post
ক্যাম্পাস লাইফ

ডব্লিউইউএসটির ক্যাম্পাস ঘুরে গেলেন দুই বাংলায় জনপ্রিয় তরুণ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী স্বপ্নীল সজীব

ওয়াশিংটন ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্যাম্পাস ঘুরে গেলেন দুই বাংলায় জনপ্রিয় তরুণ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী স্বপ্নীল সজীব। সোমবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ডব্লিউইউএসটির ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। দেখা করেন চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ এবং সিএফও ফারহানা হানিপের সাথে। তাদের সাথে কুশল বিনিময়সহ নানাবিধ বিষয়ে আলাপচারিতায় অংশ নেন। পরে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্লাসরুম, আইটি ল্যাব, লাইব্রেরিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এসময় তার সাথে ছিলেন চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। শিল্পীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্যুভিনিয়র তুলে দেন ডব্লিউইউএসটির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক ও প্রধান অর্থকর্মকতা ফারহানা হানিপ। আলাপচারিতায় স্বপ্নীল সজীব জানান, একজন প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ যুক্তরাষ্ট্রে মাটিতে যেভাবে একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন তার জন্য প্রতিটি বাঙ্গালীর মতো তিনিও গর্বিত। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবাধে অনেক বাংলাদেশী মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভাগ্য বদলে যাবে, হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। সেই ছাত্রছাত্রীরা একসময় তাদের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেবেন প্রিয় বাংলাদেশে। এসময় ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন, সম্প্রতি ভার্জিনিয়ায় হয়ে যাওয়া স্বপ্নীল সজীবের একক সংগীত সন্ধ্যা তিনি দারুন উপভোগ করেছেন। মুগ্ধ হয়েছেন তার গানে ও গায়কীতে। গানের মাধ্যমে মানুষকে নির্মল বিনোদন দেয়াটাও এক ধরণের মানবসেবা, বলেন আবুবকর হানিপ। স্বপ্নীল যেন এভাবে আনন্দ বিলিয়ে যেতে পারেন তার জন্য শুভ কামান জানান। সিএফও ফারহানা হানিপ জানান, স্বপ্নীল সজীব তার প্রিয় রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। তাদের আলাপচারিতায় বাংলা সংগীতের নানা দিক নিয়ে উঠে আসে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী স্বপ্নীল সজীব। রবীন্দ্র সংগীতের প্রচারণায় ঘুরে বেড়ান দেশ বিদেশ। তরুণ কণ্ঠশিল্পী বর্তমানে রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি সব ধরনের গান গেয়ে শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করে চলেছেন। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও স্বপ্নীল সজীব গান গেয়ে বাংলাদেশি শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করছেন প্রতিনিয়ত।  বেশ কিছু অনুষ্ঠানে গাইতে গত দুই মাসের মতো সময় ধরে ছুটে বেড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। কিছুদিন পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেলেস শহর কর্তৃক বছরের সেরা রবীন্দ্র শিল্পী মর্যাদাপূর্ণ সার্টিফিকেট অব এক্সিলেন্স -এ ভূষিত হয়েছেন সজীব। সার্টিফিকেট তুলে দেন সিটি কাউন্সিলের সভাপতি পল কুকরিন। গত দেড় মাসে পারফর্ম করেছেন বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। আরও বেশ কিছু প্রোগরামে তার গাইবার কথা রয়েছে। যেমন ১ লা সেপ্টেম্বর ডালাস ফোবানার তিন দিন ব্যাপী সম্মেলনে পারফর্ম করবেন তিনি। তারপর উড়ে যাবেন আটলান্টায়। সেখানেও রয়েছে পরপর দুটি অনুষ্ঠান। তারপর ভার্জিনিয়ায় আবারও ফিরে আসবে ৯ সেপ্টেম্বর একাত্তর ফাউন্ডেশনের আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে গাইতে। বাংলাদেশের ফরিদপুরের ছেলে স্বপ্নীল সজীব গানের শুরুটা মাত্র ৫ বছর বয়সে, মঞ্চে। হাতেখড়ি হয়েছিলো খালা উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী লুত্ফর নাহার লতার কাছে। এরপর ছায়ানটে করেছেন রবীন্দ্রসংগীতে কোর্স। তালিম নিয়েছেন বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কাছে। স্বপ্নীল সজীব লোকসংগীত গেয়ে ১৯৯৮ ও ২০০০ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার। ২০১১ ও ২০১৩ সালে রবীন্দ্র সম্মেলনে অর্জন করেন প্রথম স্থান। ২০১২ সালে ‘চ্যানেল আই নব গান নব প্রাণ’ প্রতিযোগিতায় হয়েছিলেন টপ ফাইনালিস্ট। ঐ বছরই প্রকাশ পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘টেগোর ট্রেজারি’, আর কলকাতা থেকে রিলিজ হয় তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ভাঙা-গড়ায় রবীন্দ্রনাথ। সম্প্রতি প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেমিনারে। সেমিনার শেষে কলকাতায় যোগ দিয়েছিলেন ভারতের ২০তম প্রগতি বাঙলা উৎসবে। সেখানে দেওয়া হয় তাকে সম্মাননা। প্রগতি বাঙলা সেরা বাঙালি ও বঙ্গরত্ন সম্মাননা। রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে কাজ করায় তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।  ভারত ও বাংলাদেশের বাংলা ভাষীদের কাছে জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী স্বপ্নীল। ইতিমধ্যেই পেয়েছেন অনেক সম্মাননা। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার প্লেব্যাক করা কয়েকটি চলচ্চিত্রের গান যেগুলো শীগ্রই মুক্তি পাবে ভারত এবং বাংলাদেশে।

