ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোড়া কিংবা হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার দৃশ্য নতুন নয়। অনেকে আবার হেলিকপ্টারে করেও বিয়ে করতে যান। তবে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত একটি বিয়েতে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেখানে নতুন জীবন শুরুর অনুষ্ঠানে নবদম্পতিকে দেখা যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার মুক্তির দাবি জানাতে।
এই নবদম্পতি হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেত্রী সুমাইয়া আফরিন।
পারিবারিকভাবে গতকাল মঙ্গলবার পূর্বপরিচিত মাহমুদুল ও সুমাইয়ার বিয়ে হয়। নবদম্পতির হাতে ‘অ্যাবলিস ডিএসএ’ (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো) ও ‘ফ্রি খাদিজা’ (খাদিজাকে মুক্তি দাও) লেখা দুটি প্ল্যাকার্ড ছিল। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে কয়েকজন ‘ডিএসএর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘খাদিজার মুক্তি চাই’, ‘ডিএসএ বাতিল করো’ স্লোগান দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজার মুক্তির দাবি জানান।
বর মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের নতুন জীবনের শুরুটা আমরা করতে চেয়েছি এই নিবর্তনমূলক আইনের বাতিল ও খাদিজার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়ে। সব ধরনের জুলুমের অবসানের মাধ্যমে গণমানুষের মুক্তির দাবিতে আমাদের বিয়েতে এমন প্রতিবাদের আয়োজন ছিল।’ তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় খাদিজাতুল কুবরা দীর্ঘ ৮ মাসের বেশি সময় কারাগারে। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। অসংখ্যবার চেষ্টা করেও তাঁকে জামিনে মুক্ত করা যায়নি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি রাজনৈতিক কারণে ও ভিন্ন মত দমনে ক্ষমতাসীনেরা ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি ইমতিয়াজ অর্ণব বলেন, ‘বিয়ের আসরে নবদম্পতির অভিনব প্রতিবাদ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কোনো কিছুই রাজনীতির বাইরে নয়। দিনমজুরের আহাজারি থেকে শুরু করে বিয়ের আসর, প্রতিবাদের ভাষা চিরকালই বৈচিত্র্যময়। মানুষের মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার যে দমিয়ে দেওয়া যায় না, মাহমুদ-সুমাইয়ার এই অভিনব প্রতিবাদ তার প্রমাণ।’
