post
এনআরবি সাফল্য

মালয়েশিয়ায় জোড়া সম্মাননা পেলেন ঝাড়খন্ডের সমাজসেবী লুৎফল হক

বাণিজ্যিক সাফল্য ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য মালয়েশিয়াতে একসাথে জোড়া সম্মাননা পেলেন ঝাড়খণ্ডের প্রখ্যাত সমাজসেবী লুৎফল হক। তিনি ইতিমধ্যেই খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করছেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানান সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। এবার তার মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হল। একসাথে দু-দুটি জোড়া সম্মান পেলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের তরফে তাকে সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ইন্দো গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি তাঁকে বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য সম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করেন। কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির তরফে এদিন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, উদ্যোগপতি জনাব ড: মজলি মালিক। এদিন জনাব লুৎফল হককে কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির তরফে সম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রী ও ইন্দো গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ তুলে দেন মালয়েশিয়ার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ড: মজলি মালিক। জনাব লুৎফল হক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি পাথর খনিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি দিনমজুর হিসেবে তার কর্ম জীবন শুরু করলেও তার চোখ জুড়ে ছিল বিশাল স্বপ্ন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন জীবনে একদিন সফল হতে হবে। দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করছেন দেশজুড়ে। তার কঠোর পরিশ্রম এবং পিছনে না তাকানোর অভ্যাসের জোরে, লুৎফল হক শুধু ঝাড়খণ্ডেই নয়, তার বাণিজ্যিক সাফল্য ও মানব সেবার কথা ঝাড়খণ্ডের বাইরেও দেশজুড়ে চর্চা হচ্ছে। এই প্রথম বিদেশের মাটিতে ডঃ মালিক লুৎফল হকের মানবসেবার তুমুল প্রশংসা করেন। ডক্টর মালিক বলেন, জনাব লুৎফল হক জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। তিনি শৈশবে কৈশোরে দারিদ্রতার সাথে লড়াই করেছেন। বর্তমানে তিনি একজন বড় মাপের সফল ব্যবসায়ী। তিনি কিন্তু শৈশবের দারিদ্রতার কথা ভুলে যাননি। তাই তিনি হাজার হাজার গরীব ও দুস্থ মানুষদের সেবায় আজও নিয়োজিত রয়েছেন। মালিক আরও বলেন, লুৎফল হকের সমাজসেবা অজস্র মানুষদের অনুপ্রাণিত করবে। এদিন কমনওয়েল ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস চ্যান্সেলর ড: রিপু রঞ্জন সিনহা উপস্থিত ছিলেন। তিনি লুৎফল হকের ভুয়সী প্রশংসা করেন। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর শহরের পাঁচতারা হোটেল সুইস গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া সহ ভারতের বহু বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ইতিপূর্বে লুৎফল হককে মুম্বাইতে অল ইন্ডিয়া জার্নালিস্ট প্রোটেকশন কমিটি কর্তৃক সমাজসেবার ক্ষেত্রে সম্মানিত করা হয়েছিল, যেখানে তাঁর সমাজসেবার কথা মুম্বাইয়ের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল। তাছাড়া গত মাস দুয়েক পূর্বে কলকাতায় একটি পাঁচতারা হোটেলে লুৎফল হককে সমাজসেবার ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থ কাজের জন্য বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড সম্মান প্রদান করা হয়। এই মহার্ঘ্য সম্মানটি তুলে দেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। এ দিন মালেশিয়ার মাটিতে লুৎফল হকের দু’দুটি পুরস্কার প্রাপ্তিতে গোটা ঝাড়খন্ড ও বাংলা জুড়ে প্রশংসার বন্যা বইছে। সমাজের বহু গুণীজন লুৎফল হকের এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে লুৎফল হক বলেন, আমি শৈশবে দারিদ্রতার সাথে লড়াই করেছি, খুব কাছ থেকে দারিদ্রতাকে দেখেছি। আজ আমি ব্যবসায়ী হিসেবে সফল হয়েছি, তাই গরিব মানুষকে আমি ভুলিনি। আমি যতদিন পৃথিবীতে বাঁচবো, ততদিন গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করে যাব।

post
এনআরবি সাফল্য

কানাডায় স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশি মঈনের সফল স্টার্টআপ

