প্রবাসীরা যেন দেশকে ভুলে না যায়, দেশকে নিয়ে ভাবে, দেশের জন্য কাজ করে সেই অনুরোধ রেখেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় কাজে দশ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন প্রধান বিচারপতি। তার সাথে এই সফরে আসা অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, ও নারী বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মকবুল হাসান টিটু অংশ নেন এই আয়োজনে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, "প্রবাসীদের উচিত তাদের সন্তানদের কাছে দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস তুলে ধরা। এই ইতিহাস ঐতিহ্য জানলে দেশের প্রতি তাদের একটা টান তৈরি হবে। যার ফলে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আসা বাবা-মায়ের শেকড়টা তারা কখনো ভুলতে পারবেনা।" তাই প্রবাসীদের দেশের বিষয়ে সন্তানদের নানাভাবে যুক্ত করার অনুরোধ রাখলেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও অংশ নেন ইফতার অনুষ্ঠানে।
উপস্থিত ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক রোকেয়া হায়দার, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ।
দেশের বিচার বিভাগের সব শীর্ষ ব্যক্তিদের একসাথে নিজের বাসায় অতিথি হিসেবে পেয়ে আপ্লুত সাবেক অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগির।
তিনি বলেন," পুরো গ্রেটার ওয়াশিংটন বাসীর জন্য আজকের এই মুহুর্তটি গর্বের, যে আমরা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে একসাথে আমাদের মাঝে পেয়েছি। তাদের এই আগমন উপলক্ষ্যে আশে পাশের অনেকগুলো সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছুটে এসেছেন। আমাদের প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে দিনে দিনে যতই জানছি ততোই অবাক হচ্ছি। তেমনি আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেল সম্পর্কে বলতে হয়, মেধা আর যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি এমন সম্মানজনক দায়িত্ব পেয়েছেন" ঘরোয়া এই ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজনে সকলে যে উপস্থিত হয়েছেন তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর।
একেবারে দেশীয় আমেজের ইফতার আয়োজনের প্রশংসা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন।
বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, " শত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দারুণ গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।" উদাহরণ হিসেবে বলেন, "ঢাকা বিমানবন্দরের সেবার মান অনেক বদলে গেছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম বিমানবন্দরে পরিণত হবে।"
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, "দেশে এতো উন্নয়নের পরও বহির বিশ্বে নানা রকম নেতিবাচক কথা হয়।"
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জলের জন্য ইতিবাচক বিষয়গুলো সবার সামনে প্রবাসীদের নিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন।
আয়োজনের শেষ দিকে এবছরের ৩১ অগস্ট ও ১লা সেপ্টেম্বর দুই দিন ব্যাপী কনভেনশনে অংশ নেবার জন্য চিফ জাস্টিস ওবায়দুল হাসান ও অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিনকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পত্র তুলে দেন মোহাম্মদ আলমগির।
২৭ মার্চ বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন জি রবার্টসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রধান বিচারপতির এটিই প্রথম বৈঠক। দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। এর ফলে দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। বাংলাদেশের যাবার জন্য আমন্ত্রণ জানালে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি।
৩১ মার্চ দশ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে যাবার কথা প্রধান বিচারপতির। তার এই সফরকালে এ পদে কার্যভার পালন করছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
