ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াডের বুটক্যাম্প ও সেমিনার অনুষ্ঠিত
ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সায়েন্স (ইউআইটিএস) ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াডের বুটক্যাম্প ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে দেশে চলছে ‘ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াড’। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা এবং গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী প্রতিভাবান হিসেবে গড়ে তুলতে ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় অলিম্পিয়াডের বুটক্যাম্প সেমিনার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এবং সেমিনার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সহ ২৫০ জন এই ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। অলিম্পিয়াড পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মাদ শাফায়েত হোসাইন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এই ক্যাম্প হচ্ছে। ক্যাম্পে স্টেম শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পে নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা কুইজ ও প্রজেক্ট প্রদর্শনীতেও অংশ নিবেন। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু হাসান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাফায়েত হোসাইন, পরিচালক, আইকিএসি এবং ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াডের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মাদ আবদুল হামিদ। সেমিনারে রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, সমন্বিত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। স্টিম শিক্ষা হচ্ছে তারই একটা ধারাবাহিকতা। ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্য দেশগুলো যখন এগিয়ে যাচ্ছে, স্টিম শিক্ষা এবং ৪র্থ বিপ্লবের অগ্রগতির বিবেচনায় আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। এগিয়ে যেতে হলে এখন গতি বাড়াতে হবে, আমাদের স্কীল ম্যানপাওয়ার বাড়াতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রথমবারের দেশজুড়েই এই বুটক্যাম্প কার্যক্রম পরিচালনা করছে আইটেসারেক্ট টেকনোলজিস (iTesseract Technologies)। এই আয়োজন বিষয়ে ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াডের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মাদ আব্দুল হামিদ জানান, শিক্ষার্থীদেরকে পরিচিত এবং প্রস্তুত করার জন্য তারা দেশজুড়েই বুটক্যাম্প করছেন। মাদ্রাসা, পলেটেকনিকসহ যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করতে পারছেন এই ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াডে। এরইমধ্যে সাতটি বিভাগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ আড়াশ’র মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বুটক্যাম্প হয়েছে এআইইউবি, আইইউবি ও রুয়েটসহ ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আরো ২৫০ এর মতো প্রতিষ্ঠানে এই বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু হাসান বলেন, আমাদের স্টুডেন্টরা সুযোগ পেলে অনেক কিছু করতে সক্ষম। এই স্টিম অলিম্পিয়াড বিশাল এক সুযোগ সবার জন্য। আর্টস ও ক্রাফটস বিষয়টি এখানে রাখার আইডিয়াটা হচ্ছে অসাধারণ আইডিয়া। তিনি মন্ত্রণালয় এবং আইটেসারেক্ট টেকনোলজিসকে ধন্যবাদ এমন এমন উদ্যোগের জন্য। মোট ছয়টি স্তরের শিক্ষার্থীরা এ ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে পারবে। স্তর গুলো হচ্ছে প্রথম-৫ম শ্রেনী, ৬ষ্ঠ-দশম শ্রেণী, কলেজ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, পলিটেকনিক শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।
