ক্যাম্পাস লাইফ

ভারতের নিমস ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের আমেরিকান ডিগ্রীর স্বপ্ন পূরণ করবে ডব্লিউইউএসটি

post-img

উচ্চমান সম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণা উন্নয়ন, সহযোগীতা ও অন্যান্য শিক্ষাবিনিময় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ভারতের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি নিমস ইউনিভার্সিটির মাঝে একটি দীর্ঘ মেয়াদী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ডব্লিউইউএসটির লিসবার্গ পাইক ক্যাম্পাসের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় এই কার্যক্রম। এই সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেন ডব্লিউইউএসটির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ এবং নিমস ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. বলবীর এস. তুমার। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চ শিক্ষা এবং শিক্ষাগত গবেষণার উন্নয়নের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগীতায় এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘস্থায়ীভাবে এক সাথে কাজ করার লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিমস ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস রাজস্থানের জয়পুরে। বেসরকারী মেডিকেল নির্ভর ইউনিভার্সিটির মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে এটি সারা ভারতের মধ্যে অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়। ডব্লিউইউএসটিতে পরিচালিত চলমান প্রোগ্ররামগুলোর সিলেবাস অনুসরণ করে পড়ানো হবে নিমস ইউনিভার্সিটিতে। আর সেই প্রোগ্রামের ছাত্রছাত্রীরা তাদের ডিগ্রীর অর্ধেক বা একাংশ সম্পূর্ণ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে এসে। এটি ছিলো এই এমওইউর অন্যতম বিষয়।

এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার উদ্দেশ্যে ডব্লিউইএসটির ক্যাম্পাসে আসেন নিমস ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. বলবীর এস তুমার ও প্রফেসর ড. নিপাক নাথিয়া। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউইউএসটির শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণ। শুরুতে নিমস ইউনিভার্সিটির সার্বিক চিত্র প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন প্রফেসর ড. নিপাক নাথিয়া। আর ডব্লিউইউএসটির পক্ষ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন, ভিশন ও বৈশিষ্ট্যসূমহ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে অতিথীদের সামনে উপস্থাপন করেন স্টুডেন্ট সাকসেস এন্ড ক্যারিয়ার সার্ভিস ম্যানেজার রিচেল রোজ।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থাপন পর্ব শেষে চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ তার বক্তৃতায় বলেন, " নিমস ইউনিভার্সিটি সার্বিক বিবেচনায় সফলতার এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে এটি অন্য যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণীয়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ডব্লিউইউএসটির মাধ্যমে শিক্ষা সেবা পৌঁছে দিতে পারাটা হবে আনন্দের ও গর্বের।"

তিনি আমন্ত্রিত অতিথীদের সামনে ডব্লিউইউএসটির কথা বলতে গিয়ে বলেন, "দু বছর আগে মাত্র ২৮২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয়েছিলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন করে পথচলা। অল্প সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে বিশ্বের একশোর বেশি দেশের ১৭'শো ছাত্রছাত্রী এখানে পড়শোনা করছে।"

তিনি আরও জানান," আসছে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে নিজস্ব নতুন ক্যাম্পাসে ক্লাস ও সকল কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে ডব্লিউইউএসটির। চলছে নার্সিং ও ডাটা সাইন্সের মত নতুন প্রোগ্রাম শুরু করার প্রক্রিয়া। সুতরাং নিমসের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আইটির স্টুডেন্টরাও এখানে এসে তাদের আমেরিকান উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।"

আবুবকর হানিপ যোগ করেন, "ডব্লিউইউএসটির শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে পিপলএনটেকের মত ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের সফট স্কিল প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ হাজার ডলারের যে কোন একটি কোর্স বিনামূল্যে করতে পারছে। বিগত দেড় যুগে পিপলএনটেক থেকে সার্টিফিকেশন কোর্স করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইটি কোম্পানীতে দশ হাজার মানুষ সফল আইটি ক্যারিয়ার গড়েছে, দেড় থেকে দুই লাখ ইউএস ডলারে সেলারি পাচ্ছে তাদের অনেকে। সুতরাং নিমসের শিক্ষার্থীরাও এই পিপলএনটেক থেকে যে কোন একটি আইটি কোর্স বিনা খরচ করতে পারবে বলে জানান, আবুবকর হানিপ।"

