গ্রিসে জাল নথি দিয়ে বৈধতার জন্য আবেদনকারী বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ। তিনি বলেন,বৈধতার প্রক্রিয়ায় কোন বাংলাদেশি কোনো ধরনের জাল নথি যুক্ত করলে তারা আর বৈধ হতে পারবেন না। এ পরিস্থিতিতে সকল প্রবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানান রাষ্ট্রদূত।
গ্রিসে বর্তমানে অনিয়মিত অভিবাসীরা দুটি প্রক্রিয়ায় বৈধতার জন্য আবেদন করেন। প্রথমটি হচ্ছে ২০১৪ সালের আইনে সাত বছর গ্রিসে বসবাসের প্রমাণপত্র দিয়ে আবেদন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে বাংলাদেশ ও গ্রিসের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির আগে গ্রিসে বসবাস করছেন এমন প্রমাণ দেখাতে পারলেই বৈধতার জন্য আবেদন করা যায়। এছাড়াও প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ডকুমেন্টসের। এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে জাল নথি দিয়ে আবেদন করার অভিযোগ আসে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের চার হাজার ভুয়া নথি সংযুক্ত আবেদন রয়েছে। এ অবস্থায় ভুয়া নথি দিয়ে আবেদনকারীদের ধরতে গ্রিস সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গ্রিক সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী জাল নথী প্রদানকারী অভিবাসী পাঁচ বছরের জন্য গ্রিসে বসবাসে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন। প্রয়োজনে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও গ্রহন করতে পারে। এসব জাল নথি তৈরীর মূল হোতা হিসেবে দুই বাংলাদেশিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এ বিষয়ে আলাপকালে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, বৈধতার যে প্রক্রিয়া চলছে, এতে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যেন কোনো ধরনের জাল নথি যুক্ত না করেন। জাল কাগজপত্র দাখিল করলে, হিতে বিপরিত হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান জানান রাষ্ট্রদূত।
স্থানীয় দূতাবাস গ্রিক সরকারের সাথে দফায় দফায় বৈঠক শেষে জানায়,সঠিক ব্যক্তি যেন ভোগান্তিতে না পড়েন এবং সুবিধা বঞ্চিত না হন সে ব্যাপারে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।