post
আন্তর্জাতিক

ড. ইউনূসের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শতাধিক নোবেল জয়ীসহ ১৬০ বিশ্বনেতার খোলা চিঠি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নোবেলজয়ীসহ ১৬০ জন বৈশ্বিক নেতা খোলা চিঠি দিয়ে ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করার এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন।২৮ আগষ্ট সোমবার এই চিঠি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোভিত্তিক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান সিজিয়ন পিআর নিউজওয়্যার। চিঠিদাতাদের মধ্যে বারাক ওবামা, শিরিন এবাদি, আল গোর, তাওয়াক্কুল কারমান, নাদিয়া মুরাদ, মারিয়া রেসা, হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসসহ ১৪ জন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী রয়েছেন। ওরহান পামুক, জে এম কোয়েটজিসহ ৪ জন সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী রয়েছেন। জোসেফ স্টিগলিৎজসহ অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী আছেন ৭ জন। এ ছাড়া রসায়নে ২৮ জন নোবেল বিজয়ী, চিকিৎসাশাস্ত্রে ২৯ জন নোবেল বিজয়ী এবং পদার্থবিজ্ঞানে ২২ জন নোবেল বিজয়ী রয়েছেন।  এ ছাড়া জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, যুক্তরাজ্যের ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের স্যার রিচার্ড ব্রানসনসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি রয়েছেন চিঠিদাতাদের তালিকায়। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, সামরিক কমান্ডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা রয়েছেন। “ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি চলমান বিচারিক কার্যক্রম আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে, এবং আমরা মনে করি এটি তাকে বিচারকভাবে হেনস্তা করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া,” চিঠিতে বলা হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের মার্চে ৪০ জন বিশ্বনেতা একই ধরনের চিঠি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং ওয়াশিংটন পোস্টে সেই চিঠি ছাপা হয়েছিলো। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সমর্থন জানিয়ে একটি চিঠি প্রকাশ করেন। তার একদিন পর এই ১৬০ জন বিশ্বনেতার চিঠি প্রকাশ হয়ে আবারও আলোচনায় আসলো ড. মুহম্মদ ইউনূস ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ।

post
আন্তর্জাতিক

কারাগার থেকে ট্রাম্পের মুখমণ্ডলের ছবি প্রকাশ

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে জর্জিয়ার ফুলটন কারাগারে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবশ্য এর ২০ মিনিটের মাথায় জামিনে মুক্ত হন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা। এর আগেই নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন রিপাবলিকান এই নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে তার বাসা থেকে ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে জর্জিয়ায় পৌঁছান। এরপর তার বিশাল মোটর শোভাযাত্রায় ফুলটন কাউন্টি আদালতে হাজিরা দেন। আত্মসমর্পণের পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান। তার জামিনে মুচলেকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ডলার। কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্টের আঙুলের ছাপ এবং মুখমণ্ডলের ছবি (মাগশট) নেওয়া হয়েছে যা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা। এ বিষয়ে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তিনি। একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এমন আচরণে অপমানজনক হিসেবে দেখছেন তিনি। আদালতে আবেদন করতে পরবর্তী তারিখে তিনি আবার আসবেন। ট্রাম্পের আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে বাইরে তার সমর্থক এবং আদালতে প্রচণ্ড ভিড় লেগে যায়। আটলান্টা বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় স্বল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সক্ষম হওয়া উচিত আপনার। আমি বিশ্বাস করি, এটি একটি কারচুপির নির্বাচন ছিল। আমি ভুল কিছু করিনি তা সবাই জানে।’

