'এসো হে নবীন, বাজিয়ে সুর-লহরী উল্লসিত নব বীণ। আজ সুর মিলিয়ে গাইব জয়যাত্রার গান, আনন্দে আহ্লাদিত নবীন প্রাণ।’
নতুন কোয়ার্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে এভাবেই যেন স্বাগতম জানিয়েছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণ।
২৭ মার্চ বুধবার ছিল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্প্রিং কোয়ার্টারের ওরিয়েন্টেশন। এদিন সকাল থেকে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার নতুন ক্যাম্পাসে ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। নতুনদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট। বাবা-মা, প্রিয়জনদের ছেড়ে বিদেশের মাটিতে স্বপ্ন পূরণের এক নতুন যাত্রা। সবার চোখে ছিল খুশির আমেজ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ থেকে তাদের উচ্চ শিক্ষা স্বপ্নের পূর্ণতা যেন খুশির আমেজকে বাড়িয়ে তুলে শতগুণ।
এই আয়োজনে প্রায় শ'খানেক শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন সশরীরে। আরও দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছিলেন অনলাইনে। নতুনদের স্বাগতম জানান, ডব্লিউইউএসটির সকল বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসরস ও কর্মকর্তাগণ।
সূচনা বক্তব্যে চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ নবাগতদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সকল সুবিধার সবোর্চ্চটা গ্রহণ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে প্রস্তুত করে তোলার অঙ্গীকারকে উচ্চে তুলে ধরে ডব্লিউইউএসটি তার মিশন ও ভিশন নির্ধারণ করেছে।
জীবনের সকল বাধা পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ মানেই অন্যরকম এক অনুভূতি এবং নতুনত্বের হাতছানি। আর সেটি যদি হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মতো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহলে স্বভাবতই নবীন শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসের প্রথম দিনটি একটু উচ্ছ্বাসের, রোমাঞ্চের।
তাদের চোখের ভাষা বুঝতে পেরেই যেন বেশ কিছু পরামর্শ রাখেন প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক। বলেন, "অ্যাকাডেমিক কার্যকলাপের পাশাপাশি নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করতে হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার পরিবর্তে জীবনে প্রতিটি ধাপে সহযোগিতা করবে।"
১২০টি দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে ডব্লিউইউএসটিতে। এ তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে আরও নতুন কিছু দেশের নাম। সাউথ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া, বলিভিয়া, আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া, তানজানিয়া, তিউনেশিয়া এবং নেপাল থেকে এসেছেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী। ইন্টারন্যাশনাল এসব শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস এবং আউট অব দা ক্যাম্পাসে মানতে হবে বেশ কিছু নিয়ম কানুন। ওরিয়েন্টেশনে সে সকল বিষয়গুলো বিস্তারিত প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন ডিএসও কির্ম্বালি সিম্পসন।
এমনিতেই ডব্লিউইউএসটি এফোর্ডেবল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। এর বাইরেও প্রতি কোয়ার্টারে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে রয়েছে মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ। তা পেতে কি কি করতে হবে সে সব তুলে ধরেন স্কুল অব বিজনেস এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক এল রবিনসন।
তিন ঘণ্টা ব্যাপী এই ওরিয়েন্টশনটি সাজানো হয় বেশ কয়েকটি পর্বে। নিয়মিত ক্লাসে অংশ গ্রহণ, সময়ের মধ্যে সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট ও ডিসকাশন করা, পরীক্ষা ও নাম্বার বন্টন পদ্ধতি, প্ল্যাগারিজমের জন্য কঠিন নিয়ম, লাইব্রেরি ব্যবহার, আইটি সাপোর্ট, ক্যারিয়ার সার্ভিস, এই সব বিষয়ের উপর চমৎকার প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন বিভাগীয় প্রধানগণ।
ওরিয়েন্টেশনের এক অংশে নতুনদের জন্য ছিল একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন। যা পরিচালনা করেন মার্কেটিং ডিরেক্টর হুসে উর্তেগা। পাশাপাশি ডব্লিউইউএসটির সক্রিয় কয়েকটি স্পোর্টস ক্লাবের কথা উল্লেখ করে সে সব ক্লাবে যোগ দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ছাত্রদের যে কোন প্রয়োজন সর্বদা পাশে থাকে ডব্লিউইউএসটির স্টুডেন্ট গভার্মেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ক্লাব। এসজিএর প্রেসিডেন্ট সেলিন ইয়েগিত সকলকে স্বাগতম জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের যে কোন ধরনের সহযোগিতায় পাশে আছে এসজিএ ক্লাব। এছাড়া তুলে ধরেন এই ক্লাবের অধীনে থাকা শিক্ষামূলক ক্লাবগুলোর কার্যক্রম। জানিয়ে দেন, সারা বছর এসজিএ স্টুডেন্টদের জন্য আয়োজন করে থাকে বিনোদন মূলক নানা আয়োজন।
পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্টুডেন্ট সাকসেস এন্ড ক্যারিয়ার সার্ভিস ম্যানেজার রিচেল রোজ। জব ফেয়ার, অন ক্যাম্পাস জব এবং সিপিটি- ওপিটিতে পেতে স্টুডেন্টদের তার টিম কীভাবে সহযোগিতা করে, রোজ তুলে ধরেন ওরিয়েন্টশেনর শেষ অংশে।
এরপর শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল ক্যাম্পাস পরিদর্শন পর্ব। ক্লাসরুম, ল্যাব, লাইব্রেরি, লাউঞ্জ রুম ঘুরে দেখেন তারা। কুশল বিনিময় করেন চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. কারাবার্কের সাথে।
ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যাহ্ন ভোজের পর্বের পর গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্প্রিং-২০২৪ কোয়ার্টারের ওরিয়েন্টেশন। নবীনদের স্বপ্নময়ী চোখে নতুন স্বপ্নে আর উদ্যমে এগিয়ে চলার প্রত্যয় নিয়েই শুরু হলো তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। ২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে তাদের ক্লাসসহ সকল শিক্ষা কার্যক্রম।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যবসায়িক প্রশাসনের উপর ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সে বর্তমানে বিশ্বের ১২০ দেশের সতেরোশ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।
