আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটের বড় জয় দিয়ে ২০২৩-ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। শনিবার ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ৩৭ ওভার ২ বলে ১৫৬ রানে আফগানিস্তানকে বেধে ফেলে সাকিবের দল। সর্বোচ্চ ৪৭ রান এসেছে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাট থেকে। ৩টি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। জবাবে খেলতে নেমে ৩৪ ওভার ৪ বল খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। দেখে-শুনে খেলছিলেন দুই ওপেনার লিটন দাস-তানজিদ তামিম। কিন্তু ৫ম ওভারে নজিবুল্লাহ জাদরানের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে যান তামিম। এরপর দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাসও। ফেরার আগে ১৮ বলে করেন ১৩ রান।
দুই ওপেনারের আউট হয়ে যাবার পর হাল ধরেন মিরাজ আর শান্ত মিলে। জয়ের ভীত গড়ে দেয় এই জুটি। ৫৮ বলে দু'বার জীবন পাওয়া মিরাজ তুলে নেন ফিফটি। বাংলাদেশের জয় যখন এক প্রকার নিশ্চিত, তখন মিরাজ আউট হয়ে যান ৭৩ বলে ৫৭ রান করে। উইকেটে এসে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিতে গিয়ে অধিনায়ক সাকিব আউট হয়েছেন ১৪ রানে। তবে বাকি কাজটা মুশফিকুর রহিম আর শান্ত সেরেছেন সহজে। অপরাজিত ৫৯ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নাজমুল হাসান শান্ত।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ ওভারে বিনা উইকেটে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিলো ২৭ রান। ২২ রান করা ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব। শুরুর ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। পরের দশ ওভারে কিছুটা হলেও রানের লাগাম টেনে ধরেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ মিলে। ১১-২০ ওভারের মধ্যে আফগানিস্তান তুলেতে পেরেছে ৪৬ রান।
১৮ রান করা হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে ফিরিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু ওপেনার গুরবাজ তখনো আগলে রেখেছেন উইকেটের আরেক প্রান্ত। অবশেষে ৪৭ রান করা গুরবাজকে ফেরান মুস্তাফিজর রহমান। আর সাকিব তার তৃতীয় উইকেট তুলে নেন ৫ রান করা নাজিবুল্লাহকে ফিরিয়ে।
টপ অর্ডার ব্যাটারদের কল্যাণে ভালো শুরুই পেয়েছিল আফগানিস্তান। তবে মিডল অর্ডার ভেঙে যায় তাসের ঘরের মতোই। ১০ রানের ব্যবধানে ফিরে যান-হাশমতউল্লাহ-গুরবাজ-নাজিবুল্লাহ। ব্যর্থ হয়েছেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নাবি ও রশিদ খান। দলীয় ১৫৬ রানে আউট হয়েছেন ওমরজাই। সেই একই রানে পরের দুই উইকেটও হারিয়েছে আফগানিস্তান। ফলে ১৫৬ তেই আটকে যায় তারা।
দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