post
এনআরবি বিশ্ব

মিলান কনস্যুলেটে ই-পাসপোর্ট সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মিলান-এ ২৪ আগস্ট ২০২৩, উত্তর ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রত্যাশিত ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে।অনুষ্ঠানের শুরুতে কনসাল জেনারেল এম জে এইচ জাবেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রবাসীবান্ধব সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মিলান কনস্যুলেট প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় সব নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর। এক্ষেত্রে উত্তর ইতালিতে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসময় মিলান কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এবং ই-পাসপোর্টের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাদাত হোসেনসহ মিলান কনস্যুলেটে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মিলান কনস্যুলেটে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের উপস্থিতিতে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান ই-পাসপোর্টের শুভ উদ্বোধন করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূত এ সময় উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইতালিতে এনআইডি কার্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া চালু করবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মান্যবর রাষ্ট্রদূত চার জন প্রবাসীর হাতে প্রথমবারের মতো নতুন ই-পাসপোর্ট তুলে দেন। এছাড়া, পরে আরো ছয় আবেদনকারীকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার রিসিট দেওয়া হয়। গত ২৫ জুলাই ইতালি সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালিতে ই-পাসপোর্টের যাত্রা শুরু করার ঘোষণা দেন। এর ধারবাহিকতায় মিলানে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ায় প্রবাসীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বহির্গমন এবং বাংলাদেশের প্রবেশের ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় সহ অনেক ধরণের সুবিধা হবে বলে প্রবাসীরা জানান। মিলানের মতো বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট চালুর মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে বল মনে করেন তারা।

post
টেক মেন্টর

অনলাইন প্রতারণা: ইনস্টাগ্রামে চাকরির বিজ্ঞাপনে প্রায় ১৪ লাখ টাকা খোয়ালেন তরুণী

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়ানোর সাথে সাথে সাইবার অপরাধের হারও সমান পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন কায়দায় সাইবার অপরাধের খবর আসছে গণমাধ্যমে। সম্প্রতি ভারতের মেঙ্গালুরু শহরে তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে। একটি লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে এক তরুণী হারিয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ টাকা। সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত ওই তরুণী ইনস্টাগ্রামে একটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেখেন যাতে বলা হয়েছিল, ‘আপনি উপার্জন করতে পারেন’। বিজ্ঞাপনে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন যেখানে তাকে টেলিগ্রাম অ্যাপে কিছু ব্যক্তিকে মেসেজ করতে বলা হয়। বিনিয়োগের পরামর্শ হিসেবে তাকে জানানো হয় যে, যা বিনিয়োগ করবেন, তার চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি ফেরত পাবেন। প্রথমে সাত হাজার রুপি পাঠিয়ে তিনি প্রতিশ্রুত ৯ হাজার ১০০ রুপি ফেরত পেয়ে যান। তবে, দ্বিতীয় সময়ে ২০ হাজার রুপি পাঠানোর পর কোনো টাকা ফেরত আসে না। তখন তাকে জানানো হয় একাউন্ন ব্লক থাকায় তিনি টাকা পাচ্ছেন না। শেষমেশ তিনি আরও ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫২৫ রুপি পাঠান কিন্তু টাকা ফেরত আসে না। টাকার হিসেবে যা ১৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এরপর যখন ওপাশ থেকে কোন সাড়া পাচ্ছেন না তখন তিনি বুঝতে পারেন পতারনার শিকার হয়েছে। তারপর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা চেষ্টা করছেন যে, পার্টটাইম চাকরিতে বড় আয়ের লোভ দেখিয়ে স্ক্যামাররা যুবপ্রজন্মকে ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করছে। অচেনা লিংকে ক্লিক করা অথবা অচেনা ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর আগে সতর্ক হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

