post
এনআরবি সাফল্য

আরব আমিরাতে কালবা স্কুলের বর্ষসেরা স্টাফ বাংলাদেশি প্রবাসী ইউনুস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহের কালবা ইংলিশ স্কুলের বর্ষসেরা কর্মকর্তা অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ স্টাফ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মুহাম্মদ ইউনুস। সততা, আন্তরিকতা, ন্যায়, নীতি, দায়িত্বজ্ঞান এবং নিষ্ঠার বিষয়টা বিবেচনায় নিয়ে গত ৭ জুলাই তাকে স্কুলের পক্ষ থেকে বর্ষসেরা স্টাফ নির্বাচিত করা হয় এবং তাকে সম্মাননা স্মারক সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।মুহাম্মদ ইউনুস গত ১৩ বছর ধরে আমিরাতের অন্যতম শহর শারজায় বসবাস করছেন। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার ২নং দাঁত ইউনিয়নের অন্তর্গত তারা খোঁ গ্রামের মুহাম্মদ আবুল কাশেমের ছেলে।২০১১ সালে শারজাহের কালবা ইংলিশ স্কুলে এডমিন হিসাবে যোগদান করেন মুহাম্মদ ইউনুস। স্কুলটিতে প্রায় ৩৫০ জন স্টাফ রয়েছেন, তাদের মধ্যে থেকে বর্ষসেরা হয়েছেন মুহাম্মদ ইউনুস।একজন বাংলাদেশি হিসাবে বর্ষসেরা নির্বাচিত হওয়ায় ইউনুস নিজেকে গর্বিত মনে করছেন। তিনি বলেন, মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তার সততা। সততা, শ্রম ও কাজের প্রতি আন্তরিকতার কারণে আমার এ পুরস্কার। এ সম্মান শুধু আমার না, সকল প্রবাসীর। যে স্কুলে তিনি কাজ করেন সে স্কুলটিতে ৫ হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করেন। ব্রিটিশ ও আমেরিকান কারিকুলামে সেখানে পড়ানো হয় বলে জানান মুহাম্মদ ইউনুস।  

post
এনআরবি সাফল্য

'শাহ নেওয়াজ জিতলে, বাংলাদেশিরাই জিতবে'

নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪এ থেকে ডিষ্ট্রিক্ট লিডার পদে প্রার্থীতার লড়াই করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাহ নেওয়াজ। আগামীকাল মঙ্গলবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে আগে কমিউনিটিসহ সকল ভোটারদের সমর্থন পেতে ব্যপক প্রচার চালিয়েছেন কমিউনিটির জনপ্রিয় মুখ শাহ নেওয়াজ। ভোট সামনে রেখে শাহনেওয়াজ সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শাহ নেওয়াজ জিতলে, বাংলাদেশিরাই জিতবে, এটাই ক্যাম্পেইন তাদের। এবারের প্রাইমারিতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আমেরিকান প্রার্থী রয়েছেন। যাদের পক্ষেও ভোট চাইছেন অনেকেই।এদিকে ভোটের আগের রাতে এনআরবিসি টিভিকে শাহ নেওয়াজ বলেন, এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী। এরই মধ্যে আর্লিভোট যা হয়েছে, তা থেকেই তিনি অনেকটা আন্দাজ করতে পারেছেন, এই জয় আসবে। আগামীকাল বাংলাদেশি কমিউনিটির সকলকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শাহ নেওয়াজ বলেন, ভোটটাই এদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় শক্তি। ফলে সকলকে ভোট দিতে হবে। বেশি ভোট পাওয়া মানেই হচ্ছে কমিউনিটির মানুষদের জন্য কাজ করার বেশি সুযোগ তৈরি হওয়া, বলেন তিনি।  বাংলাদেশি ছাড়াও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মানুষদেরও ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।এরই মধ্যে স্টেট অ্যাসেম্বলির ডিস্ট্রিক্ট ২৪এ থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডার পদে শাহ নেওয়াজ-কে সমর্থন জানিয়েছেন কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকান। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, নিউইয়র্ক ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজ এবং গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার-এর কর্ণধার শাহ নেওয়াজ একজন স্বনামধন্য , কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও লায়ন।কমিউনিটির বন্ধু হিসেবে তিনি সুপরিচিত। এবং অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে শাহ নেওয়াজ কমিউনিটিকে দিয়ে এসেছেন, এখন কমিউনিটির সুযোগ এসেছে তাকে দেওয়ার।যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি এগিয়ে চলেছে। কমিউনিটির এই চলার পথে নেতৃত্ব দিতে শাহ নেওয়াজ-এর মতো ডায়নামিক, এনার্জেটিক, ফ্যামিলিম্যান ও বন্ধুবৎসল নেতার প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। শাহ নেওয়াজ নির্বাচনী অঙ্গীকারে আগেই বলেছেন, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-২৪ কে সুন্দর, শান্তিময় এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সচেষ্ট থাকবেন। এই দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।শাহ নেওয়াজের পক্ষে ভোট চেয়ে তার সমর্থকরা বলেন, বহুমুখি প্রতিভাধর ও সংস্কৃতি প্রেমি শাহ নেওয়াজ আমাদের বাংলাদেশিদের গর্ব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সকল অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি দেখা যায়। কমিউনিটির কর্মকাণ্ডগুলোতে তার সহায়তামূলক অবদান থাকে এবং অনেকের ক্ষেত্রেই বাড়িয়ে দেন ব্যক্তিগত সহযোগিতার হাত। শুধু তাই নয়, বরং সব জায়গায় তার কন্টিবিউশন থাকে। বাংলাদেশর সকল কর্মকান্ডে তিনি মুক্তহস্তে দান করেন। এমনকি কোনো মানুষ ব্যাক্তিগত সহযোগীতার জন্য গেলেও কাউকে ফিরিয়ে দেন নি। নীবরে কাজ করতে যাওয়া শাহ নেওয়াজের জন্য ভোট চাইতে গিয়ে সমর্থকরা বলেন, শাহ নেওয়াজের মতো একজন কমিউনিটি নেতা বাংলাদেশিদের প্রয়োজন। যিনি কমিউনিটির হয়ে কাজ করবেন। কমিউনিটির কথা বলবেন। 