সময়টা ২০০০ সাল। সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুনামগঞ্জের শ্যামনগর গ্রামের ছেলে মোহাম্মদ মঈন। সেই সময়ই স্কুলশিক্ষক বাবা শামসুল ইসলামের ক্যানসার ধরা পড়ে। কিন্তু তখন ক্যানসারের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেশে পাচ্ছিলেন না। যা-ও পাচ্ছিলেন, সেগুলোর দাম ছিল সাধ্যের বাইরে। এমন বাস্তবতায় ছয় মাস চিকিৎসার পর মারা যান মঈনের বাবা। ক্যানসারে বাবার মৃত্যু মোড় ঘুরিয়ে দেয় মঈনের জীবনের। মঈনের বাবার মতো দুরবস্থা যাতে আর কারও পড়তে না হয়, সে জন্য কানাডায় গিয়ে গড়ে তোলেন ওষুধ তৈরির প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ সোমরু বায়োসায়েন্স কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরির সময় ও দাম কমিয়ে আনতে প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়া।সম্প্রতি কানাডা থেকে সংক্ষিপ্ত সফরে দেশে আসেন মোহাম্মদ মঈন। তখন ভিনদেশে গড়ে তোলা তাঁর স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সুত্রের । এ সময় মঈন বলেন, বাবা যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন ক্যানসার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না আমার। বড় ভাই তখন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ তৈরির একটি গবেষণাগারে কাজ করতেন। বাবার জন্য তিনি যেসব ওষুধের কথা বলেছেন, সেগুলোর অধিকাংশ দেশে পাইনি। যেগুলো পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলোর দামও ছিল অনেক বেশি। তখনই ঠিক করেছিলাম, মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কীভাবে আরও সহজে ও সাশ্রয়ী দামে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব। ছোটবেলা থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়ার আগ্রহ ছিল মোহাম্মদ মঈনের। সেই আগ্রহ থেকেই ২০০১ সালে কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স ও বায়ো ইনফরমেটিকস বিষয়ে পড়তে যান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির চিন্তা ছিল তাঁর। কিন্তু দেশটিতে তখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। এ কারণে দ্বিতীয় বর্ষে এসে কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিতে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন। চতুর্থ বর্ষে থাকা অবস্থায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দিহান আহসানের সঙ্গে। বিয়ের পর দুজন মিলে প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ড আইল্যান্ডের একটি বাড়ির নিচতলায় একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। ২০০৭ সালে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে ওষুধের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কর্মজীবন শুরু করেন মঈন। ২০১২ সালে যোগ দেন অন্য আরেকটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে। আর ওই বছরই শুরু হয় তাঁর সোমরু বায়োসায়েন্স কোম্পানির যাত্রা।মঈনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম তখন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি অ্যামজেন ও কোভ্যান্সের (বর্তমান ল্যাবকর্প ড্রাগ ডেভেলপমেন্ট) ওষুধের মান যাচাই প্রকল্পে কাজ করতেন। বড় ভাইয়ের ছিল ওষুধ তৈরির অভিজ্ঞতা, আর মঈনের ছিল প্রযুক্তিগত দক্ষতা। তাই মঈন ভাবলেন, দুই ভাই মিলে নতুন কিছু শুরু করা যায়। কানাডার এ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা জানান, সাধারণত বায়োলজিক্যাল ওষুধ তৈরির বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে একটি ওষুধ বাজারে আনতে ১০ বছরের মতো সময় লাগে। এসব ওষুধের দাম অনেক বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেয় বায়োসিমিলার ওষুধ। পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব থাকা বায়োলজিক্যাল ওষুধের অনুলিপি যেকোনো কোম্পানি তৈরি করতে পারে। এটিকে বলা হয় বায়োসিমিলার ওষুধ। মেধাস্বত্বের মেয়াদ শেষ হলেই কেবল এ ধরনের ওষুধ বাজারে আনতে পারে অনুলিপি করা কোম্পানি। এতে কম সময়ে ও সাশ্রয়ী দামে বাজারে ওই ওষুধ আনা সম্ভব। তাই বায়োসিমিলার ওষুধ নিয়েই কাজ শুরু করেন মঈন ও তাঁর ভাই। মঈনের স্কুলশিক্ষক বাবা সিলেটে ‘সোমরু মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাই তাঁর নামেই ২০১২ সালে সোমরু বায়োসায়েন্স কোম্পানির নিবন্ধন নেন তিনি। মাত্র এক লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে স্টার্টআপ কোম্পানিটির যাত্রা শুরু করেন তাঁরা। শুরুর দিকে কানাডার প্রাদেশিক ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের ইনকিউবেশন সেন্টারে একটি জায়গা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। পরে ২০১৪ সালে নিজস্ব জায়গায় স্থাপন করেন গবেষণাগার।বর্তমানে মঈনের সোমরু বায়োসায়েন্সে অর্ধশতাধিক বিশেষজ্ঞ ও কর্মী কাজ করেন। দুই ভাইয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মঈনের স্ত্রী দিহান আহসান ও ভাবি ক্লারিন্ডা ইসলাম। কানাডার ফেডারেল ও রাজ্য সরকার থেকে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও অর্থসহায়তা পেয়েছে সোমরু। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বায়োলজিক্যাল ওষুধ তৈরির বিভিন্ন ধাপে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। যেমন ওষুধের ধরন নির্ণয়ের পরীক্ষা, বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ব্যবস্থা করে দেওয়া, তথ্য বিশ্লেষণ করা, ওষুধের নিরাপত্তা ও ইফিক্যাসি যাচাই করা, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সির (ইএমএ) অনুমোদন জোগাড় করে দেওয়া, ওষুধ বাজারজাতের অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। এ ছাড়া কিট ও বায়োমেকার ডিটেকশন (ওষুধ শরীরে কীভাবে কাজ করে তা যাচাই) সেবাও দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির পণ্য ও সেবার মূল বাজার যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর রয়েছে ইউরোপ। এ ছাড়া ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ২০২১ সালে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে সোমরু। চলতি বছর বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় গবেষণাগার স্থাপন করতে চলেছে তারা। বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশের শতাধিক কোম্পানির সঙ্গে ১১২ ধরনের ওষুধ নিয়ে কাজ করছে সোমরু। বাংলাদেশেও বায়োসিমিলার ওষুধ তৈরির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মঈন। এটা করা গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ ধরনের ওষুধ দেশ থেকে রপ্তানি করাও সম্ভব হবে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধে৵ কানাডার ফেডারেল সরকার থেকে পুরস্কার পেয়েছে সোমরু। ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ বায়োসিমিলার প্রযুক্তি সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এ স্টার্টআপ কোম্পানিটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেরাই নতুন বায়োলজিক্যাল ওষুধ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে পাঁচ ধরনের ক্যানসারের ওষুধ নিয়ে কাজ করছে সোমরু। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সিলেটে প্রতিষ্ঠা করেছে সোমরু ফাউন্ডেশন। মঈন বলেন, ‘বাবার মৃত্যু আমার জন্য একটি বার্তা ছিল। কম দামে সাধারণ মানুষ যেন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কিনতে পারে, এটাই আমার চাওয়া।’সূত্র- প্রথম আলো 

