post
খেলা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবসর ভেঙে আবারও ফিরলেন তামিম

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর মান ভেঙেছে তামিম ইকবালের। অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। এর জন্য দেড় মাস সময় দেওয়া হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী দেশসেরা ওপেনারকে।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। তারপরপরই গণমাধ্যম থেকে সাবেক ক্রিকেটার, সাধারণ মানুষের মধ্যে চলতে থাকে আলোচনা সমালোচনা নানা রকম বিচার বিশ্লেষণ। এরপর ৬ জুন শুক্রবার সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মাধ্যমে তামিমকে বঙ্গভবনে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া তামিমের স্ত্রী আয়শাও সঙ্গে ছিলেন। একই সঙ্গে বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপনকেও ডাকা হয় সেখানে। তামিমের গণভবনে আসার খবর পেয়ে দর্শকরা ছুটে গিয়েছিলেন সেখানে। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। অবসর ভেঙে ফের ক্রিকেটে ফেরার দাবি জানাতে থাকেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তামিম। তবে আপাতত তিনি দেড় মাসের বিশ্রামে থাকবেন বলে জানা গেছে। তিনি অধিনায়ক হয়েই ফিরবেন এশিয়া কাপ দিয়ে।প্রধানমন্ত্রীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর গণমাধ্যমে তামিম বলেছেন, ‘আজ দুপুরে আমাকে প্রধানমন্ত্রী তার বাসায় দাওয়াত করেছিলেন। উনার সঙ্গে অনেক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি। উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন খেলায় ফিরে আসতে। আমি আমার রিটায়ারমেন্ট এই মুহূর্তে তুলে নিচ্ছি। কারণ আমি সবাইকে না বলতে পারি কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিকে না বলা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাতে অবশ্যই পাপন ভাই ও মাশরাফি ভাইয়ের বড় ভূমিকা ছিল। মাশরাফি ভাই আমাকে ডেকে নিয়েছেন। পাপন ভাই সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেড় মাসের জন্য একটা ছুটিও দিয়েছেন।’বৈঠক শেষে তামিমের পর বিসিবি সভাপতি সংবাদকর্মীদের বলেছেন, 'এটা সবার জন্য স্বস্তির খবর। অধিনায়কই যদি না থাকে বাংলাদেশ খেলব কীভাবে!’বিসিবি সভাপতি বলেছেন, 'যেহেতু সে শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনও ফিট না, সেজন্য সে দেড়মাস সময় নিয়েছে। এই দেড়মাসে সে পুনর্বাসন করে আশা করছি শিগগিরই ক্রিকেটে ফিরে আসবে।’ গণমাধ্যমে তামিমের অবসর ভাঙার খবর আসার পরেই তার নিজ বাড়ির সামনে শুরু হয় আনন্দ উৎসব। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় ভক্তদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। তামিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ভক্তদের জন্য ছিল এই আয়োজন।

post
আন্তর্জাতিক

আনন্দঘন ঈদ ভোজন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

এলামী মোঃ কাউসার, কায়রো, মিশরগত ২৮ জুন বুধবার সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল আদহা উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন,মিশর’ এর উদ্যোগে কায়রো শহরের সুপ্রসিদ্ধ তাইসির হলে উদযাপিত হয় আনন্দঘন ঈদুল আদহা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। লাল সবুজের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে, ছয় হাজার কিলোমিটার দূরে, পরিবারের প্রিয়জনদের রেখে, নীলনদ আর পিরামিডের দেশে, শিক্ষার্থীদের একাকীত্বের ঈদ, আনন্দমুখর করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। ঈদের সন্ধ্যায় মহাগ্রন্থ আল-কুরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। সাধারণ সম্পাদক, জনাব সাইমুম আল-মাহদী ও শিক্ষা-সংস্কৃতি সম্পাদক আবদুর রহমানের যৌথ উপস্থাপনায়, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইত্তেহাদের ২০২২-২৩ সেশনের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি জনাব নাজিব শাওকি। সভাপতি মহোদয় উদ্ভোধনী বক্তব্যে বলেন, বিদেশের মাটিতে সকল বাংলাদেশী শিক্ষার্থী যেন মিলেমিশে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারে ঈদের আমেজ সেই লক্ষেই এ মিলনমেলা ও জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। তিনি সকলকে কুরবানীর আত্মত্যাগের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করার মাধ্যমে, সত্যিকারের মানুষ রুপে নিজেকে গড়ে তুলার আহ্বান‌ও জানান। সভাপতির উদ্ভোধনী বক্তব্যের পর ‘ইত্তেহাদ সাংস্কৃতিক ফোরাম’ এর শিল্পীবৃন্দ মন মাতানো সুরের মূর্সনায় উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু-কিশোরসহ সকলকে‌ই উপহার দেয় এক স্মরনীয় মুগ্ধ প্রহর। অনুষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে সকলের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, মো. তাজদীদ বিন ওয়াদুদ ও জনাব মাজহারুল ইসলাম। সর্বশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘোষনা করেন উপদেষ্টা প্রধান শিহাব উদ্দীন। এরপর শুরু হয় ঈদ ভোজন পর্ব। ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে কুরবানীকৃত গরুর ভুনা গোশতের মৌ মৌ ঘ্রাণ পূর্ণতা এনে দেয় সকল শিক্ষার্থীর ঈদ আনন্দে। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও ঈদ ভোজনসহ বাহারি আয়োজন উপভোগ করে উপস্থিত পাঁচশত শিক্ষার্থীর মুখে যখন আনন্দের হাসি ফুটে উঠে তখন আড়ালে ঘাম ঝরানো দায়িত্বশীলগণের হৃদয়‌ও পুলকিত হয়ে উঠে ত্যাগ ও কুরবানীর আমেজে।

