post
এনআরবি বিশ্ব

মালদ্বীপে সাততলা থেকে পড়ে এক প্রবাসী শ্রমিক আহত

মালদ্বীপে এসি লাগাতে গিয়ে সাততলা থেকে পড়ে এক প্রবাসী শ্রমিক আহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই শ্রমিক বাংলাদেশি নাগরিক। তবে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। বয়স ২৫ বছর বলা হয়েছে। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে দেশটির রাজধানী মালে শহরে ঘটে এ ঘটনা। তবে রোববার (২৯ জানুয়ারি) পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করে স্থানীয় গণমাধ্যম।বর্তমানে আহত ওই শ্রমিককে মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এটি মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাশেদ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (আরসিসি) ইউনিফর্ম পরা ওই কর্মী এসি লাগাতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। এরপর এলাকাবাসী ও আরসিসি কর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।হাসপাতালের একজন মিডিয়া অফিসার গণমাধ্যমকে জানান, আহত ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি।মালদ্বীপের পুলিশ জানিয়েছে, তারা শনিবার বিকেলে ভবন থেকে এক ব্যক্তির পড়ে যাওয়ার খবর পায়।এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে একই কোম্পানির কর্মী কাজ করতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তখন ওপর থেকে রড পড়ে তার কপালে ঢুকে যায়। পরে মালের এডিকা হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় তার।

post
বাংলাদেশ

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে ঋণ পেতে যাচ্ছে

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন তহবিল থেকে প্রথম ঋণ পেতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বে প্রথম এই ঋণটি পায় বার্বাডোজ, তারপর কোস্টারিকা, আর সবশেষে রুয়ান্ডা। এরপরই ঋণ পাওয়ার তালিকায় আছে আরও পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশের নাম। নতুন এই ঋণ তহবিলের নাম রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আইএমএফের বোর্ড এই তহবিলের অনুমোদন দেয় আর কার্যকর হয় পয়লা মে থেকে। যেসব স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্যই এই তহবিলের সৃষ্টি। আইএমএফ বলছে, যেসব দেশের আয় কম, ঋণ পরিশোধের দায় বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, এতে উন্নয়ন ব্যয়ে ঘাটতি পড়ে, তাদের জন্যই এই তহবিল। সংস্থাটি বলছে, কোভিড-১৯-এর পরে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশেরই ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এই তহবিলের প্রয়োজনও অনেক বেড়ে গেছে। জলবায়ু ঝুঁকি যেভাবে দায় বাড়াচ্ছে আইএমএফের মতে, জলবায়ু ঝুঁকি একটি দেশের ঋণসংকটকে তীব্রতর করে। দুইভাবে সরকারের এই ঋণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যেমন ঋণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে তার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের ঋণ মান সংস্থাগুলো সম্প্রতি কোনো কোনো দেশের ঋণ ঝুঁকি (কান্ট্রি রিস্ক) যাচাইয়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো ভৌত পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিকে বিবেচনার মধ্যে আনছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ঋণ গ্রহণে গুনতে হচ্ছে বাড়তি সুদ। জাতিসংঘের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের সুদ পরিশোধে প্রতি ১০ ডলারে অতিরিক্ত আরও ১ ডলার ব্যয় করতে হয়। অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বাংলাদেশের রাজস্ব আয় অত্যন্ত কম। দেশের রাজস্ব আয় এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আর প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয়ের ২১ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। বিপুল অঙ্কের এ ঋণদায় মেটাতে সরকারকে ধারাবাহিকভাবে বাজেটঘাটতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আবার বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারও ঋণ নিতে হয়। এভাবে ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হয় বলে জলবায়ু অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকছে। বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জলবায়ু অর্থায়নে বাজেটে বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। আর এর আগের দুই অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে সরকারের চলমান বৃহৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার প্রকল্পগুলোতে জিডিপির ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।অর্থনৈতিক মন্দাদশার চাপ বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। এর ৫৮ শতাংশই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ। আর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এক যৌথ প্রতিবেদনে ঋণের স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনো নিম্ন ঋণ ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছরজুড়েই ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা এখন ৮ শতাংশের বেশি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে আছে নানা উদ্বেগ। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ওঠানামা রয়েছে। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। ফলে আড়ালেই চলে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি বনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ পরিচালিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক’ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুই দশকে এ ক্ষেত্রে দেশটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৭২ কোটি ডলার। গত ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশে কৃষি খাতের অবদান এখনো মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশ আজও কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিককালে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহারের ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে ধ্বংস হয়েছে পটাশিয়ামসহ মাটির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশ্বব্যাংক বলছে, গত ৩০ বছরে মাটিতে সারের ব্যবহার ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ৩০ বছরের মধ্যে দেশে খাবার পানীয় ও সেচব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। এতে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত চাল উৎপাদন কমে যেতে পারে। চাল ছাড়াও গম, সবজি ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ প্রভাব পড়বে।শুধু বাংলাদেশই নয় উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু ঋণ পরিশোধের চাপে জলবায়ু অর্থায়নে রাজস্ব সক্ষমতা হারাচ্ছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ একা নয়। জলবায়ু ঝুঁকিতে আছে এমন ৫৫টি স্বল্প ও উন্নয়নশীল দেশ মিলে গঠন করেছে ভালনার‍্যাবল গ্রুপ অব টোয়েন্টি (ভি ২০)। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। গ্রুপের ২২টি দরিদ্র দেশ ইতিমধ্যে উচ্চ ঋণ ঝুঁকিতে আছে। ভি ২০ গ্রুপের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এসব দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যৌক্তিক সমাধান করা না গেলে আগামী দশকে একটি বড় বৈশ্বিক ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন তহবিল কতটা সহায়ক বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে। এর মধ্যে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফান্ড বা আরএসএফ থেকে চেয়েছে ১৩০ কোটি ডলার। নিয়ম হচ্ছে, আইএমএফের কোনো একটি ঋণ কর্মসূচির মধ্যে থাকলেই কেবল আরএসটি থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশই এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই ঋণ চেয়েছে। ঋণের অর্থ দেওয়া হবে ১৮ মাসে। পরিশোধের সময় ২০ বছর, আর এর বাড়তি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে সাড়ে ১০ বছর। এই ঋণের সঙ্গেও শর্ত থাকবে। ঋণ পেতে আইএমএফের ভাষায় বেশ কিছু উচ্চ মানের বা ‘হাই কোয়ালিটি’ সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করার মতো কর্মসূচি। প্রশ্ন হচ্ছে এই তহবিল কি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর হবে। বাংলাদেশই বা লাভবান হবে কতটা। আসলে এর উত্তর পাওয়া যাবে সামনের দিনগুলোতেই। সুত্র- প্রথম আলো 

