post
বাংলাদেশ

'আদালত বলেছে জিয়া-এরশাদ সম্পূর্ণ অবৈধ, তারা আবার নাকি গণতন্ত্র চায়'

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নালিশ করে তাদের ওপরে নাকি খুব অত্যাচার করা হয়। অত্যাচার তো আমরা করি নাই। অত্যাচার করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। জিয়াউর রহমান এসে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। সেনা বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার, সৈনিক থেকে শুরু করে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নির্বিচারে ফাঁসি দিয়েছে, গুলি করেছে, হত্যা করেছে। পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনের লাশও পায়নি। সব লাশ গুম হয়ে গেছে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, যার যা কিছু আছে তা নিয়ে এদেশের মানুষ লড়াই করতে নেমে গিয়েছিল। বাংলাদেশের যুদ্ধটা একটা জনযুদ্ধ ছিল। যারা ট্রেনিং নিয়ে দেশে এসেছে, দেশের মানুষকে তৈরি করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বাধা দিয়েছে। ট্রেনিংপ্রাপ্তরা যে নেমেছে শুধু তা নয়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও নেমে গিয়েছিল। যে যেভাবে পেরেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। যেহেতু এটা গেরিলা যুদ্ধ, গেরিলা যোদ্ধারা যখন দেশে ঢুকেছে, এদেশের মা-বোনেরা রান্না করে খাওয়ার দেওয়া, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অবস্থানের তথ্য দেওয়া; সেই কাজগুলো করেছে। একটা জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা এদেশে স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। সরকারপ্রধান বলেন, অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করা এবং প্রথমে লেবাস পরে ক্ষমতা যাওয়া, রাজনীতিকে গালি দিয়ে ক্ষমতা দখল করে, আবার সেই লেবাস খুলে নিজেরাই রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়া, আর ক্ষমতা উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দল গঠন করার কালচারটাই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ দখলকারীদের হাতে তৈরি করা যে সংগঠন, তারা নাকি গণতন্ত্র চায়। যাদের জন্মই গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে হয়নি। যাদের জন্ম মিলিটারি ডিক্টেটরশিপের মধ্য দিয়ে, তারা আবার গণতন্ত্র চায়। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র দেয়নি, তারা গণতন্ত্র দেবে। গণতন্ত্রের জন্য নাকি তারা লড়াই করে। ওদের জিজ্ঞেস করতে হয়, তাদের জন্মটা কোথায়? অবৈধ দখলদার এটা তো আমাদের কথা না। আমাদের উচ্চ আদালত বলে দিয়েছে, জিয়া-এরশাদ সম্পূর্ণ অবৈধ। তারপর তারাও নাকি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামও করে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমির, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, সানজিদা খানম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ। আলোচনা সভাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস আউয়াল শামীম।

post
বাংলাদেশ

শেষ পর্যন্ত লিবিয়ার বন্দিশিবিরের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেল আরিফ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর এলাকার আরিফ আহমেদ (২৪) প্রায় দুই বছর পর লিবিয়ার এক বন্দিশিবির থেকে মুক্ত হয়েছেন। পরিবার থেকে দালাল চক্রের হাতে ১২ লাখ টাকা পৌঁছানোর পর বন্দিশিবিরে তাঁর ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।আরিফের বড় ভাই আসাদ মিয়া গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল রোববার আরিফকে বন্দিশিবির থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর মুঠোফোনে কথা হয়েছে উল্লেখ করে আসাদ মিয়া বলেন, আরিফ বর্তমানে নিরাপদ জায়গায় আছেন। মুক্তিপণের এই টাকা সংগ্রহ করতে তাঁদের অনেক কষ্ট হয়েছে। এখন আরিফকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, আরিফের বাবা বাবুল মিয়া রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী। দুই বছর আগে ফারুক মিয়া নামের স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা করেন আরিফ। কথা ছিল প্রথমে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং পৌঁছানোর পর বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে। কথামতো ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। লিবিয়া পৌঁছানোর পর ফারুকের সহযোগী সজীব মিয়া খবর পাঠান, সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যেতে হলে আরও তিন লাখ টাকা লাগবে। কথামতো টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাওয়ার পরও আরিফকে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেননি তাঁরা। এরই মধ্যে আরিফ একটি দালাল চক্রের হাতে আটক হন। সেখান থেকে টাকার বিনিময়ে মুক্ত হন। কিছুদিন পর আবার অন্য একটি চক্র তাঁকে আটক করে টাকা আদায় করে। সর্বশেষ একটি চক্র বন্দিশিবিরে আটকে রেখে প্রতিদিন শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। চক্রটি মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। কিছুদিন আগে আরিফকে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে আরিফের বা চোখে গুরুতর আঘাত এবং হাতে–পায়ে জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। এই সময় আরিফ কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে মুক্ত করার আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হয়। ভয়ংকর নির্যাতনের এই দৃশ্য দেখার পর পরিবারের সদস্যরা আরিফকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দালাল চক্রের চাহিদা অনুযায়ী ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