post
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উৎসব আমেজে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত !

মুসলিম বিশ্বসহ সমগ্র মানবতার কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে ২৮ জুন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। চমৎকার আবহাওয়া থাকায় বিভিন্ন মসজিদের ব্যবস্থাপনায় খোলা মাঠে ও মসজিদে ঈদ জামাতে মানুষের ঢল নেমেছিল। সকালে সপরিবারে মসজিদে মসজিদে নামাজ আদায় করেন তারা। মসজিদে মসজিদে ধ্বনিত হতে থাকে- আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর... লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু...আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর... ওয়ালিল্লাহিল হামদ।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ অ্যাডামস সেন্টারে মুসলমানদের ঢল নামে ঈদের জামায়াত আদায়ের জন্য। মসজিদে চারটি জামাত অনুষ্টিত হয়। সেখানে যোগ দেন এই অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই। এখানে বিপুল সংখ্যক নারী জামাতে অংশ নেন। এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন কমিউনিটির সুপরিচিত মুখ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও সিএফএ ফারহানা হানিপ। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে বায়তুল মোকাররম মসজিদে চারটি জামাত অনুষ্টিত হয়। সকাল ৮টা ৯টা ১০টা ও ১১টায় অনুষ্ঠিত এসব জামাত। এই মসজিদেও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি মুসলিম ঈদের নামাজ আদায় করেন। ভার্জিনিয়ার গ্রিনসভিলেও হয়েছিলো বিশাল জমায়েত। পুরষদের পাশাপাশি ছিলো নারীদের উপস্থিতি। ওয়াশিংটন ডিসি ইসলামিক সেন্টারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সোয়া ১০টায়। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক ঈদুল আজহার নামাজের আয়োজন করে। ভার্জিনিয়ার দার আল নূর মসজিদ, দার আল হুদা, ফাতেমা মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।নিউইয়র্কসহ আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত মুসলমানরা এদিন সপরিবারে নিকটস্থ মসজিদ ও খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নিউইয়র্কে ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কুইন্সে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে থমাস হাইস্কুল খেলার মাঠে। অন্য জামাতগুলোর মধ্যে ছিল জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক ঈদগাহ, ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদ, পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ, ওজোন পার্কে মসজিদ আল আমান, এস্টোরিয়ায় আল আমিন মসজিদ, ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার ও বায়তুল জান্নাহ মসজিদ।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ও বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইলিনয়স, কলারাডো, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, কানসাস, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, ওয়াশিংটন ও কেন্টাকি’র বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার ও দেড় শতাধিক খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসকল মসজিদে মসজিদে খুতবায় ঈদুল আযহার নামাজের তাৎপর্য এবং বর্তমান মুসলিম বিশ্বে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে মুসলমানদের কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষভাবে মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গৌরবে গৌরবান্বিত মুসল্লিরা কোলাকুলি করে পরষ্পরের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের নামাজ শেষে প্রবাসের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করেন এই ধর্মীয় উৎসব। অপরদিকে গ্রোসারীর মাধ্যমে অনেকেই মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য খাসী ও গরু কোরবানী দেন। যার কারণে দোকানগুলোতে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে সবাইকে। কোরবানীর মাংস হাতে পাওয়ার পর সেই মাংস আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বাসায় গিয়ে বিতরণ করা হয়। ঈদের জামাত আদায় ও পশু কোরবানি এবং প্রিয় জনের সান্নিধ্যে থেকে নানারকম উপাদেয় খাবার খেয়ে দিনটি কাটিয়েছেন এখানকার মুসলিম কমিউনিটির মানুষগুলো

