সাদিয়া ইসলাম: বৈশাখ এলো... এলো নতুন বছর। এলো বাংলা নববর্ষ... ১৪২৯ সাল। গাছে গাছে বেড়েছে পত্রপল্লব। সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে চারিদিক। শাখায় শাখায় দোল খাচ্ছে ফুলের সমাহার। মৃদুমন্দ বাতাসে ঝিরি ঝিরি কাঁপছে গাছের পাতা। প্রকৃতিতে এসবই এলেই সাথে বয়ে নিয়ে আসে নতুন বছরের আগমনী সুর। আর আসে কালবৈশাখি। ঝড়ের তাণ্ডবেও বাঙালি মন উতাল হয়... বৈশাখি হাওয়ায় শাড়ির আচল উড়িয়ে মেয়েরা মেলায় যায়। সে মেলার গান চলে-
বাজে ঢোল বাজে ঢাক
ঐ এলো বৈশাখ !!””
মেলা হবে খেলা হবে
হবে কবি গান...
এটাই বাংলা। এটাই বাংলার বর্ষবরণ।
জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে আহ্বান জানায় বাঙালি। আর নতুন সূর্যালোকে ধরাকে সুচি করে নিতে চায়।
পয়লা বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমণ্ডুকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়।
আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়। আর পহেলা বৈশাখ, বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব।
ঠিক একদিন আগে চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজন শেষ করে একটি বছরকে বিদায় করে নতুন বছরকে আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়ার তাগীদ থাকে প্রতিটি বাঙালির মনে প্রাণে। তারা মনে করেন, কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।
কোভিড-১৯ এর কারণে বন্ধ থাকায় আজ দুইবছর পর পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মাতবে দেশ। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে।
বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯' জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা' ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। রমনা বটমূলে রয়েছে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন।
এরমধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা আজ বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বাঙ্গালী সংস্কৃতি আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ জাতিসংঘের সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়।
শুধু বাংলাদেশ কেনো বিশ্বের যেখানে যেই দেশেই বাঙালির বাস সেখানেই তাদের মধ্যে এখন বৈশাখ বরণের আমেজ। বিদেশ বিভুঁইয়েও তারা ভুলে যাননি নিজের সংস্কৃতি। তাই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য থেকেও আসছে বর্ষবরণে উৎসবের খবর।
এই সার্বজনীন উৎসবে সারা বিশ্বের সকল বাঙালি প্রাণ উচ্ছ্বাস আনন্দে ভাসুক। নতুন বছর আমাদের সকলের জন্য আনন্দ ও মঙ্গল বয়ে আনুক, এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।