post
খেলা

আইরিশদের বিপক্ষে আজ টি-টোয়েন্টি লড়াই

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আগের সিরিজে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। তাও আবার নিজেদের পিছিয়ে থাকা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এরপর তো তারা জস বাটলারদের হোয়াইটওয়াশও করে বসে। ঠিক তখনই বাংলাদেশে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আসে আয়ারল্যান্ড। ওয়ানডে সিরিজে পাত্তা না পাওয়া আইরিশদের বিপক্ষে আজ (২৭ মার্চ) টি-টোয়েন্টি মিশনে নামছেন সাকিব আল হাসানরা। দুটি ওয়ানডে ম্যাচেই দাপট নিয়ে জয় পাওয়া সাকিবরা স্বাভাবিকভাবেই এই ফরম্যাটেও এগিয়ে আছেন। বৃষ্টি বাধা না পেলে ওই সিরিজে আইরিশদের হোয়াইটওয়াশেরও সুযোগ ছিল। এছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানেও পিছিয়ে আছে সফরকারীরা। আগের পাঁচ দেখায় বাংলাদেশ তিনটিতে জয়, একটি পরিত্যক্ত এবং একটি ম্যাচে আইরিশরা জয় পেয়েছিল।সোমবার (২৭ মার্চ) টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল। দুপুর ২টায় ম্যাচটি শুরু হবে। এর আগেরদিন (২৬ মার্চ) অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করেছিল দু’দলই। তবে সেখানে ছিলেন না টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং ওপেনার লিটন দাস।ওয়ানডেতে জয়ের ধারা ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন টাইগারদের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তিনি বলছিলেন, ‘কী হবে সেটা নিয়ে ভাবছি না। সেভাবেই খেলতে চাই, যেটা সবচেয়ে ভালো পারব। আমার মনে হয়, এভাবে আক্রমণাত্মক ও স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারলে, এই দল সবসময়ই ভালো করবে।’অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের হুমকি দিয়ে রেখেছে। প্রধান কোচ আইনরিখ মালান জানান, ‘এই সিরিজ দারুণ চ্যালেঞ্জের হবে। এর আগে তারা (বাংলাদেশ) বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়েছে এই ফরম্যাটে। কিন্তু একইসঙ্গে আমরাও এটা নিয়ে রোমাঞ্চিত। বিশ্বকাপে দেখিয়েছি আমরাও এমন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে পারি। যেটা রোমাঞ্চকর, মানুষ দেখতে আগ্রহী। আশা করি এটা চালিয়ে যেতে পারলে ৩-০ তে জয় এমনিতেই আসবে। এই ধরনের কন্ডিশনে নিজেদের পরীক্ষা করতে পারা অভিজ্ঞ ও তরুণদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতার সুযোগ।’

post
এনআরবি সাফল্য

কানাডায় স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশি মঈনের সফল স্টার্টআপ