post
এনআরবি সাফল্য

মার্চের ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১২ হাজার কোটি টাকা

এবার রমজান শুরুর আগেই এর লক্ষণ ফুটে উঠেছে। মার্চ মাসের ১৭ দিনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১১৬ কোটি ৪১ লাখ ৮০ লাখ ডলার, যা টাকার অংকে (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হিসাবে) ১২ হাজার কোটি টাকা। রোববার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আগের মাস ফেব্রুয়ারির ১৭ দিনে প্রবাসীরা ১০৫ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠান। মার্চ মাসের ১৭ দিনে পাঠান ১১৬ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রবাসী আয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকলে মার্চে ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। টাকার অংকে যার পরিমাণ ১৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা। প্রবাসী আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নেয় সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে প্রবাসীদের যাওয়ার হারও বেড়েছে। প্রবাসী আয় বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো, বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর বিপরীতে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করা, প্রবাসী আয় পাঠানোদের সিআইপি সম্মাননা দেওয়া, প্রবাসী আয় বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজ করা, অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ন অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া, ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা এবং রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করা হয়েছে। সেবার বিনিময়ে দেশে প্রবাসী আয় আনতে ফরম সি পূরণ করার শর্ত শিথিল করার ব্যবস্থা করা হয়। ঘোষণা ছাড়াই সেবা খাতের উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের ২০ হাজার মার্কিন ডলার দেশিক মুদ্রা দেশে আনার সুযোগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ এ সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব উদ্যোগের ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানো বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ দিনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৪ কোটি ৯১ লাখ ডলার বা ১ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকার বেশি। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ৫২ লাখ ডলার বা ২৭০ কোটি টাকার প্রবাসী আয় এসেছে। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৮ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ১০ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩.৭৪ মিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয়। প্রবাসী আয় পাঠাতে একক ব্যাংক হিসেবে মার্চ মাসে যথারীতি ইসলামী ব্যাংকই এগিয়ে রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া যথারীতি কোনো প্রবাসী আয় আনতে পারেনি।  

post
এনআরবি সাফল্য

এইচএসসির আগেই বিশ্বসেরা এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেলেন চাঁদপুরের নাফিস