post
এনআরবি বিশ্ব

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ পালন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলের একযোগে কাজ করার বিকল্প নেই।” ১৫ আগস্ট সোমবার জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটির কর্মসূচি। এরপর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতসহ উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ। এর পর শুরু হয় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে বাঙ্গালী জাতি। এমন একজন মহান ও বিশ্বনন্দিত নেতাকে যারা স্বপরিবারে হত্যা করেছে, তারা এখনো বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করে জাতিকে কলংকমুক্ত করতে সকলকে সরকারের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবার কথা বলেন তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠণের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দন্ডপ্রাপ্ত খুনীদের মধ্যে যারা এখনও বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমরা চাই জাতির পিতার কোনো খুনীই যেন বিচারের হাত থেকে পার না পায়”। বক্তাগণ পনের আগস্টের এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

post
খেলা

আনুষ্ঠানকিভাবে নেইমার এখন আল হিলালের; ব্রাজিলিয়ান তারকা মনে করেন, তার ক্লাব এশিয়ার সেরা

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল স্টার নেইমার। তার যোগদানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে নিশ্চিত করেছে তার ক্লাব। ক্লাবের টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘আমি সৌদি আরবে আছি। আমি আল হিলালি।’ নেইমার জানান, তার লক্ষ্য হলো ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস লেখা। সাবেক এই পিএসজি তারকা মনে করেন সৌদি প্রো লিগে এখন দুর্দান্ত উদ্যম এবং বিশ্বের তারকা অনেক ফুটবলার এখানে আছেন , সামনে আসবেন। নেইমার আরও বলেন, ‘আল হিলাল অনেক বড় ক্লাব, তাদের দুর্দান্ত সমর্থক রয়েছে এবং এশিয়ার মধ্যে এটা সেরা ক্লাব। আমার মনে হচ্ছে আমি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক ক্লাবকেই বেছে নিয়েছি। আমি জিততে এবং গোল করতে ভালোবাসি। সৌদি আরবে আল হিলালের হয়েও সেটা অব্যাহত রাখতে চাই। নেইমার চলে আসায় মন খারাপের এক বিবৃতি দিয়েছেন পিএসজির সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। সেখানে তিনি বলেছেন, 'নেইমারের মতো বিশ্বনন্দিত একজন ফুটবলারকে হারানো এবং বিদায় বলা খুব কঠিন কাজ। সে বিশ্বসেরাদের একজন। আমাদের দারুণ কিছু মুহূর্ত আছে এবং নেইমার সবসময় আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’ ২০১৭ সালে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। বারবার চোটে পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে অর্জনের হিসেব বেশ ভালো। ১৭৩ ম্যাচে করেছেন ১১৮ গোল। জিতেছেন পাঁচটি লিগ ওয়ান এবং তিন ফ্রেঞ্চ কাপের শিরোপা। ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি না হারলে ক্লাবের হয়ে ইতিহাসও গড়া হয়ে যেতো নেইমারের।

post
খেলা

মেসি ম্যাজিকে প্রথমবারের মতো লিগস কাপের ফাইনালে ইন্টার মিয়ামি

আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি যুক্তরাষ্ট্রের সকার লিগ এলএমএসের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবার পর থেকে দারুণ ফর্মে আছে দলটি। জিততে ভুলে যাওয়া দলটি ম্যাচের পর ম্যাচ জিতেই চলছে। নিজের ফুটবল জাদুতে গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে আবিষ্ট করে রেখেছেন লিওনেল মেসি। ১৩ আগষ্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি যে দেখালন তা ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে অনেক অনেক দিন। এদিন পেনসিলভ্যানিয়ার সুবারু পার্কে লিগস কাপের সেমি-ফাইনালের ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে ৪-১ গোলের হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে মেসির মিয়ামি। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলবে তারা। মেসি ছয় ম্যাচে নয় গোল করে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দলকে নিয়ে গেছেন লিগ কাপের ফাইনালে। মিয়ামিতে মেসি যোগ দেওয়ার পর দলটি ছয়টি ম্যাচে ২১টি গোল করেছে। ম্যাচের প্রথম গোলটি অবশ্য এসেছিল হোসেফ মার্টিনেজের পা থেকে। মেসি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ২০ মিনিটে। মিয়ামির জার্সিতে নবম গোলটি মেসি করেছেন ৩০ মিটার দূর থেকে মাটি কামড়ানো এক শটে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মিয়ামির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন জর্ডি আলবা। প্রথমার্ধেই ৩ গোলে পিছিয়ে পড়া ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের পক্ষে ঘুরে দাড়ানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ১টি গোল করে ব্যবধান কমায় তারা। ৮৪ মিনিটে মিয়ামির হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন দাভিদ রুইজ।  ১৯ আগষ্ট শনিবার প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ন্যাশভিলের বিপক্ষে খেলতে নামবে অপ্রতিরোধ্য মেসির দল। ফুটবল বিশ্ব দেখার অপেক্ষায় আছে ইন্টার মিয়ামীর প্রথম শিরোপা মেসির হাতে উঠে কিনা। 