post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের জালালাবাদ সমিতি নির্বাচনে বদরুল-মঈনুল প্যানেলের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে ‘বদরুল-মইনুল’ প্যানেল।৫ জুন (রবিবার) নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং পেনসিলভেনিয়া স্টেটে স্থাপিত ৫ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মোট ১১ হাজার ভোটারের মধ্যে ৩৭১৫ জন ভোট দেন। ভোটে বদরুল এইচ খান (২৬৬৭) সভাপতি এবং মঈনুল ইসলাম (২৩৫৯) সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন।সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত যথাক্রমে মাসুদুল হক ছানু ৯৮০ ভোট এবং সাইকুল ইসলাম ১২১৪ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন পেয়েছেন ২৫৮৯ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শাহ মিজানুর রহমান ৮৮০ ভোট পেয়েছেন।মিসবাহউদ্দিনকে হারিয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে জয় পেয়েছেন মোহাম্মদ আলিম।যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা ইফজাল চৌধুরী ২৪৭১ ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শাহীদুল হক রাসেল পেয়েছেন ১০২৬ ভোট।উল্লেখ্য, ১৯ সদস্যের কার্যকরী পরিষদের অপর কর্মকর্তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা সকলেই বদরুল-মইনুল প্যানেলের প্রার্থী। এরা হলেন সহ-সভাপতি-মোহাম্মদ শাহীন কামালী (সুনামগঞ্জ), শফিউদ্দিন তালুকদার (হবিগঞ্জ), বশির খান (মৌলভীবাজার), সহ-সাধারণ সম্পাদক-রোকন হাকিম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক-হোসেন আহমদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক-ফয়ছল আলম, ক্রীড়া সম্পাদক-মান্না মুনতাসির, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক-বোরহানউদ্দিন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক-জাহিদ আহমেদ খান, মহিলা সম্পাদক-সুতিপা চৌধুরী এবং নির্বাহী সম্পাদক-হেলিমউদ্দিন, শামীম আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন মানিক এবং মিজানুর রহমান।নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়ায় স্থাপিত কেন্দ্রে ভোটের এই ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আতাউর রহমান সেলিম। এ সময় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থী এবং তাদের বিপুলসংখ্যক সমর্থকরাও ছিলেন। প্রত্যাশার পরিপূরক সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এ সময়। কমিশনের অপর সদস্যরা হলেন মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, আহমেদ এ হাকিম, মোশারফ আলম এবং সাব্বির হোসেন।ফলাফল ঘোষণার পর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত বিজয়ী সভাপতি বদরুল খান এবং সেক্রেটারি মঈনুল ইসলাম ভোটারগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অঙ্গীকার অনুযায়ী তারা ১০০ দিনের মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটিতে ‘জালালাবাদ ভবন’ প্রতিষ্ঠা করবেন।তারা জালালাবাদবাসীর প্রত্যাশার পরিপূরক যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেন।  