post
অভিবাসন

প্রবাসীদের হুন্ডি করে দেশে টাকা না পাঠানোর অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

প্রবাসীদের হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (০৪ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা অনুরোধ করবো- যে এখন যারা রেমিট্যান্স পাঠায় যেন হুন্ডি না পাঠিয়ে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে যাতে পাঠায় সে ব্যবস্থাটা করা।’ প্রবাসীদের দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা তো যৌথ উদ্যোগে দিচ্ছি, এখন তো অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। সেখানে কিন্তু যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতে চায় তারা কিন্তু সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে। সে জন্য পার্টনার খুঁজে নিয়ে আসলে আরও ভালো হয়। বিনিয়োগ যত আসবে তত ভালো।’ দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ ভালোই আসছে। বিদেশী বিনিয়োগ, সবার একটা ভালো আকাঙ্খা, বাংলাদেশের দিকে সকলের দৃষ্টি। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে।’ মানুষের যাতে খাওয়ার কষ্ট না হয় সেজন্য সরকারের আন্তরিকতার জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যতটাকা লাগুক, যেখান থেকে পারি খাবার জিনিস আমরা কিনে নিয়ে আসছি। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য আমাদের একটু সমস্যা। আর তা না হলে আমাদের কোন সমস্যা থাকার কথা না। মানুষের খাওয়ার কষ্ট আমরা হতে দেবো না।’ দেশে মূল্যস্ফীতি কমতির দিকে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা তো সব জায়গায় লেগেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষের খুবই কষ্ট। মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। তবে আমাদের এই এখন কিছু মূল্যস্ফীতি কমেছে। একটু ভালোর দিকে।’ এবার ফসল ভালো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর আল্লাহর রহমতে ফসল ভালো হইছে। আমনও খুব ভালো বাম্পার ফলন। এখন বোরো লাগানোর জন্য সবাই খুব ব্যস্ত। ’ দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই খুব ভালো কাজ করছে বলে জানান তিনি।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিদেশিদের প্রবাসী আয় নেওয়ার পরিমাণ ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের বৈধভাবে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় নেওয়ার পরিমাণ বছর বছর বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে তা প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই অর্থ দেশীয় মুদ্রায় ৮৫০ কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা হিসাবে)। বাংলাদেশে কাজ করে বিদেশিরা যে পরিমাণ রেমিট্যান্স নিয়ে গেছেন, তা দেশের একই বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত দ্য গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (নৌম্যাড) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তাদের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স নিজেদের দেশে পাঠান বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা। সেটি গত বছর ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০ কোটি ১০ লাখ উঠেছে।নৌম্যাডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা ২০১২ সালে মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স নিজ দেশে নিয়েছিলেন। পরবর্তী এক দশকের মধ্যে এক বছর ছাড়া সংখ্যাটি কেবলই বেড়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশিদের রেমিট্যান্স নেওয়ার পরিমাণ বেড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়ায়। পরের বছরে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স নিজেদের দেশে পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা। অবশ্য নৌম্যাডের পরিসংখ্যানটি আংশিক। এর কারণ ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়াও অবৈধভাবে রেমিট্যান্স নিজ নিজ দেশে পাঠান বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতার নামে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ২৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়। কম করে ধরলেও বাংলাদেশে আড়াই লাখ বিদেশি কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে পর্যটক ভিসায় এসে কাজ করেন ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মী। এসব বিদেশি কর্মী প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেন।টিআইবি জানায়, এ দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে গেলে জনপ্রতি নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৩ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। বৈধভাবে বিদেশি কর্মী আনা হলে আটটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী আনা হলে তিন ধাপেই নিয়োগ চক্র শেষ হয়। সে জন্য বেশির ভাগ পর্যটক ভিসায় এসে এ দেশে কাজ করেন।টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আট ধরনের কাগজপত্র ঠিক করতে এই নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন করতে হয়। সেগুলো হচ্ছে ভিসার সুপারিশপত্র, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভিসা সংগ্রহ, বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন, কর্ম অনুমতির জন্য আবেদন, নিরাপত্তা ছাড়পত্র (এসবি পুলিশ), নিরাপত্তা ছাড়পত্র (জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা), নিরাপত্তা ছাড়পত্র (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ও ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ঘুষ দিতে হয়।