সময়টা ২০০০ সাল। সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুনামগঞ্জের শ্যামনগর গ্রামের ছেলে মোহাম্মদ মঈন। সেই সময়ই স্কুলশিক্ষক বাবা শামসুল ইসলামের ক্যানসার ধরা পড়ে। কিন্তু তখন ক্যানসারের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেশে পাচ্ছিলেন না। যা-ও পাচ্ছিলেন, সেগুলোর দাম ছিল সাধ্যের বাইরে। এমন বাস্তবতায় ছয় মাস চিকিৎসার পর মারা যান মঈনের বাবা। ক্যানসারে বাবার মৃত্যু মোড় ঘুরিয়ে দেয় মঈনের জীবনের। মঈনের বাবার মতো দুরবস্থা যাতে আর কারও পড়তে না হয়, সে জন্য কানাডায় গিয়ে গড়ে তোলেন ওষুধ তৈরির প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ সোমরু বায়োসায়েন্স কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরির সময় ও দাম কমিয়ে আনতে প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়া।সম্প্রতি কানাডা থেকে সংক্ষিপ্ত সফরে দেশে আসেন মোহাম্মদ মঈন। তখন ভিনদেশে গড়ে তোলা তাঁর স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সুত্রের । এ সময় মঈন বলেন, বাবা যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন ক্যানসার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না আমার। বড় ভাই তখন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ তৈরির একটি গবেষণাগারে কাজ করতেন। বাবার জন্য তিনি যেসব ওষুধের কথা বলেছেন, সেগুলোর অধিকাংশ দেশে পাইনি। যেগুলো পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলোর দামও ছিল অনেক বেশি। তখনই ঠিক করেছিলাম, মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কীভাবে আরও সহজে ও সাশ্রয়ী দামে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব। ছোটবেলা থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়ার আগ্রহ ছিল মোহাম্মদ মঈনের। সেই আগ্রহ থেকেই ২০০১ সালে কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স ও বায়ো ইনফরমেটিকস বিষয়ে পড়তে যান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির চিন্তা ছিল তাঁর। কিন্তু দেশটিতে তখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। এ কারণে দ্বিতীয় বর্ষে এসে কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিতে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন। চতুর্থ বর্ষে থাকা অবস্থায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দিহান আহসানের সঙ্গে। বিয়ের পর দুজন মিলে প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ড আইল্যান্ডের একটি বাড়ির নিচতলায় একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। ২০০৭ সালে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে ওষুধের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কর্মজীবন শুরু করেন মঈন। ২০১২ সালে যোগ দেন অন্য আরেকটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে। আর ওই বছরই শুরু হয় তাঁর সোমরু বায়োসায়েন্স কোম্পানির যাত্রা।মঈনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম তখন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি অ্যামজেন ও কোভ্যান্সের (বর্তমান ল্যাবকর্প ড্রাগ ডেভেলপমেন্ট) ওষুধের মান যাচাই প্রকল্পে কাজ করতেন। বড় ভাইয়ের ছিল ওষুধ তৈরির অভিজ্ঞতা, আর মঈনের ছিল প্রযুক্তিগত দক্ষতা। তাই মঈন ভাবলেন, দুই ভাই মিলে নতুন কিছু শুরু করা যায়। কানাডার এ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা জানান, সাধারণত বায়োলজিক্যাল ওষুধ তৈরির বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে একটি ওষুধ বাজারে আনতে ১০ বছরের মতো সময় লাগে। এসব ওষুধের দাম অনেক বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেয় বায়োসিমিলার ওষুধ। পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব থাকা বায়োলজিক্যাল ওষুধের অনুলিপি যেকোনো কোম্পানি তৈরি করতে পারে। এটিকে বলা হয় বায়োসিমিলার ওষুধ। মেধাস্বত্বের মেয়াদ শেষ হলেই কেবল এ ধরনের ওষুধ বাজারে আনতে পারে অনুলিপি করা কোম্পানি। এতে কম সময়ে ও সাশ্রয়ী দামে বাজারে ওই ওষুধ আনা সম্ভব। তাই বায়োসিমিলার ওষুধ নিয়েই কাজ শুরু করেন মঈন ও তাঁর ভাই। মঈনের স্কুলশিক্ষক বাবা সিলেটে ‘সোমরু মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাই তাঁর নামেই ২০১২ সালে সোমরু বায়োসায়েন্স কোম্পানির নিবন্ধন নেন তিনি। মাত্র এক লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে স্টার্টআপ কোম্পানিটির যাত্রা শুরু করেন তাঁরা। শুরুর দিকে কানাডার প্রাদেশিক ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের ইনকিউবেশন সেন্টারে একটি জায়গা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। পরে ২০১৪ সালে নিজস্ব জায়গায় স্থাপন করেন গবেষণাগার।বর্তমানে মঈনের সোমরু বায়োসায়েন্সে অর্ধশতাধিক বিশেষজ্ঞ ও কর্মী কাজ করেন। দুই ভাইয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মঈনের স্ত্রী দিহান আহসান ও ভাবি ক্লারিন্ডা ইসলাম। কানাডার ফেডারেল ও রাজ্য সরকার থেকে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও অর্থসহায়তা পেয়েছে সোমরু। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বায়োলজিক্যাল ওষুধ তৈরির বিভিন্ন ধাপে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। যেমন ওষুধের ধরন নির্ণয়ের পরীক্ষা, বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ব্যবস্থা করে দেওয়া, তথ্য বিশ্লেষণ করা, ওষুধের নিরাপত্তা ও ইফিক্যাসি যাচাই করা, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সির (ইএমএ) অনুমোদন জোগাড় করে দেওয়া, ওষুধ বাজারজাতের অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। এ ছাড়া কিট ও বায়োমেকার ডিটেকশন (ওষুধ শরীরে কীভাবে কাজ করে তা যাচাই) সেবাও দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির পণ্য ও সেবার মূল বাজার যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর রয়েছে ইউরোপ। এ ছাড়া ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ২০২১ সালে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে সোমরু। চলতি বছর বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় গবেষণাগার স্থাপন করতে চলেছে তারা। বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশের শতাধিক কোম্পানির সঙ্গে ১১২ ধরনের ওষুধ নিয়ে কাজ করছে সোমরু। বাংলাদেশেও বায়োসিমিলার ওষুধ তৈরির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মঈন। এটা করা গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ ধরনের ওষুধ দেশ থেকে রপ্তানি করাও সম্ভব হবে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধে৵ কানাডার ফেডারেল সরকার থেকে পুরস্কার পেয়েছে সোমরু। ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ বায়োসিমিলার প্রযুক্তি সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এ স্টার্টআপ কোম্পানিটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেরাই নতুন বায়োলজিক্যাল ওষুধ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে পাঁচ ধরনের ক্যানসারের ওষুধ নিয়ে কাজ করছে সোমরু। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সিলেটে প্রতিষ্ঠা করেছে সোমরু ফাউন্ডেশন। মঈন বলেন, ‘বাবার মৃত্যু আমার জন্য একটি বার্তা ছিল। কম দামে সাধারণ মানুষ যেন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কিনতে পারে, এটাই আমার চাওয়া।’সূত্র- প্রথম আলো 

