লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়ে ইব্রাহিম ফকির নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে তার মৃত্যু হয়।
৩২ বছর বয়সী ইব্রাহিম ফকিরের (৩২) বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার সফিবাদ গ্রামে। ওই গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলামের ছেলে তিনি।
ইব্রাহিম ফকিরের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, একবছর আগে দালাল খোরশেদ আলমের মাধ্যমে তার স্বামী ইব্রাহিম ফকির ও একই বাড়ির কবির হোসেন লিবিয়া যান। দালাল খোরশেদ আলম তাদের যেখানে কাজের জন্য নিয়ে যান, সেখানে গিয়ে তারা বেশ বিপদে পড়েন। কারণ, কথার সঙ্গে কাজের কোন মিল খুঁজে পাননি তারা।
রোজিনা বেগম বলেন, কৌশলে ২ মাস আগে কবির হোসেন দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু ওই দেশের দালাল চক্রের কবলে পড়ে যান ইব্রাহিম।
তিনি জানান, কাজ না পেয়ে প্রতিবাদ করলে দালাল চক্র ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ইব্রাহিমের ওপর। একপর্যায়ে তাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার স্বামী।
এদিকে, লিবিয়া ফেরত কবির হোসেন জানান, লিবিয়ার বেনগাজী শহরের পাশে নির্জন একটি এলাকায় তাকে এবং ইব্রাহিম ফকিরকে রাখা হয়। সেখানে তাদের মতো আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকেও দেখেছেন তিনি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, অনেক কষ্ট করে নূরুল ইসলাম তার ছেলেকে লিবিয়া পাঠান শুধুমাত্র ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। কিন্তু এখন তা আর হলো কই!
তবে ইব্রাহিম ফকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য সরকারের সহায়তা চান তিনিসহ পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসী।