post
আন্তর্জাতিক

চীনে হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

চীনে হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। কাউকে দেশটিতে না ঢোকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ‘যদি এই মুহূর্তে চীনের বাইরে থাকেন, তাহলে ফিরে আসবেন না’—এমনই আহ্বান জানিয়েছেন চীনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক ব্যবহারকারী।সম্প্রতি চীনে ফিরে কয়েক দিনের মধ্যেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এই ব্যক্তি। এবং জানিয়েছেন চেনা-পরিচিত সবার করোনা হচ্ছে এবং শরীরে জ্বর। বিধি নিষেধ না মানার কারণেই পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে বলে মত অনেকের। খবরে বলা হয়েছে, করোনা রুখতে চীন সরকারের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন দেশটির বাসিন্দারা। এরপর চলতি বছরের শুরুতে অনেক বিধিনিষেধ তুলেও নেওয়া হয়। এতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। পরিস্থিতি এখন এতটাই খারাপ যে দেশটির হাসপাতালগুলো রোগীর চাপ সামলাতে পারছে না। শুধু করোনার ধাক্কাই নয়। বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর নতুন একটি ঘোষণা দেয় ঝেজিয়াং ও আনহুই প্রদেশ এবং চংকিং শহর কর্তৃপক্ষ। ঘোষণা অনুযায়ী, কারও শরীরে যদি করোনার অল্প উপসর্গ থাকে কিংবা কোনো উপসর্গ না থাকে, তাকে কাজে যেতে হবে। গত সোমবার থেকে এই ঘোষণা সংশ্লিষ্ট হ্যাশট্যাগ চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে ৩ কোটি ৩০ লাখ বারের বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। ওই হ্যাশট্যাগ ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগই আতঙ্ক ও ভয়ের কথা প্রকাশ করেছেন। যেমন উইবোতে একজন লিখেছেন, ‘গত তিন বছরে আমাদের অফিসে যাওয়ার কোনো প্রস্তুতি ছিল না। হঠাৎ করে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলো, আর বলা হলো, আপনি অসুস্থ হয়েও কাজে যেতে পারবেন। পিঁপড়ার মতোই আমাদের জীবনেরও যেন কোনো মূল্য নেই।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘মাত্র কয়েক মাস আগেও লোকজন করোনা পজিটিভ হয়ে কাজে গেলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতো।’ শরীরে করোনা নিয়ে চীনারা কীভাবে দিন পার করছেন, গত দুই সপ্তাহে এমন সব ভিডিওতে ছেয়ে গেছে দেশটির ইন্টারনেটে। চীনের গণমাধ্যমের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীরা তাঁদের অসুস্থ বাবা-মায়ের জন্য খাবার ও পানি নিয়ে যাচ্ছেন। একই বাড়ির মধ্যে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনেককে দেখা গেছে ভিন্ন সব কৌশল বেছে নিতে। অনেকেই আবার ব্যথানাশক ওষুধ কিনে তা পৌঁছে দিচ্ছেন অসুস্থ মানুষের কাছে।

post
বাংলাদেশ

জ্বালানি নিরাপত্তায় আমিরাতের স‌ঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে বাংলাদেশ