বিশ্বের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাফিস উল হক ওরফে সিফাত। এইচএসসি পাসের আগেই বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানে স্নাতকের সুযোগ পেয়ে অবাক নাফিস নিজেও।বাংলাদেশী পড়ুয়াদের মধ্যে নাফিস সবচেয়ে কম বয়সে এমআইটির আন্ডারগ্রাজুয়েটে (স্নাতক) পড়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।জানা যায়, চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাটে নাফিসের বাড়ি। তার মা ও বাবা দুইজনেই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ বিজ্ঞান শাখার মেধাবী শিক্ষার্থী মো. নাফিস উল হক সিফাত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজ শহরে অবস্থিত বিশ্ব খ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) স্নাতক (সম্মান) কোর্সে পড়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।তথ্য মতে, এমআইটি বিশ্বের শীর্ষ ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলো সব সময় আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথমে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন বিশ্বের নামকরা সব পণ্ডিত ও গবেষকরা। ১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষণায় এর পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে ৭৬ জন এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন।এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নাফিস। বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বেলা ২টায় নাফিস কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছলে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ নাফিসকে বুকে টেনে নেন। তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছাও জানান।অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, ‘ নাফিস তুমি আমাদের শিক্ষা পরিবারের গৌরব, আমাদের চাঁদপুরবাসীর অহংকার। তোমার জন্য আমরা ধন্য। বিশ্বের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তুমি চাঁদপুর তথা বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছ। তোমাকে সাধুবাদ জানাই, তোমার বাবা-মাকে জানাই সালাম ও শুভেচ্ছা। চাঁদপুর সরকারি কলেজ আরও সামনে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় তোমাদের মতো স্মার্ট শিক্ষার্থী, গড়ে তুলবে স্মার্ট বাংলাদেশ।’এমআইটিতে নাফিসের ইচ্ছা কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার। নাফিস এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্স (আইওআই) এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাশের আগেই কীভাবে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হলো?— এমন প্রশ্নের জবাবে হেসে নাফিস বলেন, ‘কোন কিছুই আসলে অসম্ভব নয়। চেষ্টা থাকতে হবে, আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। ওরা আসলে দেখতে চায় পড়ালেখায় একজন ছাত্র কতটা ভালো, মানুষ হিসেবে কেমন, কোন বিষয়ে আগ্রহ আছে এবং সে কীভাবে সমস্যার সমাধান করছে। আমি আসলে অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্স এ ব্রোঞ্জ পদক লাভ করায়, তারা আমাকে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে। আমি সবার দোয়া চাই। বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ থাকবে, ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে এবং এর পাশাপাশি এক্সটা কারিকুলাম একিটিভিটিসগুলোতে নিজেদেরকে যুক্ত রাখতে হবে।’

