এলামি মোঃ কাউসার, কায়রো, মিশর
বেড়াতে যাওয়া এক বাংলাদেশীকে অপহরণের দায়ে তিন প্রবাসী বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করছে মিশরের পুলিশ। পাঁচ সদস্যের তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোস্তফা, নাজিম ও নোমান। ইতিমধ্যেই এই তিন অপহরণকারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যরা।
ঘটনা ১০ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের রাতে। ইফতারির পরপর মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের আমারিয়া এলাকায় টুরিস্ট ভিসায় আসা আলমগীর নামের এক বাংলাদেশীকে অপরহরণ করে পাঁচ সদস্যের একটি প্রবাসী বাংলাদেশী দল।
অপহরণের পর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় আলমগীরের উপর। তখন গোপনে একজন তা ধারণ করে ছেড়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়লে ফুসে উঠে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। রাত এগারোটার দিকে ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা ঘটনাস্থল থেকে আলমগীরকে উদ্ধার করে। তবে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। যদিও ভিডিও দেখে আসামীদের শনাক্ত করে ফেলেন স্থানীয় পুলিশ। ঐ রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, অপহরণের শিকার হওয়া ভিকটিমের নাম আলমগীর। বাংলাদেশে তার বাড়ি পাবনায় জেলায়। কিছুদিন আগেই তিনি মিশরে এসেছেন টুরিস্ট ভিসায়। অপহরণকারী দলের প্রধান মোস্তফার সাথে তার পূর্বপরিচয় ছিলো। একসয়ম তার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতেন। বেতন ভাতা পাওনাসহ কিছু আর্থিক লেনদেন ছিলো মোস্তফার সাথে। সেসবের জেড় ধরেই আলমগীরকে অপহরণ করা হয়েছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুক্তি পাবার পর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন আলমগীর। তারপর থানায় গিয়ে পুরো ঘনটা তিনি পুলিশের কাছে তুলে ধরেণ। স্থায়ী ভিসা না থাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগীতায় তাকে দেশে পাঠানো প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে অপহরনকীরা দলের প্রধান মোস্তফার বাড়ি বাংলাদেশের পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার একদুরত্বপুর গ্রামে। তিনি কয়েক বছর ধরে মিশরে বসবাস করছেন। দেশে স্ত্রী থাকলে এখানে এসে তিনি দ্বিতীয় করেন। তার বর্তমান স্ত্রীর আগের সংসারের দুটি সন্তান রয়েছে।গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুই সদস্যের মধ্যে নাজিমের বাড়িও পাবনায় আর নোমানের বাড়ি কুমিল্লায়।
অপহরণের মতো অপরাধের জন্য মিশরে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন সব কিছু প্রমাণিত হলে আনুমানিক দশ বছর কারাদন্ড হতে পারে এই অপহরণকারীদের।