post
প্রযুক্তি

আসল ও নকল আইফোন চিনবেন যেভাবে

একটা আইফোন কেনার শখ নেই, এমন মানুষ পাওয়া দায়। মানুষ যে পেশারই হোক না কেন, সবারই শখের মোবাইলের নাম আইফোন। অনেকেই একটু একটু করে টাকা জমিয়ে কেনেন আইফোন। কিন্তু এত শখ করে, এত দাম দিয়ে যে ফোনটি কিনছেন, সেটি আসল নাকি নকল তা বুঝবেন কীভাবে? বাংলাদেশে আইফোনের কোনো নিজস্ব শোরুম নেই, কিন্তু বেশ কিছু অফিসিয়াল রিসেলার ব্রান্ড আছে। তবে, অফিসিয়াল ব্রান্ড রিসেলার শোরুম থেকে না কিনে যদি অন্য কোনো দোকান থেকে আইফোন কেনা যায়, তাহলে অনেক কম দামে একই মডেলের আইফোন পেতে পারেন। আবার অনেকে নতুন আইফোন কেনার বাজেট মেলাতে হিমশিম খান। ফলে, তারা পছন্দের তালিকায় সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত আইফোনকে জায়গা দিতে বাধ্য হন। আইফোনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় নকল আইফোনও রয়েছে বাজারে। আসল আইফোনের আদলে পাওয়া যায় নকলটা। অনেক বিক্রেতাই গ্রাহকের কম ধারণার সুযোগ নিয়ে নকল আইফোন বিক্রি করছেন এবং অজান্তেই এসব ফোন কিনে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহক। কেনার আগে অবশ্যই আইফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বরের সঙ্গে বক্সের আইএমইআই নম্বর মিলিয়ে দেখতে হবে। আইফোনের সেটিংস থেকে জেনারেল অপশনে ক্লিক করে অ্যাবাউট নির্বাচন করলেই আইএমইআই নম্বর পাওয়া যাবে। তারপর http://checkcoverage.apple.com ওয়েবসাইটে ব্রাউজ বরে ফোনের আইএমইআই নম্বর ভেরিফাই করে দেখতে পারেন যে ফোনটি আসল নাকি নকল। যদি অ্যাপলের ওয়েবসাইটে আপনার দেওয়া আইএমইআই নম্বরটি ভুল দেখায় বা কোনো তথ্য না দেখায়, তাহলে বুঝবেন ওই ফোনটি নকল। আর আইফোনটির সব তথ্য যদি সেখানে দেখায়, তাহলে বুঝবেন ফোনটি অ্যাপলের অফিসিয়াল। এ ছাড়া, *#06# ডায়াল করে ফোনের আইএমইআই নম্বর বের করতে পারবেন এবং অ্যাপলের ওয়েবসাইট থেকে ফোনটি যাচাই করতে পারবেন। আইএমইআই নম্বর দিয়ে সার্চ করলে আপনি ফোনের সকল তথ্য সেখানে দেখতে পারবেন।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কারো খবরদারির কাছে মাথা নত করবে না : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ কারো খবরদারির কাছে মাথা নত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার (১৮ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের এত দ্রুত উন্নয়ন অনেকে সহ্য করতে পারছেন না বলেই নানা বাধা ও চক্রান্ত হচ্ছে। তবে এ নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বাংলাদেশ কারো খবরদারির কাছে নতজানু হবে না। এটাই সরকারের সিদ্ধান্ত।’ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয় নিয়ে সরকার দেশ গড়ার কাজ করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সরকার সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।’ দুর্নীতি করতে নয় দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি এমন মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমার পূর্বে যারা ক্ষমতায় ছিল (বিএনপি) বিভিন্ন জায়গায় দুর্নীতির কারণে তখনো বিশ্ব ব্যাংক তাদের অর্থ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু তখনকার সরকারের সাহস ছিল না যে তাদের প্রতিবাদ করে, কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় তারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যখন আমাদের ওপর দোষারোপ করল আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। কারণ আমার কোনো দুর্বলতা ছিল না। আগের সরকার পারেনি কারণ তাদের দুর্বলতা ছিল। তারা সত্যিই দুর্নীতি করেছিল। আমরা দুর্নীতি করতে আসিনি, মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘পদ্মা সেতু করার একটা ঘটনাই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন হয়েছে। আগে যেমন প্রতিটি ক্ষেত্রে শুধু শর্ত আর শর্ত আর নানা কথা, এখন আর সেটা করতে কেউ সাহস পায় না। বাংলাদেশকে এখন সকলেই সমীহের চোখে দেখে। আমি মনে করি, এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

