকিৎসায় এই স্ট্রোকের ভয়াবহতা বাড়তে পারে। প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যদি মাইনর স্ট্রোক ধরতে না পারা যায়। তাই সকলের উচিৎ স্ট্রোকের লক্ষন সমূহ জেনে রাখা। এতে মাইনর স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা ও উপযোগী চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে। মুখমণ্ডলের এক পাশ ঝুলে পড়া স্ট্রোকের প্রধান ও প্রথম লক্ষন রোগীর মুখমণ্ডলে ধরা পড়ে।মুখের বাম পাশের মাংস পেশি ঝুলে পড়ে। যার ওপর রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রন থাকে না। লক্ষণটি ভালো করে বুঝতে হলে রোগীকে হাসতে বলুন। তিনি যদি না হাসতে পারেন তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাতে দুর্বলতা অনুভবঅনেক সময় আমরা হাতের দুর্বলতা অনুভবকে পাত্তা দিই না। কিন্তু এটা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষন। স্ট্রোক করার আগে রোগী দুই হাতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন। রোগীকে সাথে সাথে হাত মাথার উপরে তুলে ধরতে বলুন। যদি রোগী বলেন তিনি হাত তুলতে পারছেন না। কিংবা যদি লক্ষ্য করেন হাত ছেড়ে দিচ্ছেন তবে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করুন। কথা জড়িয়ে যাওয়ামস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেলে বা খুব কমে গেলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের আগে কথা জড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে লক্ষণটি ধরা পড়ে। যদি কেউ কথা বলতে বলতে হঠাৎ অস্পষ্ট কথা কিংবা জড়িয়ে যাওয়া গলায় কথা বলতে থাকেন তবে অবশ্যই তা লক্ষণীয়। রোগীকে দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করে দেখুন। যদি আসলেই জড়ানো কথা হয় তবে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করুন। তীব্র মাথা ব্যথাস্ট্রোকের আগে রোগীরা তীব্র মাথা ব্যথার শিকার হয়ে থাকেন। তীব্র মাথা ব্যথা অনেক কারনেই হতে পারে। অনেকের মাইগ্রেন আছে। তীব্র মাথা ব্যথা মাইগ্রেনেও হয়। কিন্তু যদি হঠাৎ করে কোন ধরনের কারণ ছাড়াই মাথার বাম অংশে তীব্র ব্যথা শুরু হয় তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকামস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের বাঁধা পাবার ফলে শরীরের সাধারণ কাজ করার ক্ষমতা ব্যাহত হয়। ফলে হাত পা কিংবা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর স্ট্রোকের রোগীরা নিয়ন্ত্রন হারান। রোগীকে উঠে দাড়াতে বলুন। স্ট্রোকের লক্ষন হিসেবে তিনি উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। সুতরাং স্ট্রোক অবশ্যম্ভাবী। তাকে সাথে সাথে হসপিটালাইজড করতে হবে। শর্ট মেমোরি লসস্ট্রোকের আগে রোগীরা তাদের আপনজনকেও চিনতে পারেন না এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত ভুলে যান। ডাক্তারদের ভাষায় একে শর্ট মেমোরি লস বলে থাকেন। রোগীকে তার নিজের নাম জিজ্ঞেস করুন। তার পরিবারের লোকজনকে চিনতে পারেন কিনা তা দেখুন। তা না হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন। ধন্যবাদ সবাইকে ।কেন দ্রুত হাসপাতালে নেবেন? কারণ স্ট্রোকে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটে ১৯ মিলিয়ন নিউরোন মারা যায়। স্ট্রোকের সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে আসলে আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, যেটাকে বলে আইভি থ্রোম্বলাইসিস। দেশের অনেক হাসপাতালে সীমিত পরিসরে হলেও এ আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে। স্ট্রোক হলে কোন হাসপাতালে যাবেন? স্ট্রোক করলে অনেকে ভুলে রোগীকে হৃদরোগের চিকিৎসা হয় এমন হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা মনে করেন স্ট্রোক বুঝি হার্টের রোগ। আসলে তা নয়। স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের বা ব্রেনের রোগ। তাই স্ট্রোক করলে রোগীকে নিতে হবে এমন হাসপাতালে যেখানে মস্তিষ্কের চিকিৎসা হয়। রোগীকে নিতে হবে নিউরোলজিস্টের কাছে। স্ট্রোকের চিকিৎসা যেকোনো মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগে স্ট্রোকের চিকিৎসা সম্ভব। স্ট্রোকে কেউ আক্রান্ত হলে দেরি না করে নিউরোলজি বিভাগে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ, হার্টের নয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ পালন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলের একযোগে কাজ করার বিকল্প নেই।” ১৫ আগস্ট সোমবার জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটির কর্মসূচি। এরপর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতসহ উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ। এর পর শুরু হয় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে বাঙ্গালী জাতি। এমন একজন মহান ও বিশ্বনন্দিত নেতাকে যারা স্বপরিবারে হত্যা করেছে, তারা এখনো বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করে জাতিকে কলংকমুক্ত করতে সকলকে সরকারের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবার কথা বলেন তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠণের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দন্ডপ্রাপ্ত খুনীদের মধ্যে যারা এখনও বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমরা চাই জাতির পিতার কোনো খুনীই যেন বিচারের হাত থেকে পার না পায়”। বক্তাগণ পনের আগস্টের এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

