আন্তর্জাতিক

নোবেল জিতেও সন্তানের টিফিনে ব্যস্ত বিজ্ঞানী

post-img

নোবেল জয়ের আনন্দের মধ্যেই সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথ। মস্তিষ্ক নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্তানদের টিফিন তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

সোমবার ভোর। তখন স্ট্যানফোর্ডের বাড়িতে একের পর এক ফোন আসছে। অভিনন্দন জানাচ্ছেন সহকর্মীরা। সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইছেন। বিশ্বের অন্যতম বড় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও ডেইসেরথের কাছে আর পাঁচটা দিনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর পরিবারের সকালটা।

সকালে সন্তানদের ঘুম থেকে তুলে নোবেল পাওয়ার খবরটি জানান কার্ল। খবর শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে তাঁর সন্তানরা।স্ট্যানফোর্ডের প্রকাশ করা ভিডিয়োতে ধরা পড়েছে পরিবারের সেই আবেগঘন মুহূর্ত।

৫৪ বছরের এই বিজ্ঞানী ২০২৬ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করে নিয়েছেন জার্মানির বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল। তাঁদের গবেষণার বিষয় অপ্টোজেনেটিক্স। সহজ করে বললে, আলো ও জিনের সাহায্যে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে ‘অন’ বা ‘অফ’ করার একটি পদ্ধতি।

এই গবেষণা মস্তিষ্ককে বোঝার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে। কোন স্নায়ুকোষ কী ভাবে কাজ করে, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কী ভাবে একে অন্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয় — সে সব বোঝার নতুন দরজা খুলেছে এই প্রযুক্তি। ভবিষ্যতে নানা স্নায়ুজড়িত ও মানসিক রোগের চিকিৎসা নিয়েও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডেইসেরথ নিজে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী। তিনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞও। তাই তাঁর গবেষণার সঙ্গে রোগীদের জীবনও ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর রোগীদের কেউ অটিজ়মে ভুগছেন, কেউ অবসাদে। তাঁদের জন্য এই গবেষণা নতুন আশার আলো হয়ে উঠুক, সেটাই তাঁর অন্যতম আশা। আবার বিজ্ঞানী হিসেবে মানুষের মস্তিষ্ক কী ভাবে কাজ করে, সেটাও তাঁকে সমান ভাবে টানে।

তবে নোবেল পাওয়ার সেই রাতটা খুব একটা ঘুমিয়ে কাটেনি তাঁর। নিজেকে ‘নাইট আউল’ বলেই মনে করেন কার্ল। সে দিনও গভীর রাত পর্যন্ত গবেষণাপত্র দেখছিলেন। ছাত্রদের সঙ্গে ইমেল করছিলেন। তার পর একটু শুতে গিয়েছিলেন। ঠিক তখনই সুইডেনের স্টকহোম থেকে এল সেই ফোন।


সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.