আন্তর্জাতিক

আইএওটিপির-২০২৩'র সেরা অ্যাটর্নিদের একজন হলেন বাঙ্গালী মেয়ে মোহাইমিনা

post-img

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব টপ প্রোফেশনালাস অ্যাওয়ার্ড-২০২৩ এর শীর্ষ অ্যাটর্নিদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাঙ্গালী পরিবারের সন্তান অ্যাটর্নি মোহাইমিনা হক। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে তার প্রতিষ্ঠিত পিএলএলসি ল’ ফার্মের মাধ্যমে পেশাগত জগতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় তিনি এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

চলতি বছরের ২ ডিসেম্বরে নিউইয়পিকের আইকনিক প্লাজা হোটেলের আইএওটিপির বার্ষিক গালা নাইটে তাকে অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে।

প্রতি বছর বিভিন্ন পেশায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাটর্নি, এ্যাক্সিকিউটিভ শিল্পী ও অন্য পেশাদের মধ্য থেকে সেরাদের তালিকা প্রকাশ করে আইএওটিপি। পেশাগত দক্ষতা, একাডেমিক কৃতিত্ব, নেতৃত্বের দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রে স্থায়ীত্বসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ বিচার করে তৈরি করা হয় সেরাদের তালিকায়। সে সব যোগ্যতার ভিত্তিতে এই বছরের সেরা অ্যাটর্নিদের তালিকায় যারা জায়গা করে নিয়েছেন মোহাইমিনা হক।

মোহাইমিনা হক তার ক্লায়েন্টদের কাছে পরিচিত ‘অ্যাটর্নি মিনা’ নামে। ব্যাক্তিগত ও যে কোন প্রতিষ্ঠানের জটিল সব কেস দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে সমাধান দিয়ে থাকেন তিনি। যার কারণে গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসিতে মিনা বেশ পরিচিত একটি নাম। আইনী পরামর্শক হিসেবে পেশাগত জগতে বেশ জনপ্রিয় তিনি।

সেবা গ্রহনকারীদের পরার্মশ দেয়া থেকে আদালতে গিয়ে প্রতিনিধিত্ব করা পর্যন্ত ব্যাপক সহায়তা করার বিশেষ সুনাম রয়েছে তার।

কর্পোরেট আইন, অভিবাসন আইন, টর্ট আইনসহ আর বেশ কিছু বিষয়ে মিনা আইনি সেবা দিয়ে এসেছেন সফলতার সাথে। এছাড়া ব্যক্তিগত সমস্যা, বাণিজ্যিক চুক্তি, ফ্র্যাঞ্চাইজি আইন, মানহানি, ভোক্তা অর্থ এবং ট্রেডমার্ক, শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড, মিথ্যা বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াশিংটন ডিসি-তে আইনী সেবা প্রদান করে থাকেন। এই সফলতার হার বিবেচনা করেই আইএওটিপির সেরা অ্যাটর্নিদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মোহাইমিনা।

সোশাল ও পাবলিক পলিসি বিষয়ের উপর জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাইমিনা হক তার স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করেন। এরপর তিনি আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ওয়াশিংটন কলেজ অফ ল থেকে মর্যাদাপূর্ণ কাম লাউড ডিস্ট্রিঙ্কশনের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবন শুরুর পর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রয়াত সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির অফিসে নির্বাচকদের জন্য অভিবাসন মামলায় কাজ করেছিলেন। কাজ করেছেন ভার্জিনিয়া সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারের হয়েও। এছাড়া তিনি ওবামা প্রশাসনের সময় হোয়াইট হাউসে ইন্টার্নশিপের জন্য যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি প্রেসিডেন্টের কার্যনির্বাহী অফিসে ডোমেস্টিক পলিসি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বব্যাপী কাজ করার জন্য তিনি বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। চলতি বছর তাকে আইএওটিপি-এর ক্ষমতাপ্রাপ্ত নারী পুরস্কারের জন্য এবং টাইমস স্কোয়ারের বিখ্যাত নাসডাক বিলবোর্ডে প্রদর্শনের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২১ সালে ওয়াশিংটনিয়ান ম্যাগাজিন মোহাইমিনা হককে একজন অসাধারণ নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোহাইমিনার জন্ম বাংলাদেশে সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে। তারা দাদা ফিরুজোর রহমান মাস্টার ছিলেন ফরিদপুরের বিখ্যাত একজন ব্যবসায়ী। আর নানা আদিলুদ্দিন আহমেদ ছিলেন যুক্ত ফ্রন্টের সাবেক মন্ত্রী। মোহাইমিনা এক বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। তারা বাবা মিজানুর রহমান বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ড্রাসি বিসিআইয়ের একজন ডিরেক্টর। দুই ভাই বোনের মধ্যে মোহাইমিনা বড়। একই পেশায় আছেন মোহাইমিনার স্বামী মো: এহতেশামুল হকও। তিনি প্রযুক্তি ও লেনদেন বিষয়ক অ্যাটর্নি। দুই কন্যা ও স্বামীসহ পরিবার নিয়ে মোহাইমিনা বসবাস করেন ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায়।

সম্পর্কিত খবর

About Us

NRBC is an open news and tele video entertainment platform for non-residential Bengali network across the globe with no-business vision just to deliver news to the Bengali community.