post
খেলা

আনুষ্ঠানকিভাবে নেইমার এখন আল হিলালের; ব্রাজিলিয়ান তারকা মনে করেন, তার ক্লাব এশিয়ার সেরা

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল স্টার নেইমার। তার যোগদানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে নিশ্চিত করেছে তার ক্লাব। ক্লাবের টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘আমি সৌদি আরবে আছি। আমি আল হিলালি।’ নেইমার জানান, তার লক্ষ্য হলো ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস লেখা। সাবেক এই পিএসজি তারকা মনে করেন সৌদি প্রো লিগে এখন দুর্দান্ত উদ্যম এবং বিশ্বের তারকা অনেক ফুটবলার এখানে আছেন , সামনে আসবেন। নেইমার আরও বলেন, ‘আল হিলাল অনেক বড় ক্লাব, তাদের দুর্দান্ত সমর্থক রয়েছে এবং এশিয়ার মধ্যে এটা সেরা ক্লাব। আমার মনে হচ্ছে আমি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক ক্লাবকেই বেছে নিয়েছি। আমি জিততে এবং গোল করতে ভালোবাসি। সৌদি আরবে আল হিলালের হয়েও সেটা অব্যাহত রাখতে চাই। নেইমার চলে আসায় মন খারাপের এক বিবৃতি দিয়েছেন পিএসজির সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। সেখানে তিনি বলেছেন, 'নেইমারের মতো বিশ্বনন্দিত একজন ফুটবলারকে হারানো এবং বিদায় বলা খুব কঠিন কাজ। সে বিশ্বসেরাদের একজন। আমাদের দারুণ কিছু মুহূর্ত আছে এবং নেইমার সবসময় আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’ ২০১৭ সালে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। বারবার চোটে পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে অর্জনের হিসেব বেশ ভালো। ১৭৩ ম্যাচে করেছেন ১১৮ গোল। জিতেছেন পাঁচটি লিগ ওয়ান এবং তিন ফ্রেঞ্চ কাপের শিরোপা। ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি না হারলে ক্লাবের হয়ে ইতিহাসও গড়া হয়ে যেতো নেইমারের।