post
এনআরবি সাফল্য

ইতালির ভেনিসে প্রথম বাংলাদেশি চিকিৎসক রাসেল

ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশি কমিউনিটির সূচনা হয় প্রায় ২৫ বছর আগে। তখন হাতেগোনা কজন বাংলাদেশি অভিবাসী এই শহরে বসবাস করতেন। ধীরে ধীরে কমিউনিটি বড় হতে থাকে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসীর শহর ভেনিস। অনেকেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করে। বাবারা অধিকাংশ কল-কারখানা, রেস্তোরাঁ বা পর্যটন সংশ্লিষ্ট চাকরিতে আছেন। কেউ কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যও করেন। মায়েদের বড় অংশ ঘর-গৃহস্থলির কাজ করেন। কেউ কেউ চাকরিও করেন। অভিবাসী বাংলাদেশিদের প্রথম জেনারেশন বা ছেলে-মেয়েদের একটা বড় অংশ এখন পূর্ণ যৌবনে পা দিয়েছে। কেউ কেউ কর্মজীবন শুরু করেছে। পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে সংসারও পেতেছে অনেকে। কিন্তু ছেলে-মেয়েদের একটা বড় অংশ লেখাপড়া শেষ করেনি বা করতে পারেনি। 'ও' লেভেল থেকেই তারা ঝরে পড়েছে। সংসারের হাল ধরেছে। বাবা-মাকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য কর্মজীবনে নেমে পড়েছে। তাদের মধ্যে যারা লেখাপড়া শেষ করেছেন, তাদের একজন রাসেল মিয়া। ভেনিসের প্রথম বাংলাদেশি চিকিৎসক।১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন রাসেল মিয়া। ১১ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ইতালি চলে আসেন। তখন রাসেলের বাবা একটি জাহাজ নির্মাণ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। থাকতেন ভেনিসের উপশহর মেসত্রেয়। স্থানীয় স্কুল-কলেজের লেখাপড়া শেষ করে রাসেল ভর্তি হন পাদোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক হওয়ার। চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সেবা দেবেন। রাসেল বলেন, 'প্রত্যেক মানুষকেই একটা সময়ে পেশা বেছে নিতে হয়। আমি ছোট সময় থেকেই ঠিক করি চিকিৎসক হব। মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেবো। বাবা-মার উৎসাহ ও সহযোগিতায় আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামীতে আমাদের কমিউনিটি থেকে আরও অনেকে চিকিৎসক হবেন।' রাসেল পাদোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্টিবডি ডোজের ওপর গবেষণা করেন। ইতমধ্যে তার গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে। ইতালীয় চিকিৎসা পদ্ধতির অন্যতম প্রধান দিক হলো সব নাগরিককে ব্যক্তিগত চিকিৎসক নিবন্ধন করতে হয়। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এসব চিকিৎসকরা রোগীদের বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেন এবং কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হলে তার অনুমোদন দেন। ইতালীয় ভাষায় যাদের বলা হয় 'মেদিকো বাজে'। মেদিকো বাজের বেতন হয় সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে।ডা. রাসেল আগামী ১ এপ্রিল 'মেদিকো বাজে' হিসেবে ভেনিসের ভিয়ালে সান মারকো (মেসত্রে) এলাকায় কাজ শুরু করবেন। প্রথম বছর ১ হাজার মানুষ তাকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবে। পরবর্তী বছরে যা ১ হাজার ২০০ পর্যন্ত হতে পারে। বাবা-মা, ছোট ২ ভাই ও স্ত্রীকে নিয়ে মেসত্রে বসবাস করেন রাসেল। তার ভাই রুবেল মিয়া পাদোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন ও ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তিতে পড়াশোনা করছেন। রাসেল বলেন, 'ছেলে-মেয়েদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে বাবা-মার উৎসাহ থাকতে হবে। অর্থিক ও মানসিকভাবে ছেলে-মেয়েকে সহযোগিতা করতে হবে। আর ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও চেষ্টা, সাধনা থাকা প্রয়োজন।' 'অভিবাসী বাবা-মায়েদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য হলেও আমাদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। লেখাপড়া করে তাদের ও কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করতে হবে', যোগ করেন তিনি। রাসেল এখনো শুধু বাংলাদেশি নাগরিক। অর্থাৎ ইতালীয় নাগরিকত্ব তার নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'বাবা-মার আর্থিক ও ডকুমেন্টগত সমস্যার কারণে এখনো ইতালীয় নাগরিকত্ব পাইনি। তবে আবেদন করেছি। হয়তো পেয়ে যাব অল্প দিনে।' স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে রাসেল বলেন, '২০০৩ সালে আমি যখন ইতালিতে আসি এবং স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি হই, তখন আমি এক বিন্দুও ইতালির ভাষা জানতাম না। ক্লাসে বোকার মতো তাকিয়ে থাকতাম। সে সময়ের সহপাঠীরা বিদেশি ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে মিশতে অভ্যস্ত ছিল না। আমাকে নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কৌতুহল ছিল। কেউ কেউ হাসাহাসিও করত। কিন্তু শিক্ষকরা ছিলেন অমায়িক মানুষ। তাদের সহযোগিতায় আমি অল্প দিনে তরতর করে এগিয়ে যাই।' 'সত্যিই আমার ওই শিক্ষরা ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। আমি যখন স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করি, তখন প্রথা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসব করা হয়। সহপাঠীরা রাস্তার মধ্যে আমাকে বেলি ড্যান্স দিতে বাধ্য করে, যা মনে পড়লে এখনো হেসে ফেলি', বলেন তিনি। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট রাসেল বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ও ইতালীয় সংস্কৃতির মানুষ। আমি একইসঙ্গে ২ সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করি। উভয় সংস্কৃতির মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা পেতে চাই। তাদের সেবা করে যেতে চাই।' ডাক্তার রাসেল ভেনিসের প্রথম ও ইতালির ৪র্থ বাংলাদেশি চিকিৎসক। এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাবরক্ষক, পুলিশ, পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে।

post
এনআরবি সাফল্য

মালয়েশিয়ায় রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি তাওহীদ হাসান

মালয়েশিয়ার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক তাওহীদ হাসান। মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানু (ইউএমটি) গতকাল সোমবার স্নাতকোত্তর গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য মর্যাদাপূর্ণ 'টিএমএনএ রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড' ঘোষণা করেছে।পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক তাওহীদ হাসান এনার্জি হাইব্রিড মডেল নিয়ে ইউএমটিতে কাজ করছেন। করোনা মহামারিকালীন সংকটকে মাথায় রেখে দেশের স্বার্থে তিনি সৌরশক্তি পরিচালিত আইসিইউয়ের একটি মডেল তৈরি করেছেন। ২ মালয়েশিয়ান পিএইচডি সুপারভাইজারের সঙ্গে তার প্যানেলের সহ-তত্ত্বাবধায়ক হলেন অধ্যাপক ড. এম. রেজওয়ান খান, যিনি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) সাবেক উপাচার্য এবং বুয়েটের সাবেক শিক্ষক। ইউএমটি পিএইচডি গবেষক তাওহীদ হাসানের বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র রয়েছে এবং এর আগে তিনি গবেষণা বিষয়ক আরও পুরস্কার পেয়েছেন। গতকাল ইউএমটি কনভেনশন সেন্টারে (ইউএমটিসিসি) অনুষ্ঠিত 'গবেষণা দিবস ২০২৩' উদযাপনের মাধ্যমে পুরস্কারগুলো প্রদান করা হয়, যার সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফাদি আহমেদ। কোরআন তেলাওয়াতের পর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। ইউএমটি গবেষকরা তাদের অসামান্য গবেষণার জন্য বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার, স্বীকৃতির প্রশংসাপত্র পেয়েছেন। ২ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী গবেষণার ওপর উপস্থাপনা প্রদর্শন করেন। সব পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি গবেষকও রয়েছেন। ইউএমটি প্রোগ্রামের প্রধান, অনুষদের ডিন, অনুষদ সদস্য, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