জ্বালানি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশটি স্বল্প মূল্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-আবুধাবি রুটে আবুধাবি ভিত্তিক উইজ এয়ার পরিচালনায় বাংলাদেশের সহযোগিতা চায়।বুধবার (৭ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাতে আসেন ঢাকায় নিযুক্ত আমিরাতের নতুন রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লা আলি আলহামুদি। এ সময় উভয়পক্ষ যার যার আগ্রহের কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে। রাষ্ট্রদূতের মেয়াদকালে পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান ও শিপিং সংযোগ, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সৌরশক্তি, ওষুধ, আইটি ও বনায়ন বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি আগামী বছর দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় কপ-২৮ সম্মেলনে বাংলাদেশের সহযোগিতা চান।

post
বাংলাদেশ

যুদ্ধে কোনো সমাধান নেই--আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সংঘাত নয়, আমরা সমঝোতায় বিশ্বাসী। সেভাবে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যুদ্ধে কোনো সমাধান নেই। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তা আমরা দেখেছি’।বুধবার ইনানীর পাটুয়ারটেকস্থ বঙ্গোপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বুধবার বেলা ১১টা ২২ মিনিটে নৌবাহিনীসহ সবাইকে স্বাগত জানিয়ে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌমহড়ায় যেসব দেশ যোগদান করেছে, তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি। এ সময় ১৫ আগস্ট কালো রাতে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ পরিবারের সব সদস্য ও বীর শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে শক্তিশালী দেশে রূপান্তর করতে উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধু। সব দেশের সঙ্গে সুসসম্পর্ক রেখে আমরা দেশ পরিচালনা করছি। এগিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বন্ধুত্ব’ প্রতিপাদ্যে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। অনুষ্ঠানে ভাষণ শেষে ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতে নবনির্মিত নেভি জেটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌবাহিনীর সদর দপ্তর জানিয়েছে, মহড়ায় বাংলাদেশসহ ২৮ দেশের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ, ২টি বিএন এমপিএ, ৪টি বিএন হেলিকপ্টার অংশ নেয়। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, মিশর, নাইজেরিয়া, সুদান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিমুর থেকে নৌ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। মহড়ায় ইরান, ওমান, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২০১৭ সালের নভেম্বরে কক্সবাজারে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম বহুপাক্ষিক মেরিটাইম অনুসন্ধান ও উদ্ধার মহড়ার আয়োজন করেছিল। এর পর গত ১২-১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ও কক্সবাজারে ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

post
বাংলাদেশ

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি একদিন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুনাম অর্জন করবে- চ্যান্সেলর হানিপ