post
এনআরবি সাফল্য

প্রবাসী রিমির চার বছরের ব্যবধানে মুনাফা হাজার ডলার থেকে দু’লাখ ডলার

বিনিয়োগ করেছিলেন এক হাজার ডলার। ব্যবসার চতুর্থ বছরে তহবিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ডলারে। হাজারিবাগ এবং নারায়ণগঞ্জে দুটি কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। কারখানা দুটিতে কাজ করছেন ৩৩ জন। আর নিউইয়র্কে কাজ করছেন ৬ তরুণীসহ ৮ প্রবাসী। এখন মাসিক গড়ে ৭০ হাজার ডলারের ব্যবসা হচ্ছে। সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের সন্তান সুমনা কে রিমির নেতৃত্বে ‘স্টাইল উইথ মি’ ১ জুন এফ-কমার্স থেকে ই-কমার্সে রূপান্তরিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ১ জুন বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় ‘জাফরান গ্রিল’ রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে জমকালো এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (ইউএসবিসিসিআই) ‘স্টাইল উইথ মি’কে তাদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। সুমনা রিমি বলেন, ট্রেন্ড অনুযায়ী ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতন যে কেউ বাসায় বসেই এই ব্যবসা করতে পারেন। অন্যের প্রতিষ্ঠানে শ্রম আর মেধার বিনিয়োগ ঘটিয়ে যে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি আসছে নিজের ব্যবসায়। একইসাথে তৃপ্তি পাওয়া যায় সুদূর এই প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির পরিপূরক পোশাক-আশাক জনপ্রিয় করার মধ্য দিয়ে। এছাড়া, আমার দুটি কারখানায় শীঘ্রই আরও কিছু লোক নিয়োগ করতে হবে। ঢাকায় ‘ইস্টার্ন মল্লিকা’ বিপণিবিতানে সামনের মাসেই একটি স্টোর চালু করছি। সেখানেও লোক লাগবে। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন রিমির ঘনিষ্ঠ বান্ধবীরা- যারা তাকে প্রতিনিয়ত এই ব্যবসায় উৎসাহ যোগাচ্ছেন। তারা হলেন বিউটিফুল লেডিস অফ ইউএসএ-এর এডমিন তান্নি আফরিন, ফাহমি সিলভিয়া আখন্দ, নাদিয়া চোধুরী, কুইন্স বিইজ ইউএসএ-র এডমিন রুমা আহমেদ, আনিকা তাসনিম, রূপন্তি রুপ, তানজিন সুলতানা, সামাজিক উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হিমেল, ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বারের পরিচালক শেখ ফরহাদ এবং সদস্য ওবায়েদ হোসেন। রিমি উল্লেখ করেন, মা-বাবা-ভাই নিয়ে নিউইয়র্কে দিন কাটছিল ডানকিন ডোনাটে কাজের মাধ্যমে। সেখানে কর্মরত অবস্থায়ই বাসায় ফিরে রান্না-বান্নাসহ ঘরের যাবতীয় কাজ শেষ করে ফেসবুকে সাম্প্রতিক ডিজাইনের পোশাক-আশাক নিয়ে কথা বলি। এভাবে ৫০ হাজারের অধিক ভক্ত হয়েছে আমার। পোশাক দেখার পর তারা ক্রয়ে আগ্রহ দেখান। এভাবেই আমি একজন উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছি। ডানকিন ডোনাটের ম্যানেজারের চাকরি ছেড়েছি। এমনকি আমার স্বামীও তার চাকরি ছেড়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। রিমি দাবি জানান, মোবাইল অ্যাপও লঞ্চ করলেন তিনি। এতদিন শুধু তরুণী-গৃহিণীদের পোশাক নিয়ে ব্যবসা করলেও শীঘ্রই পুরুষের পোশাকও পাওয়া যাবে তার অ্যাপে। ‘স্টাইল উইথ মি’-এর উদ্যোক্তা সুমনা কে. রিমি জানান, একটি স্বাধীন পেশা হিসেবে আমি উদ্যোক্তা হওয়ার পথ বেছে নিয়েছি। প্রথমে আমি স্বল্প পরিসরে শুরু করেছি এফ-কমার্স। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিকল্পনা এবং তদারকির দায়িত্বে ছিলো বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ইউএসবিসিসিআই’এবং ইউএস-বিডি সফটওয়্যার এ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড। উল্লেখ্য, ‘স্টাইল উইথ মি’-র মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের কাজের তদারকির সামগ্রিক বিষয়টি দেখছে ইউএসবিডিসফট। ইউএসবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট মো. লিটন আহমেদ ‘স্টাইল উইথ মি’-এর অগ্রযাত্রাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পুরুষের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। দেশের পণ্য আমেরিকায় আরও জনপ্রিয় করতে যত রকমের সহায়তা দরকার আমার প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাবে। 

