দিনটি হয়ে থাকবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জন্য গৌরবের। দিনটি ছিলো আনন্দের, দিনটি ছিলো স্বীকৃতির। ১৮ জানুয়ারি বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার স্টেট সেনেট অ্যাসেম্বলিতে উঠে আসে এ দেশে একমাত্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাম। আলোচিত হয় সুনামের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টির এগিয়ে চলার কথা।
ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স স্টেট সেনেটর জন চ্যাপম্যান পিটারসন তার উপস্থাপনায় তুলে আনেন তার নিজের নির্বাচনী এলাকার এই বিশ্ববিদ্যালটির কথা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভার্জিনিয়ার ৪০ টি ডিস্ট্রিক্টের স্টেট সেনেটররা। ছিলেন অভ্যাগত অতিথিরা।
অ্যাসেম্বলি পরিচালনা করেন লেফট্যান্যান্ট গভর্নর উইনসাম আর্ল সিয়ার্স।
দুপুর ১২টায় অ্যাসেম্বলি হলে আসতে থাকেন সেনেটররা। আসেন অতিথিরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে যোগ দেন। এতে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ, বিজনেস স্কুলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন, জেনারেল এডুকেশন অ্যান্ড সেন্টার ফর স্টুডেন্ট সাকসেস এর অ্যাসিসট্যান্ট ডাইরেক্টর ড. হুয়ান লি ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এমএসআইটি'র ছাত্র নাঈম হাসান।
স্টেট সেনেটর চ্যাপ পিটারসন অ্যাসেম্বলিতে প্রথমেই পরিচয় করিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের। পরে তিনি অ্যাসেম্বলিতে তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতিত্বের সাথে এগিয়ে চলার কথা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিদক্ষতানির্ভর উচ্চ শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়টি সেরা অবদান রেখে চলেছে।
সেনেটরের উপস্থাপনার পর লেফটেন্যান্ট গভর্নর উইনসাম আর্ল সিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার বিস্তার এবং ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগানিয়া অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এসময় করতালির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে শুভেচ্ছা জানান স্টেট অ্যাসেম্বলির সকল সিনেটর ও অতিথিরা।
অ্যাসেম্বলিতে বিভিন্ন ডিস্ট্রক্টের সেনেটররা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকেও তাদের অবদানের জন্য এই অ্যাসেম্বলিতে স্বীকৃতি জানান।
তবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতি এই স্বীকৃতি ছিলো ভিন্নমাত্রার।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২১ সালে এর মালিকানা পরিবর্তিত হয়। এর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার শিক্ষণ ও পরিচালন পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। যার মধ্য দিয়ে এটি দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলার কাম প্রাক্টিশনার শিক্ষক, সুসংগঠিত টিমওয়ার্ক, শ্রেণিকক্ষে কর্মস্থলের রেপ্লিকা সৃষ্টি করে দেওয়া বিশেষ শিক্ষাপদ্ধতি এর সেন্টার ফর স্টুডেন্ট সাকসেস প্রতিষ্ঠাই এই সাফল্যের কারণ।
ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের পাশাপাশি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও গ্রিনকার্ড হোল্ডার শিক্ষার্থীরাও এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের পাঠস্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
এর আগে চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক চ্যাপ পিটারসনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এসময় আলোচনায় তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে এক হাজার দুই শ' জনের বেশি শিক্ষার্থী অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যত কর্মবাজারের জন্য তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেওয়ার পর এই দক্ষতা দিয়ে সরাসরি মধ্য কিংবা উচ্চ পর্যায়ের পদে কাজে যোগ দিতে পারবেন এবং তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ই নিশ্চিত করছে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট এসব কথাও উঠে আসে বৈঠকে।
পরে লেফট্যান্যান্ট গভর্নর উইনসাম আর্ল সিয়ার্সের সঙ্গেও মত বিনিময় করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এসময় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
পরে এক প্রতিক্রিয়ায় ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন, প্রত্যেকটা কাজেরই একটা স্বীকৃতির প্রত্যাশা থাকে। স্টেট অ্যাসেম্বলিতে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা উঠে আসা একটি অন্যতম স্বীকৃতি। এতে আমাদের এগিয়ে চলার পথে নতুন উদ্দীপনা কাজ করবে।
তিনি বলেন, অ্যাসেম্বলি হলে সকল স্টেট সেনেটর ও অন্য অতিথিরা যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য করতালি দিচ্ছিলেন সে সময়টি আমাকে অবশ্যই গর্বিত করেছে। দৃশ্যটি আমার দীর্ঘদিন মনে ধরে থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জন্য দিনটি ছিলো স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো একটি দিন।
ডব্লিউইউএসটি প্রধান অর্থকর্মকতা ফারহানা হানিপ বলেন, এই অজর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের। এতে সবাই আরও উদ্দীপ্ত হয়ে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জন্য দিনটি ছিলো স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো একটি দিন। স্টেট পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে স্বীকৃতি পেলো তা এর নতুন পথ চলার উদ্দীপনা হয়ে থাকবে। একসময় ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকেও মিলবে এমন স্বীকৃতি এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