post
বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের সময়ের কোনো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে পেরেছে। আওয়ামী লীগের সময়ের কোনো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি।আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তবে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে পেরেছি। নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দিয়েছে, সে–ই নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপির আমলে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো বিতর্কিত নির্বাচন কখনো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়নি এবং হবেও না। দেশের জনগণ যাতে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সে লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে আমাদের সরকার সদা প্রস্তুত রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অবাধ, ভীতিহীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করে যাবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে যা যা করার, তার সবকিছু করবে। আমরা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারাই পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায়, তারা পাঠাতে পারবে।’ নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে স্বাধীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকালে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্মকর্তা/প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীন ন্যস্ত হবে। সংসদ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটে বিশ্বাসী। জনগণই ঠিক করবে কে দেশ চালাবে। এটা জনগণের ক্ষমতা। সরকার জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘ইতিমধ্যে যতগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জাতীয় সংসদের শূন্য পদের নির্বাচন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন, উপনির্বাচন হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে স্বাধীনভাবে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। সরকারের সকল দপ্তর/বিভাগ এতে সহযোগিতা করেছে। আমাদের সরকারের সময়ের কোনো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি।’ সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত তিন যুগ ধরে সংসদে আমি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিরলস কাজ করছি। বাংলাদেশের জনগণই আমার শক্তি, প্রেরণা। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সদা প্রস্তুত আমি।’ তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনার ফলে বাংলাদেশ আজ আর্থসামাজিক উন্নয়নের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

post
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ভুটানকে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ভুটানকে প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার (মে ০৬) সন্ধ্যায় লন্ডনের হোটেল ক্ল্যারিজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগায়েল ওয়াংচুক ও রানি গায়ালতসুয়েন জেতসুন পেমা বৈঠক করেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এর আগে হোটেলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ভুটানের রাজা ও রানিকে স্বাগত জানান। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ভুটানের রাজা ও রানি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভুটানের রাজা বলেন, তাদের দেশেও তারা একটা অ্যাডমিনিসট্রেটিভ ইকোনোমিক জোন করতে চান। যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসে। ভৌগলিক আয়তনে ছোট দেশ ভুটানের রাজা বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল করা নিয়ে তারা খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ তারা (ভুটান) তাদের পরিবেশকে দূষিত করতে চান না। তারা সুখী দেশ। কোনভাবে পরিবেশকে বিকৃত করতে চান না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের দেশে অনেকগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। আপনারা আমাদের দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে পারেন। এটি ভুটান অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইন্ডিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সবাইকে একের অধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল দিয়েছি। আপনারা চাইলে আমরা একটা অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে পারি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব প্রতিবেশির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছি। এ প্রসঙ্গে ভুটানের রাজা বলেন, এটা ভালো হয়েছে। রেলওয়ে কানেকটিভিটি প্রসঙ্গে ভুটানের রাজা বলেন, আগামীতে তারা এটা করতে চান। রাজা বলেন, আমি দুটা চাই। একটা হচ্ছে ভারতের মধ্যে দিয়ে, আরেকটা হচ্ছে আমি ডাইরেক্ট ট্রানজিট চাই। সরাসরি প্রবেশ চাই বাংলাদেশে। ভুটানের রাজার এই চাওয়াকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। সেই জন্য ভারতকে কিছু বলতে হলে আমরা সেটা বলবো। বাংলাদেশকে কানেকটিভিটির হাব হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের জন্য বাংলাদেশের দুইটা বন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভুটানের রাজা ও রানি বলেন, আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তারা সবাই বাংলাদেশে পড়াশোনা করেছে। এই জন্য আমাদের দেশের মানুষের বাংলাদেশের প্রতি একট বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বাংলাদেশে বেড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে ভুটানের রাজা ও রানি বলেন, তারা বাংলাদেশে আরও সফর করতে চান। রাষ্ট্রীয়ভাবে না, তারা বাংলাদেশে বেড়াতে চান। বাংলাদেশের সংস্কৃতি তাদের খুব পছন্দ। তারা ভিজিটর হিসেবে বাংলাদেশে বেড়াতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের রাজা ও রাণীর এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের দুয়ার সব সময় আপনাদের জন্য খোলা। আন্তরিক পরিবেশ প্রায় ঘণ্টা খানেক আলাপ হয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, অনেক পারিবারিক আলাপ হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে খালা হিসেবে, অভিভাবক হিসেবে সম্মান করেন। ভুটানের রাজা-রানি ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম।