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন, তিনি তাঁর ইউনিভার্সিটি কে মানি মেকিং মেশিন বানাতে চান না, তিনি চান তাঁর এই ইউনিভার্সিটি একদিন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুনাম অর্জন করবে।“বর্তমানে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি তে প্রায় পাঁচশত বাংলাদেশিরা পড়াশোনা করছেন। আমি আশা করছি তারা তাদের গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরে একটা উন্নত জীবন শুরু করতে পারবে কারণ আমার ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও ইন্ডাস্ট্রি উভয় জ্ঞানই অর্জন করছে, এর ফলে তারা দক্ষ হয়ে চাকরি জীবনে প্রবেশ করবে,” তিনি বলেন।রবিবার (নভেম্বর ২০) সন্ধায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে পলিটেকনিক স্টুডেন্টদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্ট এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মানবসম্পদ হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ, আমাদের সেটা আছে, এটা কে কাজে লাগাতে হবে। ‘আমরা প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশিকে আমেরিকার মূলধারায় চাকরি দিয়েছি। কাজে দক্ষতা অর্জন করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই’।তিনি বলেন, ‘আমেরিকাতে যেসব লোক যায় তারা সাধারণত এন্ট্রি লেভেল জব খোঁজে কিন্তু আমরা তাদের মাত্র চার মাসের আইটি ট্রেইনিং দিয়ে আমেরিকার মূল ধারায় প্রায় ১০০ হাজার ডলারের জব দিচ্ছি’। তিনি বলেন, এই গ্লোবাল মার্কেটে যেকোনো জায়গায় থেকে কাজ করা যায়, সেটার জন্য দরকার দক্ষতা ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা। একজন শিক্ষার্থীকে সব বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে না তাকে যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলেই হবে। ‘আমরা বাংলাদেশে ২০১৪ সালে পিপলএনটেক প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের এই প্রতিষ্ঠান ট্রেনিং এর মাধ্যমে প্রায় এ পর্যন্ত ৫০০০ শিক্ষার্থীকে দক্ষভাবে করে তুলে তাদের চাকরি দিয়েছি। তারা বাংলাদেশে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করে দেশে রেমিট্যান্স নিয়ে আসছে’। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে তিনটি অর্থনৈতিক স্তম্ভের ওপরে। সেগুলো হচ্ছে—কৃষি, তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স। যদি আইটি চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে দাঁড় করানো যায় তাহলে বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। গত করোনার মধ্যে অনেকে তাদের চাকরি হারিয়েছে কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির যুগ্ম সচিব, পরিচালক ফাইন্যান্স ও এডমিন এ এন এম শাফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিটিও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তপন ক্রান্তি সরকার, প্রিমেসিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মাছুদ খান, পিপলএনটেক ইন্সটিটিউট অফ আইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশরুল হোসাইন খান লিওন, নেটওয়ার্কিং হেড অফ ফ্যাকল্টি কাজী মাহমুদুল হক সহ অন্যান্য অতিথি বৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অফ আইটির ব্যবস্থাপক এইচ আর এডমিন তৌহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পিপলএনটেকের কর্মকর্তা ও ছাত্র ছাত্রীর অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে।

post
দূতাবাস খবর

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল-জায়ানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বাহরাইনের মানামায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস, বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে বাহরাইন সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বাহরাইনে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের জন্য বাহরাইন সরকারকে ধন্যবাদ জানান। ড. মোমেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি পেশার জনবলসহ আরো দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দূতাবাস ভবন নির্মাণের জন্য জমি বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা করেন। এছাড়া মানামায় বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুলের জন্য বাহরাইন সরকারের সহযোগিতার জন্য ড. মোমেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ফোরামে একে অপরের প্রার্থীদের পারস্পরিক সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন। উভয় মন্ত্রী কোভিড মহামারির কারণে আটকে পড়া প্রবাসী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং পর্যটকদের জন্য ভিসা সহজ করাসহ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বাহরাইন সফরকালে ১৮-১৯ নভেম্বর, ২০২২ অনুষ্ঠেয় মানামা সংলাপেও যোগ দেবেন। বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বাহরাইন সফর করছেন।

post
আন্তর্জাতিক

​ভেঙে পড়ার আগে দুলছিল গুজরাটের ঝুলন্ত সেতুটি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

ভারতের গুজরাটের মরবিতে একটি ঝুলন্ত সেতু ছিঁড়ে ১৩২ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। ঐতিহাসিক মরবি সেতুটি অনেক বছরের পুরোনো। সেতুটি মেরামতের পর চার দিন আগে (২৬ অক্টোবর) সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু এটি উন্মুক্ত করার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি বা এর ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় মিনিউসিপ্যাল প্রধান ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে এ কথা বলেন।ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, সেতু ভেঙে পড়ে প্রাথমিক হিসেবে ৯০ জনের বেশি মারা গেছেন। ৮০ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নিখোঁজ ছিলেন ২০০ জনের বেশি। পরে মৃতের সংখ্যা ১৩২ জনে দাঁড়ায়। অরেভা নামের একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠান সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুটি মেরামতের কাজ পায়। সেতুটি মেরামত শুরুর পর থেকে সাত মাস এটি বন্ধ ছিল। গত ২৬ অক্টোবর এটি খুলে দেওয়া হয়। মরবি মিউনিসিপ্যাল এজেন্সি প্রধান সন্দীপন জালা বলেন, অরেভা কোনো ফিটনেস সনদ না নিয়েই সেতুটি চালু করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, এটা সরকারি টেন্ডার। অরেভা গ্রুপের সেতুটি উন্মুক্ত করার আগে মেরামতের বিস্তারিত জানিয়ে ফিটনেস সনদ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি। সরকার এটার বিষয়ে অবগত ছিল না। রোববার সন্ধ্যার দিকে ধসে পড়ার সময় সেতুটিতে আনুমানিক ৫০০ মানুষ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুটিতে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। তারা এর ওপর দৌড়াচ্ছেন, লাফাচ্ছেন। তাদের এরকম কর্মকাণ্ডের জন্য সেতুটি দুলছিল।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.