post
খেলা

মেসি ম্যাজিকে প্রথমবারের মতো লিগস কাপের ফাইনালে ইন্টার মিয়ামি

আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি যুক্তরাষ্ট্রের সকার লিগ এলএমএসের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবার পর থেকে দারুণ ফর্মে আছে দলটি। জিততে ভুলে যাওয়া দলটি ম্যাচের পর ম্যাচ জিতেই চলছে। নিজের ফুটবল জাদুতে গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে আবিষ্ট করে রেখেছেন লিওনেল মেসি। ১৩ আগষ্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি যে দেখালন তা ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে অনেক অনেক দিন। এদিন পেনসিলভ্যানিয়ার সুবারু পার্কে লিগস কাপের সেমি-ফাইনালের ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে ৪-১ গোলের হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে মেসির মিয়ামি। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলবে তারা। মেসি ছয় ম্যাচে নয় গোল করে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দলকে নিয়ে গেছেন লিগ কাপের ফাইনালে। মিয়ামিতে মেসি যোগ দেওয়ার পর দলটি ছয়টি ম্যাচে ২১টি গোল করেছে। ম্যাচের প্রথম গোলটি অবশ্য এসেছিল হোসেফ মার্টিনেজের পা থেকে। মেসি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ২০ মিনিটে। মিয়ামির জার্সিতে নবম গোলটি মেসি করেছেন ৩০ মিটার দূর থেকে মাটি কামড়ানো এক শটে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মিয়ামির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন জর্ডি আলবা। প্রথমার্ধেই ৩ গোলে পিছিয়ে পড়া ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের পক্ষে ঘুরে দাড়ানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ১টি গোল করে ব্যবধান কমায় তারা। ৮৪ মিনিটে মিয়ামির হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন দাভিদ রুইজ।  ১৯ আগষ্ট শনিবার প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ন্যাশভিলের বিপক্ষে খেলতে নামবে অপ্রতিরোধ্য মেসির দল। ফুটবল বিশ্ব দেখার অপেক্ষায় আছে ইন্টার মিয়ামীর প্রথম শিরোপা মেসির হাতে উঠে কিনা। 

post
এনআরবি বিশ্ব

সাড়ে সাত হাজার মাইল দূরে , তবু হৃদয় জুড়ে বাংলাদেশ!

