২০০৪ সাল থেকে আমেরিকাতে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভালপমেন্ট নিয়ে কাজ করে আসা প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেকের সিইও এবং আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেছেন, আমরা যদি কিছু পিপলকে কাজের উপযোগী করে দক্ষ করতে পারি এবং সেটা যদি ইন্ডাস্টিতে কাজে লাগে সেখানেই আমাদের পিপলএনটেকের সার্থকতা ।
গতকাল বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আইটি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেকের পলিটেকনিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, পিপলএনটেক ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলোজি আমেরিকা সরকারের একটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশি আমেরিকার মেইন স্টিমে কাজ করছে পিপলএনটেক থেকে ট্রেনিং নিয়ে। যারা বছরে ৫০ হাজার ডলার আয় করার চিন্তা করেনি কখনো সেখানে তারা আজ ১ থেকে দেড় লক্ষ ডলার ইনকাম করছে। ব্যাচেলর, মাস্টার্স, ডিগ্রি পাশ, পলিটেকনিক থেকে পাশ করে ইমিগ্রেন্ট ভিসায় আমেরিকাতে গিয়েছে অথবা এন্ট্রি লেভেলের জব পাচ্ছিল না। এমনকি তারা আইটিতে পড়াশোনাও করেনি। তাদেরকে আমরা ৪ থেকে ৫ মাসের ট্রেনিং দিয়ে এই অসাধ্যকে সাধন করেছি।
এজন্য আমরা অনেক স্বীকৃতি পেয়েছি। স্টেট থেকে লোকাল মেয়রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে।
আমরা প্রচুর ইমিগ্রেন্টদেরকে চাকরি দিয়েছি জানিয়ে আবুবকর হানিপ বলেন, যারা আমেরিকাতে গিয়ে বিভিন্ন অড জবে লিপ্ত হয়ে যায় ভাল চাকরির জন্য তাদের আর ট্রেনিং নেওয়ার সময় হয়ে ওঠে না। সে সব ইমিগ্রেন্টদের জন্য ২০১৪ সালে আমরা বাংলাদেশে এমন একটা প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেই। যাতে তারা বাংলাদেশ থেকে ট্রেনিং নিয়ে গেলে আমেরিকার বিমানবন্দরে আসার সাথে সাথে ভাল বেতনে আইটিতে চাকরি পায়। কোন অড জব তাদের স্পর্শ করতে না পারে।
তিনি বলেন, আমেরিকাতে প্রতি বছর এইচওয়ানবি ক্যাটাগরিতে ৮৫ হাজার স্কিলড পিপলকে নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ আমেরিকার সিটিজেন এবং গ্রিনকার্ড হোল্ডার ব্যাচেলর/ মাস্টার্স করা তারাও এন্টি লেভেলের জব খোঁজে। তার মানে এখানে প্রকাশ পাচ্ছে স্কিল গ্যাপের বিষয়টি।
সে সব দেখে আমি আমেরিকায় আই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির মালিকানা নেই এবং ভাবি এখান থেকেই পিপল ব্যাচেলর মাস্টার্স ডিগ্রির পাশাপাশি স্কিলড হবে সাথে মিড লেভেল বা সিনিয়র লেভেলের জব নেবে। আইজিইউর শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর করার পরে তাদের আর স্কিল এর গ্যাপটা থাকছে না।
এতে তারা শিক্ষা খাতে যত অর্থ ব্যয় করল সেটার একটা রিটার্ন তারা পাবে। সেই বিষয়টা মাথায় রেখে আমরা আই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি নিয়েছি। এই জন্যই আমরা ঘোষণা দিতে পারছি নো জব, নো টিউশন। যদি তারা চাকরি না পায় তাহলে আমরা ফুল পেমেন্ট রিফান্ড করব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেন।
এ সময় সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পিপলএনটেক দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি মর্যাদা দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বেকারত্বের যে সমস্যা সে সমস্যা দূর করা সম্ভব একমাত্র দক্ষতা দিয়ে। আমরা জাপান কে সাহায্য করবো, ইউরোপকে সাহায্য করবো। তাদের প্রচুর দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন হয়ে থাকে।
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ বলেন, পিপলএনটেকের প্রতিটি ট্রেইনার অত্যন্ত দক্ষ। তোমরা নতুনরা যে কোন প্রয়োজনে শিক্ষকদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত করলে তারা সবসময় তোমাদের সাহায্য করবে। আশাকরি পিপলএনটেকের প্রতিটি কোর্স শেষে তোমরা বাস্তব জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।
এ সময় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পিপলএনটেকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসরুল খান।