post
এনআরবি সাফল্য

কানাডার অন্টারিও নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি

কানাডার অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় বাঙালি ডলি বেগম। নির্বাচনে আগের চেয়ে বেশি ভোট ও আসন পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন প্রোগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার রায় পেয়েছে। টরন্টো মহানগরীর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা আবারও আস্থা রেখেছেন এনডিপি'র প্রার্থী ডলি বেগমের প্রতি। কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির কোনো আইন পরিষদে ডলি বেগমই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি। ২০১৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে তিনি প্রথম জয়ী হন। ২০১৮ সালের পূর্ববর্তী নির্বাচনের চেয়ে এবারে বেশি হারে ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের প্রায় ৪৭.১ শতাংশ ভোটারের ম্যান্ডেট পেয়েছেন ডলি বেগম। ২০১৮ সালে তিনি পেয়েছিলেন আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৪৫.৬৬ শতাংশ।

post
এনআরবি সাফল্য

নিউইয়র্কের খলিল বিরিয়ানি ও মেধাবী এক পাচকের গল্প

মাহমুদ মেননকাটলারির ঝনঝন শব্দ, রান্নার কড়াইয়ে তেল-পেয়াজের ভিজভিজ আওয়াজ কিংবা আঁচওঠা উনুনে হঠাৎ ঝলসে ওঠা আগুন এসবই ভালো লাগে খলিলের। দিনে রান্না ঘরে কাটে তার ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। আর তার হাতের যাদুতে সুস্বাদু হয়ে তৈরি হয় নানারকম খাবার। পুরো নাম মো. খলিলুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ভাগ্যের সন্ধানে ফেরা মানুষটি তার ভাগ্যের দেখা পেয়েছেন এই রান্নার চুলোয়, তেল-পেয়াজ-আলু-পোস্তয় আর থালা-চামচের সমারোহে। বেছে নিয়েছেন পাচকের জীবন। ইংরেজিতে আমরা বলি শেফ। সেটাই এখন তার সোনালী জীবন। বললেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এসেছিলেন, প্রতিদিন তার জন্য খাবার পাঠিয়েছিলাম, শুনেছি তিনি মজা করে খেয়েছেন।" কেবল কি শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর, মেয়র, অ্যাসেম্বলিম্যান, কাউন্সিলম্যানরা চেখে দেখেছেন খলিলের রান্না। প্রশংসা করেছেন। দিয়েছেন সাইটেশন, সনদ। খলিলুর রহমানের বিরিয়ানি হাউজে এসে তাকে পাশে নিয়ে ছবি তুলেছেন। সেসব ছবি বড় করে বাঁধাই করে বিরিয়ানি হাউসে সাজিয়ে রেখেছেন খলিল। তার দোকানের দেয়ালগুলো এখন সনদ, শংসাপত্রে ঠাসা। এটাই স্বার্থকতা, আর কীই চাই! বললেন খলিলুর রহমান। সত্যিই কি আর চাওয়ার থাকতে পারে একজন বিরিয়ানী ব্যবসায়ীর। যখন তার দেয়ালে শোভা পায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইভটাইম অ্যাচিভমেন্ট সার্টিফিকেট। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বাক্ষরিত। এসব খলিলকে গর্বিত করে। তবে তিনি আজও সবচেয়ে বেশি গর্বিত হন, যখন তার রান্না করা খাবার খেয়ে কেউ বলেন, বেশ মজা হয়েছে। খাবারটি তার জন্য উপভোগ্য ছিলো। প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বাক্ষরিত এই সনদ পাওয়ার অনেক আগেই খলিলুর রহমান বানিয়েছিলেন এক স্পেশাল বিরিয়ানি। যার নাম দিয়েছিলেন বাইডেন বিরিয়ানি। সেই নামের সাথে এই সনদের কোনো যোগসাজশ আছে কি? সে প্রশ্নে এক গাল হেসে খলিলুর বললেন, একেবারেই নেই। যেদিন প্রথম আমি বিরিয়ানির বিশেষ পদটি, সম্পূর্ণ নিজস্ব রেসিপিতে রান্না করি সেদিনটি ছিলো প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল শপথ নেওয়ার দিন। সকলে তাকে বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কেউ ফুল দিয়ে, কেউ শুভেচ্ছাবাণি লিখে। আমি তার জন্য একটি নিজস্ব রেসিপি বানিয়ে বিরিয়াণি রান্না করে সকলকে খাওয়ালাম। সেটাই ছিলো আমার নতুন প্রেসিডেন্টের প্রতি শুভেচ্ছা। কাজটি আমি করেছি স্রেফ ভালোবাসা থেকে। এই ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক খলিলুর রহমান গড়েছেন তার তৈরি খাবারের খদ্দেরদের সাথে। তিনি বলেন, মূল চিন্তাটি থাকে খদ্দের আমার তৈরি খাবার খেয়ে তার স্বাদ উপভোগ করতে পারলেন কিনা। তবে তেল-মসলায় জবজবে করে খাবার রান্না করা আমার কর্ম নয়। আমি চাই খাবারটি সুস্বাদু হবে ঠিকই তবে তা যেনো হয় স্বাস্থ্যকর। সে কারণে মসলার বাহুল্য যেমন আমার খাবারে থাকে না, তেমনি থাকে না তেল-ঘিয়ের মাখামাখি। এ জন্য যথেষ্ট মেধা খাটাতে হয়, পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়, আর সর্বোপরি রাখতে হয় সর্বোচ্চ মনোযোগ। সে কারণেই আমরা খাদ্যপ্রেমি মানুষগুলোকে সেই খাবারই দিতে পারছি যা তাদের জন্য হয় স্বাস্থ্যকর। এটাই আমার খদ্দেরের প্রতি একমাত্র ভালোবাসা। কথাটি আরও গভীর উপলব্দির সাথেই উচ্চারণ করলেন মো. খলিলুর রহমান। তিনি বললেন, আমাদের দোকানে কেবল বয়ষ্করাই খেতে আসেন, তা নয়। তারা সাথে করে নিয়ে আসেন তাদের সন্তানদেরও। যারা এ দেশের নাগরিক। এদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিতেও বড় হচ্ছে। এদেশে রয়েছে তাদের অপার সম্ভাবনা। আমার তৈরি খাবার মজা করে খায় নতুন প্রজন্মের এই ছেলে-মেয়েরাও। তাদের সুস্বাস্থ্যের দিকটি আমাদের চূড়ান্ত বিবেচনায় রাখতে হবে। সে কারণে এই খাবার রান্নাকে আমি কোনোভাবেই স্রেফ ব্যবসা হিসেবে দেখি না। আমি এটাকে সেবা হিসেবে দেখি, সর্বোপরি দেখি দায়িত্ব হিসেবে, বলছিলেন খলিলুর রহমান। খলিলুর রহমানের সঙ্গে আরও কথা হলো নানা বিষয়ে তবে সেগুলোর আগে আসুন আমরা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে খলিল বিরিয়ানির পসরা কতটুকু বিস্তৃত তা দেখে আসি। এটা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস। ১৪৫৭, ইউনিয়ন পোর্ট রোড এটাই খলিলুর রহমানের মালিকানাধীন খলিল'স ফুডের ঠিকানা। এর আওতায় রয়েছে চারটি পৃথক প্রতিষ্ঠান - খলিল'স বিরিয়ানি হাউস- খলিল হালাল চায়নিজ- খলিল পিজা অ্যান্ড গ্রিল- খলিল সুপার মার্কেটবড় মার্কেটে বড় বড় চারটি দোকান। তবে খলিল বিরিয়ানি হাউসের মূল যে দোকানটি সেটি সেটি অপেক্ষাকৃত ছোট। ঠিক সড়কের উল্টো দিকে। যেখান থেকে খলিলুর রহমানের যাত্রা শুরু। এই দোকানটি এখনো তার সবচেয়ে প্রিয়। সেখানে কাউন্টার থেকে কথা বলছিলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। বলছিলেন তার স্বপ্নপূরণের কাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এসে আরও অনেকের মতো তিনিও একসময়ে অডজব করেছেন। তবে হোটেলেই কাজ বেশি করেছেন। ডিশ ক্লিনিংয়ের কাজ দিয়েই শুরু হয় এই ঢাবি স্নাতকোত্তরের। তবে তখন থেকেই মনে তার দানা বাঁধতে থাকে স্বপ্ন। একবার ভেবেছিলেন আইটিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে, আরও অনেকের মতো সে খাতেই ভাগ্য গড়বেন। কিন্তু সে চিন্তা খুব বেশি দিন কাজ করেনি। বরং মনে ইচ্ছা পোষণ করতে থাকেন একসময় শেফ হওয়ার। সেই চিন্তাটিকে কেন্দ্রে রেখেই তিনি শিখে নেন কালিনারি... অর্থাৎ রান্নার প্রশিক্ষণ ও শিক্ষালব্দ জ্ঞান। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নিয়েই, নিজ দেশের তথা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মানুষের প্রিয় খাবার বিরিয়ানি তৈরি ও বিক্রির উদ্যোগ নেন প্রথম। তাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় খলিল'স বিরিয়ানি হাউস। নিজের দীর্ঘ অড জব থেকে অর্জিত আয়, আর তা থেকে সঞ্চিত অর্থে মাত্র ৭০ হাজার ডলার খরচে কিনে নেন ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ছোট্ট দোকানটি। সেখানেই রান্না শুরু করেন বিরিয়ানি। সেটা ২০১৭ সাল। এরপরের গল্প কেবলই এগিয়ে চলার। সেই ৭০ হাজারের পূজি লগ্নি করে আজ পাঁচ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসার মালিক এই খলিলুর রহমান। একাগ্রতা আর কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাকে সাফল্য দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদটি তিনি দিতে চান তার তৈরি খাবারের খদ্দেরদের। খলিল বলেন, গ্রাহকই সবচেয়ে বড় কথা। আমি সেরা খাবার তৈরি করলাম, কিন্তু কেউ খেতে এলো না, তাতে আমার খাবার, তা যতই সেরা হোক, বিক্রি হবে না। তেমনি আবার গ্রাহক এলেন, খেলেন কিন্তু আমার খাবার মানসম্মত ছিলো না, তাহলে গ্রাহক চলে যাবেন। আর সর্বোপরি গ্রাহক খেলেন কিন্তু তৃপ্তি পেলেন না, তাতে ব্যবসা টিকবে না। সাথে রয়েছে একটি দামের প্রসঙ্গও। দাম যদি অনেক হয়, তা যদি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় তাহলে সে খাবারও খুব বেশি দিন কেউ খেতে আসবেন না। সুতরাং খাদ্যপ্রেমি মানুষের মুখের স্বাদ, পকেটের সামর্থ আর খাবারের সাধ এই তিনের সমন্বয় ঘটাতে তিনি চেষ্টা করেন। তাতেই হয়তো এইটুকু সাফল্য এসেছে। কেবল বিরিয়ানি নাম হলেও খলিলুর রহমান তার ব্যবসা বিস্তৃত করেছেন চায়নিজ ফুড, পিজা অ্যান্ড গ্রিলেও। আর নান, রুটি, পরোটা- মাংস এগুলোতো রয়েছেই। নতুন প্রজন্ম পিজা খেতে পছন্দ করে তাদের কথা মাথায় রেখে পিজা তৈরি শুরু করেন। এবং বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বললেন, তার তৈরি পিজায় স্বাদের শতভাগ গ্যারান্টি রয়েছে এবং ব্র্যান্ডেড সব পিজার চেয়ে স্বাদে-গুনে কম কিছু নয়। তেমনি তার তৈরি চায়নিজ খাবার, ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন, স্যুপ, ভেজিটেবল, চিকেন সিজলিং কিংবা বিফ চিলিজ এসবও বেশ সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। এত বড় ব্যবসা এক হাতে সামলান। তবে কর্মচারি ও সহকর্মীর সংখ্যা এখন শতাধিক। তার যে সুপার মার্কেট রয়েছে তাতে বিক্রি হয় মাছ-মাংস শাক-সব্জি। খলিল বলেন, তাজা তাজা খাদ্যপণ্য বিক্রির সুবাদে তার সুপারমার্কেটও এখন বেশ জমে উঠেছে। খলিল জানান, এই সুপারমার্কেটে কখনো বাঁসি গরুর মাংস, চিকেন বিক্রি হয় না। বললেন, সুপার মার্কেটে যে মাংস তোলা হয়, তার একটি বড় অংশই যায় তার প্রতিষ্ঠিত বিরিয়ানি হাউজ ও অন্য দোকানগুলোয়। আর বাকিটা দিনে দিনে খদ্দেররা কিনে নিয়ে যান। এতে প্রতিদিনই নতুন মাংস ওঠে। দিনশেষে বিক্রি হয়ে যায়। রান্না ঘরে খলিলকে ব্যস্ত দেখে সেখানে দাঁড়িয়েই কথা হচ্ছিলো। দক্ষ, শক্ত হাতে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ওলট-পালট করছিলেন কড়াই ভর্তি চওমিন ও ফ্রায়েড রাইস। বললেন, এগুলো করতেই তার সবচেয়ে ভালো লাগে। তাকে এক সঙ্গে তদারকি করতে হয়, ক্যাশ-কাউন্টার সামলাতে হয়। তবে এসবে এখন সিদ্ধহস্ত এক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের স্নাতকোত্তর এই খলিলুর রহমান। কথায় কথায় চলে গেলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। বললেন, বিশ্ববিদ্যলয় জীবনে একবার বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছিলাম গরুর মাংস রান্না করে খাওয়াবো বলে। তারা এলো কিন্তু আমার রান্নায় এতো লবন হয়েছিলো যে খাওয়া যাচ্ছিলো না। এতে আমার রোখ চেপেছিলো। এরপর আবারও মাংস রান্না করে বন্ধুদের দাওয়াত করলাম। তারা পেটপুরে চেটেপুটে খেলো। এই চেটেপুটে খাওয়া কাউকে খেতে দেখলে বেশ আনন্দ লাগে খলিলুর রহমানের। বললেন, খাবার স্বাদ হলেই খাদ্যপ্রেমিরা চেটেপুটে খান। আর সেটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। খলিল ফুডের চারটি দোকানের মধ্যে তিনটিই রেস্টুরেন্ট। এগুলো খাদ্য তালিকায় রয়েছে শতেক পদ। তবে খলিলের বিরিয়ানিটাই সকলের পছন্দ। খলিলের কাচ্চি বিরিয়ানি, গোট বিরিয়ানি, ল্যাম্ব বিরিয়ানি, বিফ বিরিয়ানি, ভেজিটেবল বিরিয়ানি এসবতো রয়েছেই, সাথে নানা পদের মাছ, ভর্তা-ভাত, রুটি সব্জি, মাংস রেজালা, ভাজাভুজি কি নেই খলিলের দোকানে। সবশেষ যুক্ত হয়েছে পিজা। তার সঙ্গে দই-মিষ্টিসহ আরও হরেক খাবার, হরেক পদ। গ্রাহকরা খলিলুর রহমানের চোকানে এলে কিছু না কিছু সেরা পছন্দের খাবার পেয়েই যান। তৃপ্তি করে খান। আর বলেন- বেজায় ভালো। 