লেখক: ফারহানা হানিপআর আট দশটা সাধারন মেয়ের মত বেড়ে ওঠা আমার। অস্তিত্ত্বের মাঝে একাত্তর একটা আলাদা জায়গা নিয়ে ছিল আমার চিরদিন। আমাকে ছোটবেলায় সবাই ফারহা নামে ডাকতো। ফারহা থেকে ফারহানা হানিপ, এতগুলো বছরের পথচলা আমাকে একদিনের জন্যও দেশ কিংবা দেশের মাটি থেকে আলাদা করতে পারেনি। বরং প্রতিটি মুহূর্তে আমি অনুভব করেছি মাটি, মা আর একাত্তরকে। আমার কাছে বাঙালীয়ানা শব্দটার পূর্নতা বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের ৭ই মার্চের ভাষনে আর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটা একটুকরো বাংলাদেশ। আমি সবসময় চাইতাম আমার সন্তান যেন ঠিক আমার মত করেই দেশ, মাটি, একাত্তর, বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নেয় হৃদয়ের অন্ত:স্তলে।লেখালেখি আমি তেমন একটা করিনা। সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় আর সংসার সামলে ঠিক হয়েও ওঠেনা। কিন্তু মার্চ মাস এলেই কেমন জানি লাগতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছিল এই মার্চ মাসেই। দেশাত্মবোধক গানগুলো শুনে আজও আমার রোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়। ‘৭১ এ আমার জন্ম হয় নি, কিন্তু বাবা-মার কাছে অনেক শুনেছি সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। অনেকের মতই জীবন সংগ্রামে আজ বসতি গড়েছি বিদেশের মাটিতে, কিন্তু শিকড়টা ঠিকই পড়ে আছে আমার মাতৃভূমি, বাংলাদেশে।তাই দেশকে নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ পেয়ে লোভ সামলাতে পারলাম না। আমার তিন মেয়ে। নাফিসা, প্রিয়েতা আর ইলাফ। ছোট মেয়েটা তখন খুবই ছোট। গত বছর গ্রীষ্মের ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশে বেড়াতে। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের সাথে ঈদ করা আর বিদেশে যে জিনিসটা খুব মিস করি; মেয়েদের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস আর সংস্কৃতির সংযোগ তৈরি করে দেয়া। মাত্র কয়েক সপ্তাহর ছুটি। কিন্তু শত ব্যস্ততার মধ্যেও এবার চেয়েছিলাম মেয়েদেরকে কিছু হলেও ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখাব। লিস্ট করলাম কোথায় কোথায় যাওয়া যায়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল ইত্যাদি ইত্যাদি।ঢাকায়পৌঁছানোর পরই নানা কাজের ব্যাস্ততায় দেখতে দেখতে সময়টা শেষ হয়ে এলো! কিন্তু এবার না হলেই নয়... দিনটি ছিল আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ। জাতীয় শোক দিবস আবার সরকারি ছুটির দিনও। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে প্রাণ হারান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। ভাবছিলাম আজকের দিনটায় কি করা যায়। দেখতে দেখতে চলে যাবার সময় হয়ে গেলো, আর কিছুদিন পরেই আমেরিকায় ফিরতে হবে। ভাবলাম সময় নষ্ট না করে আজকের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করে রাখার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে যদি ওদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘরটা ঘুরে আসা যায়। ওরাও জানলো মাতৃভূমি জন্মের ইতিহাস। কয়েকজন বন্ধুদেরকে ফোন দিলাম কিন্তু কাওকেই পেলাম না, সবাই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও ছুটি কাটাতে গিয়েছে। অতঃপর আমাদের যাত্রা ধানমণ্ডি৩২ নং এর ঐতিহাসিক বাড়ি। ড্রাইভার বেশ অবাক হয়ে বলল, আপা আজ তো সব বন্ধ- শপিং মল, দোকানপাট সব বন্ধ। আমি বললাম ধানমণ্ডি ৩২এ চল। গাড়িতে আমি, দুই মেয়ে আর আমার ভাগ্নে লিংকন। ঘুরতে বের হয়ে প্রথমে বাচ্চাদের আগ্রহ যমুনা ফিউচার পার্ক বা হাতিরঝিল ফ্লাইওভারে থাকলেও পরের ঘটনা ছিল একেবারে ভিন্নরকম!কথা বলতে বলতে কখন যে গাড়ি পৌঁছে গেলো টেরই পাইনি। যদিও ধানমণ্ডি এলাকায় বেশ ট্রাফিক এ পড়তে হয়েছিল। কয়েক বছরে আশেপাশের পরিবেশ অনেক বদলে গেছে। ধানমন্ডির লেক সার্কাসে৩২ নম্বর রোডেই সেই স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি। এখানেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সপরিবারে ছিলেন। এই বাড়ি থেকেই পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি এখান থেকেই দেশ পরিচালনার কাজ করতেন। বাড়ির প্রতিটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সেই সময়ের সব চিহ্নগুলোকে সেভাবেই রেখে দেয়া হয়েছে।১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের ধানমণ্ডি ৩২ এর এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ট্রাস্ট তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সেটাকে জাদুঘরে রূপান্তর করে আর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় ১৯৯৭ সালে। গেটে ঢুকতেই সিকিউরিটি চেকিং। ব্যাগ, মোবাইল, ক্যামেরা সব রেখে ঢুকতে হয়। মেয়েরা ছোট, তাই ক্যামেরা সাথে নেয়ার জন্য খুব বায়না ধরল, কিন্তু ওদেরকে না বললাম। বাসার নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর অফিস রুম। গুলির আঘাতে সব ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সব ঠিক সেভাবে সংরক্ষণ করা আছে। এছাড়া তার বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিবিজড়িত ছবি দিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। জাদুঘরটিতে গাইডের ব্যাবস্থাও আছে যিনি জাদুঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে এর ইতিহাসও বর্ণনা করলেন আমাদের কাছে। আমি বুঝতে পারলাম মেয়েরা তখন আগ্রহ পাচ্ছে। ওদের জন্য বাংলা, আর ইংরেজিতে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছিল। কিন্তু ওদেরকে আমাদের দেশের ইতিহাস পড়ে শোনাতে আমার খুব ভাল লাগছিল। দোতলায় বঙ্গবন্ধুর বেডরুম। এতো বড় মাপের একজন মানুষ, কিন্তু তাঁর কী সাধারণ আটপৌরে জীবন। কোন বিলাসিতা নেই! বাড়ির ভেতরটা ছিল খুবই শান্ত, বিশেষ দিন হওয়াতে লোকজনের বেশ ভিড় ছিল। তবু আমি ওদেরকে পুরো বাড়ির সবগুলো ঘর ঘুরে দেখালাম। হায়নাদের গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল চারপাশের সব দেয়ালগুলো। সেই গুলিতে একতলার সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাশেই পড়ে থাকা তাঁর ভাঙা চশমা ও পছন্দের তামাকের পাইপটি আজও একিভাবে রাখা আছে। রিসেপশান, বেডরুমের সামনে, সিঁড়িতে, বাথরুমে সব জায়গায় নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সপরিবারে হত্যা করে খুনিরা। বাচ্চারা প্রতিটি জিনিস খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল, শুনছিল আর কাগজে নোট করছিল। একটা সময়ে হঠাত খেয়াল করলাম, বড় মেয়েটা খুব ইমোশনাল হয়ে পড়েছে। আমি বুঝতে পারলাম, কিন্তু কিছু বললাম না। সবশেষে গেলাম শেখ রাসেলের রুম এ। তার সেই ব্যবহৃত খেলনা বাই সাইকেল সব ওভাবেই পড়ে আছে। তখন নাফিসা আর চোখের পানি আটকে রাখতে পারল না। আমাকে জরিয়ে ধরে হাঁটছে, ছবি আর জিনিসের কাপশান পড়ছে আর তার চোখ দিয়ে পানি পড়েই যাচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতে আমরা চলে গেলাম বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলের রুমের পাশের ছাঁদে। কেন জানি না, এমন এক মুহূর্তে বাইরে ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছিল। মনের অবস্থা আর পুরো পরিবেশের সাথে একদম মানিয়ে গিয়েছিল বৃষ্টিটা। অচেনা বাতাস আর একটা দীর্ঘশ্বাস। লিওন তখন আমাকে বলল, ফুপ্পি, আমার স্কুল এখানেই। আমরা এখানে আসে পাশে অনেক আসি। কিন্তু এই জাদুঘরে আগে আসা হয়নি। সত্যি, এখানে এসে আমাদের দেশ নিয়ে অনেক কিছু জানলাম। থ্যাঙ্ক ইউ।বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। আমার সন্তানদের জানাতে চাই ওদের মাতৃভূমি সম্পর্কে, কিভাবে জন্ম হল, কিভাবে স্বাধীন হল, কাদের অবদানের জন্য আমরা আজ বাংলায় কথা বলতে পাড়ি, আমার দেশের ইতিহাস অবশ্যই জানা উচিত। মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। ৯ মাস সংগ্রাম, আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে আমরা যে স্বাধীন দেশ পেয়েছি, মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষার জন্য এই আত্মত্যাগের উদাহরণ ইতিহাসে বিরল। আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনকরে বলতে চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমদের দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের ইতিহাস জানে, দেশের জন্য কাজ করে। তাহলেই তারা খুশি হবেন। গ্রীষ্মের ঐ ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাওয়া ছিল আমাদের জন্য সত্যিই সেরা সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা। - ফারহানা হানিপ, ওয়াশিংটন প্রবাসী।