post
প্রযুক্তি

এক মাসের ব্যবধানে ব্যবহারকারী হারাতে শুরু করেছে থ্রেডস!

লোগো পরিবর্তন হলেও মাইক্রোব্লগিং বাজার দখল করে রেখেছে টুইটার। টুইটারকে টক্কর দেওয়ার জন্য মেটা প্রধান মার্ক জুকারবার্গ জুলাইয়ের শুরুতে থ্রেডস অ্যাপ চালু করেন। প্রথমদিকে বিশ্ব জুড়ে দৈনিক নতুন ব্যবহারকারীর হিসেবে টুইটারকে ভালোই টক্কর দিয়েছিল এই নতুন অ্যাপ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর একমাসের মধ্যেই থ্রেডসের ব্যবহারকারীর সংখ্যায় ব্যাপক ধস নেমেছে। প্রথম ৩০ দিনেই প্রায় ৭৯ শতাংশ ব্যবহারকারী হারিয়েছে থ্রেডস।সিমিলারওয়েবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই এই থ্রেডস অ্যাপের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৯.৩ মিলিয়ন। সেখানে ঠিক একমাসের ব্যবধানে ৭ আগস্টে ওই অ্যাপে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৩ মিলিয়নে। আবার ৭ জুলাইয়ের হিসাবে বিশ্ব জুড়ে থ্রেডস অ্যাপের সক্রিয় ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৪ মিনিট সময় ওই অ্যাপে ব্যয় করতো। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই থ্রেডস ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২১ মিনিট সময় ওই অ্যাপে ব্যয় করত। সাম্প্রতিক রিপোর্টে সেই সময়টা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ মিনিটে।প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, টুইটারের দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যার কাছে থ্রেডসের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় কিছুই নয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টুইটারের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ মিলিয়নেরও বেশি। যারা টুইটারে প্রতিদিন গড়ে ২৫ মিনিট সময় কাটান। আনুষ্ঠানিক যাত্রার সময় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই অ্যাপকে ‘টুইটার কিলার’ হিসেবে অভিহিত করছিল। উন্মুক্ত হওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ ব্যবহারকারী এতে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। মার্ক জুকারবার্গ বলেছিলেন, ‘এটি বড় হতে সময় নেবে। কিন্তু আমি মনে করি ১০০ কোটি ব্যবহারকারী সমৃদ্ধ একটি কথোপকথন অ্যাপস থাকা উচিত। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও টুইটার এটি করতে পারেনি। তবে আশা করি আমরা পারব।’

post
এনআরবি বিশ্ব

সাড়ে সাত হাজার মাইল দূরে , তবু হৃদয় জুড়ে বাংলাদেশ!