post
বাংলাদেশ

আ.লীগ সরকার সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার দল আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে থাকে, সব ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সব সময় কাজ করে।বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বুধবার গণভবনে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী নেতাদের বলেন, ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার। তার সরকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাস গুপ্তের নেতৃত্বে বৈঠকে নেতারা বলেন, দেশে চাকরি, নিয়োগ, পদোন্নতির মতো সব ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হয়েছে। তারা বিভিন্ন ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় রীতি পালন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল কুমার চ্যাটার্জি উপস্থিত ছিলেন।

post
আন্তর্জাতিক

ঢাকা-কায়রো রুটে ইজিপ্টএয়ারের সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১৪ মে

এলামী মোঃ কাউসার, কায়রো, মিশরমিশরের কায়রো থেকে ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে দেশটির সরকারি মালিকানাধীন এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান ইজিপ্ট এয়ার। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি পায় তারা।বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইজিপ্ট এয়ার। তারা জানায়, আগামী ১৪ মে এ রুটে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।মার্চের ২৯ তারিখে বেবিচকের সহকারী পরিচালক (এয়ার ট্রান্সপোর্ট) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ওই অনুমতি পত্রে সই করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজিপ্টএয়ারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ইজিপ্টএয়ার ঢাকা-কায়রো রুটে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এয়ারলাইন্সটি এই রুটে যাত্রী বহনে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের একটি এয়ারক্রাফট ব্যবহার করবে।এছাড়া ওই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য বেবিচকের কাছে অনুমতি চাইবে এয়ারলাইন্সটি।এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রুটে ফ্লাইট চালু শুরু হলে সেটি এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। সেই সঙ্গে দেশের আকাশ পথের সংযোগ সীমাও বৃদ্ধি পাবে। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ এবং মিশর এ দু’দেশের মধ্যে ২০১৯ সালে মোট ১৭৩২০ জন্য টু-ওয়ে যাত্রী যাতায়াত করে, যার মধ্যে কায়রো-ঢাকা শহরের যাত্রী ছিল ৭৫ শতাংশ। এই সময়ে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় প্রায় ৩৫ শতাংশ যাত্রী দুবাই হয়ে কায়রোতে এক-স্টপেজ রুটে যাত্রা করেন।বর্তমানে ইজিপ্টএয়ার আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং আমেরিকার ৮১টি গন্তব্যে যাত্রী ও মালবাহী পরিষেবা পরিচালনা

