জার্মানিতে অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব লাভের সময়সীমা কমিয়ে এনে নতুন আইনের অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। সেই সঙ্গে নতুন আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, জার্মানিতে টানা পাঁচ বছর থাকলে যে কেউ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হবেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জার্মানির অভিবাসন সংক্রান্ত আইনগুলোর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে নতুন এই আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের শর্ত সহজ করে নতুন একটি আইন পাস করেছে জার্মানির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেসতাগ। নতুন আইন অনুযায়ী, জার্মানিতে টানা পাঁচ বছর থাকলে যে কেউ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হবেন।
আগের আইনে এ সম্পর্কিত সময়সীমা ছিল ৮ বছর। এছাড়া আগের আইনে দ্বৈতনাগরিক এবং সব দেশ থেকে আগত লোকজনকে নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হতো না। নতুন আইনে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
বুন্দেসতাগে নতুন আইনটি ভোটের জন্য উত্থাপনের পর সেটির পক্ষে ভোট দেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজের নেতৃত্বাধীন বাম ও উদারপন্থী জোটের আইনপ্রণেতাসহ মোট ৩৮২ জন এমপি। আর সেটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩৪ জন এমপি। বিপক্ষে ভোট দেওয়া এমপিদের সবাই দেশটির রক্ষণশীল ডানপন্থী দলগুলোর সদস্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বহুত্ববাদ জার্মান সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। যারা বছরের পর বছর ধরে জার্মানিতে বসবাস করছেন, এই দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, নতুন আইনের মাধ্যমে তাদের কাছে বার্তা—জার্মানি তাদেরও দেশ।
বর্তমানে জার্মানিতে বসবাসরত বিদেশিদের মধ্যে নাগরিকত্ব পাননি এমন লোকজনের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ, যা জার্মানির মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৩ লাখ মানুষ গত ১০ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন।