post
বিনোদন

বিয়ে করলেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ

বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ১৪ আগষ্ট সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী। স্বামীর শেখ রেজওয়ান থাকেন দেশের বাইরে। তবে তিনি কি করেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি এখনো। ফেইসবুকে দেয়া স্বামীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, 'সাড়ে আট বছরের সম্পর্কের পর ১১ আগস্ট আমরা অফিসিয়ালি একত্রে হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' অভিনেত্রী নিজের স্বামীর উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “আমরা কলেজে পড়ার সময় প্রেমে পড়েছিলাম। প্রথম ক্যামেরার সামনে আসার আগে তুমি ছিলে আমার জন্য ছায়ার মতো'। আমার কাজের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া সত্ত্বেও সর্বদা আমাকে অনুপ্রাণিত করে এবং আমাকে সমর্থন জুগিয়েছো। আমাদের কিশোর প্রেম অবশেষে প্রাপ্য সমাপ্তি পেয়েছে। এটা এখনও অবাস্তব মনে হয় যে আমি এমন স্বামী পেয়েছি। আমার মনে হয় আমি বেঁচে থাকা সবচেয়ে ভাগ্যবান মেয়ে। আমাকে বিয়ে করার জন্য ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালবাসি এবং আমি তোমাকে আমার বাকি জীবন লালন করব।” অভিনেত্রী আরো জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ পরিবার পরিবেষ্টিত একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাদের আকদ হয়েছে।তার স্বামী বর্তমানে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। তিনি আবার দেশে ফিরে এলে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহকর্মীদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে উদযাপন করবেন এই জুটি।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.