post
এনআরবি বিশ্ব

মিশরে, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের ইফতার মাহফিল।

এলামী মোঃ কাউসার। কায়রো,মিশর।নীলনদ ও পিরামিডের দেশ, মিশরের আল-আযহার সহ সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশী ছাত্রদের একমাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন হল। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০০ জন বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছিলেন এই ইফাতার আয়োজনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মিশরস্থ রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলাম সহ দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীগণ। এবং অন্যান্য দেশের অর্গানাইজেশনের ছাত্র প্রতিনিধিরা। মিশরীয় সময় বিকেল চারটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে মাগরিবের আযানের আগ পর্যন্ত। ১৬ ই রমাজানুল মোবারকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলাদা দুইটি অডিটরিয়াম বুকিং করা হয়। যেন অর্গানাইজেশনের মহিলা সদস্যরা পর্দার সাথে ইফতারী আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সভাপতি মো. নাজিব শাওকী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি জেনারেল, সাইমুম আল-মাহদী। ইফতার প্রোগ্রামে, অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্যগণ ও সিনিয়রদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জনাব শোয়াইব হোসাইন আল-আযহারী, জনাব তাজদিদ বিন অদুদ এবং মো. শিহাবউদ্দীন আল-আযহারী। এবং সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন, অর্গানাইজেশনের সহ সভাপতি, শাহেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, অর্গানাইজেশনের সভাপতি এবং তিনি, ছাত্রদেরকে মতানৈক্য ভুলে ইসলামের সুমহান আদর্শের ছায়াতলে, একতার বন্ধনে অটুট থাকার জোড় তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে বক্তরা, গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আপামর জনতার আত্ম শুদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামের সঠিক দাওয়াত পৌছে দেওয়ার আহ্বান জানান। উক্ত অর্গানাইজেশনের নয় সদস্যের কার্যকরী কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রমে আয়োজিত মনজ্ঞ অনুষ্ঠানে, কুরআন তেলওয়াত, রমাজান নাশিদ, অর্গানাইজেশনের থিম সং সহ ইসলামী সাংস্কৃতির নানান কার্যক্রম উপস্থাপিত হয়। অর্গানাইজেশনের সাংস্কৃতিক ফোরামের সদস্যগণ পারফরম্যান্স করেন। মনোমুগ্ধকর এই আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন, রেজাউর রহমান, সাজিদুল ইসলাম, কাওসার হাবিব, নেওয়াজ জুলকারনাইন। ইফতারের আয়োজনেও ছিলো, বাংলাদেশী খাবারের ছোঁয়া। ছাত্রদের নিজ হাতে রান্না করা, বিফ বিরিয়ানি। যা বাঙালির ঐতিহ্যকে প্রোস্ফুটিত করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্টদূত জনাব মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের কল্যাণের জন্য দূতাবাস সর্বদা বদ্ধপরিকর। অর্গানাইজেশনের সমস্ত প্রোগ্রাম, শিক্ষা ও বিনোদন কার্যক্রমে তিনি অংশগ্রহণ করেন। স্কলারশিপ বৃদ্ধি করণে আল-আযহারের গ্রান্ড ইমাম (প্রেসিডেন্ট ওব আযহার) এর সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবং তেনার দাবির প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য প্রতি বছর ৫০টি স্কলারশিপের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, শাইখুল আযহার। তাছাড়া,বাংলাদেশের স্টুডেন্টদের ভিসা জটিলতা ও মিশরে উচ্চ শিক্ষায় আগত ছাত্রদের কার্যক্রম সহজ করার জন্য, অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধি নিয়ে, তিনি মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে মান্যবর মন্ত্রী মহোদয়ের দেখা করেছিলেন। মিশরে ছাত্রদের জন্য নিবেদিত প্রাণ, মান্যবর রাষ্ট্রদূত স্যার। বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন, সবার আস্থার প্রতিক। মিশরের রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে, এম্বাসী আয়োজিত বাংলাদেশের প্রতিটি জাতীয় দিবসে, অর্গানাইজেশনটি সতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী ছাত্রদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের লক্ষ্যে, নানাবিধ কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। যেমন, ক্রিকেট, ফুটবল টুর্নামেন্টে, বাৎসরিক শিক্ষা সফর, সাংস্কৃতিক নানা প্রতিযোগিতা, শিক্ষা মূলক কর্মসূচি, নানান দিবস কেন্দ্রীক প্রোগ্রাম সহ ইত্যাদি আয়োজন করে থাকে। মিশরের বুকে বাংলাদেশী ছাত্ররা উচ্চশিক্ষায় অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছে। আল-আযহারের কলেজ লেভেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে, সারা বিশ্বের ছাত্রদের মাঝে, প্রথম থেকে দশ জনের মেধা তালিকার সিংহভাগ বাংলাদেশী ছাত্ররা অর্জন করে থাকে। যা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। ছাত্রদের রেজাল্ট ও পড়াশোনা কেন্দ্রীক উৎসাহ প্রদান ও কার্যকরী পদক্ষেপের জন্য অর্গানাইজেশন সত্যিই বিদেশের মাটিতে একটি রোল মডেল। দল মত নির্বিশেষে এই সংগঠন একটি ঐক্যমতের প্রতিক। যেখানে বাংলাদেশের সমস্ত মতাদর্শের ছাত্রগণ নিজেদের দূরত্ব ভুলে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। ইসলামের অনন্য সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে এ সংগঠনের মাধ্যমে। বর্তমান কার্যকরী কমিটির সেশনে, নয় সদস্যের মাঝে আরো রয়েছেন, অর্থ সম্পাদক, সাইফুর রহমান ও শরীফ মো. কাওসার হোসাইন। শিক্ষা সম্পাদক, আব্দুর রহমান। অফিস সম্পাদক, সাইফুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ইয়াসিন আরাফাত। এবং মিডিয়া ও প্রেস সম্পাদক, আল আমিন সরকার।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.