লেখক: ফারহানা হানিপআর আট দশটা সাধারন মেয়ের মত বেড়ে ওঠা আমার। অস্তিত্ত্বের মাঝে একাত্তর একটা আলাদা জায়গা নিয়ে ছিল আমার চিরদিন। আমাকে ছোটবেলায় সবাই ফারহা নামে ডাকতো। ফারহা থেকে ফারহানা হানিপ, এতগুলো বছরের পথচলা আমাকে একদিনের জন্যও দেশ কিংবা দেশের মাটি থেকে আলাদা করতে পারেনি। বরং প্রতিটি মুহূর্তে আমি অনুভব করেছি মাটি, মা আর একাত্তরকে। আমার কাছে বাঙালীয়ানা শব্দটার পূর্নতা বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের ৭ই মার্চের ভাষনে আর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটা একটুকরো বাংলাদেশ। আমি সবসময় চাইতাম আমার সন্তান যেন ঠিক আমার মত করেই দেশ, মাটি, একাত্তর, বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নেয় হৃদয়ের অন্ত:স্তলে।লেখালেখি আমি তেমন একটা করিনা। সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় আর সংসার সামলে ঠিক হয়েও ওঠেনা। কিন্তু মার্চ মাস এলেই কেমন জানি লাগতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছিল এই মার্চ মাসেই। দেশাত্মবোধক গানগুলো শুনে আজও আমার রোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়। ‘৭১ এ আমার জন্ম হয় নি, কিন্তু বাবা-মার কাছে অনেক শুনেছি সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। অনেকের মতই জীবন সংগ্রামে আজ বসতি গড়েছি বিদেশের মাটিতে, কিন্তু শিকড়টা ঠিকই পড়ে আছে আমার মাতৃভূমি, বাংলাদেশে।তাই দেশকে নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ পেয়ে লোভ সামলাতে পারলাম না। আমার তিন মেয়ে। নাফিসা, প্রিয়েতা আর ইলাফ। ছোট মেয়েটা তখন খুবই ছোট। গত বছর গ্রীষ্মের ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশে বেড়াতে। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের সাথে ঈদ করা আর বিদেশে যে জিনিসটা খুব মিস করি; মেয়েদের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস আর সংস্কৃতির সংযোগ তৈরি করে দেয়া। মাত্র কয়েক সপ্তাহর ছুটি। কিন্তু শত ব্যস্ততার মধ্যেও এবার চেয়েছিলাম মেয়েদেরকে কিছু হলেও ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখাব। লিস্ট করলাম কোথায় কোথায় যাওয়া যায়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল ইত্যাদি ইত্যাদি।ঢাকায়পৌঁছানোর পরই নানা কাজের ব্যাস্ততায় দেখতে দেখতে সময়টা শেষ হয়ে এলো! কিন্তু এবার না হলেই নয়... দিনটি ছিল আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ। জাতীয় শোক দিবস আবার সরকারি ছুটির দিনও। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে প্রাণ হারান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। ভাবছিলাম আজকের দিনটায় কি করা যায়। দেখতে দেখতে চলে যাবার সময় হয়ে গেলো, আর কিছুদিন পরেই আমেরিকায় ফিরতে হবে। ভাবলাম সময় নষ্ট না করে আজকের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করে রাখার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে যদি ওদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘরটা ঘুরে আসা যায়। ওরাও জানলো মাতৃভূমি জন্মের ইতিহাস। কয়েকজন বন্ধুদেরকে ফোন দিলাম কিন্তু কাওকেই পেলাম না, সবাই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও ছুটি কাটাতে গিয়েছে। অতঃপর আমাদের যাত্রা ধানমণ্ডি৩২ নং এর ঐতিহাসিক বাড়ি। ড্রাইভার বেশ অবাক হয়ে বলল, আপা আজ তো সব বন্ধ- শপিং মল, দোকানপাট সব বন্ধ। আমি বললাম ধানমণ্ডি ৩২এ চল। গাড়িতে আমি, দুই মেয়ে আর আমার ভাগ্নে লিংকন। ঘুরতে বের হয়ে প্রথমে বাচ্চাদের আগ্রহ যমুনা ফিউচার পার্ক বা হাতিরঝিল ফ্লাইওভারে থাকলেও পরের ঘটনা ছিল একেবারে ভিন্নরকম!কথা বলতে বলতে কখন যে গাড়ি পৌঁছে গেলো টেরই পাইনি। যদিও ধানমণ্ডি এলাকায় বেশ ট্রাফিক এ পড়তে হয়েছিল। কয়েক বছরে আশেপাশের পরিবেশ অনেক বদলে গেছে। ধানমন্ডির লেক সার্কাসে৩২ নম্বর রোডেই সেই স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি। এখানেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সপরিবারে ছিলেন। এই বাড়ি থেকেই পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি এখান থেকেই দেশ পরিচালনার কাজ করতেন। বাড়ির প্রতিটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সেই সময়ের সব চিহ্নগুলোকে সেভাবেই রেখে দেয়া হয়েছে।