post
এনআরবি সাফল্য

কলকাতা বইমেলায় ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

জমে উঠেছে ৪৬তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। স্পেন ‘থিমকান্ট্রি’ হলেও পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের কাছে প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ। সে কারণে বাংলাদেশ , বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ , বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ বিষয়ক বইয়ের চাহিদাই তুলনামূলক অনেকটাই বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় কলকাতা বইমেলায় মোড়ক উন্মোচন হয়েছে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ- দুই বন্ধু এক দেশ’ বইটির। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেছেন কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন। ১১২ পৃষ্ঠার এ বইয়ের লেখক কলকাতার প্রিয়জিৎ দেব সরকার এবং সহযোগী লেখক বাংলাদেশের আবু সাঈদ। বইটির বিষয়বস্তু বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্করের উদ্যোগে ১৯৭১ সালের ১লা আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে হওয়া ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। সেদিন পণ্ডিত রবিশংকর ও জর্জ হ্যারিসন ছাড়াও পৃথিবীর আরও নামিদামি শিল্পী, যেমন- বব ডিলান, ওস্তাদ আল্লারাখা, ওস্তাদ আকবর আলী খান পারফর্ম করেছিলেন। জর্জ হ্যারিসন বলেছিলেন, তারা যখন এই কনসার্টের প্রস্তুতি নেন, তখন একটি কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখা গেলো, এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে এত আগ্রহ তৈরি হলো, সেই দিনই সকাল বিকাল মিলিয়ে দুটি কনসার্ট করতে হয়েছিল। এই কনসার্ট পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।এই কনসার্টের পরই পশ্চিমের দেশগুলোর গণমাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রকাশ পায়। যা ছিল বিশ্বের সেবামূলক কনসার্টের ইতিহাসে অনন্য নজির। বইটির মোড়ক উন্মোচন করে রঞ্জন সেন বলেন, 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমাদের পাশাপাশি অন্য দেশগুলোতেও জনমত তৈরিতে খুব সাহায্য করেছিল। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবস্থা আজ বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু এ ধরনের বই বা লেখালেখি থেকে তরুণ প্রজন্ম ওই সময় কী ঘটেছিল সে ব্যাপারে কিছুটা ধারণা পাবে।পণ্ডিত রবি শঙ্করের বন্ধু জর্জ হ্যারিসন সেই সময় পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় রক গায়ক ছিলেন। রবি শঙ্করকে আমরা একজন ভারতীয় হিসেবেই চিনি। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তার সাক্ষাৎকারে শুনেছি, তিনি বলতেন, পূর্বপুরুষ সূত্রে আমি বাংলাদেশি। এই দুই বিখ্যাত মানুষ মিলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন কাজ করা শুরু করলেন, তখন পশ্চিমা দেশগুলোতে, বিশেষ করে আমেরিকায় সুধীজন, সুধীসমাজ, গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ঘটনাটি মানুষের নজরে আসে। দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ- দুই বন্ধু এক দেশ’ বইয়ের অন্যতম লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে এটি আমার তৃতীয় বই। বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে আমি ভীষণভাবে আগ্রহী। পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু আমার মনে হতো, কোথাও একটা গ্যাপ রয়ে গেছে। এর ওপর সেভাবে আমরা কোনো বই পাই না। তাই আমি ও আমার বন্ধু আবু সাঈদ মিলে কোভিডের লকডাউনের মধ্যেই রিসার্চ করে লেখা শুরু করি। এটা নিয়ে কাজ শুরু করি। তিনি জানান বাংলা ভাষায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা বইমেলার দীপ প্রকাশনী থেকে। ১১২ পৃষ্ঠার বইটির দাম ধরা হয়েছে ২৯৯ রুপি। একুশের বইমেলায় বইটির ইংরেজি সংস্করণ বের হয়েছে ৭১ প্রকাশনা থেকে।