post
বাংলাদেশ

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ রোববার ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল অভিবাদন জানায়।জাতীয় সংসদের স্পিকার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ৩ বাহিনীর প্রধান ও ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা এ সময় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

post
বাংলাদেশ

ঈদে অনলাইনে টিকিট বিক্রির নিয়ম জানালো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

ট্রেনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে।টিকিট অনলাইনে কাটার জন্য এনআইডি দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে নিবন্ধন করতে হবে। টিকিট ফেরত দিতে চাইলে রিফান্ডও পাওয়া যাবে। রেলওয়ের সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসাধারণের সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট (১৭-৩০ এপ্রিল) বিক্রি করা হবে। শুধু অনলাইনে টিকিটি কিনতে পারবেন যাত্রীরা। এ ছাড়া বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে রেলওয়ের আন্তনগর ট্রেনের টিকিটিং ব্যবস্থা ও অনলাইনের মাধ্যমে কেনা টিকিট অনলাইনে রিফান্ডের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।যাত্রীদের জন্য রেলের নির্দেশনা ও শর্তাবলি১.আন্তনগর ট্রেনের টিকিটপ্রত্যাশীরা দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/জন্মনিবন্ধন যাচাইপূর্বক নিবন্ধন করবেন।২.নিবন্ধনের জন্য মোবাইলফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে BR <space> NID নম্বর <space> জন্ম তারিখ (জন্ম তারিখের ফরম্যাট- জন্ম সাল/মাস/দিন) লিখে ২৬৯৬৯ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে নিবন্ধন সফল বা ব্যর্থ হয়েছে কি না, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।৩.https://eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট অথবা ‘Rail Sheba’app-এ সঠিক NID নম্বর ও জন্ম তারিখ verify–পূর্বক অন্যান্য তথ্য দেওয়া সাপেক্ষে রেজিস্ট্রেশনপ্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।আরও পড়ুনট্রেনের ঈদযাত্রার সব টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনেঈদের অগ্রিম টিকিট কিনতে রাত থেকেই অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। কমলাপুর রেলস্টেশন৪.বিদেশি নাগরিকেরা পাসপোর্ট নম্বর প্রদান ও পাসপোর্টের ছবি আপলোড করার মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।৫.১২-১৮ বছর বয়সী যাত্রীরা জন্মনিবন্ধন নম্বর প্রদান ও জন্মনিবন্ধন সনদ আপলোড করার মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।৬.সফলভাবে এনআইডি/পাসপোর্ট/জন্মনিবন্ধন যাচাইপূর্বক নিবন্ধন ব্যতীত কোনো যাত্রী আন্তনগর ট্রেনের টিকিট ক্রয় করতে পারবেন না। স্ট্যান্ডিং যাত্রীদের ক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।৭.একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। তবে অনলাইনে টিকিট কেনার সময় সহযাত্রীদের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন নম্বর লিপিবদ্ধ করতে হবে।৮.ভ্রমণের সময়ে যাত্রীকে অবশ্যই নিজস্ব এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি/সফটকপি অথবা পাসপোর্ট/ছবিসংবলিত আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। টিকিটের ওপরে মুদ্রিত যাত্রীর নাম ও এনআইডি নম্বর যাত্রী কর্তৃক প্রদর্শিত পরিচয়পত্রের সঙ্গে না মিললে যাত্রীকে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে অভিযুক্ত করা হবে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