১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের ধানমণ্ডি ৩২ এর এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ট্রাস্ট তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সেটাকে জাদুঘরে রূপান্তর করে আর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় ১৯৯৭ সালে। গেটে ঢুকতেই সিকিউরিটি চেকিং। ব্যাগ, মোবাইল, ক্যামেরা সব রেখে ঢুকতে হয়। মেয়েরা ছোট, তাই ক্যামেরা সাথে নেয়ার জন্য খুব বায়না ধরল, কিন্তু ওদেরকে না বললাম। বাসার নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর অফিস রুম। গুলির আঘাতে সব ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সব ঠিক সেভাবে সংরক্ষণ করা আছে। এছাড়া তার বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিবিজড়িত ছবি দিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। জাদুঘরটিতে গাইডের ব্যাবস্থাও আছে যিনি জাদুঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে এর ইতিহাসও বর্ণনা করলেন আমাদের কাছে। আমি বুঝতে পারলাম মেয়েরা তখন আগ্রহ পাচ্ছে। ওদের জন্য বাংলা, আর ইংরেজিতে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছিল। কিন্তু ওদেরকে আমাদের দেশের ইতিহাস পড়ে শোনাতে আমার খুব ভাল লাগছিল। দোতলায় বঙ্গবন্ধুর বেডরুম। এতো বড় মাপের একজন মানুষ, কিন্তু তাঁর কী সাধারণ আটপৌরে জীবন। কোন বিলাসিতা নেই! বাড়ির ভেতরটা ছিল খুবই শান্ত, বিশেষ দিন হওয়াতে লোকজনের বেশ ভিড় ছিল। তবু আমি ওদেরকে পুরো বাড়ির সবগুলো ঘর ঘুরে দেখালাম। হায়নাদের গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল চারপাশের সব দেয়ালগুলো। সেই গুলিতে একতলার সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাশেই পড়ে থাকা তাঁর ভাঙা চশমা ও পছন্দের তামাকের পাইপটি আজও একিভাবে রাখা আছে। রিসেপশান, বেডরুমের সামনে, সিঁড়িতে, বাথরুমে সব জায়গায় নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সপরিবারে হত্যা করে খুনিরা। বাচ্চারা প্রতিটি জিনিস খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল, শুনছিল আর কাগজে নোট করছিল। একটা সময়ে হঠাত খেয়াল করলাম, বড় মেয়েটা খুব ইমোশনাল হয়ে পড়েছে। আমি বুঝতে পারলাম, কিন্তু কিছু বললাম না। সবশেষে গেলাম শেখ রাসেলের রুম এ। তার সেই ব্যবহৃত খেলনা বাই সাইকেল সব ওভাবেই পড়ে আছে। তখন নাফিসা আর চোখের পানি আটকে রাখতে পারল না। আমাকে জরিয়ে ধরে হাঁটছে, ছবি আর জিনিসের কাপশান পড়ছে আর তার চোখ দিয়ে পানি পড়েই যাচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতে আমরা চলে গেলাম বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলের রুমের পাশের ছাঁদে। কেন জানি না, এমন এক মুহূর্তে বাইরে ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছিল। মনের অবস্থা আর পুরো পরিবেশের সাথে একদম মানিয়ে গিয়েছিল বৃষ্টিটা। অচেনা বাতাস আর একটা দীর্ঘশ্বাস। লিওন তখন আমাকে বলল, ফুপ্পি, আমার স্কুল এখানেই। আমরা এখানে আসে পাশে অনেক আসি। কিন্তু এই জাদুঘরে আগে আসা হয়নি। সত্যি, এখানে এসে আমাদের দেশ নিয়ে অনেক কিছু জানলাম। থ্যাঙ্ক ইউ।বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। আমার সন্তানদের জানাতে চাই ওদের মাতৃভূমি সম্পর্কে, কিভাবে জন্ম হল, কিভাবে স্বাধীন হল, কাদের অবদানের জন্য আমরা আজ বাংলায় কথা বলতে পাড়ি, আমার দেশের ইতিহাস অবশ্যই জানা উচিত। মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। ৯ মাস সংগ্রাম, আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে আমরা যে স্বাধীন দেশ পেয়েছি, মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষার জন্য এই আত্মত্যাগের উদাহরণ ইতিহাসে বিরল। আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনকরে বলতে চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমদের দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের ইতিহাস জানে, দেশের জন্য কাজ করে। তাহলেই তারা খুশি হবেন। গ্রীষ্মের ঐ ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাওয়া ছিল আমাদের জন্য সত্যিই সেরা সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতা। - ফারহানা হানিপ, ওয়াশিংটন প্রবাসী।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.