post
এনআরবি সাফল্য

বাংলাদেশ থেকে ৪০০ টন বাঁধাকপি যাচ্ছে তিন দেশে

যশোর থেকে ৪০০ টন বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানী করা হবে। বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানীর লক্ষ্যে চলতি বছর কন্ট্রাক ফার্মিংয়ের মাধ্যমে জেলা কৃষি বিভাগের তদারকিতে আন্তর্জাতিক মানের সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলে বাঁধা কপির দাম কমে যাওয়ার মুহূর্তে বিদেশে রপ্তানী শুরু হয়েছে। এর সুফল পাচ্ছেন যশোর সদর উপজেলার শতাধিক কৃষক। এগ্রোবেজ প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকায় ওয়ার হাউজ ও ফ্যাক্টরি স্থাপন করে কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে বাঁধাকপি রপ্তানী কাজে সহযোগিতা করে চলেছে। বাঁধাকপিসহ সবজির গুনগত মান নিরুপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে জাহাজযোগে সবজি বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। দুই মাসে ৪০০ টন বাঁধাকপির চালান মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্র আরো জানিয়েছে, জানুয়ারি মাস থেকে বিদেশে বাঁধাকপি রপ্তানী শুরু হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে যশোর থেকে বাঁধা কপির বেশ কয়েকটি চালান যাবে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে। ওই তিন দেশের সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার এগ্রোবেজ প্রসেসিং লিমিটেড যশোর কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সলিডারিড্যাট নেটওয়ার্ক এশিয়া তাদের সফল নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে রপ্তানীর কাজ শুরু করেছে। জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন যশোরও এই রপ্তানী প্রক্রিয়ায় পার্টনারশিপ হিসেবে কাজ করছে। সবজি চাষের শুরুতেই সলিডারিড্যাট বাংলাদেশ ও জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন কৃষকদের গ্রুপ তৈরি করেছে। দু’মাসে কমপক্ষে ৪০০ টন বাঁধা কপি রপ্তানী করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। কৃষকদের পরিবহণ ও প্রসেসিং খরচ কমাতে সরাসরি মাঠে চলে যাচ্ছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি। যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের তৃনমূল পর্যায়ের কৃষকদেরকে এই কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। চুড়ামনকাটি, হৈবৎপুর, লেবুতলা ও কাশিমনগর ইউনিয়নের দেড়শ’ কৃষককে সুবিধাভোগীর আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উত্তম ব্যবস্থাপনা ও টেকনিক্যাল নানা ধরনের সাপোর্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাঁধাকপি তৈরি করা হচ্ছে। একটি কপির ওজন কমপক্ষে দেড়কেজি, যা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মাফিক ওজন। ৫টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মাঠ পর্যায়ে বাঁধকপি সংগ্রহ করে রপ্তানী করবে। বাঁধাকপি ছাড়াও যশোর থেকে কচুরলতি, বেগুন ও অন্যান্য সবজি বিদেশে রপ্তানী করা হয়ে থাকে। পর্যায়ক্রমে টমেটো, সিম, করলা, উচ্ছে, পেঁপে, মাশরুম, মরিচ, কলা, লিচু,কুল, পেয়ারা, ভুট্টা, আমলকি, এলোভেরা, কালোমেঘ, চুইঝাল, নারকেলসহ ২০ প্রকার ফসল রপ্তানীতে প্রাধান্য পাবে বলেও সূত্রে জানা গেছে। বিগত কয়েক বছরে কৃষি বিভাগের নানা সাফল্যকে ছাপিয়ে বড় সুখবর এনে দিয়েছে বাঁধা কপিতে। কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে উচ্চ মূল্যের ফসলের মধ্যে বাঁধা কপি রপ্তানীতে সফলতা এসেছে গোটা কৃষি সেক্টরে। যশোরের কৃষকের ক্ষেতে উৎপাদিত বাঁধাকপি পৌঁছে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানের বাজারে। প্যাকেজিংয়ের আগে আব্দুলপুরের কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপনন কেন্দ্রসহ রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টরিতে নিয়ে বাছাই ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিদেশে পাঠানোর জন্য মানসম্মত সবজি বাঁধাকপি উৎপাদনে সরাসরি মনিটরিং করছে উপজেলা কৃষি অফিস। স্বচ্ছতার সঙ্গে উত্তম ব্যবস্থাপনা ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট শতভাগ সফল হয়েছে। যশোর থেকে বিদেশে বাঁধাকপি রপ্তানিতে ভিন্নমাত্রা যুগিয়েছে। স্থানীয় বাজারে যখন বাঁধাকপির দাম কমে যাচ্ছে তখন রপ্তানী শুরু হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বাণিজ্যিকভাবে বাঁধাকপি রপ্তানীর ধারা অব্যাহত থাকলে যশোর তথা সারা দেশের বাঁধাকপি উচ্চমূল্যের সবজি হিসেবে সমধিক পরিচিতি পাবে।

post
এনআরবি সাফল্য

সংখ্যা নয় মানই আমাদের মূল লক্ষ্য, ডব্লিউইউএসটিতে ১০০০ নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিতে চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ

বিশেষ এক অর্জনকে উদযাপন করতে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সকল শিক্ষক-কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে একত্রিত হয়েছিলেন ভার্জিনিয়াস্থ ক্যাম্পাসের হলরুমে। উপলক্ষ্যটা ছিলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালনার দায়িত্ব নেবার পর দুই বছরে এক হাজার নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তির মাইলফলক উদযাপন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন।২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে এই সফল বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষা-উদ্যোক্তার মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির মালিকানা গ্রহণের সময় মাত্র ৩১৪ জন পুরনো শিক্ষার্থী ছিলো। এরপর নতুন করে ঢেলে সাজাতে শুরু করেন আবুবকর হানিপ। চব্বিশ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের ১২১ টি দেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রী এতে ভর্তি হয় । উইন্টার কোয়ার্টারের ক্লাস শুরুর পরপরই এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই অজর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের। তাদেরকেই শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাতে এক মধ্যান্হ ভোজের আয়োজন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। সেখানে চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ বলেন, এটি একটি মাইলফলক। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এক হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তির বিষয়টি নিঃসন্দেহে অনেক বড় অর্জন। কিন্তু আমরা সংখ্যার দিকে নই আমােদর মনোযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও ছাত্রছাত্রীদের ক্যারিয়ারের উন্নয়ন নিয়ে। কোন উল্লাস নয় সবাইকে উদ্দীপ্ত করার লক্ষ্যে এই আয়োজন। চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই বছর আগে দায়িত্ব নিলেও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত আছেন দীর্ঘ সময় ধরে। এই সফলতায় বেশ উচ্ছাসিত দেখা গেছে প্রেসিডেন্টকে। তিনি বলেন এটি স্মরণীয় মুহুর্ত। একটি দলগত সফলতা। একে ধরে রেখে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় সেই রূপরেখা তৈরি করতে হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই সফলতায় আনন্দিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস’র পরিচালক ড. মার্ক এল রবিনসন, দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. র্জাফর পিরিম ও ড. শ্যান চো। এই আনন্দ মুহুর্তের অনুভূতি ও ভবিষ্যত ভাবনার কথা শেয়ার করেন তারা। এটি একটি দলগত প্রচেষ্টার ফসল বলেই তারা উল্লেখ করেন নিজ নিজ বক্তব্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ বলেন এই অর্জন সকলের। এবং একে ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই এখন সকলের লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে কাজ করলে একসঙ্গেই বড় হতে পারবো। ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের নেতৃত্ব নতুন শিক্ষা পদ্ধতি ও লক্ষ্য নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে ডব্লিউইউএসটির অর্ধশত দক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারী। দু’বছরের ব্যবধানে অর্জনের এমন মাইলফলক ছোঁয়ায় তারাও এখন উদ্দীপ্ত। নতুন লক্ষ্য অর্জনের অঙ্গীকার এখন তাদের কন্ঠে। পরে কেক কেটে উদযাপন করা হয় সফলতার এই মাইলফলককে। ছিলো মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজনও। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখানে ১২ শ ৫০ জন। এর মধ্যে পাঁচশোর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। এফ-১ ভিসা নিযে সরাসিরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন অনেকে পড়তে এসেছেন। অ্যাফোরডেবল অ্যান্ড অ্যাক্সেসেবল হবার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আবার অন্য বিশ্ববিদ্যলয় থেকে এখানে ট্রান্সফার নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এখানে বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত রয়েছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

post
এনআরবি সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশি ১০টি প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেস্কওয়ার্ল্ড ইউএসএ/এপারেল সোর্সিং ইউএসএ-২০২৩’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী বাণিজ্য মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশি ১০টি প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিউইয়র্কে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ গার্মেন্টস বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটি একটি বিশেষ বাংলাদেশি প্যাভিলিয়নসহ এই বাণিজ্য মেলায় অংশ নেবে। বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রায় সব ধরনের পণ্য অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সূত্র জানায়, ২২টি দেশের মোট ৩২৪ প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নেবে। চীন, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্যাভিলিয়ন থাকবে এ মেলায়। চীনের ১৭৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে এ মেলায়। বাংলাদেশের যেসব কম্পানি নিউইয়র্ক মেলায় অংশ নেবে সেগুলো হলো— আরজিন্স প্রডিউসার লি., হাম-মীম ডেনিম, পাওনিয়ার ডেনিম, ম্যাস্ক উইল বিডি, পেঙ্গনু গ্রুপ, ভেরো স্টাইল, টোটাল এ্যাপারেল, এনটুএন সোর্সিং। এসব কম্পানি বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় মেলায় অংশ নেবে। তা ছাড়া ঢাকা ফারইস্ট এবং উইকিটেক্স বিডি (ইন্টারলিংক ড্রেসেস) সরাসরি মেলায় অংশ নেবে। সূত্র : বাসস

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.