বাংলাদেশ

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, বললেন ড. মোমেন

post-img

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় এসেছে, এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রেমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন। 

বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, অত্যন্ত ফলপ্রসু ছিলো তাদের আলোচনা। তিনি এই আলোচনায় ভীষণ খুশি। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র মানবাধিকার প্রসঙ্গও উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন নতুন দিক উন্মোচন হয়েছে। বাংলাদেশে উদারভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পেতে চায়। 


আলোচনায় র্যাব'এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ এসেছিলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি উঠেছে এবং আমরা বলেছি র্যাব গঠনের উদ্দেশ্যই ছিলো সন্ত্রাসদমন। যে সময়টিতে র্যাব গঠিত হয় তখন বাংলাদেশে সারা দেশ জুড়ে বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকার সময় সন্ত্রাসবিরোধী বৈঠকেও গ্রেনেড হামলা হয়েছে। এ সব দমনে র্যাব বড় ভূমিকা রেখেছে। 

"র্যাব কোথাও কোথাও বেশি করেছে, এমনটা উল্লেখ করেই আমি বলেছি বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেষ্ট রয়েছি," বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিতে আমি অনেক বেশি আশাবাদী তবে এটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

র্যাব কে নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টির মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে ড. মোমেন এই বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই যেমন অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস সহিংসতা দূর করতে কাজ করে বাংলাদেশে র্যাবও একই ভূমিকা পালন করছে। 

আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, আমাদের অপেক্ষাকৃত নতুন গণতন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র আড়াইশ' বছর ধরে এর চর্চা করছে, এখানে এখনো সমস্যা হয়। বাংলাদেশে ৫০ বছরের মধ্যে ১৮ বছর সামরিক সরকারের অধীনে ছিলো। 

বাংলাদেশে একটি দল নির্বাচনে আসে না তাদের নির্বাচনে আনাটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ, উল্লেখ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা সরকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর হাতে গঠিত একটি দল জাতীয় নির্বাচনে আসতে চায় না। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন বলেও জানান ড. একে আবদুল মোমেন। 

অ্যান্থনি ব্লিংকেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এমনটাও জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি সহযোগিতা করতে পারে এমনটা উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তিনি বলেন, শরণার্থীদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আমরা মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। 

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.