post
এনআরবি সাফল্য

নতুন ইতিহাস রচনার পথে জর্জিয়ায় শেখ রহমান এবং নাবিলা

ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান শেখ রহমান এবং নাবিলা ইসলাম। জর্জিয়া স্টেট সিনেটে তৃতীয় মেয়াদের জন্য নিশ্চিত বিজয়ের পথে রয়েছেন সিনেটর শেখ রহমান। অপরদিকে, ডেমক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাবিলা ইসলামও জর্জিয়া স্টেট পার্লামেন্টে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। ২৪ মে অনুষ্ঠিত ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে শেখ রহমান এবং সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৭ থেকে নাবিলা রহমান বিজয়ী হয়েছেন। উভয় আসনেই ডেমক্র্যাট ভোটারের আধিক্য থাকায় নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত। অর্থাৎ দু’বছর আগের মত এবারও শেখ রহমান হয়তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই তৃতীয় মেয়াদের জন্যে নির্বাচিত হবেন। নাবিলা হবেন প্রথম মেয়াদের সিনেটর। নাবিলাকে একজন রিপাবলিকান প্রার্থীর সাথে লড়তে হলেও ডেমক্র্যাটদের মধ্যে সৃষ্ট ঐক্য অব্যাহত থাকলে তার বিজয় ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে নির্বাচন-বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন। নাবিলা বলেন, জর্জিয়া স্টেটের বাংলাদেশি তথা অভিবাসী সমাজের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পার্লামেন্টে। তিনি সর্বস্তরের ভোটারের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রাইমারিতে বিজয় প্রদানের জন্যে। এই ধারা নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনের সময় পর্যন্ত অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন নাবিলা। অপরদিকে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৩ বছর বয়সী শেখ রহমানকে পাক হায়েনার দল যুদ্ধবন্দি করেছিল। তাঁর বাবা শেখ নজিবুর রহমান তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ের পদস্থ কর্মকর্তা পদে থেকেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। আগরতলায় ‘জয় বাংলা যুব শিবির’র সুপারভাইজার হয়েছিলেন মুুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সময়। সে কারণে শেখ রহমানকে জিম্মি করা হয়েছিল। বর্বরতা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও হাল ছাড়েননি বাঙালির স্বাধীনতার প্রশ্নে। বাঙালিদের স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত শেখ রহমান যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা শেষে নানা পথ-পরিক্রমায় ডেমক্র্যাটিক পার্টির সাথে যুক্ত হয়েছেন। শিক্ষা চালিয়ে নিতে রেস্টুরেন্টের ডিশওয়াশারের কাজও করেছেন ঘণ্টায় ৩.৩৫ ডলার মজুরিতে। সে সব দিনের কথা ভুলেননি। সন্তানদেরকেও জানিয়েছেন কঠোর পরিশ্রমে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে উপনীত হবার তথ্য। স্টেট সিনেটে জয়ী হবার পর শেখ রহমান নিজ এলাকা তথা জর্জিয়ার মানুষের অধিকার-মর্যাদা নিয়ে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বার্থেও কাজ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে জর্জিয়া স্টেট পার্লামেন্টে পৃথক দুটি রেজ্যুলেশন পাশ হয় তারই উদ্যোগে। শেখ রহমান প্রবাস প্রজন্ম এবং প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, অধিকার-মর্যাদার প্রশ্নে মার্কিন রাজনীতিতে জড়িত হবার বিকল্প নেই। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে এলাকার সকল মানুষের সমর্থন লাভের চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ কোন জাতি-গোষ্ঠি-বর্ণ-ভাষার মানুষের হয়ে নির্বাচনে বিজয় লাভ করা কঠিন। এটি সকলকে মনে রাখতে হবে। তাহলেই বাঙালিরা অভিষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো। শেখ রহমান বলেন, আমি এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞ এজন্যে যে, তারা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন এবারও। উল্লেখ্য, শেখ রহমান হচ্ছেন জর্জিয়া স্টেট পার্লামেন্টে প্রথম এশিয়ান এবং প্রথম মুসলমান সিনেটর। এজন্য বাইডেন প্রশাসনেও তার গুরুত্ব অপরিসীম। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দলীয় প্রাইমারিতে জয়ী হবার মধ্যদিয়ে নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনেও শেখ রহমানের বিজয় নিশ্চিত। অর্থাৎ নভেম্বরের এই প্রত্যাশা পূরণ হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট পার্লামেন্টে এই প্রথম একইসাথে দুই বাংলাদেশি আমেরিকানের অধিষ্ঠিত হবার ঘটনা ঘটবে।  