post
টেক মেন্টর

পিপলএনটেকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউসুফ খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বাংলাদেশের স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেকের যাত্রা শুরু ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়াত উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মো: ইউসুফ খানের হাত ধরে।মো: ইউসুফ খানের স্বপ্ন ছিল কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নসহ সারাদেশের সকল গ্রাম অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আইটিতে স্কিল ডেভেলপমেন্ট অর্থাৎ আইটি বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলে তাদেরকে দেশের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন মেয়াদী কোর্স শেষ করেও চাকরির বাজারে ঢুকতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান 'পিপলএনটেক'। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইটি ইনস্টিটিউট 'পিপলএনটেক' রাজধানী ঢাকার গ্রিন রোডে (গুডলাক সেন্টার, ১৫১/৭ গ্রিন রোড) সম্প্রসারণ করে সব কার্যক্রম। কোভিড-১৯ মহামারি করোনা ভাইরাসের সময়ে যখন বিশ্ব অর্থনীতির ভীত নাড়িয়ে দেয়, বাংলাদেশে বহু আইটি প্রতিষ্ঠান যখন নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয় তখনও প্রয়াত ইউসুফ খানের অদম্য সাহসিকতায় টিকিয়ে থাকে পিপলএনটেক। তার লালিত পিপলএনটেক সফলতার সাথে আইটি খাতে সফল হলেও সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে গত ২০২১ সালের ২৬ মার্চ তিনি পরলোকগমন করেন।  ২৫ শে মার্চ( শনিবার ) দ্বিতীয় রমজান পিপলএনটেকের অফিস রুমে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে পিপলএনটেক পরিবার।ইউসুফ খানের রেখে যাওয়া পিপলএনটেক তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।পিপলএনটেক ইন্সটিটিউট অফ আইটি থেকে ট্রেনিং নিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার বাংলাদেশিকে বিভিন্ন স্কলারশিপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশিকে আমেরিকার মেইন স্টিমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে ।রাজনৈতিক জীবনে লায়ন মো: ইউসুফ খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য হিসেবে দুই দুইবার দায়িত্ব পালন করেন, এছাড়াও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) এর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্বে ছিলেন।ইফতার ও দোয়ার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অফ আইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশরুল হোসাইন খান লিওন, সিওও আব্দুল হামিদ, প্রয়াত লায়ন মো ইউসুফ খানের ছেলে কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে অধ্যয়নরত মো: ভুবন খান।দোয়া ও ইফতার মাহফিল শেষে ইউসুফ খানের পরিবারের সদস্যদের পিপলএনটেকের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

post
এনআরবি বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় ৩৪ বাংলাদেশির মানবেতর জীবন