নিমস ইউনিভার্সিটির চ্যন্সেলর ড. বলবীর এস তুমার বক্তব্য দিতে এসে বলেন, "ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ যেমন একজন অসাধারণ মানুষ তেমনি একজন ক্যারিশম্যাটিক লিডার, তার নেতৃত্বে ডব্লিউইউএসটি দারুণ গতিতে এগিয়ে চলছে। যে স্বপ্ন আর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এগিয়ে চলছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ডব্লিউইউএসটি আমেরিকার মেইন স্ট্রিমের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় জায়গা করে নিবে। ড. বলবীর আরও বলেন, "ডব্লিউইউএসটির শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও অদূর ভবিষ্যতে ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।"

ডব্লিউইউএসটির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক নিমস বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ আকারের শিক্ষা কার্যক্রম ও সফলতার প্রশংসা করেন এবং তাদের এই কার্যক্রমের সাথে তার বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রেসিডেন্ট ড. কারাবার্ক তার বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ত্রিপল এ' মিশন অর্থাৎ অ্যক্রিডিয়েটেড, অ্যাফোরডেবল ও অ্যাক্সেসেবল বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেন।

নিমস ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর ও তার প্রতিনিধি দলকে ডব্লিউইউএসটিতে স্বাগতম জানিয়ে ডব্লিউইউএসটির প্রধান অর্থকর্মকর্তা ফারহানা হানিপ বলেন, "নিমসের মতো ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এক হয়ে কাজ করা হবে সত্যিই গর্বের।"

তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন দুই চ্যান্সেলর। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পক্ষ থেকে সুভিনির তুলে দেয়া হয় অতিথীদের হাতে। গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন সকলে।

অনুষ্ঠানে যোগ দেবার আগে লিসবার্গ পাইকের ক্যম্পাস ঘুরে ফিরে দেখেন চ্যান্সেলর ড. বলবীর এস. তুমার। সেখানে থেকে চলে যান ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির আলেকজেন্দ্রিয়ার নতুন ক্যম্পাসে। ক্যাম্পাসের বিস্তৃতি এবং ক্যাম্পাস জুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বাধুনিক ক্লাসরুম, ল্যাব, লাইব্রেরী, ক্যাফেটেরিয়া, গেমিং জোন, অডিটোরিয়ামসহ সব কিছু ঘুরে ফিরে দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রফেসর ড. বলবীর।

তিনি বলেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য একেবারে সঠিক ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। একাডেমিক কারিকুলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি, মিশন ও ভিশন আর সর্বপরি চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ এবং প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কে মতো নেতৃত্বের হাতে পরিচালিত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে শিক্ষার্থীরা সেরাটাই পাবে বলে মন্তব্য করেন নিমস বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ড. বলবীর।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২১ সাল থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যবসায়িক প্রশাসনের উপর ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সে বর্তমানে বিশ্বের ১২১ দেশের সতেরশো শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।

অন্যদিকে ভারতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারী নিমস ইউনিভার্সিটিতে মেডিকেলের প্রোগামের পাশাপাশি রয়েছে প্রায় সবরকম নন-মেডিকেল সাবজেক্ট। ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার ‌ফ্যাকাল্টি মেম্বার। চারশো একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একশোর বেশি প্রোগ্রামের অধীনে সাড়ে চারশো কোর্স চালু রয়েছে। মেডিকেল সায়েন্সের সকল সাবজেক্টের পাশাপাশি আইন, ব্যবসায়িক প্রশাসন, লিবারেল আর্টস থেকে শুরু করে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সকল সাবজেক্টের সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মতো বিষয়। আর এখন ডব্লিউইউএসটির সাথে এই সমঝোতার স্মারকের ফলে খুলে গেলো হাজারো শিক্ষার্থীর আমেরিকান ডিগ্রীর স্বপ্নের দোঁয়ার।

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.