post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে সম্মাননা পেলেন কবি শরীফুল আলম

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ও ইংরেজী সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশি বংশদ্ভুত কবি শরীফুল আলমকে সন্মাননা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কের নিউ কভেন্যান্ট প্রেসবিটারিয়ান চার্চ আলবাতে এ সম্মাননা দেন আ্যলাইন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (এএসএএএল) নামে সংগঠন। অ্যালাইন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবারের (এএসএএএল) প্রতিনিধিত্বকারী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি হলো- বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চক শুমার, সিনেটর জেসিকা রামোস, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান চার্লস ডি. ফল, অ্যাসেম্বলিম্যান খলিল অ্যান্ডারসন, অ্যাসেম্বলি ওমেন আমান্ডা সেপ্টিমো, অ্যাসেম্বলি ওমেন ইউহ লাইন নাইউ, কাউন্সিল সদস্য লিন্ডা লি এবং মার্সিডিজ নার্সিস প্রমুখ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মিসবাহ উদ্দীন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতায়নসহ কমিউনিটি এবং মূলধারার মধ্যে সেতুবন্ধনে কাজ করছে আ্যলাইন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার। সংগঠনের উদ্যোগে আমরা আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক উন্নয়নে আরও বেশি সচেতন হবো।

post
এনআরবি সাফল্য

বাংলাদেশি মৌসুমি ফল এখন কুয়েতের বাজারে

ষড়ঋতুর পথ পরিক্রমায় এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। বাঙালির প্রিয় মধুমাস জ্যৈষ্ঠ মাস। এ মৌসুমে বিভিন্ন জাতের আম, কাঁঠাল, লিচু বিভিন্ন ফল ভিন্ন ভিন্ন রঙ ধারণ করে পাকতে শুরু করে মৌসুমি ফল। দেশের মৌসুমি ফলের স্বাদ নিতে পারে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কুয়েতের বিভিন্ন বাংলাদেশি সুপার শপ, বাকালাগুলোতে গেলে দেখা যায়- বাংলাদেশি মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস পসরা সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। আহসান ও করিম দুই প্রবাসী বলেন, প্রতি সপ্তাহে অথবা পনেরো দিনে বাংলাদেশি সুপার শপ, বাকালা থেকে পছন্দের বাংলাদেশি শাক সবজি কিনে নিয়ে যাই। হঠাৎ নজের এলো দেশি মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল, লিচু। লিচু দেখে খুব ভালো লাগলো। দোকানের বিক্রেতা রহিম উদ্দিন জানান, কুয়েতে বাংলাদেশি ফল শাক-সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশিদের ছাড়াও অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও কিনে নিয়ে যান। বাংলাদেশ হতে নিয়ে আসতে কার্গো খরচ বেশি পড়ে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

post
এনআরবি সাফল্য

মিশিগানে সম্মাননা পেয়েছেন সাত বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সম্মাননা পেয়েছেন সাত বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট। মিশিগান রাজ্যের ওয়ারেন শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় ওয়ারেন সিটি অব কাউন্সিল তাদেরকে এ সম্মাননা দেয়।    মঙ্গলবার রাতে শহরের ইউক্রেনিয়ান কালচারাল সেন্টারে ওয়ারেন সিটির ২৫তম বার্ষিক সিটি কমিশনের নৈশভোজ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সিটির বিভিন্ন কমিশন ও বোর্ড মেম্বারদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননার সনদপত্র তুলে দেন ওয়ারেন সিটির মেয়র জেমস ফাউন্টস এবং কাউন্সিল চেয়ার গ্রেইন পেট্রিক। বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, ওয়ারেন সিটির বোর্ড অব রিভিউ ভাইস চেয়ার ফয়ছল আহমেদ, বোর্ড অব রিভিউ সদস্য আজিজ চৌধুরী, ক্রাইম কমিশন সুমন কবির, বিউটিফিকেশন কমিশন খাজা সাহাব আহমেদ, প্ল্যানিং কমিশন মাহমুদা মৌরী, ক্রাইম কমিশন নিজাম আহমেদ এবং কালচারাল কমিশন সীমা বেগম।

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.