মালয়েশিয়ায় কাজ আছে বেতন নেই, বেতন চাইলে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে মালিকপক্ষ। নতুন আসা বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে এ রকম ঘটনা ঘটছে। কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করছেন আবার কেউবা নীরবে সয়ে যাচ্ছেন, বেতন পাওয়ার আশায়। মালয়েশিয়ায় হুকুমের গোলাম হয়ে থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের। নরসিংদীর মো. সাকিব খাঁন (২৬), আদম দালাল মামুনের মারফতে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার শাহীন ট্রাভেসের মাধ্যমে গত নভেম্বরে মালয়েশিয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন ইয়াংজি সার্ভিস এসডিএন কোম্পানিতে আসেন। প্রথমে মালয়েশিয়ার বানতিংয়ে রাখা হয় তাকে। পরে কেডাহ কোলিম হাইটেক সাইেডে সাকিবসহ ৩৪ জন এ কোম্পানিতে কাজ করছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা, ওভারটাইম, ছুটির দিনে তিনগুণ কাজ করেও বেতন পাচ্ছেন না তারা। কাজ বন্ধ করে প্রথম ২ মাসের বেতন পেলেও তিন মাসের বেতন পাননি এখনও। কোম্পানি মানছে না শ্রমিক আইন। বেতন চাইতে গেলেই মালিকপক্ষ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং মারধর করতে তাড়িয়ে আসে। এদিকে পবিত্র রমজান মাসে দেশে মা-বাবাকে টাকা পাঠাতে পারেননি ৩৪ জনের কেউই। একই কথা জানালেন, যশোরের রোমান (৩২) ও সিরাজগঞ্জের সাগর (২৭)।নরসিংদীর সাকিব জানান, তাদের যেখানে রাখা হয়েছে নেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত টয়লেটও। মালয়েশিয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন ইয়াংজি সার্ভিস এসডিএন কোম্পানির মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হলে শ্রম শাখার মিনিস্টার মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, কোম্পানির কর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব কর্মীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, যদি কোনো কর্মী সমস্যায় থাকেন বা মালিকপক্ষের আচরণ সম্পর্কে হাইকমিশনকে অবিহিত করে, হাইকমিশন দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবে।

post
বাংলাদেশ

গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

২৫শে মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে আওয়ামী লীগের সংদীয় মনোনয়ন বোর্ড সভার স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ স্বীকৃতি দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে মনোনয়ন বোর্ডের সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভায় শেখ হাসিনা বলেছেন, সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে ৩ কোটি মানুষ মানুষ গৃহহারা হয়, এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে ছিল, লাশ শেয়াল কুকুরে খেয়েছে, সেটা মানুষ দেখেছে, মেয়েদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার করেছে। কাজেই ২৫শে মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাক সেটাই আমরা চাই। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশ জাতির পিতা গড়ে তুলেছিলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবেও আমরা স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। মাত্র তিন বছর সাত মাস তিনদিন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন।সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৫ আগস্টের পরে ৩ নভেম্বর জাতির পিতার পরে চার জাতীয় নেতা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। আমি শুধু এটুকু বলবো, শহীদের রক্ত বৃথা যায় না। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। লাখো শহীদের কাছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

post
বাংলাদেশ

বায়ু দূষিত শহরের তালিকায় আজ ঢাকার অবস্থান সপ্তম

ছুটির দিন হলেও দূষিত শহরের তালিকা থেকে সরতে পারছে না ঢাকা। গতকাল থেকে মাত্র একধাপ উন্নতি হয়েছে। বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকার অবস্থান সপ্তম। গতকাল শুক্রবার এ অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। গত রোববার বৃষ্টির পর থেকে ঢাকার বায়ুর দূষণ কমতে থাকে। বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর দিন দিন অবস্থার অবনতি হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১৪০। এ বায়ু মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর। একই সময়ে বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে অবস্থান করে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের স্কোর ১৯৬, দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঘানার আক্কারা শহর, স্কোর ১৫৮; তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীনের শেনয়াং শহরের স্কোর ১৭৫, নেপালের কাঠমান্ডু ১৫৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ, পাকিস্তানের করাচি ১৫৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম, ভিয়েতনামের হ্যানয় ১৪৭ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে আছে। ঢাকায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক দিন দুর্যোগপূর্ণ বায়ুর মধ্যে কাটিয়েছে নগরবাসী। জানুয়ারিতে মোট ৯ দিন রাজধানীর বায়ুর মান দুর্যোগপূর্ণ ছিল, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি—বছরের চার মাস ঢাকার বায়ু বেশি দূষিত থাকে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে বায়ুর মান থাকে সবচেয়ে বেশি খারাপ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার দূষিত বাতাসের শহরের তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, তা জানায়। একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এটা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.